তামিলনাড়ু,কোয়েম্বাটুর শহরের গতকাল গভীর রাতে জাতীয় সড়কে ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। একটি প্রাইভেট গাড়ি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ট্রাকের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়ালে ঘটনাস্থলেই চারজন এবং হাসপাতালে আরও একজন মারা যান। পুলিশ জানিয়েছে অতিরিক্ত গতিই দুর্ঘটনার কারণ। নিহতদের মধ্যে তিনজন তরুণ-তরুণী ছিলেন। শহর জুড়ে শোকের ছায়া নেমেছে এবং মোমবাতি প্রজ্বলন করে স্মরণসভার আয়োজন করা হয়েছে। প্রশাসন আহতদের চিকিৎসা ব্যয় বহনের ঘোষণা দিয়েছে।
কোয়েম্বাটুর শহরের জাতীয় সড়কে এক ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনা ঘটে যা পুরো শহরকে শোকের সাগরে ভাসিয়ে দিয়েছে। একটি প্রাইভেট গাড়ি হঠাৎ নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে প্রচণ্ড গতিতে সামনে চলা ট্রাকের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। সংঘর্ষ এতটাই তীব্র এবং প্রবল ছিল যে গাড়িটি মুহূর্তের মধ্যেই সম্পূর্ণভাবে দুমড়ে-মুচড়ে যায় এবং ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়। ঘটনাস্থলেই চারজন যাত্রীর মৃত্যু হয় এবং গুরুতর আহত অবস্থায় দ্রুত হাসপাতালে নেওয়ার পর আরও একজন চিকিৎসাধীন অবস্থায় প্রাণ হারান। এভাবে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় মোট পাঁচজন মূল্যবান প্রাণ ঝরে যায়।ঘটনাস্থলে পৌঁছানো পুলিশ কর্মকর্তা সাংবাদিকদের জানান যে প্রাথমিক তদন্তে তারা মনে করছেন অতিরিক্ত গতিতে গাড়ি চালানোর কারণেই এই ভয়াবহ দুর্ঘটনাটি ঘটেছে। তিনি আরও বলেন যে ফরেনসিক বিশেষজ্ঞদের রিপোর্ট আসার পর দুর্ঘটনার সম্পূর্ণ কারণ এবং বিস্তারিত তথ্য জানা যাবে। নিহতদের মধ্যে তিনজন ছিলেন তরুণ-তরুণী যাদের সমস্ত জীবন এখনও সামনে পড়ে ছিল এবং যাদের আকস্মিক মৃত্যুতে তাদের পরিচিত মহলে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। নিহতদের পরিবার এবং বন্ধুবান্ধবরা বলছেন যে এটি কেবলমাত্র একটি সাধারণ দুর্ঘটনা নয়, বরং এক গভীর এবং আত্মিক ক্ষতি যা কোয়েম্বাটুর শহরের প্রতিটি হৃদয়কে কাঁপিয়ে দিয়েছে এবং সবাইকে শোকাহত করেছে।ঘটনাস্থলে উপস্থিত প্রতিবেদক জানান যে দুর্ঘটনার স্থানটি এখনও সম্পূর্ণভাবে কর্দমাক্ত এবং বিধ্বস্ত অবস্থায় রয়েছে। চারপাশে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে ক্ষতবিক্ষত গাড়ির টুকরো এবং ধ্বংসাবশেষ যা দেখলে বোঝা যায় দুর্ঘটনা কতটা ভয়াবহ ছিল। স্থানীয় বাসিন্দারা জানাচ্ছেন যে এই জাতীয় সড়কে প্রায়শই ছোটখাটো দুর্ঘটনা ঘটে থাকে, কিন্তু এত মর্মান্তিক এবং বেদনাদায়ক দৃশ্য তারা অনেক দিন পর প্রত্যক্ষ করলেন। আজ পুরো কোয়েম্বাটুর শহর জুড়ে একটি গভীর শোকের আবহ বিরাজ করছে এবং সবাই নিহতদের আত্মার শান্তি কামনা করছে।দুর্ঘটনার পর থেকেই কোয়েম্বাটুর শহরের বিভিন্ন এলাকায় নিহতদের স্মরণে মোমবাতি প্রজ্বলন এবং প্রার্থনা সভার আয়োজন করা হয়েছে। মানুষ একত্রিত হয়ে তাদের প্রিয়জনদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাচ্ছে এবং এই অকাল মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও দ্রুত ছড়িয়ে পড়েছে শোকবার্তা এবং সমবেদনার বার্তা। মানুষ লিখছে যে জীবন কতটা ক্ষণস্থায়ী এবং অনিশ্চিত এবং তারা নিহতদের জন্য হৃদয় থেকে প্রার্থনা জানাচ্ছে।এদিকে পুলিশ প্রশাসন দুর্ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে এবং সব ধরনের প্রমাণ সংগ্রহ করছে। স্থানীয় প্রশাসন আহতদের সম্পূর্ণ চিকিৎসার ব্যয়ভার বহন করার ঘোষণা দিয়েছে এবং নিহতদের পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর আশ্বাস দিয়েছে। কোয়েম্বাটুর শহর আজ গভীরভাবে শোকাহত এবং এই বেদনাদায়ক ঘটনা সবাইকে মনে করিয়ে দিচ্ছে যে সড়কে মাত্র এক মুহূর্তের অসাবধানতা বা অতিরিক্ত গতি একসঙ্গে একাধিক মূল্যবান জীবন কেড়ে নিতে পারে এবং অসংখ্য পরিবারকে চিরকালের জন্য ধ্বংস করে দিতে পারে।