Lenspedia Bangla Logo
  • কলকাতা
  • 30℃ Purba Bardhaman

ষষ্ঠীতেই অষ্টমীর মেজাজ, হাতিবাগান নবীন পল্লির পুজোয় জনজোয়ার

ষষ্ঠীর দিনেই অষ্টমীর মেজাজ! হাতিবাগান নবীন পল্লির ‘হাসিখুশি’ পাড়ায় দুপুর থেকেই উপচে পড়ছে ভিড়। নতুন জামা-শাড়ির গন্ধ, আলো-সাজ আর পুজোর আবহে ছোট্ট গলিতে যেন মানুষের ঢল।

ষষ্ঠীর দিনেই যেন অষ্টমীর ছবি। দুর্গাপুজোর শুরুতেই কলকাতার রাস্তায় নেমে পড়েছে মানুষের ঢল। আর সেই ভিড়ের অন্যতম ছবি ধরা পড়ল উত্তর কলকাতার হাতিবাগান নবীন পল্লির ‘হাসিখুশি’ পাড়ায়। দুপুর গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে ধীরে ধীরে বাড়তে থাকে দর্শনার্থীদের ভিড়। বিকেল হতেই সেই ভিড় কার্যত জনজোয়ারে পরিণত হয়। সন্ধ্যার পর পরিস্থিতি আরও জমজমাট। ছোট্ট গলিতে মানুষের ভিড় এতটাই বেড়ে যায় যে, পা ফেলার জায়গা খুঁজে পাওয়াও কঠিন হয়ে ওঠে।

কলকাতার দুর্গাপুজো মানেই মণ্ডপে মণ্ডপে মানুষের ঢল। ষষ্ঠীর দিন থেকেই শহরের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মানুষ বেরিয়ে পড়েন পুজো দেখতে। কেউ পরিবার নিয়ে, কেউ বন্ধুদের সঙ্গে, কেউ আবার একেবারে দল বেঁধে। পুজোর নতুন জামা, নতুন শাড়ি, হাতে মোবাইল ক্যামেরা—সব মিলিয়ে শহরের রাস্তায় শুরু হয়ে যায় উৎসবের আসল রং। হাতিবাগান নবীন পল্লিতেও এদিন সেই ছবিই দেখা গেল। দুপুর থেকে রাত পর্যন্ত একটানা দর্শনার্থীদের আনাগোনায় মুখর হয়ে রইল গোটা এলাকা।

‘হাসিখুশি’ পাড়ার নামের সঙ্গে যেন এদিনের পরিবেশেরও অদ্ভুত মিল। চারদিকে হাসিমুখ, উৎসাহ আর আনন্দ। কেউ প্রতিমা দর্শনে ব্যস্ত, কেউ মণ্ডপসজ্জা দেখছেন, আবার কেউ পরিবারের সঙ্গে ছবি তুলতে ব্যস্ত। ছোট থেকে বড়—সব বয়সের মানুষের উপস্থিতি চোখে পড়ল। শিশুদের উৎসাহ যেমন চোখে পড়ার মতো, তেমনই তরুণ-তরুণীদের মধ্যেও ছিল পুজোর উচ্ছ্বাস। নতুন পোশাক পরে মণ্ডপে মণ্ডপে ঘুরে বেড়ানোর সেই চেনা কলকাতার ছবি যেন ফুটে উঠল হাতিবাগান নবীন পল্লিতে।

ষষ্ঠীর দুপুর থেকেই শুরু হয়েছিল মানুষের আনাগোনা। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ভিড় বাড়তে থাকে। বিকেল নামতেই মণ্ডপের আশপাশের রাস্তাগুলি হয়ে ওঠে আরও ব্যস্ত। সন্ধ্যার পর আলো জ্বলে উঠতেই পুজোমণ্ডপের সৌন্দর্য আরও বাড়ে। আর সেই সঙ্গে দর্শনার্থীদের ভিড়ও পৌঁছে যায় চূড়ান্ত পর্যায়ে। ছোট গলির দু’ধারে তখন শুধু মানুষ আর মানুষ। কোথাও পরিবার নিয়ে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা, কোথাও বন্ধুদের দল একসঙ্গে এগিয়ে চলেছে, কোথাও আবার মণ্ডপের সামনে দাঁড়িয়ে ছবি তোলার ব্যস্ততা।

নতুন জামা-শাড়ির সেন্টে মিশে যাচ্ছে ধূপের গন্ধ। চারপাশে পুজোর আবহ। মণ্ডপের আলো, মানুষের কোলাহল, ঢাকের শব্দ এবং উৎসবের উত্তেজনা—সব মিলিয়ে হাতিবাগান নবীন পল্লিতে তৈরি হয়েছে একেবারে অন্যরকম পরিবেশ। পুজোর কয়েকদিনের মধ্যে সাধারণত অষ্টমী বা নবমীর সন্ধ্যায় যে ধরনের ভিড় দেখা যায়, ষষ্ঠীতেই তার ছাপ দেখা যাওয়ায় অনেকেরই চোখ কপালে। দর্শনার্থীদের একাংশের কথায়, পুজোর শুরুতেই যদি এমন ভিড় হয়, তাহলে পুজোর মাঝের দিনগুলিতে পরিস্থিতি আরও ব্যস্ত হয়ে উঠতে পারে।

কলকাতার উত্তর থেকে দক্ষিণ—প্রতিটি প্রান্তেই দুর্গাপুজো ঘিরে থাকে আলাদা উন্মাদনা। তবে উত্তর কলকাতার পুজোর আবহ বরাবরই একটু অন্যরকম। পুরনো কলকাতার গলি, বনেদি বাড়ি, ঐতিহ্যবাহী পুজো এবং আধুনিক থিমের মণ্ডপ—সব মিলিয়ে উত্তর কলকাতার পুজো দেখতে প্রতি বছরই বহু মানুষ ভিড় করেন। হাতিবাগান সেই পুজো পরিক্রমার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এলাকা। একাধিক পুজো মণ্ডপকে ঘিরে ষষ্ঠী থেকেই তৈরি হয় দর্শনার্থীদের ভিড়। এবারের ছবিতেও তার ব্যতিক্রম নেই।

হাতিবাগান নবীন পল্লির ‘হাসিখুশি’ পাড়ায় এদিন দুপুর থেকেই দেখা যায় মানুষের ভিড়। পুজোর নতুন পোশাক পরে বহু মানুষ পৌঁছে যান মণ্ডপে। কারও হাতে ছোট্ট শিশুর হাত, কারও হাতে মোবাইল ফোন, আবার কেউ পরিবারের বয়স্ক সদস্যদের সঙ্গে নিয়ে এসেছেন। পুজো মানেই যে শুধু প্রতিমা দর্শন নয়, বরং পরিবারের সঙ্গে সময় কাটানো, বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা দেওয়া এবং শহরের উৎসবের আবহ উপভোগ করা—এদিনের দৃশ্য যেন সেই কথাই মনে করিয়ে দিল।

বিশেষ করে সন্ধ্যার পর ভিড়ের চরিত্র আরও বদলে যায়। দিনের আলো কমে আসতেই মণ্ডপের আলোকসজ্জা আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে। আলোয় ঝলমল করতে শুরু করে পুজোপ্রাঙ্গণ। সেই আলো দেখতে এবং প্রতিমা দর্শনের জন্য আরও বেশি মানুষ ভিড় করতে শুরু করেন। একসময় ছোট্ট গলিটি কার্যত মানুষের স্রোতে পরিণত হয়। সামনে এগিয়ে যাওয়ার জন্য ধীরে ধীরে হাঁটতে হয় দর্শনার্থীদের। তবুও কারও মুখে বিরক্তির ছাপ খুব একটা নেই। বরং পুজোর আনন্দেই ভিড়ের মধ্যেও হাসিমুখে এগিয়ে চলেছেন সকলে।

শহরের পুজোপ্রেমীদের কাছে ষষ্ঠী মানেই অপেক্ষার অবসান। কয়েক মাস ধরে অপেক্ষা করার পর অবশেষে শুরু হয় মণ্ডপ পরিক্রমা। নতুন পোশাক পরে বাড়ি থেকে বেরিয়ে পড়া, পছন্দের পুজোমণ্ডপে যাওয়া, প্রতিমা দেখা, ছবি তোলা এবং রাতে বন্ধুদের সঙ্গে খাওয়া-দাওয়া—সব মিলিয়ে ষষ্ঠী থেকেই কলকাতার রাস্তায় শুরু হয়ে যায় উৎসবের আসল ব্যস্ততা। হাতিবাগান নবীন পল্লির ভিড়ও সেই বৃহত্তর পুজো-উন্মাদনারই একটি ছবি।

এদিনের ভিড়ে শুধু কলকাতার স্থানীয় বাসিন্দারাই ছিলেন না, শহরের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা দর্শনার্থীদেরও দেখা যায়। পুজোর সময়ে উত্তর কলকাতার জনপ্রিয় মণ্ডপগুলিতে দর্শনার্থীদের চাপ বাড়ে। অনেকেই একসঙ্গে একাধিক মণ্ডপ ঘুরে দেখার পরিকল্পনা করেন। সেই পুজো পরিক্রমার তালিকায় হাতিবাগান নবীন পল্লিও জায়গা করে নিয়েছে। ফলে ষষ্ঠীর দিনেই এখানে দর্শনার্থীদের এতটা চাপ তৈরি হয়েছে বলে মনে করছেন পুজোপ্রেমীরা।

‘হাসিখুশি’ পাড়ার সামনে দাঁড়িয়ে অনেকেই মণ্ডপের ছবি তুলছিলেন। সোশ্যাল মিডিয়ার যুগে পুজোর সঙ্গে ছবি তোলার সম্পর্ক আরও গভীর হয়েছে। প্রতিমা থেকে মণ্ডপ, আলোকসজ্জা থেকে নতুন পোশাক—সবকিছুই ক্যামেরাবন্দি করছেন দর্শনার্থীরা। কেউ সেলফি তুলছেন, কেউ পরিবারের ছবি তুলছেন, আবার কেউ পুরো মণ্ডপের ভিডিও করে রাখছেন। পুজোর আনন্দ এখন শুধু মণ্ডপে সীমাবদ্ধ নয়, মুহূর্তগুলি সামাজিক মাধ্যমে ভাগ করে নেওয়ার মধ্যেও তার একটা বড় অংশ জড়িয়ে রয়েছে।

শিশুদের জন্যও পুজোর আনন্দ আলাদা। নতুন পোশাক পরে বাবা-মায়ের হাত ধরে মণ্ডপে আসা, আলো দেখা, প্রতিমা দেখা এবং ভিড়ের মধ্যে উৎসাহ নিয়ে ঘোরাঘুরি—সব মিলিয়ে তাদের কাছেও ষষ্ঠী যেন উৎসবের প্রথম বড় দিন। হাতিবাগান নবীন পল্লিতে এদিন বহু পরিবারকে শিশুদের সঙ্গে নিয়ে পুজো দেখতে দেখা যায়। অনেকেই দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করেও মণ্ডপে ঢুকে প্রতিমা দর্শন করেন।

news image
আরও খবর

তরুণ প্রজন্মের মধ্যেও ছিল যথেষ্ট উচ্ছ্বাস। বন্ধুদের দল একসঙ্গে পুজো দেখতে বেরিয়েছেন। কেউ এক মণ্ডপ থেকে অন্য মণ্ডপে ছুটছেন, কেউ আবার নির্দিষ্ট কোনও পুজোর সামনে দীর্ঘক্ষণ সময় কাটাচ্ছেন। নতুন পোশাক, সাজগোজ, ছবি তোলা এবং বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা—সব মিলিয়ে ষষ্ঠীর সন্ধ্যা হয়ে উঠেছে উৎসবমুখর। হাতিবাগান নবীন পল্লির গলিতে সেই উচ্ছ্বাস আরও স্পষ্টভাবে ধরা পড়েছে।

তবে এত মানুষের ভিড় সামলানোও বড় চ্যালেঞ্জ। ছোট গলিতে দর্শনার্থীদের চাপ বাড়লে স্বাভাবিকভাবেই চলাচলে সমস্যা তৈরি হয়। মণ্ডপের আশপাশে মানুষের গতিবিধি নিয়ন্ত্রণ করতে স্বেচ্ছাসেবকদের সক্রিয় থাকতে হয়। দর্শনার্থীদের নিরাপদে মণ্ডপে প্রবেশ এবং বেরিয়ে আসার ব্যবস্থা করাও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। ষষ্ঠীতেই যেহেতু এমন ভিড় দেখা গিয়েছে, তাই পরবর্তী দিনগুলিতে ভিড় আরও বাড়লে ব্যবস্থাপনাও আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।

কলকাতার দুর্গাপুজোর সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্যই হল উৎসবের সঙ্গে মানুষের এই নিবিড় সম্পর্ক। কয়েকদিনের জন্য শহরের চেহারা বদলে যায়। রাত জেগে পুজো দেখা, আলোর সাজ উপভোগ করা, পছন্দের খাবার খাওয়া এবং বন্ধু-পরিবারের সঙ্গে সময় কাটানো—সব মিলিয়ে শহর যেন নতুন প্রাণ ফিরে পায়। হাতিবাগান নবীন পল্লির এই ভিড় সেই উৎসবেরই প্রতিফলন।

দুপুর থেকে রাত—সময় যত গড়িয়েছে, ততই বেড়েছে মানুষের ভিড়। প্রথমদিকে যে গলিতে তুলনামূলকভাবে স্বাভাবিক চলাচল ছিল, সন্ধ্যার পর সেই গলিই মানুষের চাপে ভরে যায়। কোথাও দাঁড়িয়ে থাকা, কোথাও ধীরে ধীরে এগিয়ে যাওয়া, কোথাও আবার ভিড় এড়িয়ে পাশ দিয়ে যাওয়ার চেষ্টা—সব মিলিয়ে পুজোর চেনা ছবি। তবুও উৎসবের আনন্দে সেই ভিড়কে উপভোগ করছেন মানুষ।

নতুন জামা-শাড়ির গন্ধের সঙ্গে মিশে থাকা পুজোর আবহ এই ভিড়কে আরও প্রাণবন্ত করে তুলেছে। বহু মানুষের কাছে পুজোর প্রথম দিনগুলির এই পরিবেশই সবচেয়ে বেশি আকর্ষণীয়। কারণ ষষ্ঠী থেকেই শুরু হয় চারদিনের উৎসবের মূল পর্ব। মণ্ডপে প্রতিমা দর্শন, ঢাকের আওয়াজ, ধূপের গন্ধ এবং আলোর সাজ—সবকিছু মিলে ষষ্ঠী রাতেই যেন শহর ঘোষণা করে দেয়, পুজো এসে গিয়েছে।

হাতিবাগান নবীন পল্লির ‘হাসিখুশি’ পাড়াতেও এদিন সেই ঘোষণাই যেন শোনা গেল মানুষের ভিড়ের মধ্যে দিয়ে। অষ্টমী এখনও অনেক দূরে, কিন্তু ভিড়ের ছবি দেখে মনে হচ্ছে উৎসব যেন ইতিমধ্যেই চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছে গিয়েছে। ষষ্ঠীর এই জনজোয়ার তাই শুধু একটি পুজোমণ্ডপের ভিড়ের ছবি নয়, বরং কলকাতার দুর্গাপুজোকে ঘিরে মানুষের দীর্ঘ প্রতীক্ষা এবং উৎসাহেরও প্রতিচ্ছবি।

কলকাতার পুজো মানেই শুধু ধর্মীয় আচার নয়, এর সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে শহরের সংস্কৃতি, স্মৃতি, আড্ডা এবং সামাজিক মিলন। বছরের অন্য সময়ে ব্যস্ততার কারণে যাঁরা একে অপরের সঙ্গে দেখা করার সুযোগ পান না, পুজোর সময় তাঁরাও একসঙ্গে বেরিয়ে পড়েন। পরিবার, বন্ধু, আত্মীয়—সবাই মিলে শহরের মণ্ডপে মণ্ডপে ঘোরেন। হাতিবাগান নবীন পল্লির ভিড়েও সেই মিলনমেলার ছবি দেখা গিয়েছে।

এদিনের দৃশ্য আরও একটি বিষয় স্পষ্ট করে দিল—কলকাতার মানুষ পুজোর আনন্দ উপভোগ করতে আর শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত অপেক্ষা করছেন না। ষষ্ঠী থেকেই শুরু হয়ে যাচ্ছে মণ্ডপ পরিক্রমা। জনপ্রিয় পুজোগুলিতে তাই প্রথম দিন থেকেই দর্শনার্থীদের চাপ তৈরি হচ্ছে। হাতিবাগান নবীন পল্লির মতো মণ্ডপে এই ভিড় আগামী দিনগুলিতে আরও বাড়তে পারে।

সব মিলিয়ে, ষষ্ঠীর দিনেই অষ্টমীর মেজাজ এনে দিল হাতিবাগান নবীন পল্লির ‘হাসিখুশি’ পাড়া। দুপুর থেকে রাত পর্যন্ত ছোট্ট গলিতে মানুষের ঢল, নতুন পোশাকের গন্ধ, আলোয় সাজানো মণ্ডপ, ছবি তোলার ব্যস্ততা এবং পুজোর আনন্দ—সব মিলিয়ে জমে উঠল কলকাতার শারদোৎসব। অষ্টমীর ভিড়ের জন্য যেখানে সাধারণত অপেক্ষা করতে হয়, সেখানে ষষ্ঠীতেই মানুষের এই উপস্থিতি প্রমাণ করে দিয়েছে, দুর্গাপুজোর উন্মাদনা এবার শুরু থেকেই তুঙ্গে।

ষষ্ঠীতেই যখন এমন জনজোয়ার, তখন অষ্টমী-নবমীতে হাতিবাগান নবীন পল্লির চিত্র কতটা জমজমাট হবে, সেটাই এখন দেখার।

User attachment

Preview image