ভারতের প্রাক্তন অলরাউন্ডার ইরফান পাঠান সম্প্রতি জানিয়েছেন, তরুণ ব্যাটার অভিষেক শর্মার ব্যাটিংয়ে কিছু গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের প্রয়োজন আছে। তাঁর মতে, অভিষেকের হাতে বিপুল ট্যালেন্ট থাকলেও শট নির্বাচনে ও ম্যাচের পরিস্থিতি বুঝে খেলার দক্ষতা বাড়াতে হবে। ইরফান পাঠান বলেন, অভিষেকের জন্য আমি প্রয়োজনে যুবরাজ সিংয়ের সাথেও কথা বলব, কারণ ওর মতো গেম সেন্স এখনকার দিনে খুব কম কারও আছে। তিনি মনে করেন, যুবরাজের মতো খেলোয়াড়ের কাছ থেকে ইনিংস বিল্ডিং ও ম্যাচ রিডিং শেখা অভিষেকের ক্যারিয়ারে বিশাল প্রভাব ফেলতে পারে। আইপিএলে অভিষেকের আগ্রাসী ব্যাটিং প্রশংসিত হলেও ইরফান চান, সে যেন আরও পরিণতভাবে খেলে দলের প্রয়োজনে ইনিংস টেনে নিয়ে যেতে পারে। তিনি বলেন, ও যদি নিজের টেম্পো বুঝে খেলে, ভারতের জন্য হতে পারে ভয়ঙ্কর ব্যাটার। ক্রিকেট বিশেষজ্ঞদের মতে, ইরফানের এই পরামর্শ শুধু একজন ক্রিকেটারের জন্য নয়, ভারতের ভবিষ্যৎ ব্যাটিং কাঠামোর জন্যও গুরুত্বপূর্ণ। অভিষেক শর্মা যদি এই পরিবর্তনগুলো আনতে পারে, তবে তিনি হতে পারেন ভারতের নেক্সট জেনারেশন ম্যাচ উইনার।
অভিষেক শর্মা ভারতের নতুন প্রজন্মের ক্রিকেটারদের মধ্যে অন্যতম উজ্জ্বল নাম। আইপিএল-এ সানরাইজার্স হায়দরাবাদের হয়ে তার ব্যাটিং ঝড় দেখেছে পুরো দেশ। টপ অর্ডারে এসে যে ধরণের দ্রুত রান তোলার ক্ষমতা তিনি দেখিয়েছেন, তা ভারতের ভবিষ্যৎ টি-টোয়েন্টি পরিকল্পনায় গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।
তবে ইরফান পাঠানের মতে, এই আগ্রাসনের পাশাপাশি দরকার ম্যাচ পরিস্থিতি বোঝার ক্ষমতা—যা তাকে আরও বড় খেলোয়াড় করে তুলবে।
ইরফান পাঠান ব্যাটিং নিয়ে তাঁর মন্তব্যে বলেন,
“অভিষেক এখন এমন এক জায়গায় আছে, যেখানে প্রতিটি ইনিংস তার আত্মবিশ্বাস বাড়াচ্ছে। কিন্তু তাকে বুঝতে হবে কখন ঝুঁকি নিতে হবে, আর কখন রোটেট করে ম্যাচ এগিয়ে নিতে হবে। এই জায়গায় যুবরাজ সিং অনেক পারদর্শী ছিল।”
তিনি আরও যোগ করেন,
“আমি চাই অভিষেকের সাথে যুবরাজের কিছু সেশন হোক। দু’জনের ব্যাটিং স্টাইল অনেকটা মেলে। যদি সে একটু ম্যাচ রিডিং এবং পার্টনারশিপ বিল্ডিং শিখে নেয়, তবে ভারত পাবে এক ভয়ঙ্কর ব্যাটার।”
যুবরাজ সিং ভারতের ইতিহাসে অন্যতম সেরা ম্যাচ-ফিনিশার এবং মিডল-অর্ডার ব্যাটসম্যান। ইরফান পাঠান জানিয়েছেন,
“আমি যদি অভিষেকের কোচ বা মেন্টর হতাম, আমি ওকে যুবির কাছে পাঠাতাম। কারণ যুবি জানে কিভাবে বড় শটের সাথে সাথে ইনিংস গড়ে তুলতে হয়। ওর ব্যাটিং ইন্টেলিজেন্স এখনকার প্রজন্মের জন্য এক বড় শিক্ষা।”
ক্রিকেট বিশেষজ্ঞরাও মনে করছেন, যুবরাজ সিংয়ের টেকনিক, বিশেষ করে স্পিনারদের বিরুদ্ধে ফ্লো ব্যাটিং এবং ইনিংস কন্ট্রোল—এই দুই বিষয় অভিষেকের ব্যাটিং উন্নতিতে বড় ভূমিকা রাখতে পারে।
গত এক বছরে অভিষেক শর্মা ঘরোয়া ক্রিকেট এবং আইপিএল—দুই মঞ্চেই ধারাবাহিকতা দেখিয়েছেন। তার স্ট্রাইক রেট, পাওয়ার-প্লে ব্যবহারের দক্ষতা, এবং সাহসী ব্যাটিং ভারতের টি-টোয়েন্টি ব্যাটিং ইউনিটে এক নতুন শক্তির ইঙ্গিত দিচ্ছে।
তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, একমাত্র টেকনিক্যাল দিকেই এখন মনোযোগ দেওয়া দরকার—শর্ট বল সামলানো এবং ব্যাট-ফেস কন্ট্রোল।
ইরফান পাঠান বলেন,
“অভিষেক যদি এই দুই জায়গায় আরও উন্নতি করে, তবে সে আগামী পাঁচ বছর ভারতের টপ অর্ডারে স্থায়ী হতে পারে।”
অভিষেক শর্মা ভারতের ঘরোয়া ক্রিকেটে বহুদিন ধরে আলোচিত নাম। অনূর্ধ্ব-১৯ দলে খেলার সময় থেকেই তার ব্যাটিং ক্লাস নজর কেড়েছে।
ইরফান পাঠান মনে করেন, দেশের ক্রিকেট কাঠামো এখন এমন এক পর্যায়ে আছে যেখানে প্রতিটি প্রতিভাকে সময় মতো সঠিক দিকনির্দেশনা দেওয়া দরকার।
তিনি বলেন,
“অভিষেকের মতো প্রতিভা অনেক সময় হারিয়ে যায়, যদি ওরা নিজের উন্নতি সঠিকভাবে চালিয়ে না যায়। তাই এখনই সময়, অভিষেককে গাইড করার।”
ইরফান পাঠানের মতে, অভিষেক শর্মার ব্যাটিংয়ে তিনটি পরিবর্তন জরুরি—
শট নির্বাচনে সংযম: শুরুতে রিস্ক কমিয়ে ইনিংস গড়া।
গেম রিডিং: ম্যাচের অবস্থান অনুযায়ী ব্যাটিং পরিকল্পনা বদলানো।
স্ট্রাইক রোটেশন: প্রতি বলেই বড় শট নয়—দুই রান নেওয়ার কৌশল বাড়ানো।
এই তিনটি বিষয়েই যুবরাজ সিংয়ের ব্যাটিং ছিল অনন্য, এবং তাই ইরফান চান দু’জনের মধ্যে একটা ক্রিকেটিং আলোচনা হোক।
ইরফান পাঠানের এই পরামর্শ নিছক সমালোচনা নয়—এটি ভারতের ভবিষ্যৎ ব্যাটিং শক্তিকে আরও উন্নত করার বাস্তব দৃষ্টিভঙ্গি।
অভিষেক শর্মা যদি এই টিপসগুলো কাজে লাগাতে পারে, তবে তিনি হয়ে উঠতে পারেন ভারতের “নেক্সট জেনারেশন ম্যাচ উইনার”।
আর ইরফানের সেই এক কথাই এখন আলোচনায় —
“অভিষেককে আমি গাইড করব, প্রয়োজনে যুবির সাথেও কথা বলব!”