IPO বুম আবার কি শেষ হবে নিয়ে উদ্বেগ?
সালগুলো — ১৯৯৬, ২০০০, ২০০৭, ২০১৯, ২০২১ … এবং এখন ২০২৫। ভেঙে পড়ার ইতিহাস বারবার একরকমই মনে করায়: IPO (প্রাথমিক জনতা প্রস্তাব) বাজারে যখন উচ্ছ্বাস থাকে, তার পরই আসে মন্দা। ভারতের বর্তমান IPO বুম কি সৃতির পাঠ ফিরে আসবে, নাকি এবার অন্য রাস্তায় এগোবে?
এই প্রশ্নটি বিশেষ করে কারণ সম্প্রতি দুটি হাই-প্রোফাইল স্টার্টআপ — Lenskart এবং Groww — বাজারে নামল, কিন্তু তাদের অভিজ্ঞতা একদম পার্থক্যপূর্ণ ছিল।
Lenskart বনাম Groww: একটি দৃষ্টান্ত
- Lenskart: অনেক আলোচনায় থাকা এই চশমা কোম্পানির লিষ্টিং তেমন উজ্জ্বল ছিল না। যদিও প্রাথমিকভাবে প্রতিষ্ঠান-লেভেলে আকর্ষণ strong ছিল, তার পরেও শেয়ারগুলি IPO মূল্যের নিচে খোলা শুরু করল। এটি ছিল সক্রিয় প্রত্যাশার বিপরীতে একটি মৃদু বাস্তবতা। সোশ্যাল মিডিয়ায় ব্যবহারকারী এবং ছোট বিনিয়োগকারীরা দাম এবং প্রমোটারদের এক্সিট স্ট্রাটেজি নিয়ে কথা বললো, বিশেষ করে X এবং Instagram এ।
- Groww: তার বিপরীতে, Groww-এর লিস্টিং বেশ সাফল্যময় ছিল। প্রতিষ্ঠান সামাজিকভাবে জনপ্রিয় এবং ডিজিটাল বিনিয়োগকারীদের মধ্যে ভালো গ্রহণযোগ্যতা পেয়ে, IPO-তে শক্তি দেখালো।
এই দুটি লিস্টিং একটি বড় প্রশ্নের দিকে ইঙ্গিত দেয় — বাজারের উচ্ছ্বাস কি বাস্তব পারফরম্যান্সে পরিণত হবে? নাকি শুধুই শোরগোল?
ইতিহাসের চক্র ও IPO বুমের নিয়মিত পুনরাবৃত্তি
লেখক ভরষা সন্তোষ স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন যে গত তিন দশকে প্রত্যেক বড় IPO বুমের পরেই মন্দার পর্যায় এসেছে। অর্থাৎ, উৎসব শেষে, ব্যথার সময় এসেছে। যেমন পুরনো চক্রগুলি — ১৯৯৬, ২০০০, ২০০৭ — সেই ইতিহাস এখনো স্মরণে।
এই ধরণের প্যাটার্ন শুধু স্মরণ করিয়ে দেয় যে IPO বুম স্বাভাবিকভাবেই ঝুঁকি নিয়ে আসে — এবং উত্থান যত ভয়ঙ্কর, পতনও তত সম্ভাবনাপূর্ণ।
কেন আবার এই IPO উন্মাদনা?
বর্তমানে IPO বাজারে যে উত্তেজনা দেখা দিচ্ছে, তার পেছনে কিছু সুনির্দিষ্ট কারণ আছে:
- ডোমেস্টিক তরলতা ও গৃহ-বিনিয়োগ
বর্তমান IPO বুমে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের তুলনায় অভ্যন্তরীণ (দেশি) বিনিয়োগকারীদের অংশ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। মিউচুয়াল ফান্ড, আইনসুরেন্স কোম্পানি, সাধারণ ছবি-বিনিয়োগকারীরা সবাই সক্রিয় ভূমিকা নিয়েছে।
- স্টার্টআপ ও ডিজিটাল ইকোনমি
ভারতে ডিজিটাল ইকোনমি দ্রুত বিকশিত হচ্ছে, এবং অনেক স্টার্টআপ এখন পাবলিক মার্কেটে আসার জন্য প্রস্তুত। IPO তাদের জন্য শুধু তহবিল উত্তোলনের পথই নয়, বরং ব্র্যান্ড অথরিটি তৈরি করার সুযোগ।
- বাজার কাঠামোর পরিবর্তন
বিনিয়োগ চক্রে একটি গঠনমূলক পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে: প্রাইভেট একুইটি-পর্ব থেকে IPO পর্যন্ত একটি ধারাবাহিক পাথ তৈরি হয়েছে। অর্থাৎ, যেসব কোম্পানি যখন বড় পরিমাণে প্রাইভেট ক্যাপিটাল পায়, তারা তার পর IPO-তে এসে সেই মূলধনকে উন্মুক্ত বাজারে রূপান্তর কর
- মূল্যায়ন প্রশ্ন
যদিও কিছু IPO খুব দ্রুত গ্রহন পায়, তার মানে এই নয় যে সবই যুক্তিপূর্ণ মূল্যায়নে হয়েছে। অনেক IPOতে অত্যধিক ভ্যালুয়েশন (মূল্যায়ন) এবং সাবস্ক্রিপশন–রেট অত্যন্ত বেশি — যা “জয়ীর অভিশাপ” („winner’s curse“) নামক অর্থনৈতিক ধারণাকে উদাহরণ হিসেবে তোলে।
কিন্তু যা ঝুঁকি রয়েছে
উচ্চ ঝুঁকি প্রতিটি উচ্ছ্বাসময় সময়ের সঙ্গী। এখানে কিছু বিশেষ উদ্বেগ রয়েছে:
- অনেক কোম্পানি IPO-তে প্রবেশ করছে এমন সময় যখন তাদের আর্নিং বা লাভ প্রায় নেই। এটি “ভ্যালুয়েশন ফাঁদ” তৈরি করতে পারে, যেখানে বাজার মুনাফার আগাম প্রতীক্ষায় অত্যধিক মূল্য দেয়।
- কিছু IPO-র লিস্টিং শুরুতে ভালো হলেও, পরবর্তী সময়ে শেয়ারগুলি তাদের ইস্যু মূল্যের নিচে নেমে যেতে পারে। একই সময়ে প্রমোটাররা সেই উপরে মূল্যে এক্সিট নিলেও ছোট বিনিয়োগকারীরা বড় ক্ষতির সম্মুখীন হতে পারে
- “উচ্চ স্বপ্ন–ও গভীর হতাশা” — অনেক বিনিয়োগকারী যারা IPO-তে অংশ নিচ্ছেন, তারা হয়তো ভবিষ্যতে দাম কমে যাওয়ার সম্ভাবনা কম বুঝতে পারছেন। এছাড়া, অতিরিক্ত মনোযোগ এবং উত্তেজনা বাজারে ভুল সিগন্যাল দিচ্ছে — যা দীর্ঘমেয়াদে সমস্যা তৈরি করতে পারে।
এঁরা বলছেন — ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গাও আছে
সবটাই নেতিবাচকই নয়। কিছু বিশ্লেষক মনে করেন এই বুম কেবল সারা বিশ্বের অর্থনৈতিক প্রবণতা নয়, বরং ভারতের মূলধন বাজারে একটি গঠনমূলক পরিবর্তন নির্দেশ করছে:
- আইবিএ (International Bar Association) জানায়, ভারত নিঃসন্দেহে গ্লোবাল IPO অথরিটি হিসেবে উঠে এসেছে।
- গো্ল্ডম্যান স্যাক্স বলেছে যে, যেভাবে দেশি বিনিয়োগকারীরা বাজারে অবদান দিচ্ছে, তা ভবিষ্যতে আরও স্ব নির্ভরশীল IPO বাজার গঠনে সহায়ক হতে পারে।
- কিছু বিশ্লেষক দেখছেন যে এই বুম শুধু ছাপ্ম পার্টি নয়, বরং আফটার-মার্কেট স্থায়ীত্বের দিকে মুখ করলেও যেতে পারে — যদি কার্যকর নিয়ম, স্বচ্ছতার ঘরোয়া বৃদ্ধি এবং দায়িত্বশীল প্রমোটার মডেল গড়ে ওঠে।
তবে প্রশ্ন থেকে যায়: এবার কি শেষ হবে কান্নায়?
উল্লেখিত ইতিহাস দেখিয়ে দেয় যে IPO বুম প্রতিবারেই মন্দার দিকে ঝোঁক নিয়েছে। কিন্তু এইবার পরিস্থিতি কিছুটা ভিন্নও হতে পারে:
- আজ IPO-উত্তেজনায় গভীর বৈশিষ্ট্য পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে: শুধু স্টার্টআপ নয়, বড় এবং প্রফিটেবল কোম্পানিরাও এই বাজারে আসছে।
- বিনিয়োগকারীর প্রোফাইল পরিবর্তিত হচ্ছে: শুধু মাত্র অভিজ্ঞ বা প্রফেশনাল ইনস্টিটিউশন নয়, নতুন রিটেইল ইনভেস্টররা বেশি সক্রিয়।
- নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলিও বেশি কঠোর নজরদারি শুরু করেছে, যাতে অতিরিক্ত মূল্যায়ন বা শোরগোলের কারণে বাজার তৈরি না হয়।
তবুও, ইতিহাসটাই একটা সতর্কতা — অতিরিক্ত উত্সাহ, যদি যুক্তি-মূল্যায়ন এবং সতর্কতার সঙ্গে না মিলায়, তাহলে পতনের সম্ভাবনা থেকে যায়।
২০২৫-এর IPO বুম ধারণক্ষমতা রাখে কিন্তু এটি পূর্বের বুমগুলোর মতোই ঝুঁকিপূর্ণ। Lenskart এবং Groww-এর বিপরীত অভিজ্ঞতা আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে সব IPO একই রকম হয় না — এবং নতুন বিনিয়োগকারীদের জন্য সময় এসেছে কেবল “উচ্চ প্রত্যাশা” নয়, বরং সতর্কতা, বিশ্লেষণ এবং দীর্ঘমেয়াদী দৃষ্টিভঙ্গা গ্রহণ করার।
যদি প্রমোটাররা দায়িত্বশীল হয়, নিয়ন্ত্রকরা মনোযোগী থাকে, এবং বিনিয়োগকারীরা বুঝদারী দেখায় — তাহলে হয়তো এই বুম শুধু উৎসব হয়ে শেষ হবে কান্নায় নয়, বরং ভারতীয় মূলধন বাজারে এক নতুন, আরও শক্তিশালী অধ্যায়ের সূচনা করতে পারে।
সবটাই নেতিবাচকই নয়। কিছু বিশ্লেষক মনে করেন এই বুম কেবল সারা বিশ্বের অর্থনৈতিক প্রবণতা নয়, বরং ভারতের মূলধন বাজারে একটি গঠনমূলক পরিবর্তন নির্দেশ করছে:
- আইবিএ (International Bar Association) জানায়, ভারত নিঃসন্দেহে গ্লোবাল IPO অথরিটি হিসেবে উঠে এসেছে।
- গো্ল্ডম্যান স্যাক্স বলেছে যে, যেভাবে দেশি বিনিয়োগকারীরা বাজারে অবদান দিচ্ছে, তা ভবিষ্যতে আরও স্ব নির্ভরশীল IPO বাজার গঠনে সহায়ক হতে পারে।
- কিছু বিশ্লেষক দেখছেন যে এই বুম শুধু ছাপ্ম পার্টি নয়, বরং আফটার-মার্কেট স্থায়ীত্বের দিকে মুখ করলেও যেতে পারে — যদি কার্যকর নিয়ম, স্বচ্ছতার ঘরোয়া বৃদ্ধি এবং দায়িত্বশীল প্রমোটার মডেল গড়ে ওঠে।
তবে প্রশ্ন থেকে যায়: এবার কি শেষ হবে কান্নায়?
উল্লেখিত ইতিহাস দেখিয়ে দেয় যে IPO বুম প্রতিবারেই মন্দার দিকে ঝোঁক নিয়েছে। কিন্তু এইবার পরিস্থিতি কিছুটা ভিন্নও হতে পারে:
- আজ IPO-উত্তেজনায় গভীর বৈশিষ্ট্য পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে: শুধু স্টার্টআপ নয়, বড় এবং প্রফিটেবল কোম্পানিরাও এই বাজারে আসছে।
- বিনিয়োগকারীর প্রোফাইল পরিবর্তিত হচ্ছে: শুধু মাত্র অভিজ্ঞ বা প্রফেশনাল ইনস্টিটিউশন নয়, নতুন রিটেইল ইনভেস্টররা বেশি সক্রিয়।
- নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলিও বেশি কঠোর নজরদারি শুরু করেছে, যাতে অতিরিক্ত মূল্যায়ন বা শোরগোলের কারণে বাজার তৈরি না হয়।
তবুও, ইতিহাসটাই একটা সতর্কতা — অতিরিক্ত উত্সাহ, যদি যুক্তি-মূল্যায়ন এবং সতর্কতার সঙ্গে না মিলায়, তাহলে পতনের সম্ভাবনা থেকে যায়।
২০২৫-এর IPO বুম ধারণক্ষমতা রাখে কিন্তু এটি পূর্বের বুমগুলোর মতোই ঝুঁকিপূর্ণ। Lenskart এবং Groww-এর বিপরীত অভিজ্ঞতা আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে সব IPO একই রকম হয় না — এবং নতুন বিনিয়োগকারীদের জন্য সময় এসেছে কেবল “উচ্চ প্রত্যাশা” নয়, বরং সতর্কতা, বিশ্লেষণ এবং দীর্ঘমেয়াদী দৃষ্টিভঙ্গা গ্রহণ করার।
যদি প্রমোটাররা দায়িত্বশীল হয়, নিয়ন্ত্রকরা মনোযোগী থাকে, এবং বিনিয়োগকারীরা বুঝদারী দেখায় — তাহলে হয়তো এই বুম শুধু উৎসব হয়ে শেষ হবে কান্নায় নয়, বরং ভারতীয় মূলধন বাজারে এক নতুন, আরও শক্তিশালী অধ্যায়ের সূচনা করতে পারে।
বুমের কারণ
প্রথমে দেখি কেন IPO‑বাজার এত সক্রিয় হয়ে উঠেছে:
- ২০২৫ সাল নাগাদ ভারতে IPO ভলিউম বড় ধাপে বাড়ছে — “YTD ২০২৫ এ প্রায় ৩১২টি ডিল হয়েছে ও প্রায় ১৯.৬ বিলিয়ন USD ওঠেছে” বলে একটি বিশ্লেষণ বলছে।
- অর্থনীতির বেসিক ফ্যাক্টরগুলো ভালো রয়েছে — যেমন ঘাঁটি হয়েছে ডমেস্টিক সেভিংস, সিস্টেম্যাটিক ইনভেস্টমেন্ট প্ল্যান (SIP) প্রবাহ, পেনশন মানি ও রিটেইল ইনভেস্টরদের আগ্রহ।
- সরকারের ও নিয়ামক সংস্থার তরফে কিছু উৎসাহমূলক পরিবেশ তৈরি হয়েছে — পরিবর্তনশীল অর্থনৈতিক অবস্থা, উন্নয়নশীল মধ্যবিত্ত, নতুন খাতগুলোতে লিস্টিংয়ের আগ্রহ বৃদ্ধি।
- মনোরম হাইপ ও বিনিয়োগকারীদের অধিক আগ্রহও কাজ করছে — “$২০০ মিলিয়ন প্রতি ঘণ্টায় ওভারসাবস্ক্রাইবশনের ঘণ্টা” টাইপ খবর এসেছে।
উদ্বেগের বিষয়গুলো
তবে শুধু উল্লাস করেই রাখা যায় না — নিচের দিকগুলো উদ্বেগের কারণ হতে পারে:
- অনেক IPO লঞ্চ হচ্ছে কিন্তু তালিকাভুক্ত হওয়ার পর ফলাফল সেভাবে নট দেখাচ্ছে না। উদাহরণস্বরূপ, একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে “অনেক কোম্পানি এখনও ইস্যু মূল্যের নিচে ট্রেড করছে”।
- স্বল্পমেয়াদে রিটার্ন ধূসর হয়ে এসেছে — “মিডিয়ান এক‑মাস পর লিস্টিং রিটার্ন এবার মাত্র ২.৯%” হয়েছে, যা আগের বছরের প্রায় ২২% ছিল।
- অতীতে দেখা গেছে, IPO‑বুমের পর বাজারে বিরতির বা সংশোধনের সময় এসেছে — অর্থনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন “গত ৫টি IPO বুম সাইকেলের পর সবসময় একটা বাজারের ধস বা সংশোধন দেখা গেছে”।
- কোম্পানিগুলোর ভ্যালুয়েশন অনেক ক্ষেত্রে বেশি হয়ে গেছে, অর্থাৎ ভবিষ্যতে রিটার্ন দেয়ার ক্ষেত্রে ঝুঁকি বেশি হতে পারে।
- বিনিয়োগকারীদের উচ্চ প্রত্যাশা ও হাইপ পরিস্থিতি একটি ‘বাবল’ (bubble) সৃষ্টির দিকে ধাবিত করতে পারে। একাডেমিক রিসার্চও দেখাচ্ছে, হাইপযুক্ত IPO‑র দীর্ঘমেয়াদে রিটার্ন কম হতে পারে।