আইপিএলে সুযোগ মিলেছিল মাত্র এক ম্যাচে। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনক চোটে চলতি মরসুম থেকেই ছিটকে গেলেন বাংলার তরুণ পেসার রামকৃষ্ণ ঘোষ। ইতিমধ্যেই তাঁর পরিবর্ত ক্রিকেটারের নাম ঘোষণা করেছে চেন্নাই সুপার কিংস, ফলে এবারের আইপিএল যাত্রা থেমে গেল বাঙালি তারকার।
আইপিএলে মাত্র একটিই ম্যাচ খেলেছিলেন। দারুণ একটি ক্যাচও ধরেছিলেন। তবে চলতি প্রতিযোগিতায় আর খেলতে পারবেন না রামকৃষ্ণ ঘোষ। বাঙালি ক্রিকেটার চোট পেয়ে ছিটকে গিয়েছেন। তাঁর পরিবর্ত ক্রিকেটারের নাম ঘোষণা করে দিয়েছে চেন্নাই সুপার কিংস।
গত সপ্তাহে গোড়ালিতে চোট পেয়েছিলেন রামকৃষ্ণ। আগের ম্যাচে খেলতে পারেননি। এই মরসুমে আর খেলতেও পারবেন না। তাঁর জায়গায় ম্যাকনিল হ্যাডলি নোরোনহাকে নেওয়া হয়েছে। বোর্ডের অনুমতি পেলেই তাঁকে আনুষ্ঠানিক ভাবে সই করানো হবে।
২৪ বছরের নোরোনহা গত বছর ম্যাঙ্গালুরু ড্রাগন্সের হয়ে কর্নাটকের মহারাজ ট্রফি জিতেছিলেন। ১৩টি ম্যাচে তিনি ২৫৩ রান করেছিলেন প্রায় ১৫০ স্ট্রাইক রেটে। ১৯টি ছয় মেরেছিলেন। তিনি অফস্পিনও করতে পারেননি। গত মরসুমে ১০টি উইকেট নিয়েছিলেন। ফাইনালে ছিল ২টি উইকেট।
আইপিএলে চেন্নাইয়ের ছিটকে যাওয়া ক্রিকেটারের সংখ্যা বেড়েই চলেছে। মরসুম শুরুর আগেই ছিটকে গিয়েছিলেন নেথান এলিস। তাঁর পরিবর্ত ক্রিকেটার স্পেন্সার জনসনও চোট পেয়ে খেলতে পারছেন না। মরসুমের মাঝপথে চোট পেয়েছেন খলিল আহমেদ এবং আয়ুষ মাত্রেও। এ ছাড়া চোটের কারণে মহেন্দ্র সিংহ ধোনি এখনও একটি ম্যাচেও খেলতে পারেননি। Etar bhalo 1500 words long description and Google tag modify title mota description dao
আইপিএলে চোটের ধাক্কা চেন্নাইয়ে! রামকৃষ্ণ ঘোষ ছিটকে, বদলি হিসেবে দলে ম্যাকনিল নোরোনহা
রামকৃষ্ণ ঘোষ-এর আইপিএল যাত্রা এই মরসুমে খুব বেশি দূর এগোল না। মাত্র একটি ম্যাচ খেলেই চোটের কারণে ছিটকে যেতে হল বাংলার এই তরুণ ক্রিকেটারকে। যদিও সুযোগ পেয়েই নজর কেড়েছিলেন তিনি। দুর্দান্ত একটি ক্যাচ ধরে সমর্থকদের প্রশংসা কুড়িয়েছিলেন রামকৃষ্ণ। কিন্তু ভাগ্য তাঁর পাশে রইল না। গোড়ালির চোট এতটাই গুরুতর হয়েছে যে চলতি মরসুমে আর মাঠে নামতে পারবেন না তিনি।
এই পরিস্থিতিতে Chennai Super Kings দ্রুত বিকল্প ক্রিকেটারের খোঁজ শুরু করে দেয়। অবশেষে তাঁদের পছন্দ হয়েছে কর্নাটকের তরুণ অলরাউন্ডার ম্যাকনিল হ্যাডলি নোরোনহা-কে। বোর্ডের আনুষ্ঠানিক অনুমতি পেলেই তাঁকে দলে সই করিয়ে নেবে চেন্নাই।
স্বপ্নভঙ্গ রামকৃষ্ণের
বাংলার ক্রিকেটপ্রেমীদের কাছে রামকৃষ্ণ ঘোষ ছিলেন অন্যতম বড় আকর্ষণ। দীর্ঘদিন ঘরোয়া ক্রিকেটে ধারাবাহিক পারফরম্যান্স করার পর অবশেষে আইপিএলে সুযোগ পেয়েছিলেন তিনি। চেন্নাই সুপার কিংসের মতো বড় ফ্র্যাঞ্চাইজিতে জায়গা পাওয়াই ছিল তাঁর কেরিয়ারের বড় সাফল্য।
যখন তিনি প্রথম একাদশে সুযোগ পান, তখন অনেকেই আশা করেছিলেন যে বাংলার এই ক্রিকেটার নিজের প্রতিভা দিয়ে বড় মঞ্চে ছাপ ফেলবেন। যদিও ব্যাট হাতে বড় কিছু করার সুযোগ আসেনি, কিন্তু ফিল্ডিংয়ে তাঁর ক্ষিপ্রতা নজর কেড়েছিল। একটি অসাধারণ ক্যাচ ধরে তিনি দেখিয়ে দিয়েছিলেন, বড় ম্যাচের চাপ সামলানোর ক্ষমতা তাঁর রয়েছে।
কিন্তু সেই আনন্দ বেশিদিন স্থায়ী হল না। গত সপ্তাহে অনুশীলনের সময় গোড়ালিতে চোট পান রামকৃষ্ণ। পরে মেডিক্যাল পরীক্ষায় জানা যায়, তাঁর চোট গুরুতর। চিকিৎসকরা তাঁকে পুরো মরসুম থেকে বিশ্রামের পরামর্শ দিয়েছেন। ফলে আইপিএলের বাকি অংশে আর দেখা যাবে না তাঁকে।
চেন্নাই শিবিরে এই খবর যথেষ্ট হতাশার সৃষ্টি করেছে। কারণ তরুণ ক্রিকেটারদের গড়ে তোলার ক্ষেত্রে এই ফ্র্যাঞ্চাইজির বিশেষ সুনাম রয়েছে। রামকৃষ্ণকেও ভবিষ্যতের গুরুত্বপূর্ণ ক্রিকেটার হিসেবে ভাবা হচ্ছিল।
কে এই ম্যাকনিল নোরোনহা?
রামকৃষ্ণের পরিবর্তে যাঁকে নেওয়া হচ্ছে, সেই ম্যাকনিল হ্যাডলি নোরোনহা এখন কর্নাটক ক্রিকেটের অত্যন্ত পরিচিত নাম। মাত্র ২৪ বছর বয়সেই তিনি নিজের অলরাউন্ড দক্ষতায় নজর কেড়েছেন।
গত বছর ম্যাঙ্গালুরু ড্রাগন্স-এর হয়ে মহারাজ ট্রফিতে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স করেছিলেন নোরোনহা। ১৩টি ম্যাচে তিনি ২৫৩ রান করেছিলেন প্রায় ১৫০ স্ট্রাইক রেটে। টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে এমন স্ট্রাইক রেট যে কোনও দলের কাছেই বড় সম্পদ।
শুধু রান করাই নয়, বড় শট খেলতেও সিদ্ধহস্ত তিনি। পুরো প্রতিযোগিতায় ১৯টি ছক্কা হাঁকিয়েছিলেন। মাঝের ওভারে দ্রুত রান তোলার ক্ষমতা তাঁর অন্যতম বড় শক্তি।
এর পাশাপাশি অফস্পিন বোলিংও করতে পারেন নোরোনহা। গত মরসুমে তিনি ১০টি উইকেট নিয়েছিলেন। ফাইনাল ম্যাচে তাঁর পারফরম্যান্স বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য ছিল। গুরুত্বপূর্ণ সময়ে ২টি উইকেট নিয়ে দলের জয়ে বড় ভূমিকা নিয়েছিলেন তিনি।
চেন্নাইয়ের মতো দল সাধারণত এমন ক্রিকেটারদেরই পছন্দ করে যারা ব্যাট ও বল— দুই বিভাগেই অবদান রাখতে পারে। সেই দিক থেকে নোরোনহা দলের পরিকল্পনার সঙ্গে যথেষ্ট মানানসই।
চোটের মিছিল চেন্নাই শিবিরে
এই মরসুমে চেন্নাই সুপার কিংস যেন চোট সমস্যার সঙ্গেই লড়াই করছে। একের পর এক ক্রিকেটার ছিটকে যাওয়ায় দলের ভারসাম্য নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।
মরসুম শুরুর আগেই চোটের কারণে বাইরে চলে যান নেথান এলিস। তাঁর পরিবর্তে আনা হয়েছিল স্পেন্সার জনসন-কে। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে তিনিও চোট পেয়ে পুরো মরসুম থেকে ছিটকে যান।
এরপর মাঝপথে চোট পান খলিল আহমেদ এবং আয়ুষ মাত্রে। ফলে বোলিং বিভাগে বড় ধাক্কা খেতে হয়েছে চেন্নাইকে।
সবচেয়ে বড় ধাক্কা অবশ্য এসেছে মহেন্দ্র সিংহ ধোনি-কে ঘিরে। হাঁটুর সমস্যার কারণে এখনও পর্যন্ত একটি ম্যাচেও খেলতে পারেননি তিনি। ধোনির অনুপস্থিতি শুধু ব্যাটিং নয়, দলের নেতৃত্ব ও মানসিক শক্তির উপরও প্রভাব ফেলেছে।
চেন্নাইয়ের সমর্থকেরা আশা করেছিলেন, অভিজ্ঞ ক্রিকেটারদের সঙ্গে তরুণদের মিশ্রণে দলটি আবারও শক্তিশালী হয়ে উঠবে। কিন্তু বারবার চোটের ধাক্কা সেই পরিকল্পনাকে নষ্ট করে দিয়েছে।
চেন্নাইয়ের সামনে কঠিন চ্যালেঞ্জ
আইপিএলের মতো দীর্ঘ টুর্নামেন্টে স্কোয়াডের গভীরতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একাধিক ক্রিকেটার চোট পেলে দলের কম্বিনেশন বদলাতে বাধ্য হতে হয়। চেন্নাই এখন ঠিক সেই পরিস্থিতির মধ্যেই রয়েছে।
রামকৃষ্ণ ঘোষের মতো তরুণ ক্রিকেটারকে হারানো হয়তো পরিসংখ্যানের বিচারে খুব বড় ক্ষতি নয়, কারণ তিনি মাত্র একটি ম্যাচ খেলেছেন। কিন্তু ভবিষ্যতের সম্ভাবনাময় ক্রিকেটার হিসেবে তাঁর গুরুত্ব ছিল অনেক।
অন্যদিকে নোরোনহার সামনে এখন বড় সুযোগ। আইপিএলের মঞ্চে নিজেকে প্রমাণ করতে পারলে তাঁর কেরিয়ার একেবারে বদলে যেতে পারে। চেন্নাইয়ের মতো সফল ফ্র্যাঞ্চাইজিতে সুযোগ পাওয়া যে কোনও তরুণ ক্রিকেটারের কাছেই স্বপ্নের মতো।
সমর্থকদের প্রত্যাশা
বাংলার ক্রিকেটপ্রেমীরা অবশ্য রামকৃষ্ণ ঘোষের দ্রুত সুস্থতা কামনা করছেন। অনেকেই মনে করছেন, এই চোট সাময়িক বাধা মাত্র। ভবিষ্যতে তিনি আরও শক্তিশালী হয়ে ফিরবেন।
একই সঙ্গে নজর থাকবে ম্যাকনিল নোরোনহার উপরও। ঘরোয়া ক্রিকেটে তিনি নিজের দক্ষতার প্রমাণ দিয়েছেন। এখন দেখার, আইপিএলের চাপ সামলে তিনি কতটা সফল হতে পারেন।
চেন্নাই সুপার কিংসের সমর্থকদেরও আশা, নতুন এই অলরাউন্ডার দলের দুর্দিনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবেন। কারণ প্লে-অফের দৌড়ে টিকে থাকতে হলে এখন প্রতিটি ম্যাচই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দলের ব্যাটিং ও বোলিং—দুই বিভাগেই ধারাবাহিকতার অভাব স্পষ্ট হয়েছে চলতি মরশুমে। কখনও ওপেনাররা ভালো শুরু দিলেও মাঝের সারির ব্যর্থতায় বড় স্কোর গড়া সম্ভব হয়নি, আবার কখনও বোলারদের অনিয়ন্ত্রিত পারফরম্যান্সের কারণে সহজ ম্যাচও হাতছাড়া হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে একজন কার্যকর অলরাউন্ডারের উপস্থিতি দলের ভারসাম্য অনেকটাই বাড়িয়ে দিতে পারে।
এই নতুন ক্রিকেটারের বিশেষত্ব হল, তিনি শুধু ব্যাট হাতে দ্রুত রান তুলতেই সক্ষম নন, প্রয়োজনে গুরুত্বপূর্ণ সময়ে উইকেটও এনে দিতে পারেন। টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে এমন খেলোয়াড়দের গুরুত্ব সবসময়ই বেশি, কারণ একটি ছোট ইনিংস বা দুই-তিনটি গুরুত্বপূর্ণ উইকেটই ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারে। চেন্নাই সুপার কিংসের মতো অভিজ্ঞ দলও জানে, বড় টুর্নামেন্টে টিকে থাকতে হলে দলে এমন ম্যাচ উইনার থাকা জরুরি, যারা চাপের মুহূর্তে নিজের সেরাটা দিতে পারেন।
সমর্থকরাও তাই নতুন এই অলরাউন্ডারকে ঘিরে আশাবাদী। সামাজিক মাধ্যমে ইতিমধ্যেই তাঁকে নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। অনেকেই মনে করছেন, দলের সিনিয়র ক্রিকেটারদের পাশে থেকে তিনি দ্রুত মানিয়ে নিতে পারবেন। বিশেষ করে অধিনায়কের নেতৃত্বে তরুণ ও নতুন ক্রিকেটাররা অতীতে যেভাবে নিজেদের সেরা পারফরম্যান্স তুলে ধরেছেন, তাতে এই ক্রিকেটারকেও নিয়ে প্রত্যাশা বাড়ছে। চেন্নাইয়ের ড্রেসিংরুমে বরাবরই ইতিবাচক পরিবেশ থাকে, যা নতুনদের আত্মবিশ্বাস বাড়াতে সাহায্য করে।
এছাড়া সামনে যে কয়েকটি ম্যাচ রয়েছে, সেগুলো চেন্নাইয়ের জন্য কার্যত ‘করো বা মরো’ পরিস্থিতির। একটি হারই প্লে-অফের স্বপ্নকে কঠিন করে তুলতে পারে। তাই টিম ম্যানেজমেন্ট চাইবে, প্রত্যেক ক্রিকেটার নিজের দায়িত্ব ঠিকভাবে পালন করুক। নতুন অলরাউন্ডারের কাছ থেকেও থাকবে বাড়তি প্রত্যাশা। তিনি যদি ব্যাট হাতে দ্রুত রান তোলার পাশাপাশি কয়েক ওভার কার্যকর বোলিং করতে পারেন, তাহলে দলের কম্বিনেশন আরও শক্তিশালী হয়ে উঠবে।
চেন্নাই সুপার কিংস অতীতে বহুবার কঠিন পরিস্থিতি থেকে ঘুরে দাঁড়িয়েছে। অভিজ্ঞ ক্রিকেটারদের মানসিক দৃঢ়তা এবং চাপ সামলানোর ক্ষমতাই তাদের বড় শক্তি। এবারও সমর্থকরা বিশ্বাস করছেন, দল শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে যাবে। নতুন অলরাউন্ডারের অন্তর্ভুক্তি সেই লড়াইয়ে বাড়তি আত্মবিশ্বাস যোগাতে পারে। এখন দেখার বিষয়, মাঠে সুযোগ পেলে তিনি কতটা কার্যকর ভূমিকা নিতে পারেন এবং দলকে গুরুত্বপূর্ণ জয় এনে দিতে পারেন কি না। যদি তিনি প্রত্যাশা অনুযায়ী পারফর্ম করতে পারেন, তাহলে চেন্নাইয়ের প্লে-অফের স্বপ্ন আবারও নতুন করে জেগে উঠতে পারে।