Lenspedia Bangla Logo
  • কলকাতা
  • 30℃ Purba Bardhaman

মেকআপে চোখে গুরুতর সমস্যা, দুশ্চিন্তায় অভিনেত্রী শ্বেতা ভট্টাচার্য

শুটিংয়ের সময় চোখে মেকআপ ঢুকে দীর্ঘদিনের জ্বালা ফোলাভাবের সমস্যায় ভুগছেন শ্বেতা ভট্টাচার্য চিকিৎসা চলছে, প্রয়োজনে হতে পারে অপারেশন।চোখে ইনফেকশন ও তীব্র অস্বস্তিতে আপাতত কাজ থেকে দূরে শ্বেতা ডাক্তারি পরামর্শে প্রটেক্টেড গ্লাস ও নিয়মিত চিকিৎসা নিচ্ছেন তিনি।মেকআপের অসাবধানতায় চোখে জটিলতা, চার-পাঁচ মাস ধরেই কষ্টে শ্বেতা ভট্টাচার্য সুস্থ হলে তবেই ফিরতে চান কাজে।অপ্রত্যাশিত চোখের সমস্যায় দুশ্চিন্তায় জনপ্রিয় অভিনেত্রী শ্বেতা ফল না মিললে লাগতে পারে অস্ত্রোপচার।

মেকআপের ভুলে বড় বিপদ: চোখের জটিলতায় দুশ্চিন্তায় অভিনেত্রী শ্বেতা ভট্টাচার্য

লিখিত: ফিচার প্রতিবেদন

টেলিভিশনের ছোট পর্দায় বিগত কয়েক বছরে এমন অনেক অভিনেতা-অভিনেত্রী এসেছেন, যাঁদের মধ্যে কেউ দীর্ঘদিন আলোচনায় থেকেছেন, কেউ আবার খুব দ্রুত আলোর বাইরে চলে গিয়েছেন। তবে এই সব মুখের ভিড়ে শ্বেতা ভট্টাচার্য এমন এক শিল্পী, যিনি নিজের অভিনয়ের দক্ষতা, স্বাভাবিকতা এবং পর্দায় উপস্থিতির মাধ্যমে অত্যন্ত দ্রুত দর্শকের হৃদয় জয় করেছেন। ‘কোন গোপনে মন ভেসেছে’ ধারাবাহিকের ‘শ্যামলী’ চরিত্রের জনপ্রিয়তা তাঁকে এক অন্য উচ্চতায় পৌঁছে দিয়েছে। কিন্তু অভিনয়ের সাফল্যের মাঝেই হঠাৎ থেমে গেছে তাঁর স্বাভাবিক ছন্দ। চোখের জটিলতায় তিনি এখন কঠিন দুশ্চিন্তার মুখোমুখি।

নিয়মিত শুটিং, প্রচণ্ড ব্যস্ততা এবং দীর্ঘসময় ধরে মেকআপের মধ্যে থাকা—এই সবই ছোটপর্দার অভিনেতাদের দৈনন্দিন জীবনের অংশ। এতসব চাপের মধ্যেও শ্বেতা কখনও কাজের ক্ষেত্রে অবহেলা করেননি। কিন্তু জীবনের অনেক দুর্ঘটনার মতোই—কখনো কখনো ছোট্ট একটি ভুল হয়ে ওঠে বড় বিপদের কারণ। তাঁর ক্ষেত্রেও ঘটেছে ঠিক তাই।


যে ভুল থেকে শুরু হলো সব: শুটিংয়ের সময় চোখে মেকআপ ঢুকে যাওয়া

ধারাবাহিকের শুটিং নিয়মিত চলছিল। দীর্ঘ সময় ধরে আলো–ক্যামেরার সামনে থাকা এবং ভারী মেকআপে ক্যারেক্টারকে জীবন্ত করে তোলা একটি সাধারণ রুটিন। কিন্তু শ্বেতার অগোচরে কোনো এক দৃশ্যের প্রস্তুতির সময় চোখের ভিতরে সামান্য মেকআপ ঢুকে যায়।

সাধারণত এমন ঘটনা শুটিংয়ে অনেকবারই ঘটে। চোখ একটু জ্বালা করে, পানি পড়ে, বা সামান্য চুলকানি হয়—পরের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই সব ঠিক হয়ে যায়। তাই শ্বেতা তখন ভাবেননি এটা বড় কোনো সমস্যা। তাঁর ধারণা ছিল—এটা হয়তো সামান্য অ্যালার্জি বা ঠান্ডা লাগার মতো ফোলাভাব, যা নিজে থেকেই কমে যাবে। কিন্তু ভাগ্য যেন অন্য পরিকল্পনা করেছিল।

দু-একদিনের মধ্যে ফোলাভাব কমার বদলে বাড়তে থাকে। চোখের চারপাশে অস্বস্তি, জ্বালা, এবং মাঝে মাঝে অসহ্য চুলকানি তাঁকে বিরক্ত করতে শুরু করে। কাজের ব্যস্ততার মাঝে সময় বের করে ডাক্তার দেখানোর কথা ভাবলেও, প্রতিবারই কাজের চাপে সেটা পিছিয়ে দেন। মনে মনে বিশ্বাস রাখেন—এই অসুবিধা খুব বড় কিছু নয়।

কিন্তু সপ্তাহ পেরিয়ে মাস, আর মাস পেরিয়ে চার-পাঁচ মাস হয়ে গেলেও শ্বেতার চোখের সমস্যা থেকে যায়। বরং ধীরে ধীরে পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে থাকে।


ফোলাভাব না কমার রহস্য: মেকআপের স্তর জমে রইল চোখের ভিতরে

অবশেষে যখন অস্বস্তি অসহ্য হয়ে ওঠে, তখনই তিনি চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। চোখের নানা পরীক্ষা-নিরীক্ষার পরে চিকিৎসকেরা জানান—তাঁর চোখের ভিতরে মেকআপের কিছু অংশ জমে রয়েছে, যা ধীরে ধীরে ইনফ্লেমেশন বা প্রদাহ তৈরি করছে।

চিকিৎসকের ব্যাখ্যানুযায়ী—চোখের ভেতরে ঢুকে থাকা কণাগুলো ধুয়ে বের না হলে সেগুলো চোখের টিস্যুর সঙ্গে প্রতিক্রিয়া করতে শুরু করে। তখন জ্বালা, লালভাব, জল পড়া, ফোলাভাব, এবং কখনও কখনও ব্যথার মতো উপসর্গ দেখা দেয়। দীর্ঘদিন চিকিৎসাহীন অবস্থায় থাকলে তা আরও গুরুতর হতে পারে।

শ্বেতা স্বীকার করেন যে তিনি কখনো ভাবেননি মেকআপ এত বড় ঝামেলা তৈরি করতে পারে। শ্যুটিংয়ের সেটে দীর্ঘ সময় কাজ করতে করতে তিনি অভ্যস্ত, তাই চোখে সামান্য অস্বস্তিকে গুরুত্ব দেননি। তাঁর কথায়—

“মেকআপ থেকে এমন বিপদ হতে পারে, সত্যিই জানতাম না। আগে বহুবার এমন হয়েছে, কিন্তু এত বড় সমস্যায় রূপ নেবে ভাবিনি।”

এই ঘটনাই চোখের সমস্যাকে আরও জটিল করে তুলেছিল। চিকিৎসকেরা জানান—এখন তাঁর চোখে সুরক্ষিত চশমা ব্যবহার করা বাধ্যতামূলক। একই সঙ্গে নিয়মিত চোখের ড্রপ এবং ওষুধ চলছে।


অপারেশনের আশঙ্কা: দুশ্চিন্তায় শ্বেতা

চিকিৎসকের কঠোর নির্দেশনা অনুযায়ী, শ্বেতাকে এখন কিছুদিন সম্পূর্ণ বিশ্রাম নিতে হবে। চোখের ওপর বাড়তি চাপ পড়ে এমন কোনো কাজ করবেন না। আলো–ক্যামেরার সামনে দাঁড়ানোও আপাতত বন্ধ। এমনকি স্ক্রিন টাইমও তিনি কমিয়ে দিয়েছেন।

কিন্তু সবচেয়ে চিন্তার বিষয়—এই চিকিৎসায় কাঙ্ক্ষিত ফল না মিললে তাঁর চোখে অপারেশন করতে হতে পারে। যদিও চিকিৎসকেরা আশাবাদী যে নিয়মিত ড্রপ এবং যত্নে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসবে, তবে সম্ভাবনা পুরোপুরি উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

এই পরিস্থিতি মানসিকভাবেও শ্বেতাকে চাপে ফেলেছে। চোখের মতো একটি সংবেদনশীল অঙ্গ নিয়ে অস্ত্রোপচারের ভাবনাই তাঁকে অস্থির করে তুলেছে। তবে তিনি চিকিৎসকের প্রতি আস্থা রেখে চিকিৎসা চালিয়ে যাচ্ছেন এবং নিজেকে যতটা সম্ভব শান্ত রাখার চেষ্টা করছেন।


ক্যারিয়ারে বিরতি: আপাতত নতুন কাজে ফিরছেন না অভিনেত্রী

চোখের সমস্যা শুরু হওয়ার আগেই ‘কোন গোপনে মন ভেসেছে’ ধারাবাহিক শেষ হয়েছিল। শ্বেতা তখন কয়েক সপ্তাহের বিশ্রাম নেওয়ার পরিকল্পনা করেন। কিন্তু এই বিরতিই অজান্তে তাঁকে এমন সময়ে চিকিৎসার পথ ধরতে বাধ্য করেছে।

বর্তমানে তিনি কোনো নতুন ধারাবাহিকে কাজ শুরু করছেন না। একটি ওয়েব সিরিজের ব্যাপারে আলোচনা চললেও সেখানেও এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। প্রযোজকদের পক্ষ থেকেও তাঁর স্বাস্থ্যের অবস্থা বিবেচনা করে তাঁকে সময় দেওয়া হচ্ছে।

news image
আরও খবর

শ্বেতা বলেন—

“কাজে ফিরতে তো মন চাইছে, কিন্তু চোখ সুস্থ হওয়াটাই এখন সবচেয়ে জরুরি। সুস্থ না হলে কাজের চাপ নিতে পারব না। আমার ভক্তদেরও চাইব—তারা যেন একটু সময় দেন।”


শিল্পীদের মেকআপ-সম্পর্কিত ঝুঁকি: যে সত্যটি অনেকেই জানেন না

শ্বেতার এই ঘটনা আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয়—ছোটপর্দার ঝলমলে জীবন যেমন বৈচিত্র্যময়, তেমনি তা কঠিন ও ঝুঁকিপূর্ণও বটে।
একজন অভিনেতার প্রতিদিন কয়েক ঘণ্টা ভারী মেকআপ পরা, আলো–ক্যামেরার তাপমাত্রায় থাকা, ক্লান্ত চোখে রাতভর শুটিং করা—এসবই স্বাস্থ্যের ওপর গভীর প্রভাব ফেলে। চোখের মতো সংবেদনশীল অঙ্গ বারবার মেকআপের সংস্পর্শে এলে অ্যালার্জি, সংক্রমণ, বা ইনফ্লেমেশনের ঝুঁকি বাড়ে।

বিশেষ করে যেসব মেকআপ আর্টিস্ট দ্রুত দৃশ্য বদলানোর জন্য মাত্র কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে মেকআপ ঠিক করে দেন, সেসব পরিস্থিতিতে চোখে গুঁড়ো বা লিকুইড পণ্য ঢুকে যাওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে। অধিকাংশ সময় তাৎক্ষণিক ক্ষতি না হলেও, দীর্ঘমেয়াদে বড় জটিলতার জন্ম দিতে পারে।

চিকিৎসকেরা জানান—শুটিং শেষে চোখ ভালোভাবে পরিষ্কার না করা, বারবার একই ব্রাশ ব্যবহার করা, বা নকল চোখের পাতা (false eyelashes) ব্যবহারের ফলে চোখে ইনফেকশনের ঝুঁকি বাড়ে।


শ্বেতার অনভিজ্ঞতা নয়—অবহেলারই ফল

এই পরিস্থিতিতে অনেকেই ভাবতে পারেন—শ্বেতা কি অসাবধান ছিলেন? কিন্তু বাস্তবতা হলো, মেকআপ ঢুকে যাওয়ার ঘটনা এমনই সাধারণ একটি বিষয়, যাকে সিরিয়াসলি নেওয়ার কথা সাধারণত কাউকেই শেখানো হয় না। শুটিংয়ের ব্যস্ততায় বিরতি পাওয়া যায় না, তাই চোখে জ্বালা বা চুলকানি হলে সেটাকে সামান্য বিরক্তি ভেবেই কাজ চালিয়ে নেওয়া হয়।

বরং, অধিকাংশ অভিজ্ঞ অভিনেতা–অভিনেত্রীও এমন সমস্যাকে এড়িয়ে যান—ভেবে নেন, এটা আপনা-আপনি কমে যাবে। কিন্তু শরীর বারবার সতর্ক সংকেত পাঠায়, আর সেগুলোকে উপেক্ষা করলেই হয় বড় বিপদ।

শ্বেতার ক্ষেত্রেও তাই হয়েছে—এটা অভিজ্ঞতার অভাব নয়, বরং ইন্ডাস্ট্রির ব্যস্ততা ও চাপের মধ্যে কাজ করার স্বাভাবিক পরিণতি।


ভক্তদের ভালোবাসা—মনোবল বাড়াচ্ছে অভিনেত্রীকে

স্বাস্থ্যগত অস্বস্তির মধ্যেও শ্বেতা সামাজিক মাধ্যমে মাঝে মাঝে নিজের আপডেট শেয়ার করছেন। তাঁর ভক্তরা প্রতিদিনই দ্রুত সুস্থতার প্রার্থনা জানাচ্ছেন। কেউ কেউ তাঁকে চোখের সুরক্ষা সম্পর্কে পরামর্শ দিচ্ছেন, কেউ আবার তাঁর পুরোনো ধারাবাহিকের দৃশ্য পোস্ট করে সাহস যোগাচ্ছেন।

তিনি বলেন—

“ভক্তদের ভালোবাসা আমাকে খুব শক্তি দিচ্ছে। মাঝে মাঝে মন খারাপ হয়ে যায়, তখন তাদের মেসেজ পড়ে নতুন করে শক্তি পাই।”


সুস্থ হয়ে ফেরার স্বপ্ন: নতুন কাজের অপেক্ষায় তিনি

চোখ পুরোপুরি সুস্থ হয়ে গেলে শ্বেতা আবার কাজের জগতে ফিরবেন—এ ব্যাপারে তিনি দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। তাঁর মতে, অভিনয়ই তাঁর জীবনের সবচেয়ে আনন্দের জায়গা। তাই দীর্ঘ বিরতিও তাঁকে দমিয়ে রাখতে পারবে না।

ওয়েব সিরিজের আলোচনা এখনও চলমান, আর কিছু প্রযোজক তাঁকে ভবিষ্যতের কিছু চরিত্রের জন্য অফার দিতে আগ্রহী। তবে সবকিছুই আপাতত স্থগিত রাখা হয়েছে তাঁর সুস্থতার কথা ভেবে।


শেষ কথা

শ্বেতা ভট্টাচার্যের বর্তমান পরিস্থিতি শুধু একটি ব্যক্তিগত সমস্যার গল্প নয়—এটি স্মরণ করিয়ে দেয়, যে কোনো পেশাতেই ছোট একটি অবহেলা কখনো কখনো বড় বিপদের কারণ হতে পারে। অভিনয় জগতের ঝলমলে পর্দার আড়ালে রয়েছে কঠোর পরিশ্রম, শারীরিক চাপ এবং অজস্র ঝুঁকি।

সবাই আশা করছে, চিকিৎসায় দ্রুত সেরে উঠবেন শ্বেতা। চোখ সুস্থ হলে তিনি আবারও নতুন চরিত্র নিয়ে দর্শকের সামনে ফিরবেন—আগের মতোই প্রাণবন্ত, আত্মবিশ্বাসী এবং সেই চিরচেনা হাসিমুখে।

শুধু সময়ের অপেক্ষা।

Preview image