Lenspedia Bangla Logo
  • কলকাতা
  • 30℃ Purba Bardhaman

কম খরচে নিরিবিলি ভ্রমণ? কলকাতা থেকে কাছেই আসানবনির পাহাড়-জঙ্গলে কাটান ছুটির দিন

পুজোর ছুটিতে বেড়াতে যাওয়ার ইচ্ছে রয়েছে, কিন্তু ট্রেন, বাস কিংবা বিমানের টিকিট এখনও কাটা হয়নি? চিন্তার কিছু নেই। নিজের গাড়িই হতে পারে এবারের ছুটির সেরা ভ্রমণসঙ্গী। চারচাকার গাড়িতে পরিবারের সদস্য বা বন্ধুদের নিয়ে বেরিয়ে পড়লে নিজের মতো করে যাত্রাপথ উপভোগ করার সুযোগ থাকে। পথে পছন্দের জায়গায় থামা, অচেনা গন্তব্য খুঁজে নেওয়া কিংবা হঠাৎ পরিকল্পনা বদলে ফেলার স্বাধীনতাও থাকে। পুজোর ছুটিতে তাই সড়কপথে ঘুরে দেখুন পরিচিত পর্যটনকেন্দ্রের পাশাপাশি বাংলার নানা চেনা-অচেনা গন্তব্য।

পুজোর ছুটি মানেই বাঙালির কাছে উৎসব, আনন্দ, খাওয়াদাওয়া এবং বেড়ানোর পরিকল্পনা। দুর্গাপুজোর কয়েকটি দিন অনেকেই শহরের ব্যস্ততা থেকে দূরে গিয়ে একটু স্বস্তির সময় কাটাতে চান। কেউ পাহাড়ে যেতে চান, কেউ জঙ্গলে, আবার কারও পছন্দ সমুদ্রের ধারে নিরিবিলি সময় কাটানো। কিন্তু পুজোর ছুটি এগিয়ে এলেই সবচেয়ে বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়ায় যাতায়াতের টিকিট। ট্রেনের টিকিট দ্রুত শেষ হয়ে যায়, দূরপাল্লার বাসেও চাপ বাড়ে, আর বিমানের ভাড়া অনেক সময় বাজেটের বাইরে চলে যায়।

 

তবে যাতায়াতের টিকিট না পাওয়ায় বেড়ানোর পরিকল্পনা বাতিল করার প্রয়োজন নেই। নিজের গাড়ি থাকলে চারচাকাকেই বানিয়ে নিতে পারেন এবারের পুজোর ভ্রমণসঙ্গী। সড়কপথে ভ্রমণের সবচেয়ে বড় সুবিধা হল স্বাধীনতা। নির্দিষ্ট ট্রেনের সময় মেনে চলতে হয় না, স্টেশনে পৌঁছনোর তাড়াও থাকে না। পরিবারের সদস্য, বন্ধু কিংবা কাছের মানুষদের সঙ্গে নিজের সুবিধামতো সময়ে যাত্রা শুরু করা যায়।

 

চারচাকায় ভ্রমণের আর একটি বড় সুবিধা হল পথে নিজের পছন্দমতো বিরতি নেওয়া। কোনও সুন্দর জায়গা চোখে পড়লে গাড়ি থামিয়ে কিছুক্ষণ সময় কাটানো যায়। স্থানীয় কোনও খাবারের দোকানে খাওয়া, রাস্তার ধারের চায়ের দোকানে চা পান করা কিংবা ছোট কোনও অচেনা গ্রামের দৃশ্য উপভোগ করার সুযোগ থাকে। অনেক সময় গন্তব্যের চেয়েও যাত্রাপথের স্মৃতিই হয়ে ওঠে ভ্রমণের অন্যতম সেরা অংশ।

 

পুজোর সময় কলকাতা এবং আশপাশের শহরগুলিতে মানুষের ভিড় থাকে। ফলে অনেকেই এমন জায়গা খোঁজেন যেখানে পর্যটকের চাপ তুলনামূলকভাবে কম। সড়কপথে ভ্রমণের ক্ষেত্রে এই সুবিধা আরও বেশি। জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্রের পাশাপাশি একটু কম পরিচিত জায়গাও বেছে নেওয়া যায়। পাহাড়, অরণ্য, নদী, জলাধার, গ্রামবাংলার প্রকৃতি কিংবা সমুদ্র—পছন্দ অনুযায়ী গন্তব্য ঠিক করা সম্ভব।

 

তবে রোড ট্রিপে বেরোনোর আগে কিছু বিষয় পরিকল্পনা করে নেওয়া জরুরি। শুধু গন্তব্য ঠিক করলেই হবে না, রাস্তার অবস্থা, দূরত্ব, যাত্রার সময়, কোথায় থাকা হবে এবং কোথায় খাবার পাওয়া যাবে—এসবও আগে থেকে দেখে নেওয়া ভালো। গাড়ির প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সঙ্গে রাখুন এবং বেরোনোর আগে গাড়ির ব্রেক, টায়ার, ইঞ্জিন অয়েল, আলো এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ অংশ পরীক্ষা করে নিন।

 

পুজোর ছুটিতে পরিবার নিয়ে গাড়িতে বেরোলে প্রথমেই ঠিক করুন কত দিনের জন্য ভ্রমণ করতে চান। এক বা দু’দিনের ছুটির জন্য খুব দূরের জায়গা বেছে নেওয়া ঠিক নয়। সেক্ষেত্রে যাতায়াতেই অনেকটা সময় কেটে যেতে পারে। বরং কলকাতা থেকে কয়েক ঘণ্টার দূরত্বে এমন কোনও জায়গা বেছে নেওয়া ভালো, যেখানে প্রকৃতি উপভোগ করার পাশাপাশি আরাম করে সময় কাটানো যায়।

 

যাঁরা পাহাড় পছন্দ করেন, তাঁদের জন্য পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন অপেক্ষাকৃত শান্ত পাহাড়ি অঞ্চল আকর্ষণীয় হতে পারে। জনপ্রিয় পাহাড়ি শহরগুলিতে পুজোর সময় পর্যটকের ভিড় বেশি থাকলেও তার আশপাশে অপেক্ষাকৃত নিরিবিলি কিছু জায়গা পাওয়া যায়। গাড়িতে গেলে মূল পর্যটনকেন্দ্রের পাশাপাশি ছোট ছোট পাহাড়ি গ্রাম, চা-বাগান এবং স্থানীয় জনজীবনের সঙ্গে পরিচিত হওয়ার সুযোগও থাকে।

 

পাহাড়ে রোড ট্রিপের ক্ষেত্রে অবশ্য কিছুটা বাড়তি সতর্কতা প্রয়োজন। পাহাড়ি রাস্তায় গাড়ি চালানোর অভিজ্ঞতা না থাকলে খুব দ্রুত গাড়ি চালানো উচিত নয়। বাঁক, কুয়াশা, বৃষ্টি এবং রাস্তার পরিস্থিতি অনুযায়ী গতি নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। রাতের পাহাড়ি পথ এড়িয়ে দিনের আলোতেই গন্তব্যে পৌঁছনোর পরিকল্পনা করা নিরাপদ।

 

জঙ্গলপ্রেমীদের জন্যও সড়কপথে ভ্রমণ হতে পারে দারুণ অভিজ্ঞতা। বাংলার বিভিন্ন বনাঞ্চল এবং জঙ্গলঘেরা এলাকা প্রকৃতিপ্রেমীদের আকর্ষণ করে। জঙ্গলের মধ্যে দিয়ে যাওয়ার সময় চারপাশের সবুজ, পাখির ডাক এবং নির্জন পরিবেশ শহুরে জীবনের একেবারে বিপরীত অভিজ্ঞতা দিতে পারে। তবে জঙ্গল এলাকায় স্থানীয় নিয়ম মেনে চলা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

 

বন্যপ্রাণীর এলাকায় নিজের ইচ্ছামতো গাড়ি থামানো, প্রাণীদের খাবার দেওয়া বা খুব কাছে যাওয়ার চেষ্টা করা উচিত নয়। নির্দিষ্ট পর্যটন নিয়ম মেনে চললে প্রকৃতি এবং বন্যপ্রাণী দুটিই সুরক্ষিত থাকবে। জঙ্গল ভ্রমণে যাওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট এলাকার পর্যটন ও বন দফতরের নিয়ম জেনে নেওয়াও ভালো।

 

যাঁদের পছন্দ জলাধার, নদী বা বড় জলাশয়ের ধারে সময় কাটানো, তাঁরাও চারচাকায় সুন্দর কোনও গন্তব্য বেছে নিতে পারেন। জলাধারের পাশে সকালের আলো, বিকেলের পরিবেশ কিংবা সূর্যাস্ত অনেকের কাছেই আকর্ষণীয়। পরিবার নিয়ে এমন জায়গায় গেলে পিকনিকের মতো করে সময় কাটানো যায়। তবে জলাশয়ের কাছে শিশুদের ক্ষেত্রে বিশেষ নজর রাখা প্রয়োজন।

 

সমুদ্রপ্রেমীদের জন্য সড়কপথে ভ্রমণের আরও একটি সুবিধা রয়েছে। ট্রেনের নির্দিষ্ট সময়ের ওপর নির্ভর করতে হয় না বলে সকাল বা ভোরে বেরিয়ে গন্তব্যে পৌঁছনোর পরিকল্পনা করা যায়। কলকাতা থেকে সমুদ্রের দিকে যাওয়ার পথে বিভিন্ন ছোট শহর, গ্রাম এবং স্থানীয় বাজারের অভিজ্ঞতাও পাওয়া যায়। জনপ্রিয় সমুদ্রসৈকতের পাশাপাশি কম পরিচিত সৈকত বা আশপাশের গ্রামও ভ্রমণের তালিকায় রাখা যেতে পারে।

 

পুজোর সময়ে সমুদ্রের ধারে ভিড় অবশ্যই বাড়ে। তাই জনপ্রিয় জায়গায় গেলে থাকার ব্যবস্থা আগে থেকে নিশ্চিত করে নেওয়া জরুরি। নিজের গাড়িতে যাওয়া হলেও থাকার জায়গা নিয়ে শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত অপেক্ষা করলে সমস্যা হতে পারে। বিশেষ করে পরিবারের সঙ্গে গেলে নিরাপদ ও পরিচ্ছন্ন থাকার জায়গাকে অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত।

 

রোড ট্রিপের পরিকল্পনায় খাবারের বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ। রাস্তার ধারে স্থানীয় খাবার খাওয়ার আলাদা আনন্দ থাকলেও সব জায়গায় খাবারের মান একই নাও হতে পারে। দীর্ঘ যাত্রায় পর্যাপ্ত জল এবং কিছু শুকনো খাবার সঙ্গে রাখা ভালো। শিশু বা বয়স্ক সদস্য থাকলে তাঁদের প্রয়োজনীয় খাবার ও ওষুধ আলাদা করে গুছিয়ে নিন।

 

নিজের গাড়িতে বেড়াতে গেলে লাগেজের ক্ষেত্রেও কিছুটা স্বাধীনতা থাকে। তবে গাড়িতে প্রয়োজনের তুলনায় বেশি জিনিস তোলা উচিত নয়। যাত্রার সময় সহজে প্রয়োজন হতে পারে এমন জিনিস হাতের কাছে রাখুন। পোশাক, ওষুধ, পানীয় জল, চার্জার, পাওয়ার ব্যাঙ্ক, প্রয়োজনীয় নথি এবং জরুরি সামগ্রী আলাদা ব্যাগে রাখলে সুবিধা হবে।

 

পুজোর ছুটিতে রোড ট্রিপে যাওয়ার সময় আবহাওয়ার পূর্বাভাসের দিকেও নজর রাখা প্রয়োজন। শরৎকাল হলেও বিভিন্ন সময়ে বৃষ্টি হতে পারে। বৃষ্টির পরে রাস্তা পিচ্ছিল হয়ে যেতে পারে এবং কিছু এলাকায় জল জমার সমস্যাও দেখা দিতে পারে। তাই যাত্রার আগে রাস্তার পরিস্থিতি সম্পর্কে আপডেট জেনে নেওয়া ভালো।

 

গাড়ি চালানোর ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল নিরাপত্তা। চালক ক্লান্ত হয়ে পড়লে বিরতি নিন। দীর্ঘক্ষণ একটানা গাড়ি চালানো এড়িয়ে চলুন। সম্ভব হলে একাধিক অভিজ্ঞ চালক থাকলে দায়িত্ব ভাগ করে নেওয়া যায়। গাড়ি চালানোর সময় মোবাইল ফোন ব্যবহার না করাই নিরাপদ। সিটবেল্ট ব্যবহার এবং ট্রাফিক নিয়ম মেনে চলা অবশ্যই জরুরি।

 

পুজোর সময় রাস্তায় যানবাহনের চাপও বাড়তে পারে। কলকাতা থেকে বেরোনোর সময় শহরের যানজট, জাতীয় সড়কের পরিস্থিতি এবং গন্তব্যের স্থানীয় ট্রাফিক মাথায় রেখে সময় হাতে রাখুন। গুগল ম্যাপ বা অন্য নেভিগেশন পরিষেবা ব্যবহার করলেও বিকল্প রাস্তার বিষয়ে ধারণা রাখা ভালো। নেটওয়ার্ক না থাকলে যাতে সমস্যা না হয়, তার জন্য গন্তব্যের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য আগে থেকেই সংরক্ষণ করে রাখতে পারেন।

news image
আরও খবর

 

রোড ট্রিপের সৌন্দর্য শুধু গন্তব্যে নয়, পথের মধ্যেও। শহর পেরিয়ে যখন রাস্তার দু’ধারে সবুজ বাড়তে শুরু করে, তখন ভ্রমণের আসল আনন্দ পাওয়া যায়। কোথাও ধানখেত, কোথাও নদী, কোথাও ছোট বাজার, আবার কোথাও গ্রামের রাস্তা—এই পরিবর্তনশীল দৃশ্য নিজের গাড়িতে ভ্রমণের অন্যতম আকর্ষণ।

 

অনেক পরিবার পুজোর সময়ে খুব বড় ভ্রমণের বদলে ছোট রোড ট্রিপ বেছে নেন। এর ফলে ছুটির কয়েকটি দিনেও ঘুরে আসা সম্ভব হয় এবং দীর্ঘ যাত্রার ক্লান্তিও তুলনামূলকভাবে কম থাকে। একদিনের ট্রিপ, উইকএন্ড ট্রিপ কিংবা তিন-চার দিনের পরিকল্পনা—ছুটির সময় অনুযায়ী গন্তব্য বেছে নেওয়া যায়।

 

বন্ধুদের সঙ্গে রোড ট্রিপের অভিজ্ঞতা আবার অন্যরকম। যাত্রাপথে গান, গল্প, আড্ডা এবং রাস্তার ধারে হঠাৎ কোনও জায়গায় থেমে ছবি তোলা—সব মিলিয়ে সফরটি স্মরণীয় হয়ে উঠতে পারে। তবে চালকের মনোযোগ যাতে কোনওভাবেই বিঘ্নিত না হয়, সে বিষয়ে সবার সতর্ক থাকা প্রয়োজন।

 

পরিবারের সঙ্গে গেলে গাড়িতে বয়স্ক মানুষ বা ছোট শিশু থাকলে যাত্রাপথে বেশি বিরতি রাখুন। তাঁদের আরামের কথা মাথায় রেখে গন্তব্য নির্বাচন করুন। খুব দুর্গম জায়গায় যাওয়ার বদলে ভালো রাস্তা এবং প্রয়োজনীয় পরিষেবা রয়েছে এমন জায়গা বেছে নেওয়া ভালো।

 

পুজোর ছুটিতে চেনা পর্যটনকেন্দ্রের পাশাপাশি অচেনা জায়গা খোঁজার প্রবণতাও বাড়ছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় কোনও সুন্দর ছবি দেখে সরাসরি সেখানে চলে যাওয়ার আগে জায়গাটির বাস্তব পরিস্থিতি যাচাই করা প্রয়োজন। পর্যটকদের জন্য পর্যাপ্ত রাস্তা, থাকার ব্যবস্থা বা নিরাপত্তা রয়েছে কি না, তা আগে জেনে নিন।

 

স্থানীয় মানুষের জীবনযাত্রার প্রতি সম্মান দেখানোও ভ্রমণের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। কোনও গ্রামের বাড়ি, স্থানীয় মানুষ বা ব্যক্তিগত জায়গার ছবি তোলার আগে অনুমতি নেওয়া উচিত। প্লাস্টিক বা আবর্জনা ফেলে আসবেন না। প্রকৃতিকে সুন্দর রাখার দায়িত্ব পর্যটকেরও।

 

সড়কপথে ভ্রমণের আর একটি সুবিধা হল এক সফরে একাধিক জায়গা দেখা যায়। একটি মূল গন্তব্যের সঙ্গে আশপাশের আরও কয়েকটি জায়গা যুক্ত করে একটি রুট তৈরি করা যায়। এতে ভ্রমণের অভিজ্ঞতা আরও বৈচিত্র্যময় হয়। তবে অতিরিক্ত জায়গা যোগ করতে গিয়ে যেন পুরো সফরটি দৌড়ঝাঁপে পরিণত না হয়, সেদিকেও খেয়াল রাখতে হবে।

 

পুজোর ছুটিতে বেড়াতে যাওয়ার ক্ষেত্রে বাজেটও গুরুত্বপূর্ণ। ট্রেন বা বিমানের টিকিটের তুলনায় নিজের গাড়িতে খরচের ধরন আলাদা। জ্বালানি, টোল, থাকা, খাবার এবং পার্কিং—সবকিছুর হিসাব আগে থেকে করলে মোট খরচ সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়। বন্ধুদের সঙ্গে গেলে অনেক সময় যাতায়াতের খরচ ভাগ করে নেওয়া সম্ভব হয়।

 

পরিবারের সঙ্গে ভ্রমণের ক্ষেত্রে আগে থেকেই একটি আনুমানিক বাজেট তৈরি করুন। জরুরি পরিস্থিতির জন্য কিছু অতিরিক্ত টাকা রাখুন। কোনও অপরিচিত জায়গায় গেলে স্থানীয় পরিবহণ বা জরুরি পরিষেবার জন্য প্রয়োজনীয় নম্বর সংরক্ষণ করে রাখা ভালো।

 

পুজোর ছুটি মানে শুধু দূরের কোনও পর্যটনকেন্দ্রে যাওয়া নয়। শহরের কাছাকাছি কোনও শান্ত জায়গায় একদিন কাটিয়েও মনকে সতেজ করা যায়। নিজের গাড়ি থাকলে এমন ছোট ভ্রমণের সুযোগ আরও সহজ হয়ে যায়। সকালবেলা বেরিয়ে সন্ধ্যার মধ্যে বাড়ি ফিরে আসা যায় এমন রুটও পরিকল্পনা করা সম্ভব।

 

তবে দীর্ঘ রোড ট্রিপের ক্ষেত্রে চালকের বিশ্রামকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে। গন্তব্যে দ্রুত পৌঁছনোর জন্য অতিরিক্ত গতি বা ঝুঁকিপূর্ণ ওভারটেক করা কখনওই উচিত নয়। ছুটি উপভোগ করতে গিয়ে নিরাপত্তার সঙ্গে আপস করা একেবারেই ঠিক নয়।

 

যাঁরা প্রথমবার রোড ট্রিপে যাচ্ছেন, তাঁরা খুব দীর্ঘ রুট দিয়ে শুরু না করাই ভালো। কাছাকাছি কোনও গন্তব্য বেছে নিয়ে গাড়ি চালানোর অভিজ্ঞতা তৈরি করা যেতে পারে। এরপর ধীরে ধীরে দূরের জায়গা বেছে নেওয়া যায়। এতে গাড়ি, রাস্তা এবং যাত্রার পরিকল্পনা সম্পর্কে বাস্তব অভিজ্ঞতা তৈরি হবে।

 

পুজোর ভ্রমণের জন্য গন্তব্য বাছাই করার সময় সবার পছন্দকে গুরুত্ব দিন। কেউ পাহাড় পছন্দ করতে পারেন, কেউ সমুদ্র, কেউ আবার জঙ্গল। একই দলের মধ্যে যদি পছন্দ আলাদা হয়, তাহলে এমন জায়গা বেছে নিন যেখানে একাধিক ধরনের অভিজ্ঞতা পাওয়া যায়। আশপাশের দর্শনীয় স্থানগুলিকে যুক্ত করে একটি ভারসাম্যপূর্ণ পরিকল্পনা করা যেতে পারে।

 

সবশেষে, পুজোর ছুটির ভ্রমণকে শুধুমাত্র ‘কতগুলি জায়গা দেখা হল’ দিয়ে বিচার না করে ‘কেমন সময় কাটালেন’ সেটিকে গুরুত্ব দিন। নিজের গাড়িতে বেড়াতে গেলে যাত্রার মধ্যেই অনেক ছোট ছোট স্মৃতি তৈরি হয়। রাস্তার ধারে সকালের চা, অচেনা কোনও গ্রামের দৃশ্য, হঠাৎ পাওয়া সুন্দর একটি জলাশয় কিংবা সূর্যাস্ত—এই মুহূর্তগুলিই পরবর্তীতে ভ্রমণের সবচেয়ে সুন্দর স্মৃতি হয়ে থাকতে পারে।

 

তাই ট্রেন, বাস বা বিমানের টিকিট না পাওয়াকে বেড়ানোর পথে বাধা হিসেবে দেখার প্রয়োজন নেই। নিজের চারচাকা থাকলে পরিকল্পনা করে সড়কপথে বেরিয়ে পড়া যায়। পাহাড়, অরণ্য, নদী, জলাধার, সমুদ্র কিংবা গ্রামবাংলার নিরিবিলি পরিবেশ—পছন্দ অনুযায়ী গন্তব্য বেছে নিন। শুধু আগে থেকে রুট, আবহাওয়া, থাকার ব্যবস্থা এবং গাড়ির প্রস্তুতি নিশ্চিত করুন।

 

পুজোর ছুটিতে সড়কপথে ভ্রমণ হতে পারে পরিবারের সঙ্গে সময় কাটানোর একটি সুন্দর সুযোগ। শহরের কোলাহল থেকে দূরে গিয়ে প্রকৃতির কাছাকাছি থাকা, নতুন জায়গা দেখা এবং প্রিয় মানুষদের সঙ্গে দীর্ঘ সময় কাটানোর আনন্দের তুলনা হয় না। আর নিজের গাড়ি থাকলে সেই আনন্দের সঙ্গে যোগ হয় নিজের মতো করে ভ্রমণ করার স্বাধীনতা।

 

তাই এবারের পুজোয় যদি ট্রেন বা বিমানের টিকিট নিয়ে শেষ মুহূর্তে দুশ্চিন্তায় পড়ে থাকেন, বিকল্প হিসেবে রোড ট্রিপের পরিকল্পনা করতে পারেন। গন্তব্য হোক চেনা কিংবা অচেনা—সঠিক পরিকল্পনা, নিরাপদ গাড়ি চালানো এবং প্রকৃতির প্রতি দায়িত্বশীল আচরণ থাকলে চারচাকার সফর হয়ে উঠতে পারে এবারের পুজোর অন্যতম সেরা অভিজ্ঞতা।

Preview image