সাদা-লাল গরদ শাড়ি বাঙালির ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির সঙ্গে ওতপ্রোত ভাবে জড়িত। দীর্ঘ তিনশো বছরের এই পরম্পরায় ‘বরণের শাড়ি’ হিসেবে পরিচিত গরদ কি এখন আরও বিস্তৃত পরিচয় তৈরি করছে?
সুজয় ঘোষ পরিচালিত ‘কহানি’ ছবির শেষ দৃশ্য। রহস্যময়ী বিদ্যা বাগচি, অর্থাৎ বিদ্যা বালন, স্বামীর হত্যাকারীকে খুঁজে পেয়ে নিজের প্রতিশোধ সম্পূর্ণ করেন। তার পর বিজয়া দশমীর বিসর্জনের ভিড়ে মিশে যান অনায়াসে। লাল পাড় সাদা জমির গরদের শাড়ি পরা অসংখ্য বাঙালি নারীর ভিড়ই হয়ে ওঠে তাঁর আড়াল। ছবির সেই দৃশ্যে গরদ কেবল বাঙালি নারীর সাজের অনুষঙ্গ ছিল না, বরং গল্পের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। বাঙালির চিরাচরিত পোশাক কী ভাবে পরিচয়ের প্রতীক হয়ে উঠতে পারে, সেই ছবিই যেন ফুটে উঠেছিল পর্দায়।
দুর্গাপুজোর সাজের কথা উঠলে আজও অনেকের চোখে ভাসে লাল পাড় সাদা জমির গরদের শাড়ি। অষ্টমীর অঞ্জলি, দশমীর সিঁদুরখেলা কিংবা বাড়ির পুজো— বাঙালি সধবা নারীর সাজে এই শাড়ির উপস্থিতি দীর্ঘদিনের। শুধু পুজো নয়, বিয়ে কিংবা অন্যান্য মঙ্গলানুষ্ঠানেও গরদের কদর রয়েছে। মুর্শিদাবাদের তাঁতঘর থেকে বাঙালির ঠাকুরঘর পর্যন্ত এই শাড়ির যাত্রা কয়েক শতকের। প্রায় তিনশো বছরের ঐতিহ্য বহন করে চলা গরদ আজও বাঙালির সংস্কৃতি, আভিজাত্য এবং রুচির পরিচায়ক।
তবে সময়ের সঙ্গে বদলেছে গরদের চেহারা। সাবেক সাদা-লাল রঙের পাশাপাশি এখন দেখা যাচ্ছে নানা রং, আধুনিক মোটিফ, জারদৌসির কাজ এবং নতুন ধরনের নকশা। ঐতিহ্যকে অক্ষুণ্ণ রেখেই গরদকে আধুনিক ফ্যাশনের সঙ্গে মেলানোর চেষ্টা করছেন পোশাকশিল্পীরা। ফলে এক সময়ের মূলত পুজো ও মঙ্গলানুষ্ঠানের শাড়ি এখন জায়গা করে নিচ্ছে তরুণ প্রজন্মের সাজেও।
গরদের ইতিহাস বাংলার রেশমশিল্পের সঙ্গে ওতপ্রোত ভাবে জড়িত। অষ্টাদশ শতকে মুর্শিদাবাদ যখন বাংলার রাজধানী ছিল, তখন কাশিমবাজার ছিল রেশমের গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যকেন্দ্র। নবাব মুর্শিদকুলি খাঁর আমলে এই অঞ্চলের রেশমশিল্পের প্রসার ঘটে। বাণিজ্যের টানে ইউরোপীয় ব্যবসায়ীরাও বাংলায় আসেন। ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির হাত ধরে বাংলার রেশম ইউরোপের বাজারেও পৌঁছেছিল।
গরদ এক ধরনের রেশমের শাড়ি। ঐতিহ্যগত ভাবে খাঁটি মলবেরি সিল্কের সুতো দিয়ে এই শাড়ি বোনা হয়। ভারতে মলবেরি, তসর, এন্ডি এবং মুগা— এই চার ধরনের প্রাকৃতিক রেশমের প্রচলন রয়েছে। গরদের বিশেষত্ব তার সুতো, বুনন এবং সাধারণত সাদা জমির উপর লাল পাড়ের পরিচিত রূপে।
গরদের সঙ্গে পুজোআচ্চার সম্পর্কও দীর্ঘদিনের। হিন্দু ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানে শুদ্ধ ও পরিষ্কার বস্ত্র পরার প্রচলন রয়েছে। সেই সূত্রে খাঁটি রেশমের গরদ বহু দিন ধরেই পুজোর পোশাক হিসেবে জনপ্রিয়। বিশেষ করে সাদা জমি ও লাল পাড়ের শাড়ি বাঙালি নারীর ঐতিহ্যবাহী পুজোর সাজের সঙ্গে মিশে গিয়েছে।
মুর্শিদাবাদের রেশমবয়ন শিল্পের বিস্তারের পিছনে স্থানীয় তাঁতিদের দক্ষতা এবং বাণিজ্যিক যোগাযোগেরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল। মির্জাপুর, জিয়াগঞ্জ-আজিমগঞ্জ, রঘুনাথগঞ্জ এবং বীরভূমের মুরারই অঞ্চলে গরদ ও রেশমবয়নশিল্পের ঐতিহ্য রয়েছে। প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে তাঁতিরা এই শিল্পকে বাঁচিয়ে রেখেছেন।
গরদের সাদা জমি ও লাল পাড়ের মধ্যে রয়েছে সরলতা এবং ঐতিহ্যের মেলবন্ধন। সাদা রংকে শুদ্ধতার প্রতীক হিসেবে দেখা হয়, আর লাল রং বাঙালির মঙ্গলানুষ্ঠান ও বিবাহের সাজের সঙ্গে ওতপ্রোত ভাবে জড়িত। এই দুই রঙের সমন্বয়ই গরদকে বাঙালি নারীর চিরাচরিত পুজোর সাজে বিশেষ জায়গা দিয়েছে।
অষ্টমীর অঞ্জলিতে সাবেকি সাজ হোক কিংবা দশমীর সিঁদুরখেলা— লাল পাড় সাদা শাড়ির আবেদন আজও অটুট। আটপৌরে করে পরা গরদের সঙ্গে লাল টিপ, সিঁদুর, সোনার গয়না এবং খোঁপা বাঙালি সাজের পরিচিত ছবি। সময়ের সঙ্গে ফ্যাশনের বহু পরিবর্তন ঘটলেও এই সাজের জনপ্রিয়তা কমেনি।
গরদ শুধু একটি শাড়ি নয়, অনেক পরিবারের কাছে এটি স্মৃতিরও অংশ। ঠাকুমা বা দিদিমার আলমারিতে যত্ন করে রাখা পুরনো গরদ পরবর্তী প্রজন্মের কাছেও মূল্যবান। বিশেষ দিন, পারিবারিক অনুষ্ঠান কিংবা পুজোর সময় সেই শাড়ি নতুন করে ব্যবহৃত হয়। ফলে এই পোশাকের সঙ্গে জড়িয়ে থাকে পারিবারিক ইতিহাস এবং আবেগ।
গরদের জনপ্রিয়তার সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে একাধিক পরিচিত ব্যক্তিত্বের নাম। পশ্চিমবঙ্গের প্রাক্তন রাজ্যপাল পদ্মজা নায়ডু ১৯৫৬ থেকে ১৯৬৭ সাল পর্যন্ত দায়িত্বে ছিলেন। কথিত আছে, তিনি তাঁতি শ্যাম সাহানার বোনা গরদ পরতেন। তাঁর নামের সূত্রেই গরদের একটি পরিচিতি তৈরি হয় ‘পদ্মজা শাড়ি’ হিসেবে।
দেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীরও মুর্শিদাবাদের গরদের প্রতি আগ্রহ ছিল বলে জানা যায়। এই ধরনের ব্যক্তিত্বের সঙ্গে গরদের সম্পর্ক শাড়িটির আভিজাত্য এবং পরিচিতি বাড়াতে সাহায্য করেছে।
২০২৪ সালে মুর্শিদাবাদের গরদ শাড়ি জিআই বা জিয়োগ্রাফিক্যাল ইন্ডিকেশন তকমা পাওয়ায় এই ঐতিহ্যবাহী শিল্প নতুন করে আলোচনায় আসে। জিআই স্বীকৃতি কোনও নির্দিষ্ট ভৌগোলিক অঞ্চলের সঙ্গে সম্পর্কিত পণ্যের পরিচিতি ও স্বাতন্ত্র্য তুলে ধরতে সাহায্য করে। ফলে মুর্শিদাবাদের গরদের পরিচিতি বাড়ানোর পাশাপাশি স্থানীয় তাঁতশিল্পের গুরুত্ব তুলে ধরারও সুযোগ তৈরি হয়েছে।
গরদের বিভিন্ন ধরন রয়েছে। তার মধ্যে মির্জাপুরের কড়িয়াল গরদ বিশেষ ভাবে পরিচিত। এই শাড়ির টকটকে লাল পাড়, সাদা জমি এবং বিশেষ বয়নপদ্ধতি একে অন্য ধরনের গরদের থেকে আলাদা করে।
কড়িয়াল বুননে পাড় ও জমির সংযোগস্থলে সুতোর বিন্যাস বিশেষ কৌশলে করা হয়। এর ফলে পাড়ের রং ও জমির রং স্পষ্ট ভাবে আলাদা থাকে। দক্ষিণ ভারতের তামিলনাড়ুর তাঞ্জাভুর অঞ্চলেও এই ধরনের বয়নপদ্ধতির কাছাকাছি কৌশল দেখা যায়, যা ‘কোরভাই’ নামে পরিচিত।
সাধারণ গরদের তুলনায় কড়িয়াল শাড়ি বুনতে বেশি সময় ও দক্ষতার প্রয়োজন হয়। এই বিশেষ বুননকৌশল আয়ত্ত করা সহজ নয়। তাই এই ধরনের শাড়ি তৈরিতে দক্ষ তাঁতির সংখ্যা সীমিত বলে উদ্বেগ রয়েছে।
কড়িয়াল গরদের পাড়ে মন্দির, লতাপাতা, কলকা এবং অন্যান্য নকশার ব্যবহার দেখা যায়। কোনও কোনও শাড়িতে সোনালি জরির কাজও থাকে। এর ফলে সাধারণ পুজোর শাড়ির পাশাপাশি কড়িয়াল গরদ বনেদি বাড়ির বিয়ে ও অন্যান্য আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের পোশাক হিসেবেও জনপ্রিয় হয়েছে।
আদি গরদের চেহারা ছিল বেশ সরল। সাদা জমি, সরু লাল পাড়, কোনও ভারী কারুকাজ নয়। এই সাধারণ নকশার মধ্যেই ছিল গরদের নিজস্ব সৌন্দর্য। পরবর্তী সময়ে শাড়ির পাড় ও আঁচলে নানা নকশা যুক্ত হতে শুরু করে।
সীতাহরণ, জটায়ুবধ এবং শকুন্তলার মতো পৌরাণিক ও সাহিত্যিক কাহিনি থেকে অনুপ্রাণিত নকশাও গরদে জায়গা পায়। উনিশ ও বিশ শতকে অলঙ্কৃত কড়িয়ালের জনপ্রিয়তা বাড়ে। চওড়া পাড়, মন্দিরের নকশা, লতাপাতা এবং সোনালি জরির কাজ শাড়িকে আরও জমকালো করে তোলে।
পরবর্তী সময়ে কড়িয়াল গরদ বেনারসির মতো নকশাদার শাড়ির ধরনও তৈরি হয়েছে। বিয়ের সাজে ঐতিহ্যবাহী রেশমের আবেদন বজায় রেখে আরও সমৃদ্ধ নকশা ব্যবহারের ফলে গরদের ব্যবহারও বিস্তৃত হয়েছে।
এখনও গরদের মূল পরিচয় তার বুনন ও ঐতিহ্যে। তবে আধুনিক ক্রেতাদের পছন্দের কথা মাথায় রেখে তাঁতি ও পোশাকশিল্পীরা নকশায় পরিবর্তন আনছেন। ঐতিহ্যবাহী সাদা-লালের পাশাপাশি নতুন রং এবং নকশা গরদকে নতুন প্রজন্মের কাছে আরও আকর্ষণীয় করে তুলছে।
সময়ের সঙ্গে গরদের ব্যবহার শুধু সাবেকি পুজোর সাজে আটকে নেই। কলকাতার পোশাকশিল্পীরা গরদের উপর জারদৌসি, বিভিন্ন মোটিফ এবং আধুনিক বুননশৈলী ব্যবহার করছেন। সাদা সিল্কের সুতোকে নানা রঙে রাঙিয়ে তৈরি হচ্ছে রঙিন জাকার্ড শাড়িও।
গরদের পাড়ের রংয়েও এসেছে বদল। লাল পাড়ের পাশাপাশি কালো-লাল, ধূসর-কালো, বেগনি এবং নীল রঙের গরদও জনপ্রিয় হচ্ছে। সোনালি জরির সঙ্গে রুপোলি ও তামাটে রঙের জরির কাজও ব্যবহার করা হচ্ছে। ফলে সাবেকি শাড়ির পরিচিত কাঠামো বজায় রেখেই তৈরি হচ্ছে আধুনিক সাজের উপযোগী নকশা।
পোশাকশিল্পী পরমা ঘোষ জানিয়েছেন, প্রায় এক দশক ধরে গরদের চেহারা বদলে দেওয়ার চেষ্টা করছেন তাঁরা। তাঁর বক্তব্য, গরদের উপর কানের দুল ও গলার হারের মোটিফে জারদৌসির কাজ ব্যবহার করে নতুন ধরনের নকশা তৈরি করা হয়েছে। ত্রিনয়ন মোটিফ, চেক এবং স্ট্রাইপের গরদও তরুণীদের মধ্যে জনপ্রিয় হচ্ছে।
পরমার মতে, সাবেকি গরদে খইয়ের মাড় ব্যবহারের ফলে শাড়ি বেশ শক্ত হয় এবং পরার সময় মটমট শব্দ হতে পারে। আধুনিক প্রজন্মের অনেকের কাছে সেই ধরনটি আরামদায়ক নয়। তাই মাড় ছাড়া গরদের উপর বিভিন্ন মোটিফ ও নকশা ব্যবহার করে নতুন ধরনের শাড়ি তৈরি করা হচ্ছে।
শুধু বাঙালি ক্রেতারাই নন, কলকাতার বাইরের অবাঙালি ক্রেতাদের মধ্যেও রঙিন ও নকশাদার গরদের চাহিদা বাড়ছে বলে জানিয়েছেন তিনি। সাবেকি লাল-সাদার বাইরে উজ্জ্বল রঙের গরদও এখন নজর কাড়ছে।
গরদকে এখন শুধু পুজো বা ধর্মীয় অনুষ্ঠানের পোশাক হিসেবে দেখা হচ্ছে না। আধুনিক ব্লাউজ়, হালকা গয়না এবং পরিমিত কারুকাজের সঙ্গে গরদকে অন্য ধরনের অনুষ্ঠানেও পরছেন অনেকে।
পরমা ঘোষের মতে, ভারী নকশার পরিবর্তে অল্প কারুকাজ করা গরদের সঙ্গে হল্টারনেক ব্লাউজ় পরার প্রবণতাও দেখা যাচ্ছে। এই ধরনের সাজ পুজোর পাশাপাশি ককটেল পার্টির মতো অনুষ্ঠানেও ব্যবহার করা হচ্ছে।
আধুনিক ফ্যাশনে এই পরিবর্তনের অন্যতম কারণ হল, ক্রেতারা এখন ঐতিহ্যবাহী পোশাকের মধ্যেও নিজস্ব রুচি প্রকাশ করতে চান। তাঁরা এমন পোশাক খোঁজেন, যা এক দিকে সাংস্কৃতিক পরিচয় বহন করবে, অন্য দিকে সমসাময়িক সাজের সঙ্গেও মানানসই হবে। গরদের নতুন নকশা সেই চাহিদা পূরণ করছে।
তবে গরদের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগও রয়েছে। বিশেষ করে কড়িয়ালের মতো জটিল বুননশৈলীতে দক্ষ তাঁতির সংখ্যা কম হলে এই শিল্পের ধারাবাহিকতা বজায় রাখা কঠিন হতে পারে। ঐতিহ্যবাহী বয়নকৌশলকে বাঁচিয়ে রাখতে তাঁতিদের কাজের স্বীকৃতি, বাজারের চাহিদা এবং নতুন প্রজন্মের আগ্রহ— সবই গুরুত্বপূর্ণ।
গরদের শাড়ির আবেদন তার সৌন্দর্যের পাশাপাশি ঐতিহ্যেও। একটি পুরনো গরদ অনেক পরিবারের কাছে শুধুই পোশাক নয়, বরং প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে বয়ে চলা স্মৃতি। সযত্নে আলমারিতে রাখা সেই শাড়ি বিশেষ দিনে আবার বেরিয়ে আসে। অন্য দিকে, নতুন প্রজন্মের ক্রেতারা আধুনিক নকশার গরদ বেছে নিয়ে ঐতিহ্যকে নিজেদের মতো করে গ্রহণ করছেন।
হাতে বোনা শাড়ির প্রতি আগ্রহ বাড়ার সঙ্গে গরদ ও কড়িয়ালের মতো ঐতিহ্যবাহী তাঁতবস্ত্রও নতুন করে গুরুত্ব পাচ্ছে। তবে এই শিল্পকে টিকিয়ে রাখতে হলে শুধু ক্রেতাদের আগ্রহ নয়, দক্ষ তাঁতিদের কাজ এবং বয়নশৈলীর সংরক্ষণও জরুরি।
‘কহানি’ ছবিতে বিজয়া দশমীর ভিড়ে বিদ্যা বাগচির লাল পাড় সাদা গরদ হয়ে উঠেছিল পরিচয় লুকোনোর কৌশল। বাস্তবে সেই একই শাড়ি বাঙালি নারীর কাছে উৎসব, ঐতিহ্য ও আত্মপরিচয়ের প্রতীক। তিনশো বছরের ইতিহাস পেরিয়ে গরদ আজও বদলে যাওয়া ফ্যাশনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলেছে। সাবেকি লাল-সাদা হোক কিংবা আধুনিক নীল, বেগনি বা নকশাদার রূপ— গরদের আবেদন রয়ে গিয়েছে তার নিজস্ব বুননে, বাংলার মাটিতে এবং প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে বয়ে চলা বাঙালিয়ানায়।