কলকাতার চেতলা এলাকায় শনিবার 42বছর বয়সী অশোক পাসওয়ান নামে এক ব্যক্তিকে শাবল দিয়ে গলায় আঘাত করে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে মেয়র ফিরহাদ হাকিমের ওয়ার্ডে। এই হত্যাকাণ্ডে পুলিশ একজনকে আটক করেছে। অশোকের স্ত্রী ও দুই সন্তান রয়েছে। স্থানীয় প্রশাসনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে এবং তদন্ত চলছে।
কলকাতার চেতলা এলাকায় শনিবার এক নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে যা পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে দিয়েছে। মৃত ব্যক্তির পরিচয় পাওয়া গেছে অশোক পাসওয়ান নামে এক 42 বছর বয়সী ব্যক্তি। প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, তাকে শাবল বা ধারালো অস্ত্র দিয়ে গলায় আঘাত করে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে। এই ঘটনা ঘটেছে কলকাতার মেয়র ফিরহাদ হাকিমের ওয়ার্ডে, যা স্থানীয় প্রশাসনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে যে শনিবার বিকেলে চেতলা এলাকার একটি রাস্তায় অশোক পাসওয়ানের সঙ্গে কয়েকজন ব্যক্তির বাকবিতণ্ডা হয়। এক পর্যায়ে বিষয়টি হাতাহাতিতে রূপ নেয় এবং আক্রমণকারীরা শাবল বা অনুরূপ ধারালো অস্ত্র দিয়ে তার গলায় প্রচণ্ড আঘাত করে। আঘাত এতটাই তীব্র ছিল যে অশোক পাসওয়ান প্রায় সঙ্গে সঙ্গেই মারাত্মকভাবে আহত হন এবং রক্তাক্ত অবস্থায় রাস্তায় পড়ে যান। স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত ঘটনাস্থলে জড়ো হন এবং পুলিশকে খবর দেন।
ঘটনার খবর পাওয়ার পর কলকাতা পুলিশের একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় এবং অশোক পাসওয়ানকে উদ্ধার করে নিকটস্থ হাসপাতালে নিয়ে যায়। কিন্তু চিকিৎসকরা তাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের কাছ থেকে তথ্য সংগ্রহ শুরু করে। প্রাথমিক তদন্তে জানা যাচ্ছে যে হত্যাকাণ্ডের পেছনে ব্যক্তিগত শত্রুতা বা স্থানীয় বিরোধ থাকতে পারে। পুলিশ ইতিমধ্যে একজন সন্দেহভাজনকে আটক করেছে এবং তার কাছ থেকে জিজ্ঞাসাবাদ চালাচ্ছে।
অশোক পাসওয়ান স্থানীয়ভাবে পরিচিত একজন ব্যক্তি ছিলেন এবং তার পরিবারে স্ত্রী ও দুই সন্তান রয়েছে বলে জানা গেছে। তার আকস্মিক মৃত্যুতে পরিবার শোকে মুহ্যমান এবং এলাকায় গভীর দুঃখের ছায়া নেমে এসেছে। প্রতিবেশীরা জানিয়েছেন যে অশোক শান্তিপ্রিয় স্বভাবের মানুষ ছিলেন এবং খুব একটা ঝগড়াঝাঁটিতে জড়াতেন না। তাহলে কেন এবং কিভাবে তিনি এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের শিকার হলেন তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।
এই ঘটনা ঘটেছে মেয়র ফিরহাদ হাকিমের নিজস্ব ওয়ার্ডে, যা স্থানীয় প্রশাসন এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর জন্য অত্যন্ত বিব্রতকর। প্রকাশ্য দিবালোকে এমন নৃশংস হত্যাকাণ্ড প্রমাণ করে যে এলাকায় অপরাধীদের দৌরাত্ম্য কতটা বেড়েছে এবং তারা কতটা নির্ভীকভাবে অপরাধ সংঘটিত করছে। স্থানীয় বাসিন্দারা প্রশ্ন তুলছেন যে পুলিশ টহল এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা কোথায় ছিল যখন এই হত্যাকাণ্ড ঘটছিল।
মেয়র ফিরহাদ হাকিম এখনও এই নির্দিষ্ট ঘটনা নিয়ে কোনো বিবৃতি দেননি, তবে স্থানীয় জনগণ এবং রাজনৈতিক বিরোধীরা তার প্রশাসনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে কঠোর সমালোচনা করছেন। তারা দাবি করছেন যে শুধুমাত্র ঘটনার পরে তদন্ত নয়, বরং এমন ঘটনা প্রতিরোধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।
পুলিশ জানিয়েছে যে তারা ঘটনার সব দিক খতিয়ে দেখছে এবং দ্রুততম সময়ে সব অপরাধীকে গ্রেপ্তার করা হবে। হত্যাকাণ্ডের মূল কারণ, জড়িত ব্যক্তিদের পরিচয় এবং তাদের উদ্দেশ্য সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। ফরেনসিক বিশেষজ্ঞদের ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে এবং শবদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। তদন্ত চলমান রয়েছে এবং শীঘ্রই আরও তথ্য প্রকাশিত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।