Lenspedia Bangla Logo
  • কলকাতা
  • 30℃ Purba Bardhaman

পরিবারেই নৃশংসতা বৌমা ও বেয়াইকে কুপিয়ে খুন পুত্রকে বলে গেলেন তোর জন্যই করেছি

স্ত্রীর মৃত্যুর জন্য পুত্রবধূ শিল্পা ও বেয়াই স্বপ্নাকে দায়ী করতেন অনন্ত বিশ্বাস। তাঁর সন্দেহ ছিল তুকতাক বা কালোজাদুর মাধ্যমে সম্পত্তি দখলের চক্রান্ত চলছে। সেই বিশ্বাস থেকেই মায়ের সহায়তায় শাশুড়িকে খুন করার অভিযোগ উঠেছে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে।

সাতসকালের বিভীষিকা: রানাঘাটে জোড়া খুনে কুসংস্কার, সন্দেহ আর সম্পত্তি–বিতর্কের ভয়ংকর পরিণতি

নদিয়ার রানাঘাট শহরতলির এক গ্রাম। সোমবার সকাল। প্রতিদিনের মতোই ঘুম ভাঙছিল আশুতোষপুর গ্রামের মানুষজনের। কেউ বাজারের প্রস্তুতি নিচ্ছেন, কেউ বা কাজে বেরোনোর তোড়জোড় করছেন। সেই শান্ত সকাল আচমকাই ছিন্নভিন্ন হয়ে যায় এক ভয়াবহ ঘটনায়। একই পরিবারের দুই মহিলা—একজন পুত্রবধূ, অন্যজন তাঁর মা—নৃশংসভাবে খুন হন কুড়ুলের কোপে। অভিযুক্ত স্বয়ং পরিবারেরই একজন—৭৫ বছরের বৃদ্ধ অনন্ত বিশ্বাস।

এই জোড়া খুনের ঘটনায় শুধু একটি পরিবার নয়, স্তব্ধ হয়ে গিয়েছে গোটা এলাকা। প্রশ্নের পর প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে—কী এমন ঘটেছিল যে এক বৃদ্ধ মানুষ নিজের বাড়িতেই এমন রক্তাক্ত কাণ্ড ঘটাতে পারলেন? কুসংস্কার, সন্দেহ আর সম্পত্তির লোভ—এই তিনের ভয়ংকর মিশ্রণই কি শেষ পর্যন্ত ডেকে আনল এই ট্র্যাজেডি?


ঘটনার সূত্রপাত: শোকের আবহে জমে ওঠা সন্দেহ

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, কয়েক দিন আগেই অনন্ত বিশ্বাসের স্ত্রীর মৃত্যু হয়। সেই শোকের আবহেই বাড়িতে চলছিল পারলৌকিক ক্রিয়ার প্রস্তুতি। নিয়ম মেনে সেই কাজে অংশ নিতে অনন্তের পুত্র পতিতপবন বিশ্বাসের শাশুড়ি স্বপ্না মণ্ডল এসেছিলেন জামাইবাড়িতে। স্বপ্নার সঙ্গে ছিলেন তাঁর মেয়ে শিল্পা—পতিতপবনের স্ত্রী।

প্রথমে বিষয়টি ছিল সম্পূর্ণ স্বাভাবিক। কিন্তু অভিযোগ উঠছে, স্ত্রীর মৃত্যুর পর থেকেই মানসিকভাবে অস্থির হয়ে পড়েন অনন্ত। তিনি বিশ্বাস করতে শুরু করেন, তাঁর স্ত্রীর অকালমৃত্যুর নেপথ্যে রয়েছে পুত্রবধূ শিল্পা এবং তাঁর মা স্বপ্না। অনন্তের ধারণা ছিল, তুকতাক বা কালোজাদুর মাধ্যমেই নাকি তাঁর স্ত্রীকে মেরে ফেলা হয়েছে।

এই বিশ্বাস ক্রমশ গভীর হতে থাকে। প্রতিবেশীদের কথায়, গত কয়েক দিনে অনন্তকে বারবার বলতে শোনা গিয়েছিল—বৌমা নাকি সম্পত্তি হাতিয়ে নেওয়ার ষড়যন্ত্র করছে। সেই ষড়যন্ত্রে মেয়ের সঙ্গে যোগ দিয়েছে শাশুড়িও। যুক্তি, প্রমাণ—কিছুই ছিল না। ছিল শুধু ভয়, সন্দেহ আর কুসংস্কারে ডুবে যাওয়া এক মন।


সোমবার সকাল: মুহূর্তের মধ্যে রক্তাক্ত ঘর

সোমবার সকালে পতিতপবন বিশ্বাস বাজারে যান ফুল বিক্রি করতে। তিনি বাড়ি ছাড়ার সময়ও সবকিছু স্বাভাবিক ছিল। শিল্পা ও স্বপ্না তখন ঘুমোচ্ছিলেন। বাড়িতে ছিলেন শুধু অনন্ত বিশ্বাস।

অভিযোগ অনুযায়ী, এই সময়ই ভয়াবহ সিদ্ধান্ত নেন অনন্ত। বাড়ির এক কোণে রাখা কাঠ কাটার কুড়ুল হাতে তুলে নেন তিনি। ঘুমন্ত অবস্থাতেই প্রথমে আক্রমণ করা হয় শিল্পাকে। মুহূর্তের মধ্যে একের পর এক কোপে রক্তাক্ত হয়ে পড়ে যান ২৪ বছরের ওই তরুণী। চিৎকারের শব্দে ঘুম ভেঙে যায় স্বপ্নার। কিন্তু পালানোর বা আত্মরক্ষার কোনও সুযোগই পাননি তিনি। বৃদ্ধের এলোপাথাড়ি কোপে তিনিও লুটিয়ে পড়েন মাটিতে। ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় দু’জনের।

ঘরের মেঝে ভিজে যায় রক্তে। সকালবেলার আলোয় সেই দৃশ্য আরও ভয়ংকর হয়ে ওঠে।


“তোর পথের কাঁটাগুলো সরিয়ে দিয়েছি”

কিছুক্ষণ পরে বাজার থেকে ফিরে বাড়িতে ঢুকেই দৃশ্যটি দেখেন পতিতপবন। স্ত্রী ও শাশুড়ির রক্তাক্ত নিথর দেহ দেখে তিনি চিৎকার শুরু করেন। আশপাশের লোকজন ছুটে আসেন। সেই সময়ই নিজের বাবাকে প্রশ্ন করেন পতিতপবন—কেন এমন করলেন?

প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, কোনও অনুশোচনা ছাড়াই অনন্ত বিশ্বাস নাকি শান্ত গলায় বলেন,
“তোর পথের কাঁটাগুলো সরিয়ে দিয়েছি।”

এই একটি বাক্যেই যেন জমে ওঠে সমস্ত বিভীষিকার অর্থ। এক বৃদ্ধ মানুষের মনে কী ভয়াবহ বিকৃতি তৈরি হয়েছিল, তা এই কথাতেই স্পষ্ট হয়ে যায়।


পুলিশি তদন্ত: কুড়ুল উদ্ধার, অভিযুক্ত আটক

খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছয় রানাঘাট থানার পুলিশ। বাড়ি থেকে উদ্ধার করা হয় রক্তমাখা কুড়ুল। দু’টি দেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয় মর্গে। অভিযুক্ত অনন্ত বিশ্বাসকে আটক করা হয়েছে এবং জিজ্ঞাসাবাদ শুরু হয়েছে।

পুলিশ জানিয়েছে, প্রাথমিক তদন্তে স্পষ্ট—এটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। তবে বৃদ্ধের মানসিক অবস্থাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। কুসংস্কার ও সন্দেহের বশে তিনি এই অপরাধ করেছেন কি না, নাকি এর পেছনে অন্য কোনও পারিবারিক বা সম্পত্তিগত দ্বন্দ্ব রয়েছে—সব দিকই খতিয়ে দেখছে তদন্তকারী দল।


প্রতিবেশীদের বক্তব্য: কুসংস্কারই মূল কারণ?

স্থানীয় বাসিন্দা ও পঞ্চায়েত সদস্যদের বক্তব্যেও উঠে আসছে কুসংস্কারের প্রসঙ্গ। তাঁদের কথায়, অনন্ত বিশ্বাস আগে এমন ছিলেন না। তবে স্ত্রীর মৃত্যুর পর থেকেই আচরণ বদলে যায়। তিনি প্রায়ই তুকতাক, কালোজাদুর কথা বলতেন। বিশ্বাস করতেন, বৌমা তাঁর সর্বনাশ করতে চাইছে।

গ্রামের এক প্রবীণ বাসিন্দা বলেন,
“আজও এত উন্নতির পরেও এই কুসংস্কার আমাদের সমাজে রয়ে গিয়েছে। তার ফল যে কত ভয়ংকর হতে পারে, এই ঘটনা তার প্রমাণ।”


পুত্রের আর্তি: বাবার কঠোর শাস্তি চাই

সবচেয়ে হৃদয়বিদারক অবস্থায় পড়েছেন পতিতপবন বিশ্বাস। একদিনের ব্যবধানে তিনি হারিয়েছেন স্ত্রী ও শাশুড়িকে। তাঁর দাবি, এই অপরাধের কোনও ক্ষমা নেই। বাবাই হলেও, আইনের সর্বোচ্চ শাস্তি হওয়া উচিত।

পতিতপবনের কথায়,
“আমার সংসার ধ্বংস হয়ে গেল। মা-বাবা, স্ত্রী—সব শেষ। বাবার মানসিক সমস্যা থাকলেও এমন খুনের কোনও যুক্তি নেই। আমি বিচার চাই।”


সমাজের আয়না: কুসংস্কার বনাম যুক্তিবোধ

এই ঘটনা শুধু একটি পারিবারিক ট্র্যাজেডি নয়, এটি সমাজের সামনে এক ভয়ংকর প্রশ্ন তুলে ধরেছে। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির যুগেও কীভাবে কুসংস্কার মানুষের চিন্তাকে গ্রাস করতে পারে, তার উদাহরণ এই জোড়া খুন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, শোক, একাকীত্ব এবং মানসিক অবসাদ—এই তিনটি মিলেই অনেক সময় মানুষকে চরম সিদ্ধান্তের দিকে ঠেলে দেয়। যদি তার সঙ্গে যুক্ত হয় কুসংস্কার, তবে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে।

রক্তাক্ত সেই সকাল: একটি গ্রামের স্মৃতিতে চিরস্থায়ী দাগ

নদিয়ার রানাঘাট–এর আশুতোষপুর গ্রাম। নামটা হয়তো রাজ্যজুড়ে পরিচিত ছিল না। কিন্তু একটি সকাল, কয়েকটি মুহূর্ত—সব বদলে দিল। যে সকাল শুরু হয়েছিল পাখির ডাক, চুলোর ধোঁয়া আর বাজারে যাওয়ার প্রস্তুতি দিয়ে, সেই সকালই শেষ হল রক্ত, চিৎকার আর পুলিশের সাইরেনে।

স্থানীয় বাসিন্দারা আজও বিশ্বাস করতে পারছেন না—যে বাড়িটিতে তাঁরা প্রতিদিন যাতায়াত করতেন, যেখানে পারলৌকিক ক্রিয়ার প্রস্তুতিতে আত্মীয়স্বজনের ভিড় ছিল, সেই ঘরেই পড়ে থাকবে দুই মহিলার নিথর দেহ। এক জন পুত্রবধূ, অন্য জন তাঁর মা। সম্পর্কের বন্ধনে বাঁধা দুই নারী—যাঁদের জীবন শেষ হয়ে গেল কুড়ুলের আঘাতে।

এই ঘটনা শুধু একটি খুন নয়। এটি একটি সমাজের ব্যর্থতার দলিল।


শোক থেকে সন্দেহ, সন্দেহ থেকে হিংসা

মানুষের মন সবচেয়ে ভঙ্গুর হয় শোকের সময়ে। প্রিয়জনের মৃত্যু অনেক সময় যুক্তিবোধকে আচ্ছন্ন করে ফেলে। অনন্ত বিশ্বাসের ক্ষেত্রেও তেমনটাই হয়েছিল বলে মনে করছেন তদন্তকারীরা। স্ত্রী হারানোর শোক ধীরে ধীরে রূপ নেয় সন্দেহে, আর সেই সন্দেহই জন্ম দেয় ভয়াবহ এক বিশ্বাসে—তুকতাক, কালোজাদু, ষড়যন্ত্র।

কোনও প্রমাণ ছাড়াই অনন্ত বিশ্বাস দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করতে শুরু করেন, তাঁর স্ত্রীর মৃত্যুর নেপথ্যে রয়েছে পুত্রবধূ ও তাঁর মা। এই বিশ্বাস তাঁর মনে এমন ভাবে শিকড় গাড়ে যে, বাস্তব আর কল্পনার সীমারেখা মুছে যেতে থাকে। পারিবারিক সম্পর্ক বদলে যায় শত্রুতায়।

news image
আরও খবর

মনোবিদদের মতে, এমন পরিস্থিতিতে যদি মানসিক সহায়তা না পাওয়া যায়, তবে শোক অনেক সময় রূপ নেয় ‘পারানোইয়া’ বা অতিরঞ্জিত সন্দেহে। কুসংস্কার যুক্ত হলে সেই মানসিক অবস্থা আরও বিপজ্জনক হয়ে ওঠে।


কুসংস্কারের দীর্ঘ ছায়া

এই ঘটনা আবারও চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিল—আজও কুসংস্কার আমাদের সমাজে কতটা গভীরে প্রোথিত। বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, স্মার্টফোন—সবই আছে। কিন্তু তবুও তুকতাক, কালোজাদুর ভয় মানুষকে তাড়িয়ে বেড়ায়।

গ্রামবাংলায় এমন বিশ্বাস নতুন নয়। অসুখ, মৃত্যু বা পারিবারিক অশান্তির জন্য দায় চাপানো হয় ‘বাইরের শক্তি’র উপর। অনেক সময় সেই দায় গিয়ে পড়ে নারীদের ঘাড়ে—বিশেষ করে পুত্রবধূ বা শাশুড়ির উপর। এই ঘটনাতেও সেই চেনা ছবিই সামনে এসেছে।

সমাজকর্মীদের মতে, কুসংস্কার আসলে ভয় থেকে জন্ম নেয়। অজানাকে বোঝার চেষ্টা না করে মানুষ সহজ ব্যাখ্যা খোঁজে—আর সেই ব্যাখ্যাই হয়ে ওঠে বিপজ্জনক অস্ত্র।


দুই নারীর নীরব যন্ত্রণা

এই ঘটনায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন যাঁরা, তাঁরা আর কথা বলার সুযোগই পেলেন না। ২৪ বছরের শিল্পা—একজন তরুণী, যার সামনে ছিল সংসার গড়ার স্বপ্ন। ৫৬ বছরের স্বপ্না—মেয়ের পাশে দাঁড়াতে এসেছিলেন জামাইবাড়িতে। কেউই ভাবেননি, সেই বাড়িই হয়ে উঠবে তাঁদের শেষ ঠিকানা।

নারী নির্যাতনের ঘটনাগুলিতে প্রায়ই দেখা যায়, অভিযুক্তের চোখে নারীরা হয়ে ওঠে ‘সমস্যা’, ‘বাধা’, ‘কাঁটা’। অনন্ত বিশ্বাসের সেই উক্তি—“তোর পথের কাঁটাগুলো সরিয়ে দিয়েছি”—এই মানসিকতারই নগ্ন প্রকাশ।

এটি শুধু একটি ব্যক্তিগত অপরাধ নয়; এটি সেই পিতৃতান্ত্রিক মানসিকতারও প্রতিফলন, যেখানে নারীর অস্তিত্বকেই হুমকি হিসেবে দেখা হয়।


ছিন্নভিন্ন একটি পরিবার

সবচেয়ে করুণ অবস্থায় রয়েছেন পতিতপবন বিশ্বাস। এক সকালে তিনি হারালেন স্ত্রী ও শাশুড়িকে। অভিযুক্ত তাঁরই বাবা। এই দ্বন্দ্ব কোনও সিনেমার চিত্রনাট্য নয়—এটি বাস্তব।

একদিকে পিতৃস্নেহের স্মৃতি, অন্যদিকে স্ত্রীর রক্তাক্ত দেহ—এই মানসিক চাপ ভাষায় প্রকাশ করা যায় না। তবুও পতিতপবন স্পষ্ট ভাষায় বলেছেন, তিনি বিচার চান। সম্পর্কের ঊর্ধ্বে উঠে তিনি আইনের পথে হাঁটতে চান।

এই সিদ্ধান্ত সহজ নয়। কিন্তু এটিই হয়তো সেই কঠিন বাস্তবতা, যেখানে ব্যক্তিগত আবেগের ঊর্ধ্বে উঠে ন্যায়বিচারকে জায়গা দিতে হয়।


আইন, বিচার এবং মানসিক মূল্যায়ন

পুলিশি তদন্ত এখন দুই দিকেই এগোচ্ছে। একদিকে হত্যাকাণ্ডের ফরেনসিক ও প্রত্যক্ষ প্রমাণ, অন্যদিকে অভিযুক্তের মানসিক অবস্থা। আইন অনুযায়ী, মানসিক অসুস্থতা থাকলেও তা অপরাধের দায় এড়ানোর একমাত্র উপায় নয়—বিশেষত যদি অপরাধটি পরিকল্পিত হয়।

আইনজ্ঞদের মতে, আদালত এই ক্ষেত্রে কয়েকটি বিষয়ের উপর গুরুত্ব দেবে—

  • অপরাধের সময় অভিযুক্তের মানসিক সক্ষমতা

  • হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনা ও প্রস্তুতি

  • পূর্ববর্তী আচরণ ও হুমকির ইতিহাস

এই সব কিছুর উপর নির্ভর করবে অনন্ত বিশ্বাসের ভবিষ্যৎ।


সমাজের জন্য শিক্ষা

এই ঘটনা আমাদের সামনে কয়েকটি কঠিন প্রশ্ন রেখে যাচ্ছে—

  • কুসংস্কার নির্মূলে আমরা কতটা সফল?

  • মানসিক স্বাস্থ্যের বিষয়ে গ্রামস্তরে সচেতনতা কতটা?

  • শোকগ্রস্ত মানুষদের জন্য কি কোনও সহায়তা ব্যবস্থা রয়েছে?

একটি খুনের বিচার আদালত করবে। কিন্তু কুসংস্কারের বিচার করবে সমাজ। যদি এই ঘটনার পরেও আমরা চুপ করে থাকি, তবে এমন ট্র্যাজেডি আবারও ঘটবে।


উপসংহার: নীরবতা নয়, সচেতনতাই পথ

রানাঘাটের আশুতোষপুর গ্রামের সেই রক্তাক্ত সকাল হয়তো সত্যিই কোনও দিন ভুলতে পারবেন না স্থানীয় বাসিন্দারা। কিন্তু ভুলে যাওয়াই সমাধান নয়। মনে রাখা জরুরি—যাতে ভবিষ্যতে এমন ঘটনা আর না ঘটে।

ন্যায়বিচার শুধু সাজা নয়। ন্যায়বিচার মানে শিক্ষা, সচেতনতা আর পরিবর্তন। কুসংস্কার ও অন্ধ বিশ্বাসের বিরুদ্ধে লড়াই শুরু হোক ঘর থেকে, পরিবার থেকে, সমাজ থেকে।

কারণ যখন যুক্তিবোধ হেরে যায়, তখন রক্তই শেষ কথা বলে। আর সেই রক্তের দাম কোনও দিন শোধ করা যায় না।

Preview image