Lenspedia Bangla Logo
  • কলকাতা
  • 30℃ Purba Bardhaman

চোটের জন্য বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে গেলেন কামিন্স, জায়গা হল না স্মিথেরও, ১৫ জনের দল ঘোষণা অস্ট্রেলিয়ার

বিশ্বকাপের জন্য ১৫ জনের দল ঘোষণা করেছে অস্ট্রেলিয়া। নেতৃত্ব দেবেন মিচেল মার্শ। কামিন্স, স্মিথ ছাড়াও দলে জায়গা হয়নি ওপেনার ম্যাট শর্টেরও।টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের মাত্র এক সপ্তাহ আগে বড় ধাক্কা খেল অস্ট্রেলিয়া। পিঠের পুরনো চোটের কারণে প্রতিযোগিতা থেকে ছিটকে গেলেন প্যাট কামিন্স। অস্ট্রেলিয়া দলে জায়গা হল না স্টিভ স্মিথেরও।

শনিবার বিশ্বকাপের জন্য ১৫ জনের চূড়ান্ত দল ঘোষণা করেছে অস্ট্রেলিয়া। দ্বিতীয় বারের জন্য টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ট্রফি জয়ের লক্ষ্যে নামবে অস্ট্রেলিয়া। দলের নেতৃত্ব দেবেন মিচেল মার্শ। কামিন্স, স্মিথ ছাড়াও দলে জায়গা হয়নি ওপেনার ম্যাট শর্টেরও।

অস্ট্রেলিয়ার টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ দল:

মিচেল মার্শ (অধিনায়ক), জেভিয়ার বার্টলেট, কুপার কনোলি, টিম ডেভিড, বেন ডোয়ারশুইস, ক্যামেরন গ্রিন, নাথান এলিস, জশ হ্যাজেলউড, ট্রাভিস হেড, জশ ইংলিশ, ম্যাট কুনেম্যান, গ্লেন ম্যাক্সওয়েল, ম্যাট রেনশ, মার্কাস স্টয়নিস, অ্যাডাম জাম্পা।

কামিন্সের বাদ পড়া এবং পরিবর্তে বাঁহাতি সুইং বোলার বেন ডোয়ারশুইসকে দলে নেওয়ার বিষয়ে নির্বাচক টনি ডোডেমাইড বলেছেন, “কামিন্সের পিঠের চোট থেকে সেরে উঠতে আরও সময় লাগবে। জোয়ারশুইস তৈরিই আছে। ও বাঁহাতি পেসের পাশাপাশি দুর্দান্ত ফিল্ডিং করে এবং লোয়ার অর্ডারে ব্যাটিংয়ের ভরসা দেয়।”

তিনি আরও বলেন: “আমরা বিশ্বাস করি ডোয়ারশুইসের গতিতে বল সুইং করানোর ক্ষমতা এবং বৈচিত্র্য দলের সঙ্গে বেশ মানানসই হবে।’’

পাঁচ ম্যাচের অ্যাশেজ় সিরিজের আগেও পিঠের চোটের কারণে দীর্ঘ বিশ্রামে ছিলেন অস্ট্রেলিয়ার টেস্ট ও এক দিনের দলের অধিনায়ক কামিন্স। কোমরের নিচের অংশের চোটের জন্য অ্যাশেজ় সিরিজে তিনি মাত্র একটি টেস্ট খেলতে পেরেছিলেন। কামিন্সের অভিজ্ঞতা অস্ট্রেলিয়া নিশ্চিত ভাবেই মিস করবে।

অস্ট্রেলিয়ার ঘোষিত টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ দল ঘিরে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে একটাই নাম—প্যাট কামিন্স। টেস্ট ও এক দিনের দলের অধিনায়ক এবং আধুনিক অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেটের অন্যতম স্তম্ভকে ছাড়াই বিশ্বকাপের মঞ্চে নামতে হচ্ছে অস্ট্রেলিয়াকে। পিঠের দীর্ঘস্থায়ী চোটের কারণে কামিন্সকে দলে না রাখার সিদ্ধান্ত যতটা চিকিৎসাগত ভাবে যুক্তিযুক্ত, ততটাই ক্রিকেটীয় দৃষ্টিকোণ থেকে কঠিন। কারণ, শুধু একজন ফাস্ট বোলার নয়—কামিন্স মানে অভিজ্ঞতা, নেতৃত্ব এবং চাপের মুখে ঠান্ডা মাথার সিদ্ধান্ত।

ঘোষিত দল ও তার বৈচিত্র্য

অস্ট্রেলিয়ার টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ দলটি হল—
মিচেল মার্শ (অধিনায়ক), জেভিয়ার বার্টলেট, কুপার কনোলি, টিম ডেভিড, বেন ডোয়ারশুইস, ক্যামেরন গ্রিন, নাথান এলিস, জশ হ্যাজেলউড, ট্রাভিস হেড, জশ ইংলিশ, ম্যাট কুনেম্যান, গ্লেন ম্যাক্সওয়েল, ম্যাট রেনশ, মার্কাস স্টয়নিস ও অ্যাডাম জাম্পা।

এই দল দেখলেই বোঝা যায়, অস্ট্রেলিয়া এবার ভারসাম্যের উপর বিশেষ জোর দিয়েছে। শক্তিশালী টপ অর্ডার, মাঝের দিকে বিধ্বংসী অলরাউন্ডার, শেষ দিকে পাওয়ার-হিটার এবং বোলিংয়ে পেস-স্পিনের মিশ্রণ—সব কিছুই রয়েছে।

মিচেল মার্শের কাঁধে নেতৃত্বের ভার

কামিন্সের অনুপস্থিতিতে নেতৃত্বভার পড়েছে মিচেল মার্শের উপর। মার্শ টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে ইতিমধ্যেই নিজেকে প্রমাণ করেছেন। ব্যাট হাতে আগ্রাসী শুরু দেওয়া, মাঝের ওভারে ইনিংস গড়া এবং প্রয়োজনে কয়েক ওভার বল—এই বহুমুখী দক্ষতাই তাঁকে অধিনায়ক হিসেবে এগিয়ে রেখেছে।

তবে বিশ্বকাপের মতো মঞ্চে অধিনায়কত্ব মানে শুধু টস বা ফিল্ডিং সেট করা নয়। চাপের মুহূর্তে বোলার বদল, ব্যাটিং অর্ডারে রদবদল এবং প্রতিপক্ষের দুর্বলতা ধরার ক্ষমতা—সব কিছুর পরীক্ষাই হবে মার্শের জন্য।

কামিন্সের বাদ পড়া: কী হারাল অস্ট্রেলিয়া

প্যাট কামিন্স শুধুমাত্র একজন ফাস্ট বোলার নন। তিনি নতুন বল হাতে উইকেট এনে দিতে পারেন, ডেথ ওভারে রান আটকে রাখতে পারেন এবং মাঠে উপস্থিত থাকলেই দলের আত্মবিশ্বাস বেড়ে যায়।

পাঁচ ম্যাচের অ্যাশেজ় সিরিজের আগেও পিঠের চোটের কারণে দীর্ঘ বিশ্রামে ছিলেন তিনি। কোমরের নিচের অংশের চোট তাঁকে ভুগিয়েছে দীর্ঘদিন। অ্যাশেজ়ে মাত্র একটি টেস্ট খেলতে পারা সেই সমস্যারই ইঙ্গিত। ফলে বিশ্বকাপের আগে তাঁকে ঝুঁকিতে না ফেলে বিশ্রাম দেওয়ার সিদ্ধান্ত ভবিষ্যতের কথা ভেবেই নেওয়া হয়েছে।

কিন্তু টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে তাঁর অভিজ্ঞতা যে অস্ট্রেলিয়া মিস করবে, তা নিয়ে কোনও সন্দেহ নেই।

বেন ডোয়ারশুইস: কামিন্সের বিকল্প নয়, আলাদা অস্ত্র

নির্বাচক টনি ডোডেমাইড স্পষ্ট করে দিয়েছেন—ডোয়ারশুইসকে নেওয়া হয়েছে তাঁর আলাদা গুণের জন্য, কামিন্সের সরাসরি বিকল্প হিসেবে নয়। বাঁহাতি সুইং বোলার হিসেবে ডোয়ারশুইস নতুন বল হাতে যেমন কার্যকর, তেমনই মাঝের ওভারেও ভ্যারিয়েশন আনতে পারেন।

ডোডেমাইডের কথায়,

“জোয়ারশুইস তৈরিই আছে। ও বাঁহাতি পেসের পাশাপাশি দুর্দান্ত ফিল্ডিং করে এবং লোয়ার অর্ডারে ব্যাটিংয়ের ভরসা দেয়।”

news image
আরও খবর

টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে এই বহুমুখীতাই বড় সম্পদ। বাঁহাতি পেস থাকায় প্রতিপক্ষ ব্যাটসম্যানদের ছন্দ ভাঙার সুযোগ তৈরি হয়। পাশাপাশি, তাঁর ফিল্ডিং অস্ট্রেলিয়ার মতো দলের জন্য বাড়তি শক্তি।

পেস আক্রমণের চেহারা

কামিন্স না থাকলেও অস্ট্রেলিয়ার পেস আক্রমণ একেবারে দুর্বল নয়। জশ হ্যাজেলউডের অভিজ্ঞতা, নাথান এলিসের স্লোয়ার বল ও ইয়র্কার, স্টয়নিস ও গ্রিনের মিডিয়াম পেস—সব মিলিয়ে বৈচিত্র্য রয়েছে।

ডোয়ারশুইস যুক্ত হওয়ায় বাঁহাতি-ডানহাতি কম্বিনেশন তৈরি হয়েছে, যা বিশেষ করে পাওয়ারপ্লে ও ডেথ ওভারে কাজে আসতে পারে।

স্পিন বিভাগে জাম্পা ও কুনেম্যান

অ্যাডাম জাম্পা দীর্ঘদিন ধরেই অস্ট্রেলিয়ার টি-টোয়েন্টি স্পিন আক্রমণের মূল ভরসা। মাঝের ওভারে উইকেট নেওয়ার ক্ষমতা তাঁর সবচেয়ে বড় শক্তি। তাঁর সঙ্গে ম্যাট কুনেম্যান থাকায় বাঁহাতি স্পিনের বিকল্পও তৈরি হয়েছে।

বিশ্বকাপের ভেন্যু যদি স্পিন সহায়ক হয়, তবে এই জুটি অস্ট্রেলিয়ার জন্য বড় অস্ত্র হয়ে উঠতে পারে।

ব্যাটিং: আগ্রাসনই মূল দর্শন

ব্যাটিং বিভাগে ট্রাভিস হেড, মিচেল মার্শ, ক্যামেরন গ্রিন ও গ্লেন ম্যাক্সওয়েল—এই চারজনই ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারেন। ওপেনিংয়ে হেডের আগ্রাসন পাওয়ারপ্লেতেই প্রতিপক্ষকে চাপে ফেলে। ম্যাক্সওয়েল মাঝের ওভারে স্পিন ধ্বংসে সিদ্ধহস্ত।

শেষ দিকে টিম ডেভিড ও স্টয়নিস থাকায় ডেথ ওভারে রানের খরা হওয়ার সম্ভাবনা কম।

উইকেটকিপিং ও ফিল্ডিং

জশ ইংলিশ উইকেটের পিছনে নির্ভরযোগ্য বিকল্প। অস্ট্রেলিয়া বরাবরই ফিল্ডিংকে গুরুত্ব দেয়, আর এই দলে প্রায় সবাইই ভালো ফিল্ডার। ডোয়ারশুইসের অন্তর্ভুক্তি সেই দিক থেকেই গুরুত্বপূর্ণ।

বিশ্বকাপের চ্যালেঞ্জ

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ মানেই ছোট ছোট মুহূর্তের খেলা। এক ওভার, এক ক্যাচ বা এক ভুল সিদ্ধান্ত পুরো ম্যাচের ফল বদলে দিতে পারে। কামিন্সের মতো অভিজ্ঞ নেতা না থাকায় সেই মুহূর্তগুলিতে কে এগিয়ে আসবেন, সেটাই বড় প্রশ্ন।

তবে অস্ট্রেলিয়ার শক্তি হল তাদের গভীরতা। প্রায় প্রত্যেক ক্রিকেটারই ম্যাচ জেতাতে সক্ষম।

উপসংহার

প্যাট কামিন্সের বাদ পড়া নিঃসন্দেহে অস্ট্রেলিয়ার জন্য বড় ধাক্কা। তাঁর অভিজ্ঞতা, নেতৃত্ব এবং মানসিক দৃঢ়তা বিশ্বকাপের মঞ্চে খুবই প্রয়োজনীয়। কিন্তু একই সঙ্গে বেন ডোয়ারশুইসের অন্তর্ভুক্তি দেখাচ্ছে, অস্ট্রেলিয়া ভবিষ্যতের কথা ভেবে নতুন অস্ত্র তৈরি করতে চাইছে।

মিচেল মার্শের নেতৃত্বে এই দল কতটা দূর যেতে পারে, তা নির্ভর করবে দলগত পারফরম্যান্স ও চাপ সামলানোর ক্ষমতার উপর। কামিন্স না থাকলেও, অস্ট্রেলিয়া যে এখনও শিরোপার দাবিদার—সে কথা বলার অপেক্ষা রাখে না।

এই দল ঘোষণার পর ক্রিকেট মহলে আর একটি গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা শুরু হয়েছে—অস্ট্রেলিয়ার লোড ম্যানেজমেন্ট ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা। প্যাট কামিন্সের মতো তারকাকে বিশ্বকাপের মতো বড় মঞ্চে বিশ্রাম দেওয়ার সিদ্ধান্ত প্রথমে অনেকের কাছেই বিস্ময়কর মনে হলেও, অস্ট্রেলিয়া ক্রিকেট বরাবরই খেলোয়াড়দের ফিটনেসকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেয়। সাম্প্রতিক বছরে একের পর এক সিরিজ, ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগ ও আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টের চাপ ক্রিকেটারদের শরীরের উপর বিরাট প্রভাব ফেলছে। কামিন্সের ক্ষেত্রে সেই চাপই শেষ পর্যন্ত বিশ্বকাপ দল নির্বাচনের সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলেছে।

এই সিদ্ধান্তের আর একটি দিক হল নেতৃত্বের বিকল্প তৈরি করা। মিচেল মার্শকে অধিনায়ক করার মাধ্যমে নির্বাচকেরা ভবিষ্যতের জন্য একটি রোডম্যাপ তৈরি করতে চাইছেন। কামিন্স সুস্থ থাকলে নিঃসন্দেহে নেতৃত্বের প্রথম পছন্দ, কিন্তু তাঁর অনুপস্থিতিতে দলের হাল ধরতে কে প্রস্তুত—সেই পরীক্ষাও এই বিশ্বকাপে হয়ে যাবে। মার্শের শান্ত স্বভাব ও মাঠে সতীর্থদের সঙ্গে যোগাযোগের ধরন তাঁকে টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে উপযুক্ত অধিনায়ক করে তুলেছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

বেন ডোয়ারশুইসের অন্তর্ভুক্তি শুধু বোলিংয়ের ভারসাম্য নয়, কৌশলগত বৈচিত্র্যও এনে দিয়েছে। বাঁহাতি পেসারদের বিরুদ্ধে অনেক ব্যাটসম্যানই স্বচ্ছন্দ নন, বিশেষ করে যদি বল সুইং করে। পাওয়ারপ্লেতে ডোয়ারশুইসকে ব্যবহার করে দ্রুত উইকেট নেওয়ার পাশাপাশি, মাঝের ওভারে তাঁর স্লোয়ার বল ও কাটার প্রতিপক্ষের রান তোলার গতি কমাতে পারে। পাশাপাশি তাঁর লোয়ার অর্ডার ব্যাটিং ক্ষমতা টি-টোয়েন্টির মতো ফরম্যাটে অস্ট্রেলিয়াকে বাড়তি গভীরতা দেবে।

বিশ্বকাপের ভেন্যু ও কন্ডিশনও এই দলে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে। যদি উইকেট ফ্ল্যাট হয়, তবে অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটিং শক্তিই প্রধান অস্ত্র হবে। আর যদি উইকেটে সামান্য সাহায্য থাকে, তবে হ্যাজেলউড, এলিস ও ডোয়ারশুইসের পেস ত্রয়ী বিপজ্জনক হয়ে উঠতে পারে। স্পিন সহায়ক পরিস্থিতিতে জাম্পা ও কুনেম্যানের উপর দায়িত্ব আরও বাড়বে।

সব মিলিয়ে, এই দলটি হয়তো কামিন্সকে মিস করবে, কিন্তু তা সত্ত্বেও অস্ট্রেলিয়ার লক্ষ্য স্পষ্ট—শিরোপা জয়। নতুন মুখ ও অভিজ্ঞ তারকাদের মিশেলে তৈরি এই স্কোয়াড বিশ্বকাপের মঞ্চে কতটা সফল হয়, সেটাই এখন দেখার।

Preview image