এনা সাহার পরিবারের পাঁচ বোনের মধ্যে তিনজন মূল বোন ও দুই তুতো বোনের সঙ্গে ভাইফোঁটার আয়োজন বিশেষভাবে উদযাপিত হয়। একজন তুতো বোন নিজেকে ছেলে মনে করায়, তাই তাঁকেও ভাইফোঁটায় অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়া হয়। বোনেদের মধ্যে রয়েছে আনন্দময় নিয়ম—যদি কারও পছন্দের পুরুষ আসে, তা আগে অন্যদের জানাতে হবে, আর কেউ দুজনেরই পছন্দ হয়, তাহলে তারা দু’জনে সরে দাঁড়ায়। উৎসবটা প্রেম, বন্ধুত্ব ও বোনেদের ঐক্যের সঙ্গে উদযাপিত হয়।
ভাইফোঁটা, বাংলার একটি জনপ্রিয় ও হৃদয়স্পর্শী উৎসব। ভাইদের সুস্থতা ও দীর্ঘায়ু কামনা করে বোনেরা তাদের কপালে টিপি বা ফোঁটা দিয়ে আশীর্বাদ দেন। সাধারণত এই অনুষ্ঠানে ভাইদেরই কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে দেখা যায়, আর বোনেরা তাঁদের আনন্দে অংশগ্রহণ করে। তবে টলিপাড়ার জনপ্রিয় অভিনেত্রী এনা সাহার পরিবারের ভাইফোঁটার গল্প একটু ভিন্ন—এখানে শুধু ভাইদের জন্য নয়, বোনেদের মধ্যে বিশেষ বন্ধুত্ব ও সন্মানও স্পষ্টভাবে ফুটে ওঠে।
এনা সাহার পরিবারে পাঁচটি মেয়ে—তিনজন মূল বোন এবং দুইজন ‘তুতো’ বোন। এই পাঁচ বোনের সম্পর্ক শুধুই রক্তের বন্ধন নয়, বরং গভীর বন্ধুত্ব, আস্থা এবং পারস্পরিক সমর্থনের প্রতীক। এনারা পরিবারে বোনেদের মধ্যে পারস্পরিক শ্রদ্ধা, বোঝাপড়া এবং ভালোবাসা বজায় রাখতে সচেষ্ট। বিশেষত ‘তুতো’ বোনদের সঙ্গে সম্পর্কটা একটু আলাদা হলেও সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ।
এনার পরিবারের ছোট বোনদের মধ্যে একজন তুতো বোন জন্মগতভাবে মেয়ে হলেও নিজেকে ছেলে মনে করেন। এনারা এবং পরিবারের বাকি সদস্যরা এই পরিচয়কে পুরোপুরি সমর্থন করেন। ভাইফোঁটায় সাধারণত ছেলে ভাইদের জন্য ফোঁটা দেওয়া হয়, কিন্তু এনারা ওই তুতো বোনকেও অংশগ্রহণ করতে দেন। এভাবে তারা শুধু ঐতিহ্য পালন করছেন না, বরং সমাজের প্রচলিত লিঙ্গচিন্তা ও পরিচয়কেও সমর্থন জানাচ্ছেন।
“ও মেয়ে হয়েই জন্মেছে, কিন্তু নিজেকে ছেলে বলে মনে করে। আমরা ওর এই ভাবনাকে উৎসাহ দিই, তাই ওকেও ভাইফোঁটা দিই।” — এনা সাহা
ভাইফোঁটার দিন এনারা সব বোন মিলে একত্রিত হন। বাড়িতে বাজছে বিয়ের সানাই, কারণ তাদের মামার মেয়ের বাগদান সদ্য সম্পন্ন হয়েছে। যদিও মূল অনুষ্ঠানটি সানাই-বাদ্য আর ভাইদের আশীর্বাদ কেন্দ্রিক, এনারা এবং তাদের বোনেরা এই দিনটিকে নিজেদের আনন্দময় রঙে সাজান।
এনারা বোনেদের মধ্যে একটি মজার নিয়মও পালন করেন। যদি কোনো বোনের পছন্দের পুরুষ আসে, তা প্রথমে বাকি বোনদের জানাতে হবে। আর যদি কোনো পুরুষ দুই বোনকে পছন্দ করে, তাহলে তারা দুজনেই সরে দাঁড়ান। এই নিয়মের মাধ্যমে তারা বোনেদের মধ্যে দ্বন্দ্ব এড়ায় এবং সম্পর্কের সৌহার্দ্য বজায় রাখে।
এনারা এবং তাদের বোনেরা এই নিয়মকে শুধু মজার নিয়ম হিসেবে নয়, বরং পরিবারের ঐক্য বজায় রাখার মাধ্যম হিসেবেও বিবেচনা করেন। এটি প্রমাণ করে যে তারা পারস্পরিক সম্মান এবং বোনেদের মধ্যে একে অপরকে সমর্থন করার মানসিকতাকে কতটা গুরুত্ব দেন।
তুতো বোনের নিজস্ব যৌন ও লিঙ্গ পরিচয় নতুনভাবে আবিষ্কার করা একটি সাহসী পদক্ষেপ। মাত্র ২১ বছর বয়সে তিনি নিজেকে ছেলে মনে করেন এবং পরিবারের বাকি সদস্যরা তার এই পরিচয়কে সম্মান করেন। এনারা এবং তাদের বোনেরা তার প্রতি সমর্থন দেখান, যা পরিবারে ভালোবাসার এবং গ্রহণযোগ্যতার পরিবেশকে আরও শক্তিশালী করে।
এই ধরনের সমর্থন কেবল ব্যক্তিগত সুখই দেয় না, বরং সমাজের জন্যও একটি গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ হিসেবে কাজ করে। এটি দেখায় যে পরিবারে ভালোবাসা, বোঝাপড়া এবং গ্রহণযোগ্যতা মূল বিষয়।
ভাইফোঁটার দিনটি কেবল ঐতিহ্যিক অনুষ্ঠান নয়, বরং বোনেদের আনন্দ, বন্ধুত্ব এবং পারস্পরিক ভালোবাসার প্রতিফলন। বোনেরা একত্রে সময় কাটান, হাসি-কান্নার মুহূর্ত ভাগ করে নেন, আর একে অপরের সঙ্গে সুখ-দুঃখের গল্প শেয়ার করেন।
পাঁচ বোন মিলে এই ভাইফোঁটার আগে সিনেমা দেখেছেন। তারা ‘থামা’ নামক সিনেমাটি বেছে নিয়েছেন। সিনেমার শেষে তারা একসঙ্গে খাওয়া-দাওয়া, গল্প-আড্ডা এবং মজার মুহূর্তগুলো ভাগাভাগি করে নিয়েছেন। এ ধরনের ছোট ছোট মুহূর্তই তাদের সম্পর্ককে আরও দৃঢ় এবং হৃদয়স্পর্শী করে তোলে।
আজকের সময়ে পরিবার এবং সামাজিক প্রথা অনেক পরিবর্তিত হয়েছে। অনেক পরিবারে ভাইফোঁটার মতো অনুষ্ঠান শুধুমাত্র প্রথাগত কাঠামোর মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে। তবে এনারা সাহার পরিবার দেখায় যে, ঐতিহ্য পালন করলেও তাকে আধুনিক মূল্যবোধ এবং সামাজিক গ্রহণযোগ্যতার সঙ্গে মানিয়ে নেওয়া সম্ভব।
তাদের গল্প একটি উদাহরণ, যা প্রমাণ করে যে পারিবারিক অনুষ্ঠান শুধু রীতিনীতি নয়, বরং ভালোবাসা, সমর্থন, বোনত্ব এবং একে অপরের ব্যক্তিগত পরিচয়কে গ্রহণ করার মাধ্যমে আরও অর্থবহ হয়ে উঠতে পারে।
এনারা এবং তাদের বোনেরা প্রতিটি ক্ষেত্রে একে অপরকে সমর্থন করে। প্রেমের ক্ষেত্রে, পছন্দের ক্ষেত্রে, বা লিঙ্গ পরিচয় গ্রহণের ক্ষেত্রে—তারা সব সময় একে অপরের পাশে থাকেন। এই বন্ধুত্ব এবং সহযোগিতা তাদের পারিবারিক বন্ধনকে আরও দৃঢ় করে।
বোনেদের মধ্যে এই ধরনের সম্পর্ক কেবল ব্যক্তিগত জীবনে সুখ এবং সমর্থন দেয় না, বরং সমাজের জন্যও একটি ইতিবাচক বার্তা বহন করে। এটি দেখায় যে বন্ধুত্ব এবং পরিবারের মধ্যে সহমর্মিতা লিঙ্গ, পরিচয় বা রুচি নির্বিশেষে কতটা গুরুত্বপূর্ণ।
এনা সাহার পরিবারের ভাইফোঁটার গল্প একটি অনন্য উদাহরণ। এখানে আমরা দেখি কেবল ঐতিহ্য নয়, বরং বোনেদের মধ্যে ভালোবাসা, সমর্থন, বোনত্ব এবং পারস্পরিক সম্মান কীভাবে উদযাপিত হয়। একজন তুতো বোনের লিঙ্গ পরিচয় গ্রহণকে সমর্থন, মজার নিয়মের মাধ্যমে দ্বন্দ্ব এড়ানো, একত্রে আনন্দ ভাগাভাগি করা—এই সব মিলিয়ে ভাইফোঁটার দিনটি তাদের জন্য এক আনন্দময়, হৃদয়স্পর্শী ও স্মরণীয় উৎসবে পরিণত হয়।
এনারা এবং তাদের বোনেরা প্রমাণ করে যে পারিবারিক অনুষ্ঠান কেবল রীতিনীতি নয়, বরং এটি ভালোবাসা, ঐক্য, সহমর্মিতা এবং মানবিক গ্রহণযোগ্যতার একটি জীবন্ত উদাহরণ হতে পারে। তাদের গল্প আমাদের শেখায় যে পরিবারের মধ্যে সত্যিকারের সমর্থন এবং ভালোবাসা হলো সেই শক্তি, যা সবাইকে একত্রিত করে, সম্পর্ককে গভীর করে এবং জীবনের ছোট ছোট আনন্দকে আরও সমৃদ্ধ করে তোলে।