আগেই সিরিজ নিশ্চিত ভারতের। হোয়াইটওয়াশ এড়াতে পেরেছে নিউজিল্যান্ডও ফলে পঞ্চম ও শেষ টি-২০ ম্যাচটি আর ফল নির্ধারণী নয়।
তিরুবনন্তপুরম: সিরিজ আগেই নিজেদের পকেটে পুরে ফেলেছে টিম ইন্ডিয়া। অন্য দিকে হোয়াইটওয়াশের লজ্জা এড়াতে শেষ মুহূর্তে ঘুরে দাঁড়াতে পেরেছে নিউজিল্যান্ড। ফলে শনিবার পঞ্চম তথা শেষ টি-২০ ম্যাচটি কার্যত নিয়মরক্ষার হলেও গুরুত্ব একেবারে ফুরিয়ে যায়নি। কারণ, এই ম্যাচের ঠিক এক সপ্তাহ পরেই শুরু হতে চলেছে টি-২০ বিশ্বকাপ অভিযান।
৭ ফেব্রুয়ারি বিশ্বকাপের মঞ্চে নামবে ভারত। তার আগে দল নিয়ে শেষবারের মতো পরীক্ষা-নিরীক্ষা করার এটাই একমাত্র সুযোগ। বিশেষ করে নতুন কোচ গৌতম গম্ভীর-এর কাছে এই ম্যাচ আলাদা তাৎপর্য বহন করছে। বিশ্বকাপের স্কোয়াড মোটামুটি স্থির হলেও প্রথম একাদশ, ওপেনিং জুটি, বোলিং কম্বিনেশন এবং ব্যাক-আপ প্ল্যান—সব কিছুর চূড়ান্ত ছক কষে নেওয়ার শেষ মঞ্চ এই তিরুবনন্তপুরম।
ভারতীয় টিম ম্যানেজমেন্টের সামনে সবচেয়ে বড় দু’টি চ্যালেঞ্জ—ওপেনিং জুটি এবং চোট সমস্যা। শুভমান গিলকে বাইরে রেখে সঞ্জু স্যামসনের উপর ভরসা রেখেছিলেন নির্বাচকরা। ঘরের ছেলে হিসেবে কেরলের মাঠে সঞ্জুর কাছ থেকে বড় ইনিংসের প্রত্যাশা ছিল। কিন্তু চার ম্যাচে সেই প্রত্যাশা পূরণ করতে ব্যর্থ তিনি। সর্বাধিক ইনিংস ২৪ রান—যা আন্তর্জাতিক টি-২০ মানদণ্ডে একেবারেই যথেষ্ট নয়।
সঞ্জুর ব্যাটিংয়ে ফুটওয়ার্কের সমস্যা চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়েছেন সুনীল গাভাসকর। বলের লাইনে পৌঁছতে না পারা, অফ স্টাম্পের বাইরে খোঁচা মারার প্রবণতা এবং শট সিলেকশনের ভুল—সব মিলিয়ে চাপ বাড়ছে তাঁর উপর। বিশ্বকাপের আগে ফর্মে ফেরা তাঁর কাছে বাধ্যতামূলক। সেই কারণেই ঘরের মাঠে আরও একবার সুযোগ পেতে পারেন সঞ্জু। সেক্ষেত্রে তিনি ওপেনিংয়েই নামবেন।
তবে এই ম্যাচেও যদি ব্যর্থ হন, তাহলে বিশ্বকাপে ওপেনিং কম্বিনেশন বদলে যেতে পারে। সেই জায়গায় জোরালো দাবিদার ঈশান কিষান। ঝাড়খণ্ডের এই বাঁ-হাতি ব্যাটার দুরন্ত ফর্মে রয়েছেন। যদিও চোটের কারণে আগের ম্যাচে খেলেননি, শনিবার তাঁর মাঠে নামার সম্ভাবনা প্রবল। না খেললে মাঝের সারিতে সুযোগ পেতে পারেন শ্রেয়স আয়ার, যিনি পুরো সিরিজেই কার্যত ডাগ-আউটে বসে ছিলেন।
চলতি সিরিজে ভারতের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদবের ফর্মে ফেরা। রায়পুরে অপরাজিত ৮২ এবং গুয়াহাটিতে অপরাজিত ৫৭ রান করে আত্মবিশ্বাসে ফিরেছেন তিনি। বিশ্বকাপের আগে অধিনায়কের ব্যাটে রান মানে গোটা দলের মানসিক শক্তি বেড়ে যাওয়া।
তিরুবনন্তপুরমের ম্যাচেও সূর্যের দিকে তাকিয়ে থাকবে ভারতীয় শিবির। তিনি যদি শুরু থেকে ছন্দে থাকেন, তাহলে কিউয়ি বোলারদের জন্য দিনটা কঠিন হয়ে উঠতে পারে। তাঁর চারপাশে রয়েছে একাধিক ম্যাচ উইনার—হার্দিক পান্ডিয়া, রিঙ্কু সিং ও শিবম দুবেরা। এঁরা তিনজনই নিজেদের দিনে একাই ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারেন।
গত ম্যাচে হারের ধাক্কা সামলে ফের জয়ের সরণিতে ফিরতে হলে মিডল অর্ডারকে আরও দায়িত্ব নিতে হবে। কারণ বিশ্বকাপে বড় ম্যাচে ব্যাটিং গভীরতাই ভারতের সবচেয়ে বড় অস্ত্র।
বিশ্বকাপ স্কোয়াডে থাকলেও ওয়াশিংটন সুন্দর ও তিলক ভার্মা পুরোপুরি ফিট নন। ম্যাচ কন্ডিশনে ফিরতে তাঁদের সময় লাগবে। তবে স্বস্তির খবর, চোট সারিয়ে শেষ ম্যাচে ফিরতে পারেন অক্ষর প্যাটেল। সেক্ষেত্রে বিশ্রাম দেওয়া হতে পারে হর্ষিত রানাকে। ওয়ান ডে সিরিজের পর টি-২০ সিরিজেও যথেষ্ট ধকল গিয়েছে তাঁর উপর।
পেস বিভাগে বুমরাহর সঙ্গে অর্শদীপ সিংয়ের জুটি ফের দেখা যেতে পারে। স্পিন বিভাগে কুলদীপ যাদব ও বরুণ চক্রবর্তীর মধ্যে একজনকে বেছে নেওয়ার সম্ভাবনা। তিরুবনন্তপুরমের উইকেট স্পিন সহায়ক হলে দ্বিতীয় স্পিনারের দিকেই ঝুঁকতে পারে ভারতীয় ম্যানেজমেন্ট।
নিয়মরক্ষার ম্যাচ হলেও নিউজিল্যান্ডের কাছেও এই ম্যাচ গুরুত্বপূর্ণ। বিশ্বকাপের আগে নিজেদের কম্বিনেশন ঝালিয়ে নেওয়ার সুযোগ পাচ্ছে তারাও। ওপেনিংয়ে ডেভন কনওয়ের সঙ্গে ফিন অ্যালেনকে দেখা যেতে পারে। রাচীন রবীন্দ্র, ড্যারিল মিচেল ও গ্লেন ফিলিপস—এই তিন মারকুটে ব্যাটার ভারতীয় বোলারদের উপর চাপ বাড়াতে সক্ষম।
মিডল অর্ডারে মার্ক চাপম্যান ও অধিনায়ক মিচেল স্যান্টনারের জুটি বেশ বিপজ্জনক। দু’জনেই ম্যাচের গতি বদলাতে জানেন। চোট সারিয়ে ফিরতে পারেন ব্রেসওয়েল। নতুন করে দলে যোগ দেওয়া জেমস নিশামও একাদশে ঢুকতে পারেন।
স্পিন বিভাগে ঈশ সোদি এই মাঠে আগেও ভালো পারফর্ম করেছেন। পেস আক্রমণে কাইল জেমিসন ফিরলে নিউজিল্যান্ডের বোলিং আরও শক্তিশালী হবে।
ফলাফল যাই হোক, তিরুবনন্তপুরমের এই ম্যাচ বিশ্বকাপের আগে দুই দলের কাছেই অমূল্য। ভারতের কাছে এটি আত্মবিশ্বাস বাড়ানোর ও কম্বিনেশন চূড়ান্ত করার শেষ সুযোগ। আর নিউজিল্যান্ডের কাছে নিজেদের শক্তি-দুর্বলতা যাচাই করার মঞ্চ। নিয়মরক্ষার ম্যাচ হলেও বিশ্বকাপের ছায়া যে পুরো মাঠ জুড়ে—তা বলাই বাহুল্য।
নিয়মরক্ষার ম্যাচ হলেও নিউজিল্যান্ড-এর কাছে এই ম্যাচের গুরুত্ব কম নয়। বিশ্বকাপের আগে নিজেদের সেরা কম্বিনেশন ঝালিয়ে নেওয়ার শেষ দিকের সুযোগ পাচ্ছে তারাও। ওপেনিংয়ে ডেভন কনওয়ে-এর সঙ্গে ফিন অ্যালেন-কে দেখা যেতে পারে। দু’জনেই আগ্রাসী মেজাজের ব্যাটার এবং পাওয়ারপ্লে-তে দ্রুত রান তুলতে সক্ষম। ভারতীয় বোলাররা শুরুতেই যদি লাইন-লেংথে সামান্য ভুল করেন, তা হলে ম্যাচ দ্রুত হাতছাড়া হওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যায় না।
মিডল অর্ডারে নিউজিল্যান্ডের শক্তি আরও ভয়ঙ্কর। রাচীন রবীন্দ্র, ড্যারিল মিচেল এবং গ্লেন ফিলিপস—এই তিন ব্যাটার যে কোনও পরিস্থিতিতে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারেন। বিশেষ করে ফিলিপসের পাওয়ার হিটিং এবং রাচীনের অলরাউন্ড দক্ষতা ভারতীয় বোলিং ইউনিটের জন্য বড় পরীক্ষা হতে চলেছে। বিশ্বকাপের আগে এই তিনজনের ফর্মে ফেরাটা কিউয়ি শিবিরের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
মিডল অর্ডারে মার্ক চাপম্যান ও অধিনায়ক মিচেল স্যান্টনার-এর জুটি নিঃসন্দেহে বিপজ্জনক। চাপম্যান স্ট্রাইক ঘোরাতে ও মাঝেমধ্যে বড় শট খেলতে সিদ্ধহস্ত, আর স্যান্টনারের ঠান্ডা মাথার নেতৃত্ব ম্যাচের কঠিন মুহূর্তে দলের ভারসাম্য বজায় রাখতে সাহায্য করে। এই জুটি দীর্ঘক্ষণ উইকেটে থাকলে ভারতীয় শিবিরকে বাড়তি পরিকল্পনা করতে হবে।
চোট সারিয়ে দলে ফিরতে পারেন মাইকেল ব্রেসওয়েল। তাঁর অলরাউন্ড দক্ষতা নিউজিল্যান্ডের ব্যাটিং গভীরতা আরও বাড়াবে। পাশাপাশি নতুন করে দলে যোগ দেওয়া জেমস নিশাম-এর অভিজ্ঞতা বড় ম্যাচের আগে দলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। নিশাম মাঠে নামলে শেষের ওভারে বড় রান তোলার পাশাপাশি বোলিংয়েও অতিরিক্ত বিকল্প পাবেন স্যান্টনার।
স্পিন বিভাগে ঈশ সোদি এই মাঠে আগেও ভালো পারফর্ম করেছেন। তিরুবনন্তপুরমের উইকেটে যদি স্পিনাররা সাহায্য পান, তা হলে সোদি ভারতের ব্যাটিং লাইনে চাপ তৈরি করতে পারেন। পেস আক্রমণে কাইল জেমিসন ফিরলে নিউজিল্যান্ডের বোলিং আরও শক্তিশালী হয়ে উঠবে। তাঁর উচ্চতা ও বাউন্স ভারতীয় ব্যাটারদের জন্য অস্বস্তির কারণ হতে পারে।
স্পিন বিভাগে ঈশ সোদি এই মাঠে আগেও ভালো পারফর্ম করেছেন। তিরুবনন্তপুরমের উইকেট সাধারণত ধীরগতির হওয়ায় স্পিনাররা এখানে বাড়তি সুবিধা পান। সেই পরিস্থিতিতে সোদি যদি মাঝের ওভারগুলোতে টাইট লাইন-লেংথ বজায় রাখতে পারেন, তা হলে ভারতের ব্যাটিং লাইনে চাপ তৈরি হওয়াই স্বাভাবিক। বিশেষ করে মিডল অর্ডারে তাঁর লেগস্পিন ম্যাচের গতি শ্লথ করে দিতে পারে।
অন্য দিকে, পেস আক্রমণে কাইল জেমিসন ফিরলে নিউজিল্যান্ডের বোলিং ইউনিট আরও ভারসাম্যপূর্ণ হয়ে উঠবে। তাঁর উচ্চতা থেকে পাওয়া অতিরিক্ত বাউন্স এবং নতুন বলের সুইং ভারতীয় টপ অর্ডারের জন্য বড় পরীক্ষা হতে পারে। পাওয়ারপ্লেতেই জেমিসন উইকেট তুলে নিতে পারলে ম্যাচের মোড় দ্রুত ঘুরে যেতে পারে।