শিল্ড ফাইনালের পর গ্রিক হেডস্যরকে নিয়ে যাবতীয় জল্পনার অবসান। এবার সমস্ত সংশয় কাটিয়ে আইএসএল অভিযানে নতুন করে প্রস্তুতি শুরু মোহনবাগানের।
কলকাতা লিগের পর এবার আইএফএ শিল্ড জয়। মরশুমের শুরুতে একাধিক প্রশ্নের মুখে পড়লেও ধীরে ধীরে নিজেদের ছন্দ ফিরে পাচ্ছে মোহনবাগান সুপার জায়ান্ট। বৃহস্পতিবার আইএফএ শিল্ডের ফাইনালে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ইস্টবেঙ্গলকে হারিয়ে মরশুমের দ্বিতীয় ট্রফি ঘরে তুলেছে সবুজ-মেরুন শিবির। এই জয় শুধু একটি ট্রফি জয়ের সাফল্য নয়, বরং দলের আত্মবিশ্বাস বাড়ানোর ক্ষেত্রেও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে ডুরান্ড কাপের ফাইনালে ইস্টবেঙ্গলের কাছে হারের পর শিল্ড ফাইনালে সেই প্রতিপক্ষকে হারিয়ে বদলা নেওয়ায় সমর্থকদের মধ্যেও নতুন উদ্দীপনা তৈরি হয়েছে।
তবে শিল্ড জয়ের আনন্দ বেশিদিন উপভোগ করার সুযোগ নেই মোহনবাগানের সামনে। কারণ, এবার দলের মূল লক্ষ্য ইন্ডিয়ান সুপার লিগ বা আইএসএল। গত মরশুমে সমান পয়েন্ট নিয়েও গোলপার্থক্যের কারণে চ্যাম্পিয়ন হতে পারেনি সবুজ-মেরুন। সেই অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে এবার লিগে ভালো শুরু করতে মরিয়া কোচ প্যানাজিওটিস দিলমপেরিস এবং তাঁর দল। কিন্তু আইএসএল অভিযান শুরুর ঠিক আগে ডেজান ড্রাজিচের চোট কিছুটা হলেও চিন্তায় ফেলেছে মোহনবাগানকে।
চলতি মরশুমে কলকাতা লিগ জয়ের পর আইএফএ শিল্ডও নিজেদের ঘরে তুলেছে মোহনবাগান। পরপর দুটি প্রতিযোগিতায় সাফল্য দলের আত্মবিশ্বাস বাড়ানোর পাশাপাশি কোচ ও ফুটবলারদের উপর চাপও কিছুটা কমিয়েছে। বিশেষ করে ইস্টবেঙ্গলের বিরুদ্ধে শিল্ড ফাইনালের জয় সবুজ-মেরুন শিবিরের কাছে আলাদা গুরুত্ব বহন করছে।
ডুরান্ড কাপের ফাইনালে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ইস্টবেঙ্গলের কাছে হার মোহনবাগান সমর্থকদের হতাশ করেছিল। সেই ম্যাচের ফলাফল এবং দলের পারফরম্যান্স নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠেছিল। নতুন কোচ প্যানাজিওটিস দিলমপেরিসের কৌশল, দল নির্বাচন এবং গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে খেলোয়াড়দের পারফরম্যান্স নিয়েও আলোচনা শুরু হয়েছিল। ফলে আইএফএ শিল্ডের ফাইনাল ছিল মোহনবাগানের কাছে নিজেদের প্রমাণ করার বড় সুযোগ।
সেই পরীক্ষায় সফল হয়েছে সবুজ-মেরুন। ইস্টবেঙ্গলকে হারিয়ে শিল্ড জেতার ফলে দলের মধ্যে ইতিবাচক পরিবেশ তৈরি হয়েছে। ফুটবলারদের আত্মবিশ্বাসও আগের তুলনায় বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বড় প্রতিযোগিতার আগে এই ধরনের জয় একটি দলের মানসিক শক্তি বাড়াতে সাহায্য করে। বিশেষ করে ডার্বির মতো গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে জয় পেলে সমর্থকদের প্রত্যাশা এবং দলের উপর আস্থাও অনেকটাই বেড়ে যায়।
মরশুমের শুরুতে মোহনবাগানের পারফরম্যান্স প্রত্যাশা অনুযায়ী না হওয়ায় কোচ প্যানাজিওটিস দিলমপেরিসকে নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল। ডুরান্ড কাপের ফাইনালে দলের পারফরম্যান্স সেই বিতর্ক আরও বাড়িয়ে দিয়েছিল। নতুন কোচের অধীনে দল কতটা দ্রুত নিজেদের গুছিয়ে নিতে পারবে, তা নিয়েও সংশয় তৈরি হয়েছিল ফুটবল মহলে।
তবে শিল্ড ফাইনালের জয় পরিস্থিতি অনেকটাই বদলে দিয়েছে। চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ইস্টবেঙ্গলের বিরুদ্ধে সাফল্য কোচের উপর আস্থা ফেরাতে সাহায্য করেছে। মরশুমের শুরুতে যে চাপ তৈরি হয়েছিল, তা কাটিয়ে ওঠার জন্য এই জয় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে।
অবশ্য একটি ট্রফি জিতেই পুরো মরশুমের সাফল্য নিশ্চিত হয়ে যায় না। আইএসএলের মতো দীর্ঘ প্রতিযোগিতায় ধারাবাহিকতা বজায় রাখা, চোট এড়িয়ে দলকে ফিট রাখা এবং গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে পয়েন্ট সংগ্রহ করাই শেষ পর্যন্ত সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে। তাই শিল্ড জয়ের আত্মবিশ্বাসকে কাজে লাগিয়ে লিগে ভালো শুরু করাই এখন মোহনবাগানের প্রধান লক্ষ্য।
গত মরশুমে আইএসএলে মোহনবাগানের কাছে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার ভালো সুযোগ ছিল। সমান পয়েন্টে পৌঁছেও শেষ পর্যন্ত গোলপার্থক্যের কারণে শিরোপা জিততে পারেনি দল। ইস্টবেঙ্গলের থেকে গোলপার্থক্যে পিছিয়ে থাকায় রানার্স হয়েই সন্তুষ্ট থাকতে হয়েছিল সবুজ-মেরুনকে।
এই ফলাফল নিঃসন্দেহে মোহনবাগানের জন্য হতাশাজনক ছিল। কারণ, দীর্ঘ লিগে ধারাবাহিকভাবে পয়েন্ট সংগ্রহ করার পরও শেষ পর্যন্ত গোলপার্থক্যের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় শিরোপা নির্ধারণে ভূমিকা নিয়েছিল। ফলে এবার শুরু থেকেই প্রতিটি ম্যাচে ভালো ফল করার উপর গুরুত্ব দিতে হবে দলকে।
আইএসএলের মতো প্রতিযোগিতায় একটি জয় যেমন দলকে এগিয়ে দেয়, তেমনই অপ্রত্যাশিত ড্র বা হারও শেষ পর্যন্ত বড় পার্থক্য গড়ে দিতে পারে। তাই প্রথম ম্যাচ থেকেই পয়েন্ট সংগ্রহের লক্ষ্য নিয়ে মাঠে নামতে চাইবে মোহনবাগান। আক্রমণভাগের কার্যকারিতা, রক্ষণভাগের স্থিরতা এবং মাঝমাঠের নিয়ন্ত্রণ—সব ক্ষেত্রেই উন্নতির প্রয়োজন রয়েছে।
শুধু ভালো ফুটবল খেললেই হবে না, সুযোগ কাজে লাগিয়ে গোল করতে হবে এবং প্রতিপক্ষকে গোল করার সুযোগ কম দিতে হবে। গত মরশুমের অভিজ্ঞতা মাথায় রেখে এবার লিগের শুরু থেকেই সতর্ক থাকতে চাইবে দল।
আইএফএ শিল্ড জয়ের পর এবার মোহনবাগানের সামনে নতুন চ্যালেঞ্জ নর্থ-ইস্ট ইউনাইটেড। সোমবার প্রতিপক্ষের মাঠে অ্যাওয়ে ম্যাচ দিয়ে আইএসএল অভিযান শুরু করতে চলেছে সবুজ-মেরুন শিবির। ফলে নিজেদের মাঠের বাইরে প্রথম ম্যাচেই দলকে পরীক্ষা দিতে হবে।
অ্যাওয়ে ম্যাচে পয়েন্ট সংগ্রহ করা সাধারণত সহজ নয়। প্রতিপক্ষের মাঠ, পরিবেশ এবং সমর্থকদের উপস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে নিতে হয়। একই সঙ্গে প্রথম ম্যাচে প্রত্যাশার চাপও থাকে। তাই শুরু থেকেই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে রাখার চেষ্টা করবে মোহনবাগান।
শিল্ড ফাইনালে জয় পাওয়ায় দলের আত্মবিশ্বাস বাড়লেও আইএসএলের ম্যাচের গুরুত্ব আলাদা। এখানে প্রতিটি পয়েন্ট ভবিষ্যতে লিগের অবস্থান নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। তাই প্রতিপক্ষকে হালকাভাবে নেওয়ার সুযোগ নেই।
নর্থ-ইস্ট ইউনাইটেডের বিরুদ্ধে ম্যাচে মোহনবাগানের আক্রমণভাগ কতটা কার্যকর হয়, মাঝমাঠ কতটা নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে পারে এবং রক্ষণভাগ কতটা সংগঠিত থাকে, সেদিকেই নজর থাকবে সমর্থকদের। প্রথম ম্যাচে জয় পেলে পরবর্তী ম্যাচগুলির আগে দল আরও আত্মবিশ্বাস পাবে। অন্যদিকে, পয়েন্ট নষ্ট হলে নতুন করে চাপ তৈরি হতে পারে।
নর্থ-ইস্ট ইউনাইটেডের বিরুদ্ধে ম্যাচের প্রস্তুতি শুরু করতে চলেছে মোহনবাগান। শনিবার থেকে যুবভারতীর প্র্যাকটিস গ্রাউন্ডে অনুশীলনে নামবে সবুজ-মেরুন দল। আইএফএ শিল্ড ফাইনালের পর দ্রুত আইএসএলের ম্যাচের জন্য নিজেদের প্রস্তুত করাই এখন কোচিং স্টাফের প্রধান কাজ।
ফাইনালের পর খেলোয়াড়দের শারীরিক অবস্থা পরীক্ষা করা, প্রয়োজন অনুযায়ী অনুশীলনের চাপ ঠিক করা এবং ম্যাচের পরিকল্পনা তৈরি করা গুরুত্বপূর্ণ হবে। বিশেষ করে যাঁরা শিল্ড ফাইনালে বেশি সময় মাঠে ছিলেন, তাঁদের ফিটনেস ও পুনরুদ্ধারের দিকে নজর দিতে হবে।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, রবিবার দুপুরে গুয়াহাটি রওনা দেবে মোহনবাগান। সেখানে পৌঁছে ম্যাচের আগে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি নেওয়ার সুযোগ থাকবে দলের। অ্যাওয়ে ম্যাচে ভালো ফল করতে হলে যাত্রার ক্লান্তি কাটিয়ে দ্রুত পরিবেশের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়াও প্রয়োজন।
আইএসএল অভিযান শুরুর আগে মোহনবাগানের সবচেয়ে বড় উদ্বেগ ডেজান ড্রাজিচের চোট। আইএফএ শিল্ড ফাইনালে চোট পেয়েছেন সার্বিয়ান তারকা। তাঁর মাথায় সাতটি সেলাই পড়েছে। ফলে নর্থ-ইস্ট ইউনাইটেডের বিরুদ্ধে প্রথম ম্যাচে তিনি খেলতে পারবেন কি না, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
মাঠে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের সময় চোট পাওয়া যে কোনও ফুটবলারের জন্যই দুর্ভাগ্যজনক। বিশেষ করে মরশুমের গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে এমন ঘটনা দলের পরিকল্পনাতেও প্রভাব ফেলতে পারে। ড্রাজিচের মতো একজন ফুটবলারের ফিটনেসের উপর নির্ভর করে কোচকে আক্রমণভাগের পরিকল্পনায় পরিবর্তন আনতে হতে পারে।
তবে তাঁর চোটের কারণে প্রথম ম্যাচে খেলা একেবারেই অসম্ভব, এমন সিদ্ধান্ত এখনই নেওয়া যাচ্ছে না। দলের পরিকল্পনা অনুযায়ী, আগামী দু’দিনের অনুশীলনে ড্রাজিচকে পর্যবেক্ষণ করবেন কোচ। তাঁর শারীরিক অবস্থা, চোটের অগ্রগতি এবং চিকিৎসকদের পরামর্শ বিবেচনা করেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
মাথায় সেলাই পড়ার পর মাঠে ফেরার ক্ষেত্রে চিকিৎসা এবং নিরাপত্তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শুধু দলের প্রয়োজনের কথা ভেবে তাড়াহুড়ো করে তাঁকে খেলানোর ঝুঁকি নেওয়া ঠিক হবে না। ফুটবলারের সুস্থতা নিশ্চিত করেই সিদ্ধান্ত নিতে হবে। তাই নর্থ-ইস্ট ম্যাচে ড্রাজিচকে পাওয়া যাবে কি না, তার জন্য অনুশীলনের পরবর্তী পরিস্থিতির দিকে নজর থাকবে।
ড্রাজিচ যদি প্রথম ম্যাচে খেলতে না পারেন, তাহলে বিকল্প পরিকল্পনা তৈরি রাখতে হবে মোহনবাগানকে। কোনও গুরুত্বপূর্ণ ফুটবলার চোট পেলে দলের আক্রমণভাগের ভারসাম্য বজায় রাখা কোচের কাছে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায়।
এই পরিস্থিতিতে অন্য আক্রমণভাগের ফুটবলারদের দায়িত্ব বাড়তে পারে। বল দখলে রাখা, প্রতিপক্ষের রক্ষণে চাপ তৈরি করা এবং গোলের সুযোগ তৈরি করার ক্ষেত্রে তাঁদের আরও কার্যকর হতে হবে। তবে ড্রাজিচের বিকল্প হিসেবে কে খেলবেন, সে বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত কোচের দল নির্বাচন এবং অনুশীলনের পারফরম্যান্সের উপর নির্ভর করবে।
মোহনবাগানের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হবে দলগত সমন্বয় বজায় রাখা। একজন ফুটবলার না থাকলেও যাতে পুরো দলের খেলার ছন্দ নষ্ট না হয়, তা নিশ্চিত করতে হবে। লিগের দীর্ঘ মরশুমে চোট-সমস্যা দেখা দিতেই পারে। তাই শক্তিশালী বিকল্প এবং কার্যকর দলগত পরিকল্পনা থাকা জরুরি।
আইএফএ শিল্ড জয় মোহনবাগানের জন্য বড় সাফল্য হলেও এখন সেই আনন্দ পিছনে ফেলে এগিয়ে যেতে হবে। কারণ, ফুটবলে আগের ম্যাচের ফলাফল পরের ম্যাচের নিশ্চয়তা দেয় না। প্রতিটি প্রতিযোগিতার চ্যালেঞ্জ আলাদা এবং প্রতিপক্ষের ধরনও ভিন্ন।
ইস্টবেঙ্গলের বিরুদ্ধে ডার্বি জয় সমর্থকদের প্রত্যাশা বাড়িয়ে দিয়েছে। এবার সেই প্রত্যাশা পূরণ করার দায়িত্ব দলের ফুটবলারদের উপর। আইএসএলে ভালো শুরু করতে পারলে শিল্ড জয়ের ইতিবাচক প্রভাব আরও দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে।
কোচ প্যানাজিওটিস দিলমপেরিসের কাছেও এই সময়টা গুরুত্বপূর্ণ। তাঁকে প্রমাণ করতে হবে, শিল্ড ফাইনালের সাফল্য শুধু একটি ম্যাচের ফল নয়, বরং দলকে ধারাবাহিকভাবে ভালো খেলানোর পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। দলের কৌশল, ফুটবলারদের ফিটনেস এবং ম্যাচের পরিস্থিতি অনুযায়ী দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা এবার পরীক্ষা হবে।
মোহনবাগান সমর্থকদের কাছে আইএসএল সবসময়ই বিশেষ গুরুত্ব বহন করে। গত মরশুমে অল্পের জন্য শিরোপা হাতছাড়া হওয়ার পর এবার সমর্থকেরা দলকে আরও শক্তিশালীভাবে ফিরে আসতে দেখতে চাইবেন। কলকাতা লিগ এবং আইএফএ শিল্ড জয় সেই প্রত্যাশাকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
তবে দীর্ঘ লিগে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার জন্য শুধু বড় ম্যাচে জয় যথেষ্ট নয়। তুলনামূলক সহজ ম্যাচেও পয়েন্ট সংগ্রহ করতে হবে। প্রতিটি ম্যাচে মনোযোগ ধরে রাখা, চোটের সমস্যা সামলানো এবং দলের ভারসাম্য বজায় রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
নর্থ-ইস্ট ইউনাইটেডের বিরুদ্ধে প্রথম ম্যাচে জয় পেলে মোহনবাগানের আইএসএল অভিযান ইতিবাচকভাবে শুরু হবে। পাশাপাশি দলের নতুন কোচের উপর আস্থা আরও বাড়বে। ড্রাজিচের খেলার সম্ভাবনা নিয়েও অনিশ্চয়তা কমবে, যদি অনুশীলনে তাঁর শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যায়।
কলকাতা লিগ জয়, আইএফএ শিল্ড জয় এবং ডার্বিতে ইস্টবেঙ্গলকে হারানো—সব মিলিয়ে মোহনবাগানের মরশুমে ইতিবাচক দিক তৈরি হয়েছে। কিন্তু সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ আইএসএল। গত মরশুমে গোলপার্থক্যের কারণে চ্যাম্পিয়ন হতে না পারার হতাশা কাটাতে এবার শুরু থেকেই ধারাবাহিক পারফরম্যান্স করতে হবে।
সোমবার নর্থ-ইস্ট ইউনাইটেডের বিরুদ্ধে অ্যাওয়ে ম্যাচ দিয়ে সেই পরীক্ষা শুরু হবে। শনিবার যুবভারতীর প্র্যাকটিস গ্রাউন্ডে প্রস্তুতি এবং রবিবার গুয়াহাটি যাত্রার মধ্য দিয়ে দল ম্যাচের জন্য নিজেদের তৈরি করবে। সব নজর থাকবে কোচের পরিকল্পনা, ফুটবলারদের ফিটনেস এবং ড্রাজিচের চোটের আপডেটের দিকে।
ড্রাজিচ শেষ পর্যন্ত খেলতে পারবেন কি না, তা অনুশীলনের পরেই পরিষ্কার হবে। তাঁর মাথায় সাতটি সেলাই পড়ায় বিষয়টি সতর্কতার সঙ্গে সামলাতে হবে। অন্যদিকে, বাকি ফুটবলারদের ফিটনেস এবং সাম্প্রতিক সাফল্য থেকে পাওয়া আত্মবিশ্বাস কাজে লাগিয়ে নর্থ-ইস্টের বিরুদ্ধে ভালো ফল করাই হবে মোহনবাগানের প্রধান লক্ষ্য।
আইএফএ শিল্ডের ট্রফি ইতিমধ্যেই ঘরে এসেছে। এবার সবুজ-মেরুন সমর্থকদের নজর আইএসএলের দিকে। মরশুমের দ্বিতীয় ট্রফি জয়ের আনন্দকে সঙ্গে নিয়ে নতুন লিগে কতটা ভালো শুরু করতে পারে মোহনবাগান, তার উত্তর মিলবে সোমবারের ম্যাচে।
মূল খবর: আইএফএ শিল্ড জয়ের পর আইএসএলের প্রস্তুতি শুরু করছে মোহনবাগান। নর্থ-ইস্ট ইউনাইটেডের বিরুদ্ধে প্রথম ম্যাচের আগে ডেজান ড্রাজিচের মাথায় সাতটি সেলাই পড়ায় তাঁর খেলা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে। আগামী দু’দিনের অনুশীলনে তাঁকে পর্যবেক্ষণ করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন কোচ প্যানাজিওটিস দিলমপেরিস।