শনিবার মহালয়া। আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, শুক্রবার ও শনিবার কলকাতা-সহ দক্ষিণবঙ্গের প্রায় সব জেলাতেই বিক্ষিপ্ত ভাবে ঝড়বৃষ্টি হতে পারে। পুজোর মুখেও বৃষ্টির সম্ভাবনা থাকায় আবহাওয়ার দিকে নজর রাখছেন উৎসবপ্রেমীরা।
পুজোর আর বেশি দেরি নেই। শহরের রাস্তায় রাস্তায় বিজ্ঞাপনের ব্যানার, আলোর সাজের প্রস্তুতি এবং বাজারে উপচে পড়া ভিড় জানান দিচ্ছে, বাঙালির শ্রেষ্ঠ উৎসব প্রায় দরজায় কড়া নাড়ছে। নতুন পোশাক কেনা থেকে শুরু করে প্যান্ডেল ঘোরার পরিকল্পনা—সব কিছু নিয়েই এখন ব্যস্ততা তুঙ্গে। কিন্তু উৎসবের এই আবহের সঙ্গে যেন তাল মেলাতে পারছে না প্রকৃতি। আকাশে ঝকঝকে রোদের দেখা মিলছে কম। দিনের একটা বড় সময় মেঘে ঢাকা থাকছে আকাশ। কোথাও হালকা বৃষ্টি, কোথাও আবার কয়েক পশলা বৃষ্টিতে ভিজছে রাস্তা। এই পরিস্থিতিতে পুজোর দিনগুলিতে আবহাওয়া কেমন থাকবে, তা নিয়ে স্বাভাবিক ভাবেই কৌতূহল বাড়ছে সাধারণ মানুষের।
আলিপুর আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, মহালয়ার আগে ও মহালয়ার দিন কলকাতা-সহ দক্ষিণবঙ্গের বিভিন্ন জেলায় বিক্ষিপ্ত ভাবে ঝড়বৃষ্টি হতে পারে। শুক্রবার এবং শনিবার, অর্থাৎ ৯ ও ১০ অক্টোবর, একাধিক জেলায় বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। কোথাও হালকা, কোথাও মাঝারি বৃষ্টি হতে পারে। ফলে পুজোর কেনাকাটা কিংবা অন্য কোনও প্রয়োজনে বাইরে বেরোনোর পরিকল্পনা থাকলে আবহাওয়ার দিকে নজর রাখা জরুরি। সঙ্গে ছাতা রাখলেও ক্ষতি নেই।
তবে এই বৃষ্টির পূর্বাভাস মানেই যে টানা বৃষ্টিতে ভাসবে গোটা দক্ষিণবঙ্গ, এমনটা নয়। বৃষ্টি হতে পারে বিক্ষিপ্ত ভাবে। অর্থাৎ কোনও এলাকায় বৃষ্টি হলেও তার কাছাকাছি অন্য এলাকায় আকাশ পরিষ্কার থাকতে পারে। কোথাও অল্প সময়ের জন্য বৃষ্টি হতে পারে, আবার কোথাও বজ্রবিদ্যুৎ-সহ ঝড়বৃষ্টির পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। তাই জেলার ভিত্তিতে আবহাওয়ার পূর্বাভাসের দিকে নজর রাখা প্রয়োজন।
শনিবার মহালয়া। পিতৃপক্ষের অবসান এবং দেবীপক্ষের সূচনার এই দিনটির সঙ্গে বাঙালির আবেগ জড়িয়ে রয়েছে। ভোরে বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্রের কণ্ঠে মহিষাসুরমর্দিনী শোনার পাশাপাশি অনেকেই তর্পণ করতে গঙ্গার ঘাটে যান। কেউ কেউ আবার এই দিন থেকেই পুজোর শেষ মুহূর্তের কেনাকাটা শুরু করেন। ফলে মহালয়ার দিন আবহাওয়া কেমন থাকবে, তা নিয়ে আগ্রহ থাকা স্বাভাবিক।
প্রতিবেদনে উল্লিখিত পূর্বাভাস অনুযায়ী, মহালয়ার দিন কলকাতা-সহ দক্ষিণবঙ্গের বিভিন্ন জেলায় বিক্ষিপ্ত ভাবে বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টির পাশাপাশি বজ্রপাতও হতে পারে। ফলে সকালে আকাশ মেঘলা থাকলে কিংবা বৃষ্টির পরিস্থিতি তৈরি হলে বাইরে যাওয়ার আগে স্থানীয় আবহাওয়ার আপডেট দেখে নেওয়া ভালো।
কলকাতার ক্ষেত্রে মেঘলা আকাশের সঙ্গে আর্দ্রতাজনিত অস্বস্তিও থাকতে পারে। বৃষ্টি হলে সাময়িক ভাবে তাপমাত্রা কিছুটা স্বস্তিদায়ক মনে হতে পারে। তবে বৃষ্টি থামার পর আর্দ্রতা বেশি থাকলে ভ্যাপসা গরম অনুভূত হতে পারে। তাই শুধু বৃষ্টির সম্ভাবনা নয়, দিনের তাপমাত্রা ও আর্দ্রতার দিকেও নজর রাখা প্রয়োজন।
আলিপুর আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস অনুসারে, শুক্রবার ও শনিবার দক্ষিণবঙ্গের প্রায় সব জেলাতেই বিক্ষিপ্ত ভাবে ঝড়বৃষ্টি হতে পারে। কলকাতা ছাড়াও হাওড়া, হুগলি, দুই ২৪ পরগনা, পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুর, পূর্ব ও পশ্চিম বর্ধমান, বীরভূম, মুর্শিদাবাদ, নদিয়া, বাঁকুড়া এবং পুরুলিয়ার মতো জেলাগুলির আবহাওয়ার দিকে নজর রাখা প্রয়োজন।
তবে সব জেলায় বৃষ্টির ধরন বা পরিমাণ এক রকম হবে, এমন নিশ্চয়তা নেই। কোথাও অল্প সময়ের জন্য বৃষ্টি হতে পারে, কোথাও আবার বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টির সম্ভাবনা থাকতে পারে। স্থানীয় পরিস্থিতির উপর নির্ভর করে আবহাওয়ার পরিবর্তন হতে পারে।
কলকাতা ও সংলগ্ন এলাকায় পুজোর কেনাকাটার জন্য বেরোলে সঙ্গে ছাতা রাখা বুদ্ধিমানের কাজ। যাঁরা দূরের বাজারে যাবেন, তাঁদের যাতায়াতের সময় হাতে কিছুটা অতিরিক্ত সময় রাখা ভালো। বৃষ্টির কারণে রাস্তায় যান চলাচল ধীর হতে পারে। বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টি হলে খোলা জায়গায় দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকা এড়িয়ে চলা উচিত।
বৃষ্টির পূর্বাভাস থাকলেও মহালয়ার পর দক্ষিণবঙ্গের আবহাওয়ায় সাময়িক পরিবর্তনের সম্ভাবনা রয়েছে। পূর্বাভাস অনুযায়ী, রবিবার থেকে মঙ্গলবার পর্যন্ত দক্ষিণবঙ্গের জেলাগুলিতে ঝড়বৃষ্টির সম্ভাবনা তুলনামূলক ভাবে কম থাকতে পারে। এই সময় আবহাওয়া মোটের উপর শুষ্ক থাকার ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে।
অর্থাৎ মহালয়ার পর পুজোর প্রস্তুতির জন্য কিছুটা অনুকূল আবহাওয়া পাওয়া যেতে পারে। বাজারে কেনাকাটা, মণ্ডপসজ্জার কাজ কিংবা প্রতিমা আনার মতো কাজে বৃষ্টির বাধা কমতে পারে। তবে আবহাওয়া সম্পূর্ণ ভাবে বৃষ্টিমুক্ত থাকবে, এমন নিশ্চয়তা ধরে নেওয়া উচিত নয়। স্থানীয় ভাবে মেঘ জমা বা অল্প সময়ের বৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা একেবারে উড়িয়ে দেওয়া যায় না।
আবহাওয়ার পূর্বাভাস কয়েক দিনের ব্যবধানে বদলাতে পারে। তাই পুজোর পরিকল্পনা করার সময় একবারের পূর্বাভাসের উপর নির্ভর না করে প্রতিদিনের আপডেট দেখা জরুরি। বিশেষ করে যাঁদের বাইরে দীর্ঘক্ষণ থাকতে হবে, তাঁদের জন্য এই সতর্কতা বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
পুজোর কেনাকাটা এবং মণ্ডপে মণ্ডপে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতির জন্য চতুর্থী অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই সময় শহরের বিভিন্ন এলাকায় ভিড় বাড়তে শুরু করে। কিন্তু সেই সময়েই যদি বৃষ্টি ফিরে আসে, তা হলে পুজোর প্রস্তুতি কিছুটা ব্যাহত হতে পারে।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা পূর্বাভাস অনুযায়ী, চতুর্থী থেকে দক্ষিণবঙ্গের কয়েকটি জেলায় ফের বিক্ষিপ্ত ঝড়বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। বিশেষ করে উত্তর ২৪ পরগনা, দক্ষিণ ২৪ পরগনা, পূর্ব মেদিনীপুর এবং পশ্চিম মেদিনীপুরে বৃষ্টির সম্ভাবনার কথা বলা হয়েছে। ফলে পুজোর মুখে এই জেলাগুলির আবহাওয়ার দিকে নজর রাখা প্রয়োজন।
তবে বৃষ্টির সম্ভাবনা থাকলেই যে সব জায়গায় একই সময়ে বৃষ্টি হবে, এমন নয়। বিক্ষিপ্ত বৃষ্টির ক্ষেত্রে এক এলাকায় বৃষ্টি হলেও অন্য এলাকায় আবহাওয়া শুকনো থাকতে পারে। ফলে পুজোর পরিকল্পনা সম্পূর্ণ বাতিল করার আগে স্থানীয় পূর্বাভাস দেখে নেওয়াই ভালো।
চতুর্থীতে যাঁরা কেনাকাটা করতে বেরোবেন, তাঁরা আবহাওয়ার পরিস্থিতি অনুযায়ী সময় বেছে নিতে পারেন। যাঁরা মণ্ডপসজ্জা বা প্রতিমা সংক্রান্ত কাজে যুক্ত, তাঁদেরও বৃষ্টির সম্ভাবনা মাথায় রেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা রাখা উচিত। খোলা জায়গায় বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম, আলো এবং অস্থায়ী কাঠামো থাকলে নিরাপত্তার দিকে বিশেষ নজর দেওয়া প্রয়োজন।
চতুর্থীর পর পঞ্চমীতেও দক্ষিণবঙ্গের কিছু জেলায় বিক্ষিপ্ত বৃষ্টির সম্ভাবনার কথা বলা হয়েছে। উত্তর ২৪ পরগনা, দক্ষিণ ২৪ পরগনা এবং পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুরে আবহাওয়ার পরিবর্তন হতে পারে। তবে বৃষ্টির বিস্তার কতটা হবে, তা নির্দিষ্ট দিনের হালনাগাদ পূর্বাভাসের উপর নির্ভর করবে।
পুজোর সময় বৃষ্টি হলে শুধু দর্শনার্থীদেরই নয়, সমস্যায় পড়তে পারেন আয়োজকেরাও। মণ্ডপের বাইরে সাজসজ্জা, আলোর ব্যবস্থা, প্রবেশপথ এবং অস্থায়ী কাঠামোর নিরাপত্তা বজায় রাখা গুরুত্বপূর্ণ। বৃষ্টির জল জমলে দর্শনার্থীদের চলাচলেও অসুবিধা হতে পারে। তাই সম্ভাব্য বৃষ্টির কথা মাথায় রেখে আগাম প্রস্তুতি নেওয়া প্রয়োজন।
অন্যদিকে, বিক্ষিপ্ত বৃষ্টির পূর্বাভাস থাকলেও দিনের সব সময় যে আকাশ মেঘলা থাকবে, তা নয়। কোনও কোনও সময়ে আকাশ পরিষ্কার হতে পারে। ফলে দিনের আবহাওয়া সম্পর্কে আরও নির্ভুল ধারণা পেতে স্থানীয় আবহাওয়ার বুলেটিন দেখা প্রয়োজন।
সাধারণত অক্টোবরের দ্বিতীয় সপ্তাহে দক্ষিণবঙ্গ থেকে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ুর বিদায় প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার অনুকূল পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। তবে বর্ষা বিদায়ের বিষয়টি নির্ভর করে একাধিক আবহাওয়াগত শর্তের উপর। শুধু কয়েক দিন বৃষ্টি কমে যাওয়া বা আকাশ পরিষ্কার হয়ে যাওয়াই বর্ষা বিদায়ের চূড়ান্ত প্রমাণ নয়।
বর্ষা বিদায়ের জন্য বাতাসের দিক, আর্দ্রতার পরিবর্তন, বৃষ্টিপাতের প্রবণতা এবং বায়ুমণ্ডলের সামগ্রিক পরিস্থিতি বিবেচনা করা হয়। সেই কারণে কোনও নির্দিষ্ট দিনে বর্ষা বিদায় নেবে কি না, তা আবহাওয়া দফতরের আনুষ্ঠানিক ঘোষণার উপর নির্ভর করে।
এ বার দক্ষিণবঙ্গ থেকে বর্ষা বিদায় নেওয়ার বিষয়ে আলিপুর আবহাওয়া দফতরের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা না আসা পর্যন্ত নিশ্চিত করে কিছু বলা সম্ভব নয়। বরং পুজোর আগে বিক্ষিপ্ত ঝড়বৃষ্টির পূর্বাভাস থেকে বোঝা যাচ্ছে, আবহাওয়ার পরিবর্তন এখনও নজরে রাখার মতো বিষয়।
বর্ষা বিদায়ের পর সাধারণত বৃষ্টির প্রবণতা কমতে পারে। তবে বর্ষা বিদায় নিলেই যে কোনও ধরনের বৃষ্টির সম্ভাবনা শেষ হয়ে যাবে, এমন নয়। স্থানীয় ঘূর্ণাবর্ত, নিম্নচাপ বা অন্যান্য আবহাওয়াগত ব্যবস্থার প্রভাবে পরবর্তী সময়েও বৃষ্টি হতে পারে।
পুজোর আগে বৃষ্টির পূর্বাভাস শুনে অনেকেরই প্রশ্ন, বঙ্গোপসাগরে কি নতুন করে কোনও নিম্নচাপ বা ঘূর্ণাবর্ত তৈরি হয়েছে? প্রতিবেদনে উল্লিখিত তথ্য অনুযায়ী, সেই সময়ে সমুদ্রে নতুন করে কোনও ঘূর্ণাবর্ত বা নিম্নচাপ অঞ্চল তৈরি হওয়ার খবর ছিল না।
তবে বৃষ্টির জন্য সব সময় শক্তিশালী নিম্নচাপের প্রয়োজন হয় না। বায়ুমণ্ডলে আর্দ্রতার উপস্থিতি, স্থানীয় ঘূর্ণাবর্ত এবং বিভিন্ন বায়ুপ্রবাহের প্রভাবেও বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টি হতে পারে। তাই সমুদ্রে নতুন নিম্নচাপ না থাকলেও বিক্ষিপ্ত বৃষ্টির সম্ভাবনা থাকতে পারে।
এ ছাড়া উত্তর-পূর্ব বিহার থেকে তেলঙ্গানা পর্যন্ত বিস্তৃত একটি অক্ষরেখার উল্লেখ করা হয়েছে প্রতিবেদনে। এই ধরনের আবহাওয়াগত ব্যবস্থা বিভিন্ন অঞ্চলের বৃষ্টিপাতের পরিস্থিতিকে প্রভাবিত করতে পারে। তবে এর প্রভাব কতটা পড়বে, তা বুঝতে সংশ্লিষ্ট দিনের আবহাওয়া দফতরের বুলেটিন দেখা প্রয়োজন।
দক্ষিণবঙ্গের পাশাপাশি উত্তরবঙ্গেও বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে। শুক্রবার দার্জিলিং, কালিম্পং-সহ উত্তরের জেলাগুলিতে বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বিক্ষিপ্ত বৃষ্টির সম্ভাবনার কথা বলা হয়েছে। পাহাড়ি এলাকায় আবহাওয়ার পরিবর্তন তুলনামূলক দ্রুত হতে পারে। ফলে যাঁরা পাহাড়ে বেড়াতে যাওয়ার পরিকল্পনা করছেন, তাঁদের স্থানীয় পূর্বাভাস সম্পর্কে খোঁজ রাখা প্রয়োজন।
দার্জিলিং ও কালিম্পংয়ের পাশাপাশি জলপাইগুড়ি, আলিপুরদুয়ার, কোচবিহার এবং উত্তর ও দক্ষিণ দিনাজপুরের আবহাওয়ার দিকেও নজর রাখা দরকার। শুক্রবারের মতো শনিবার মহালয়ার দিনেও কোথাও কোথাও হালকা বৃষ্টি হতে পারে। ফলে উত্তরবঙ্গের বাসিন্দা এবং পর্যটকদের জন্যও ছাতা বা বৃষ্টির উপযোগী পোশাক সঙ্গে রাখা সুবিধাজনক হতে পারে।
তবে পূর্বাভাস অনুযায়ী, রবিবার থেকে উত্তরবঙ্গের জেলাগুলিতে বৃষ্টির সম্ভাবনা কমতে পারে। আবহাওয়া তুলনামূলক ভাবে শুষ্ক থাকার ইঙ্গিত রয়েছে। দক্ষিণবঙ্গের কয়েকটি জেলায় চতুর্থী থেকে বৃষ্টির সম্ভাবনা থাকলেও উত্তরবঙ্গে একই ধরনের পূর্বাভাস দেওয়া হয়নি।
এই পার্থক্য থেকে স্পষ্ট, একই সময়ে দক্ষিণবঙ্গ ও উত্তরবঙ্গের আবহাওয়া এক রকম নাও থাকতে পারে। তাই গোটা রাজ্যের জন্য একটি সাধারণ পূর্বাভাসের বদলে নির্দিষ্ট জেলা অনুযায়ী আবহাওয়ার খবর দেখা বেশি কার্যকর।
দেশের বিভিন্ন অংশ থেকে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ুর বিদায়ের প্রক্রিয়া ইতিমধ্যেই এগিয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মহারাষ্ট্রের বাকি অংশ, গোয়া, কর্নাটক, তেলঙ্গানা, ওড়িশার কিছু অঞ্চল, ঝাড়খণ্ড এবং ছত্তীসগঢ়ের আরও কিছু অংশ থেকে বর্ষা বিদায় নিয়েছে।
পূর্ব ভারতের আরও কিছু অঞ্চল এবং উত্তর-পূর্ব ভারতের কয়েকটি এলাকায়ও বর্ষা বিদায়ের অনুকূল পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। আগামী কয়েক দিনে এই প্রক্রিয়া আরও এগোতে পারে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছিল। পশ্চিমবঙ্গও সেই প্রক্রিয়ার আওতায় আসতে পারে।
তবে বর্ষা বিদায়ের সময় এবং অগ্রগতি প্রতি বছর একই রকম হয় না। বায়ুমণ্ডলের পরিস্থিতি, আর্দ্রতা এবং বৃষ্টিপাতের ধরন অনুযায়ী এই সময়ের পরিবর্তন হতে পারে। তাই নির্দিষ্ট কোনও তারিখকে চূড়ান্ত ধরে নেওয়া ঠিক নয়।
পুজোর আগে বাজারে ভিড় বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে যাতায়াতের চাপও বাড়ে। এর মধ্যে বৃষ্টি হলে রাস্তা পিচ্ছিল হতে পারে এবং যান চলাচলে ধীরগতি দেখা দিতে পারে। তাই বাইরে বেরোনোর আগে কয়েকটি বিষয় মাথায় রাখা ভালো।
প্রথমত, দিনের আবহাওয়ার পূর্বাভাস দেখে বেরোন। দ্বিতীয়ত, সঙ্গে ছাতা বা বৃষ্টির উপযোগী পোশাক রাখুন। তৃতীয়ত, বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টির সতর্কতা থাকলে খোলা জায়গায় বা গাছের নিচে আশ্রয় নেওয়া এড়িয়ে চলুন। চতুর্থত, জল জমে থাকা রাস্তা দিয়ে চলাচলের সময় সতর্ক থাকুন।
পুজোর মণ্ডপে যাঁরা দীর্ঘক্ষণ থাকবেন, তাঁদেরও আবহাওয়ার দিকে নজর রাখা প্রয়োজন। বৃষ্টি হলে ভিড়ের মধ্যে চলাচল করতে গিয়ে ধাক্কাধাক্কি বা পিছলে পড়ার মতো ঘটনা ঘটতে পারে। তাই নিজের নিরাপত্তার পাশাপাশি শিশু ও বয়স্কদের চলাচলের দিকেও নজর দিন।
পুজোর আগে কয়েক দিন বৃষ্টির পূর্বাভাস থাকলেও তার পরের দিনগুলির আবহাওয়া নিয়ে নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছনোর আগে হালনাগাদ বুলেটিন দেখা প্রয়োজন। বৃষ্টির সম্ভাবনা কমলে আকাশে রোদের দেখা মিলতে পারে। তবে আর্দ্রতা বেশি থাকলে মেঘলা আকাশ ও ভ্যাপসা গরমের পরিস্থিতিও তৈরি হতে পারে।
পুজোর সময় আবহাওয়া কেমন থাকবে, তা নির্ভর করবে স্থানীয় বায়ুপ্রবাহ, আর্দ্রতা এবং নতুন কোনও আবহাওয়াগত ব্যবস্থা তৈরি হচ্ছে কি না, তার উপর। তাই এখনই টানা বৃষ্টি বা একেবারে বৃষ্টিহীন আবহাওয়ার পূর্বাভাস ধরে নেওয়া উচিত নয়।
বিশেষ করে যাঁরা দূরে ঠাকুর দেখতে যাওয়ার পরিকল্পনা করছেন, তাঁদের যাত্রার আগে আবহাওয়ার খবর দেখে নেওয়া উচিত। দীর্ঘ সময় বাইরে থাকার পরিকল্পনা থাকলে বিকল্প ব্যবস্থা রাখাও ভালো।
পুজোর আগে কলকাতা-সহ দক্ষিণবঙ্গের আবহাওয়া পুরোপুরি বৃষ্টিমুক্ত হয়ে যাবে, এমন নিশ্চয়তা এখনও নেই। মহালয়ার আগে ও মহালয়ার দিন বিক্ষিপ্ত ঝড়বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। তার পর রবিবার থেকে মঙ্গলবার পর্যন্ত দক্ষিণবঙ্গে বৃষ্টির প্রবণতা কমে আবহাওয়া তুলনামূলক শুষ্ক থাকতে পারে। কিন্তু চতুর্থী ও পঞ্চমীতে উত্তর ২৪ পরগনা, দক্ষিণ ২৪ পরগনা এবং দুই মেদিনীপুরে ফের বৃষ্টির সম্ভাবনার কথা বলা হয়েছে।
উত্তরবঙ্গের ক্ষেত্রে শুক্রবার ও শনিবার বিক্ষিপ্ত বৃষ্টির সম্ভাবনা থাকলেও রবিবার থেকে আবহাওয়া শুষ্ক থাকার ইঙ্গিত রয়েছে। অন্যদিকে, দেশের বিভিন্ন অংশ থেকে বর্ষা বিদায়ের প্রক্রিয়া এগোলেও পশ্চিমবঙ্গ থেকে বর্ষা বিদায়ের বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণার জন্য অপেক্ষা করতে হবে।
অতএব, পুজোর প্রস্তুতি থামিয়ে রাখার প্রয়োজন নেই। তবে আবহাওয়ার পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে পরিকল্পনা করাই হবে বুদ্ধিমানের কাজ। প্রতিদিনের জেলা-ভিত্তিক পূর্বাভাস দেখে বাইরে বেরোন, প্রয়োজন হলে সঙ্গে ছাতা রাখুন এবং বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টির সতর্কতা থাকলে নিরাপদ আশ্রয়ে থাকুন। পুজোর আনন্দের পাশাপাশি নিরাপত্তার দিকেও নজর রাখুন।
বিশেষ দ্রষ্টব্য: এই প্রতিবেদনটি আপনার দেওয়া আবহাওয়ার তথ্যের ভিত্তিতে নতুন ভাষায় সম্পাদিত। প্রকাশের আগে তারিখ, তাপমাত্রা এবং জেলাভিত্তিক পূর্বাভাসের তথ্য সর্বশেষ সরকারি বুলেটিনের সঙ্গে যাচাই করে নিন।