ভুয়ো তথ্য দিলে শাস্তি! ঔষধ কোম্পানিগুলির বিরুদ্ধে কড়া নিয়ম আনছে কেন্দ্র সরকার দেশে ঔষধ নির্মাতাদের অনিয়ম ও ভুয়ো তথ্য দাখিলের বিরুদ্ধে এবার কঠোর অবস্থান নিচ্ছে কেন্দ্র সরকার। Central Drugs Standard Control Organisation (CDSCO) এবং স্বাস্থ্য মন্ত্রকের উদ্যোগে এমন এক নতুন নিয়মের খসড়া (Draft Rules) তৈরি করা হচ্ছে, যার আওতায় কোনও ঔষধ প্রস্তুতকারক সংস্থা যদি অনুমোদন বা নিবন্ধনের সময় ভুল, জাল বা বিভ্রান্তিকর তথ্য দেয়, তবে তাদের বিরুদ্ধে লাইসেন্স বাতিল, পণ্য প্রত্যাহার ও আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এই সিদ্ধান্ত এসেছে সাম্প্রতিক কয়েকটি বিতর্কিত ঘটনার পর, যেখানে ভারতীয় তৈরি কফ সিরাপ ও কিছু অ্যান্টিবায়োটিকের বিরুদ্ধে বিকৃত উপাদান ব্যবহার ও ভুয়ো ডেটা দাখিলের অভিযোগ উঠেছিল। এই ঘটনাগুলি শুধু দেশেই নয়, বিদেশেও ভারতের ফার্মা শিল্পের বিশ্বাসযোগ্যতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। নতুন নিয়মে বলা হয়েছে — কোনও সংস্থা যদি তথ্য জাল করে বা পরীক্ষার ফলাফল লুকিয়ে রাখে, তাহলে CDSCO তাদের পণ্য অবিলম্বে বাজার থেকে প্রত্যাহার করতে পারবে। সংস্থার রেজিস্ট্রেশন ও লাইসেন্স বাতিল হতে পারে। ভুয়ো ব্র্যান্ডিং বা মিথ্যা লেবেলিং করলে সেটিও অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পদক্ষেপ ঔষধ শিল্পে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা ফিরিয়ে আনবে। এটি একদিকে যেমন জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় সাহায্য করবে, তেমনি আন্তর্জাতিক বাজারে ভারতীয় ওষুধের বিশ্বাসযোগ্যতা আরও বাড়াবে। শিল্পমহল এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছে। তবে ক্ষুদ্র ও মাঝারি সংস্থাগুলি (SMEs) জানিয়েছে, তথ্য যাচাই ও রিপোর্টিংয়ের নতুন প্রক্রিয়া বাস্তবায়নে অতিরিক্ত খরচ ও প্রযুক্তিগত সহায়তা প্রয়োজন হবে। সব মিলিয়ে, কেন্দ্রের এই নতুন পদক্ষেপ দেশের ফার্মাসিউটিক্যাল শিল্পে এক নতুন অধ্যায় শুরু করতে চলেছে, যেখানে ভুয়ো তথ্য ও অনিয়মের কোনও স্থান থাকবে না, বরং গুণমান, সঠিকতা ও দায়বদ্ধতার সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠিত হবে।
ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার দেশের ঔষধ শিল্পে স্বচ্ছতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এক গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নিতে চলেছে। Central Drugs Standard Control Organisation (CDSCO) ও স্বাস্থ্য মন্ত্রকের উদ্যোগে কেন্দ্র এমন একটি নতুন নিয়মের খসড়া তৈরি করছে, যার আওতায় কোনও ঔষধ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান যদি ভুয়ো তথ্য, জাল কাগজপত্র বা বিভ্রান্তিকর তথ্য জমা দেয়, তাহলে সেই সংস্থাকে কঠোর শাস্তির মুখে পড়তে হবে।
এই নিয়ম অনুযায়ী, যে কোনও ফার্মাসিউটিক্যাল কোম্পানি যদি অনুমোদন বা রেজিস্ট্রেশনের জন্য ভুল বা মিথ্যা তথ্য দেয়, তবে তাদের পণ্য বাজার থেকে তৎক্ষণাৎ প্রত্যাহার করা হবে এবং কোম্পানির লাইসেন্স সাসপেন্ড বা বাতিল হতে পারে।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দেশে ও বিদেশে ভারতের তৈরি কিছু ওষুধ নিয়ে বিতর্ক উঠেছে। কয়েকটি আফ্রিকান দেশে শিশু মৃত্যুর ঘটনায় ভারতীয় ওষুধকে দায়ী করা হয়েছিল। তামিলনাড়ু, গুজরাট, হরিয়ানা প্রভৃতি রাজ্যে কফ সিরাপ ও অ্যান্টিবায়োটিক ওষুধে ভুয়ো বা বিকৃত উপাদান থাকার অভিযোগ উঠেছিল।
এই ঘটনাগুলি বিশ্বজুড়ে ভারতের ঔষধ শিল্পের বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তোলে। এর পরই কেন্দ্রীয় সরকার সিদ্ধান্ত নেয়, ওষুধ উৎপাদন ও অনুমোদন প্রক্রিয়ায় ডেটা স্বচ্ছতা (data integrity) বজায় রাখতে হবে।
নতুন নিয়মগুলিতে কিছু মূল ধারনা অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে—
ভুয়ো তথ্য দিলে বাজার থেকে পণ্য প্রত্যাহার:
কোনও কোম্পানি যদি জেনে-বুঝে ভুল তথ্য দেয়, তাহলে তাদের পণ্য অবিলম্বে বাজার থেকে সরিয়ে নেওয়া হবে।
রেজিস্ট্রেশন বাতিল:
CDSCO প্রয়োজনে কোম্পানির রেজিস্ট্রেশন ও উৎপাদন অনুমতি বাতিল করতে পারবে।
ডেটা ভেরিফিকেশন বাধ্যতামূলক:
ওষুধ অনুমোদনের আগে জমা দেওয়া তথ্যের উৎস, ল্যাব রিপোর্ট এবং ট্রায়াল রেকর্ড ক্রস-ভেরিফাইড করা হবে।
মিসলেবেলিং বা ব্র্যান্ড বিভ্রান্তি রোধ:
একই ব্র্যান্ড নামে দুটি ভিন্ন ওষুধ বিক্রি করলে সেটিও অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে।
শাস্তিমূলক ব্যবস্থা:
অপরাধ প্রমাণিত হলে কোম্পানিকে লাইসেন্স সাসপেনশন, জরিমানা ও ফৌজদারি মামলা পর্যন্ত ভুগতে হতে পারে।
ভারতের ফার্মাসিউটিক্যাল শিল্প বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম, যেখানে প্রায় ৬৫,০০০ কোটি টাকার রপ্তানি বাজার রয়েছে।
এই খাতে প্রায় ১০,০০০-এরও বেশি প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান সক্রিয়, যাদের মধ্যে অনেকেই আন্তর্জাতিক বাজারে ওষুধ সরবরাহ করে।
নতুন নিয়ম কার্যকর হলে—
দেশীয় বাজারে গুণমান ও নিরাপত্তা আরও কঠোর হবে।
রপ্তানির ক্ষেত্রে ভারতের ঔষধের উপর আন্তর্জাতিক আস্থা বৃদ্ধি পাবে।
কিন্তু ছোট ও মাঝারি সংস্থাগুলির (SMEs) জন্য বাড়তি চাপ তৈরি হতে পারে, কারণ তাদের তথ্য সংরক্ষণ ও রিপোর্টিং ব্যবস্থাকে আরও আধুনিক করতে হবে।
একজন ঔষধ নিয়ন্ত্রক কর্মকর্তা বলেছেন—
“ওষুধ মানুষের প্রাণের সঙ্গে যুক্ত। তাই কোনও সংস্থা যদি পরীক্ষার ফলাফল লুকিয়ে বা জাল তথ্য দিয়ে অনুমোদন নেয়, তা একেবারেই সহ্য করা হবে না। নতুন নিয়মে এই বিষয়টি পরিষ্কারভাবে উল্লেখ করা হয়েছে।”
তিনি আরও জানান, নিয়ন্ত্রণ সংস্থা CDSCO এখন আরও আধুনিক পরিদর্শন প্রযুক্তি ব্যবহার করবে, যেমন — রিয়েল টাইম ডেটা ট্র্যাকিং, ল্যাব টেস্ট রিপোর্ট ভ্যালিডেশন, এবং ডিজিটাল মনিটরিং সিস্টেম।
ভারতের বৃহৎ ঔষধ কোম্পানিগুলি এই পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়েছে।
Indian Drug Manufacturers’ Association (IDMA)-এর এক মুখপাত্র বলেছেন,
“এই পদক্ষেপ শিল্পের মান উন্নত করবে। যারা সঠিক পথে কাজ করছে, তাদের জন্য এটি একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ।”
তবে কিছু ক্ষুদ্র সংস্থা জানিয়েছে, তথ্য সংরক্ষণ ও স্বচ্ছতা বজায় রাখতে অতিরিক্ত খরচ ও প্রশিক্ষণ প্রয়োজন হবে। সরকার যদি প্রযুক্তিগত সহায়তা ও প্রণোদনা দেয়, তাহলে তারা এই পরিবর্তন মেনে নিতে প্রস্তুত।
এই নতুন নিয়মের লক্ষ্য কেবল শাস্তি নয়, বরং গুণমান ও দায়বদ্ধতার সংস্কৃতি গড়ে তোলা।
বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, ভারতের ঔষধ শিল্প “গ্লোবাল হেলথ সাপ্লাই চেইন”-এর একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ, তাই এখানে প্রতিটি তথ্যের সঠিকতা অপরিহার্য।
এই নিয়ম বাস্তবায়ন হলে ভারত শুধু দেশের নয়, বিশ্বের ওষুধ সরবরাহে একটি “বিশ্বস্ত উৎপাদক কেন্দ্র” হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারবে।