Lenspedia Bangla Logo
  • কলকাতা
  • 30℃ Purba Bardhaman

অ্যাপের মাধ্যমে জানানো যাবে নোংরা ও আবর্জনার খবর ১ থেকে ২ ঘণ্টার মধ্যেই পরিষ্কারের উদ্যোগ সরকারের

এবার শহর বা এলাকার যেকোনও নোংরা ও আবর্জনার ছবি অ্যাপের মাধ্যমে সরাসরি জানাতে পারবেন সাধারণ মানুষ। অভিযোগ পাওয়ার পর দ্রুত ব্যবস্থা নিয়ে ১ থেকে ২ ঘণ্টার মধ্যেই পরিষ্কারের কাজ শুরু করবে প্রশাসন বলে জানা গিয়েছে।

অ্যাপের মাধ্যমে জানানো যাবে আবর্জনার খবর, দ্রুত পরিষ্কারের উদ্যোগ প্রশাসনের

দেশজুড়ে দ্রুত বাড়ছে ডিজিটাল পরিষেবার ব্যবহার। সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন সমস্যার সমাধানে প্রযুক্তিকে আরও কার্যকরভাবে কাজে লাগানোর চেষ্টা করছে প্রশাসন। সেই লক্ষ্যেই এবার বড় পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে পরিচ্ছন্নতা ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনাকে কেন্দ্র করে। নতুন উদ্যোগ অনুযায়ী, কোনও এলাকায় নোংরা, আবর্জনার স্তূপ, ড্রেন উপচে পড়া কিংবা রাস্তার পাশে ময়লা জমে থাকতে দেখলেই সাধারণ মানুষ একটি বিশেষ মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে সরাসরি অভিযোগ জানাতে পারবেন। অভিযোগ পাওয়ার পর প্রশাসনের তরফে দ্রুত ব্যবস্থা নিয়ে ১ থেকে ২ ঘণ্টার মধ্যেই পরিষ্কারের কাজ শুরু করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।

এই উদ্যোগকে ঘিরে ইতিমধ্যেই সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরেই বিভিন্ন এলাকায় আবর্জনা জমে থাকা, সময়মতো পরিষ্কার না হওয়া কিংবা নিকাশি সমস্যাকে কেন্দ্র করে অভিযোগ উঠছিল। অনেক সময় পুরসভা বা প্রশাসনের কাছে অভিযোগ জানাতে গিয়ে সাধারণ মানুষকে ভোগান্তির মুখেও পড়তে হত। কিন্তু এবার প্রযুক্তির সাহায্যে সেই সমস্যার দ্রুত সমাধান করার দিকেই জোর দিচ্ছে প্রশাসন।

সূত্রের খবর, এই অ্যাপটি এমনভাবে তৈরি করা হবে যাতে খুব সহজেই যেকোনও ব্যক্তি নিজের মোবাইল ফোন থেকে সমস্যার ছবি তুলে আপলোড করতে পারেন। অ্যাপে লোকেশন যুক্ত করার সুবিধাও থাকবে। ফলে অভিযোগ কোথা থেকে এসেছে, তা প্রশাসনের পক্ষে দ্রুত চিহ্নিত করা সম্ভব হবে। অভিযোগ জমা পড়ার সঙ্গে সঙ্গেই সংশ্লিষ্ট বিভাগের কাছে নোটিফিকেশন পৌঁছে যাবে এবং সঙ্গে সঙ্গে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার দলকে পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু হবে।

প্রশাসনের একাংশের মতে, শহর ও গ্রামীণ এলাকায় পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখতে শুধুমাত্র সরকারি কর্মীদের উপর নির্ভর করলে চলবে না। সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই অ্যাপ সেই অংশগ্রহণকে আরও শক্তিশালী করবে। কারণ মানুষ নিজের এলাকার সমস্যার কথা সরাসরি প্রশাসনকে জানাতে পারবেন এবং সেই অভিযোগের অগ্রগতিও ট্র্যাক করতে পারবেন।

জানা গিয়েছে, অ্যাপে অভিযোগ জানানোর সময় ব্যবহারকারীকে একটি ছবি, সংক্ষিপ্ত বিবরণ এবং লোকেশন আপলোড করতে হবে। এরপর একটি অভিযোগ নম্বর তৈরি হবে, যার মাধ্যমে অভিযোগের বর্তমান অবস্থা জানা যাবে। অভিযোগ গ্রহণ করা হয়েছে কি না, পরিষ্কারের কর্মী পৌঁছেছেন কি না, কাজ সম্পূর্ণ হয়েছে কি না— সব তথ্যই অ্যাপের মাধ্যমে দেখা যাবে।

এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হল শহর ও এলাকার পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা এবং দ্রুত পরিষেবা পৌঁছে দেওয়া। বিশেষ করে বাজার এলাকা, বাসস্ট্যান্ড, স্কুলের সামনে, হাসপাতালের আশেপাশে বা জনবহুল এলাকায় আবর্জনা জমে থাকা একটি বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়ায়। গরমকালে এই নোংরা থেকে দুর্গন্ধ ছড়ানোর পাশাপাশি মশা-মাছির উপদ্রবও বেড়ে যায়। ফলে ডেঙ্গি, ম্যালেরিয়া, ডায়রিয়া-সহ একাধিক রোগের আশঙ্কা বাড়ে। তাই দ্রুত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার ব্যবস্থা নেওয়া অত্যন্ত জরুরি বলেই মনে করছেন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা।

বিশেষজ্ঞদের মতে, পরিচ্ছন্ন পরিবেশ শুধু সৌন্দর্যের বিষয় নয়, এটি সরাসরি জনস্বাস্থ্যের সঙ্গেও জড়িত। অনেক সময় রাস্তার পাশে দীর্ঘদিন ধরে ময়লা জমে থাকলে তা থেকে বিষাক্ত গ্যাসও তৈরি হতে পারে। এছাড়া প্লাস্টিক ও পচনশীল বর্জ্য একসঙ্গে পড়ে থাকলে পরিবেশ দূষণের মাত্রা আরও বেড়ে যায়। এই পরিস্থিতিতে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া অত্যন্ত প্রয়োজনীয়।

এই অ্যাপ চালু হলে সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা আরও বাড়বে বলেও মনে করা হচ্ছে। কারণ অনেক সময় মানুষ সমস্যার কথা জানালেও তা সমাধান হতে দীর্ঘ সময় লেগে যায়। ফলে অভিযোগ করার আগ্রহ কমে যায়। কিন্তু এবার যদি দ্রুত সমাধান পাওয়া যায়, তাহলে মানুষও আরও সক্রিয়ভাবে প্রশাসনের সঙ্গে যুক্ত হবেন।

প্রশাসনের দাবি, এই ব্যবস্থার মাধ্যমে শুধু আবর্জনা পরিষ্কার নয়, বিভিন্ন নাগরিক সমস্যারও দ্রুত সমাধান করা সম্ভব হবে। ভবিষ্যতে অ্যাপের মাধ্যমে রাস্তার গর্ত, ভাঙা নিকাশি ব্যবস্থা, রাস্তার আলো নষ্ট হওয়া, জল জমে থাকা কিংবা অবৈধ আবর্জনা ফেলার মতো সমস্যাও জানানো যাবে বলে ইঙ্গিত মিলেছে।

বর্তমানে দেশের বিভিন্ন বড় শহরে স্মার্ট সিটি প্রকল্পের আওতায় প্রযুক্তিনির্ভর পরিষেবার উপর বিশেষ জোর দেওয়া হচ্ছে। এই নতুন উদ্যোগকেও সেই ডিজিটাল প্রশাসনিক ব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। প্রশাসনের মতে, প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহার করলে পরিষেবা আরও দ্রুত, স্বচ্ছ এবং কার্যকর করা সম্ভব।

news image
আরও খবর

এই উদ্যোগ বাস্তবায়নের জন্য আলাদা কন্ট্রোল রুমও তৈরি করা হতে পারে বলে খবর। যেখানে ২৪ ঘণ্টা অভিযোগ পর্যবেক্ষণ করা হবে। কোন এলাকায় কত অভিযোগ আসছে, কোন সমস্যা বেশি দেখা যাচ্ছে, কত সময়ের মধ্যে সমাধান হচ্ছে— সবকিছুই ডিজিটালভাবে পর্যবেক্ষণ করা হবে। এর ফলে প্রশাসনের কাজেও আরও স্বচ্ছতা আসবে বলে মনে করা হচ্ছে।

এদিকে সাধারণ মানুষের একাংশ এই উদ্যোগকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন। তাঁদের মতে, অনেক সময় আবর্জনা পরিষ্কার করতে দিনের পর দিন লেগে যায়। বিশেষ করে বর্ষাকালে পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়ে ওঠে। ড্রেন উপচে রাস্তা জলে ভরে যায়, তার সঙ্গে ময়লা মিশে পরিবেশ অস্বাস্থ্যকর হয়ে ওঠে। যদি সত্যিই ১ থেকে ২ ঘণ্টার মধ্যে ব্যবস্থা নেওয়া যায়, তাহলে তা সাধারণ মানুষের জন্য অত্যন্ত উপকারী হবে।

তবে কিছু মানুষ আবার প্রশ্ন তুলেছেন, বাস্তবে এই পরিষেবা কতটা কার্যকর হবে তা নিয়েও। কারণ শুধুমাত্র অ্যাপ তৈরি করলেই হবে না, তার সঙ্গে পর্যাপ্ত কর্মী, গাড়ি, সরঞ্জাম এবং দ্রুত কাজ করার প্রশাসনিক সদিচ্ছাও দরকার। অভিযোগের দ্রুত নিষ্পত্তি না হলে মানুষ আবার আগ্রহ হারাতে পারেন বলেও মত অনেকের।

প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধরনের অ্যাপ সফল করতে হলে সেটিকে ব্যবহারবান্ধব হওয়া অত্যন্ত জরুরি। অনেক সময় জটিল প্রক্রিয়ার কারণে সাধারণ মানুষ অ্যাপ ব্যবহার করতে চান না। তাই সহজ ভাষা, দ্রুত অভিযোগ জানানোর সুবিধা এবং কম ইন্টারনেট ব্যবহার— এই বিষয়গুলির উপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া দরকার।

এছাড়া তথ্যের নিরাপত্তাও গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। ব্যবহারকারীর ব্যক্তিগত তথ্য যাতে সুরক্ষিত থাকে, সে দিকেও নজর রাখতে হবে। অভিযোগকারী চাইলে নিজের পরিচয় গোপন রেখেও সমস্যা জানাতে পারবেন কি না, সেই বিষয়েও আলোচনা চলছে বলে জানা গিয়েছে।

পরিবেশবিদদের মতে, শুধুমাত্র প্রশাসনের উদ্যোগ যথেষ্ট নয়। সাধারণ মানুষকেও সচেতন হতে হবে। রাস্তায় যেখানে সেখানে ময়লা ফেলা বন্ধ করতে হবে। প্লাস্টিকের ব্যবহার কমাতে হবে এবং বর্জ্য আলাদা করে ফেলার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে। তাহলেই পরিচ্ছন্ন শহর ও সুস্থ পরিবেশ তৈরি করা সম্ভব হবে।

শিক্ষাবিদদের একাংশ মনে করছেন, ছোটবেলা থেকেই পরিচ্ছন্নতা সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ানো প্রয়োজন। স্কুল-কলেজে নিয়মিত সচেতনতামূলক কর্মসূচি হলে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম আরও দায়িত্বশীল হয়ে উঠবে। কারণ পরিচ্ছন্ন পরিবেশ শুধু সরকারের দায়িত্ব নয়, এটি প্রত্যেক নাগরিকের কর্তব্যও।

সামাজিক মাধ্যমেও এই উদ্যোগ নিয়ে ইতিমধ্যেই আলোচনা শুরু হয়েছে। অনেকেই বলছেন, যদি এই পরিষেবা সঠিকভাবে চালু করা যায়, তাহলে শহর ও এলাকার চেহারা বদলে যেতে পারে। আবার কেউ কেউ মনে করছেন, অভিযোগের পাশাপাশি নাগরিকদেরও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখার দায়িত্ব নিতে হবে।

প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, এই উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য হল “জনগণের অংশগ্রহণে পরিচ্ছন্ন শহর গড়ে তোলা”। প্রযুক্তিকে কাজে লাগিয়ে দ্রুত সমস্যা সমাধান এবং নাগরিক পরিষেবা উন্নত করাই প্রধান লক্ষ্য। ভবিষ্যতে আরও আধুনিক ফিচার যুক্ত করে এই পরিষেবাকে সম্প্রসারণ করা হতে পারে বলেও জানা গিয়েছে।

সব মিলিয়ে, আবর্জনা ও নোংরা সংক্রান্ত অভিযোগ জানাতে বিশেষ অ্যাপ চালুর এই পরিকল্পনা সাধারণ মানুষের জন্য এক গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। যদি দ্রুত পরিষেবা এবং কার্যকর বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা যায়, তাহলে শহর ও এলাকার পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখতে এই উদ্যোগ বড় ভূমিকা নিতে পারে। প্রযুক্তি, প্রশাসন এবং সাধারণ মানুষের যৌথ অংশগ্রহণেই গড়ে উঠতে পারে আরও পরিষ্কার, সুস্থ ও সুন্দর পরিবেশ।

Preview image