Lenspedia Bangla Logo
  • কলকাতা
  • 30℃ Purba Bardhaman

হেয়ার এক্সটেনশন ৯০০ রকম রাসায়নিকে ক্যানসার ও বন্ধ্যাত্বের ঝুঁকি

চুলের বাহারি সাজে লুকিয়ে রয়েছে বিপদ কোমর ছাপানো ঘন ও লম্বা চুল পেতে হেয়ার এক্সটেনশন ব্যবহার করছেন অনেক কমবয়সি যা গবেষকের মতে স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

চুলের বাহারি সাজসজ্জা এখন আর শুধু ফ্যাশনের অংশ নয়, এটি আমাদের দৈনন্দিন জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় ট্রেন্ডিং রিল তৈরি থেকে শুরু করে ইউটিউব ভিডিওতে নিজেদের আরও আকর্ষণীয়ভাবে উপস্থাপন করতে আমরা অনেকেই চুল এবং ত্বকের উপর নানা ধরনের পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালাচ্ছি। তবে, চুলের বিভিন্ন সাজসজ্জা এবং স্টাইলিং পদ্ধতি, যেমন চুলের রঙ পরিবর্তন, হেয়ার স্ট্রেটনার বা হিট স্টাইলিং, এবং সম্প্রতি হেয়ার এক্সটেনশন—এসবের ব্যবহার এখন বেশ সাধারণ হয়ে উঠেছে।

বিশেষ করে, হেয়ার এক্সটেনশন পদ্ধতি এখন খুবই জনপ্রিয়। প্রায় সব ধরনের পার্টি, ফটোশুট, বা সোশ্যাল মিডিয়া কনটেন্টে এটি বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। এই পদ্ধতিতে চুলকে লম্বা, ঘন, বা ঢেউখেলানো ফোলা ভাব দিতে সাহায্য করা হয়। সেলিব্রিটিরাও প্রায়ই তাদের চুলে এই ধরনের এক্সটেনশন ব্যবহার করে থাকেন, যার কারণে তরুণ-তরুণীরা তাদের অনুকরণ করতে শুরু করেছেন। তবে, হেয়ার এক্সটেনশন যে কতটা বিপজ্জনক হতে পারে, তা অনেকেই জানেন না।

গবেষকরা জানাচ্ছেন, হেয়ার এক্সটেনশন পদ্ধতির মধ্যে ব্যবহৃত রাসায়নিক উপাদানগুলি চুলের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর হতে পারে। এই এক্সটেনশন পদ্ধতিতে ব্যবহৃত গ্লু, প্লাস্টিক, বা সিন্থেটিক সুতোর মতো উপকরণ চুলের গোড়ায় অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করতে পারে, যার ফলে চুলের গোঁড়া দুর্বল হয়ে পড়ে। দীর্ঘদিন এক্সটেনশন ব্যবহারের ফলে চুলের শিকড় দুর্বল হয়ে পড়ে, এবং চুল পড়ার সমস্যা বাড়তে থাকে। এমনকি, এই এক্সটেনশন পরার কারণে মাথার ত্বকেও নানা ধরনের সমস্যা দেখা দিতে পারে, যেমন চুলকানি, অ্যালার্জি, ইনফেকশন, এবং মাথার ত্বকে উন্মুক্ততা।

এছাড়া, হেয়ার এক্সটেনশনে ব্যবহৃত কিছু রাসায়নিক উপাদান, যেমন কেমিক্যাল গ্লু বা রঙ, চুলের স্ট্র্যান্ডে প্রবেশ করে এবং এগুলির দীর্ঘমেয়াদী ব্যবহার চুলের সঠিক বৃদ্ধি বাধাগ্রস্ত করতে পারে। চুলের কোষের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে এবং চুলের প্রাকৃতিক আর্দ্রতা ও পুষ্টি হারানোর জন্য দায়ী হতে পারে। এর ফলে চুলের বৃদ্ধি রোধ হতে পারে, এবং একসময় চুল হয়ে উঠতে পারে ভঙ্গুর এবং নিষ্প্রাণ।

কিন্তু শুধুমাত্র চুলের ক্ষতি নয়, এক্সটেনশন ব্যবহারের ফলে শরীরের অন্যান্য অংশেও বিপদ হতে পারে। হেয়ার এক্সটেনশনের জন্য ব্যবহৃত উপাদানগুলি এমন কিছু রাসায়নিক ধারণ করে যা শ্বাসের মাধ্যমে শরীরে প্রবেশ করতে পারে। এতে ফুসফুসের সমস্যা হতে পারে, বিশেষ করে যদি এক্সটেনশনে ব্যবহৃত কেমিক্যাল গ্যাস আকারে মুক্ত হয়। এছাড়া, বেশ কিছু কেমিক্যাল এমনভাবে তৈরি করা হয় যে তা শরীরের হরমোনাল ব্যালান্সের ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে, যা স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক হতে পারে। এর ফলে, বন্ধ্যাত্বের মতো জটিল সমস্যা তৈরি হতে পারে, বিশেষ করে যদি শরীরের মধ্যে রাসায়নিক উপাদানগুলি দীর্ঘমেয়াদী প্রবাহিত হতে থাকে।

হেয়ার এক্সটেনশনের মাধ্যমে চুলকে লম্বা বা ঘন দেখানোর পাশাপাশি, এতে শরীরের অন্যান্য সমস্যা দেখা দিতে পারে, যেমন মাথার ত্বকে আর্দ্রতার অভাব, সোরিয়াসিস বা একজিমা জাতীয় ত্বকের সমস্যা, এবং অতিরিক্ত রক্তপ্রবাহের কারণে মাথাব্যথা বা মাইগ্রেনের সমস্যা। চুলের স্টাইলিংয়ে ব্যবহৃত তাপমাত্রাও অতিরিক্ত হলে তা মাথার ত্বক এবং চুলের ক্ষতি করতে পারে, যা পরবর্তী সময়ে চুলের দুর্বলতা ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্য কমিয়ে দেয়।

তবে, এতে শুধু তরুণ প্রজন্ম নয়, মধ্যবয়সিরাও এই বিপজ্জনক পদ্ধতিতে মগ্ন হয়ে পড়ছেন। অনেকে স্বাস্থ্যের গুরুত্ব না বুঝে শুধুমাত্র বাহ্যিক সৌন্দর্যের দিকে মনোযোগ দিচ্ছেন, যা তাদের চুলের পক্ষে ক্ষতিকর হয়ে উঠছে। তারা প্রায়ই সোশ্যাল মিডিয়ায় ট্রেন্ডিং ছবি, ভিডিও, বা প্রোফাইল পিকচারে নিজেকে আকর্ষণীয়ভাবে উপস্থাপন করতে চান এবং এজন্য চুলের বাহারি সাজে মগ্ন হয়ে পড়েন। কিন্তু তারা অনেকেই জানেন না, এসব কৃত্রিম পদ্ধতির ব্যবহারে চুলের স্বাস্থ্যের অপূরণীয় ক্ষতি হতে পারে।

তবে, স্বাস্থ্যকর ও প্রাকৃতিক উপায়ে চুলের যত্ন নেওয়া বেশি কার্যকর। যদি চুলের দীর্ঘস্থায়ী সৌন্দর্য ও স্বাস্থ্যের কথা ভাবতে চান, তবে প্রাকৃতিক তেল, মাস্ক, এবং তাজা উপকরণের মাধ্যমে চুলের পরিচর্যা করা উচিত। আর যদি এক্সটেনশন ব্যবহার করতেই হয়, তবে তা কম সময়ের জন্য এবং সঠিকভাবে যত্ন নিয়ে ব্যবহার করা উচিত। চুলের উপরে অতিরিক্ত চাপ না দিয়ে, তার পুষ্টি ও স্বাস্থ্য বজায় রাখতে হবে।

এছাড়া, চুলের প্রকৃত স্বাস্থ্য সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি করতে সমাজে আরও প্রচার চালানো উচিত। এক্সটেনশন বা কৃত্রিম স্টাইলিং পদ্ধতিগুলির বিপদের ব্যাপারে তরুণ প্রজন্মের মধ্যে সচেতনতা গড়ে তুলতে হবে, যাতে তারা এসব কৃত্রিম পদ্ধতির দিকে আকৃষ্ট না হয়ে, নিজের চুলের প্রকৃত সৌন্দর্য বজায় রাখতে পারে।

news image
আরও খবর

সর্বোপরি, চুলের জন্য প্রাকৃতিক এবং নিরাপদ উপায়ই সবচেয়ে ভাল। যেকোনো কৃত্রিম পদ্ধতিতে লুকানো বিপদ সম্পর্কে জানা এবং সচেতন হওয়া, আমাদের সকলের জন্য অত্যন্ত জরুরি, যাতে আমাদের চুল ও শারীরিক স্বাস্থ্য নিরাপদে থাকে।

হেয়ার এক্সটেনশন একটি কৃত্রিম পদ্ধতি যা চুলের দৈর্ঘ্য বা ঘনত্ব বেশি দেখানোর জন্য ব্যবহৃত হয়। এতে নকল চুল আঠা, ক্লিপ বা অন্যান্য পদ্ধতির মাধ্যমে নিজের চুলের সঙ্গে যুক্ত করা হয়। অনেক সময়, আঠালো টেপের মাধ্যমে নকল চুল এমনভাবে মাথায় জুড়ে দেওয়া হয়, যা দেখতে অবিকল আসল চুলের মতোই লাগে। এর ফলে, চুল ঘন বা লম্বা দেখায়, যা অনেকের কাছে আকর্ষণীয় হয়ে ওঠে।

তবে, এই এক্সটেনশন ব্যবহারে বিভিন্ন রাসায়নিক উপাদানও ব্যবহৃত হয়, যার মধ্যে রয়েছে কৃত্রিম চুল বা নকল চুলের জন্য ব্যবহৃত কেমিক্যাল গ্লু এবং আঠা। অনেক সময়, পাতলা চুল ঘন দেখাতে প্রাকৃতিক চুলের মাঝে নকল চুল বসিয়ে দেওয়া হয় নানা রকম রাসায়নিক ব্যবহার করে। এই এক্সটেনশন পদ্ধতি দুটি ধরণের হতে পারে—স্থায়ী এবং অস্থায়ী। কিছু মানুষ কয়েক দিনের জন্য এক্সটেনশন ব্যবহার করেন, আবার কিছু মানুষ মাসের পর মাস এই পদ্ধতি ব্যবহার করে থাকেন। তবে, রাসায়নিক উপাদানগুলির দীর্ঘমেয়াদী ব্যবহার চুলের জন্য বিপজ্জনক হতে পারে।

গবেষকরা জানাচ্ছেন, এই এক্সটেনশন পদ্ধতিতে ব্যবহৃত রাসায়নিক উপাদানগুলি চুলের স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক হতে পারে। যেমন, নকল চুলে ব্যবহৃত গ্লু, প্লাস্টিক এবং অন্যান্য কৃত্রিম উপকরণগুলি চুলের গোড়ায় অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করে, যার ফলে চুলের শিকড় দুর্বল হয়ে যেতে পারে। দীর্ঘমেয়াদী ব্যবহারে, এই চাপের ফলে চুল পড়া, শিকড়ের সমস্যা, এবং মাথার ত্বকে ইনফেকশন হতে পারে।

এই এক্সটেনশনগুলি সঠিকভাবে যত্ন না নিলে চুলের স্বাস্থ্য বিপর্যস্ত হতে পারে। চুলের প্রাকৃতিক তেল ও পুষ্টি হারিয়ে যেতে পারে, যার ফলে চুল ভঙ্গুর হয়ে পড়তে পারে এবং বৃদ্ধি বন্ধ হয়ে যেতে পারে। চুলের এই ধরনের কৃত্রিম সাজসজ্জা করার সময় বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ অনুযায়ী কাজ না করলে, শীঘ্রই চুলের স্বাস্থ্য বিপদের সম্মুখীন হতে পারে।

সুতরাং, হেয়ার এক্সটেনশন ব্যবহারের আগে আমাদের চুলের প্রকৃত স্বাস্থ্যের দিকে মনোযোগ দেওয়ার পাশাপাশি সচেতন হতে হবে, যাতে কোনও ধরনের রাসায়নিকের কারণে দীর্ঘমেয়াদী ক্ষতি না হয়।

আমেরিকান কেমিক্যাল সোসাইটি জার্নাল’-এ প্রকাশিত এক গবেষণাপত্রে হেয়ার এক্সটেনশনে ব্যবহৃত রাসায়নিক উপাদানগুলির বিপদ সম্পর্কে সতর্ক করা হয়েছে। গবেষণায় বলা হয়েছে, এক্সটেনশন পণ্যে ব্যবহৃত রাসায়নিক পদার্থগুলি ক্যানসারের ঝুঁকি বৃদ্ধি করতে পারে। গবেষকেরা ৪৩ ধরনের এক্সটেনশন পণ্য পরীক্ষা করে খুঁজে পেয়েছেন প্রায় ৯০০ রকম ক্ষতিকর রাসায়নিক, যা শরীরের ভিতরে প্রবাহিত হলে শুধু ক্যানসারই নয়, বরং হরমোনের ভারসাম্যহীনতা ঘটিয়ে বন্ধ্যাত্বের কারণও হতে পারে। এই রাসায়নিকগুলো দীর্ঘমেয়াদী ব্যবহারের ফলে শরীরের স্বাভাবিক কার্যকলাপকে মারাত্মকভাবে প্রভাবিত করতে পারে, যার ফলস্বরূপ নানা ধরনের স্বাস্থ্য সমস্যা দেখা দিতে পারে।

হেয়ার এক্সটেনশন করানোর পরে সেটি দীর্ঘস্থায়ী ও আকর্ষণীয় রাখতে সাধারণত তার উপর নানা ধরনের হেয়ার ডাই, কন্ডিশনার এবং অন্যান্য কেমিক্যাল পণ্য ব্যবহার করা হয়। তবে, এসব পণ্যের ব্যবহারে চুলের স্বাভাবিক কেরাটিন (প্রাকৃতিক প্রোটিন) নষ্ট হয়ে যেতে পারে। কেরাটিন চুলের শক্তি ও প্রাকৃতিক স্বাস্থ্য বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এসব রাসায়নিক পদার্থ চুলের স্বাভাবিক গঠনকে ক্ষতিগ্রস্ত করে, ফলে চুল becomes ভঙ্গুর, নিষ্প্রাণ এবং শুষ্ক হয়ে পড়ে। দীর্ঘমেয়াদী ব্যবহারে চুলের ক্ষতি আরও বাড়তে পারে।

Preview image