Lenspedia Bangla Logo
  • কলকাতা
  • 30℃ Purba Bardhaman

ইরানকে হারিয়ে এশিয়ান গেমসে মেয়েদের কবাডিতে ভারতের সোনার জয়

আগ্রাসী শুরু থেকে চাপে পড়া, তারপর ঘুরে দাঁড়িয়ে ইরানকে হারিয়ে সোনা—এশিয়ান গেমসে চতুর্থবার মহিলাদের কবাডিতে চ্যাম্পিয়ন ভারত।

মহিলাদের কবাডিতে আরও এক বার সোনার মুকুট ভারতের। এশিয়ান গেমসের ফাইনালে ইরানের বিরুদ্ধে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের পর শেষ হাসি হাসল ভারতীয় দল। ৩৭-৩৪ ব্যবধানে ইরানকে হারিয়ে সোনা নিশ্চিত করলেন ভারতের মহিলা কবাডি খেলোয়াড়েরা। এই জয়ের সঙ্গে নাগোয়া এশিয়ান গেমস থেকে ভারতের সোনার পদকের সংখ্যা দাঁড়াল তিনে। একই সঙ্গে এশিয়ান গেমসের ইতিহাসে মহিলা কবাডিতে এটি ভারতের চতুর্থ সোনা।

ফাইনালের শুরু থেকেই ভারতীয় দলের মধ্যে ছিল আত্মবিশ্বাস এবং আক্রমণাত্মক মানসিকতা। বিপক্ষ ইরান যে সহজ প্রতিপক্ষ নয়, তা জানা ছিল ভারতীয় শিবিরের। সেই কারণেই ম্যাচের প্রথম মিনিট থেকেই আক্রমণে জোর দেন ভারতের খেলোয়াড়েরা। রেইড এবং ডিফেন্স—দুই বিভাগেই শুরুতে নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে রাখার চেষ্টা করে ভারত।

প্রথমার্ধে সেই পরিকল্পনা যথেষ্ট কার্যকর হয়। ইরানের উপর ধারাবাহিক চাপ তৈরি করতে সক্ষম হয় ভারতীয় দল। আক্রমণাত্মক রেইডের পাশাপাশি ডিফেন্সেও গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট তুলে নেয় ভারত। এক পর্যায়ে ইরানকে অলআউট করতেও সক্ষম হয় ভারতীয় দল। ফলে প্রথমার্ধের শেষ দিকে ম্যাচে ভারতের নিয়ন্ত্রণ আরও শক্ত হয়।

প্রথমার্ধ শেষে স্কোরলাইন ছিল ভারতের পক্ষে ২২-১৬। অর্থাৎ ছয় পয়েন্টের লিড নিয়ে বিরতিতে যায় ভারত। ফাইনালের মতো গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে এই ব্যবধান নিঃসন্দেহে ভারতীয় দলের জন্য বড় সুবিধা তৈরি করেছিল। তবে ম্যাচ তখনও শেষ হয়নি। কারণ ইরানের মতো শক্তিশালী দল যে কোনও সময় ম্যাচের ছবিটা বদলে দিতে পারে, সেটাই দ্বিতীয়ার্ধে দেখা যায়।

বিরতির পর সম্পূর্ণ অন্য মেজাজে ফিরে আসে ইরান। পিছিয়ে পড়েও তারা হাল ছাড়েনি। বরং দ্বিতীয়ার্ধের শুরু থেকেই ভারতীয় ডিফেন্সের উপর চাপ বাড়াতে থাকে ইরানের খেলোয়াড়েরা। রেইডে একের পর এক পয়েন্ট তুলে নিয়ে ব্যবধান কমানোর চেষ্টা করে তারা।

ইরানের এই প্রত্যাবর্তনে কিছুটা চাপে পড়ে যায় ভারত। প্রথমার্ধে যে নিয়ন্ত্রণ ভারতীয় দলের হাতে ছিল, দ্বিতীয়ার্ধে তার অনেকটাই চলে যায় ইরানের দিকে। ইরানের আগ্রাসী কবাডির সামনে বেশ কয়েক বার সমস্যায় পড়তে হয় ভারতীয় ডিফেন্সকে। পরিস্থিতি এমন জায়গায় পৌঁছয় যে এক বার ভারতীয় দলকেও অলআউট হতে হয়।

ম্যাচের এই পর্যায়েই তৈরি হয় ফাইনালের সবচেয়ে বড় উত্তেজনা। এক দিকে প্রথমার্ধের ছয় পয়েন্টের লিড ধরে রাখার চেষ্টা করছিল ভারত, অন্য দিকে ব্যবধান কমিয়ে ম্যাচে পুরোপুরি ফিরে আসার মরিয়া চেষ্টা চালাচ্ছিল ইরান। ফলে দ্বিতীয়ার্ধে দুই দলের মধ্যে লড়াই আরও জমে ওঠে।

ইরানের ধারাবাহিক আক্রমণের ফলে ভারতের লিড ক্রমশ কমতে থাকে। দ্বিতীয়ার্ধে ইরান নিজেদের পারফরম্যান্সে স্পষ্ট উন্নতি করে। শেষ পর্যন্ত দ্বিতীয়ার্ধের স্কোরও ইরানের পক্ষে যায়। দ্বিতীয়ার্ধে ১৮-১৫ ব্যবধানে এগিয়ে থেকে পর্ব শেষ করে ইরান।

তবে প্রথমার্ধে ভারতের তৈরি করা ছয় পয়েন্টের ব্যবধানই শেষ পর্যন্ত ম্যাচের ফল নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। দ্বিতীয়ার্ধে ইরান তিন পয়েন্টে এগিয়ে থাকলেও পুরো ম্যাচের হিসাব অনুযায়ী ভারতই এগিয়ে থাকে। শেষ বাঁশি বাজার সঙ্গে সঙ্গে স্কোরবোর্ডে দেখা যায় ভারত ৩৭, ইরান ৩৪।

অর্থাৎ মাত্র তিন পয়েন্টের ব্যবধানে ফাইনাল জিতে নেয় ভারত। ম্যাচের শুরুতে ভারতের দাপট, মাঝের সময়ে ইরানের প্রত্যাবর্তন এবং শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত দুই দলের লড়াই—সব মিলিয়ে ফাইনাল ছিল অত্যন্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ।

প্রথমার্ধেই ভারতের বড় সুবিধা

ফাইনালের প্রথম ২০ মিনিটে ভারতীয় দলের পারফরম্যান্স ছিল ম্যাচের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক। শুরু থেকেই আগ্রাসী রেইডের মাধ্যমে পয়েন্ট সংগ্রহ করতে থাকে ভারত। পাশাপাশি ডিফেন্সেও ইরানের রেইডারদের আটকে দেওয়ার চেষ্টা চালিয়ে যায় দল।

এক পর্যায়ে ইরানকে অলআউট করে ভারত নিজেদের পক্ষে বড় সুবিধা তৈরি করে নেয়। এই অলআউটের পর ভারতীয় দলের আত্মবিশ্বাস আরও বাড়ে এবং স্কোরবোর্ডেও তার প্রতিফলন দেখা যায়।

প্রথমার্ধের শেষে ২২-১৬ ব্যবধানে এগিয়ে থাকা ভারতের কাছে তখন ম্যাচটি নিয়ন্ত্রণে রাখার সুযোগ ছিল। তবে ফাইনালের চাপ এবং ইরানের শক্তি মাথায় রেখে দ্বিতীয়ার্ধে আরও সতর্ক থাকার প্রয়োজন ছিল।

দ্বিতীয়ার্ধে ইরানের প্রত্যাবর্তন

দ্বিতীয়ার্ধে ম্যাচের চরিত্রই বদলে যায়। ইরান বুঝিয়ে দেয়, ছয় পয়েন্ট পিছিয়ে থেকেও ম্যাচ শেষ হয়ে যায়নি। আক্রমণ বাড়িয়ে ভারতের উপর চাপ সৃষ্টি করতে শুরু করে তারা।

news image
আরও খবর

ভারতের ডিফেন্সও এই সময় একাধিক কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়। ইরানের আগ্রাসী রেইড এবং দ্রুত পয়েন্ট তুলে নেওয়ার ফলে ভারতের লিড কমতে থাকে। এক পর্যায়ে ভারতীয় দল অলআউট হওয়ায় ইরান আরও আত্মবিশ্বাস পেয়ে যায়।

দ্বিতীয়ার্ধের স্কোরলাইনও সেই লড়াইয়ের ছবি স্পষ্ট করে। এই পর্বে ভারত ১৫ পয়েন্ট পেলেও ইরান তুলে নেয় ১৮ পয়েন্ট। অর্থাৎ দ্বিতীয়ার্ধে তিন পয়েন্টের ব্যবধানে এগিয়ে ছিল ইরান।

কিন্তু ফাইনালে শুধুমাত্র দ্বিতীয়ার্ধের পারফরম্যান্স যথেষ্ট ছিল না। প্রথমার্ধে ভারতের তৈরি করা ছয় পয়েন্টের সুবিধা শেষ পর্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে দাঁড়ায়।

৩৭-৩৪ ব্যবধানে ভারতের জয়

শেষ পর্যন্ত পুরো ম্যাচে ভারত ৩৭ পয়েন্ট এবং ইরান ৩৪ পয়েন্ট সংগ্রহ করে। ফলে তিন পয়েন্টের ব্যবধানে সোনা জিতে নেয় ভারত।

ম্যাচের ফলাফল দেখলেই বোঝা যায়, ফাইনালে দুই দলের মধ্যে ব্যবধান খুব বেশি ছিল না। দ্বিতীয়ার্ধে ইরান যে ভাবে ফিরে এসেছিল, তাতে ম্যাচের শেষ পর্যন্ত ফল নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছিল। তবে প্রথমার্ধে ভারতের দুর্দান্ত পারফরম্যান্সই শেষ পর্যন্ত ব্যবধান তৈরি করে দেয়।

ভারতের জন্য তাই এই জয় শুধু একটি ফাইনাল জয়ের ঘটনা নয়। মহিলা কবাডিতে এশিয়ান গেমসের মঞ্চে দেশের ধারাবাহিক সাফল্যেরও আরও একটি অধ্যায় তৈরি হল।

এশিয়ান গেমসে মহিলা কবাডিতে চতুর্থ সোনা

এই জয়ের সঙ্গে এশিয়ান গেমসে মহিলা কবাডিতে ভারতের সোনার সংখ্যা বেড়ে হল চার। অর্থাৎ এশিয়ান গেমসের ইতিহাসে চতুর্থ বার মহিলা কবাডিতে সোনা জিতল ভারতীয় দল।

কবাডি বরাবরই এশিয়ান গেমসে ভারতের অন্যতম শক্তিশালী ইভেন্টগুলির মধ্যে রয়েছে। পুরুষ এবং মহিলা—দুই বিভাগেই ভারতীয় দল একাধিক বার সাফল্য পেয়েছে। মহিলা দলও এবার নিজেদের শ্রেষ্ঠত্ব ধরে রাখল।

নাগোয়া এশিয়ান গেমসে ভারতের পদক তালিকাতেও এই সোনা গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন। এটি প্রতিযোগিতায় ভারতের তৃতীয় সোনার পদক। ফলে দেশের ক্রীড়াপ্রেমীদের কাছে মহিলা কবাডি দলের এই জয় নিঃসন্দেহে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ।

শেষ পর্যন্ত চাপ সামলে সোনা ভারতের

ফাইনালে একটি দল শুরু থেকে এগিয়ে থাকলেও অন্য দল যে কোনও সময় ম্যাচে ফিরে আসতে পারে। ভারত-ইরান ম্যাচে সেটিই দেখা গেল। প্রথমার্ধে ভারত ছয় পয়েন্টের লিড তৈরি করেছিল। দ্বিতীয়ার্ধে সেই লিড ধরে রাখা সহজ হয়নি। বরং ইরান নিজেদের আক্রমণ আরও শক্তিশালী করে ভারতকে সমস্যায় ফেলে দেয়।

তবে চাপের মধ্যেও ভারতের খেলোয়াড়েরা লড়াই চালিয়ে যান। দ্বিতীয়ার্ধে ইরান ১৮-১৫ ব্যবধানে এগিয়ে থাকলেও ম্যাচের সামগ্রিক স্কোরে ভারত এগিয়ে থাকে। শেষ পর্যন্ত ৩৭-৩৪ ব্যবধানে জয় আসে ভারতের।

এই তিন পয়েন্টের জয়ই নিশ্চিত করে সোনা। ইরানকে হারিয়ে ভারতীয় মহিলা কবাডি দল আবারও এশিয়ান গেমসের সর্বোচ্চ মঞ্চে নিজেদের জায়গা ধরে রাখল।

ফাইনালের সারাংশ:

  • ফাইনাল: ভারত বনাম ইরান
  • ফল: ভারত জয়ী
  • চূড়ান্ত স্কোর: ভারত ৩৭-৩৪ ইরান
  • প্রথমার্ধ: ভারত ২২-১৬ এগিয়ে
  • দ্বিতীয়ার্ধ: ইরান ১৮-১৫ এগিয়ে
  • পদক: ভারত — সোনা
  • এশিয়ান গেমসে মহিলা কবাডিতে ভারতের সোনা: চতুর্থ
  • নাগোয়া এশিয়ান গেমসে ভারতের সোনা: তৃতীয়এই জয় ভারতীয় মহিলা কবাডি দলের ধারাবাহিক সাফল্যের আরও একটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। ফাইনালের শুরুতে নিয়ন্ত্রণে থাকলেও দ্বিতীয়ার্ধে ইরানের পাল্টা আক্রমণের কারণে ম্যাচ কঠিন হয়ে ওঠে। বিশেষ করে ইরানের দ্রুত রেইড এবং শক্তিশালী ডিফেন্স ভারতের উপর চাপ তৈরি করে। তবে গুরুত্বপূর্ণ সময়ে ভারতীয় খেলোয়াড়েরা নিজেদের স্নায়ু ধরে রাখেন এবং প্রথমার্ধে তৈরি করা ব্যবধানকে কাজে লাগান। শেষ পর্যন্ত মাত্র তিন পয়েন্টের ব্যবধানে জয় নিশ্চিত হয়। সোনা জয়ের পাশাপাশি এই ম্যাচে ভারতের লড়াই করার মানসিকতাও স্পষ্ট হয়েছে। ইরান দ্বিতীয়ার্ধে এগিয়ে থাকলেও পুরো ম্যাচে ধারাবাহিকতা বজায় রেখে ভারতই শেষ পর্যন্ত চ্যাম্পিয়ন হয়।
Preview image