Lenspedia Bangla Logo
  • কলকাতা
  • 30℃ Purba Bardhaman

ঠান্ডা নয় গরম রায়তা খান শীতে ৫ ধরনের সব্জি দিয়ে ঘরেই তৈরি করুন শরীর থাকবে উষ্ণ

শীতের দিনে গরম ভাত, খিচুড়ি বা রুটির সঙ্গে ঠান্ডা রায়তা অনেকসময় বেমানান লাগে। শরীর তখন চাইছে উষ্ণ খাবার যা তাকে আরাম দেয়। ঠান্ডা রায়তার পরিবর্তে গরম রায়তা খেলে খাবারের স্বাদ বেড়ে যায় এবং শরীরও তাজা ও সুস্থ থাকে।

রায়তা মানে সাধারণত ঠান্ডা দই, শসা বা পেঁয়াজের মিশ্রণ। কিন্তু রন্ধনশিল্প কখনোই স্বল্পের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না। নানা রকম খাবারের চরিত্র বদলে দিতে পারে আমাদের কৌশল ও মনের ভাবনা। গ্রীষ্মকালে ঠান্ডা খাবার শরীরকে ঠান্ডা রাখে, আবার শীতের সময় গরম খাবার শরীরকে উষ্ণ রাখে। আমাদের জন্য রায়তা একটি জনপ্রিয় খাবার, কিন্তু শীতের সময়ে ঠান্ডা রায়তার বদলে গরম রায়তা খাওয়া আরও বেশি উপকারী হতে পারে। তাই, আজকের এই প্রতিবেদনে আমরা জানব শীতের জন্য বিশেষ কিছু গরম রায়তা প্রস্তুত করার রেসিপি, যা শরীরের জন্য আরামদায়ক ও সুস্বাদু হতে পারে।

১. লাউয়ের রায়তা

শীতের সময়ে আমাদের পিপাসা কমে যায়, কিন্তু তাও শরীরের জলীয় ভারসাম্য বজায় রাখা গুরুত্বপূর্ণ। লাউ একটি খুব ভালো উপাদান যা শীতকালে শরীরে জলীয় ঘাটতি পূরণ করতে সহায়তা করে। লাউয়ের রায়তা বানাতে প্রথমে লাউ ছোট ছোট টুকরো করে সেদ্ধ করতে হবে। তারপর, অল্প তেলে রান্না করতে হবে যাতে তার মধ্যে উষ্ণতা থাকে। এবার, হালকা গরম দইয়ের সঙ্গে মিশিয়ে রোস্ট করা জিরে ছড়িয়ে দিন। গোলমরিচ, এলাচ এবং অন্য কোনও মশলা উপরে ছড়িয়ে দিলে স্বাদ বাড়বে। এই রায়তা পেটের জন্য আরামদায়ক এবং হজম শক্তি বাড়ায়।

২. গাজরের রায়তা

গাজর রোজকার খাদ্য তালিকায় খুবই উপকারী। শীতের সময়ে গাজরের মধ্যে থাকা ভিটামিন A এবং অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট গুণাবলী আমাদের শরীরের ইমিউন সিস্টেমকে শক্তিশালী করে। গাজর রায়তা বানানোর জন্য গাজর গ্রেট করে একটু তেলে ভেজে নিতে হবে। তারপর, গরম দইয়ের সঙ্গে মিশিয়ে উপরে রোস্ট করা জিরে বা ধনে গুঁড়ো ছড়িয়ে দিন। এই রায়তা শীতকালে শরীরকে আরাম দেয় এবং প্রাকৃতিক মিষ্টি স্বাদ শরীরকে উষ্ণ রাখে।

৩. বিটের রায়তা

বিট শরীরের জন্য অত্যন্ত উপকারী, কারণ এটি রক্তের সরবরাহ বাড়াতে সাহায্য করে। বিটের রায়তা তৈরির জন্য বিট গ্রেট করে সেদ্ধ বা হালকা রান্না করে নিতে হবে। তারপর, গরম দইয়ের সঙ্গে মিশিয়ে উপরে রোস্ট করা জিরে ছড়িয়ে দিন। বিটের এই রায়টা শীতের জন্য আদর্শ, কারণ এর উজ্জ্বল রঙ শরীরকে উষ্ণ রাখতে সাহায্য করে এবং সুস্বাদুও বটে।

৪. কুমড়োর রায়তা

রায়তায় কুমড়ো মেশানোর প্রচলন কম। তবে শীতের সময়ে কুমড়ো একটি চমৎকার উপাদান হতে পারে যা শরীর উষ্ণ রাখে। কুমড়ো সেদ্ধ করে হাত দিয়ে পিষে নিন এবং গরম দইয়ের সঙ্গে মিশিয়ে দিন। উপরে নুন, গোলমরিচ ছড়িয়ে দিন। এই রায়টা হজমে সহায়ক এবং পেটের জন্য খুবই উপকারী। শীতের সময়ে কুমড়োর এই গরম রায়টা বিশেষ সুবিধা দিতে পারে।

৫. পুদিনার রায়তা

পুদিনা একদিকে গ্রীষ্মের উপকারী উপাদান হলেও শীতেও এই উপাদানটি ব্যবহার করা যেতে পারে। পুদিনা মেনুতে মিষ্টি ও তিক্তের একটি অপূর্ব মিশ্রণ তৈরি করে, যা শরীরকে উষ্ণ রাখতে সাহায্য করে। পুদিনা পাতা কুচিয়ে গরম দইয়ের সঙ্গে মিশিয়ে দিন এবং উপরে রোস্ট করা জিরে ছড়িয়ে দিন। এই রায়টা শীতের খাবারের সঙ্গে ভাল যায় এবং পেটকে পরিষ্কার রাখতে সাহায্য করে।

৬. কলা রায়তা

কলা রায়তা একটা পুষ্টিকর এবং সুস্বাদু বিকল্প হতে পারে। কলা ম্যাশ করে, গরম দইয়ের সঙ্গে মিশিয়ে একে বিশেষ মশলা ও স্বাদ দিয়ে সাজান। এর সঙ্গে কয়েকটি বাদাম কুঁচি বা মিছরির শাঁস দিতে পারেন। এই রায়টা পেটের জন্য একেবারে উপকারী এবং শক্তি দেয়।

৭. পটল রায়তা

পটল বা টিনচি রায়তাও একটি সহজ এবং জনপ্রিয় শীতকালীন রেসিপি। পটল সেদ্ধ বা ভেজে সেদ্ধ করে, তাকে গরম দইয়ের সঙ্গে মিশিয়ে উপরে রোস্ট করা জিরে, গোলমরিচ ছড়িয়ে দিন। এটি হালকা এবং পেটের জন্য খুবই আরামদায়ক।

৮. মৌরি রায়তা

মৌরি গরম রায়তার স্বাদে এক নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে। মৌরি ভেজে সেই গরম দইয়ের সঙ্গে মিশিয়ে দিলে খাবারে নতুন এক সুর আসবে। মৌরি হজম শক্তি বাড়াতে সাহায্য করে এবং গরম দইয়ের সঙ্গে এটি শরীরকে আরাম দেয়।

news image
আরও খবর

৯. সবুজ শাকের রায়তা

শীতকালে সবুজ শাকের ব্যবহার আরও বাড়ানো উচিত। পাট শাক, মথ শাক বা অন্য সবুজ শাক গরম দইয়ের সঙ্গে মিশিয়ে বানানো রায়টা শীতে শরীরের জন্য উপকারী। এই রায়টাতে পুষ্টি, ভিটামিন এবং খনিজ থাকে যা শরীরের জন্য বিশেষ উপকারী।

১০. পেঁপে রায়তা

শীতে পেঁপে খাওয়ার পরিমাণ বাড়িয়ে দিলে অনেক উপকার পাওয়া যেতে পারে। পেঁপে খেতে সুস্বাদু এবং স্বাস্থ্যকরও। পেঁপে গ্রেট করে, গরম দইয়ের সঙ্গে মিশিয়ে খেলে এটি সুস্বাদু এবং পুষ্টিকর একটি রায়তা হয়ে ওঠে।

উপসংহার

শীতের সময় খাদ্যাভ্যাসে কিছুটা পরিবর্তন আনা খুবই প্রয়োজনীয়, যা শরীরকে উষ্ণ এবং সুস্থ রাখবে। শীতকালে ঠান্ডা খাবারের বদলে গরম খাবার খাওয়া আমাদের স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী। ঠান্ডা রায়তার মধ্যে থাকা দই, শসা, পেঁয়াজ ইত্যাদি উপাদান সাধারণত শরীরকে ঠান্ডা রাখে, যা শীতকালীন শারীরিক পরিস্থিতির জন্য মোটেও উপযুক্ত নয়। ঠান্ডা রায়তার বদলে গরম রায়তা খাওয়া আমাদের শরীরের তাপমাত্রা বজায় রাখে এবং একে অপরকে সহায়ক উপাদান হিসেবে কাজ করে। শীতকালীন খাবারে গরম রায়তার উপস্থিতি শরীরকে উষ্ণ রাখার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, বিশেষ করে যখন বাইরের তাপমাত্রা কম থাকে এবং আমাদের শরীর বেশি ঠান্ডা অনুভব করে। তাছাড়া, গরম রায়তা আমাদের হজম প্রক্রিয়াকে সহায়ক করে, পেটের জন্য আরামদায়ক এবং সুস্বাদু হিসেবে কাজ করে।

গরম রায়তাগুলির মধ্যে থাকা বিভিন্ন সবজি যেমন গাজর, বিট, লাউ, কুমড়ো, পটল ইত্যাদি পুষ্টি উপাদানে সমৃদ্ধ। শীতকালে এই সবজি শরীরের জন্য অত্যন্ত উপকারী। গাজরের মধ্যে থাকা ভিটামিন A, বিটের মধ্যে থাকা অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট, লাউয়ের পানি শরীরের জলীয় ঘাটতি পূরণ করতে সাহায্য করে, আর কুমড়োর ভিটামিন C শরীরকে শক্তিশালী রাখে। এই সব সবজি রায়তাতে ব্যবহার করার ফলে আমাদের শরীর প্রয়োজনীয় পুষ্টি পায় এবং শীতকালীন শারীরিক দুর্বলতা দূর হয়। বিশেষ করে, রোস্ট করা মশলা যেমন জিরে, গোলমরিচ, ধনে গুঁড়ো ইত্যাদি রায়তায় মেশালে তা খাবারের স্বাদকে আরও উপভোগ্য করে তোলে এবং আমাদের শরীরের তাপমাত্রাও বাড়িয়ে দেয়। গরম দই, যেটি হালকা গরম অবস্থায় থাকে, হজমের প্রক্রিয়াকে উন্নত করে এবং খাবারের পর পেটকে আরাম দেয়।

গরম রায়তাগুলির উপকারিতা শুধুমাত্র শরীরের উষ্ণতা বজায় রাখায় নয়, বরং এটি পেটের জন্য আরামদায়ক এবং স্বাস্থ্যকরও। গরম রায়তাগুলি হজমে সহায়ক, যা আমাদের পেটের পীড়া এবং অস্বস্তি দূর করতে সাহায্য করে। শীতকালে আমাদের পেটের কার্যক্ষমতা অনেক সময় কমে যায় এবং হজমের সমস্যা দেখা দিতে পারে, কিন্তু গরম রায়তা এই সমস্যাগুলি প্রতিরোধ করতে কার্যকরী। দইয়ের মধ্যে থাকা প্রোবায়োটিক্স আমাদের হজম ব্যবস্থাকে সঠিকভাবে কাজ করতে সহায়তা করে। এছাড়া, রোস্ট করা মশলাগুলি যেমন জিরে, ধনে এবং গোলমরিচ হজমের প্রক্রিয়াকে আরও ত্বরান্বিত করে।

শীতকালীন খাদ্যাভ্যাসে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল খাবারের বৈচিত্র্য। গরম রায়তা তৈরি করা খুবই সহজ এবং তা পুষ্টি ও স্বাদে বৈচিত্র্য আনতে সহায়তা করে। যেমন, লাউ, গাজর, বিট, কুমড়ো, পটল, কলা ইত্যাদি সবজি দিয়ে বিভিন্ন ধরনের রায়তা তৈরি করা যেতে পারে, যা আমাদের খাবারের রুটিনে নতুনত্ব নিয়ে আসে। এছাড়া, শীতের সময়ে যখন আমরা ভারী খাবার খাচ্ছি, তখন এই গরম রায়তাগুলি খাবারের স্বাদ বাড়ায় এবং আমাদের হজমে সহায়তা করে। এর ফলে, আমাদের শীতকালীন খাবার আরও সুস্বাদু, স্বাস্থ্যকর এবং আরামদায়ক হয়ে ওঠে।

শীতকালে গরম রায়তা খাবারের মধ্যে স্বাস্থ্যকর উপাদান যেমন ভিটামিন, খনিজ, অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট এবং অন্যান্য পুষ্টি উপাদান থাকে, যা শরীরের ইমিউন সিস্টেমকে শক্তিশালী করে। এই গরম রায়তাগুলি খেলে আমাদের শরীরে শক্তির অভাব দূর হয় এবং শরীর আরও সুস্থ থাকে। গরম রায়তাতে থাকা সবজি এবং মশলাগুলি আমাদের শারীরিক কার্যক্রমকে সমর্থন করে এবং শরীরের অভ্যন্তরীণ তাপমাত্রা স্বাভাবিক রাখে।

এছাড়া, গরম রায়তার বিভিন্ন ভ্যারিয়েশন তৈরি করা সম্ভব, যা আমাদের শীতকালীন খাবারকে আরও বৈচিত্র্যময় করে তোলে। গাজরের রায়তা, বিটের রায়তা, লাউয়ের রায়তা, কুমড়োর রায়তা, পুদিনার রায়তা ইত্যাদি আমাদের শীতকালীন খাবারের তালিকায় শৃঙ্খলা আনতে পারে এবং প্রতিদিনের খাবারে পুষ্টির উৎস হিসেবে কাজ করতে পারে। এ ধরনের রায়তা খেলে আমাদের শরীর আরও শক্তিশালী, সুস্থ এবং শক্তির পূর্ণতা পায়।

অবশেষে, শীতের সময় আমাদের শরীর আরও বেশি সংবেদনশীল হয়ে ওঠে এবং শীতকালীন খাবারের মাধ্যমে তার যত্ন নেওয়া উচিত। ঠান্ডা রায়তা যে শুধু স্বাদে নয়, শরীরের জন্যও উপকারী নয়, কিন্তু গরম রায়তা আমাদের শরীরকে সুস্থ এবং শক্তিশালী রাখে। তাই, এই শীতকালীন রেসিপিগুলি অনুসরণ করে গরম রায়তাগুলি গ্রহণ করুন, যা আপনাকে শীতের মরসুমে সুস্থ, উষ্ণ এবং সতেজ রাখবে।

Preview image