Lenspedia Bangla Logo
  • কলকাতা
  • 30℃ Purba Bardhaman

তীব্র সৌর বিকিরণে বিপর্যয়ের আশঙ্কা! দেশজুড়ে বিমান চলাচলে সতর্কতা জারি

তীব্র সৌর বিকিরণের ফলে ভারতের আকাশপথে বড় ধরনের বিঘ্ন সৃষ্টি হতে পারে বলে সতর্ক করেছে এয়ার ইন্ডিয়া, ইন্ডিগো এবং এয়ার ইন্ডিয়া এক্সপ্রেস। আন্তর্জাতিক মহাকাশ সংস্থাগুলির পূর্বাভাস অনুযায়ী, সোলার স্টর্মের প্রভাবে বিমানের ন্যাভিগেশন সিস্টেম, রেডিও কমিউনিকেশন ও স্যাটেলাইট সিগন্যাল দুর্বল হতে পারে। ফলে বহু ফ্লাইট দেরিতে ছাড়া, সময়সূচি পরিবর্তন বা বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এয়ারবাসের এ৩২০ সিরিজের বিমানে প্রযুক্তিগত সমস্যার আশঙ্কাও জানানো হয়েছে। যাত্রীদের অনুরোধ করা হয়েছে যাত্রার আগে অফিসিয়াল আপডেট দেখে নেওয়ার জন্য। দেশে ইতিমধ্যেই বিমানবন্দরগুলিতে বাড়তি সতর্কতা জারি করা হয়েছে।

ভারতের আকাশপথে যাত্রী পরিষেবা যে আগামী কয়েক দিন বিস্তর সমস্যার মুখে পড়তে পারে, সেই আশঙ্কাই প্রকাশ্যে আনল দেশের তিন প্রধান বিমান সংস্থা—এয়ার ইন্ডিয়া, ইন্ডিগো এবং এয়ার ইন্ডিয়া এক্সপ্রেস। তীব্র সৌর বিকিরণের কারণে বিমানের ন্যাভিগেশন সিস্টেম, কমিউনিকেশন সিগন্যাল এবং ফ্লাইট অপারেশন ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে বলে আগেই সতর্কবার্তা দিয়েছিল আন্তর্জাতিক মহাকাশ সংস্থাগুলি। সেই সতর্কতার ভিত্তিতেই ভারতীয় বিমান সংস্থাগুলিও যাত্রীদের উদ্দেশে একের পর এক বিবৃতি জারি করে জানিয়েছে যে, নির্ধারিত ফ্লাইটগুলির সময়সূচি পরিবর্তন হতে পারে, অনেক বিমান দেরিতে ছাড়তে পারে, এমনকি পরিস্থিতি আরও খারাপ হলে একাধিক বিমান বাতিলও করতে হতে পারে। ভারতের আকাশপথে প্রতিদিন গড়ে চার হাজারের উপর বিমানের ওঠানামা হয়। অভ্যন্তরীণ রুটে যে বিপুল পরিমাণ ফ্লাইট প্রতিদিন চলাচল করে, তাতে সামান্য ব্যাঘাতও এক বড় বিশৃঙ্খলা তৈরি করতে পারে। তীব্র সৌর ঝড় বা সৌর বিকিরণ সাধারণত সূর্যের চৌম্বক ক্ষেত্রের অস্বাভাবিক ক্রিয়ার ফলে সৃষ্টি হয়, যাকে সোলার স্টর্ম বা জিওম্যাগনেটিক স্টর্ম বলা হয়। এর তেজস্ক্রিয় কণা পৃথিবীর মহাকাশসীমায় প্রবেশ করলে স্যাটেলাইট সিগন্যাল দুর্বল হতে পারে, জিপিএস কাজ না করতে পারে, বিমানের অটোপাইলট বা ন্যাভিগেশন রিডিং-এ হঠাৎ ভোলাটাইল বিচ্যুতি দেখা দিতে পারে। বিমান সংস্থা এবং ন্যাভিগেশন বিশেষজ্ঞদের মতে, সৌর বিকিরণ হঠাৎ বেড়ে গেলে রেডিও ফ্রিকোয়েন্সি ডিস্টার্বেন্স তৈরি হয়, যা পাইলট ও এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলের যোগাযোগ ব্যবস্থায় সমস্যা ঘটাতে পারে। তাই এই ধরনের পরিস্থিতিতে সতর্ক হওয়া এবং ফ্লাইটের গতি ও রুট সাময়িকভাবে বদলানো ছাড়া উপায় থাকে না। এয়ারবাস, যারা ভারতীয় বিমান সংস্থাগুলির অধিকাংশ এ৩২০ সিরিজের বিমানের নির্মাতা, তারা ইতিমধ্যেই বিশ্বের বিভিন্ন দেশের কাছে আগাম সতর্কতা পাঠিয়েছে। তারা জানিয়েছে যে, এ৩২০ ফ্যামিলির বিমানে ব্যবহৃত নির্দিষ্ট কিছু সিস্টেম সৌর বিকিরণের প্রভাবে সাময়িকভাবে সমস্যায় পড়তে পারে। ভারতেও যেহেতু ইন্ডিগো, এয়ার ইন্ডিয়া এবং এয়ার ইন্ডিয়া এক্সপ্রেস—তিনটি বড় বিমান সংস্থাই এই এয়ারবাস জেট ব্যবহার করে, তাই ঝুঁকি আরও বাড়ছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। খবর অনুযায়ী, ভারতের অন্তত দুই থেকে আড়াইশো বিমানে এর প্রভাব পড়তে পারে। এই পরিস্থিতিতে এয়ার ইন্ডিয়া একটি বিবৃতি প্রকাশ করে জানিয়েছে, যাত্রীদের সমস্যা যাতে কম হয়, তার জন্য তারা বিকল্প ব্যবস্থা খুঁজছে। তবুও, ফ্লাইট দেরিতে ছাড়া বা রেসিডিউল করা ছাড়া কোনও উপায় নেই। যাত্রীদের অনুরোধ করা হয়েছে, তারা যেন যাত্রার আগে অফিসিয়াল ওয়েবসাইট বা অ্যাপ দেখে নেন, যাতে আপডেটেড তথ্য জানা যায়। এয়ার ইন্ডিয়া এক্সপ্রেসও একই ধরনের সতর্কতা জারি করেছে। সংস্থার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, যাত্রীদের নিরাপত্তাই সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার, তাই কোনও ধরনের ঝুঁকি তারা নেবে না। প্রয়োজন হলে ফ্লাইট বাতিল করতেও পিছপা হবে না। ইন্ডিগো, যারা দেশের সবচেয়ে বড় দেশীয় বিমান পরিষেবা সংস্থা, তারাও যাত্রীদের আগেভাগে সতর্ক করে দিয়েছে। সংস্থার তরফে জানানো হয়েছে যে, জিওম্যাগনেটিক স্টর্মের প্রভাবে রাডার ও লং রেঞ্জ কমিউনিকেশন সিস্টেমে সাময়িক বিঘ্ন ঘটতে পারে। এই কারণে ফ্লাইট পরিচালনায় দেরি হতে পারে। যাত্রীদের যাত্রার অন্তত দুই ঘন্টা আগে বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে, যাতে শেষ মুহূর্তের পরিবর্তন কোনও বড় অসুবিধা সৃষ্টি না করে। এখানে উল্লেখ করা দরকার যে, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে অতীতে সৌর ঝড়ের কারণে বিমান চলাচলে সমস্যার নজির রয়েছে। ২০০৩ সালে হওয়া ‘হ্যালোইন স্টর্ম’ এর ফলে উত্তর আমেরিকায় বহু ফ্লাইট রুট পরিবর্তন করতে বাধ্য হয়েছিল। ২০১৫ সালে একটি বড় সৌর ঝড়ের কারণে স্ক্যান্ডিনেভিয়ায় কয়েক ঘণ্টা বিমান পরিষেবা বন্ধ রাখতে হয়েছিল রাডার সমস্যার কারণে। তাই বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বর্তমান পরিস্থিতি হালকাভাবে নেওয়ার কোনো জায়গা নেই। ভারতীয় আবহাওয়া দফতর এবং ইন্ডিয়ান স্পেস রিসার্চ অর্গানাইজেশন (ইসরো) পরিস্থিতির উপর নজর রাখছে। ইসরো জানিয়েছে যে সৌর ক্রিয়াকলাপ আকস্মিকভাবে বৃদ্ধি পেলে স্যাটেলাইট যোগাযোগ ব্যবস্থাও বিঘ্নিত হতে পারে, যা শুধু বিমান চলাচল নয়, মোবাইল নেটওয়ার্ক, ইন্টারনেট পরিষেবা এবং জিপিএস–এর মতো পরিষেবা সাময়িকভাবে দুর্বল করে দিতে পারে। এই কারণে ভারত সরকারও বিষয়টিকে গুরুত্ব সহকারে পর্যবেক্ষণ করছে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, সৌর বিকিরণের এই প্রভাব স্থায়ী নয়। সাধারণত সৌর ঝড় কয়েক ঘণ্টা থেকে কয়েক দিন পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে। তবে তার তীব্রতা কতটা হবে, তা নির্ভর করে সূর্যের চৌম্বকীয় কর্মকাণ্ডের শক্তির উপর। যদি তীব্রতা খুব বেশি হয়, তাহলে ভারতে বিমান সংস্থাগুলিকে বহু ফ্লাইট বাতিল করতে হতে পারে। এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলের নির্দেশ অনুযায়ী অনেক বিমানের রুট বেঁকে যেতে পারে, যার ফলে ফ্লাইট টাইম বাড়বে এবং জ্বালানি খরচও বৃদ্ধি পাবে। যাত্রীদের জন্য এর ফলে বাড়বে অপেক্ষার সময়, বাড়তে পারে টিকিটের দামও। অন্যদিকে, যেসব যাত্রীদের বিদেশযাত্রা করার পরিকল্পনা রয়েছে, তাদের ক্ষেত্রেও সিদ্ধান্ত বদলাতে হতে পারে। আন্তর্জাতিক ফ্লাইটে ন্যাভিগেশন সিস্টেমের ভূমিকা আরও বেশি। সেখানে সামান্য ত্রুটিও বড় বিপদ আনতে পারে। তাই বহু আন্তর্জাতিক রুটে সতর্কতা আরও কঠোর হবে বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। বিশেষ করে ইউরোপ-এশিয়া রুট, আমেরিকা-এশিয়া রুটের মতো দীর্ঘ পথের ফ্লাইটে সৌর বিকিরণের প্রভাব বেশি পড়তে পারে। এই মুহূর্তে দেশের বিমানবন্দরগুলিতে অতিরিক্ত টেকনিক্যাল টিম মোতায়েন করা হয়েছে। রক্ষণাবেক্ষণ সংস্থাগুলিকে প্রস্তুত থাকতে বলা হয়েছে, যাতে কোনো ফ্লাইট টেকনিক্যাল সমস্যায় পড়লে দ্রুত সমাধান করা যায়। একই সঙ্গে এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলের ওপরেও বাড়তি চাপ পড়বে, কারণ আরও বেশি পর্যবেক্ষণ ও যোগাযোগের প্রয়োজন হবে। যাত্রীদের উদ্দেশে সংস্থাগুলি আবারও অনুরোধ জানিয়েছে যে তারা যেন আতঙ্কিত না হন। সৌর বিকিরণ কোনও নতুন ঘটনা নয়, এবং বিমান সংস্থাগুলির হাতে পর্যাপ্ত অভিজ্ঞতা রয়েছে। তবে যাত্রীদের সহনশীল থাকা জরুরি, কারণ দেরি বা সময় পরিবর্তনের ওপর কোনও সংস্থারই পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ নেই। এই পরিস্থিতিতে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন কখন স্বাভাবিক হবে বিমান পরিষেবা? বিশেষজ্ঞদের মতে, আগামী কয়েক দিন সৌর বিকিরণের মাত্রা ওঠানামা করতে পারে। যদি সূর্যের চৌম্বকীয় বিচ্যুতি কমতে শুরু করে, তাহলে ধীরে ধীরে পৃথিবীর উপরের বায়ুমণ্ডলে তার প্রভাব কমবে। ফলে বিমান চলাচল আবার স্বাভাবিক হবে। কিন্তু যদি বিকিরণের মাত্রা বাড়ে, তাহলে পরিস্থিতি আরও কঠিন হতে পারে। সব মিলিয়ে এটা স্পষ্ট যে, সৌর বিকিরণের প্রভাবে দেশের আকাশপথে বড় ধরনের চাপ পড়তে চলেছে। যাত্রীদের নিরাপত্তা এবং ফ্লাইট অপারেশনের স্থিতিশীলতা বজায় রাখতেই বিমান সংস্থাগুলি অতিরিক্ত সতর্কতা নিচ্ছে। বর্তমান পরিস্থিতির উপর নজর রেখেই আগামী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে। আপাতত যাত্রীদের সবচেয়ে বড় দায়িত্ব হল অফিসিয়াল ঘোষণার দিকে নজর রাখা, যাত্রার সময়ের পরিবর্তন সম্পর্কে সচেতন থাকা, এবং অযথা আতঙ্কিত না হওয়া। ভারতের বিমান পরিষেবা যে কোনও চ্যালেঞ্জের সঙ্গে লড়াই করার মতোই অভিজ্ঞ। সৌর বিকিরণের এই চ্যালেঞ্জও তারা পেরিয়ে যাবে সময়মতো, নিরাপদে এবং যাত্রীদের সহযোগিতায়। ভারতের আকাশপথে আগামী কয়েক দিন বড় ধরনের ব্যাঘাত দেখা দিতে পারে বলে সতর্ক করেছে দেশের তিন প্রধান বিমান সংস্থা এয়ার ইন্ডিয়া, ইন্ডিগো এবং এয়ার ইন্ডিয়া এক্সপ্রেস। আন্তর্জাতিক মহাকাশ সংস্থাগুলির সতর্কতা অনুযায়ী, তীব্র সৌর বিকিরণের প্রভাবে বিমানের ন্যাভিগেশন সিস্টেম, রেডিও কমিউনিকেশন, স্যাটেলাইট সিগন্যাল ও জিপিএস সাময়িকভাবে দুর্বল হয়ে পড়তে পারে। এই পরিস্থিতিতে ফ্লাইট দেরিতে ছাড়া, সময়সূচি পরিবর্তন বা প্রয়োজনে ফ্লাইট বাতিলের সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যায় না। প্রতিদিন গড়ে চার হাজারের বেশি ফ্লাইট পরিচালিত হয় ভারতে, ফলে সামান্য প্রযুক্তিগত ব্যাঘাতও বড় প্রশাসনিক বিশৃঙ্খলা তৈরি করতে পারে। এদিকে এয়ারবাসও জানিয়েছে যে তাদের এ৩২০ ফ্যামিলির কিছু বিমানে সৌর বিকিরণের কারণে ন্যাভিগেশন সিস্টেমে সমস্যা দেখা দিতে পারে। ইসরো ও আবহাওয়া দফতর পরিস্থিতির উপর নিয়মিত নজর রাখছে। যাত্রীদের উদ্দেশে বারবার সতর্ক করে বলা হয়েছে—তারা যেন যাত্রার আগে অফিসিয়াল আপডেট দেখে নেন এবং অযথা আতঙ্কিত না হন। পরিস্থিতি কতদিন স্থায়ী হবে তা নির্ভর করছে সূর্যের চৌম্বকীয় কার্যকলাপের ওপর। তবে যাত্রী নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে বিমান সংস্থাগুলি ইতিমধ্যেই বিকল্প ব্যবস্থা নিতে প্রস্তুত।

news image
আরও খবর
Preview image