রঞ্জি ট্রফির প্রথম ম্যাচেই দিল্লির বিরুদ্ধে কঠিন পরীক্ষার মুখে বাংলা প্রতিপক্ষের দলে থাকা কেকেআর তারকাকে সামলানো বড় চ্যালেঞ্জ হতে পারে বাংলার বোলারদের জন্য তাঁকে ছাড়াও দিল্লির দলে কারা রয়েছেন আর বাংলাকে চাপে ফেলতে পারেন কোন ক্রিকেটারেরা নজর থাকছে দুই দলের লড়াইয়ে
রঞ্জি ট্রফির নতুন মরশুমে প্রথম ম্যাচেই আকর্ষণীয় লড়াইয়ের সামনে বাংলা। আগামী ১১ অক্টোবর কল্যাণীর বেঙ্গল ক্রিকেট অ্যাকাডেমির মাঠে দিল্লির বিরুদ্ধে অভিযান শুরু করবে তারা। ঘরের মাঠে ভালো শুরু করার সুযোগ থাকলেও প্রতিপক্ষের শক্তিশালী দল বাংলাকে কঠিন পরীক্ষায় ফেলতে পারে। ব্যাটিং ও বোলিং দুই বিভাগেই এই ম্যাচ নিয়ে আগ্রহ তৈরি হয়েছে ক্রিকেটপ্রেমীদের মধ্যে। দিল্লির দলে বিশেষ নজর থাকবে কলকাতা নাইট রাইডার্স শিবিরের ক্রিকেটার স্বার্থক রঞ্জনের দিকে। তাঁর পাশাপাশি নির্বাচিত স্কোয়াডে রয়েছেন কেকেআরের আর এক ক্রিকেটার, উইকেটকিপার তেজস্বী দাহিয়া। বাংলার সমর্থকদের কাছে পরিচিত আইপিএল দলের এই দুই ক্রিকেটার এবার রাজ্য দলের প্রতিপক্ষ হিসেবে মাঠে নামার সুযোগ পেতে পারেন। তবে স্কোয়াডে জায়গা পাওয়া এবং প্রথম একাদশে নির্বাচিত হওয়া আলাদা বিষয় চূড়ান্ত একাদশ ঘোষণা হলেই তাঁদের খেলার বিষয়টি নিশ্চিত হবে।
দিল্লিকে নেতৃত্ব দেবেন আয়ূষ বাদোনি। সহ অধিনায়ক হিসেবে রয়েছেন যশ ধূল। নির্বাচিত দলে ব্যাটিংয়ের বিকল্প যেমন রয়েছে, তেমনই উইকেটকিপিং ও বোলিংয়েও একাধিক ক্রিকেটারকে রাখা হয়েছে। নভদীপ সাইনি ও সিমরজিৎ সিংহের উপস্থিতি দিল্লির পেস বিভাগকে এই ম্যাচের অন্যতম আলোচনার বিষয় করে তুলেছে। বাংলার জন্য তাই চ্যালেঞ্জ শুধু স্বার্থককে থামানোর মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না। দিল্লির ব্যাটিংয়ের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক চাপ তৈরি করার পাশাপাশি তাদের বোলিং সামলানোর প্রস্তুতিও প্রয়োজন। একজন ব্যাটারকে দ্রুত ফিরিয়ে দিলেও পরের জুটি যাতে ইনিংসের নিয়ন্ত্রণ নিতে না পারে, সেই দিকটি গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। স্বার্থকের কেকেআর যোগ এই ম্যাচে বাড়তি আকর্ষণ তৈরি করেছে। তবে লাল বলের ক্রিকেটে তাঁর সামনে পরীক্ষাও আলাদা। এখানে দ্রুত রান তোলার পাশাপাশি দীর্ঘ সময় ক্রিজে থাকা, ভালো বল ছেড়ে দেওয়া এবং পরিস্থিতি বুঝে শট নির্বাচন করার প্রয়োজন হবে। সম্ভাব্য কৌশলের দিক থেকে বাংলার বোলারদের লক্ষ্য হতে পারে তাঁকে শুরু থেকেই নিয়ন্ত্রিত লাইন ও লেংথে খেলানো। সহজ রান নেওয়ার সুযোগ কমিয়ে দিলে ব্যাটারের ধৈর্যের পরীক্ষা নেওয়া যায়। অন্যদিকে স্বার্থক যদি শুরুর চাপ সামলে ক্রিজে থিতু হতে পারেন, তাহলে দিল্লির ইনিংস গড়ার ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখতে পারেন। এটি ম্যাচের সম্ভাব্য পরিস্থিতির বিশ্লেষণ; তাঁর পারফরম্যান্সের পূর্বাভাস নয়। বাংলার ভরসা অভিজ্ঞ পেস আক্রমণ দিল্লির বিরুদ্ধে প্রথম ম্যাচের জন্য বাংলার নির্বাচিত স্কোয়াডে রয়েছেন মহম্মদ শামি, আকাশ দীপ এবং মুকেশ কুমার। তাঁদের অন্তর্ভুক্তি বাংলার পেস আক্রমণকে ঘিরে প্রত্যাশা বাড়িয়েছে। তবে ম্যাচে কারা খেলবেন এবং বোলিংয়ের দায়িত্ব কীভাবে ভাগ হবে, তা নির্ভর করবে চূড়ান্ত দল নির্বাচনের উপর। এই তিন পেসার একসঙ্গে খেললে নতুন বল ব্যবহারের পরিকল্পনা বিশেষ গুরুত্ব পেতে পারে। শুরুতে উইকেট নেওয়া গেলে দিল্লির ব্যাটিংকে চাপে রাখা সহজ হবে। আবার দ্রুত সাফল্য না এলেও রান আটকে রেখে ব্যাটারদের ভুলের অপেক্ষা করতে হবে। দীর্ঘ ফরম্যাটে একটি ভালো স্পেল সব সময় সঙ্গে সঙ্গে উইকেট এনে দেয় না। কখনও এক প্রান্তে তৈরি হওয়া চাপের ফল অন্য প্রান্তের বোলার পান। তাই ব্যক্তিগত সাফল্যের পাশাপাশি বোলিং বিভাগের সমন্বয়ও ম্যাচের গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠতে পারে।
দীর্ঘ সংস্করণের ক্রিকেটে ভালো শুরুর গুরুত্ব অনেক। প্রথম দিকেই একাধিক উইকেট হারালে মিডল অর্ডারের উপর চাপ বাড়ে। তখন রান সংগ্রহের পাশাপাশি ইনিংস মেরামতের দায়িত্বও নিতে হয়। দিল্লির বিরুদ্ধে বাংলার ওপেনারদের তাই বলের গতিপথ বুঝে খেলতে হবে। অফ স্টাম্পের বাইরের কোন বল ছেড়ে দেওয়া উচিত, কোন বলে রক্ষণাত্মক থাকা প্রয়োজন এবং কোথায় রান তোলার সুযোগ রয়েছে সেই সিদ্ধান্ত নিতে হবে সতর্কভাবে। অপ্রয়োজনীয় ঝুঁকিতে উইকেট হারালে প্রতিপক্ষের বোলাররা আরও আক্রমণাত্মক হওয়ার সুযোগ পাবেন। তবে সতর্ক ব্যাটিংয়ের অর্থ রান তোলার চেষ্টা বন্ধ করে দেওয়া নয়। অতিরিক্ত রক্ষণাত্মক হয়ে পড়লেও চাপ তৈরি হতে পারে। একের পর এক রানহীন বল বোলারদের আত্মবিশ্বাস বাড়ায় এবং ফিল্ডিং দলকে ব্যাটারের চারপাশে চাপ তৈরি করার সুযোগ দেয়। বাংলার ব্যাটারদের তাই দুর্বল বল কাজে লাগানোর পাশাপাশি সিঙ্গল ও ডাবলসের মাধ্যমে স্কোরবোর্ড সচল রাখতে হবে। নিয়মিত প্রান্ত বদল করলে একই ব্যাটারকে দীর্ঘ সময় এক বোলারের বিরুদ্ধে আটকে থাকতে হয় না। এতে জুটি গড়ার কাজও সহজ হতে পারে। শুরুর জুটি দ্রুত ভেঙে গেলে পরের ব্যাটারদের ধৈর্যের পরীক্ষা দিতে হবে। এমন পরিস্থিতিতে তাড়াহুড়ো করে বড় শট খেলে চাপ কাটানোর চেষ্টা বিপদ বাড়াতে পারে। নতুন ব্যাটারকে আগে উইকেটে থিতু হতে হবে, বলের আচরণ বুঝতে হবে এবং সঙ্গীর সঙ্গে বোঝাপড়া তৈরি করতে হবে। একটি স্থিতিশীল জুটি ম্যাচের পরিস্থিতি বদলে দিতে পারে। তাই প্রতিটি ব্যাটারের লক্ষ্য হওয়া উচিত দলের প্রয়োজন অনুযায়ী ইনিংস এগিয়ে নেওয়া।
অন্য দিকে, ভালো শুরু পেলে সেই সুবিধা ধরে রাখাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। ওপেনাররা নতুন বলের প্রথম চাপ সামলে ফেললে পরবর্তী ব্যাটারদের সামনে বড় সংগ্রহ গড়ার সুযোগ তৈরি হয়। সেই জায়গা থেকে পরপর উইকেট হারালে প্রথম দিকের পরিশ্রম অনেকটাই নষ্ট হয়ে যেতে পারে। সেট হয়ে যাওয়া ব্যাটারদের তাই নিজের ইনিংস দীর্ঘ করার দায়িত্ব নিতে হবে। ব্যক্তিগত অর্ধশতরান বা একটি ভালো জুটির পরেও মনোযোগ ধরে রাখা প্রয়োজন, কারণ দীর্ঘ ইনিংসই দলকে শক্ত অবস্থানে পৌঁছে দিতে পারে। বাংলার ব্যাটিং পরিকল্পনায় বড় জুটি বিশেষ গুরুত্ব পাবে। একজন ব্যাটার স্বচ্ছন্দে রান তুললে অন্য জন পরিস্থিতি অনুযায়ী তাঁকে সহযোগিতা করতে পারেন। আবার কোনও বোলারের স্পেল কঠিন মনে হলে সেই সময় ঝুঁকি কমিয়ে খেলা যেতে পারে। প্রতিটি ওভারে একই গতিতে রান তোলার প্রয়োজন নেই। কখন আক্রমণ করতে হবে এবং কখন ধৈর্য ধরে অপেক্ষা করতে হবে, সেই বিচারই দীর্ঘ সংস্করণের ক্রিকেটে গুরুত্বপূর্ণ। দীর্ঘ সময় ব্যাটিং করার সুবিধা শুধু স্কোরবোর্ডে সীমাবদ্ধ থাকে না। এতে নিজের দলের বোলাররা বিশ্রামের সুযোগ পান এবং পরের ইনিংসের জন্য প্রস্তুত হতে পারেন। একই সঙ্গে প্রতিপক্ষের বোলারদের বারবার স্পেলে ফিরে আসতে হয়। দীর্ঘক্ষণ মাঠে থাকার ফলে তাঁদের শারীরিক পরিশ্রম বাড়ে। বাংলার ব্যাটাররা উইকেট ধরে রেখে রান সংগ্রহ করতে পারলে দিল্লির উপর সেই চাপ তৈরি করা সম্ভব। তবে সময় কাটানোর সঙ্গে রান তোলার ভারসাম্যও বজায় রাখতে হবে। দিল্লির নির্বাচিত স্কোয়াডে সিমরজিৎ সিংহ, নভদীপ সাইনি, দিবিজ মেহরা ও মোনি গ্রেওয়ালের মতো বোলিং বিকল্প রয়েছে। চূড়ান্ত একাদশে কারা থাকবেন এবং তাঁদের কীভাবে ব্যবহার করা হবে, তার উপর আক্রমণের ধরন নির্ভর করবে। বাংলার ব্যাটারদের প্রস্তুতিতে তাই প্রতিপক্ষের একাধিক বিকল্প বিবেচনায় রাখা প্রয়োজন। কোনও একজন বোলারকে সামলানোর পরিকল্পনাই যথেষ্ট হবে না; বিভিন্ন স্পেলে ভিন্ন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হওয়ার জন্যও প্রস্তুত থাকতে হবে।
ম্যাচের আগে পিচ ও আবহাওয়ার নির্ভরযোগ্য তথ্য ছাড়া কোনও বিভাগ বাড়তি সুবিধা পাবে বলে নিশ্চিত মন্তব্য করা যায় না। কল্যাণীর উইকেটে নতুন বলে পেসাররা সাহায্য পেলে প্রথম কয়েকটি স্পেল বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। সে ক্ষেত্রে বাংলার ব্যাটারদের বলের নড়াচড়া পর্যবেক্ষণ করে শট নির্বাচন করতে হবে। আবার পরিস্থিতি ব্যাটিংয়ের অনুকূল হলে ভালো শুরু থেকে বড় সংগ্রহ গড়ার প্রয়োজন বাড়বে। সুযোগ থাকা সত্ত্বেও কম রানে ইনিংস শেষ হয়ে গেলে দল পিছিয়ে পড়তে পারে। টসের সিদ্ধান্তও নিতে হবে মাঠের বাস্তব পরিস্থিতি বিচার করে। শুধু নিজের দলের শক্তি অথবা প্রতিপক্ষের পরিচিতি দেখে আগে ব্যাটিং বা বোলিং বেছে নেওয়া যথেষ্ট নয়। পিচের অবস্থা, আর্দ্রতা এবং ম্যাচ চলাকালীন পরিস্থিতির সম্ভাব্য পরিবর্তন বিবেচনায় রাখা জরুরি। প্রথম দিকে বোলারদের সাহায্য থাকার সম্ভাবনা এবং পরে ব্যাটিং কতটা সহজ হতে পারে এই দুই দিকই ভাবতে হবে। তবে টসে যে সিদ্ধান্তই নেওয়া হোক মাঠে পরিকল্পনার সঠিক প্রয়োগ ছাড়া তার সুফল পাওয়া কঠিন। দিল্লির ব্যাটিং বিভাগও বাংলার জন্য গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা। অধিনায়ক আয়ূষ বাদোনি ও সহ অধিনায়ক যশ ধূলের পাশাপাশি স্কোয়াডে রয়েছেন সনৎ সাঙ্গওয়ান, আয়ূষ দোসেজা, অনুজ রাওয়াত, দেব লাকরা, স্বার্থক রঞ্জন এবং ধ্রুব কৌশিক। বাংলার বোলারদের লক্ষ্য হওয়া উচিত প্রতিপক্ষকে সহজে জুটি গড়তে না দেওয়া। উইকেট নেওয়ার চেষ্টা যেমন প্রয়োজন, তেমনই ধারাবাহিকভাবে সঠিক জায়গায় বল করে রান আটকে রাখাও জরুরি। এক প্রান্তে চাপ তৈরি হলেও অন্য প্রান্তে সহজ রান পাওয়া গেলে দিল্লির ব্যাটাররা স্বস্তি পেতে পারেন। স্বার্থক রঞ্জনকে ঘিরে আগ্রহ থাকলেও ম্যাচের মূল্যায়ন কোনও একজন ক্রিকেটারকে কেন্দ্র করে সীমাবদ্ধ রাখা উচিত নয়। নির্বাচিত স্কোয়াডে থাকা এবং চূড়ান্ত একাদশে জায়গা পাওয়া আলাদা বিষয়। তিনি খেললে তাঁর বিরুদ্ধে বাংলার পরিকল্পনা কী হবে, তা নজরে থাকবে। একই সঙ্গে দিল্লির অন্য ব্যাটারদের নিয়ন্ত্রণে রাখাও সমান প্রয়োজন। একটি বড় জুটি কিংবা কয়েকটি কার্যকর ইনিংস দলীয় সংগ্রহে বড় পার্থক্য তৈরি করতে পারে।
দিল্লির নির্বাচিত স্কোয়াডে রয়েছেন আয়ূষ বাদোনি (অধিনায়ক), যশ ধূল (সহ অধিনায়ক), সনৎ সাঙ্গওয়ান, আয়ূষ দোসেজা, অনুজ রাওয়াত (উইকেটকিপার), দেব লাকরা, হৃতিক শকিন, দিবিজ মেহরা, মোনি গ্রেওয়াল, সিমরজিৎ সিংহ, নভদীপ সাইনি, প্রণব রাজবংশী (উইকেটকিপার), স্বার্থক রঞ্জন, তেজস্বী দাহিয়া (উইকেটকিপার), ধ্রুব কৌশিক ও সুমিত মাথুর। এটি নির্বাচিত স্কোয়াডের তালিকা, চূড়ান্ত একাদশ নয়। ফলে ম্যাচে কারা খেলবেন এবং দলের ভারসাম্য কেমন হবে, তা একাদশ ঘোষণার পরই স্পষ্ট হবে। বাংলার জন্য ফিল্ডিংও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে। বোলারদের তৈরি করা সুযোগ কাজে লাগাতে না পারলে প্রতিপক্ষের ব্যাটাররা ইনিংস দীর্ঘ করার সুযোগ পান। বিশেষ করে ম্যাচের শুরুতে একটি ক্যাচ বা রান আউটের সুযোগ ফলাফলে প্রভাব ফেলতে পারে। তাই ব্যাটিং ও বোলিংয়ের পাশাপাশি মাঠে মনোযোগ, দ্রুত প্রতিক্রিয়া এবং দলের মধ্যে যোগাযোগও বজায় রাখতে হবে। চাপের সময়ে দুই দলের সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতাও নজরে থাকবে। কয়েকটি দ্রুত উইকেট পড়লে ব্যাটিং দল কীভাবে পরিস্থিতি সামলায়, কিংবা দীর্ঘ জুটি তৈরি হলে বোলিং দল কী পরিবর্তন আনে সেই মুহূর্তগুলি ম্যাচের গতিপথে প্রভাব ফেলতে পারে। বাংলাকে পরিকল্পনা নিয়ে মাঠে নামার পাশাপাশি প্রয়োজন অনুযায়ী তা বদলানোর জন্যও প্রস্তুত থাকতে হবে। অধিনায়কের সিদ্ধান্ত এবং ক্রিকেটারদের দায়িত্বশীল প্রয়োগ একসঙ্গে কাজ করলেই দল সুবিধা পাবে। প্রথম ম্যাচে বাংলার সামনে তাই দুই দিকের পরীক্ষা দিল্লির ব্যাটিংকে নিয়ন্ত্রণ করা এবং তাদের বোলিংয়ের বিরুদ্ধে পর্যাপ্ত রান তোলা। নতুন বলের চাপ সামলে ভালো শুরু, সেই শুরু থেকে বড় জুটি এবং সেট হয়ে যাওয়া ব্যাটারদের দীর্ঘ ইনিংস বাংলাকে শক্ত অবস্থানে নিয়ে যেতে পারে। অন্য দিকে, বোলারদের ধারাবাহিকতা ও ফিল্ডারদের সহযোগিতা দিল্লির সংগ্রহ সীমিত রাখতে সাহায্য করবে। কল্যাণীতে নজর থাকবে এই সম্মিলিত লড়াইয়ের উপর যেখানে গুরুত্বপূর্ণ জুটি, নতুন বলের স্পেল এবং চাপের সময়ে নেওয়া সিদ্ধান্তই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নির্ধারণ করতে পারে।