প্রশান্তের আকস্মিক মৃত্যুর পর তাঁর স্ত্রী গীতা প্রথমবারের মতো মুখ খুলে জানিয়েছেন যে তাঁর স্বামীর মৃত্যু সম্পূর্ণ স্বাভাবিক ছিল। দীর্ঘদিন ধরে চলা বিভিন্ন জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে গীতা স্পষ্ট করে বলেছেন যে প্রশান্ত কোনো অস্বাভাবিক পরিস্থিতিতে মারা যাননি। তিনি জানান, প্রশান্ত দীর্ঘদিন ধরে স্বাস্থ্যগত সমস্যায় ভুগছিলেন এবং চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী চলছিল তাঁর চিকিৎসা। গীতা তাঁর স্বামীকে শেষবারের মতো বিদায় জানাতে গিয়ে আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন। তিনি বলেন, প্রশান্ত ছিলেন একজন দায়িত্বশীল স্বামী এবং নিবেদিতপ্রাণ মানুষ। তাঁর অকাল প্রয়াণে পরিবার শোকের সাগরে ভাসছে। গীতা আরও জানান যে সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন গুজব এবং ভিত্তিহীন অভিযোগ তাঁদের পরিবারকে অতিরিক্ত মানসিক যন্ত্রণা দিয়েছে। তিনি অনুরোধ করেছেন সকলের কাছে যেন এই কঠিন সময়ে তাঁদের পরিবারকে শান্তিতে থাকতে দেওয়া হয়। প্রশান্তের শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়েছে পরিবার এবং ঘনিষ্ঠজনদের উপস্থিতিতে।
প্রশান্তের আকস্মিক মৃত্যুর খবর যখন প্রথম ছড়িয়ে পড়ে, তখন থেকেই বিভিন্ন মহলে জল্পনা-কল্পনার ঝড় ওঠে। সামাজিক মাধ্যমে নানা ধরনের গুজব এবং অনুমাননির্ভর তথ্য ছড়িয়ে পড়তে থাকে। কেউ বলেন এটি একটি সন্দেহজনক মৃত্যু, কেউ আবার বিভিন্ন ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হাজির করেন। এই সমস্ত গুজব এবং ভিত্তিহীন অভিযোগের মধ্যে প্রশান্তের পরিবার, বিশেষত তাঁর স্ত্রী গীতা নীরবে সহ্য করে যাচ্ছিলেন অসহনীয় মানসিক যন্ত্রণা। স্বামীর মৃত্যুর শোক সামলাতে না সামলাতেই এই সমস্ত অপপ্রচারের মুখোমুখি হতে হয়েছে তাঁকে।অবশেষে দীর্ঘ নীরবতা ভেঙে গীতা প্রথমবারের মতো গণমাধ্যমের সামনে এসে স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিয়েছেন যে তাঁর স্বামীর মৃত্যু সম্পূর্ণ স্বাভাবিক ছিল। তিনি জানান, প্রশান্ত দীর্ঘদিন ধরে হৃদরোগজনিত সমস্যায় ভুগছিলেন। চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী নিয়মিত ওষুধ সেবন এবং চিকিৎসা চলছিল। তবে হঠাৎ করেই তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে এবং একদিন ভোরবেলা তিনি বুকে তীব্র ব্যথা অনুভব করেন। পরিবারের সদস্যরা তৎক্ষণাৎ তাঁকে নিকটস্থ হাসপাতালে নিয়ে যান, কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত ডাক্তাররা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।গীতা তাঁর বক্তব্যে আবেগাপ্লুত হয়ে বলেন, প্রশান্ত ছিলেন তাঁর জীবনের সবকিছু। একসাথে কাটানো প্রতিটি মুহূর্ত ছিল অমূল্য। তিনি ছিলেন একজন আদর্শ স্বামী, দায়িত্বশীল পরিবারপ্রধান এবং সৎ মানুষ। পরিবারের প্রতি তাঁর মমতা এবং ভালোবাসা ছিল অসীম। সন্তানদের প্রতি তাঁর যত্ন এবং স্ত্রীর প্রতি তাঁর শ্রদ্ধা ছিল অনুকরণীয়। এমন একজন মানুষের হঠাৎ চলে যাওয়া পরিবারের জন্য অপূরণীয় ক্ষতি।গীতা জানান, প্রশান্তের মৃত্যুর পর থেকে সামাজিক মাধ্যমে যেসব গুজব ছড়িয়েছে তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন এবং অসত্য। কেউ কেউ এমনকি তাঁর চরিত্র নিয়ে কটাক্ষ করতেও দ্বিধা করেননি। এই সমস্ত অপপ্রচার তাঁকে এবং তাঁর পরিবারকে দ্বিগুণ কষ্ট দিয়েছে। শুধুমাত্র স্বামীকে হারানোর শোক নয়, এই সমস্ত ভিত্তিহীন অভিযোগ মোকাবেলা করাও ছিল অত্যন্ত কষ্টকর। তিনি অনুরোধ করেন যে মানুষ যেন বিনা যাচাই-বাছাই কোনো তথ্য বিশ্বাস না করে এবং ছড়িয়ে না দেয়। এতে শুধু পরিবারের মানসিক ক্ষতিই হয় না, মৃত ব্যক্তির স্মৃতিও কলঙ্কিত হয়।গীতা আরও জানান যে প্রশান্তের মৃত্যুর পর পুলিশ এবং চিকিৎসা বিভাগ সমস্ত প্রয়োজনীয় তদন্ত সম্পন্ন করেছে। পোস্টমর্টেম রিপোর্টে স্পষ্ট উল্লেখ রয়েছে যে তিনি হার্ট অ্যাটাকের কারণে মারা গেছেন। তাঁর শরীরে কোনো প্রকার বাহ্যিক আঘাত বা বিষক্রিয়ার চিহ্ন পাওয়া যায়নি। সমস্ত প্রমাণ এবং মেডিকেল রিপোর্ট একথাই প্রমাণ করে যে এটি একটি স্বাভাবিক মৃত্যু ছিল। তা সত্ত্বেও কিছু মানুষ নিজেদের মনগড়া গল্প তৈরি করে সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে দিয়েছে, যা অত্যন্ত দুঃখজনক।প্রশান্তকে শেষবারের মতো বিদায় জানানোর মুহূর্তটি ছিল অত্যন্ত আবেগময়। গীতা এবং পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা, আত্মীয়স্বজন এবং বন্ধুবান্ধবরা একত্রিত হয়েছিলেন তাঁকে শেষ শ্রদ্ধা জানাতে। গীতা সেই মুহূর্তের কথা স্মরণ করে বলেন, তিনি যখন শেষবারের মতো তাঁর স্বামীর মুখ দেখছিলেন, তখন মনে হচ্ছিল যেন তিনি শুধু ঘুমিয়ে আছেন, একটু পরেই হয়তো জেগে উঠবেন। কিন্তু বাস্তবতা ছিল নিষ্ঠুর। প্রশান্ত আর কখনো ফিরে আসবেন না।গীতা তাঁর বক্তব্যে প্রশান্তের সাথে কাটানো স্মৃতিগুলো ভাগ করে নেন। তিনি বলেন, প্রশান্ত ছিলেন একজন সরল এবং সহজ মানুষ। জীবনের ছোট ছোট বিষয়ে তিনি খুশি হতে পারতেন। পরিবারের সাথে সময় কাটানো ছিল তাঁর সবচেয়ে প্রিয় কাজ। সন্তানদের সাথে খেলা করা, তাদের পড়াশোনায় সাহায্য করা, স্ত্রীর সাথে আলাপ-আলোচনা করা এই সমস্ত ছোট ছোট মুহূর্তগুলোতেই তিনি খুঁজে পেতেন জীবনের প্রকৃত আনন্দ। তিনি কখনোই বাড়াবাড়ি বা অতিরিক্ত চাহিদার মানুষ ছিলেন না। যা আছে তাতেই সন্তুষ্ট থাকতেন এবং পরিবারকে সুখী রাখার চেষ্টা করতেন।প্রশান্তের পেশাগত জীবনেও তিনি ছিলেন নিষ্ঠাবান এবং সৎ। তাঁর সহকর্মীরা তাঁকে অত্যন্ত শ্রদ্ধা করতেন। তিনি কখনোই অন্যায় পথে হাঁটেননি এবং সবসময় সত্যের পক্ষে দাঁড়িয়েছেন। তাঁর এই গুণগুলো তাঁকে সকলের কাছে প্রিয় করে তুলেছিল। গীতা বলেন, প্রশান্তের মৃত্যুতে শুধু তাঁর পরিবার নয়, তাঁর বন্ধুবান্ধব, সহকর্মী এবং পরিচিতজনরাও গভীর শোকে মুহ্যমান।গীতা তাঁর বক্তব্যের শেষে সকলের কাছে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন যাঁরা এই কঠিন সময়ে তাঁদের পাশে দাঁড়িয়েছেন। তিনি বলেন, আত্মীয়স্বজন, বন্ধুবান্ধব এবং প্রতিবেশীদের সহানুভূতি এবং সমর্থন তাঁদের এই শোক সহ্য করার শক্তি যুগিয়েছে। একই সাথে তিনি অনুরোধ করেন যে মানুষ যেন তাঁদের পরিবারকে এখন শান্তিতে থাকতে দেয়। তাঁরা চান প্রশান্তের স্মৃতিকে মর্যাদার সাথে সংরক্ষণ করতে এবং তাঁর রেখে যাওয়া আদর্শ অনুসরণ করে জীবন যাপন করতে।গীতা আরও জানান যে প্রশান্তের মৃত্যুর পর তাঁদের পরিবার কিছু সামাজিক কাজে জড়িত হওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। প্রশান্তের স্মৃতিতে তাঁরা দরিদ্র এবং অসহায় মানুষদের সাহায্য করবেন। এটি ছিল প্রশান্তের একটি স্বপ্ন যা তিনি জীবদ্দশায় পূর্ণ করতে পারেননি। গীতা এবং তাঁর পরিবার সেই স্বপ্ন পূরণ করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তাঁরা বিশ্বাস করেন যে এভাবে প্রশান্তের আত্মা শান্তি পাবে এবং তাঁর স্মৃতি চিরকাল জীবিত থাকবে।প্রশান্তের মৃত্যু একটি পরিবারের জন্য অপূরণীয় ক্ষতি হলেও গীতার এই সাহসী পদক্ষেপ প্রমাণ করে যে তিনি একজন দৃঢ়চেতা নারী। সত্যের পক্ষে দাঁড়িয়ে তিনি সমস্ত গুজব এবং অপপ্রচারের জবাব দিয়েছেন। তাঁর এই বক্তব্য নিঃসন্দেহে অনেকের মনে সাহস জোগাবে যাঁরা অনুরূপ পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছেন বা হতে পারেন। গীতার এই আহ্বান যে মানুষ যেন বিনা যাচাই তথ্য ছড়ায় না, তা অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক এই ডিজিটাল যুগে যেখানে একটি ভুল তথ্য মুহূর্তের মধ্যে ছড়িয়ে পড়তে পারে এবং অপূরণীয় ক্ষতি করতে পারে।প্রশান্তের পরিবার এখন চেষ্টা করছে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসতে। শোক এবং বেদনা কখনোই সম্পূর্ণভাবে কাটিয়ে ওঠা সম্ভব নয়, কিন্তু জীবন তো থেমে থাকে না। গীতা এবং তাঁর পরিবারকে এগিয়ে যেতে হবে, প্রশান্তের স্মৃতি বুকে ধারণ করে। তাঁরা জানেন যে প্রশান্ত সবসময় তাঁদের সাথে আছেন, তাঁদের হৃদয়ে, তাঁদের স্মৃতিতে। এবং সেই বিশ্বাসই তাঁদের এগিয়ে চলার শক্তি জোগাবে। প্রশান্তের আত্মার শান্তি কামনা করে গীতা এবং তাঁর পরিবার নতুন করে জীবন শুরু করার প্রস্তুতি নিচ্ছে, যেখানে প্রশান্তের আদর্শ এবং মূল্যবোধ হবে তাঁদের পথপ্রদর্শক।প্রশান্তের মৃত্যু পরবর্তী গীতা, তার পরিবার এবং আত্মীয়দের একত্রিত হয়ে এক শোকসভা আয়োজন করা হয়েছিল, যেখানে আত্মীয়রা নিজেদের অনুভূতি প্রকাশ করেছিলেন। অনেকেই বলেছিলেন, প্রশান্ত ছিল একজন অসাধারণ মানুষ, যিনি তাদের জীবনে অনেক প্রভাব ফেলেছিলেন।গীতা তার স্বামীকে স্মরণ করে বলেন, "প্রশান্ত ছিল আমার জীবনের অমূল্য রত্ন। তার সঙ্গে আমি অনেক স্মৃতি তৈরি করেছি। তার সাথে কাটানো প্রতিটি মুহূর্ত আমার জীবনে চিরকাল থাকবে। আমি তাকে চিরকাল মনে রাখব, এবং তার স্মৃতিকে সম্মান জানাবো।"এদিকে, গীতা তার পরিবারকে ধৈর্য ধরার জন্য আহ্বান করেন। তিনি বলেন, "মৃত্যু আমাদের সকলের জন্য অমোঘ সত্য। তবে, এই শোকের সময়ও আমাদের একে অপরের পাশে থাকতে হবে। আমাদের শোককে শক্তিতে পরিণত করতে হবে এবং একে অপরকে সহায়তা করতে হবে।প্রশান্তের মৃত্যুর পর, গীতা তার জীবনকে নতুন করে দেখা শুরু করেছেন। তিনি মনে করেন যে, তার স্বামী প্রশান্ত তাকে শিখিয়ে গিয়েছেন যে, জীবনে কখনো হার মানা উচিত নয় এবং জীবনের প্রতিটি মুহূর্ত উপভোগ করতে হবে। তিনি তার জীবনের নতুন লক্ষ্য নিয়ে এগিয়ে যেতে চান, তবে তার স্বামীকে স্মরণ করে।প্রশান্তের মৃত্যু একটি বিশাল শূন্যতা সৃষ্টি করেছে গীতার জীবন এবং তার পরিবারে, কিন্তু গীতা দৃঢ়প্রতিজ্ঞ যে, তিনি এই শূন্যতাকে পূর্ণ করবেন এবং তার স্বামীর স্মৃতি ধরে রাখবেন।প্রশান্তের মৃত্যু নিয়ে গীতার ভাবনা এবং তার সাহসী মনোভাব তার পরিবার ও বন্ধুদের জন্য অনুপ্রেরণা হয়ে রইল। তাঁর মতো মহিলারা জীবনের কঠিন পরিস্থিতিতেও ধৈর্য, সাহস এবং শক্তি দিয়ে সবার সামনে এক নতুন উদাহরণ স্থাপন করেছেন।এই ঘটনা আমাদের শেখায় যে, জীবনের শেষ মুহূর্তে আমরা সবাই স্বাভাবিকভাবেই চলে যাব, কিন্তু আমাদের স্মৃতি, আমাদের কাজ এবং আমাদের প্রভাব আমাদের পরবর্তী প্রজন্মের জন্য একটি চিরকালীন অঙ্ক হিসেবে থাকবে।