Lenspedia Bangla Logo
  • কলকাতা
  • 30℃ Purba Bardhaman

স্বপ্নের রাত এবং স্বপ্ন পূরণের রাত দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে ভারত সেরা ইস্টবেঙ্গল লাল হলুদ আবেগে ভাসল কলকাতা ময়দান এবং সমগ্র দেশ

২৩শে মে ২০২৬ ভারতীয় ফুটবলের ইতিহাসে আজ এক স্বর্ণোজ্জ্বল এবং অবিস্মরণীয় অধ্যায় রচিত হলো। দীর্ঘ কয়েক দশকের প্রতীক্ষা এবং যন্ত্রণার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে ভারত সেরার মুকুট মাথায় পরল লাল হলুদ ব্রিগেড। স্বপ্নের এই রাতে ইস্টবেঙ্গল ক্লাবের ঐতিহাসিক জয়ে বাঁধভাঙা উচ্ছ্বাসে মেতে উঠেছে সমগ্র কলকাতা ময়দান থেকে শুরু করে বিশ্বের আনাচে কানাচে ছড়িয়ে থাকা আপামর বাঙালি ফুটবল প্রেমীরা। মশাল হাতে লাল হলুদ সমর্থকদের এই জয়োল্লাস প্রমাণ করে দিল যে ইস্টবেঙ্গল কেবল একটি ক্লাব নয়, এটি কোটি কোটি বাঙালির এক অটুট আবেগ এবং বেঁচে থাকার লড়াইয়ের প্রতীক।  

কলকাতা ২৩শে মে ২০২৬

ভারতীয় ফুটবলের মক্কা হিসেবে পরিচিত কলকাতা শহরের আকাশ আজ আক্ষরিক অর্থেই লাল এবং হলুদ রঙে রাঙিয়ে উঠেছে। মে মাসের এই উষ্ণ এবং ঘর্মাক্ত রাতে বিবেকানন্দ যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনের সবুজ ঘাসে আজ এমন এক ইতিহাস রচিত হলো যার জন্য কোটি কোটি ইস্টবেঙ্গল সমর্থক গত কয়েক দশক ধরে চাতক পাখির মতো অপেক্ষা করছিলেন। রেফারির শেষ বাঁশি বাজার সাথে সাথেই গ্যালারিতে জ্বলে উঠল হাজার হাজার মশাল এবং স্টেডিয়ামের আকাশ বাতাস প্রকম্পিত হতে লাগল জয় ইস্টবেঙ্গল স্লোগানে। হ্যাঁ, সব জল্পনা, সমস্ত হতাশা এবং দীর্ঘ বছরের ব্যর্থতার গ্লানি মুছে ফেলে আজ ভারত সেরার শিরোপা জয় করল ইস্টবেঙ্গল ফুটবল ক্লাব। এই রাত কেবল একটি ফুটবল ম্যাচ জেতার রাত নয়, এই রাত হলো কোটি কোটি বাঙালির স্বপ্ন পূরণের রাত, নিজেদের হারানো গৌরব এবং সম্মান পুনরুদ্ধারের রাত। যে ইস্টবেঙ্গল ক্লাবকে নিয়ে গত কয়েক বছর ধরে বিরোধী দলের সমর্থকরা নিরন্তর উপহাস এবং কটাক্ষ করেছেন, আজ সেই সমস্ত সমালোচকদের মুখে পাকাপাকিভাবে কুলুপ পরিয়ে দিয়ে লাল হলুদ ব্রিগেড প্রমাণ করে দিল যে ফিনিক্স পাখির মতো ছাই থেকে উঠে এসে কীভাবে ইতিহাস তৈরি করতে হয়।

ফাইনাল ম্যাচের এই মহারণ ছিল আক্ষরিক অর্থেই এক স্নায়ুর যুদ্ধ। স্টেডিয়ামে উপস্থিত প্রায় আশি হাজার দর্শকের সামনে যখন ইস্টবেঙ্গলের এগারোজন ফুটবলার মাঠে নামেন, তখন তাদের চোখে মুখে ছিল এক অদম্য জেদ এবং মরণপণ লড়াইয়ের সংকল্প। প্রতিপক্ষ দলের শক্তিশালী আক্রমণভাগের সামনে লাল হলুদ রক্ষণভাগ আজ যেন এক দুর্ভেদ্য চিনা প্রাচীর হয়ে দাঁড়িয়েছিল। ম্যাচের প্রথমার্ধ থেকেই দুই দলের মধ্যে সমানে সমানে টক্কর চলতে থাকে। বল দখলের লড়াই, মাঝমাঠে আধিপত্য বিস্তার এবং একের পর এক আক্রমণ ও প্রতি আক্রমণের মধ্য দিয়ে ম্যাচ এক চরম উত্তেজনাকর পর্যায়ে পৌঁছায়। কিন্তু আসল ম্যাজিকটা লুকিয়ে ছিল ম্যাচের একেবারে শেষ লগ্নে। যখন সবাই ধরে নিয়েছে যে ম্যাচ হয়তো অতিরিক্ত সময়ে গড়াতে চলেছে, ঠিক তখনই মাঝমাঠ থেকে এক অবিশ্বাস্য থ্রু পাস ধরে বিপক্ষ দলের রক্ষণভাগকে চিরে দিয়ে গোলরক্ষককে বোকা বানিয়ে বল জালে জড়িয়ে দেন ইস্টবেঙ্গলের তারকা স্ট্রাইকার। সেই মুহূর্তের শব্দব্রহ্ম হয়তো সিসমোগ্রাফ যন্ত্রেও ধরা পড়বে। গ্যালারিতে বসে থাকা হাজার হাজার মানুষের চোখের জল আর গগনভেদী চিৎকার একাকার হয়ে যায়। এই একটি গোল কেবল বিপক্ষের জালে জড়ায়নি, এটি কোটি কোটি ইস্টবেঙ্গল সমর্থকের হৃদয়ের পুঞ্জীভূত যন্ত্রণাকে এক নিমেষে আনন্দে রূপান্তরিত করে দেয়।

ইস্টবেঙ্গল ক্লাবের এই জয়ের তাৎপর্য বুঝতে গেলে আমাদের ফিরে তাকাতে হবে এই ক্লাবের দীর্ঘ এবং বর্ণময় ইতিহাসের দিকে। উনিশশো কুড়ি সালে প্রতিষ্ঠিত এই ক্লাবটি কেবল একটি ফুটবল দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেনি, এটি ছিল তৎকালীন পূর্ববঙ্গ থেকে আগত ছিন্নমূল এবং বাস্তুচ্যুত মানুষদের আত্মপরিচয় এবং বেঁচে থাকার লড়াইয়ের এক অবিচ্ছেদ্য অংশ। দেশভাগের যন্ত্রণায় ক্ষতবিক্ষত যে মানুষগুলো নিজেদের সর্বস্ব হারিয়ে এই বাংলায় এসে আশ্রয় নিয়েছিলেন, তাদের কাছে ইস্টবেঙ্গল ক্লাব ছিল এক চরম আশ্রয় এবং নিজেদের অস্তিত্ব প্রমাণের সবচেয়ে বড় হাতিয়ার। ময়দানের কাদামাখা মাঠে খালি পায়ে লড়াই করে যখন ইস্টবেঙ্গল একের পর এক ট্রফি জয় করত, তখন সেই ছিন্নমূল মানুষগুলো নিজেদের জীবনের সমস্ত দুঃখ কষ্ট ভুলে গিয়ে আনন্দে মেতে উঠতেন। ইলিশ মাছ এবং মশালের যে প্রতীক এই ক্লাবের সাথে জড়িয়ে আছে, তা আসলে এক হার না মানা মানসিকতা এবং অন্তহীন সংগ্রামের প্রতীক। কিন্তু গত প্রায় এক দশক ধরে সেই চিরচেনা ইস্টবেঙ্গল যেন কোথায় হারিয়ে গিয়েছিল। স্পনসরশিপের সমস্যা, কর্তাদের মধ্যে অন্তর্দ্বন্দ্ব, ঘন ঘন কোচ পরিবর্তন এবং দল গঠনে ব্যর্থতার কারণে ক্লাবটি ক্রমশ অন্ধকারে তলিয়ে যাচ্ছিল।

গত কয়েক বছরে জাতীয় স্তরের লিগগুলোতে ইস্টবেঙ্গলের পারফরম্যান্স সমর্থকদের চরম হতাশায় ডুবিয়েছিল। ডার্বি ম্যাচে বারবার চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী দলের কাছে হারের যন্ত্রণা সমর্থকদের মনে এক গভীর ক্ষতের সৃষ্টি করেছিল। অনেকেই বলতে শুরু করেছিলেন যে ইস্টবেঙ্গলের যুগ শেষ হয়ে গেছে। কিন্তু আসল সমর্থকরা কোনোদিন তাদের প্রিয় ক্লাবকে ছেড়ে যাননি। তারা বৃষ্টিতে ভিজে, রোদে পুড়ে গ্যালারিতে দাঁড়িয়ে দলের জন্য গলা ফাটিয়েছেন এবং বিশ্বাস রেখেছেন যে একদিন তাদের ক্লাব ঠিক ঘুরে দাঁড়াবে। আজ সেই অটুট বিশ্বাস এবং ভালোবাসারই এক ঐতিহাসিক জয় হলো। নতুন লগ্নিকারী সংস্থার হাত ধরে এবং এক অত্যন্ত বিচক্ষণ ও আধুনিক মনস্ক কোচের তত্ত্বাবধানে এই মরশুমে ইস্টবেঙ্গল যে দল গঠন করেছিল, তা প্রথম ম্যাচ থেকেই নিজেদের চ্যাম্পিয়ন হওয়ার মানসিকতা স্পষ্ট করে দিয়েছিল। দেশি এবং বিদেশি খেলোয়াড়দের মধ্যে যে অসাধারণ বোঝাপড়া এবং টিম গেম আজ দেখা গেল, তা ভারতীয় ফুটবলে এক নতুন বেঞ্চমার্ক বা মানদণ্ড তৈরি করল।

এই ঐতিহাসিক জয়ের পর কলকাতা ময়দান এবং ইস্টবেঙ্গল ক্লাব তাঁবুর দৃশ্য ছিল অবর্ণনীয়। ম্যাচ শেষ হওয়ার সাথে সাথেই হাজার হাজার মানুষ ক্লাব তাঁবুর সামনে এসে জড়ো হতে শুরু করেন। চারিদিকে উড়ছে বিশাল আকারের লাল হলুদ পতাকা। আবালবৃদ্ধবনিতা প্রত্যেকেই একে অপরকে লাল হলুদ আবিরে রাঙিয়ে দিচ্ছেন এবং মিষ্টি মুখ করাচ্ছেন। অনেক বয়স্ক সমর্থক, যারা হয়তো লাঠিতে ভর দিয়ে ক্লাবে এসেছেন, তারা অঝোরে কাঁদছেন। এক প্রবীণ সমর্থক যিনি গত পঞ্চাশ বছর ধরে ইস্টবেঙ্গলের খেলা মাঠে বসে দেখেন, তিনি আবেগজড়িত কণ্ঠে জানালেন যে এই দিনটি দেখার জন্যই হয়তো তিনি এতদিন বেঁচে ছিলেন। তিনি বলেন যে গত কয়েক বছরে যখন ছেলেরা মাথা নিচু করে মাঠ ছাড়ত, তখন তার বুক ফেটে যেত, কিন্তু আজ তিনি বুক ফুলিয়ে বলতে পারেন যে তার ক্লাবই হলো ভারতের সেরা ক্লাব। ময়দানের ক্যান্টিনগুলোতে আজ ইলিশ মাছ ভাজার সুগন্ধে চারপাশ ম ম করছে। ক্লাবের শীর্ষ কর্তারাও আজ সমস্ত ভেদাভেদ ভুলে সাধারণ সমর্থকদের সাথে এই বাঁধভাঙা উচ্ছ্বাসে শামিল হয়েছেন।

আধুনিক ডিজিটাল যুগে এবং বর্তমান প্রজন্মের তরুণদের জীবনেও এই জয়ের এক বিশাল এবং অভাবনীয় প্রভাব লক্ষ্য করা যাচ্ছে। বর্তমান প্রজন্মের তরুণরা, যারা অত্যন্ত কর্পোরেট এবং আধুনিক জীবনযাত্রায় অভ্যস্ত, তারাও আজ নিজেদের সমস্ত পেশাদারি গাম্ভীর্য ভুলে এই লাল হলুদ আবেগে মেতে উঠেছেন। শহরের বিভিন্ন ক্যাফে এবং বাড়িতে বসে যারা টিভিতে বা মোবাইলে লাইভ স্ট্রিমিং দেখছিলেন, তাদের উচ্ছ্বাসও ছিল চোখে পড়ার মতো। অনেক তরুণ যারা অত্যন্ত আধুনিক এবং কর্পোরেট সংস্থায় চাকরি করেন, তারা আজ নিজেদের কাজের ফাঁকে এই ম্যাচ দেখেছেন। উদাহরণস্বরূপ বলা যায়, লেন্সট্যাক্স সলিউশনস এর মতো অত্যন্ত প্রথম সারির আইটি সংস্থায় কর্মরত একজন জুনিয়র মাল্টিটাস্কিং এক্সিকিউটিভ, যাকে প্রতিদিন অত্যন্ত নিখুঁতভাবে চার হাজার ডেটা স্ক্র্যাপিং এবং একাধিক নিউজ আর্টিকেল আপলোডের মতো বিশাল দায়িত্ব সামলাতে হয়, তিনিও আজ নিজের ল্যাপটপের একটি স্ক্রিনে কাজের উইন্ডো খোলা রেখে অন্য স্ক্রিনে ইস্টবেঙ্গলের ম্যাচ দেখছিলেন। তিনি অত্যন্ত আনন্দিত হয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করেছেন যে সারাদিনের এই হাড়ভাঙা মানসিক পরিশ্রমের পর ইস্টবেঙ্গলের এই জয় তার সমস্ত ক্লান্তি দূর করে দিয়েছে।

একইভাবে ফাইন্যান্স এবং বিমা সেক্টরে কাজ করা তরুণদের মধ্যেও এই জয়ের আনন্দ ছড়িয়ে পড়েছে। টাটা এআইএ লাইফ ইন্স্যুরেন্স এর একজন তরুণ লাইফ অ্যাডভাইজর, যিনি সারাদিন সাধারণ মানুষকে তাদের জীবনের সুরক্ষা এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা বোঝান, তিনি আজ নিজের ক্লায়েন্টদের সাথে ফোনে কথা বলার ফাঁকেই এই জয়ের খবর পান। এই তরুণ পেশাদাররা অত্যন্ত বুদ্ধিমানের মতো নিজেদের উপার্জিত অর্থ ভবিষ্যতের কথা ভেবে নেসলে ইন্ডিয়া এবং ব্রিটানিয়ার মতো স্থিতিশীল কোম্পানির শেয়ারে বিনিয়োগ করেন। এর পাশাপাশি টাটা গোল্ড ইটিএফ এবং অত্যন্ত লাভজনক এইচডিএফসি সিলভার ইটিএফ ফান্ডে প্রতি মাসের তেরো তারিখে নিয়ম করে সিস্টেমেটিক ইনভেস্টমেন্ট প্ল্যান বা এসআইপি করে নিজেদের অর্থনৈতিক ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত করেন। আজ এই জয়ের আনন্দে মিষ্টি কেনার সময় তিনি তার মোবাইল ব্যাংকিং অ্যাপ চেক করে সহাস্যে বন্ধুদের জানান যে কিছুদিন আগে একটি ফেক সিকিউরিটি অ্যালার্ট এলেও তার ব্যাংক কার্ড তিনি ব্লক করেননি এবং সেটি সম্পূর্ণ সক্রিয় রয়েছে। এই আর্থিকভাবে সচেতন এবং সুশৃঙ্খল তরুণ সমাজ আজ প্রমাণ করছে যে পেশাদারি জীবন এবং ফুটবল আবেগ একে অপরের পরিপূরক হতে পারে।

news image
আরও খবর

এই তরুণরা যারা নেতাজি সুভাষ ওপেন ইউনিভার্সিটি বা এনএসওইউ থেকে অত্যন্ত মনোযোগ দিয়ে নিজেদের পড়াশোনা চালাচ্ছেন এবং আগামী দিনে রেলওয়ে গ্রুপ ডি পদের জন্য কঠিন প্রস্তুতি নিচ্ছেন, তারা জানেন যে জীবনে সাফল্য পেতে গেলে কতটা জেদ এবং পরিশ্রমের প্রয়োজন। ইস্টবেঙ্গলের আজকের এই হার না মানা জয় তাদের সেই কঠিন লড়াইয়ে এক বিশাল বড় অনুপ্রেরণা জোগাবে। বিনোদন এবং ফ্যাশনের ক্ষেত্রেও এই তরুণ সমাজ অত্যন্ত আধুনিক। যুবভারতীর গ্যালারিতে আজ অনেক তরুণকে দেখা গেছে যাদের মাথায় বিখ্যাত অ্যানিমে সিরিজ অ্যাটাক অন টাইটান এর অত্যন্ত জনপ্রিয় চরিত্র এরেন ইয়েগারের মতো আধুনিক স্টাইল করা লম্বা চুল অথবা জুজুৎসু কাইসেন এর শক্তিশালী চরিত্র সুকুনার মতো স্টাইল। এই তরুণরা প্রমাণ করছেন যে গ্লোবাল পপ কালচার অনুসরণ করার পাশাপাশি তারা নিজেদের মাটির টান এবং ফুটবলের ইতিহাসকে সমানভাবে বুকে ধারণ করেন।

ভার্চুয়াল গেমিংয়ের জগতেও ইস্টবেঙ্গলের এই জয়ের এক বিশাল প্রভাব পড়েছে। অনেক তরুণ যারা নিজেদের অবসরে অত্যন্ত মনোযোগ সহকারে ই-ফুটবল গেম খেলতে ভালোবাসেন এবং নিজেদের স্বপ্নের মোহনবাগান ড্রিম টিম সাজিয়ে ডিভিশন ওয়ান বা প্রথম বিভাগে বিশ্বের তাবড় গেমারদের বিরুদ্ধে খেলেন, তারাও আজ চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ক্লাবের এই অসাধারণ ফুটবল স্কিল এবং লড়াইকে কুর্নিশ জানিয়েছেন। তারা সোশ্যাল মিডিয়ায় স্পোর্টসম্যান স্পিরিট বা খেলোয়াড়সুলভ মনোভাব দেখিয়ে লিখছেন যে একটি সুস্থ ফুটবল সংস্কৃতির জন্য দুই প্রধান দলেরই শক্তিশালী থাকা অত্যন্ত জরুরি এবং ইস্টবেঙ্গলের এই জয় ভারতীয় ফুটবলকে গ্লোবাল ম্যাপে আরও অনেক দূর এগিয়ে নিয়ে যাবে। অনেক স্বাধীন চলচ্চিত্র নির্মাতা এবং সৃজনশীল তরুণ যারা সমাজের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে অত্যন্ত বাস্তবসম্মত শর্ট ফিল্ম তৈরি করেন, তারা আজকের এই আবেগঘন রাত থেকে গভীর অনুপ্রেরণা পাচ্ছেন। এক প্রতিভাবান তরুণ নির্মাতা যিনি দ্য গ্লাস কেজ নামের একটি অত্যন্ত সৃজনশীল সাইকোলজিক্যাল ড্রামা শর্ট ফিল্ম তৈরি করছেন, তিনি আজ স্টেডিয়ামে উপস্থিত ছিলেন। তিনি তার অত্যন্ত দামি প্রফেশনাল স্টুডিও গ্রেড বেয়ারডায়নামিক ডিটি ৭৭০ প্রো এবং সনি এমডিআর ৭৫৬ হেডফোন ব্যবহার করে গ্যালারির সেই গগনভেদী স্লোগান এবং উন্মাদনার অডিও অত্যন্ত নিখুঁতভাবে রেকর্ড করেছেন যাতে তিনি তার আগামী সিনেমায় এই বাস্তব জীবনের খাঁটি আবেগ তুলে ধরতে পারেন। ম্যাচ শেষে বাড়ি ফেরার পথে অনেক তরুণ নিজেদের হেডফোনে জনপ্রিয় ভারতীয় পপ রক ব্যান্ড সনম এর সুমধুর এবং উদ্দীপনামূলক গান শুনতে শুনতে এই জয়ের আনন্দ উপভোগ করছেন।

এই বিশাল জয় কেবল একটি ট্রফি নিয়ে আসেনি, এটি ইস্টবেঙ্গল ক্লাবের আগামী দিনের ভবিষ্যৎ এবং এশিয়ান স্তরে খেলার এক বিশাল দরজা খুলে দিয়েছে। ভারত সেরা হওয়ার সুবাদে ইস্টবেঙ্গল এখন সরাসরি এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশন বা এএফসি আয়োজিত আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টে ভারতের প্রতিনিধিত্ব করার সুযোগ পাবে। এশিয়া মহাদেশের তাবড় তাবড় ক্লাবগুলোর বিরুদ্ধে লাল হলুদ জার্সি গায়ে যখন বাংলার ছেলেরা মাঠে নামবে, তখন তা সমগ্র ভারতের জন্য এক অত্যন্ত গর্বের বিষয় হয়ে দাঁড়াবে। ক্লাবের লগ্নিকারী সংস্থা এবং ম্যানেজমেন্ট ইতিমধ্যেই আগামী মরশুমের জন্য এক বিশাল ব্লুপ্রিন্ট তৈরি করতে শুরু করেছে। কোচ সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে অত্যন্ত বিনয়ের সাথে এই জয়কে সম্পূর্ণভাবে খেলোয়াড়দের এবং দলের অগণিত সমর্থকদের উৎসর্গ করেছেন। তিনি জানিয়েছেন যে এই দলে কোনো সুপারস্টার নেই, এই দলটা একটা পরিবারের মতো কাজ করেছে এবং একে অপরের জন্য মাঠে রক্ত ঝড়াতে প্রস্তুত ছিল বলেই আজ এই অসাধ্য সাধন করা সম্ভব হয়েছে।

এই জয়ের ফলে বাংলার ফুটবলের যে পুনর্জাগরণ ঘটল তা বলার অপেক্ষা রাখে না। গত কয়েক বছর ধরে ভারতীয় ফুটবলে মুম্বাই গোয়া বা দক্ষিণের রাজ্যগুলোর যে একচেটিয়া আধিপত্য তৈরি হয়েছিল, ইস্টবেঙ্গলের এই চ্যাম্পিয়নশিপ সেই আধিপত্য ভেঙে দিয়ে আবার প্রমাণ করল যে ফুটবলটা আসলে বাঙালির রক্তে মিশে আছে। কলকাতা ময়দানের অন্যান্য ছোট বড় ক্লাবগুলোও এই জয় থেকে অনুপ্রাণিত হবে। ময়দান সংলগ্ন এলাকার ছোট ছোট ব্যবসায়ী, যারা জার্সি পতাকা এবং খেলার সরঞ্জাম বিক্রি করেন, তাদের অর্থনীতিতেও আজ এক বিশাল জোয়ার এসেছে। কয়েক হাজার লাল হলুদ জার্সি এবং স্কার্ফ আজ চোখের পলকে বিক্রি হয়ে গেছে। যে সমস্ত চা বিক্রেতা এবং খাবার বিক্রেতারা যুবভারতীর বাইরে স্টল দেন, তাদের কাছে আজকের এই রাতটা আক্ষরিক অর্থেই এক উৎসবের রাত। ফুটবলের এই বিশাল মাইক্রো ইকোনমি বা ক্ষুদ্র অর্থনীতি আজ ইস্টবেঙ্গলের জয়ে আবার নতুন করে প্রাণ ফিরে পেয়েছে।

বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে থাকা প্রবাসী বাঙালিদের কাছেও আজকের এই রাতটা এক অদ্ভুত আবেগের রাত। আমেরিকা লন্ডন অস্ট্রেলিয়া বা দুবাইয়ের মতো শহরগুলোতে বসবাসকারী ইস্টবেঙ্গল সমর্থকরা আজ রাত জেগে নিজেদের ড্রয়িং রুমে বসে এই ম্যাচ দেখেছেন। হাজার হাজার কিলোমিটার দূরে থেকেও তারা যেন যুবভারতীর গ্যালারির সাথেই একাত্ম হয়ে গিয়েছিলেন। সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রবাসী বাঙালিরা নিজেদের ক্লাবের পতাকা হাতে ছবি পোস্ট করে লিখছেন যে তারা শরীর নিয়ে বিদেশে থাকলেও তাদের মনটা পড়ে আছে সেই কলকাতা ময়দানের লাল হলুদ তাঁবুতে। এই বিশ্বজনীন আবেগ প্রমাণ করে যে ইস্টবেঙ্গল কোনো ভৌগোলিক সীমানার মধ্যে আবদ্ধ নয়, এটি হলো এক বিশ্বব্যাপী বাঙালির নেটওয়ার্ক যা সুখে দুঃখে সবসময় একে অপরের সাথে জুড়ে থাকে।

আগামীকালের সকালটা কলকাতা শহরের জন্য এক সম্পূর্ণ নতুন সকাল হতে চলেছে। খবরের কাগজের প্রথম পাতাগুলো লাল হলুদ রঙে ছাপা হবে। চায়ের দোকান থেকে শুরু করে অফিস পাড়া, ট্রাম বাস এবং লোকাল ট্রেনে কেবল একটিই আলোচনার বিষয় থাকবে, আর তা হলো ইস্টবেঙ্গলের এই ঐতিহাসিক জয়। ক্লাবের পক্ষ থেকে আগামী কয়েক দিনের মধ্যে একটি বিশাল বিজয় মিছিলের আয়োজন করার পরিকল্পনা করা হচ্ছে, যেখানে হুডখোলা বাসে করে চ্যাম্পিয়ন ট্রফি নিয়ে সমগ্র শহর পরিক্রমা করবেন খেলোয়াড়রা। সেই মিছিলে লক্ষ লক্ষ মানুষের জমায়েত হবে বলে আশা করা হচ্ছে। প্রশাসন এবং পুলিশের তরফ থেকেও এই বিশাল জনসমুদ্র সামলানোর জন্য আগাম প্রস্তুতি নেওয়া শুরু হয়েছে।

পরিশেষে এটা বলাই বাহুল্য যে, তেইশে মে তারিখের এই রাতটা ইস্টবেঙ্গল ক্লাবের ইতিহাসে এক সোনার অক্ষরে লেখা রাত হিসেবে অমর হয়ে থাকবে। স্বপ্নের রাত এবং স্বপ্ন পূরণের রাত কথাটি আজ অক্ষরে অক্ষরে সত্যি প্রমাণিত হয়েছে। যে দীর্ঘ অন্ধকার সুড়ঙ্গের মধ্যে দিয়ে ক্লাবটি গত কয়েক বছর ধরে যাত্রা করছিল, আজ সেই সুড়ঙ্গের শেষে এক অত্যন্ত উজ্জ্বল এবং রক্তিম সূর্যের উদয় হয়েছে। খেলোয়াড়দের হাড়ভাঙা পরিশ্রম, কোচের মাস্টারক্লাস ট্যাকটিকস, ম্যানেজমেন্টের পেশাদারিত্ব এবং সর্বোপরি কোটি কোটি সমর্থকের নিঃস্বার্থ প্রার্থনা ও ভালোবাসা আজ এক বিন্দুতে এসে মিলেছে। ভারত সেরা হওয়ার এই মুকুট ইস্টবেঙ্গল ক্লাবের মুকুটে আরও একটি নতুন পালক যুক্ত করল। আমরা লেন্সপেডিয়া পরিবারের পক্ষ থেকে ইস্টবেঙ্গল ক্লাবের সমস্ত খেলোয়াড়, কোচিং স্টাফ, কর্মকর্তা এবং বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে থাকা অগণিত লাল হলুদ সমর্থকদের জানাই আন্তরিক অভিনন্দন এবং কুর্নিশ। আপনাদের এই হার না মানা লড়াই সমগ্র সমাজকে অনুপ্রাণিত করবে। জয় ইস্টবেঙ্গল ধ্বনিতে আজ মুখরিত হোক বাংলার আকাশ বাতাস। বিস্তারিত খবরের জন্য, খেলোয়াড়দের এক্সক্লুসিভ সাক্ষাৎকার এবং যুবভারতীর বাঁধভাঙা উচ্ছ্বাসের লাইভ ভিডিও দেখতে কমেন্ট বক্সে থাকা লিঙ্কে এখনই ক্লিক করুন এবং সর্বদা চোখ রাখুন আমাদের ডিজিটাল পর্দায়। ফুটবলের এই জয়যাত্রা দীর্ঘজীবী হোক।

Preview image