কোহলির সঙ্গে সম্পর্কের সমীকরণে সময়ের সঙ্গে বদল এসেছে। তবে বিরাটের একটি বিশেষ গুণ আজও রোহিতের মনে গভীর ছাপ ফেলে। কেরিয়ারের শেষ পর্বে এসে ‘কো’-কে নিয়ে কী বললেন ‘রো’?
বিরাট কোহলি এবং রোহিত শর্মা—ভারতীয় ক্রিকেটের দুই দীর্ঘদিনের তারকা। প্রায় দুই দশক ধরে দেশের হয়ে একসঙ্গে ক্রিকেট খেলেছেন তাঁরা। একসময় দলের তরুণ সদস্য হিসেবে যাত্রা শুরু করা দুই ক্রিকেটারই সময়ের সঙ্গে ভারতীয় দলের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এবং অভিজ্ঞ ক্রিকেটারে পরিণত হয়েছেন। ব্যাট হাতে দু’জনের অবদান যেমন উল্লেখযোগ্য, তেমনই ভারতীয় ক্রিকেটের নেতৃত্বের ক্ষেত্রেও তাঁদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। বিশেষ করে টেস্ট ক্রিকেটে বিরাট কোহলির নেতৃত্ব ভারতীয় ক্রিকেটের একটি উল্লেখযোগ্য অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত হয়।
টেস্ট ক্রিকেটে বিরাট কোহলির অধিনায়কত্ব নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই আলোচনা হয়ে আসছে। তাঁর নেতৃত্বে ভারতীয় দল দেশের মাটিতে যেমন শক্তিশালী পারফরম্যান্স করেছে, তেমনই বিদেশের মাটিতেও প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক ক্রিকেট খেলার মানসিকতা তৈরি করেছিল। আগ্রাসী নেতৃত্ব, ফিটনেসের উপর জোর, পেস বোলিংয়ের গুরুত্ব এবং প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে লড়াই করার মানসিকতা—সব মিলিয়ে কোহলির নেতৃত্বে ভারতীয় টেস্ট ক্রিকেটে একটি আলাদা পরিচয় তৈরি হয়েছিল।
২০১৫ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত টেস্ট ক্রিকেটে ভারতকে নেতৃত্ব দিয়েছেন বিরাট কোহলি। তাঁর অধিনায়কত্বের সময়ে ভারত ৬৮টি টেস্ট ম্যাচের মধ্যে ৪০টি ম্যাচে জয় পেয়েছিল। এই পরিসংখ্যানই তাঁর নেতৃত্বের সাফল্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক। শুধু ম্যাচ জেতা নয়, বিদেশের মাটিতে টেস্ট সিরিজ জেতার লক্ষ্য নিয়েও ভারতীয় দলকে এগিয়ে নিয়ে গিয়েছিলেন কোহলি।
কোহলির নেতৃত্বের অন্যতম স্মরণীয় অধ্যায় ছিল অস্ট্রেলিয়া সফর। ২০১৮-১৯ সালের বর্ডার-গাভাসকর ট্রফিতে ভারত অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে সিরিজ জেতে। অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে টেস্ট সিরিজ জয়ের ক্ষেত্রে সেটি ছিল ভারতীয় ক্রিকেটের ঐতিহাসিক সাফল্য। সেই দলের নেতৃত্বে ছিলেন বিরাট কোহলি। ভারতীয় দলের পেস আক্রমণও সেই সময় আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে বিশেষভাবে নজর কাড়ে।
এই কারণেই টেস্ট অধিনায়ক হিসেবে বিরাট কোহলির অবদান নিয়ে এখনও ভারতীয় ক্রিকেটে আলোচনা হয়। এবার সেই প্রশংসার তালিকায় আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ নাম যোগ করলেন রোহিত শর্মা। কোহলির পর ভারতের টেস্ট অধিনায়কত্বের দায়িত্ব পেয়েছিলেন রোহিত নিজেই। ফলে কোহলির নেতৃত্বকে খুব কাছ থেকে দেখার পাশাপাশি পরবর্তীতে একই দায়িত্ব সামলানোর অভিজ্ঞতাও রয়েছে রোহিতের।
জিওস্টারকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে রোহিত শর্মা বিরাট কোহলির টেস্ট অধিনায়কত্বের প্রশংসা করেছেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, টেস্ট অধিনায়ক হিসেবে কোহলি যে কাজ করেছিলেন, তা নিঃসন্দেহে প্রশংসার যোগ্য। কোহলির নেতৃত্বে ভারতীয় দল যে জায়গায় পৌঁছেছিল, সেটিকে রোহিত বিশেষভাবে উল্লেখ করেছেন।
রোহিতের কথায়, কোহলি সেই দলটাকে নিয়ে অসাধারণ কাজ করেছিলেন। শুধু অধিনায়ক ও ক্রিকেটার হিসেবে নয়, তাঁদের মধ্যে ক্রিকেট নিয়ে নিয়মিত আলোচনা হত। কীভাবে দলের খেলার উন্নতি করা যায়, কীভাবে নিজেদের পারফরম্যান্স আরও ভালো করা যায়—এসব নিয়েও তাঁরা নিজেদের মধ্যে কথা বলতেন।
দু’জনের সম্পর্কের আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক ছিল ক্রিকেট নিয়ে পারস্পরিক পরামর্শ। রোহিত জানিয়েছেন, তাঁর ব্যাটিংয়ে কোনও সমস্যা হলে তিনি বিরাট কোহলির সঙ্গে কথা বলতেন। একইভাবে কোহলিও প্রয়োজনে রোহিতের সঙ্গে নিজের সমস্যার বিষয়ে আলোচনা করতেন। অর্থাৎ মাঠে নেতৃত্বের দায়িত্ব আলাদা হলেও ক্রিকেটীয় বিষয়ে তাঁদের মধ্যে নিয়মিত যোগাযোগ ছিল।
ভারতীয় ক্রিকেটে বিরাট কোহলি এবং রোহিত শর্মার জুটি দীর্ঘদিন ধরে আলোচনার কেন্দ্রে। তাঁদের দু’জনের ব্যাটিংয়ের ধরন আলাদা হলেও ভারতীয় দলের হয়ে তাঁদের অবদান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সময়ের সঙ্গে দু’জনেই দলের সিনিয়র ক্রিকেটারে পরিণত হয়েছেন। একসময় তাঁরা একই দলে তরুণ ক্রিকেটার হিসেবে খেলেছেন, পরে দলের নেতৃত্বের দায়িত্বও ভাগ করে নিয়েছেন।
কোহলির পর রোহিত শর্মা টেস্ট দলের অধিনায়ক হন। রোহিতের নেতৃত্বেও ভারতীয় দল একাধিক গুরুত্বপূর্ণ টেস্ট ম্যাচে সাফল্য পেয়েছে। রোহিত ২৪টি টেস্ট ম্যাচে ভারতকে নেতৃত্ব দেন এবং তার মধ্যে ১২টি ম্যাচে ভারত জয় পেয়েছে। ফলে দু’জনের অধিনায়কত্বের সময়কাল এবং অভিজ্ঞতা আলাদা হলেও ভারতীয় টেস্ট ক্রিকেটের সাম্প্রতিক ইতিহাসে তাঁদের দু’জনের নামই গুরুত্বপূর্ণ।
বর্তমানে অবশ্য পরিস্থিতি অনেকটাই বদলে গিয়েছে। বিরাট কোহলি এবং রোহিত শর্মা দু’জনেই টেস্ট ও টি-টোয়েন্টি ক্রিকেট থেকে অবসর নিয়েছেন। তাঁরা এখন মূলত ওয়ানডে ক্রিকেটেই ভারতের হয়ে খেলছেন। এর ফলে আগের মতো নিয়মিত একসঙ্গে সফর করার সুযোগ তাঁদের আর নেই।
একসময় ভারতীয় দলের হয়ে একের পর এক সিরিজ খেলতে গিয়ে দু’জনের নিয়মিত দেখা হত। কোনও একটি সফর শেষ হতে না হতেই আরেকটি সফর শুরু হয়ে যেত। ফলে দীর্ঘ সময় তাঁরা একসঙ্গে দলের সঙ্গে থাকতেন। কিন্তু এখন দু’জনেই টেস্ট ও টি-টোয়েন্টি থেকে সরে আসায় সেই নিয়মিত যোগাযোগ আর নেই।
রোহিত জানিয়েছেন, তাঁদের দু’জনের বাড়িও অনেক দূরে। তাই এখন মাঝেমধ্যে দেখা হয়। কোনও ওয়ানডে সিরিজ থাকলে একমাস বা দেড়মাস পর দেখা হওয়ার সুযোগ আসে। অথচ এক বছর আগেও পরিস্থিতি সম্পূর্ণ আলাদা ছিল। তখন কয়েক দিন পর পরই কোনও না কোনও ক্রিকেট সফরে যেতে হত। ক্রিকেটের ব্যস্ত সূচির কারণে পরিবারের সঙ্গে সময় কাটানোর সুযোগও কম ছিল।
বর্তমানে পরিবারের সঙ্গে তুলনামূলকভাবে বেশি সময় কাটাতে পারছেন রোহিত। তাঁর কথায়, এই পরিবর্তন তাঁর কাছে ভালোও লাগে। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের ব্যস্ত সূচির কারণে একজন ক্রিকেটারের ব্যক্তিগত জীবন অনেকটাই সীমাবদ্ধ হয়ে যায়। টানা সফর, অনুশীলন, ম্যাচ এবং যাতায়াতের মধ্যে পরিবারকে সময় দেওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। অবসর বা সীমিত ফরম্যাটে খেলার ফলে সেই সময়ের কিছুটা পরিবর্তন হয়েছে।
বিরাট কোহলির টেস্ট অধিনায়কত্ব নিয়ে রোহিতের এই মন্তব্য তাই শুধু একজন ক্রিকেটারের প্রশংসা নয়, ভারতীয় দলের একটি গুরুত্বপূর্ণ সময়ের স্মৃতিও সামনে নিয়ে আসে। কোহলির অধিনায়কত্বের সময়ে ভারতীয় দল টেস্ট ক্রিকেটে নিজেদের অবস্থান আরও শক্তিশালী করার চেষ্টা করেছিল। বিশেষ করে বিদেশের মাটিতে জয়ের মানসিকতা এবং পেস বোলিংয়ের উপর গুরুত্ব সেই সময় ভারতীয় ক্রিকেটে বিশেষভাবে আলোচিত হয়েছিল।
কোহলির অধিনায়কত্বের আরেকটি উল্লেখযোগ্য দিক ছিল তাঁর ব্যক্তিগত ব্যাটিং পারফরম্যান্স। অধিনায়ক থাকা অবস্থাতেও তিনি ভারতের হয়ে গুরুত্বপূর্ণ রান করেছেন। অধিনায়কত্বের চাপের পাশাপাশি ব্যাট হাতে ধারাবাহিকভাবে অবদান রাখার চেষ্টা করেছেন তিনি। টেস্ট ক্রিকেটে তাঁর আগ্রাসী মনোভাব এবং প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে লড়াই করার মানসিকতা তাঁকে আলাদা পরিচিতি দেয়।
অন্যদিকে রোহিত শর্মার টেস্ট ক্রিকেটের যাত্রাও গুরুত্বপূর্ণ। সাদা বলের ক্রিকেটে দীর্ঘদিন সফল হওয়ার পর টেস্ট ক্রিকেটে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন রোহিত। পরবর্তীতে তিনি ভারতীয় টেস্ট দলের অধিনায়কত্বের দায়িত্বও পান। তাই বিরাট কোহলির নেতৃত্ব নিয়ে রোহিতের মন্তব্যের গুরুত্ব আরও বাড়ে, কারণ তিনি নিজেও সেই দায়িত্ব পালন করেছেন।
দু’জনের ক্রিকেটীয় সম্পর্কের ক্ষেত্রে পারস্পরিক আলোচনা এবং পরামর্শের বিষয়টিও উল্লেখযোগ্য। রোহিতের বক্তব্য থেকে বোঝা যায়, তাঁরা নিজেদের পারফরম্যান্স নিয়ে একে অপরের সঙ্গে কথা বলতেন। ব্যাটিংয়ের সমস্যা, দলের উন্নতি কিংবা ম্যাচের পরিস্থিতি—ক্রিকেট নিয়ে তাঁদের মধ্যে যোগাযোগ ছিল।
ভারতীয় ক্রিকেটের সাম্প্রতিক সময়ে ‘রো-কো’ জুটি নিয়ে অনেক আলোচনা হয়েছে। রোহিত শর্মা ও বিরাট কোহলি একসঙ্গে খেললে তাঁদের জুটি নিয়ে সমর্থকদের মধ্যে আলাদা আগ্রহ দেখা যায়। যদিও দু’জনের ক্রিকেটীয় ভূমিকা এবং ব্যাটিংয়ের ধরন আলাদা, তবুও দীর্ঘদিন ভারতীয় দলের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য হিসেবে তাঁরা একসঙ্গে খেলেছেন।
এখন দু’জনের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের ভবিষ্যৎ মূলত ওয়ানডে ক্রিকেটকে ঘিরে। টেস্ট ও টি-টোয়েন্টি থেকে অবসর নেওয়ার পর তাঁদের আন্তর্জাতিক ম্যাচের সংখ্যা স্বাভাবিকভাবেই কমেছে। ফলে আগের মতো প্রতিদিনের ক্রিকেটীয় যোগাযোগ বা নিয়মিত সফরের সম্পর্কও নেই। তবে দীর্ঘ ক্রিকেটজীবনের সম্পর্ক এবং পারস্পরিক সম্মান এখনও রয়েছে—রোহিতের সাম্প্রতিক বক্তব্যে সেই বিষয়টি স্পষ্ট হয়েছে।
বিরাট কোহলির টেস্ট অধিনায়কত্বের পরিসংখ্যান, অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে ঐতিহাসিক সিরিজ জয় এবং ভারতীয় দলের বিদেশের মাটিতে প্রতিদ্বন্দ্বিতার মানসিকতা—সব মিলিয়ে তাঁর নেতৃত্বের সময়কাল ভারতীয় টেস্ট ক্রিকেটের আলোচিত অধ্যায়গুলির মধ্যে অন্যতম। রোহিত শর্মার বক্তব্য সেই অধ্যায়কে আরও একবার সামনে নিয়ে এসেছে।
একই সঙ্গে, রোহিতের বক্তব্যে তাঁদের ব্যক্তিগত ক্রিকেটীয় সম্পর্কের ছবিও পাওয়া যায়। অধিনায়কত্বের দায়িত্ব আলাদা হলেও দু’জনের মধ্যে ক্রিকেট নিয়ে আলোচনা ছিল। একজনের ব্যাটিং সমস্যা হলে অন্যজনের সঙ্গে কথা বলা, দলের উন্নতি নিয়ে আলোচনা করা এবং প্রয়োজন অনুযায়ী পরামর্শ নেওয়া—এসব তাঁদের দীর্ঘদিনের ক্রিকেটীয় সম্পর্কের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
বর্তমানে দু’জনেই আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের সীমিত একটি অংশে সক্রিয়। তাই তাঁদের একসঙ্গে মাঠে দেখার সুযোগ আগের তুলনায় কম। তবুও ভারতীয় ক্রিকেটের সমর্থকদের কাছে বিরাট কোহলি এবং রোহিত শর্মার যুগ দীর্ঘদিন স্মরণীয় হয়ে থাকবে। টেস্ট, ওয়ানডে এবং টি-টোয়েন্টি—তিন ফরম্যাটেই তাঁদের দীর্ঘ অবদান ভারতীয় ক্রিকেটের সাম্প্রতিক ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
রোহিত শর্মার বক্তব্যের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য দিক হল, তিনি নিজের পরবর্তী অধিনায়ক হিসেবে নয়, একজন সতীর্থ এবং ক্রিকেটার হিসেবে বিরাট কোহলির টেস্ট নেতৃত্বের কাজকে স্মরণ করেছেন। কোহলির নেতৃত্বে ভারতীয় দল কীভাবে নিজেদের উন্নত করার চেষ্টা করেছিল, বিদেশের মাটিতে কীভাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিল এবং দলের ক্রিকেটারদের সঙ্গে কীভাবে আলোচনা চলত—সেই অভিজ্ঞতার কথাই উঠে এসেছে তাঁর বক্তব্যে।
কোহলি ও রোহিতের ক্রিকেটীয় সম্পর্কের এই দিকটি তাঁদের ভক্তদের কাছেও বিশেষ আগ্রহের বিষয়। মাঠের প্রতিদ্বন্দ্বিতা বা নেতৃত্বের পরিবর্তনের বাইরে দুই ক্রিকেটারের মধ্যে পারস্পরিক ক্রিকেটীয় আলোচনা ছিল। দীর্ঘ আন্তর্জাতিক ক্রিকেটজীবনে এমন সম্পর্ক অনেক সময় দলের পারফরম্যান্সেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
বিরাট কোহলি এখন টেস্ট ক্রিকেটের অংশ না হলেও তাঁর টেস্ট অধিনায়কত্ব নিয়ে আলোচনা থেমে নেই। একইভাবে রোহিত শর্মাও টেস্ট অধিনায়কত্বের দায়িত্ব থেকে সরে গিয়েছেন। দু’জনের ক্রিকেটজীবনের এই পর্যায়ে এসে পুরনো দিনের স্মৃতি এবং তাঁদের একসঙ্গে কাটানো ক্রিকেটীয় সময়ের কথা নতুন করে সামনে আসছে।
রোহিতের বক্তব্য তাই বিরাট কোহলির প্রশংসার পাশাপাশি ভারতীয় ক্রিকেটের একটি পরিবর্তনশীল সময়ের কথাও মনে করিয়ে দেয়। একদিকে ছিল দীর্ঘ টেস্ট সফর, নিয়মিত আন্তর্জাতিক ক্রিকেট এবং একসঙ্গে দলের সঙ্গে থাকা; অন্যদিকে এখন দু’জনেরই সীমিত ফরম্যাটে অংশগ্রহণ এবং পরিবারের সঙ্গে তুলনামূলক বেশি সময় কাটানোর সুযোগ।
সব মিলিয়ে, বিরাট কোহলির টেস্ট নেতৃত্ব নিয়ে রোহিত শর্মার মন্তব্য ভারতীয় ক্রিকেটপ্রেমীদের মধ্যে স্বাভাবিকভাবেই আগ্রহ তৈরি করেছে। কোহলির অধিনায়কত্বের পরিসংখ্যান, অস্ট্রেলিয়ায় সিরিজ জয়, দলের উন্নতি নিয়ে দু’জনের আলোচনা এবং বর্তমানে তাঁদের কম দেখা হওয়ার বিষয়—সব মিলিয়ে এই সাক্ষাৎকারে উঠে এসেছে তাঁদের দীর্ঘ ক্রিকেটীয় সম্পর্কের একাধিক দিক।
বিরাট কোহলি ও রোহিত শর্মা এখন টেস্ট ও টি-টোয়েন্টি ক্রিকেট থেকে অবসর নিয়েছেন। তবে ভারতীয় ক্রিকেটে তাঁদের দীর্ঘ যাত্রা এবং নেতৃত্বের সময়কাল এখনও আলোচনায় থাকে। রোহিতের কথায় সেই পুরনো ক্রিকেটীয় সম্পর্কেরই কিছুটা ছবি পাওয়া গেল।