Lenspedia Bangla Logo
  • কলকাতা
  • 30℃ Purba Bardhaman

ভারতের প্রথম ভাসমান শহর জলনিধি উদ্বোধন মুম্বাই উপকূলে সমুদ্রের বুকে নতুন জীবন এবং নীল অর্থনীতির সূচনা

 ভারতের নগর পরিকল্পনা এবং পরিবেশ রক্ষার ইতিহাসে আজ এক অবিস্মরণীয় দিন মুম্বাইয়ের অদূরে আরব সাগরের বুকে আজ উদ্বোধন হলো দেশের প্রথম স্বয়ংসম্পূর্ণ ভাসমান শহর জলনিধি সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে এই শহর ভবিষ্যতের টেকসই জীবনযাত্রার এক নতুন দিগন্ত খুলে দিল  

ভারতের প্রথম ভাসমান শহর জলনিধি উদ্বোধন মুম্বাই উপকূলে সমুদ্রের বুকে নতুন জীবন এবং নীল অর্থনীতির সূচনা
Nature & Environment

ভারতের নগরোন্নয়ন পরিবেশ রক্ষা এবং প্রযুক্তিগত উদ্ভাবনের ইতিহাসে আজকের দিনটি এক নতুন এবং অত্যন্ত গৌরবময় অধ্যায় হিসেবে চিরকাল স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে আজ সকালে মুম্বাই উপকূল থেকে প্রায় পনেরো কিলোমিটার দূরে আরব সাগরের নীল জলরাশির ওপর আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন হলো ভারতের প্রথম এবং বিশ্বের বৃহত্তম স্বয়ংসম্পূর্ণ ভাসমান শহর যার নাম দেওয়া হয়েছে জলনিধি এতদিন আমরা বিজ্ঞান কল্পকাহিনীর সিনেমা বা গল্পে দেখেছি যে মানুষ পৃথিবীর স্থলভাগ ছেড়ে সমুদ্রের বুকে বিশাল বিশাল ভাসমান কাঠামো তৈরি করে বসবাস করছে কারণ জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি পেয়ে উপকূলীয় শহরগুলো তলিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে কিন্তু আজ ভারত সেই ভবিষ্যতের আশঙ্কাকে বাস্তবে মোকাবিলা করার জন্য এক অকল্পনীয় ইঞ্জিনিয়ারিং এবং নগর পরিকল্পনার চমৎকার উদাহরণ বিশ্বের দরবারে তুলে ধরল প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং বিশ্বের বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রনেতা ও পরিবেশবিজ্ঞানীদের উপস্থিতিতে যখন এই বিশাল ভাসমান শহরের প্রধান কন্ট্রোল রুমের সুইচ অন করা হলো এবং পুরো শহরটি নিজস্ব উৎপাদিত সবুজ শক্তিতে আলোকিত হয়ে উঠল তখন উপস্থিত হাজার হাজার মানুষ এবং বিজ্ঞানীরা আনন্দে উল্লাস প্রকাশ করলেন এবং ইতিহাসের সাক্ষী থাকলেন এই মেগা ইভেন্ট প্রমাণ করে দিল যে ভারত এখন আর কেবল জলবায়ু পরিবর্তনের শিকার নয় বরং ভারত আজ আধুনিক প্রযুক্তির সাহায্যে প্রকৃতির এই বিশাল পরিবর্তনকে মানিয়ে নিয়ে মানুষের কল্যাণে নতুন জীবনযাত্রা তৈরি করার ক্ষেত্রে বিশ্বের একচ্ছত্র নেতা এবং পথপ্রদর্শক হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছে

জলনিধি ভাসমান শহরের ইঞ্জিনিয়ারিং এবং প্রযুক্তিগত বিশালতা সাধারণ মানুষের কল্পনার অতীত এই শহরটি কোনো সাধারণ জাহাজ বা নৌকো নয় এটি হলো সমুদ্রের বুকে ভেসে থাকা এক বিশাল ম্যানগ্রোভ অরণ্যের মতো যার শিকড় নেই কিন্তু এটি অত্যন্ত শক্তিশালী নোঙর এবং আধুনিক স্ট্যাবিলাইজেশন সিস্টেমের মাধ্যমে সমুদ্রের নির্দিষ্ট স্থানে স্থির থাকে এই শহরের ভিত্তি তৈরি করা হয়েছে বিশেষ ধরনের গ্রাফিন এবং কংক্রিটের মিশ্রণে তৈরি মডিউলার প্ল্যাটফর্ম দিয়ে যা ইস্পাতের চেয়েও শক্তিশালী কিন্তু ওজনে অনেক হালকা এবং সমুদ্রের নোনা জলে শত বছরেও এর কোনো ক্ষতি হবে না এই প্ল্যাটফর্মগুলো একে অপরের সাথে যুক্ত হয়ে এক বিশাল ভাসমান ভূখণ্ড তৈরি করেছে যার ওপর বহুতল ভবন পার্ক রাস্তাঘাট এবং কৃষি খামার গড়ে তোলা হয়েছে সবচেয়ে আশ্চর্যজনক বিষয় হলো আরব সাগরের বিশাল ঢেউ বা ঘূর্ণিঝড়ের সময়ও এই শহরটি অত্যন্ত স্থিতিশীল থাকে কারণ এর নিচে থাকা বিশাল বিশাল হাইড্রোলিক শকব যা ঢেউয়ের শক্তিকে শোষণ করে নেয় এবং শহরের বাসিন্দারা কোনো রকম দুলুনি অনুভব করেন না এই শহরের নকশা এমনভাবে করা হয়েছে যে এটি সমুদ্রের বাস্তুতন্ত্রের কোনো ক্ষতি করে না বরং এর নিচের অংশে কৃত্রিম প্রবাল প্রাচীর তৈরি করা হয়েছে যেখানে লক্ষ লক্ষ সামুদ্রিক প্রাণী আশ্রয় নিয়েছে যা সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্য রক্ষায় এক নতুন নজির স্থাপন করেছে

এই ভাসমান শহর জলনিধি হলো বিশ্বের প্রথম সম্পূর্ণ কার্বন নিরপেক্ষ এবং জিরো ওয়েস্ট বা শূন্য বর্জ্য শহর এখানে বসবাসের জন্য প্রয়োজনীয় সমস্ত শক্তি শহরটি নিজেই উৎপাদন করে শহরের প্রতিটি ভবনের ছাদ এবং বাইরের দেওয়ালে লাগানো আছে অত্যাধুনিক স্বচ্ছ সোলার প্যানেল যা দিনের বেলায় সূর্যের আলো থেকে বিদ্যুৎ তৈরি করে এছাড়া শহরের চারপাশে সমুদ্রের ঢেউ থেকে বিদ্যুৎ তৈরি করার জন্য বসানো হয়েছে বিশাল বিশাল ওয়েভ এনার্জি কনভার্টার যা চব্বিশ ঘণ্টা নিরবচ্ছিন্নভাবে শক্তি জোগান দেয় এই শহরে কোনো জীবাশ্ম জ্বালানি চালিত গাড়ি চলে না যাতায়াতের জন্য ব্যবহার করা হয় ব্যাটারি চালিত ইলেকট্রিক পড এবং ওয়াটার ট্যাক্সি যা শহরের ভেতরের খালগুলো দিয়ে চলাচল করে পানীয় জলের সমস্যা সমাধানের জন্য এখানে রয়েছে বিশ্বের বৃহত্তম ভাসমান ডিস্যালিনেশন প্ল্যান্ট বা সমুদ্রের জল লোনা মুক্ত করার কারখানা যা সৌরশক্তি ব্যবহার করে প্রতিদিন লক্ষ লক্ষ লিটার বিশুদ্ধ পানীয় জল তৈরি করে শহরের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা অত্যন্ত বিজ্ঞানসম্মত এখানে উৎপাদিত সমস্ত জৈব বর্জ্যকে বায়োগ্যাস প্ল্যান্টে প্রক্রিয়াজাত করে শক্তি এবং সার তৈরি করা হয় এবং প্লাস্টিক বা অন্যান্য বর্জ্যকে রিসাইকেল করে নতুন নির্মাণ সামগ্রী তৈরি করা হয় যার ফলে এক টুকরো আবর্জনাও সমুদ্রে ফেলা হয় না এটি হলো টেকসই জীবনযাত্রার এক চূড়ান্ত নিদর্শন যা আগামী প্রজন্মের জন্য এক নতুন পথ প্রশস্ত করল

এই বিশাল আন্তর্জাতিক মানের মেগা প্রজেক্ট পরিচালনার জন্য কর্পোরেট এবং প্রযুক্তি দুনিয়ায় ব্যাপক কর্মসংস্থানের সৃষ্টি হয়েছে বিশেষ করে ব্লু ইকোনমি বা নীল অর্থনীতি মেরিন বায়োলজি এবং রিমোট মনিটরিং এর ক্ষেত্রে বহুমুখী কাজের চাহিদা এত বেড়ে গেছে যে বিভিন্ন গ্লোবাল এনভায়রনমেন্টাল এবং লজিস্টিক কোম্পানি প্রচুর পরিমাণে তরুণদের নিয়োগ করছে এই কোম্পানিগুলোতে জুনিয়র মাল্টিটাস্কিং এক্সিকিউটিভ পদের এখন বিপুল চাহিদা একজন জুনিয়র মাল্টিটাস্কিং এক্সিকিউটিভ একই সাথে শহরের এআই কন্ট্রোল রুমের ডেটা বিশ্লেষণ করেন সমুদ্রের জলের গুণমান পরীক্ষা করেন এবং বিদেশের বিভিন্ন ক্লায়েন্টদের সাথে যোগাযোগ রক্ষা করেন এই বহুমুখী কাজের কারণে কোম্পানিগুলো তরুণদের অত্যন্ত আকর্ষণীয় বেতনের প্যাকেজ দিচ্ছে অনেক ভারতীয় তরুণ এই ভাসমান শহরের ডিজিটাল কাজ সামলানোর জন্য সরাসরি সুইজারল্যান্ড এবং ইউরোপের বিভিন্ন দেশের মেরিন রিসার্চ ইনস্টিটিউট এবং লজিস্টিক কোম্পানির সাথে রিমোট ওয়ার্কের মাধ্যমে যুক্ত হচ্ছেন যা তাদের ঘরে বসেই সুইস ফ্র্যাঙ্ক বা বিদেশি মুদ্রা উপার্জনের এক বিশাল সুযোগ করে দিয়েছে এর ফলে ভারতের তরুণরা আর দেশের বাইরে না গিয়েও বিদেশের উন্নত কর্মসংস্কৃতির সাথে কাজ করতে পারছেন এবং অর্থনৈতিকভাবে প্রবল স্বাধীন হচ্ছেন যা তাদের আগামী দিনে সুইজারল্যান্ডে পাকাপাকিভাবে স্থানান্তরিত হওয়ার স্বপ্ন পূরণের পথে এক বিরাট পদক্ষেপ হিসেবে কাজ করছে

পর্যটন এবং নতুন ধরনের জীবনযাত্রাকে সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার জন্য সোশ্যাল মিডিয়া এবং ডিজিটাল কন্টেন্ট ক্রিয়েশনের জগতেও এই ভাসমান শহর এক বিশাল বিপ্লব ঘটিয়েছে বড় বড় ট্রাভেল ব্র্যান্ড এবং রিয়েল এস্টেট কোম্পানিগুলো এখন প্রথাগত বিজ্ঞাপনের বদলে ইউজিসি অ্যাডস বা ইউজার জেনারেটেড কন্টেন্টের ওপর সবচেয়ে বেশি জোর দিচ্ছে তরুণ কন্টেন্ট ক্রিয়েটররা এখন নিজেদের ফেসবুক পেজ এর মাধ্যমে এই শহরের ফিউচারিস্টিক জীবনযাত্রা সমুদ্রের মাঝখানে বসবাসের রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতা এবং জলের নিচের রেস্তোরাঁর ভিডিও শেয়ার করছেন তারা এমন ভিডিও বানাচ্ছেন যেখানে সমুদ্রের ঢেউয়ের সাথে তাল মিলিয়ে চলা জীবন এবং অত্যাধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার সাধারণ মানুষের কাছে অত্যন্ত আকর্ষণীয়ভাবে তুলে ধরা হচ্ছে এবং এই ভিডিওগুলো কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই সোশ্যাল মিডিয়ায় ব্যাপক ভাইরাল হয়ে যাচ্ছে ফেসবুক পেজ থেকে শুরু করে অন্যান্য সোশ্যাল প্ল্যাটফর্মে সর্বত্র এখন কেবল এই জলনিধি এর প্রচার এই ইউজিসি অ্যাডসগুলো তৈরি করে তরুণ কন্টেন্ট ক্রিয়েটররা প্রচুর অর্থ উপার্জন করছেন এবং নিজেদের স্বাধীন ক্যারিয়ার তৈরি করছেন তারা বুঝতে পেরেছেন যে ডিজিটাল যুগে মানুষের সত্যিকারের বিস্ময় এবং নতুন অভিজ্ঞতাই হলো সবচেয়ে শক্তিশালী কন্টেন্ট

এই উপার্জিত অর্থ এবং সমুদ্রের মাঝখানের এই অপূর্ব সুন্দর পরিবেশ তরুণ সৃজনশীল মানুষদের স্বপ্ন পূরণের এক নতুন পথ খুলে দিয়েছে অনেক স্বাধীন চলচ্চিত্র নির্মাতা বা ইন্ডিপেন্ডেন্ট ফিল্মমেকার যারা টাকার অভাবে তাদের মনের মতো সিনেমা বানাতে পারতেন না তারা এখন ফেসবুক পেজ এবং ইউজিসি অ্যাডস থেকে আয় করা টাকা সরাসরি তাদের নিজেদের শর্ট ফিল্ম প্রোজেকশনে বিনিয়োগ করছেন অনেক তরুণ নির্মাতা এই ভাসমান শহরের আধুনিক স্থাপত্য এবং চারপাশের অনন্ত জলরাশিকেই তাদের সিনেমার প্রেক্ষাপট হিসেবে ব্যবহার করছেন উদাহরণস্বরূপ এক তরুণ নির্মাতা এমন একটি সাইকোলজিক্যাল থ্রিলার বা মনস্তাত্ত্বিক শর্ট ফিল্ম তৈরি করছেন যার নাম দ্য গ্লাস কেজ বা কাঁচের খাঁচা যেখানে একটি চরিত্র সমুদ্রের মাঝখানে এক অত্যাধুনিক ভাসমান অ্যাপার্টমেন্টে আটকে পড়া এক অদ্ভুত মানসিক অবস্থার মধ্যে দিয়ে যায় যেখানে সে বুঝতে পারে না যে সে প্রকৃতির মাঝে আছে নাকি প্রযুক্তির খাঁচায় এই ধরনের গভীর এবং চিন্তাশীল সিনেমা বানানোর জন্য যে মানসিক স্বাধীনতা এবং প্রযুক্তির প্রয়োজন তা তারা এখন নিজেদের উপার্জিত অর্থ থেকেই পাচ্ছেন এবং অত্যন্ত কম বাজেটে এমন বিশ্বমানের শর্ট ফিল্ম তৈরি করছেন যা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে ভারতের নাম উজ্জ্বল করছে

news image
আরও খবর

চলচ্চিত্র নির্মাণের ক্ষেত্রে এখন আর বড় বড় স্টুডিও বা দামি এডিটিং প্যানেলের দরকার নেই তরুণ নির্মাতারা তাদের নিজেদের ভাসমান অ্যাপার্টমেন্টের ব্যালকনিতে বসেই তাদের অ্যাপল আইপ্যাড প্রো বা উন্নত ট্যাবলেট ব্যবহার করে ফোরকে রেজোলিউশনের ভিডিও এডিটিং করছেন আইপ্যাড প্রো এর শক্তিশালী প্রসেসরের সাহায্যে তারা সমুদ্রের নীল জল এবং সূর্যাস্তের সোনালি আলোর বৈপরীত্যকে অত্যন্ত নিখুঁতভাবে কালার গ্রেডিং করছেন এবং সিনেমা বা বিজ্ঞাপনের জন্য স্পেশাল ভিজ্যুয়াল এফেক্টস তৈরি করছেন অরিজিনাল ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিক বা আবহসংগীত তৈরি করার ক্ষেত্রেও তারা অভিনব পদ্ধতি নিচ্ছেন অনেক তরুণ মিউজিশিয়ান সমুদ্রের ঢেউয়ের গর্জন বাতাসের শব্দ এবং ইলেকট্রিক ওয়াটার ট্যাক্সির মৃদু গুঞ্জন রেকর্ড করে তা ডিজিটালভাবে মিক্সিং করে তাদের শর্ট ফিল্ম দ্য গ্লাস কেজ এর জন্য সম্পূর্ণ নতুন ধরনের অ্যাকোয়াটিক অ্যাম্বিয়েন্ট মিউজিক তৈরি করছেন এই অরিজিনাল সাউন্ডট্র্যাকগুলো তাদের শর্ট ফিল্মকে এক আলাদা মাত্রা দিচ্ছে এবং দর্শকদের মনে এক গভীর রেখাপাত করছে সৃজনশীলতার এই জোয়ার প্রমাণ করে যে সঠিক পরিবেশ এবং প্রযুক্তি থাকলে মানুষের কল্পনা যেকোনো সীমা অতিক্রম করতে পারে

তরুণ প্রজন্মের বিনোদনের পদ্ধতিতেও এই উন্নত ভাসমান শহর এক বড় পরিবর্তন এনেছে যারা ভিডিও গেম খেলতে ভালোবাসেন তাদের জন্য এই শহর এক নতুন গেমিং স্বর্গ তৈরি করেছে সমুদ্রের নিচে দিয়ে আসা বিশাল ফাইবার অপটিক কেব্‌ল এবং শহরের নিজস্ব ফাইভ জি স্যাটেলাইট নেটওয়ার্কের কারণে গেমাররা এখন জিরো ল্যাটেন্সি বা কোনো রকম বাফারিং ছাড়াই গ্লোবাল সার্ভারে গেম খেলতে পারছেন যারা স্পোর্টস গেম ভালোবাসেন তারা ইফুটবল এর মতো গেমে মেতে আছেন অনেক তরুণ যারা বাস্তবের মাঠে গিয়ে ফুটবল খেলার পাশাপাশি ভার্চুয়াল জগতেও ফুটবল খেলতে ভালোবাসেন তারা এই গেমে নিজেদের মোহনবাগান ড্রিম টিম তৈরি করার জন্য বিভিন্ন ম্যানেজার চয়েস এবং টিম বিল্ডিং স্ট্র্যাটেজি নিয়ে বন্ধুদের সাথে দীর্ঘ আলোচনা করছেন এবং নিজেদের স্বপ্নের দল তৈরি করে আন্তর্জাতিক স্তরে খেলছেন এই গেমগুলোতে তারা বিদেশের খেলোয়াড়দের হারিয়ে প্রচুর আনন্দ এবং পুরস্কার পাচ্ছেন তরুণ প্রজন্মের ফ্যাশন এবং জীবনযাত্রার ওপরও আধুনিক অ্যানিমে এবং পপ সংস্কৃতির গভীর প্রভাব পড়েছে অনেক তরুণ যারা বিখ্যাত অ্যানিমে অ্যাটাক অন টাইটান এর জনপ্রিয় চরিত্র এরেন ইয়েগার এর মতো লম্বা চুল রেখে নিজেদের এক স্বাধীন এবং আধুনিক লুক দিচ্ছেন তারা এই নতুন স্টাইল নিয়েই সমুদ্রের ধারে বসে গেমিং লাইভ স্ট্রিম করছেন এবং ভাসমান শহরের জীবন নিয়ে ট্রেন্ডিং ভ্লগ তৈরি করছেন তাদের এই স্বাধীন এবং ছকভাঙা জীবনযাপন অন্যান্য তরুণদেরও নিজেদের প্যাশন অনুসরণ করতে অনুপ্রাণিত করছে

শিক্ষাব্যবস্থা এবং দক্ষতা উন্নয়নের ক্ষেত্রে এই মেগা প্রজেক্ট এক বিশাল এবং নীরব পরিবর্তন এনেছে নেতাজি সুভাষ মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় বা এনএসওইউ এর মতো স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠানগুলোর ছাত্রছাত্রীরা যারা দূরশিক্ষার মাধ্যমে পড়াশোনা করেন তারা এখন এই জলনিধি শহরকে তাদের লাইভ কেস স্টাডি হিসেবে ব্যবহার করছেন এনএসওইউ থেকে যারা পরিবেশ বিজ্ঞান বা নগর পরিকল্পনা নিয়ে পড়াশোনা করছেন তারা এখন ক্লাউড প্রযুক্তির মাধ্যমে এই শহরের এআই সার্ভার থেকে সরাসরি ডেটা নিয়ে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি এবং টেকসই উন্নয়নের প্রভাব নিয়ে গবেষণা করছেন প্রথাগত বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞানের ছাত্রছাত্রীদের মতোই তারা এখন বাড়িতে বসে আধুনিক ব্লু ইকোনমির মতো জটিল বিষয় শিখতে পারছেন এই প্রযুক্তি প্রমাণ করেছে যে মেধা থাকলে এবং সঠিক ডিজিটাল পরিকাঠামো পেলে কোনো বিশ্ববিদ্যালয় বা শিক্ষার্থীর অবস্থান কখনোই তাদের উচ্চশিক্ষার পথে বাধা হতে পারে না এটি ভারতের শিক্ষাব্যবস্থায় এক গণতান্ত্রিক বিপ্লব এনেছে যেখানে মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন ছাত্রও দেশের সবচেয়ে বড় এবং আধুনিক প্রজেক্টের সাথে সরাসরি যুক্ত হতে পারছে

জলনিধি শহরের ভেতরে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য এক অভিনব ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে শহরের প্রতিটি বহুতল ভবনের ভেতরে রয়েছে বিশাল বিশাল ভার্টিক্যাল ফার্ম বা উল্লম্ব খামার যেখানে মাটি ছাড়াই কেবল পুষ্টিকর জল এবং কৃত্রিম আলোর সাহায্যে শাকসবজি এবং ফলমূল চাষ করা হয় একে বলা হয় হাইড্রোপনিক্স এবং অ্যারোপনিক্স পদ্ধতি এর ফলে শহরের বাসিন্দারা সারা বছর ধরে সম্পূর্ণ তাজা এবং রাসায়নিক মুক্ত খাবার পান এছাড়া সমুদ্রের নিচের অংশে তৈরি করা হয়েছে বিশাল অ্যাকোয়াকালচার ফার্ম যেখানে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে মাছ এবং অন্যান্য সামুদ্রিক খাবার চাষ করা হয় এর ফলে এই শহরটি খাদ্যের জন্য স্থলভাগের ওপর নির্ভরশীল নয় যা একে প্রকৃত অর্থেই আত্মনির্ভর করে তুলেছে

আন্তর্জাতিক রাজনীতি এবং জলবায়ু কূটনীতির ক্ষেত্রে ভারতের এই সমুদ্র জয়ের সাফল্য এক বিশাল আলোড়ন সৃষ্টি করেছে মালদ্বীপ ফিজি এবং বাংলাদেশের মতো উপকূলীয় দেশগুলো যারা সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির কারণে অস্তিত্বের সংকটে ভুগছে তারা আজ ভারতের এই সম্পূর্ণ নিজস্ব এবং সাশ্রয়ী প্রযুক্তির সাফল্য দেখে রীতিমতো আশান্বিত পৃথিবীর কোনো দেশ আজ পর্যন্ত এত বড় স্কেলে সমুদ্রের বুকে সম্পূর্ণ স্বয়ংক্রিয় এবং টেকসই শহর তৈরি করতে পারেনি ভারত সরকার ঘোষণা করেছে যে তারা বসুধৈব কুটুম্বকম বা সমগ্র বিশ্ব এক পরিবার এই নীতির ভিত্তিতে বিশ্বের সমস্ত বন্ধু রাষ্ট্রের সাথে এই প্রযুক্তির সুবিধা ভাগ করে নেবে অনেক উন্নয়নশীল দেশ এখন ভারতের এই জলনিধি মডেল নিজেদের উপকূলে বাস্তবায়ন করার জন্য প্রবল আগ্রহ প্রকাশ করছে এটি ভারতের সফট পাওয়ার এবং আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক শক্তিকে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেছে ভারত আজ প্রমাণ করল যে তারা কেবল সমস্যা নিয়ে আলোচনা করে না বরং বিজ্ঞান এবং প্রযুক্তির সাহায্যে সেই সমস্যার স্থায়ী সমাধান সূত্র বের করে সমগ্র বিশ্বকে নেতৃত্ব দিতে প্রস্তুত

২০২৬ সালের ২৫শে ফেব্রুয়ারি দিনটি ভারতের নগর পরিকল্পনা পরিবেশ বিজ্ঞান এবং পরিকাঠামো উন্নয়নের ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায় হিসেবে চিরকাল স্মরণীয় হয়ে থাকবে আরব সাগরের বুকে সফলভাবে তৈরি হওয়া এই জলনিধি শহর কেবল গ্রাফিন সোলার প্যানেল আর প্রযুক্তির তৈরি একটি ভাসমান কাঠামো নয় এটি হলো কোটি কোটি মানুষের আশা আকাঙ্ক্ষা এবং জলবায়ু পরিবর্তনের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের এক জীবন্ত প্রতীক যে মুম্বাই একদিন সমুদ্রের গ্রাসে চলে যাওয়ার ভয়ে ছিল আজ সেই মুম্বাইয়ের উপকূল থেকেই ভবিষ্যতের নতুন সভ্যতার সূচনা হলো একজন সাধারণ জুনিয়র মাল্টিটাস্কিং এক্সিকিউটিভ থেকে শুরু করে একজন স্বাধীন শর্ট ফিল্ম নির্মাতা বা একজন মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র প্রত্যেকেই আজ এই নতুন নীল বিপ্লবের সুফল ভোগ করার সুযোগ পাচ্ছেন এবং নিজেদের জীবনকে নতুনভাবে সাজাচ্ছেন আমরা এখন এমন এক যুগে প্রবেশ করলাম যেখানে ভারতের বিজ্ঞানীদের মেধা যেকোনো প্রাকৃতিক বাধাকে অনায়াসে জয় করতে পারে ভারত আজ বিশ্বকে দেখিয়ে দিল যে সদিচ্ছা অসীম সাহস এবং আধুনিক প্রযুক্তি থাকলে সমুদ্রের উত্তাল ঢেউয়ের ওপরও নিরাপদ এবং টেকসই বাসমুলক গড়ে তোলা সম্ভব জয় বিজ্ঞান জয় পরিবেশ জয় ভারত

Preview image