Lenspedia Bangla Logo
  • কলকাতা
  • 30℃ Purba Bardhaman

ফেব্রুয়ারিতে শীতের ফেরার সম্ভাবনা ও সর্বনিম্ন তাপমাত্রা কত পর্যন্ত নামতে পারে জানুন

হাওয়া অফিস জানিয়েছে, আগামী ২৪ ঘণ্টায় উত্তর ও দক্ষিণবঙ্গের জেলাগুলিতে তাপমাত্রা কমবে অন্তত দুই ডিগ্রি, কলকাতায় ফের ১৩ ডিগ্রির ঘরে নামতে পারে পারদ।

ফেব্রুয়ারি মাসে কলকাতার শীতের আমেজ কিছুটা বেড়ে গেছে এবং এই সময়ে শীতের অনুভূতি আরও তীব্র হয়ে উঠেছে। গত কয়েকদিনে উত্তুরে হাওয়ার প্রবাহ বাড়তে শুরু করেছে, যার কারণে তাপমাত্রা হঠাৎ করে কমে গিয়ে শীতের অনুভূতি বেড়েছে। হাওয়া অফিসের খবর অনুযায়ী, আগামী ২৪ ঘণ্টায় কলকাতা সহ উত্তর ও দক্ষিণবঙ্গের বেশ কয়েকটি অঞ্চলে তাপমাত্রা অন্তত দুই ডিগ্রি কমবে, ফলে কলকাতায় আবারও তাপমাত্রা ১৩ ডিগ্রি সেলসিয়াসে নেমে আসতে পারে। দিন ও রাতের তাপমাত্রা স্বাভাবিকের অনেকটা নিচে থাকছে, যা শীতের তীব্রতার জানান দিচ্ছে।

এই পরিবর্তনমূলক আবহাওয়া আরও একবার কলকাতায় শীতের আমেজ বাড়িয়েছে, বিশেষ করে উইকেন্ডে তীব্র উত্তুরে হাওয়ার কারণে। গত ১০ বছরে ফেব্রুয়ারিতে তাপমাত্রা নেমেছিল একাধিকবার, তবে ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারিতে তাপমাত্রা সবচেয়ে কমে গিয়েছিল। সেবছর ১ ফেব্রুয়ারি তাপমাত্রা ১১.৪ ডিগ্রি সেলসিয়াসে নেমে গিয়েছিল, যা গত দশকের মধ্যে সবচেয়ে নীচে ছিল। ২০২১ সালের এই তাপমাত্রা ছিল একটি গুরুত্বপূর্ণ রেকর্ড, যা ১০ বছরের মধ্যে আর কখনো পরিলক্ষিত হয়নি।

ফেব্রুয়ারির মাসে কলকাতার সর্বনিম্ন তাপমাত্রার ইতিহাসে কিছু উল্লেখযোগ্য ঘটনার মধ্যে ২০১৮ সালে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস, ২০১৯ সালে ১২.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং ২০২০ সালে ১৩ ডিগ্রি সেলসিয়াসে নামেছিল। তবে ২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারিতে তাপমাত্রা ১৪.৭ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছেছে, যা এখন পর্যন্ত এই মাসের তাপমাত্রার একটি উল্লেখযোগ্য মান। যদিও তাপমাত্রা কিছুটা বৃদ্ধি পাবে, তবুও আগামী কয়েকদিনের মধ্যে শীতের অনুভূতি বহাল থাকবে।

কলকাতার শীতের আবহাওয়ার এই পরিবর্তন বেশ কিছু প্রভাব ফেলতে পারে। ৫ এবং ৬ ফেব্রুয়ারি থেকে তাপমাত্রা ঊর্ধ্বমুখী হতে পারে এবং বুধবার ও বৃহস্পতিবারের মধ্যে তাপমাত্রা ১৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছাতে পারে। তবে, এই সময়ের মধ্যে ঘন কুয়াশা থেকে মুক্তি পাওয়ার সম্ভাবনা কম, কারণ তাপমাত্রা কিছুটা বাড়লেও কুয়াশার পরিমাণ কিছুটা কমে গেছে।

তবে উত্তরবঙ্গের বেশ কিছু এলাকায়, বিশেষত darjeeling, jalpaiguri, মালদা ও কোচবিহার জেলার বিভিন্ন জায়গায় সকালের সময় হালকা থেকে মাঝারি কুয়াশা থাকবে। এ অঞ্চলের কিছু জায়গায় দৃশ্যমানতা হাজার মিটারের মধ্যে থাকতে পারে, বিশেষত উত্তরবঙ্গের পাহাড়ি এলাকায়। দক্ষিণবঙ্গের পশ্চিম বর্ধমান ও বীরভূম জেলার কিছু অংশেও সকালের দিকে কুয়াশা থাকতে পারে। অন্যদিকে কলকাতা এবং বাকি জেলাগুলিতে খুব হালকা শিশির বা কুয়াশার সামান্য সম্ভাবনা থাকতে পারে।

ফেব্রুয়ারির এই শীতের দিনগুলোতে আবহাওয়া বিশেষ করে শহর ও গ্রামাঞ্চলে জীবনযাত্রার উপর প্রভাব ফেলতে পারে। মানুষের শীতবস্ত্র পরিধান বৃদ্ধি পাবে এবং সন্ধ্যা ও রাতের সময় শীতের তীব্রতা বৃদ্ধি পাবে। এই সময়টাতে শীতের জামা কাপড়, সোয়েটার ও মফলার পরিধান করার প্রয়োজনীয়তা বেড়ে যায়, বিশেষত দিনের শেষে ও রাতের তাপমাত্রা কমে যাওয়ার ফলে।

শীতের এই সময়ে বিভিন্ন ধরনের শীতকালীন ফলমূল এবং খাবারের চাহিদা বাড়ে। শীতকালীন সবজি যেমন, পালংশাক, ব্রকলি, গাজর ইত্যাদি, মানুষ তাদের খাদ্যতালিকায় যোগ করতে শুরু করে। এছাড়া, শীতের সময়ে শরীরের তাপমাত্রা বজায় রাখার জন্য চা, কফি এবং গরম স্যুপ খাওয়ার প্রবণতা বেড়ে যায়। কুয়াশা এবং ঠান্ডা আবহাওয়ার কারণে এই ধরনের খাবারের চাহিদা বাড়তে থাকে, যা শীতকালীন জীবনযাত্রার একটি অন্যতম অংশ হয়ে ওঠে।

তবে, শীতের সময় উষ্ণতার সাথে যুক্ত যে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, শীতজনিত বিভিন্ন রোগের প্রাদুর্ভাব। বিশেষ করে শ্বাসযন্ত্রের সমস্যা, ঠান্ডা-জ্বরে আক্রান্ত হওয়ার প্রবণতা বৃদ্ধি পায়। কুয়াশার কারণে হঠাৎ করে আর্দ্রতা বাড়তে পারে, যা শ্বাসকষ্ট এবং ঠান্ডাজনিত অসুখের কারণ হতে পারে। এছাড়া, শীতের সময়ে বিশেষ সতর্কতা প্রয়োজন, কারণ হঠাৎ তাপমাত্রার পতন এবং ঠান্ডা আবহাওয়া শারীরিকভাবে বেশ কষ্টদায়ক হতে পারে, বিশেষ করে বৃদ্ধদের জন্য।

তবে, যেহেতু তাপমাত্রা কিছুটা বেড়েছে, শীতের তীব্রতা আরও কিছু দিন থাকবে। কুয়াশা এবং ঠান্ডা আবহাওয়া মানুষকে সতর্ক থাকতে বলছে, কারণ এসব শীতের সময় সামলানোর জন্য শরীরের বিশেষ যত্ন নেওয়া প্রয়োজন। আগামী কয়েক দিন শীতের আমেজ থাকবে, তবে তাপমাত্রার ওঠানামা সাধারণত অব্যাহত থাকবে, যা শীতপ্রেমীদের জন্য আনন্দের ব্যাপার, তবে স্বাস্থ্যগত দিক থেকেও সতর্কতা নেওয়া উচিত।

তাপমাত্রা কিছুটা বেড়ালেও, শীতের তীব্রতা এখনো কমেনি। শীতকালীন এই সময়টা শীতপ্রেমীদের জন্য এক ধরনের আনন্দের কারণ, তবে এর সঙ্গে সঙ্গেই স্বাস্থ্যগত কিছু ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। বিশেষ করে কুয়াশা এবং ঠান্ডা আবহাওয়া যে সতর্কতা আর কৌশল অবলম্বন করার প্রয়োজনীয়তা নির্দেশ করে, তা অস্বীকার করা যায় না। শীতের সময় শরীরের বিশেষ যত্ন নেওয়া প্রয়োজন, যাতে শীতজনিত অসুখ বা শ্বাসকষ্টের মতো সমস্যা থেকে রক্ষা পাওয়া যায়। সঠিকভাবে প্রস্তুতি নিয়ে এবং স্বাস্থ্যসচেতনতা অবলম্বন করে শীতের তীব্রতা উপভোগ করা সম্ভব, তবে এটাও সত্যি যে শীতের এই সময়টিতে কিছু সাবধানতা অবলম্বন করা জরুরি।

শীতের স্বাস্থ্যগত সমস্যা এবং সতর্কতা

শীতকালে ঠান্ডা আবহাওয়ার কারণে শ্বাসপ্রশ্বাসের সমস্যা, যেমন সর্দি-কাশি, ঠান্ডা লাগা বা শ্বাসকষ্ট বৃদ্ধি পেতে পারে। শীতের কারণে শীতজনিত অসুখের প্রকোপ বেড়ে যেতে পারে, বিশেষ করে বাচ্চা ও বৃদ্ধদের ক্ষেত্রে। এই সময় শরীরের প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যেতে পারে, তাই সঠিক স্বাস্থ্যবিধি পালন করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

news image
আরও খবর

 শ্বাসকষ্ট এবং ফ্লু শীতকালে কুয়াশা এবং ঠান্ডা বাতাসে আর্দ্রতা বাড়ে, যার কারণে শ্বাসকষ্টের সমস্যা বৃদ্ধি পেতে পারে। বিশেষত যাদের আগে থেকেই শ্বাসকষ্ট বা হাঁপানি ছিল, তাদের জন্য শীতকাল আরও বেশি বিপজ্জনক হতে পারে। এই সময়ে বিশেষ সতর্কতা নেওয়া প্রয়োজন। ঘরের ভেতর বা বাইরে বের হওয়ার আগে গরম কাপড় পরিধান করা এবং শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যাগুলোর জন্য প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নেওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

 শরীরের তাপমাত্রা বজায় রাখা শীতের দিনে শরীরের তাপমাত্রা বজায় রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শরীরের তাপমাত্রা যদি খুব কম হয়ে যায়, তাহলে তা ফ্রস্টবাইট বা হাইপোথার্মিয়ার মতো গুরুতর সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে। শীতের সময় সঠিক পোশাক পরিধান করে এবং গরম খাবার খেয়ে শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে। বিশেষ করে রাতের সময় শীতের তীব্রতা বাড়তে পারে, তাই রাতে উষ্ণ অবস্থায় শোয়া উচিত।

 হাত-পা ঠান্ডা হওয়া শীতে হাত-পা ঠান্ডা হয়ে যাওয়াটা একটি সাধারণ সমস্যা। এতে রক্তসঞ্চালন কমে যেতে পারে, যা শারীরিক স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। ঠান্ডার কারণে রক্তনালী সংকুচিত হতে পারে, ফলে ত্বক এবং অঙ্গপ্রত্যঙ্গের মধ্যে রক্ত চলাচল বাধাগ্রস্ত হতে পারে। তাই শীতকালে গরম মোজা, হাতমোজা, এবং স্কার্ফ পরা উচিত।

 অপর্যাপ্ত আর্দ্রতা এবং ত্বকের সমস্যা  শীতের শুষ্ক আবহাওয়ার কারণে ত্বক শুষ্ক হয়ে যেতে পারে এবং ফাটতেও পারে। বিশেষ করে মুখ, হাত এবং পায়ের ত্বক শুষ্ক ও রুক্ষ হয়ে পড়ে। ত্বকের আর্দ্রতা বজায় রাখতে ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করা প্রয়োজন। এছাড়া ঠান্ডা আবহাওয়ার কারণে ঠোঁটেও শুষ্কতা দেখা দিতে পারে, তাই লিপবাম ব্যবহার করা উচিত।

শীতের সময় সুস্থ থাকার উপায়

শীতকালীন স্বাস্থ্য সমস্যা থেকে রক্ষা পেতে কিছু প্রাথমিক সতর্কতা অবলম্বন করা জরুরি। সঠিক পোশাক পরিধান, শীতের জন্য উপযুক্ত খাবার খাওয়া এবং শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যাগুলির জন্য প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নেওয়া আপনার সুস্থতার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। এছাড়া, কিছু বিশেষ পদক্ষেপ নিতে হবে যাতে আপনি শীতকালীন তীব্রতা কমিয়ে নিতে পারেন।.

উষ্ণ পোশাক পরিধান করুন শীতের সময়ে উষ্ণ কাপড় পরিধান করা জরুরি। কোট, সোয়েটার, শাল, গ্লাভস, টুপি, মাফলার, মোজা এবং বুট পরুন। বিশেষ করে, শরীরের অঙ্গপ্রত্যঙ্গগুলো, যেমন হাত, পা, এবং কান, শীতের কবলে বেশি পড়ে, তাই এগুলো ঢেকে রাখা উচিত।

গরম খাবার খান  শীতের সময়ে গরম খাবার খাওয়া শরীরের তাপমাত্রা বজায় রাখতে সাহায্য করে। স্যুপ, চা, কফি, গরম দুধ, মশলাদার খাবার ইত্যাদি শরীরকে উষ্ণ রাখে এবং আপনার শরীরের শক্তি বৃদ্ধি করতে সাহায্য করে। এছাড়া, শীতকালীন মৌসুমী ফল যেমন সিট্রাস ফল, আপেল, কলা ইত্যাদি খেতে পারেন, যা শরীরের ভিটামিন সি এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় পুষ্টি সরবরাহ করে।

 আর্দ্রতা বজায় রাখুন শীতকালীন শুষ্ক বাতাস ত্বক শুষ্ক করে দিতে পারে, তাই ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। ঘরের আর্দ্রতা বজায় রাখতে হিউমিডিফায়ার ব্যবহার করতে পারেন। ত্বকের শুষ্কতা কমাতে গরম পানির বদলে গা warm ন গরম জল ব্যবহার করুন।

 পর্যাপ্ত বিশ্রাম নিন  শীতকালীন সময়ের মধ্যে শরীরের প্রতিরোধ ক্ষমতা বজায় রাখার জন্য পর্যাপ্ত বিশ্রাম প্রয়োজন। গড়ে প্রতিদিন ৭ থেকে ৮ ঘণ্টা ঘুমানো উচিত। ঘুমের মাধ্যমে শরীর নিজেকে পুনরুজ্জীবিত করে, যা শীতের সময় সুস্থ থাকার জন্য জরুরি।

 ব্যায়াম করুন  শীতের দিনে শারীরিক পরিশ্রম কমে যেতে পারে, তবে কিছু হালকা ব্যায়াম করতে হবে যাতে শরীরের তাপমাত্রা বজায় থাকে এবং রক্ত সঞ্চালন ঠিক থাকে। হাঁটা, যোগব্যায়াম বা হালকা স্ট্রেচিং করতে পারেন। এতে শরীরের শক্তি ও স্থিতিশীলতা বৃদ্ধি পায়।

শীতের এই সময়ে সতর্ক থাকার গুরুত্ব

শীতের সময়ে কুয়াশা, ঠান্ডা আবহাওয়া, এবং তাপমাত্রার পতন শারীরিকভাবে অনেক সমস্যা তৈরি করতে পারে। তাই, এই সময়ে বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করা জরুরি। উষ্ণতা বজায় রেখে এবং প্রয়োজনীয় সতর্কতা মেনে চললে, শীতের তীব্রতা উপভোগ করা সম্ভব হবে, কিন্তু তা শরীরের জন্য ক্ষতিকর না হয় তা নিশ্চিত করতে হবে।

Preview image