টলিউডের জনপ্রিয় অভিনেতা জীতু কমল আবারও বিতর্কের কেন্দ্রে। তাঁর নতুন ছবি চিরদিনই তুমি যে আমারকে ঘিরে শুটিং চলাকালীন নাকি একাধিক মতবিরোধ তৈরি হয়। স্ক্রিপ্টে হঠাৎ পরিবর্তন, চরিত্রের গুরুত্ব কমে যাওয়া এবং কিছু দৃশ্য বাদ পড়া এসব বিষয়কে কেন্দ্র করে ইউনিটের ভেতরে অসন্তোষ দেখা দেয়। জীতুর ঘনিষ্ঠ মহলের দাবি, তাঁকে আগে থেকে এই পরিবর্তনগুলির বিষয়ে জানানো হয়নি, যা অভিনেতার মনে আঘাত দেয়। ফলে তিনি বর্তমানে ছোটপর্দার প্রোজেক্ট থেকে নিজেকে দূরে রাখছেন। অন্যদিকে পরিচালক দাবি করেছেন, গল্পের স্বার্থেই এই পরিবর্তন করা হয়েছে। তবে জীতুর মতে, তিনি যে কোনও মাধ্যমেই কাজ করবেন, কিন্তু সেখানে তাঁর প্রতিভা ও পরিশ্রমের মর্যাদা থাকতে হবে। এই বিতর্কে দর্শকের মধ্যেও মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে। কেউ অভিনেতার সিদ্ধান্তকে সঠিক বলছেন, কেউ আবার নমনীয়তার পরামর্শ দিচ্ছেন। তবে সবাই একমত, প্রতিভাবান জীতুকে আবার বড় চরিত্রে দেখতে চান দর্শক।
টলিউডের জনপ্রিয় মুখ জীতু কমল আবারও বিতর্কের কেন্দ্রে। বহু দিনের অভিনয়জীবনে তিনি কখনও তাঁর দক্ষতার জন্য শিরোনামে উঠেছেন, কখনও বা ভিন্ন ধরনের চরিত্রে অভিনয় করে দর্শকের মন কেড়েছেন। কিন্তু এবারের পরিস্থিতি একটু আলাদা। নতুন ছবিতে, বিশেষ করে ‘চিরদিনই তুমি যে আমার’ এই ছবিতে অভিনয়ের সূত্র ধরে চলা নানা জল্পনা-কল্পনার মাঝেই অভিনেতাকে নিয়ে আবার আলোচনা তুঙ্গে। অভিযোগ, এই ছবির কিছু চরিত্র ও কিছু দৃশ্যকে ঘিরে অভ্যন্তরীণ কলহ তৈরি হয়েছে। আর সেই কারণেই জীতু নাকি ছোটপর্দার কাজ থেকে ইচ্ছে করেই দূরে থাকছেন। তবে বিষয়টি কি আসলেই এতটাই সহজ, নাকি এর পেছনে রয়েছে আরও গভীর গল্প তা নিয়ে জোর আলোচনা চলছে টলিউডে। জীতু কমল দীর্ঘদিন ধরে বাংলা বিনোদন জগতের পরিচিত নাম। ছোটপর্দা, বড়পর্দা দুই ক্ষেত্রেই তাঁর অভিনয় সমান প্রশংসিত হয়েছে। বিশেষ করে চরিত্রাভিনেতা হিসেবে তিনি কয়েকটি সাড়া জাগানো চরিত্রে অভিনয় করেছেন। তাঁর অভিনয়ে আছে স্বাভাবিকতা, সংযম, এবং চরিত্রের ভিতরে ঢুকে পড়ার এক প্রবল ক্ষমতা। এই দক্ষতাই তাঁকে বহু চলচ্চিত্র নির্মাতার পছন্দের তালিকায় নিয়ে এসেছে। ‘চিরদিনই তুমি যে আমার’ ছবিতেও তিনি অন্যরকম চরিত্রে অভিনয়ের সুযোগ পান এবং সেই চরিত্র নিয়ে অভিনেতাও ছিলেন বেশ উচ্ছ্বসিত। কিন্তু ছবির শুটিং চলাকালীন হঠাৎই নানা মতবিরোধ, ভুল বোঝাবুঝি এবং কিছু ব্যক্তিগত অসন্তোষ প্রকাশ্যে উঠে আসতে থাকে। ছবির ইউনিট সূত্রে খবর, ছবির শুটিং শুরুতে সবকিছুই ছিল স্বাভাবিক। পরিচালক ও টিমের সঙ্গে জীতুর সম্পর্কও ছিল স্বাভাবিক সীমার মধ্যেই। কিন্তু ধীরে ধীরে চরিত্রের পরিবর্তন, স্ক্রিপ্টে হঠাৎ কিছু সংশোধন, এবং কিছু দৃশ্যের গুরুত্ব কমে যাওয়া—এসব বিষয় জীতুর পছন্দ হয়নি। অভিনেতা সবসময়ই চরিত্রের গভীরতা ও গুরুত্বকে প্রাধান্য দেন, তাই যখন তিনি দেখলেন যে তাঁর চরিত্রটি ক্রমশ প্রাধান্য হারাচ্ছে, তখনই অসন্তোষ তৈরি হয়। স্ক্রিপ্ট পরিবর্তনের বিষয়টি আগে থেকে তাঁকে জানানো হয়নি—এই অভিযোগও তুলেছেন ঘনিষ্ঠ মহল। এদিকে পরিচালকের দাবি, স্ক্রিপ্টের পরিবর্তনটি গল্পের স্বার্থেই করা হয়েছে। পুরো ছবির নির্মাণশৈলী বজায় রাখতে গেলে কিছু চরিত্রের গুরুত্ব বাড়ানো বা কমানো স্বাভাবিক ব্যাপার, সেখানে অভিনেতাদের ব্যক্তিগত দৃষ্টিভঙ্গির সঙ্গে সবসময় মিল নাও থাকতে পারে। তবে পরিচালক কখনও চাননি যে কোনো অভিনেতা ক্ষুণ্ণ হোক। কিন্তু অভিনেতা-পরিচালকের এই মতবিরোধ ধীরে ধীরে কলহের আকার নেয়। ইন্ডাস্ট্রির ভেতর বহুজনই মনে করেন, এই ঘটনার পর থেকেই জীতুর মনোভাব বদলাতে থাকে এবং তিনি ছোটপর্দার প্রোজেক্ট থেকে একধাক্কায় দূরে সরে যান। টলিউডের অনেকেই জানেন,ছোটপর্দার জনপ্রিয়তা যতই বেশি হোক না কেন, সেখানে কাজের চাপ থাকে তুলনামূলক বেশি। দীর্ঘ শুটিং, প্রতিদিনের এপিসোডের চাপ, চরিত্রে নতুনত্বের অভাব—এসব কারণে বহু অভিনেতাই ছোটপর্দা থেকে বড়পর্দার দিকে ঝুঁকে পড়েন। জীতু কমলের ক্ষেত্রেও বিষয়টি আলাদা ছিল না। তিনি আগে বহু ধারাবাহিকে অভিনয় করলেও বড়পর্দায় কিছু উল্লেখযোগ্য কাজ করার পর থেকেই মূলত সিনেমাতেই মন দিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, অভিনেতা হিসেবে নিজেকে চ্যালেঞ্জ করতে তিনি সবসময় চান বড়পর্দার মতো প্ল্যাটফর্মে কাজ করতে। কিন্তু পাশাপাশি এ কথাও স্বীকার করেন, ছোটপর্দা তাঁর জন্য চলার পথ তৈরি করেছে এবং সেই প্ল্যাটফর্মকে কখনও অস্বীকার করা উচিত নয়।‘চিরদিনই তুমি যে আমার’ ছবির বিতর্কের পর যখন প্রশ্ন ওঠে যে অভিনেতা কেন ছোটপর্দায় ফিরছেন না, তখন সে বিষয়ে প্রথমদিকে তিনি নীরব ছিলেন। কেউ কেউ মনে করেছিলেন, হয়তো তিনি বড়পর্দার জনপ্রিয়তা ধরে রাখতে চান। কেউ আবার দাবি করেন, ছোটপর্দা নাকি তাঁকে আর বড় কিছু করতে দেবে না—এই ভেবে অভিনেতা নিজেই দূরে সরে গেছেন। তবে আসল পরিস্থিতি অন্যরকম। জীতুর ঘনিষ্ঠমহলের দাবি, ছবির শুটিং-এ যে অসঙ্গতি, যে হঠাৎ স্ক্রিপ্ট পরিবর্তন, বা যে চরিত্রের গুরুত্ব কমে যাওয়া—এসব বিষয় তাঁর মনে আঘাত করেছিল। তিনি বুঝতে পেরেছিলেন, বড় প্রোজেক্টও কখনও কখনও ঠিকঠাক পরিকল্পনা ছাড়া বিপাকে পড়ে যেতে পারে। তাই ভবিষ্যতে তিনি এমন কোনও কাজে যুক্ত থাকতে চান না, যেখানে তাঁর কাজের প্রতি সম্মান বা মূল্যায়ন কম থাকবে। এই পুরো ঘটনার মাঝেই জীতু কমল নিজেও মুখ খুলেছেন। তাঁর দাবি, তিনি কোনও পক্ষের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনতে চান না। কিন্তু একজন অভিনেতা হিসেবে তাঁর দায়িত্ব রয়েছে নিজের কাজের মূল্য বজায় রাখা। তিনি চান, যে চরিত্র তিনি করবেন, সেটি যেন সাজানো-গোছানো হয়, গল্পে যে ভূমিকা তাঁর থাকবে, তা যেন সঠিকভাবে ফুটে ওঠে। তাঁর কথায় ছোটপর্দা, বড়পর্দা সবই কাজের জায়গা। কিন্তু যেখানে আমি নিজের প্রতিভা ঠিকভাবে কাজে লাগাতে পারব না, সেখানে আমি কেন সময় দেব? অভিনেতার এই বক্তব্য থেকেই অনেকে বুঝতে পারছেন যে সমস্যাটি শুধুই ছোটপর্দা বনাম বড়পর্দার নয়, বরং সম্মান, মূল্যায়ন ও পেশাদারিত্বের। টলিউডের বেশ কিছু সিনিয়র শিল্পী এই নিয়ে মন্তব্য করেছেন যে, আজকাল ইন্ডাস্ট্রিতে কাজের চেয়ে সম্পর্ক এবং গ্রুপিজ়ম বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে। ফলে অনেক দক্ষ অভিনেতাকে কখনও কখনও উপেক্ষার শিকার হতে হয়। জীতুর ক্ষেত্রেও কি তেমনটাই ঘটেছে? কেউ সরাসরি না বললেও ইঙ্গিত মিলছে যে এমন অভিযোগ পুরোপুরি অমূলক নয়। ছবির ইউনিটে কিছুজনের ব্যক্তিগত মতবিরোধও এই কলহের নেপথ্যে থাকতে পারে। তবে এসবই জল্পনা কারণ প্রতিটি পক্ষই প্রকাশ্যে মুখ খোলায় সতর্কতা দেখিয়েছেন। অন্যদিকে ইন্ডাস্ট্রির আরেক অংশ মনে করেন, ‘চিরদিনই তুমি যে আমার’ একটি বড় বাজেটের প্রকল্প। এমন ছবিতে চরিত্রের ও গল্পের পরিবর্তন শেষ মুহূর্তে হওয়া খুব অস্বাভাবিক নয়। আর বড়পর্দার তুলনায় ছোটপর্দায় অভিনেতারা নিয়মিত কাজ করার সুযোগ পান। সেখানে জীতুর মতো দক্ষ অভিনেতা ফিরলে দর্শকেরও উপকার হতো। তবে সিদ্ধান্ত তাঁর ব্যক্তিগত কোন প্ল্যাটফর্মে কাজ করবেন, কোন জায়গায় নিজেকে তুলে ধরবেন, তা সম্পূর্ণ তাঁর নিজের। এই বিতর্কের মাঝে দর্শকের মধ্যে নানা প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে। কেউ মনে করছেন, অভিনেতার এই সিদ্ধান্ত সঠিক কারণ সম্মান না পেলে কোনও শিল্পীই কাজ করতে পারবেন না। আবার কেউ মনে করছেন, অভিনেতাদের আরও নমনীয় হওয়া উচিত, কারণ একটি ছবির নির্মাণে শতাধিক মানুষের পরিশ্রম থাকে। অভিনেতার কারণে যদি ছবির কাজে বাধা আসে, তবে তা গোটা টিমের ক্ষতি। তবে জীতুর ভক্তরা জানিয়ে দিয়েছেন, তাঁরা যে কোনও প্ল্যাটফর্মেই তাঁকে দেখতে চান, এবং তাঁর সিদ্ধান্তকে সম্মান জানান। বাস্তবিক দিক থেকে বিষয়টি বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, টলিউডের বর্তমান পরিবেশে অনেক অভিনেতাই নিজেদের মতো করে সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন। কেউ ওটিটি প্ল্যাটফর্মে চলে যাচ্ছেন, কেউ বড়পর্দায় ঝুঁকছেন, আবার কেউ ছোটপর্দায় ফিরে এসে নতুনভাবে নিজের জায়গা তৈরি করছেন। জীতু কমলের ক্ষেত্রেও এমনই হতে পারে। আজ ছোটপর্দায় ‘না’ বললেও, হয়তো ভবিষ্যতে কোনও শক্তিশালী চরিত্র বা নতুন ধরনের গল্প তাঁকে আবার ছোটপর্দায় ফিরিয়ে আনবে। কারণ একজন শিল্পীর কাছে মাধ্যম নয়, চরিত্রই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। সবশেষে বলা যায়, ‘চিরদিনই তুমি যে আমার’ ছবির বিতর্ক শুধু একটি ছবি বা একটি চরিত্রকে কেন্দ্র করে নয়। এটি পুরো ইন্ডাস্ট্রির পেশাদারিত্ব, শিল্পীর মূল্যায়ন, এবং গল্পের প্রতি নিষ্ঠার ওপর প্রশ্ন তুলেছে। একদিকে পরিচালক ও প্রযোজকের ব্যবসায়িক সিদ্ধান্ত, অন্যদিকে অভিনেতার সৃজনশীল স্বাধীনতা এই দুইয়ের সংঘাত থেকেই জন্ম নেয় এমন পরিস্থিতি। জীতু কমল কেবল সেই সংঘাতেরই এক প্রতিচ্ছবি। তবে তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন যে কাজ তিনি করবেন, তবে শুধুমাত্র সেই জায়গায় যেখানে তাঁর প্রতিভা ও শ্রমের প্রতি যথাযথ সম্মান থাকবে। দর্শক হিসেবে আমরা চাইলেই বলতে পারি, বিতর্কের চাইতে শিল্পই বড়। সময়ই হয়তো বলবে, এই বিতর্কের মাঝেও জীতু আবারও বড় কোনও কাজ নিয়ে সামনে আসবেন। টলিউডের দর্শকেরাও অপেক্ষায় আছেন সেই মুহূর্তের, যখন আবার তাঁকে নতুন কোনও চরিত্রে, নতুন কোনও গল্পের কেন্দ্রে দেখা যাবে। কারণ বিতর্ক যতই থাকুক, প্রতিভা কখনও চাপা পড়ে না। জীতু কমলের মতো অভিনেতা তাই ফিরে আসবেনই—সম্মান নিয়ে, স্বতঃস্ফূর্ত অভিনয় নিয়ে, এবং আরও শক্তিশালী গল্প নিয়ে।