যাঁরা রাঁধে, তাঁরা চুলও বাঁধে—এই প্রবাদকেই যেন বাস্তবে প্রমাণ করে দেখিয়েছেন ময়নাগুড়ি শহরের শ্মশানমোড় মহিলা ইউনিটের সদস্যারা। এবার তাঁদের দুর্গাপুজোর থিম ‘বনের সৌন্দর্য’। নারীশক্তির উদ্যোগে প্রকৃতি ও বন্যজীবনের সৌন্দর্যকে মণ্ডপসজ্জায় তুলে ধরার প্রস্তুতি চলছে জোরকদমে।
যাঁরা রাঁধে, তাঁরা চুলও বাঁধে। বহুল প্রচলিত এই প্রবাদকেই যেন বাস্তবে প্রমাণ করে দেখিয়েছেন ময়নাগুড়ি শহরের শ্মশানমোড় মহিলা ইউনিটের সদস্যারা। সংসারের একাধিক দায়িত্ব সামলে শুধু পুজোর আয়োজন নয়, নিজেদের হাতে দুর্গাপুজোর মণ্ডপসজ্জার পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নের দায়িত্বও তুলে নিয়েছেন তাঁরা। এবারের দুর্গাপুজোয় শ্মশানমোড় মহিলা ইউনিটের ভাবনায় উঠে আসছে ‘বনের সৌন্দর্য’। প্রকৃতি, অরণ্য, গাছপালা এবং বন্যজীবনের বৈচিত্র্যকে কেন্দ্র করে সাজানো হবে এবারের পুজোর মণ্ডপ।
ময়নাগুড়ি শহরের দুর্গাপুজোর মানচিত্রে শ্মশানমোড় মহিলা ইউনিটের পুজো ইতিমধ্যেই আলাদা আগ্রহ তৈরি করেছে। বিশেষ করে মহিলা সদস্যদের উদ্যোগে আয়োজিত এই পুজো ঘিরে স্থানীয় বাসিন্দাদের উৎসাহও কম নয়। পুজোর কয়েক মাস আগে থেকেই শুরু হয়েছে প্রস্তুতি। থিম কী হবে, মণ্ডপের সাজ কেমন হবে, কীভাবে সাধারণ মানুষের সামনে প্রকৃতির সৌন্দর্যকে তুলে ধরা যায়—এসব নিয়েই চলছে পরিকল্পনা।
এবারের থিম ‘বনের সৌন্দর্য’। নামের মধ্যেই রয়েছে প্রকৃতির প্রতি ভালোবাসার বার্তা। ব্যস্ত শহুরে জীবনের বাইরে অরণ্যের যে নিজস্ব সৌন্দর্য, গাছপালার সবুজ, পাখির ডাক, বন্যপ্রাণীর বিচরণ এবং প্রকৃতির সঙ্গে মানুষের সম্পর্ক—সেই ছবিকেই মণ্ডপের মাধ্যমে তুলে ধরার চেষ্টা করছেন শ্মশানমোড় মহিলা ইউনিটের সদস্যারা।
দুর্গাপুজো শুধু ধর্মীয় উৎসব নয়, বাংলার মানুষের কাছে এটি শিল্প, সংস্কৃতি, সৃজনশীলতা এবং সামাজিক মিলনেরও বড় উৎসব। প্রতি বছর বিভিন্ন পুজো কমিটি নতুন নতুন ভাবনায় মণ্ডপ সাজিয়ে দর্শনার্থীদের আকর্ষণ করে। কোথাও উঠে আসে ইতিহাস, কোথাও লোকসংস্কৃতি, কোথাও পরিবেশ সচেতনতার বার্তা, আবার কোথাও গ্রামবাংলার হারিয়ে যাওয়া ছবি। শ্মশানমোড় মহিলা ইউনিটও এবার সেই ভাবনার পথেই হাঁটছে। তবে তাঁদের ভাবনার কেন্দ্রে রয়েছে প্রকৃতি এবং অরণ্য।
মহিলা সদস্যদের এই উদ্যোগের বিশেষত্ব এখানেই যে, পুজোর আয়োজনের পাশাপাশি সংসার এবং দৈনন্দিন জীবনের দায়িত্বও সামলাতে হয় তাঁদের। সকাল থেকে ঘরের কাজ, পরিবারের দেখভাল, সন্তানদের দায়িত্ব—সবকিছুর মধ্যেই সময় বের করে পুজোর প্রস্তুতিতে অংশ নিচ্ছেন তাঁরা। ফলে পুজোর মণ্ডপ তৈরির কাজ তাঁদের কাছে শুধু একটি উৎসবের আয়োজন নয়, বরং নিজেদের সৃজনশীলতা এবং সংগঠনের ক্ষমতা তুলে ধরারও একটি সুযোগ।
‘যাঁরা রাঁধে, তাঁরা চুলও বাঁধে’—এই কথাটিই যেন শ্মশানমোড় মহিলা ইউনিটের সদস্যাদের উদ্যোগের সঙ্গে মিলে যায়। সংসারের কাজের পাশাপাশি সামাজিক এবং সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে মহিলাদের অংশগ্রহণ যে কতটা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে, তাঁদের এই পুজো তারই উদাহরণ। নিজেদের উদ্যোগে একটি বড় আয়োজনকে সামনে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে তাঁরা যে কতটা দক্ষ, সেই বার্তাও দিচ্ছে এই দুর্গাপুজো।
এবারের মণ্ডপে ‘বনের সৌন্দর্য’ কীভাবে ফুটিয়ে তোলা হবে, তা নিয়ে ইতিমধ্যেই কৌতূহল তৈরি হয়েছে স্থানীয় মানুষের মধ্যে। মণ্ডপসজ্জায় অরণ্যের পরিবেশ, গাছপালা এবং প্রকৃতির নানা উপাদানকে গুরুত্ব দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। সবুজের আবহ, বনের পরিবেশ এবং বন্যপ্রাণীর উপস্থিতির মাধ্যমে দর্শনার্থীদের সামনে একটি অন্যরকম অভিজ্ঞতা তুলে ধরার চেষ্টা করা হবে।
শহরের কংক্রিটের জঙ্গলে বসবাস করতে করতে অনেক সময় মানুষ প্রকৃতির আসল সৌন্দর্য থেকে দূরে সরে যায়। চারপাশে বাড়িঘর, যানবাহন, ব্যস্ত রাস্তা এবং কর্মব্যস্ত জীবন—এই সবকিছুর মধ্যে অরণ্যের নীরবতা, সবুজের ছায়া কিংবা পাখির ডাক অনুভব করার সুযোগ খুব কম। শ্মশানমোড় মহিলা ইউনিটের এবারের ভাবনায় সেই প্রকৃতির কাছেই যেন দর্শনার্থীদের কয়েক মুহূর্তের জন্য ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা রয়েছে।
‘বনের সৌন্দর্য’ তাই শুধুমাত্র একটি মণ্ডপের থিম নয়, এর মধ্যে রয়েছে পরিবেশের প্রতি সচেতনতার একটি বার্তাও। গাছপালা এবং বনাঞ্চল যে মানুষের জীবনের জন্য কতটা গুরুত্বপূর্ণ, সেই বিষয়টি মণ্ডপের বিভিন্ন উপস্থাপনার মাধ্যমে তুলে ধরা যেতে পারে। অরণ্য শুধু বন্যপ্রাণীর আবাসস্থল নয়, মানুষের জীবন এবং পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষাতেও তার ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
প্রকৃতির এই সৌন্দর্যকে কেন্দ্র করে পুজোর আয়োজন করায় শ্মশানমোড় মহিলা ইউনিটের মণ্ডপ এবার দর্শনার্থীদের কাছে অন্যরকম আকর্ষণ তৈরি করতে পারে। বিশেষ করে শিশুদের কাছে অরণ্য ও বন্যপ্রাণীর জগতকে মণ্ডপের মাধ্যমে কাছ থেকে দেখার সুযোগ তৈরি হবে। পরিবারের সঙ্গে পুজো দেখতে আসা ছোটদের জন্য এই ধরনের থিম একইসঙ্গে আনন্দদায়ক এবং শিক্ষামূলকও হতে পারে।
মহিলা সদস্যদের উদ্যোগে আয়োজিত পুজো হওয়ায় স্থানীয় মহলেও তৈরি হয়েছে উৎসাহ। দীর্ঘদিন ধরে দুর্গাপুজোকে কেন্দ্র করে মহিলাদের অংশগ্রহণ বাড়ছে। পুজোর সাংগঠনিক দায়িত্ব থেকে শুরু করে মণ্ডপসজ্জা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, অতিথি আপ্যায়ন—বিভিন্ন ক্ষেত্রেই মহিলারা সক্রিয়ভাবে অংশ নিচ্ছেন। শ্মশানমোড় মহিলা ইউনিটের সদস্যারাও সেই ধারাকেই আরও এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন।
পুজোর আয়োজনের ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল দলগত কাজ। একটি ভালো থিমকে বাস্তব রূপ দিতে প্রয়োজন পরিকল্পনা, পরিশ্রম এবং একে অপরের সঙ্গে সমন্বয়। শ্মশানমোড় মহিলা ইউনিটের সদস্যারা সেই কাজটিই করছেন। নিজেদের মধ্যে আলোচনা করে থিম নির্বাচন থেকে শুরু করে মণ্ডপের পরিকল্পনা—প্রতিটি ধাপেই তাঁরা নিজেদের মতামত দিচ্ছেন। ফলে এবারের পুজো তাঁদের কাছে নিছক একটি উৎসব নয়, বরং সম্মিলিত সৃজনশীলতার প্রকাশ।
ময়নাগুড়ির মতো শহরে দুর্গাপুজোকে ঘিরে প্রতি বছরই সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ দেখা যায়। বিভিন্ন পুজো কমিটি নিজেদের মতো করে আয়োজন সাজিয়ে তোলে। কোথাও থাকে ঐতিহ্যের ছোঁয়া, কোথাও থাকে আধুনিকতার ভাবনা। এরই মধ্যে শ্মশানমোড় মহিলা ইউনিটের ‘বনের সৌন্দর্য’ থিম আলাদা করে নজর কাড়তে পারে বলে আশা করছেন পুজোর সঙ্গে যুক্ত সদস্যারা।
পুজোর সময় মণ্ডপে শুধু স্থানীয় মানুষ নয়, আশপাশের এলাকার দর্শনার্থীরাও আসেন। তাই একটি মণ্ডপকে আকর্ষণীয় করে তুলতে থিমের পাশাপাশি তার উপস্থাপনাও গুরুত্বপূর্ণ। অরণ্যের পরিবেশকে যতটা সম্ভব জীবন্ত করে তোলাই হবে এই পুজোর অন্যতম চ্যালেঞ্জ। মণ্ডপে ঢুকলেই যাতে দর্শনার্থীদের মনে হয় তাঁরা যেন শহরের কোলাহল থেকে দূরে কোনও সবুজ অরণ্যে পৌঁছে গিয়েছেন, সেই আবহ তৈরি করার চেষ্টা থাকবে।
থিমের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে মণ্ডপের বিভিন্ন অংশে প্রকৃতির নানা দিক তুলে ধরা হতে পারে। গাছের ছায়া, লতাপাতা, পাখি, বন্যপ্রাণী কিংবা অরণ্যের বিভিন্ন দৃশ্য—সব মিলিয়ে একটি সম্পূর্ণ বনভূমির আবহ তৈরি করার পরিকল্পনা রয়েছে। দর্শনার্থীরা মণ্ডপে এসে শুধু প্রতিমা দর্শনই করবেন না, পাশাপাশি প্রকৃতির সৌন্দর্যও উপভোগ করার সুযোগ পাবেন।
শহুরে জীবনে পরিবেশের গুরুত্ব নিয়ে সচেতনতা বাড়ানো এখন অত্যন্ত জরুরি। বনাঞ্চল ধ্বংস, গাছ কাটা এবং বন্যপ্রাণীর আবাসস্থল সংকুচিত হওয়ার মতো বিষয়গুলি নিয়ে নিয়মিত আলোচনা হয়। দুর্গাপুজোর মতো বড় সামাজিক উৎসবের মঞ্চকে ব্যবহার করে পরিবেশের কথা মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া গেলে তার প্রভাবও অনেক বেশি হতে পারে। ‘বনের সৌন্দর্য’ থিমের মাধ্যমে সেই সচেতনতার বার্তা পৌঁছে দেওয়ার সুযোগ রয়েছে।
মহিলা সদস্যাদের এই উদ্যোগ আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করে—ইচ্ছা থাকলে মহিলারাও বড় সামাজিক ও সাংস্কৃতিক আয়োজনের নেতৃত্ব দিতে পারেন। সংসার সামলানোর পাশাপাশি তাঁদের সৃজনশীলতা, সংগঠনের দক্ষতা এবং দায়িত্ব নেওয়ার ক্ষমতাও রয়েছে। শ্মশানমোড় মহিলা ইউনিটের পুজো সেই আত্মবিশ্বাসেরই প্রতিফলন।
পুজোর প্রস্তুতি যত এগোচ্ছে, ততই বাড়ছে ব্যস্ততা। মণ্ডপের কাজ, সাজসজ্জা, প্রয়োজনীয় সামগ্রী সংগ্রহ, বিভিন্ন দায়িত্ব ভাগ করে নেওয়া—সবকিছু নিয়েই ব্যস্ত সদস্যারা। কেউ মণ্ডপের পরিকল্পনা নিয়ে ব্যস্ত, কেউ সাজসজ্জার কাজ দেখছেন, কেউ আবার পুজোর অন্যান্য আয়োজন সামলাচ্ছেন। এর পাশাপাশি নিজেদের সংসারের দায়িত্বও পালন করতে হচ্ছে তাঁদের।
এই দ্বৈত দায়িত্ব সামলে পুজোকে সফল করে তোলার চেষ্টা নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয়। কারণ দুর্গাপুজোর আয়োজন শুধু কয়েকদিনের কাজ নয়। তার আগে দীর্ঘদিন ধরে পরিকল্পনা এবং প্রস্তুতি চলে। বিশেষ করে একটি নির্দিষ্ট থিমকে বাস্তবায়িত করতে প্রয়োজন অনেক বেশি সময় এবং পরিশ্রম। সেই পরিশ্রমেই এখন ব্যস্ত শ্মশানমোড় মহিলা ইউনিটের সদস্যারা।
‘বনের সৌন্দর্য’ থিমের মধ্য দিয়ে দর্শনার্থীদের কাছে শুধু চোখের আনন্দ নয়, প্রকৃতিকে ভালোবাসার বার্তাও পৌঁছে দিতে চাইছেন তাঁরা। অরণ্যের সঙ্গে মানুষের সম্পর্ক, পরিবেশের ভারসাম্য এবং সবুজ রক্ষার গুরুত্ব—এই বিষয়গুলিকে যদি মণ্ডপের উপস্থাপনার সঙ্গে যুক্ত করা যায়, তাহলে পুজোটি আরও অর্থবহ হয়ে উঠবে।
মহিলা পরিচালিত দুর্গাপুজোর ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় সাফল্য হল সমাজের বিভিন্ন স্তরের মানুষকে একসঙ্গে নিয়ে কাজ করা। বয়সে বড় থেকে ছোট—সকলের মতামতকে গুরুত্ব দিয়ে এগিয়ে চলাই এই ধরনের আয়োজনের শক্তি। শ্মশানমোড় মহিলা ইউনিটের পুজোতেও সেই সম্মিলিত প্রয়াসের ছবি দেখা যাচ্ছে।
দুর্গাপুজোর সঙ্গে বাঙালির আবেগ গভীরভাবে জড়িয়ে। পুজো এলেই বাড়িতে বাড়িতে নতুন পোশাক, পুজোর বাজার, আড্ডা এবং আনন্দ শুরু হয়ে যায়। একইসঙ্গে পাড়ার পুজোকে কেন্দ্র করে তৈরি হয় সামাজিক বন্ধন। বছরের অন্য সময়ে যাঁদের সঙ্গে নিয়মিত দেখা হয় না, পুজোর সময় তাঁরাও একসঙ্গে মিলিত হন। শ্মশানমোড় মহিলা ইউনিটের পুজোও ময়নাগুড়ির স্থানীয় বাসিন্দাদের সেই মিলনের একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হয়ে উঠতে পারে।
এবারের ‘বনের সৌন্দর্য’ থিম সেই মিলনকে আরও আকর্ষণীয় করে তুলতে পারে। দর্শনার্থীরা মণ্ডপে এসে একদিকে দেবী দুর্গার দর্শন করবেন, অন্যদিকে উপভোগ করবেন অরণ্যের সৌন্দর্যের ভাবনা। ফলে পুজোর আনন্দের সঙ্গে প্রকৃতির প্রতি ভালোবাসার একটি বার্তাও ছড়িয়ে পড়বে।
সবচেয়ে বড় কথা, এই পুজোর মাধ্যমে সামনে আসছে ময়নারগুড়ির মহিলা সমাজের সৃজনশীলতা এবং আত্মনির্ভরতার ছবি। তাঁরা শুধু পুজোর দর্শনার্থী নন, পুজোর আয়োজকও। পরিকল্পনা থেকে বাস্তবায়ন—সব ক্ষেত্রেই নিজেদের দক্ষতার পরিচয় দিচ্ছেন তাঁরা। আর সেই কারণেই শ্মশানমোড় মহিলা ইউনিটের এবারের দুর্গাপুজোকে ঘিরে স্থানীয় মানুষের আগ্রহ আরও বেশি।
পুজো যত এগিয়ে আসবে, মণ্ডপের কাজও তত সম্পূর্ণ রূপ পাবে। তখন ‘বনের সৌন্দর্য’ কতটা জীবন্ত হয়ে ওঠে, সেটাই দেখার বিষয়। অরণ্যের সবুজ, প্রকৃতির নানা উপাদান এবং বন্যজীবনের ছবি যদি সুন্দরভাবে উপস্থাপিত হয়, তাহলে নিঃসন্দেহে দর্শনার্থীদের মন জয় করতে পারে এই মণ্ডপ।
ময়নাগুড়ির শ্মশানমোড় মহিলা ইউনিট তাই এবার শুধু দুর্গাপুজো আয়োজন করছে না, বরং নিজেদের সৃজনশীলতার মাধ্যমে একটি বার্তাও দিতে চাইছে। সংসারের দায়িত্ব সামলে সমাজের জন্য কাজ করা, নিজেদের প্রতিভাকে কাজে লাগানো এবং একইসঙ্গে পরিবেশের প্রতি সচেতনতা তৈরি করা—এই তিনটি দিককে একসঙ্গে সামনে আনছে তাঁদের পুজো।
‘যাঁরা রাঁধে, তাঁরা চুলও বাঁধে’—এই কথার বাস্তব উদাহরণ হয়ে এবার ময়নাগুড়ির শ্মশানমোড় মহিলা ইউনিট দেখাতে চলেছে, সংসারের দায়িত্ব সামলানোর পাশাপাশি সৃজনশীলতা ও সাংগঠনিক দক্ষতায় মহিলারাও কোনও অংশে পিছিয়ে নেই। আর সেই আত্মবিশ্বাসের মঞ্চেই এবার ফুটে উঠবে ‘বনের সৌন্দর্য’।
পুজোর দিনগুলিতে মণ্ডপে দর্শনার্থীদের ভিড় বাড়বে বলেই আশা করছেন উদ্যোক্তারা। স্থানীয় মানুষ থেকে শুরু করে আশপাশের এলাকার পুজোপ্রেমীরা—সকলেই আগ্রহ নিয়ে অপেক্ষা করছেন মণ্ডপের চূড়ান্ত রূপ দেখার জন্য। প্রকৃতি ও নারীশক্তির এই মেলবন্ধন কতটা নজর কাড়ে, তার উত্তর মিলবে পুজোর দিনগুলিতেই।
সব মিলিয়ে, ময়নাগুড়ির শ্মশানমোড় মহিলা ইউনিটের এবারের দুর্গাপুজো শুধু একটি পুজো নয়, এটি নারীশক্তি, সৃজনশীলতা এবং প্রকৃতিপ্রেমের এক অনন্য মেলবন্ধন। ‘বনের সৌন্দর্য’ থিমে তাঁদের এই উদ্যোগ দর্শনার্থীদের চোখে যেমন আনন্দ দেবে, তেমনই মনে করিয়ে দেবে—প্রকৃতিকে ভালোবাসা এবং সবুজকে বাঁচিয়ে রাখা আমাদের সকলের দায়িত্ব।