Lenspedia Bangla Logo
  • কলকাতা
  • 30℃ Purba Bardhaman

‘মন্থা’র থাবা পুদুচেরিতে — তীব্র ঝড়-বৃষ্টি, গাছ উপড়ে পড়ায় আতঙ্কে মানুষ

পুদুচেরিতে শুরু হয়েছে ঘূর্ণিঝড় ‘মন্থা’-র তাণ্ডব। প্রবল বেগে বইছে ঝোড়ো হাওয়া, উপড়ে পড়ছে গাছ, বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন বহু এলাকায়। হঠাৎ ঝড়ে জনজীবন বিপর্যস্ত, রাস্তায় জলজট ও যান চলাচলে বাধা সৃষ্টি হয়েছে। প্রশাসন জারি করেছে সতর্কতা, সমুদ্র উপকূলে মৎস্যজীবীদের ওঠানামায় নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে।

মন্থা ঘূর্ণিঝড়ে তাণ্ডব শুরু পুদুচেরিতে — প্রবল ঝড়-বৃষ্টিতে বিপর্যস্ত জনজীবন

দক্ষিণ ভারতের উপকূলবর্তী রাজ্য পুদুচেরি-তে শুরু হয়েছে ঘূর্ণিঝড় ‘মন্থা’-র তাণ্ডব। মঙ্গলবার ভোর থেকেই আকাশ ঘনিয়ে আসে, এরপর দুপুরের পর থেকে প্রবল গতিতে বইতে শুরু করে ঝোড়ো হাওয়া। ঘণ্টায় ৯০ থেকে ১১০ কিলোমিটার বেগে বইছে হাওয়া, সঙ্গে মুষলধারে বৃষ্টি। এর জেরে শহরের বিভিন্ন প্রান্তে গাছ উপড়ে পড়েছে, বিদ্যুৎ খুঁটি ভেঙে পড়ায় বহু এলাকায় অন্ধকার নেমে এসেছে।

আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, বঙ্গোপসাগরের দক্ষিণ অংশে সৃষ্ট এই নিম্নচাপ গভীর হয়ে ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিয়েছে, যার নাম দেওয়া হয়েছে ‘মন্থা’। বর্তমানে এটি পুদুচেরি উপকূল অতিক্রম করছে এবং আগামী ১২ ঘণ্টা পর্যন্ত পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

শহরের একাধিক রাস্তায় পড়ে থাকা গাছের কারণে যান চলাচল সম্পূর্ণভাবে ব্যাহত হয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, উদ্ধারকারী দল ও বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী (NDRF) ইতিমধ্যেই কাজ শুরু করেছে। ঝড়ে বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হওয়ায় হাসপাতাল, জরুরি পরিষেবা কেন্দ্র এবং আশ্রয়স্থলগুলিতে জেনারেটরের সাহায্যে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হচ্ছে।

পুদুচেরির উপকূলবর্তী অঞ্চলগুলিতে জলোচ্ছ্বাসের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। স্থানীয় প্রশাসন সতর্কবার্তা জারি করে জানিয়েছে, মৎস্যজীবীদের আগামী ৪৮ ঘণ্টা সমুদ্রে যেতে সম্পূর্ণ নিষেধ। এছাড়া পর্যটকদেরও উপকূল এলাকা থেকে দূরে থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

বিগত কয়েক ঘণ্টায় শহরের বিভিন্ন ভিডিও ও ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়েছে, যেখানে দেখা যাচ্ছে—প্রবল হাওয়ায় বড় বড় গাছ ভেঙে পড়ছে, ছাদ উড়ে যাচ্ছে, রাস্তা জলমগ্ন হয়ে পড়েছে। অনেক জায়গায় জল ঢুকে পড়েছে ঘরবাড়িতে। প্রশাসনের তরফে স্থানীয় স্কুল, কলেজ ও সরকারি দফতর আজকের মতো বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।

পুদুচেরির মুখ্যমন্ত্রী সংবাদমাধ্যমে বলেন, “আমরা ইতিমধ্যেই উদ্ধার দল মোতায়েন করেছি। নাগরিকদের অনুরোধ করছি, কেউ যেন প্রয়োজন ছাড়া বাড়ির বাইরে না বেরোন।” তিনি আরও জানান, ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ রিপোর্ট তৈরি করতে জেলা প্রশাসনকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

news image
আরও খবর

এদিকে আবহাওয়া দফতরের সতর্কবার্তায় বলা হয়েছে, আগামী ২৪ ঘণ্টায় ঘূর্ণিঝড়টি আরও উত্তর-পশ্চিমে অগ্রসর হতে পারে এবং তামিলনাড়ুর কিছু অংশেও প্রভাব ফেলতে পারে। সমুদ্রের ঢেউ উচ্চতা পেতে পারে ২ থেকে ৩ মিটার পর্যন্ত। তাই উপকূলবর্তী এলাকায় বসবাসকারীদের নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

নাগরিকরা জানান, ঝোড়ো হাওয়ায় চারপাশে শুধু গাছ ভাঙার শব্দ ও বজ্রপাতের আলো দেখা যাচ্ছে। এক বাসিন্দা বলেন, “এই রকম ঝড় বহু বছর পর দেখলাম। বিদ্যুৎ নেই, রাস্তায় জল, গাছ পড়ে বন্ধ হয়ে গেছে রাস্তা।”

স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলোও উদ্ধারকার্যে প্রশাসনের পাশে নেমেছে। প্রায় ৫০০-র বেশি পরিবারকে আপাতত নিরাপদ স্থানে সরানো হয়েছে। স্কুলভবন, কমিউনিটি হল ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে অস্থায়ী আশ্রয়স্থল হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে।

আবহাওয়া দফতরের সর্বশেষ আপডেট অনুযায়ী, মন্থা ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে পুদুচেরি, তামিলনাড়ু ও অন্ধ্রপ্রদেশের কিছু উপকূলবর্তী এলাকায় ভারী বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকবে। পরবর্তী ২৪ ঘণ্টা এই ঝড় সক্রিয় থাকবে বলে মনে করা হচ্ছে।

সবশেষে, বিশেষজ্ঞরা বলছেন — জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে এ ধরনের ঘূর্ণিঝড়ের সংখ্যা ও তীব্রতা দিন দিন বাড়ছে। পুদুচেরির মতো ছোট রাজ্যে এর প্রভাব আরও গভীর। প্রশাসন যেমন সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নিচ্ছে, তেমনি নাগরিকদেরও সচেতন থাকা জরুরি।

“মন্থা”-র তাণ্ডবে পুদুচেরি আজ বিপর্যস্ত — তবে সতর্কতা, সহযোগিতা ও সংযমই এখন এই কঠিন পরিস্থিতি মোকাবিলার একমাত্র পথ।

Preview image