গত ৭ ফেব্রুয়ারি অন্তর্বর্তী বাণিজ্য-সমঝোতায় সম্মত হয়েছে ভারত এবং আমেরিকা। শুক্রবার কেন্দ্রীয় বাণিজ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, মার্চ মাসেই আমেরিকার সঙ্গে অন্তর্বর্তী বাণিজ্যচুক্তিতে স্বাক্ষর করতে পারে ভারত। আগামী মার্চ মাসেই আমেরিকার সঙ্গে অন্তর্বর্তী বাণিজ্যচুক্তিতে স্বাক্ষর করতে পারে ভারত। এপ্রিলে ওই চুক্তি কার্যকর করার সম্ভাবনা রয়েছে। শুক্রবার এমনটাই জানিয়েছেন কেন্দ্রীয় বাণিজ্য ও শিল্পমন্ত্রী পীযূষ গোয়ল। একই সঙ্গে তিনি জানিয়েছেন, ব্রিটেন এবং ওমানের সঙ্গে ভারতের মুক্ত বাণিজ্যচুক্তি (এফটিএ) এপ্রিল থেকে কার্যকর হয়ে যেতে পারে। সেপ্টেম্বর মাসে ভারত-নিউ জ়িল্যান্ড বাণিজ্যচুক্তি কার্যকর হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
গত ৭ ফেব্রুয়ারি অন্তর্বর্তী বাণিজ্য-সমঝোতায় সম্মত হয়েছে ভারত এবং আমেরিকা। ওই দিন ভোরে (ভারতীয় সময়) যৌথ বিবৃতি দিয়ে অন্তর্বর্তী এই সমঝোতার বিভিন্ন দিকগুলি প্রকাশ করা হয়। ভারতের পণ্যের উপর চাপানো বাড়তি ২৫ শতাংশ শুল্ক প্রত্যাহার করে নেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সার্বিক শুল্কও ২৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে আনা হয় ১৮ শতাংশে। এই পরিস্থিতিতে ভারতও বেশ কিছু ক্ষেত্রে আমেরিকার শর্ত মেনে নিয়েছে। আমেরিকার কাছ থেকে আগামী পাঁচ বছরে ৫০ হাজার কোটি ডলারের (ভারতীয় মুদ্রায় ৪৫ লক্ষ কোটি টাকার বেশি) পণ্য আমদানি করতে সম্মত হয়েছে নয়াদিল্লি।
অন্তর্বর্তী বাণিজ্য-সমঝোতা আইনি দিকগুলি চূড়ান্ত করতে আগামী সোমবার থেকে আমেরিকায় আলোচনায় বসছেন দুই দেশের প্রতিনিধিরা। তার আগে চুক্তি স্বাক্ষর এবং কার্যকর হওয়ার সম্ভাব্য সময়সীমা জানিয়ে দিলেন কেন্দ্রীয় বাণিজ্যমন্ত্রী।
ঘটনাচক্রে, শুক্রবার ভারতে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত সার্জিয়ো গোর-ও জানিয়েছেন যে, ‘খুব শীঘ্রই’ ভারত এবং আমেরিকা বাণিজ্যচুক্তিতে স্বাক্ষর করতে চলেছে। তবে তিনি নির্দিষ্ট কোনও সময়ের কথা উল্লেখ করেননি।
বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, আগামী দিনে এই অন্তর্বর্তী বাণিজ্য-সমঝোতায় আরও কিছু যোগ-বিয়োগ হতে পারে। অনেকগুলি বিষয়ে ঐকমত্য হলেও এখনও বেশ কিছু ক্ষেত্রে দু’পক্ষ সমঝোতায় আসতে পারেনি। তা নিয়ে দর কষাকষি চলতে থাকবে, যত ক্ষণ না পূর্ণমাত্রার বাণিজ্যিক চুক্তি দুই দেশের মধ্যে স্বাক্ষরিত হচ্ছে।
ভারত ও আমেরিকার মধ্যে অন্তর্বর্তী বাণিজ্য-সমঝোতা (Interim Trade Agreement) নিয়ে কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক মহলে জোর তৎপরতা শুরু হয়েছে। দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে যে পূর্ণাঙ্গ বাণিজ্যচুক্তির আলোচনা বহুদিন ধরে চলছিল, তারই একটি মধ্যবর্তী ধাপ হিসেবে এই অন্তর্বর্তী সমঝোতাকে দেখা হচ্ছে। আইনি দিকগুলি চূড়ান্ত করতে আগামী সোমবার থেকে আমেরিকায় মুখোমুখি আলোচনায় বসবেন দুই দেশের প্রতিনিধিরা—এমনটাই জানানো হয়েছে কেন্দ্রীয় বাণিজ্য মন্ত্রকের তরফে।
এই বৈঠককে ঘিরে কূটনৈতিক মহলে আশাবাদের সুর শোনা গেলেও সতর্কতাও কম নয়। কারণ, বহু ক্ষেত্রে নীতিগত ঐকমত্য তৈরি হলেও বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে এখনও মতপার্থক্য রয়ে গেছে। ফলে এই অন্তর্বর্তী চুক্তি স্বাক্ষরের আগে শেষ মুহূর্তের দর কষাকষি হওয়া অস্বাভাবিক নয়।
ভারত ও আমেরিকার অর্থনৈতিক সম্পর্ক গত এক দশকে দ্রুত সম্প্রসারিত হয়েছে। দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের পরিমাণ কয়েকগুণ বেড়েছে। তথ্যপ্রযুক্তি, ওষুধশিল্প, প্রতিরক্ষা, জ্বালানি, কৃষিপণ্য—বহু ক্ষেত্রে পারস্পরিক নির্ভরতা তৈরি হয়েছে।
তবে একইসঙ্গে বাণিজ্য ঘাটতি, শুল্ক, বাজারে প্রবেশাধিকারের মতো বিষয় নিয়ে মতবিরোধও ছিল। বিশেষত—
ভারতীয় ইস্পাত ও অ্যালুমিনিয়ামের উপর আমেরিকার শুল্ক
ভারতীয় ওষুধ ও মেডিক্যাল ডিভাইসের মূল্যনিয়ন্ত্রণ
কৃষিপণ্যের আমদানি নীতি
ই-কমার্স ডেটা লোকালাইজেশন
এইসব ইস্যু দীর্ঘদিন ধরে পূর্ণাঙ্গ বাণিজ্যচুক্তির পথে বাধা হয়ে ছিল। ফলে উভয় দেশই একটি অন্তর্বর্তী সমঝোতার মাধ্যমে প্রথম ধাপের সমাধান খুঁজতে আগ্রহী হয়েছে।
কেন্দ্রীয় বাণিজ্যমন্ত্রী সম্প্রতি জানিয়েছেন, আইনি দিকগুলি চূড়ান্ত করার কাজ দ্রুত এগোচ্ছে। তিনি সম্ভাব্য সময়সীমার ইঙ্গিত দিয়ে বলেন, সবকিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী চললে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যেই চুক্তি স্বাক্ষর হতে পারে এবং তা কার্যকরও হতে পারে।
যদিও তিনি সুনির্দিষ্ট তারিখ ঘোষণা করেননি, তবুও তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট—সরকার এই চুক্তিকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে। কারণ, এটি কার্যকর হলে রপ্তানি বৃদ্ধি, বিনিয়োগ প্রবাহ এবং কর্মসংস্থানে ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।
ঘটনাচক্রে, শুক্রবার ভারতে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত সার্জিয়ো গোর-ও একই সুরে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন। তিনি বলেন, ভারত ও আমেরিকা ‘খুব শীঘ্রই’ বাণিজ্যচুক্তিতে স্বাক্ষর করতে চলেছে।
যদিও তিনিও নির্দিষ্ট সময়সীমা জানাননি, কূটনৈতিক ভাষ্যে এই ধরনের মন্তব্য সাধারণত আলোচনার অগ্রগতির ইতিবাচক ইঙ্গিত হিসেবে ধরা হয়।
পূর্ণাঙ্গ মুক্ত বাণিজ্যচুক্তি (FTA) করতে দীর্ঘ সময় লাগে। কারণ এতে—
শুল্ক কাঠামো সম্পূর্ণ পুনর্বিন্যাস
সেবা খাত উন্মুক্তকরণ
বিনিয়োগ সুরক্ষা
মেধাস্বত্ব অধিকার
কৃষি ভর্তুকি
—সবকিছু অন্তর্ভুক্ত থাকে।
অন্তর্বর্তী চুক্তি মূলত “ফাস্ট-ট্র্যাক” ব্যবস্থা। এতে তুলনামূলকভাবে সহজ ও জরুরি বিষয়গুলি আগে সমাধান করা হয়, যাতে দ্রুত বাণিজ্যিক সুবিধা পাওয়া যায়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই অন্তর্বর্তী সমঝোতায় যেসব ক্ষেত্র থাকতে পারে—
নির্বাচিত পণ্যে আমদানি শুল্ক কমানো হতে পারে। এতে উভয় দেশের রপ্তানিকারকরা লাভবান হবেন।
আমেরিকা চাইছে ভারতীয় বাজারে বাদাম, আপেল, দুগ্ধজাত পণ্যের প্রবেশাধিকারে শিথিলতা। ভারত চাইছে আমেরিকায় মসলা, চা, চাল, সামুদ্রিক পণ্যের সুযোগ বাড়ুক।
ভারতীয় জেনেরিক ওষুধ আমেরিকার বাজারে গুরুত্বপূর্ণ। নিয়ন্ত্রক অনুমোদন সহজ হলে রপ্তানি বাড়বে।
ডিজিটাল বাণিজ্য, ক্লাউড ডেটা, সাইবার সুরক্ষা—নতুন আলোচ্য বিষয়।
এলএনজি আমদানি, প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম ক্রয়—বাণিজ্যের বৃহৎ অংশ।
যদিও বহু বিষয়ে অগ্রগতি হয়েছে, তবু কিছু বড় অচলাবস্থা রয়ে গেছে—
ই-কমার্সে বিদেশি বিনিয়োগ নীতি
ডেটা লোকালাইজেশন
কৃষি ভর্তুকি
মেডিক্যাল ডিভাইস মূল্যনিয়ন্ত্রণ
ভিসা নীতি (H-1B)
এই বিষয়গুলি অন্তর্বর্তী চুক্তিতে পুরোপুরি সমাধান নাও হতে পারে।
অর্থনীতিবিদদের একাংশ মনে করছেন, এই সমঝোতা “Confidence Building Measure” হিসেবে কাজ করবে। পূর্ণাঙ্গ চুক্তির আগে পারস্পরিক আস্থা তৈরি জরুরি।
অন্যদিকে, কেউ কেউ সতর্ক করে বলছেন—তাড়াহুড়ো করে চুক্তি করলে দেশীয় শিল্প ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। বিশেষত কৃষি ও ক্ষুদ্র উৎপাদকরা।
১. রপ্তানি বৃদ্ধি
২. আইটি ও পরিষেবা খাতে সুযোগ
৩. বিদেশি বিনিয়োগ বৃদ্ধি
৪. সাপ্লাই চেইন বৈচিত্র্য
৫. উৎপাদন খাতে কর্মসংস্থান
১. বৃহৎ ভারতীয় ভোক্তা বাজার
২. কৃষিপণ্য রপ্তানি
৩. প্রতিরক্ষা বিক্রি
৪. জ্বালানি রপ্তানি
৫. প্রযুক্তি পরিষেবা বিস্তার
এই চুক্তি শুধু অর্থনৈতিক নয়, কৌশলগতও। ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে সহযোগিতা, চীন নির্ভরতা কমানো, সাপ্লাই চেইন পুনর্গঠন—সবকিছুর সঙ্গে যুক্ত।
ভারতীয় শিল্পসংগঠনগুলি সতর্ক আশাবাদী। তারা চাইছে—
শুল্ক সুরক্ষা বজায় থাকুক
MSME সুরক্ষা
কৃষিখাত রক্ষা
আমেরিকান চেম্বার চাইছে বাজার উন্মুক্তকরণ।
আইনি কাঠামোই চুক্তির মেরুদণ্ড। এতে থাকে—
বিরোধ নিষ্পত্তি ব্যবস্থা
শুল্ক প্রয়োগের সময়সীমা
বিনিয়োগ সুরক্ষা
বৌদ্ধিক সম্পত্তি আইন
সোমবারের বৈঠকে এই দিকগুলি চূড়ান্ত হবে।
সরকারি সূত্রে ইঙ্গিত—আইনি যাচাই শেষ হলে দ্রুত স্বাক্ষর সম্ভব। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক বিবেচনায় সময় বাড়তেও পারে।
এই অন্তর্বর্তী সমঝোতা আসলে বৃহত্তর মুক্ত বাণিজ্যচুক্তির ট্রায়াল রান। সফল হলে ভবিষ্যতে—
শুল্কমুক্ত বাণিজ্য
পরিষেবা উন্মুক্তকরণ
বিনিয়োগ চুক্তি
—সবই যুক্ত হতে পারে।
১. দেশীয় শিল্প সুরক্ষা
২. কৃষক স্বার্থ
৩. শ্রমনীতি
৪. পরিবেশ মানদণ্ড
৫. রাজনৈতিক চাপ
ভারত-আমেরিকা অন্তর্বর্তী বাণিজ্য-সমঝোতা শুধু একটি অর্থনৈতিক দলিল নয়—এটি দুই বৃহৎ গণতন্ত্রের কৌশলগত অংশীদারিত্বের প্রতিফলন। আইনি দিক চূড়ান্ত করতে সোমবারের বৈঠক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
স্বাক্ষরের সময়সীমা নিয়ে আশাবাদ থাকলেও দর কষাকষি এখনও বাকি। অনেক ক্ষেত্রে ঐকমত্য, আবার বহু ক্ষেত্রে মতভেদ—এই দ্বৈত বাস্তবতার মধ্যেই এগোচ্ছে আলোচনা।
পূর্ণাঙ্গ বাণিজ্যচুক্তির আগে এই অন্তর্বর্তী ধাপ কতটা সফল হয়, তার উপর নির্ভর করবে ভবিষ্যৎ অর্থনৈতিক সম্পর্কের গভীরতা। তবে একটি বিষয় স্পষ্ট—বিশ্ব অর্থনীতির পরিবর্তিত প্রেক্ষাপটে ভারত ও আমেরিকা উভয়েই একে অপরকে আরও ঘনিষ্ঠ বাণিজ্যিক অংশীদার হিসেবে দেখতে আগ্রহী।
অন্তর্বর্তী বাণিজ্য-সমঝোতার প্রভাব সবচেয়ে গভীরভাবে পড়তে পারে ক্ষুদ্র, ছোট ও মাঝারি শিল্প (MSME) খাতে। ভারতের রপ্তানির একটি বড় অংশই আসে এই খাত থেকে। শুল্ক হ্রাস ও বাজারে প্রবেশাধিকার সহজ হলে ভারতীয় টেক্সটাইল, চামড়া, হস্তশিল্প, গয়না ও ইঞ্জিনিয়ারিং পণ্যের রপ্তানি বাড়তে পারে।
তবে বিপরীত আশঙ্কাও রয়েছে। আমেরিকার উচ্চপ্রযুক্তি ও বৃহৎ উৎপাদনশীল সংস্থাগুলি ভারতীয় বাজারে আরও সহজে প্রবেশ করলে দেশীয় ছোট শিল্প প্রতিযোগিতার চাপে পড়তে পারে। ফলে সরকারকে “ক্যালিব্রেটেড লিবারালাইজেশন” নীতি নিতে হতে পারে—অর্থাৎ ধাপে ধাপে বাজার উন্মুক্তকরণ।
এই সমঝোতা কার্যকর হলে কর্মসংস্থানে দ্বিমুখী প্রভাব পড়তে পারে। একদিকে—
রপ্তানি বৃদ্ধি মানে উৎপাদন বৃদ্ধি
উৎপাদন বৃদ্ধি মানে নতুন কর্মসংস্থান
লজিস্টিক্স, প্যাকেজিং, সাপ্লাই চেইনে চাকরি
অন্যদিকে, যেসব খাতে আমদানি প্রতিযোগিতা বাড়বে, সেখানে চাকরির চাপ তৈরি হতে পারে। তাই স্কিল ডেভেলপমেন্ট ও রিস্কিলিং কর্মসূচি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।
২১শ শতকের বাণিজ্যে ডিজিটাল অর্থনীতি বড় ভূমিকা নিচ্ছে। সফটওয়্যার পরিষেবা, ফিনটেক, ক্লাউড কম্পিউটিং, এআই—সব ক্ষেত্রেই ভারত-আমেরিকা সহযোগিতা বাড়তে পারে।
ডেটা প্রবাহ, সাইবার নিরাপত্তা, গোপনীয়তা আইন—এই বিষয়গুলি অন্তর্বর্তী চুক্তিতে প্রাথমিক কাঠামো পেতে পারে। ভবিষ্যতের পূর্ণাঙ্গ চুক্তিতে এগুলি আরও বিস্তৃত হবে।
কোভিড পরবর্তী বিশ্বে একটি বড় পরিবর্তন—চীন নির্ভরতা কমানো। আমেরিকা বিকল্প উৎপাদন কেন্দ্র খুঁজছে, আর ভারত নিজেকে “ম্যানুফ্যাকচারিং হাব” হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে চাইছে।
এই সমঝোতা কার্যকর হলে—
ইলেকট্রনিক্স উৎপাদন
সেমিকন্ডাক্টর অ্যাসেম্বলি
প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম
নবায়নযোগ্য জ্বালানি উপকরণ
—ক্ষেত্রে যৌথ বিনিয়োগ বাড়তে পারে।
অর্থনৈতিক চুক্তি হলেও এর রাজনৈতিক তাৎপর্যও গভীর। দুই দেশের গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ, ইন্দো-প্যাসিফিক কৌশল, নিরাপত্তা সহযোগিতা—সবই এই বাণিজ্যিক অংশীদারিত্বকে শক্তিশালী করে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, অন্তর্বর্তী সমঝোতা সফল হলে তা কেবল বাণিজ্য নয়—প্রযুক্তি, প্রতিরক্ষা ও ভূরাজনীতিতেও দীর্ঘমেয়াদি জোটকে মজবুত করবে।
সব মিলিয়ে, এই অন্তর্বর্তী বাণিজ্য-সমঝোতা একান্তই একটি ট্রানজিশনাল ফ্রেমওয়ার্ক—পূর্ণাঙ্গ মুক্ত বাণিজ্যচুক্তির পথে সেতুবন্ধন। আইনি যাচাই, নীতিগত সমন্বয়, রাজনৈতিক সদিচ্ছা—সব মিলিয়েই নির্ধারিত হবে এর সাফল্য।
আগামী সোমবারের বৈঠক তাই কেবল আনুষ্ঠানিক আলোচনা নয়—দুই বৃহৎ অর্থনীতির ভবিষ্যৎ বাণিজ্যিক সম্পর্কের দিকনির্দেশ নির্ধারণের গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবেই দেখা হচ্ছে।