Lenspedia Bangla Logo
  • কলকাতা
  • 30℃ Purba Bardhaman

কালবৈশাখীর ঝড়ের পূর্বাভাস: দক্ষিণের ১২ জেলায় ৫০–৬০ কিমি বেগে দমকা হাওয়া, কবে মিলবে স্বস্তির বৃষ্টি?

উত্তর-পূর্ব বাংলাদেশ ও পার্শ্ববর্তী অঞ্চলের উপর ০.৯ কিমি উচ্চতায় একটি ঘূর্ণাবর্ত অবস্থান করছে। এর প্রভাবে একটি অক্ষরেখা গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গের উপর দিয়ে ওড়িশা পর্যন্ত বিস্তৃত।

দক্ষিণবঙ্গের জেলাগুলিতে গরমের তীব্রতা ক্রমশ অসহনীয় হয়ে উঠেছে। দিন যত গড়াচ্ছে, তাপমাত্রা ততই বাড়ছে এবং সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাত্রা প্রভাবিত হচ্ছে। বিশেষ করে পশ্চিমাঞ্চলের জেলাগুলিতে ইতিমধ্যেই তাপপ্রবাহ শুরু হয়ে গিয়েছে। বহু জায়গায় পারদ ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছুঁয়ে ফেলেছে, কোথাও কোথাও তা ছাড়িয়েও যাচ্ছে। গরমের সঙ্গে বাড়ছে আর্দ্রতাজনিত অস্বস্তি, ফলে ‘হিট ইনডেক্স’ বা অনুভূত তাপমাত্রা আরও বেশি মনে হচ্ছে।

এই চরম আবহাওয়ার মধ্যেই কিছুটা স্বস্তির খবর দিয়েছে আলিপুর আবহাওয়া দফতর। তাদের পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী কয়েক দিনের মধ্যে দক্ষিণবঙ্গের বিভিন্ন জেলায় বিক্ষিপ্তভাবে ঝড়বৃষ্টি হতে পারে। বিশেষ করে কালবৈশাখী ঝড়ের সম্ভাবনা রয়েছে, যা গরম থেকে সাময়িক স্বস্তি এনে দিতে পারে।

আবহাওয়া দফতরের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে উত্তর-পূর্ব বাংলাদেশ ও পার্শ্ববর্তী অঞ্চলের উপর একটি ঘূর্ণাবর্ত অবস্থান করছে। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ০.৯ কিলোমিটার উচ্চতায় এই ঘূর্ণাবর্ত সক্রিয় রয়েছে। এর পাশাপাশি, এই ঘূর্ণাবর্ত থেকে একটি অক্ষরেখা গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গের উপর দিয়ে উত্তর ওড়িশা পর্যন্ত বিস্তৃত হয়েছে। এই আবহাওয়াগত পরিস্থিতির ফলে রাজ্যের বায়ুমণ্ডলে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন ঘটছে।

একদিকে যেমন পশ্চিম ও উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে শুষ্ক ও গরম হাওয়া প্রবেশ করছে, অন্যদিকে তাপ ও আর্দ্রতার সংঘর্ষে তৈরি হচ্ছে বজ্রগর্ভ মেঘ। এই ধরনের পরিস্থিতি কালবৈশাখী ঝড় সৃষ্টির জন্য অত্যন্ত অনুকূল। ফলে বিকেল বা সন্ধ্যার দিকে হঠাৎ করে ঝোড়ো হাওয়া, বিদ্যুৎ চমকানো এবং বৃষ্টি নামার সম্ভাবনা তৈরি হচ্ছে।

তবে আবহাওয়া বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, এই বৃষ্টি পুরোপুরি স্বস্তি দেবে না। কারণ, ঝড়বৃষ্টি সাধারণত স্বল্পস্থায়ী হবে এবং তার পরে আবার তাপমাত্রা বাড়তে পারে। অর্থাৎ গরমের অস্বস্তি পুরোপুরি কাটবে না, বরং কিছুটা ওঠানামা করবে।

দক্ষিণবঙ্গের যেসব জেলায় তাপপ্রবাহের সম্ভাবনা বেশি, সেগুলির মধ্যে রয়েছে পশ্চিম মেদিনীপুর, ঝাড়গ্রাম, বাঁকুড়া, পুরুলিয়া এবং পশ্চিম বর্ধমান। এই জেলাগুলিতে দিনের বেলায় তাপমাত্রা অত্যন্ত বেশি থাকার পাশাপাশি রাতেও তেমন স্বস্তি মিলছে না। উষ্ণ রাত (warm night) পরিস্থিতিও তৈরি হচ্ছে, যা স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়াচ্ছে।

অন্যদিকে, কলকাতা সহ গাঙ্গেয় অঞ্চলের জেলাগুলিতে আর্দ্রতাজনিত অস্বস্তি বেশি। এখানে তাপমাত্রা কিছুটা কম হলেও ঘাম এবং গুমোট আবহাওয়ার কারণে মানুষের কষ্ট বাড়ছে। বিশেষ করে দুপুর থেকে বিকেল পর্যন্ত সময়টা সবচেয়ে অসহনীয় হয়ে উঠছে।

এই পরিস্থিতিতে চিকিৎসকরা বিশেষ সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দিচ্ছেন। পর্যাপ্ত জল পান করা, রোদে অপ্রয়োজনীয়ভাবে না বেরোনো, হালকা ও ঢিলেঢালা পোশাক পরা—এই সব বিষয়গুলির উপর জোর দেওয়া হচ্ছে। বয়স্ক মানুষ, শিশু এবং অসুস্থ ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত সতর্ক থাকার কথা বলা হয়েছে।

কালবৈশাখী ঝড়ের সম্ভাবনা থাকায় কিছু সতর্কতাও জরুরি। ঝড়ের সময় খোলা জায়গায় না থাকা, গাছ বা বৈদ্যুতিক খুঁটির কাছ থেকে দূরে থাকা, এবং বজ্রপাতের সময় নিরাপদ আশ্রয়ে থাকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

একদিকে পশ্চিম ও উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে শুষ্ক ও উষ্ণ বাতাস দক্ষিণবঙ্গের দিকে প্রবেশ করছে, অন্যদিকে ভূপৃষ্ঠের কাছাকাছি স্তরে জলীয় বাষ্পের পরিমাণ বাড়তে থাকায় বায়ুমণ্ডলে অস্থিরতা তৈরি হচ্ছে। এই দুই ভিন্ন প্রকৃতির বায়ুস্তরের সংঘর্ষের ফলেই আকাশে দ্রুত তৈরি হচ্ছে বজ্রগর্ভ মেঘ। আবহাওয়াবিদদের মতে, এই ধরনের পরিস্থিতি কালবৈশাখী সৃষ্টির জন্য অত্যন্ত অনুকূল। বিশেষ করে দিনের তাপমাত্রা যত বেশি বাড়ে, বিকেল বা সন্ধ্যার দিকে তত বেশি শক্তি সঞ্চয় করে বায়ুমণ্ডল, যার প্রভাবে হঠাৎ দমকা ঝোড়ো হাওয়া, বজ্রপাত এবং স্বল্প সময়ের প্রবল বৃষ্টি দেখা দিতে পারে। অনেক ক্ষেত্রেই এই ঝড়ের বেগ ঘণ্টায় ৪০ থেকে ৬০ কিলোমিটার বা তারও বেশি হতে পারে। ফলে দিনের শেষে কিছুটা স্বস্তি মিললেও ঝড়ের তীব্রতা নিয়ে উদ্বেগ থেকেই যাচ্ছে।

তবে আবহাওয়া বিশেষজ্ঞরা স্পষ্ট করে জানাচ্ছেন, এই সম্ভাব্য বৃষ্টি দীর্ঘস্থায়ী স্বস্তি বয়ে আনবে না। কারণ, এই বৃষ্টি মূলত স্থানীয়ভাবে তৈরি হওয়া বজ্রগর্ভ মেঘের প্রভাবে হবে, যা খুব অল্প সময়ের জন্য সক্রিয় থাকে। কোথাও ২০ মিনিট, কোথাও ১ ঘণ্টা বৃষ্টি হলেও তারপর আবার দ্রুত আকাশ পরিষ্কার হয়ে গরম বাড়তে পারে। ফলে মানুষ যে দীর্ঘস্থায়ী শীতল আবহাওয়ার আশা করছেন, তা আপাতত মিলছে না। বরং দিনের গরম, বিকেলের ঝড় এবং রাতের গুমোট—এই তিনের মিশ্রণে অস্বস্তি আরও বেড়ে যেতে পারে। বিশেষ করে শহরাঞ্চলে কংক্রিটের তাপ ধরে রাখার প্রবণতার কারণে রাতের বেলাতেও তেমন আরাম মিলবে না।

দক্ষিণবঙ্গের যেসব জেলায় তাপপ্রবাহের আশঙ্কা সবচেয়ে বেশি, তার মধ্যে পশ্চিম মেদিনীপুর, ঝাড়গ্রাম, বাঁকুড়া, পুরুলিয়া এবং পশ্চিম বর্ধমান বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। এই জেলাগুলিতে দিনের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ইতিমধ্যেই ৩৯ থেকে ৪১ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে ঘোরাফেরা করছে। কোথাও কোথাও তা আরও বাড়ার সম্ভাবনাও রয়েছে। শুধু দিনের বেলায় নয়, রাতের তাপমাত্রাও স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি থাকায় উষ্ণ রাতের পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে। সাধারণত রাতের দিকে কিছুটা ঠান্ডা পড়ে শরীর স্বস্তি পায়, কিন্তু বর্তমানে অনেক এলাকায় সেই সুযোগও নেই। এর ফলে প্রবীণ, শিশু এবং দীর্ঘমেয়াদি অসুস্থতায় ভোগা মানুষের জন্য স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ছে।

অন্যদিকে কলকাতা, হাওড়া, হুগলি, উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা সহ গাঙ্গেয় দক্ষিণবঙ্গের জেলাগুলিতে তাপমাত্রা তুলনামূলক কিছুটা কম হলেও আর্দ্রতার কারণে অস্বস্তি বেশি। বাতাসে জলীয় বাষ্পের পরিমাণ বেশি থাকায় শরীরের ঘাম সহজে শুকোতে পারছে না। ফলে অনুভূত তাপমাত্রা বাস্তব তাপমাত্রার চেয়ে অনেক বেশি মনে হচ্ছে। দুপুরের পর থেকে বিকেল পর্যন্ত সময়ে গুমোট পরিবেশে সাধারণ মানুষের বাইরে বেরোনো কষ্টকর হয়ে উঠছে। কর্মজীবী মানুষ, পথচলতি যাত্রী এবং খোলা আকাশের নিচে কাজ করা শ্রমজীবী মানুষের সমস্যা সবচেয়ে বেশি হচ্ছে।

চিকিৎসকরা এই পরিস্থিতিতে বেশ কিছু সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দিচ্ছেন। প্রচুর পরিমাণে জল পান করতে হবে, এমনকি তেষ্টা না পেলেও অল্প অল্প করে জল খেতে হবে। ডাবের জল, লেবুর শরবত, ওআরএস বা ঘরে তৈরি হালকা নুন-চিনির শরবত শরীরের জলশূন্যতা রোধ করতে সাহায্য করতে পারে। দুপুর ১২টা থেকে বিকেল ৪টার মধ্যে অপ্রয়োজনীয়ভাবে বাইরে বেরোনো এড়াতে বলা হচ্ছে। বাইরে বেরোলে ছাতা, টুপি বা সানগ্লাস ব্যবহার করা উচিত। সুতির ও হালকা রঙের পোশাক পরলে শরীর তুলনামূলক ঠান্ডা থাকে। যাদের উচ্চ রক্তচাপ, হৃদরোগ বা শ্বাসকষ্টের সমস্যা আছে, তাদের ক্ষেত্রে বিশেষ সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

কালবৈশাখীর সম্ভাবনা থাকায় অন্য ধরনের সতর্কতাও জরুরি হয়ে পড়ছে। ঝড় শুরু হলে খোলা মাঠ, নদীর ঘাট বা উঁচু স্থানে না থাকাই ভালো। বজ্রপাতের সময় মোবাইল ফোন ব্যবহার, গাছের নিচে দাঁড়ানো বা বৈদ্যুতিক খুঁটির কাছাকাছি থাকা বিপজ্জনক হতে পারে। অনেক সময় ঝড়ের সঙ্গে শিলাবৃষ্টিও হতে পারে, তাই জানালা-দরজা বন্ধ রাখা এবং বিদ্যুৎ সংযোগের বিষয়ে সাবধানতা জরুরি। গ্রামীণ এলাকায় কৃষকদের বিশেষভাবে সতর্ক থাকতে বলা হচ্ছে, কারণ ঝড়ের সঙ্গে বজ্রপাত ফসল ও প্রাণহানির ঝুঁকি বাড়াতে পারে।

আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, আগামী কয়েক দিন দক্ষিণবঙ্গে এই পরিবর্তনশীল আবহাওয়া বজায় থাকবে। একদিকে তাপপ্রবাহের সতর্কতা, অন্যদিকে বজ্রবিদ্যুৎসহ ঝড়বৃষ্টির সম্ভাবনা—দুই মিলিয়ে আবহাওয়ার চরিত্র অস্থির থাকবে। সকালে রোদ, দুপুরে তীব্র গরম এবং সন্ধ্যায় আকস্মিক ঝড়—এই চিত্র বারবার দেখা যেতে পারে। ফলে মানুষকে একই সঙ্গে গরম ও ঝড়—দুই পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে।

সব মিলিয়ে দক্ষিণবঙ্গ এখন এক জটিল আবহাওয়ার মুখোমুখি। প্রকৃতির আচরণে স্পষ্ট বৈপরীত্য দেখা যাচ্ছে। একদিকে প্রখর রোদে পুড়ছে মাটি, অন্যদিকে সেই উত্তাপ থেকেই জন্ম নিচ্ছে কালবৈশাখীর মতো শক্তিশালী ঝড়। এই পরিস্থিতি যেমন অস্বস্তির, তেমনই স্বস্তির সামান্য ইঙ্গিতও বহন করছে। কারণ দিনের শেষে নামতে পারে বৃষ্টি, কমতে পারে সাময়িক তাপমাত্রা। কিন্তু দীর্ঘমেয়াদি আরামের জন্য এখনও অপেক্ষা করতেই হবে। আবহাওয়ার এই অনিশ্চয়তার মধ্যেই দক্ষিণবঙ্গের মানুষকে আগামী কয়েক দিন কাটাতে হবে বাড়তি সতর্কতার সঙ্গে।

 

I prefer this response

news image
আরও খবর

ChatGPT

Response 2

South Bengal Heatwave Kalbaishakhi 8000 Word Feature Article Bn

 

দক্ষিণবঙ্গে তাপপ্রবাহ, কালবৈশাখী ও স্বস্তির বৃষ্টির সম্ভাবনা: একটি বিস্তৃত বিশ্লেষণ

দক্ষিণবঙ্গের আবহাওয়া বর্তমানে এক জটিল ও বৈপরীত্যপূর্ণ অবস্থার মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে। একদিকে প্রখর রোদ, তীব্র তাপপ্রবাহ এবং শুষ্ক গরম হাওয়া মানুষের জীবনকে দুর্বিষহ করে তুলছে, অন্যদিকে বিকেল বা সন্ধ্যার দিকে কালবৈশাখী ঝড় ও বজ্রবিদ্যুৎসহ বৃষ্টির সম্ভাবনা কিছুটা স্বস্তির আশাও জাগিয়ে রাখছে। এই দুই বিপরীত আবহাওয়ার প্রভাব একসঙ্গে রাজ্যের বিস্তীর্ণ অঞ্চলে অনুভূত হচ্ছে।

বর্তমানে পশ্চিম ও উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে শুষ্ক ও উষ্ণ বায়ু দক্ষিণবঙ্গের জেলাগুলিতে প্রবেশ করছে। এই বায়ুপ্রবাহের ফলে দিনের তাপমাত্রা দ্রুত বাড়ছে এবং বহু জেলায় পারদ ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের কাছাকাছি পৌঁছে যাচ্ছে। বিশেষত পশ্চিমাঞ্চলের জেলা যেমন পশ্চিম মেদিনীপুর, ঝাড়গ্রাম, বাঁকুড়া, পুরুলিয়া এবং পশ্চিম বর্ধমানে তাপপ্রবাহের পরিস্থিতি ক্রমশ তীব্র হচ্ছে। দিনের বেলায় তাপমাত্রা যেমন অস্বাভাবিকভাবে বেশি থাকছে, তেমনই রাতেও উষ্ণতা তেমন কমছে না। ফলে ‘উষ্ণ রাত’-এর পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে, যা স্বাস্থ্যঝুঁকি আরও বাড়িয়ে তুলছে।

আবহাওয়াবিদদের মতে, এই পরিস্থিতির পেছনে একটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ হল উত্তর-পূর্ব বাংলাদেশ ও পার্শ্ববর্তী অঞ্চলের উপর অবস্থানরত একটি ঘূর্ণাবর্ত। সমুদ্রতল থেকে প্রায় ০.৯ কিলোমিটার উচ্চতায় এই ঘূর্ণাবর্ত সক্রিয় রয়েছে। এর পাশাপাশি একটি অক্ষরেখা গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গের উপর দিয়ে উত্তর ওড়িশা পর্যন্ত বিস্তৃত হয়েছে। এই দুটি আবহাওয়াগত উপাদান একসঙ্গে রাজ্যের বায়ুমণ্ডলে অস্থিরতা তৈরি করছে।

এই অস্থিরতার ফলেই তাপ ও আর্দ্রতার সংঘর্ষে বজ্রগর্ভ মেঘের সৃষ্টি হচ্ছে। দিনের বেলায় প্রবল গরমে ভূমি দ্রুত উত্তপ্ত হয়ে উঠছে। সেই উত্তপ্ত বায়ু উপরে উঠতে শুরু করলে উপরের স্তরে থাকা অপেক্ষাকৃত আর্দ্র বায়ুর সঙ্গে মিশে শক্তিশালী কনভেক্টিভ মেঘ তৈরি হয়। এই মেঘই পরবর্তীতে কালবৈশাখী ঝড়ের রূপ নিতে পারে।

ফলে বিকেল বা সন্ধ্যার দিকে আচমকা আকাশ কালো হয়ে যাওয়া, দমকা থেকে ঝোড়ো হাওয়া, বিদ্যুৎ চমকানো এবং স্বল্পস্থায়ী কিন্তু তীব্র বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা তৈরি হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে এই ঝড়ের বেগ ঘণ্টায় ৫০ থেকে ৬০ কিলোমিটার বা তারও বেশি হতে পারে। স্থানীয়ভাবে গাছ উপড়ে যাওয়া, বিদ্যুতের খুঁটি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া এবং যান চলাচলে বিঘ্ন ঘটার আশঙ্কাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

তবে আবহাওয়া বিশেষজ্ঞরা স্পষ্ট জানাচ্ছেন যে এই বৃষ্টি দীর্ঘস্থায়ী স্বস্তি এনে দেবে না। কালবৈশাখী সাধারণত স্বল্প সময়ের জন্য তাপমাত্রা কমিয়ে দেয়। ঝড়-বৃষ্টির পর কয়েক ঘণ্টা আবহাওয়া কিছুটা মনোরম থাকলেও পরদিন আবার তাপমাত্রা দ্রুত বাড়তে পারে। অর্থাৎ গরমের অস্বস্তি পুরোপুরি কাটবে না, বরং ওঠানামা করবে।

কলকাতা ও সংলগ্ন গাঙ্গেয় অঞ্চলে পরিস্থিতি কিছুটা ভিন্ন। এখানে তাপমাত্রা পশ্চিমাঞ্চলের তুলনায় সামান্য কম হলেও বাতাসে আর্দ্রতার পরিমাণ বেশি থাকায় গুমোট অস্বস্তি অত্যন্ত তীব্র। ঘাম, ক্লান্তি এবং শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যা বেড়ে যাচ্ছে। দুপুর থেকে বিকেল পর্যন্ত সময়টা সবচেয়ে কষ্টকর হয়ে উঠছে।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা এই পরিস্থিতিতে বিশেষ সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দিচ্ছেন। পর্যাপ্ত পরিমাণে জল পান করা, ওআরএস বা লবণ-চিনি মিশ্রিত জল খাওয়া, দুপুরের তীব্র রোদ এড়িয়ে চলা এবং হালকা রঙের সুতি পোশাক পরার উপর জোর দেওয়া হচ্ছে। বয়স্ক মানুষ, শিশু, গর্ভবতী মহিলা এবং দীর্ঘস্থায়ী রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের জন্য অতিরিক্ত সতর্কতা জরুরি।

তাপপ্রবাহের কারণে হিট এক্সহস্টশন এবং হিট স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়ছে। মাথা ঘোরা, অতিরিক্ত ঘাম, দুর্বলতা, বমি ভাব, দ্রুত হৃদস্পন্দন এবং শরীরের তাপমাত্রা অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়া—এই লক্ষণগুলি দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

অন্যদিকে কালবৈশাখীর সময় বজ্রপাত একটি বড় বিপদ। ঝড়ের সময় খোলা মাঠ, ছাদ, জলাশয়ের ধারে বা বড় গাছের নিচে আশ্রয় নেওয়া বিপজ্জনক। মোবাইল চার্জে লাগানো অবস্থায় ব্যবহার করা, বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি চালু রাখা বা ধাতব বস্তু স্পর্শ করা থেকেও বিরত থাকা উচিত।

কৃষিক্ষেত্রেও এই আবহাওয়ার বড় প্রভাব পড়তে পারে। তীব্র গরমে ফসলের ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা যেমন রয়েছে, তেমনই ঝড়বৃষ্টির ফলে পাকা ফসল নষ্ট হওয়ার সম্ভাবনাও আছে। বিশেষ করে আম, লিচু ও গ্রীষ্মকালীন সবজি চাষে ক্ষতির আশঙ্কা বাড়ছে।

শহুরে জীবনেও এর প্রভাব সুস্পষ্ট। বিদ্যুতের চাহিদা দ্রুত বাড়ছে, ফলে লোডশেডিংয়ের সম্ভাবনা দেখা দিচ্ছে। রাস্তায় দুপুরের সময় মানুষের ভিড় কমে যাচ্ছে। গণপরিবহনে যাত্রীদের কষ্ট বাড়ছে।

আগামী কয়েক দিন দক্ষিণবঙ্গের আবহাওয়া এই পরিবর্তনশীল চরিত্র বজায় রাখবে বলে পূর্বাভাস। কোথাও তীব্র গরম, কোথাও কালবৈশাখী—এই দুইয়ের মিশ্রণই রাজ্যের আবহাওয়ার প্রধান বৈশিষ্ট্য হয়ে থাকবে।

সব মিলিয়ে দক্ষিণবঙ্গ এখন প্রকৃতির এক বৈপরীত্যপূর্ণ আবহাওয়ার সাক্ষী। একদিকে দহনজ্বালা, অন্যদিকে স্বল্পস্থায়ী স্বস্তির বৃষ্টি—এই টানাপোড়েনের মধ্যেই আগামী কয়েক দিন কাটবে সাধারণ মানুষের।

 

Preview image