দিঘা, পুরীর চেনা ভিড় এড়িয়ে ঘুরে আসুন ওড়িশার এক নির্জন সৈকতে। নিরিবিলি পরিবেশে সমুদ্রের সৌন্দর্য উপভোগ করতে কোথায় যাবেন, জেনে নিন।
SEO Optimised Travel Article
বিষয়: ওড়িশা ভ্রমণ | পরিখী সমুদ্রসৈকত | উইকএন্ড ট্রিপ | পুজোর ছুটি
পুজোর ছুটি হোক কিংবা সপ্তাহান্তের দু’দিনের অবসর, একটু নিরিবিলিতে সময় কাটাতে কার না ভাল লাগে! শহরের ব্যস্ততা, কাজের চাপ আর প্রতিদিনের একঘেয়ে জীবন থেকে সাময়িক মুক্তি পেতে অনেকেই ছুটির দিনে সমুদ্রের কাছে যেতে চান। কারও পছন্দ দিঘার ঝাউবন, কারও আবার পুরীর সমুদ্রসৈকত। কিন্তু ছুটির মরসুমে এই পরিচিত পর্যটনকেন্দ্রগুলিতে পর্যটকের ভিড় এতটাই বেড়ে যায় যে, অনেক সময় সমুদ্রের সামনে বসেও নির্জনতার স্বাদ পাওয়া যায় না। হোটেল বুকিং থেকে শুরু করে রেস্তরাঁ, সৈকতের আনাচকানাচ— সর্বত্রই থাকে পর্যটকদের আনাগোনা। অথচ সমুদ্র ভ্রমণের আসল আনন্দই হল কিছুটা নিরিবিলিতে ঢেউয়ের শব্দ শোনা, বালির উপর দিয়ে হেঁটে যাওয়া আর প্রকৃতির সঙ্গে একান্তে সময় কাটানো।
যাঁরা এমনই কোনও নির্জন সমুদ্রসৈকতের খোঁজ করছেন, তাঁদের ভ্রমণতালিকায় জায়গা করে নিতে পারে ওড়িশার পরিখী। বালেশ্বরের কাছেই অবস্থিত এই সৈকত এখনও অনেক পর্যটকের কাছে অপরিচিত। দিঘা, পুরী কিংবা ওড়িশার জনপ্রিয় দুবলাগড়ি ও বাগদা সৈকতের মতো এখানে পর্যটকদের নিয়মিত ভিড় চোখে পড়ে না। বরং প্রকৃতির নিজস্ব ছন্দে সময় কাটানোর সুযোগ রয়েছে এই সৈকতে। বিস্তীর্ণ বালুকাবেলা, ঝাউবনের সারি, লাল কাঁকড়ার আনাগোনা আর সমুদ্রের নোনা হাওয়া— সব মিলিয়ে পরিখী হতে পারে নিরিবিলি ছুটির একটি সম্ভাব্য ঠিকানা।
সমুদ্রের ধারে ছুটি কাটানোর পরিকল্পনা করলেই প্রথমে অনেকের মনে আসে দিঘা, মন্দারমণি কিংবা পুরীর নাম। কিন্তু জনপ্রিয়তার সঙ্গে সঙ্গে এই সৈকতগুলিতে পর্যটকের সংখ্যাও বেড়েছে। বিশেষ করে শনি-রবিবার কিংবা পুজোর ছুটিতে সমুদ্রের ধারে নিরিবিলিতে বসে থাকার সুযোগ অনেক সময় মেলে না। কোথাও ভিড়ের চাপে সৈকতে হাঁটতে অসুবিধা হয়, কোথাও আবার হোটেল ও খাবারের দোকানগুলিতে লম্বা লাইন দেখা যায়।
সেই তুলনায় পরিখী এখনও অনেকটাই শান্ত। এখানে বেড়াতে এলে সারাক্ষণ পর্যটকদের কোলাহল শুনতে হবে, এমন নয়। বরং সমুদ্রের ঢেউয়ের শব্দ, বাতাসে ঝাউপাতার মৃদু মর্মর আর পাখির ডাকই হয়ে উঠতে পারে ছুটির সঙ্গী। যাঁরা বড় পর্যটনকেন্দ্রের ব্যস্ততা এড়িয়ে প্রকৃতির কাছাকাছি থাকতে চান, তাঁদের কাছে এই সৈকত আকর্ষণীয় হতে পারে।
তবে পরিখীকে একেবারে জনমানবহীন সৈকত ভাবলে ভুল হবে। স্থানীয় বাসিন্দা এবং পর্যটকদের আনাগোনা রয়েছে। বিশেষ দিনগুলিতে পর্যটকের সংখ্যাও বাড়তে পারে। তবু জনপ্রিয় সৈকতগুলির তুলনায় এখানে নিরিবিলি পরিবেশ পাওয়ার সম্ভাবনা বেশি।
পরিখী সৈকতের অন্যতম আকর্ষণ লাল কাঁকড়া। বালুকাবেলার উপর ছোট ছোট গর্তের আশপাশে তাদের আনাগোনা দেখা যেতে পারে। কখনও একসঙ্গে অনেক কাঁকড়া বালির উপর দিয়ে ছুটে যাচ্ছে, কখনও আবার মানুষের পায়ের শব্দ পেয়ে মুহূর্তের মধ্যে গর্তের মধ্যে লুকিয়ে পড়ছে। প্রকৃতিপ্রেমীদের কাছে এই দৃশ্য বেশ আকর্ষণীয়।
সৈকতে হাঁটতে হাঁটতে চোখে পড়তে পারে অসংখ্য ছোট ঝিনুক। সমুদ্রের ঢেউয়ের সঙ্গে ভেসে আসা ঝিনুকের খোলস ছড়িয়ে থাকে বালির উপর। কোথাও আবার দেখা মেলে শঙ্খের। তবে এগুলি সংগ্রহ করার আগে স্থানীয় পরিবেশ ও নিয়মের কথা মাথায় রাখা জরুরি। বিশেষ করে জীবন্ত সামুদ্রিক প্রাণী কিংবা তাদের আবাসস্থলের কোনও ক্ষতি করা উচিত নয়।
পরিখীর এই প্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্যই সৈকতটিকে অন্য রকম করে তুলেছে। এখানে শুধু সমুদ্রের জল দেখেই সময় কাটাতে হবে না। বালুকাবেলার ছোট ছোট প্রাণী, ঝিনুক আর প্রাকৃতিক পরিবেশ পর্যবেক্ষণ করেও কাটিয়ে দেওয়া যায় বেশ কিছুটা সময়।
সমুদ্রসৈকতের সঙ্গে ঝাউবনের সম্পর্ক বহু পুরনো। সমুদ্রের নোনা হাওয়ায় ঝাউপাতার মৃদু শব্দ এক অন্য রকম পরিবেশ তৈরি করে। পরিখীর আশপাশেও রয়েছে ঝাউগাছের সারি। বালুকাবেলার পাশাপাশি এই সবুজ পরিবেশ ছুটির আমেজকে আরও বাড়িয়ে দেয়।
সকালে সৈকতে পৌঁছে ঝাউবনের আশপাশে কিছুটা সময় কাটাতে পারেন। সকালের নরম রোদে ঝাউগাছের ফাঁক দিয়ে সমুদ্রের দৃশ্য দেখতে বেশ ভাল লাগবে। শহরের যানজট, হর্ন আর কোলাহল থেকে দূরে এমন পরিবেশে কিছুটা সময় কাটানোই হতে পারে ভ্রমণের অন্যতম প্রাপ্তি।
বিশেষ করে যাঁরা ছবি তুলতে ভালবাসেন, তাঁদের জন্য ঝাউবন ও সমুদ্রের মেলবন্ধন বেশ আকর্ষণীয়। তবে সৈকতের পরিবেশ পরিষ্কার রাখা জরুরি। প্লাস্টিক বা অন্য কোনও বর্জ্য ফেলে না রেখে নির্দিষ্ট জায়গায় ফেলুন।
সমুদ্রের সৌন্দর্য শুধু দুপুরের রোদে নয়, ভোর ও সন্ধ্যাতেও উপভোগ করার মতো। পরিখীতে সকালবেলা সৈকতে গেলে সূর্যোদয়ের মনোরম দৃশ্য দেখার সুযোগ মিলতে পারে। ভোরের আলো ধীরে ধীরে সমুদ্রের উপর ছড়িয়ে পড়ে। নরম রোদ, হালকা বাতাস আর ঢেউয়ের শব্দ মিলিয়ে তৈরি হয় এক শান্ত পরিবেশ।
সকালবেলার পর কিছুটা বিশ্রাম নিয়ে বিকেলে আবার সৈকতে যেতে পারেন। সূর্যাস্তের সময় আকাশের রং বদলানোর দৃশ্য উপভোগ করতে করতে কাটিয়ে দিতে পারেন বেশ কিছুটা সময়। দিনের বিভিন্ন সময়ে সমুদ্রের রূপ আলাদা হয়। কখনও রোদে ঝলমল করে বালুকাবেলা, কখনও আবার মেঘলা আকাশে সমুদ্রের রং হয়ে ওঠে গাঢ়।
তবে আবহাওয়া ও জোয়ার-ভাটার উপর নির্ভর করে সমুদ্রের দৃশ্য বদলাতে পারে। তাই সৈকতে যাওয়ার আগে স্থানীয়দের কাছ থেকে সমুদ্রের পরিস্থিতি জেনে নেওয়া ভাল।
পরিখীতে শুধু সমুদ্র নয়, আশপাশের নদী ও প্রাকৃতিক পরিবেশও ঘুরে দেখতে পারেন। কাছেই রয়েছে বুড়িবালাম নদী। নদীর তীরে স্থানীয় নৌকা দেখতে পাওয়া যায়। স্থানীয়ভাবে নৌকাবিহারের ব্যবস্থা থাকলে মাঝির নৌকায় চেপে নদীর জলপথ ঘুরে দেখার অভিজ্ঞতা নিতে পারেন।
নদীর বুকে নৌকা ভেসে চলার সময়ে দু’পাশের প্রাকৃতিক দৃশ্য উপভোগ করা যায়। নদীর জল, তীরের গাছপালা এবং স্থানীয় মানুষের জীবনযাত্রা পর্যটকদের কাছে আলাদা আকর্ষণ তৈরি করে। কোথাও কোথাও নদীর ধারে মাছ ধরার নৌকাও দেখা যেতে পারে।
তবে নৌকাবিহারের ব্যবস্থা প্রতিদিন পাওয়া যাবে, এমন নিশ্চয়তা নেই। নদীর জলস্তর, আবহাওয়া এবং স্থানীয় পরিস্থিতির উপর তা নির্ভর করে। নৌকায় ওঠার আগে মাঝির সঙ্গে ভাড়া ও সময় নিয়ে কথা বলে নেওয়া উচিত। পাশাপাশি লাইফ জ্যাকেট ও নিরাপত্তার ব্যবস্থা রয়েছে কি না, তা দেখে নেবেন।
পরিখী ঘুরতে গেলে আশপাশের কাসাফল সৈকতও ভ্রমণতালিকায় রাখতে পারেন। বালেশ্বরের উপকূলীয় এলাকার এই সৈকত প্রকৃতির কাছাকাছি সময় কাটানোর আর একটি ঠিকানা হতে পারে। এখানেও সমুদ্রের পাশাপাশি ঝাউবনের পরিবেশ রয়েছে।
কাসাফল যাওয়ার পথে কোথাও কোথাও ঝাউবনের মধ্যে দিয়ে হাঁটতে হতে পারে। শরৎকালে আশপাশের মাঠে কাশফুল ফুটলে সেই পথের সৌন্দর্য আরও বেড়ে যায়। ঝাউবনের সবুজ আর কাশফুলের সাদা রং মিলিয়ে তৈরি হয় মনোরম দৃশ্য। বন পেরিয়ে সমুদ্রের কাছে পৌঁছনোর অভিজ্ঞতাও আলাদা।
তবে কাসাফল যাওয়ার আগে রাস্তার অবস্থা এবং সৈকতে পৌঁছনোর পথ সম্পর্কে স্থানীয়ভাবে খোঁজ নেওয়া উচিত। বর্ষার পরে বা অতিবৃষ্টির সময়ে কিছু রাস্তা চলাচলের অনুপযুক্ত হতে পারে।
সপ্তাহান্তে দু’দিনের ছুটিতে পরিখী ও কাসাফল ঘুরে আসার পরিকল্পনা করতে পারেন। হাতে সময় কম থাকলে প্রথম দিন পরিখী সৈকতে কাটিয়ে পরের দিন বুড়িবালাম নদী ও কাসাফল ঘুরে দেখতে পারেন। তবে যাতায়াতের সময় এবং থাকার জায়গার অবস্থান অনুযায়ী পরিকল্পনায় কিছুটা পরিবর্তন করতে হতে পারে।
প্রথম দিন
সকালে বালেশ্বরে পৌঁছে গাড়িতে পরিখীর উদ্দেশে রওনা দিন।
হোটেলে পৌঁছে বিশ্রাম নিন এবং দুপুরের খাবার খান।
বিকেলে পরিখী সৈকতে ঘুরে বেড়ান। লাল কাঁকড়া, ঝিনুক ও ঝাউবনের সৌন্দর্য উপভোগ করুন।
সন্ধ্যায় সমুদ্রের ধারে কিছুটা সময় কাটিয়ে হোটেলে ফিরে আসুন।
দ্বিতীয় দিন
সকালে সমুদ্রের ধারে সূর্যোদয় দেখার চেষ্টা করুন।
প্রাতরাশের পরে বুড়িবালাম নদীর আশপাশ ঘুরে দেখুন। নৌকাবিহারের ব্যবস্থা থাকলে তা উপভোগ করতে পারেন।
সময় ও যাতায়াতের সুবিধা অনুযায়ী কাসাফল সৈকতে ঘুরে আসুন।
বিকেল বা সন্ধ্যায় বালেশ্বর ফিরে ট্রেন কিংবা বাসে বাড়ির উদ্দেশে রওনা দিন।
এই ভ্রমণসূচি সম্ভাব্য পরিকল্পনা হিসেবে ধরতে পারেন। যাতায়াতের সময়, আবহাওয়া এবং স্থানীয় পরিবহণের সুবিধা অনুযায়ী সময় বদলাতে হতে পারে। তাই তাড়াহুড়ো না করে হাতে কিছুটা অতিরিক্ত সময় রাখা ভাল।
পরিখী এখনও জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্রের মতো হোটেল ও রিসর্টে ভরপুর নয়। তাই এখানে যাওয়ার আগে থাকার জায়গা সম্পর্কে খোঁজখবর নেওয়া জরুরি। সৈকতের কাছাকাছি ছোট হোটেল, স্থানীয় অতিথিশালা কিংবা ক্যাম্পের ব্যবস্থা পাওয়া যেতে পারে। তবে সব জায়গায় একই ধরনের পরিষেবা থাকবে, এমন নয়।
থাকার জায়গা বেছে নেওয়ার সময়ে কয়েকটি বিষয় মাথায় রাখা দরকার। ঘরে শৌচাগার, পানীয় জলের ব্যবস্থা, বিদ্যুৎ এবং খাবারের সুবিধা রয়েছে কি না, তা আগে জেনে নিন। পরিবার নিয়ে গেলে হোটেলের নিরাপত্তা ও পরিচ্ছন্নতার দিকেও নজর দিন। পুজোর সময়ে গেলে আগে থেকে ঘর বুকিংয়ের চেষ্টা করুন।
সমুদ্রের কাছাকাছি থাকার জায়গা বেছে নিলে সকালে ও বিকেলে সৈকতে যাওয়া সহজ হতে পারে। তবে বর্ষাকালে কিংবা খারাপ আবহাওয়ায় সমুদ্রের খুব কাছে থাকা সব সময় সুবিধাজনক নাও হতে পারে।
সমুদ্রের ধারে বেড়াতে গেলে স্থানীয় খাবারের স্বাদ নেওয়ার সুযোগ হাতছাড়া করতে চাইবেন না অনেকেই। পরিখী ও বালেশ্বরের আশপাশে স্থানীয় খাবারের পাশাপাশি মাছের নানা পদ চেখে দেখতে পারেন। বিশেষ করে মাছের ঝোল, ভাত এবং অন্যান্য ঘরোয়া খাবার পর্যটকদের পছন্দ হতে পারে।
তবে সৈকতের কাছে খাবারের দোকানের সংখ্যা সীমিত হতে পারে। তাই কোথায় খাবার পাওয়া যাবে, তা আগে থেকে জেনে নেওয়া ভাল। হোটেলে খাবারের ব্যবস্থা থাকলে সেটিও যাচাই করে নিন। শিশু বা বয়স্কদের সঙ্গে গেলে প্রয়োজনীয় খাবার ও পানীয় জলের ব্যবস্থা করে রাখা সুবিধাজনক।
স্থানীয় খাবার খাওয়ার সময়ে পরিচ্ছন্নতার দিকে নজর দিন। বিশেষ করে গরমের সময়ে খোলা জায়গায় রাখা খাবার এড়িয়ে চলুন।
পরিখী যেতে হলে প্রথমে বালেশ্বর পৌঁছনো সুবিধাজনক। হাওড়া থেকে বালেশ্বরের উদ্দেশে একাধিক ট্রেন চলে। ট্রেনের সময়সূচি ও টিকিটের প্রাপ্যতা দেখে নিজের সুবিধা অনুযায়ী ট্রেন বেছে নিতে পারেন। কলকাতা থেকে সড়কপথেও বালেশ্বর যাওয়া সম্ভব।
বালেশ্বর পৌঁছে সেখান থেকে গাড়ি ভাড়া করে পরিখী যেতে পারেন। স্থানীয় পরিবহণের সুযোগ থাকলেও প্রত্যন্ত সৈকতে পৌঁছনোর ক্ষেত্রে আগে থেকে গাড়ির ব্যবস্থা করে রাখা সুবিধাজনক। বিশেষ করে পরিবার বা শিশুদের নিয়ে বেড়াতে গেলে ব্যক্তিগত গাড়ি ভ্রমণকে সহজ করে তুলতে পারে।
কলকাতা থেকে সড়কপথে বালেশ্বরের দূরত্ব আনুমানিক ২৫০ কিলোমিটার। যানজট, রাস্তার অবস্থা ও যাত্রাপথের উপর নির্ভর করে গাড়িতে পৌঁছতে সময় লাগতে পারে। রওনা দেওয়ার আগে রুট ও যাতায়াতের বর্তমান পরিস্থিতি যাচাই করে নিন।
শরৎকাল ও পুজোর ছুটিতে সমুদ্র ভ্রমণের পরিকল্পনা করলে কয়েকটি বিষয়ে সতর্ক থাকা জরুরি। প্রথমত, আবহাওয়ার পূর্বাভাস দেখে রওনা দিন। অতিবৃষ্টি কিংবা সমুদ্র উত্তাল থাকার সতর্কতা থাকলে সৈকতে যাওয়ার পরিকল্পনা পরিবর্তন করুন।
দ্বিতীয়ত, নির্জন সৈকতে সন্ধ্যার পরে একা ঘোরাঘুরি না করাই ভাল। সৈকতের নির্দিষ্ট নিরাপদ জায়গার বাইরে সমুদ্রে নামবেন না। জোয়ারের সময়ে জলের কাছে যাওয়ার ক্ষেত্রেও সতর্ক থাকুন।
তৃতীয়ত, প্রত্যন্ত এলাকায় এটিএম, চিকিৎসাকেন্দ্র কিংবা বড় দোকান সহজে পাওয়া নাও যেতে পারে। তাই প্রয়োজনীয় ওষুধ, পর্যাপ্ত নগদ টাকা, পানীয় জল এবং মোবাইল চার্জের ব্যবস্থা করে রাখুন।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হল, সৈকতের প্রাকৃতিক পরিবেশ রক্ষা করা। প্লাস্টিকের বোতল, খাবারের প্যাকেট কিংবা অন্য কোনও বর্জ্য বালুকাবেলায় ফেলে আসবেন না। লাল কাঁকড়া বা অন্য সামুদ্রিক প্রাণীকে বিরক্ত করবেন না। প্রকৃতিকে অক্ষত রেখেই উপভোগ করুন ছুটির আনন্দ।
দিঘা বা পুরীর মতো জনপ্রিয় সমুদ্রসৈকতে পর্যটকদের জন্য নানা ধরনের বিনোদন ও সুযোগ-সুবিধা রয়েছে। কিন্তু যাঁরা মূলত নিরিবিলিতে সমুদ্রের সৌন্দর্য উপভোগ করতে চান, তাঁদের কাছে পরিখী অন্য ধরনের অভিজ্ঞতা দিতে পারে। এখানে বড় বড় হোটেল, ব্যস্ত বাজার কিংবা প্রচুর বিনোদনের ব্যবস্থা খুঁজে না পেলেও প্রকৃতির সঙ্গে সময় কাটানোর সুযোগ রয়েছে।
যাঁরা ছবি তুলতে ভালবাসেন, তাঁদের কাছে ঝাউবন, বালুকাবেলা ও নদীর দৃশ্য আকর্ষণীয় হতে পারে। আবার যাঁরা কাজের চাপ থেকে কয়েক দিনের জন্য দূরে থাকতে চান, তাঁদের কাছে এই নিরিবিলি পরিবেশ স্বস্তিদায়ক হতে পারে। বন্ধুদের সঙ্গে ছোট্ট সফর হোক কিংবা পরিবারের সঙ্গে সপ্তাহান্তের ছুটি, পরিকল্পনা করে গেলে পরিখী ও কাসাফল ঘুরে দেখা সম্ভব।
তবে যাঁরা সমুদ্রসৈকতে নানা ধরনের জলক্রীড়া, বড় রেস্তরাঁ, শপিং কিংবা রাতের বিনোদন চান, তাঁদের প্রত্যাশার সঙ্গে পরিখীর পরিবেশ নাও মিলতে পারে। এই সৈকতের মূল আকর্ষণ তার প্রাকৃতিক পরিবেশ ও তুলনামূলক নির্জনতা।
ছুটির দিনে সমুদ্রের কাছে যাওয়ার অর্থ শুধু জনপ্রিয় কোনও পর্যটনকেন্দ্রে পৌঁছনো নয়। কখনও কখনও অচেনা কোনও সৈকতে কয়েক ঘণ্টা কাটানোই হয়ে উঠতে পারে মনে রাখার মতো অভিজ্ঞতা। ওড়িশার পরিখী ও কাসাফল সেই রকমই দু’টি জায়গা, যেখানে সমুদ্র, ঝাউবন আর নদীর পরিবেশ মিলিয়ে পাওয়া যেতে পারে অন্য রকম ছুটির স্বাদ।
দিঘা কিংবা পুরীর পরিচিত ভিড় এড়িয়ে একটু নিরিবিলিতে সময় কাটাতে চাইলে পরিখীকে ভ্রমণতালিকায় রাখতে পারেন। তবে যাওয়ার আগে থাকার জায়গা, যাতায়াত ও স্থানীয় পরিস্থিতি সম্পর্কে খোঁজ নিয়ে নিলে সফর আরও সহজ হবে।
আপনি কি লেখাটিকে আনন্দবাজারের ট্রাভেল বিভাগের মতো আরও ৩০০০ শব্দে বিস্তৃত করতে চান, নাকি বর্তমান লেখাটিই SEO-র জন্য চূড়ান্ত রাখতে চান?