নেপালে ভয়াবহ হড়পা বান বিপর্যয়ের এক মাস পরও বহু মানুষ নিখোঁজ। সরকারি হিসাবে ১৪৫১টি দেহ উদ্ধার হয়েছে। পশ্চিমবঙ্গের ৩৭ জনেরও এখনও খোঁজ নেই, তাঁদের মধ্যে ৩২ জন ‘চলো যাই’ পর্যটন সংস্থার সঙ্গে নেপালে গিয়েছিলেন।
নেপালের ভয়াবহ হড়পা বান বিপর্যয়ের এক মাস পেরিয়ে গেলেও স্বাভাবিক হয়নি পরিস্থিতি। ২৬ অগস্টের ভয়াবহ ভোতে কোশি নদীর বন্যা উত্তর ও মধ্য নেপালের বিস্তীর্ণ এলাকায় যে ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়েছে, তার ক্ষত এখনও স্পষ্ট। ঘরবাড়ি, রাস্তা, সেতু, যানবাহন এবং জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের পাশাপাশি বিপুল সংখ্যক মানুষের জীবনও বিপর্যস্ত হয়েছে। সবচেয়ে বড় উদ্বেগের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে নিখোঁজ মানুষের সংখ্যা এবং তাঁদের পরিবারের অপেক্ষা।
নেপাল সরকারের ন্যাশনাল ডিজ়াস্টার রিস্ক রিডাকশন অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট অথরিটি বা NDRRMA-র সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, বিপর্যয়ের পর ১,৪৫১টি দেহ উদ্ধার বা শনাক্তকরণ প্রক্রিয়ায় এসেছে এবং হাজার হাজার মানুষ এখনও নিখোঁজ হিসেবে নথিভুক্ত রয়েছেন। ২০ সেপ্টেম্বরের সরকারি আপডেটে নিখোঁজের সংখ্যা ছিল ৫,৭৮৬। একই সময়ে ১৩,৭৮৪ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে বলে নেপাল সরকারের আপডেটে জানানো হয়।
এই পরিসংখ্যানই বোঝাচ্ছে, বিপর্যয়ের এক মাস পরও অনুসন্ধান ও উদ্ধার অভিযান শেষ হয়নি। বরং দুর্গম পাহাড়ি এলাকা, কাদামাটি, ধ্বংসস্তূপ এবং ক্ষতিগ্রস্ত যোগাযোগ ব্যবস্থা উদ্ধারকাজকে আরও কঠিন করে তুলেছে।
নেপালের এই বিপর্যয়ের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে পশ্চিমবঙ্গের বহু পরিবারের উদ্বেগও। আপনার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, পশ্চিমবঙ্গের ৩৭ জন এখনও নিখোঁজ। তাঁদের মধ্যে ৩২ জন নেপালে গিয়েছিলেন ‘চলো যাই’ নামে একটি পর্যটন সংস্থার সঙ্গে।
এই ৩২ জনের মধ্যে ছিলেন প্রয়াত তৃণমূল নেতা মুকুল রায়ের পুত্রবধূ শর্মিষ্ঠাও। পর্যটন সংস্থার কর্ণধার দিব্যজ্যোতি বসুর বক্তব্য অনুযায়ী, ওই দলের ৩২ জনের কেউ এখনও ফিরে আসেননি। তাঁদের পরিবারের কাছ থেকে DNA নমুনা সংগ্রহ করে নেপাল সরকারের কাছে পাঠানো হয়েছে।
নিখোঁজ ব্যক্তিদের পরিচয় নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে DNA পরীক্ষা এখন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। কারণ উদ্ধার হওয়া বহু দেহের পরিচয় এখনও নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি। নেপালের সরকারি ব্যবস্থাপনায় মৃতদেহ সংরক্ষণ, নমুনা সংগ্রহ এবং পরিবারের সঙ্গে মিলিয়ে পরিচয় শনাক্ত করার কাজ চলছে।
নেপালের বিদেশ মন্ত্রকের আগের একটি সরকারি আপডেটেও জানানো হয়েছিল, মৃতদেহ শনাক্তকরণ ত্বরান্বিত করতে ভারত, চিন, সিঙ্গাপুর এবং দক্ষিণ কোরিয়ার ফরেনসিক বিশেষজ্ঞরা নেপালি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কাজ করছেন।
২৬ অগস্ট নেপালের হিমালয় সংলগ্ন এলাকায় ভয়াবহ বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হয়। ভোতে কোশি নদী ও তার সঙ্গে যুক্ত নদী ব্যবস্থায় হঠাৎ বিপুল জলপ্রবাহ দেখা দেয়। এর প্রভাব পড়ে রসুয়া, নুয়াকোট, ধাডিং-সহ একাধিক এলাকায়।
নেপাল সরকারের বিদেশ মন্ত্রকের পরিস্থিতি বিবরণীতে বলা হয়েছিল, বন্যায় বাড়িঘর, রাস্তা, সেতু, জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ পরিকাঠামো ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
হিমালয়ের পাহাড়ি ভূপ্রকৃতির কারণে নদীর জল দ্রুত নিচের দিকে নেমে আসে। তার সঙ্গে মাটি, পাথর, গাছপালা ও অন্যান্য ধ্বংসাবশেষ মিশে তৈরি হয় ভয়াবহ স্রোত। বহু জায়গায় মানুষকে সতর্ক হওয়ার সুযোগও খুব কম ছিল।
এই ধরনের আকস্মিক বন্যার অন্যতম বড় বৈশিষ্ট্য হল এর গতি এবং ধ্বংসক্ষমতা। কয়েক মিনিটের মধ্যে নদীর চরিত্র বদলে যেতে পারে। যে নদী স্বাভাবিক সময়ে অপেক্ষাকৃত শান্ত, প্রবল বর্ষণ বা হিমবাহ-সংক্রান্ত ঘটনার পরে সেটিই বিপজ্জনক স্রোতে পরিণত হতে পারে।
বন্যার স্রোতে নেপালের একাধিক এলাকায় রাস্তা এবং সেতু ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এর ফলে উদ্ধারকারী দলগুলির পক্ষে দুর্গম এলাকায় পৌঁছনো কঠিন হয়ে পড়ে।
যেসব এলাকায় সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়, সেখানে হেলিকপ্টার ব্যবহার করে উদ্ধারকাজ চালাতে হয়। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, বিপর্যয়ের পর হাজার হাজার মানুষকে বিভিন্ন উপায়ে উদ্ধার করা হয়েছে। ২০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত উদ্ধার হওয়া মানুষেরসংখ্যা ১৩,৭৮৪ বলে নেপাল সরকারের আপডেটে উল্লেখ করা হয়েছে।
তবে উদ্ধার হওয়া মানুষের সংখ্যা বাড়লেও নিখোঁজদের সংখ্যা এখনও উদ্বেগজনক। অনেক ক্ষেত্রে পরিবারের সদস্যরা জানেন না তাঁদের প্রিয়জন কোথায় রয়েছেন। আবার উদ্ধার হওয়া দেহগুলির পরিচয় নিশ্চিত না হওয়ায় বহু পরিবারের অপেক্ষা আরও দীর্ঘ হচ্ছে।
এই বিপর্যয়ের পরে মৃতদেহ শনাক্তকরণ নেপাল প্রশাসনের সামনে অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। দুর্গম এলাকায় উদ্ধার হওয়া দেহের অনেকগুলিই দ্রুত শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি।
এই পরিস্থিতিতে DNA নমুনা সংগ্রহ করা হচ্ছে। নিখোঁজ ব্যক্তিদের পরিবারের সদস্যদের DNA নমুনা সংগ্রহ করে উদ্ধার হওয়া দেহের নমুনার সঙ্গে মিলিয়ে পরিচয় নিশ্চিত করার চেষ্টা চলছে।
নেপালের বিদেশ মন্ত্রক জানিয়েছিল, বিদেশি নাগরিকদের ক্ষেত্রেও DNA প্রোফাইল তৈরির ব্যবস্থা করা হচ্ছে এবং সংশ্লিষ্ট দেশের কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ রাখা হচ্ছে।
পশ্চিমবঙ্গের নিখোঁজ পর্যটকদের পরিবারগুলির ক্ষেত্রেও এই প্রক্রিয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ প্রত্যেক পরিবারই জানতে চাইছে, তাঁদের প্রিয়জন কোথায় রয়েছেন এবং তাঁদের পরিণতি কী হয়েছে।
নেপালের সরকারি তথ্য অনুযায়ী, নিখোঁজদের মধ্যে বিদেশি বিভিন্ন দেশের দূতাবাস এবং নেপাল সরকারের মধ্যে যোগাযোগ বাড়ানো হয়েছে। নিখোঁজ বিদেশিদের পরিচয় নিশ্চিত করা এবং তাঁদের পরিবারের সঙ্গে তথ্য ভাগ করে নেওয়ার ক্ষেত্র নাগরিকও রয়েছেন। ২০ সেপ্টেম্বরের আপডেটে বিদেশি নাগরিকদের একটি পৃথক সংখ্যা উল্লেখ করা হয়েছিল।
নেপাল আন্তর্জাতিক পর্যটনের জন্য অত্যন্ত জনপ্রিয় একটি দেশ। প্রতি বছর বহু পর্যটক হিমালয়, ট্রেকিং রুট এবং বিভিন্ন পর্যটনকেন্দ্রে যান। ফলে প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় বিদেশি পর্যটকদের অবস্থান সম্পর্কে দ্রুত তথ্য পাওয়া অনেক ক্ষেত্রেই কঠিন হয়ে পড়ে।
এই বিপর্যয়ের পর বিভিন্ন দেশের দূতাবাস এবং নেপাল সরকারের মধ্যে যোগাযোগ বাড়ানো হয়েছে। নিখোঁজ বিদেশিদের পরিচয় নিশ্চিত করা এবং তাঁদের পরিবারের সঙ্গে তথ্য ভাগ করে নেওয়ার ক্ষেত্রেও কূটনৈতিক যোগাযোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।
বন্যার ভয়াবহতার মধ্যেও নেপালের উদ্ধারকারী বাহিনী ব্যাপক অভিযান চালিয়েছে। নেপালি সেনা, নেপাল পুলিশ, আর্মড পুলিশ ফোর্স এবং স্থানীয় প্রশাসনের কর্মীরা উদ্ধারকাজে অংশ নেন।
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ২০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ১৩,৭৮৪ জনকে উদ্ধার করা হয়েছিল। একই সময়ে ১,৪৫১টি দেহ উদ্ধার বা ব্যবস্থাপনার আওতায় এসেছে।
এই উদ্ধার অভিযান সহজ ছিল না। অনেক জায়গায় কাদা ও ধ্বংসাবশেষ জমে যাওয়ায় রাস্তা দিয়ে যাতায়াত বন্ধ হয়ে যায়। কোথাও সেতু ভেঙে পড়ে, কোথাও আবার নদীর গতুয়াকোট এবং ধাডিংয়ের মতো ক্ষতিগ্রস্ত জেলাগুলিতে আশ্রয়কেন্দ্রের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি সময়িপথের পরিবর্তনের কারণে পুরনো রাস্তা ব্যবহার করা সম্ভব হয়নি।
ফলে উদ্ধারকারী দলকে কখনও হেলিকপ্টার, কখনও বিশেষ সরঞ্জাম এবং কখনও স্থানীয় মানুষের সহযোগিতার উপর নির্ভর করতে হয়েছে।
বন্যার কারণে ঘরবাড়ি হারানো বা নিরাপত্তার কারণে বাড়ি ছেড়ে আসা মানুষদের একটি অংশকে বিভিন্ন ত্রাণ ও অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্রে রাখা হয়েছে।
নেপাল সরকারের বিভিন্ন আপডেটে রসুয়া, নুয়াকোট এবং ধাডিংয়ের মতো ক্ষতিগ্রস্ত জেলাগুলিতে আশ্রয়কেন্দ্রের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি সময়েও বহু মানুষ এই ধরনের কেন্দ্রে অবস্থান করছিলেন।
শুধু উদ্ধার করাই শেষ কাজ নয়। উদ্ধার হওয়া মানুষের জন্য খাবার, পানীয় জল, চিকিৎসা, অস্থায়ী বাসস্থান এবং যোগাযোগ ব্যবস্থা পুনরুদ্ধার করাও সমান গুরুত্বপূর্ণ।
নেপালের অর্থনীতি ও বিদ্যুৎ ব্যবস্থায় জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। ফলে বন্যার স্রোতে জলবিদ্যুৎ প্রকার রিডাকশন সেন্টারের তথ্যেও ২৬ অগস্টের ঘটনাকে নেপালের হিমালয় সীমান্ত এবং সংলগ্ন তিব্বত অঞ্চলের ভয়াবহ flash flood হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। ল্পগুলির ক্ষতি হওয়া পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।
সরকারি পরিস্থিতি বিবরণীতে রাস্তা ও সেতুর পাশাপাশি জলবিদ্যুৎ প্রকল্পগুলির ক্ষতির কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।
কিছু জায়গায় শ্রমিকেরা প্রকল্পের সুড়ঙ্গে আটকে পড়েছিলেন। উদ্ধারকারী দলকে সেই এলাকাগুলিতেও অভিযান চালাতে হয়েছে। দুর্গম ভূপ্রকৃতি এবং কাদা-ধ্বংসাবশেষের কারণে এই উদ্ধার অভিযান ছিল অত্যন্ত কঠিন।
২৬ অগস্টের বিপর্যয় শুধু নেপালের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না। হিমালয় সংলগ্ন সীমান্ত অঞ্চলে এই দুর্যোগের প্রভাব পড়ে। নেপাল-তিব্বত সীমান্তের কাছে নদী ব্যবস্থায় আকস্মিক জলপ্রবাহ তৈরি হওয়ার পর তার প্রভাব নিচের দিকে বিস্তৃত হয়।
এশিয়ান ডিজ়াস্টার রিডাকশন সেন্টারের তথ্যেও ২৬ অগস্টের ঘটনাকে নেপালের হিমালয় সীমান্ত এবং সংলগ্ন তিব্বত অঞ্চলের ভয়াবহ flash flood হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
এই ধরনের আন্তঃসীমান্ত নদী ব্যবস্থায় একটি অঞ্চলের ঘটনা অন্য অঞ্চলের উপর দ্রুত প্রভাব ফেলতে পারে। ফলে ভবিষ্যতে আগাম সতর্কীকরণ ব্যবস্থা এবং সীমান্তবর্তী অঞ্চলের মধ্যে তথ্য বিনিময় আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
এক মাস পেরিয়ে যাওয়ার বদলাচ্ছে। সেপ্টেম্বরের বিভিন্ন দিনে মৃত ও নিখোঁজের সংখ্যাতেও পরিবর্তন দেখা গেছে। ১০ সেপ্টেম্বরের সরকারি আপডেটে ১,৩৭৭ জনের মৃত্যুর পরও নিখোঁজদের সন্ধান চালিয়ে যাচ্ছে নেপাল প্রশাসন। সময় যত যাচ্ছে, ততই উদ্ধারকাজের ধরন বদলাচ্ছে। প্রথম দিকে যেখানে মূল লক্ষ্য ছিল জীবিতদের দ্রুত উদ্ধার করা, এখন সেখানে মৃতদেহের সন্ধান, পরিচয় শনাক্তকরণ এবং নিখোঁজদের তথ্য যাচাইও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
নেপালের সরকারি তথ্য নিয়মিত বদলাচ্ছে। সেপ্টেম্বরের বিভিন্ন দিনে মৃত ও নিখোঁজের সংখ্যাতেও পরিবর্তন দেখা গেছে। ১০ সেপ্টেম্বরের সরকারি আপডেটে ১,৩৭৭ জনের মৃত্যুর তথ্য এবং ৫,১৩০ জন নিখোঁজ থাকার কথা জানানো হয়েছিল।
১২ সেপ্টেম্বরের Kathmandu Post রিপোর্টে NDRRMA-র তথ্য উদ্ধৃত করে ১,৩৮৬টি দেহ উদ্ধারের কথা বলা হয়েছিল। সেই সময় নিখোঁজের সংখ্যা ছিল ৫,১৩০।
এর পরবর্তী সরকারি আপডেটগুলিতে উদ্ধার হওয়া দেহ এবং নিখোঁজের সংখ্যা আরও পরিবর্তিত হয়েছে। ফলে এই ধরনের বিপর্যয়ের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট একটি সংখ্যাকে স্থির হিসেবে না দেখে তারদের কাছে দেহ ফিরিয়ে দেওয়ার প্রক্রিয়াও শুরু করতে হবে। তার আগে প্রয়োজন ফরেনিখ-সহ সরকারি আপডেট দেখা গুরুত্বপূর্ণ।
নিখোঁজদের পরিবারগুলির কাছে প্রতিটি দিনই উদ্বেগের। কেউ অপেক্ষা করছেন প্রিয়জন জীবিত অবস্থায় ফিরে আসবেন বলে, কেউ আবার DNA পরীক্ষার মাধ্যমে অন্তত পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার অপেক্ষায় রয়েছেন।
পশ্চিমবঙ্গের যে পরিবারগুলির সদস্যরা নেপালে গিয়ে আর ফেরেননি, তাঁদের ক্ষেত্রেও পরিস্থিতি অত্যন্ত কঠিন। পর্যটন সংস্থার সঙ্গে যাওয়া ৩২ জনের DNA নমুনা নেপাল সরকারের কাছে পাঠানো হয়েছে বলে সংস্থার কর্ণধার জানিয়েছেন।
পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পরে পরিবারের সদস্যদের কাছে দেহ ফিরিয়ে দেওয়ার প্রক্রিয়াও শুরু করতে হবে। তার আগে প্রয়োজন ফরেনসিক পরীক্ষা এবং সরকারি নথিপত্রের সমন্বয়।
প্রাকৃতিক দুর্যোগের পর প্রথম ধাপ উদ্ধার ও ত্রাণ। কিন্তু তার পরে শুরু হয় পুনর্গঠনের দীর্ঘ প্রক্রিয়া। রাস্তা, সেতু, বিদ্যুৎ, যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং বাড়িঘর পুনর্নির্মাণে সময় লাগে।
নেপাল সরকারের পরিস্থিতি বিবরণীতে ক্ষতিগ্রস্ত পরিকাঠামো পুনরুদ্ধারের কাজের কথাও বলা হয়েছে।
বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত পাহাড়ি অঞ্চলে পুনর্গঠন আরও জটিল হতে পারে। কারণ নতুন রাস্তা বা সেতু নির্মাণের পাশাপাশি ভবিষ্যতে একই ধরনের বিপর্যন, অতিবৃষ্টি এবং পাহাড়ি ভূপ্রকৃতির মতো বিভিন্ন কারণ এই ধরনের দুর্যোগের ঝুঁকি বাড়াতে পারে—যদিও কোনও নির্দিষ্ট ঘটাপাশি পর্যটকদের জন্যও জরুরি তথ্যব্যবস্থা থাকা প্রয়োজন। দুর্গম এলাকায় যাঁরা ভ্রমণ করেন, তাঁদের অবস্থান সম্পর্কে নির্ভরযোগ্য তথ্য থাকলে দুর্যোগের সময় উদ্ধারকারী সংটি বড় কাজ—নিখোঁজদের সন্ধান, উদ্ধার হওয়া দেহগুলির পরিচয় নিশ্চিত করা এবং ক্ষতিগ্রস্ত মানুষ ও পরিকাঠামোর পুনর্বাসন। বিপর্যয়ের এক মাস পরও উদ্ধার অভিযান এবং শনাক্তকরণের কাজ চলতে থাকা প্রমাণ করে, এইয় হলে কীভাবে দ্রুত মানুষকে নিরাপদ জায়গায় সরিয়ে নেওয়া যায়, সেটিও পরিকল্পনায় রাখতে হবে।
নেপালের এই বিপর্যয় পাহাড়ি অঞ্চলে আকস্মিক বন্যা এবং নদীর জলপ্রবাহের ঝুঁকিকে আবার সামনে নিয়ে এসেছে। জলবায়ু পরিবর্তন, হিমবাহের পরিবর্তন, অতিবৃষ্টি এবং পাহাড়ি ভূপ্রকৃতির মতো বিভিন্ন কারণ এই ধরনের দুর্যোগের ঝুঁকি বাড়াতে পারে—যদিও কোনও নির্দিষ্ট ঘটনার কারণ নির্ধারণে বিস্তারিত বৈজ্ঞানিক তদন্ত প্রয়োজন।
এই ধরনের পরিস্থিতিতে আগাম সতর্কীকরণ ব্যবস্থা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নদীর জলস্তর দ্রুত পর্যবেক্ষণ, আবহাওয়া ও জলবিদ্যার তথ্যের দ্রুত আদানপ্রদান এবং স্থানীয় মানুষকে সময়মতো সতর্ক করা গেলে ক্ষয়ক্ষতি কমানোর সুযোগ তৈরি হয়।
পাশাপাশি পর্যটকদের জন্যও জরুরি তথ্যব্যবস্থা থাকা প্রয়োজন। দুর্গম এলাকায় যাঁরা ভ্রমণ করেন, তাঁদের অবস্থান সম্পর্কে নির্ভরযোগ্য তথ্য থাকলে দুর্যোগের সময় উদ্ধারকারী সংস্থাগুলির কাজ সহজ হতে পারে।
২৬ অগস্টের নেপালের ভয়াবহ হড়পা বান এক মাস পেরিয়েও শেষ হয়ে যায়নি। জল নেমে গেলেও বিপর্যয়ের মানবিক প্রভাব এখনও গভীর। সরকারি হিসাবে ১,৪৫১টি দেহ উদ্ধার বা ব্যবস্থাপনার আওতায় এসেছে এবং হাজার হাজার মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন। ১৩ হাজারের বেশি মানুষকে উদ্ধার করা হলেও বহু পরিবার এখনও তাঁদের প্রিয়জনের অপেক্ষায়।
পশ্চিমবঙ্গের ৩৭ জনের নিখোঁজ থাকার খবর এই বিপর্যয়কে বাংলার বহু পরিবারের কাছেও ব্যক্তিগত শোক ও উদ্বেগের ঘটনায় পরিণত করেছে। ‘চলো যাই’ পর্যটন সংস্থার সঙ্গে যাওয়া ৩২ জনের DNA নমুনা নেপাল সরকারের কাছে পাঠানো হয়েছে বলে সংস্থার কর্ণধার জানিয়েছেন। তাঁদের পরিবারের কাছে এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হল নির্ভরযোগ্য তথ্য এবং দ্রুত পরিচয় নিশ্চিতকরণ।
নেপাল প্রশাসনের সামনে তাই এখনও তিনটি বড় কাজ—নিখোঁজদের সন্ধান, উদ্ধার হওয়া দেহগুলির পরিচয় নিশ্চিত করা এবং ক্ষতিগ্রস্ত মানুষ ও পরিকাঠামোর পুনর্বাসন। বিপর্যয়ের এক মাস পরও উদ্ধার অভিযান এবং শনাক্তকরণের কাজ চলতে থাকা প্রমাণ করে, এই দুর্যোগের প্রভাব কতটা গভীর ও দীর্ঘস্থায়ী হয়েছে।
সবচেয়ে বড় প্রশ্ন এখন একটাই—নিখোঁজ মানুষগুলির কী হয়েছে? সেই প্রশ্নের উত্তর পাওয়ার অপেক্ষায় নেপালের পাশাপাশি ভারত এবং পশ্চিমবঙ্গের বহু পরিবারও।