মৌসম ভবনের তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার দিল্লিতে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা স্বাভাবিকের তুলনায় ২.৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস কম নেমেছে। দিল্লি সংলগ্ন নয়ডায় সকালের বৃষ্টির জেরে রাজধানীতে শীতের দাপট আরও বেড়েছে।
শীতের দাপটে কার্যত জবুথবু হয়ে পড়েছে দিল্লি। নতুন বছরের জানুয়ারিতে রাজধানীর আবহাওয়া যেন আরও এক ধাপ নীচে নেমে গেল। শুক্রবার এক ধাক্কায় দিল্লির তাপমাত্রা নেমে এসেছে ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াসের ঘরে। মৌসম ভবনের তরফে জানানো হয়েছে, চলতি শীতের মরসুমে শুক্রবারই ছিল রাজধানীর সবচেয়ে ঠান্ডা দিন। আবহাওয়াবিদদের মতে, গত দু’বছরের মধ্যে জানুয়ারিতে এমন তীব্র শীত এই প্রথম অনুভূত হচ্ছে দিল্লিতে।
এর আগে ২০২৪ সালের ১৬ জানুয়ারি দিল্লির সর্বনিম্ন তাপমাত্রা নেমে গিয়েছিল ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াসে। সেই দিনটিই ছিল ওই বছরের শীতলতম দিন হিসেবে নথিভুক্ত। চলতি বছরের জানুয়ারিতে ফের একবার সেই স্মৃতিই যেন নতুন করে ফিরে এল। বছরের শুরুতেই শীতের এমন দাপট রাজধানীর জনজীবনে বড়সড় প্রভাব ফেলেছে।
শুক্রবার ভোর থেকেই দিল্লির আকাশ ছিল মেঘে ঢাকা। সূর্যের দেখা খুব একটা মেলেনি। ঠান্ডা উত্তুরে হাওয়ার সঙ্গে হালকা বৃষ্টির ছোঁয়ায় শীতের অনুভূতি আরও কয়েক গুণ বেড়ে যায়। ভোরের দিকে ঘন কুয়াশার চাদরে ঢেকে যায় রাজধানীর বিস্তীর্ণ এলাকা। দৃশ্যমানতা কমে যাওয়ায় রাস্তাঘাটে চলাচল করতে সমস্যায় পড়েন বহু মানুষ।
সকালবেলা অফিস, স্কুল কিংবা নিত্যপ্রয়োজনীয় কাজে বেরোনো মানুষজনকে মোটা সোয়েটার, জ্যাকেট, শাল আর মাফলার জড়িয়ে কাঁপতে কাঁপতেই রাস্তায় নামতে দেখা যায়। বাসস্ট্যান্ড, রেলস্টেশন এবং বাজার এলাকাগুলিতে শীতের দাপট ছিল চোখে পড়ার মতো। অনেক জায়গায় মানুষজন আগুন পোহাতে শুরু করেন। ফুটপাথে থাকা মানুষের কষ্ট আরও বেড়েছে, কারণ ঠান্ডা হাওয়ার সঙ্গে কুয়াশা তাঁদের দুর্ভোগ কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।
মৌসম ভবনের তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার দিল্লির সর্বনিম্ন তাপমাত্রা স্বাভাবিকের তুলনায় প্রায় ২.৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস কম ছিল। আবহাওয়াবিদদের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, উত্তর ভারত জুড়ে বইতে থাকা উত্তুরে হাওয়া এবং পশ্চিমী ঝঞ্ঝার প্রভাবেই রাজধানীতে এই তীব্র শীত অনুভূত হচ্ছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে দিল্লি সংলগ্ন উত্তরপ্রদেশের নয়ডা ও আশপাশের এলাকায় সকালের বৃষ্টিপাত।
বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, বৃষ্টির পরে বাতাসে আর্দ্রতা বেড়ে গেলে ঠান্ডার অনুভূতি প্রকৃত তাপমাত্রার থেকেও বেশি হয়। দিল্লিতেও ঠিক সেই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। ফলে দিনের বেলায় সূর্যের আংশিক দেখা মিললেও শীতের দাপট কমছে না। বরং ঠান্ডা বাতাসের কারণে শরীরের উপর প্রভাব পড়ছে বেশি।
ঘন কুয়াশার প্রভাবে রাজধানীর পরিবহণ ব্যবস্থাও কিছুটা ব্যাহত হয়েছে। ভোরের দিকে দৃশ্যমানতা কমে যাওয়ায় একাধিক ট্রেন নির্ধারিত সময়ের তুলনায় দেরিতে চলেছে বলে জানা গিয়েছে। একই সঙ্গে সড়কপথে গাড়ি চলাচলেও ধীরগতি লক্ষ্য করা গিয়েছে। ইন্দিরা গান্ধী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরেও কয়েকটি বিমানের ওঠানামায় বিলম্ব হয়েছে।
চিকিৎসকদের মতে, এই ধরনের আবহাওয়ায় শিশু, বয়স্ক এবং দীর্ঘদিনের অসুস্থ ব্যক্তিদের বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করা প্রয়োজন। শ্বাসকষ্ট, সর্দি-কাশি, জ্বর এবং গলার সমস্যার ঝুঁকি বেড়ে যায়। তাই গরম পোশাক পরা, অপ্রয়োজনে বাইরে না বেরোনো এবং ভোর ও গভীর রাতে ঠান্ডা এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
মৌসম ভবনের পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী কয়েক দিন দিল্লিতে শৈত্যপ্রবাহের পরিস্থিতি বজায় থাকতে পারে। যদিও সর্বনিম্ন তাপমাত্রায় সামান্য ওঠানামা হতে পারে, তবে বড়সড় স্বস্তির সম্ভাবনা আপাতত নেই। উত্তুরে হাওয়ার দাপট অব্যাহত থাকলে জানুয়ারির মাঝামাঝি পর্যন্ত শীতের প্রকোপ চলতে পারে বলে মনে করছেন আবহাওয়াবিদরা।
সব মিলিয়ে নতুন বছরের শুরুতেই শীত, কুয়াশা এবং হালকা বৃষ্টির জেরে দিল্লির জনজীবন বেশ কিছুটা ব্যাহত হয়েছে। রাজধানীবাসীর কাছে আপাতত গরম পোশাকই একমাত্র ভরসা। আবহাওয়ার গতিপ্রকৃতির দিকে নজর রেখে চলার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।
মৌসম ভবনের তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার দিল্লির সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল স্বাভাবিকের তুলনায় ২.৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস কম। আবহাওয়াবিদদের মতে, উত্তুরে হাওয়ার দাপট এবং পশ্চিমী ঝঞ্ঝার প্রভাবেই এই তাপমাত্রা পতন ঘটেছে। তার উপর দিল্লি লাগোয়া উত্তরপ্রদেশের নয়ডায় শুক্রবার সকালে হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টিপাত হওয়ায় রাজধানীতে শীতের অনুভূতি আরও তীব্র হয়ে ওঠে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বৃষ্টির পরে বাতাসে আর্দ্রতা বাড়ে। সেই সঙ্গে যখন উত্তুরে হাওয়া বইতে থাকে, তখন ঠান্ডার অনুভূতি প্রকৃত তাপমাত্রার থেকেও অনেক বেশি হয়ে ওঠে। দিল্লিতেও ঠিক সেই পরিস্থিতিই তৈরি হয়েছে। ফলে দিনের বেলায় সূর্যের দেখা মিললেও শীতের প্রকোপ কমছে না।
শুক্রবার সকালে দিল্লির একাধিক এলাকায় হালকা বৃষ্টির খবর মিলেছে। সফদরজং, লোঢী রোড, আইটিও, ইন্ডিয়া গেট, নেহরু স্টেডিয়াম, আরকে পুরম, ডিফেন্স কলোনি, লাজপতনগর, বসন্তকুঞ্জ, হওজ খাস, মালব্য নগর, মেহরৌলী, ছত্তরপুর, আয়া নগর এবং দেরামন্ডী এলাকায় ঝিরঝিরে বৃষ্টি হয়েছে বলে জানিয়েছে মৌসম ভবন।
এছাড়াও দ্বারকা, নজফগড়, রাজৌরী গার্ডেন, পশ্চিম বিহার, ইন্দিরা গান্ধী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এবং রাজীব চওকের মতো গুরুত্বপূর্ণ এলাকাতেও হালকা বৃষ্টির খবর মিলেছে। সকালবেলার এই বৃষ্টির জেরে রাস্তার তাপমাত্রা আরও কমে যায়। অফিসগামী মানুষজনকে গরম পোশাকের সঙ্গে রেনকোট বা ছাতা নিয়েও বেরোতে দেখা গিয়েছে।
শীতপ্রবাহের এই পরিস্থিতি যে এখনই কাটছে না, সে ইঙ্গিতও দিয়েছে মৌসম ভবন। আবহাওয়াবিদদের পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী কয়েক দিন সর্বনিম্ন তাপমাত্রায় সামান্য হেরফের হতে পারে। তবে সামগ্রিকভাবে শৈত্যপ্রবাহের পরিস্থিতি বজায় থাকবে।
মৌসম ভবনের এক আধিকারিক জানিয়েছেন, “উত্তর ভারত জুড়ে বর্তমানে যে আবহাওয়াগত পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, তাতে দ্রুত তাপমাত্রা বৃদ্ধির সম্ভাবনা নেই। দিল্লি এবং তার পার্শ্ববর্তী অঞ্চলে শৈত্যপ্রবাহের প্রভাব আগামী কয়েক দিন অব্যাহত থাকতে পারে।”
শীতের সঙ্গে সঙ্গে রাজধানীতে বেড়েছে কুয়াশার দাপটও। শুক্রবার ভোর থেকেই ঘন কুয়াশায় ঢেকে যায় দিল্লির একাধিক এলাকা। দৃশ্যমানতা কমে যাওয়ায় রেল ও সড়ক পরিষেবায় সাময়িক ব্যাঘাত ঘটে। একাধিক ট্রেন নির্ধারিত সময়ের তুলনায় দেরিতে চলেছে বলে জানা গিয়েছে।
এছাড়াও ইন্দিরা গান্ধী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে দৃশ্যমানতা কমে যাওয়ায় বেশ কয়েকটি বিমানের ওঠানামায় বিলম্ব হয়েছে। বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, পরিস্থিতির উপর নজর রাখা হচ্ছে এবং যাত্রীদের নিয়মিত আপডেট দেওয়া হচ্ছে।
শীতের দাপটের সঙ্গে দিল্লির বাসিন্দাদের ভোগাচ্ছে দূষণও। যদিও সামান্য উন্নতি হয়েছে বায়ু মানের সূচকে, তবু পরিস্থিতি যে এখনও স্বস্তিদায়ক নয়, তা স্পষ্ট। শুক্রবার রাজধানীর সামগ্রিক বাতাসের গুণগত মানের সূচক (AQI) ছিল ২৮০, যা ‘খারাপ’ শ্রেণিতে পড়ে।
আনন্দবিহারে একিউআই ছিল ৩৮৫, চাঁদনি চওকে ৩৩৫ এবং জাহাঙ্গিরপুরীতে ৩৪০। এই পরিসংখ্যান থেকেই স্পষ্ট, রাজধানীর একাধিক এলাকায় বাতাসের মান এখনও ‘খুব খারাপ’ পর্যায়ে রয়েছে।
কেন্দ্রীয় দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদ (CPCB)-এর নির্দেশিকা অনুযায়ী,
একিউআই ০–৫০ হলে বায়ু মান ভাল
৫১–১০০ হলে সন্তোষজনক
১০১–২০০ হলে মাঝারি
২০১–৩০০ হলে খারাপ
৩০১–৪০০ হলে খুব খারাপ
৪০১–৫০০ হলে ভয়ানক হিসেবে ধরা হয়
এই সূচক অনুযায়ী দিল্লির বর্তমান পরিস্থিতি এখনও উদ্বেগজনক বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। ঠান্ডা ও কুয়াশার কারণে বাতাসে দূষিত কণাগুলি আটকে থাকছে, ফলে শ্বাসকষ্ট, চোখ জ্বালা ও গলার সমস্যায় ভুগছেন অনেকেই।
ঠান্ডা, কুয়াশা এবং দূষণের যুগপৎ দাপটে নাজেহাল সাধারণ মানুষ। সকাল ও সন্ধ্যার দিকে বয়স্ক ও শিশুদের বাইরে বেরোতে নিষেধ করছেন চিকিৎসকেরা। ফুটপাথে থাকা মানুষজনের কষ্টও বেড়েছে কয়েক গুণ। অনেক জায়গায় স্বেচ্ছাসেবী সংস্থাগুলিকে কম্বল বিতরণ করতে দেখা গিয়েছে।
চিকিৎসকদের মতে, এই সময়ে বিশেষ করে হাঁপানি, ব্রঙ্কাইটিস এবং হৃদরোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করা প্রয়োজন। গরম পোশাক পরা, অপ্রয়োজনে বাইরে না বেরোনো এবং দূষণ থেকে বাঁচতে মাস্ক ব্যবহার করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
সব মিলিয়ে দিল্লির আবহাওয়া নিয়ে আপাতত স্বস্তির খবর নেই। মৌসম ভবনের পূর্বাভাস অনুযায়ী, জানুয়ারির মাঝামাঝি পর্যন্ত শীতের দাপট বজায় থাকতে পারে। উত্তুরে হাওয়া এবং পশ্চিমী ঝঞ্ঝার প্রভাব কাটলেই কেবল তাপমাত্রায় সামান্য বৃদ্ধি আশা করা যাচ্ছে।
ততদিন পর্যন্ত রাজধানীর বাসিন্দাদের শীত, কুয়াশা এবং দূষণের সঙ্গে লড়াই করেই দিন কাটাতে হবে—এমনটাই বলছেন আবহাওয়াবিদরা।