কোজাগরী লক্ষ্মীপুজোয় নারকেল নাড়ুর পাশাপাশি দুধ, সুজি, নারকেল ও গুড় দিয়ে বাড়িতেই বানিয়ে ফেলুন ৪ রকমের সুস্বাদু মিষ্টি। সহজ রেসিপিতে সাজিয়ে তুলুন লক্ষ্মীপুজোর ভোগ ও অতিথি আপ্যায়ন।
বাঙালির বারো মাসে তেরো পার্বণের মধ্যে কোজাগরী লক্ষ্মীপুজোর গুরুত্ব আলাদা। শরতের নির্মল আকাশ, স্নিগ্ধ পূর্ণিমার আলো এবং ঘরে ঘরে মা লক্ষ্মীর আরাধনা—সব মিলিয়ে এই উৎসব বাঙালির জীবনে নিয়ে আসে এক বিশেষ আনন্দ। লক্ষ্মীপুজো মানেই ঘর সাজানো, আলপনা দেওয়া, পুজোর প্রস্তুতি, নৈবেদ্য সাজানো এবং প্রিয়জনদের সঙ্গে আনন্দ ভাগ করে নেওয়া। আর এই বিশেষ দিনে অতিথি আপ্যায়নের জন্য বাড়িতে তৈরি মিষ্টির গুরুত্বও কম নয়।
প্রতি বছর লক্ষ্মীপুজোয় অনেকেই নারকেল নাড়ু, মুড়ির নাড়ু, মোয়া কিংবা বাজার থেকে কেনা মিষ্টি দিয়ে অতিথিদের আপ্যায়ন করেন। তবে এ বছর যদি পরিচিত মিষ্টির পাশাপাশি একটু অন্য রকম কিছু পরিবেশন করতে চান, তা হলে বাড়িতেই বানিয়ে নিতে পারেন দুধের সন্দেশ এবং সুজির নাড়ু। সাধারণ কিছু উপকরণ ব্যবহার করে তৈরি করা যায় এই দুই ধরনের মিষ্টি। রান্নার অভিজ্ঞতা খুব বেশি না থাকলেও সঠিক পদ্ধতি মেনে এগোলে বাড়িতে মিষ্টি তৈরির চেষ্টা করতে পারেন আপনিও।
দুধের সন্দেশের বিশেষত্ব হল এর দুধের স্বাদ এবং নরম, মোলায়েম গঠন। অন্য দিকে সুজির নাড়ু তৈরি করা যায় সুজি, চিনি, ঘি, গুঁড়ো দুধ ও এলাচের মতো পরিচিত উপকরণ দিয়ে। পুজোর নৈবেদ্য, বাড়ির সদস্যদের জন্য বিকেলের মিষ্টিমুখ কিংবা অতিথি আপ্যায়ন—বিভিন্ন ক্ষেত্রেই এই দুই ধরনের মিষ্টি হতে পারে সুন্দর সংযোজন।
কোজাগরী লক্ষ্মীপুজো সাধারণত আশ্বিন মাসের পূর্ণিমা তিথিতে পালিত হয়। এই পুজোকে ঘিরে বাংলার বহু বাড়িতে বিশেষ আয়োজন করা হয়। কেউ ফল, মিষ্টি ও নৈবেদ্য সাজিয়ে মা লক্ষ্মীর পুজো করেন, কেউ আবার বাড়ির নিজস্ব রীতি মেনে নানা ধরনের খাবার প্রস্তুত করেন। পুজোর আয়োজনের পাশাপাশি পরিবারের সদস্য ও অতিথিদের জন্য মিষ্টি তৈরিও অনেক বাড়ির পরিচিত ঐতিহ্য।
বাজার থেকে মিষ্টি কিনে আনা সহজ হলেও বাড়িতে তৈরি মিষ্টির মধ্যে থাকে নিজস্ব যত্ন ও আন্তরিকতা। নিজের পছন্দ অনুযায়ী মিষ্টির স্বাদ, মিষ্টির পরিমাণ এবং আকার ঠিক করা যায়। উপকরণও নিজের পছন্দমতো বেছে নেওয়া সম্ভব। বিশেষ করে দুধের সন্দেশ ও সুজির নাড়ুর মতো মিষ্টি বাড়িতে বানানোর চেষ্টা করলে পুজোর প্রস্তুতিতে যোগ হয় নতুনত্ব।
এ ছাড়া বাড়িতে মিষ্টি তৈরি করার সময় পরিবারের অন্য সদস্যদেরও কাজে যুক্ত করা যায়। কেউ উপকরণ মেপে দিতে পারেন, কেউ নাড়ু গোল করতে সাহায্য করতে পারেন, আবার কেউ পুজোর থালা সাজিয়ে নিতে পারেন। ফলে মিষ্টি তৈরি শুধু রান্নার কাজেই সীমাবদ্ধ থাকে না, উৎসবের আনন্দেরও একটি অংশ হয়ে ওঠে।
বাঙালির মিষ্টির তালিকায় সন্দেশের জনপ্রিয়তা বহু দিনের। ছানার সন্দেশের পাশাপাশি দুধ জ্বাল দিয়ে ঘন করে তৈরি মিষ্টিও অনেকের পছন্দের। লক্ষ্মীপুজোর জন্য বাড়িতে দুধের সন্দেশ তৈরি করতে চাইলে কয়েকটি সাধারণ উপকরণ দিয়ে শুরু করতে পারেন।
এই রেসিপিতে দুধকে ধীরে ধীরে জ্বাল দিয়ে ঘন করা হয়। তার পরে চিনি মিশিয়ে ক্রমাগত নাড়তে হয়, যাতে মিশ্রণটি পাত্রের তলায় লেগে না যায় এবং ধীরে ধীরে সন্দেশ তৈরির উপযোগী ঘনত্ব পায়।
দুধ: ২ কেজি
চিনি: আধ কেজি
সন্দেশের ছাঁচ: প্রয়োজনমতো
ঘি: ছাঁচে অল্প মাখানোর জন্য, প্রয়োজন হলে
মনে রাখবেন: দুধের স্বাভাবিক মিষ্টি এবং নিজের পছন্দ অনুযায়ী চিনির পরিমাণ সামান্য কমানো যায়। তবে চিনি কমালে মিশ্রণের ঘনত্ব ও স্বাদে কিছুটা পার্থক্য হতে পারে।
প্রথম ধাপ: দুধ জ্বাল দিয়ে ঘন করুন।
একটি পরিষ্কার, ভারী তলার বড় পাত্রে ২ কেজি দুধ ঢেলে মাঝারি আঁচে বসিয়ে দিন। দুধ গরম হতে শুরু করলে মাঝে মাঝে নাড়ুন। দুধ ফুটে উঠলে আঁচ কমিয়ে দিন এবং ধীরে ধীরে জ্বাল দিতে থাকুন। দুধের পরিমাণ কমে প্রায় অর্ধেক হয়ে এলে বুঝতে হবে সেটি অনেকটাই ঘন হয়েছে। এই সময় নিয়মিত নাড়ানো জরুরি, কারণ দুধের ঘন অংশ পাত্রের তলায় লেগে যেতে পারে।
দ্বিতীয় ধাপ: চিনি মেশান।
দুধ ঘন হয়ে এলে তাতে চিনি মেশান। একবারে সব চিনি দেওয়ার পরিবর্তে ধীরে ধীরে মিশিয়ে নাড়তে পারেন, যাতে চিনি সহজে গলে যায়। চিনি মেশানোর পরে দুধ আবার কিছুটা পাতলা হতে পারে। তাই মিশ্রণটিকে কম আঁচে রান্না করতে থাকুন।
তৃতীয় ধাপ: মিশ্রণটি পাক দিন।
এই পর্যায়ে ধৈর্য ধরে ক্রমাগত নাড়তে হবে। মিশ্রণটি ধীরে ধীরে ঘন হবে এবং ক্ষীরের মতো আকার নিতে শুরু করবে। আঁচ খুব বেশি রাখবেন না। অতিরিক্ত আঁচে দুধের নিচের অংশ পুড়ে গেলে মিষ্টির স্বাদ ও গন্ধ নষ্ট হতে পারে।
মিশ্রণটি যখন বেশ ঘন হয়ে আসবে এবং পাত্রের গা ছেড়ে এক জায়গায় জমতে শুরু করবে, তখন আঁচ বন্ধ করার সময় হয়েছে কি না তা যাচাই করুন। দুধের সন্দেশ তৈরির ক্ষেত্রে সঠিক ঘনত্ব অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মিশ্রণ বেশি পাতলা থাকলে ছাঁচে আকার ধরে রাখা কঠিন হতে পারে।
চতুর্থ ধাপ: ছাঁচে সন্দেশ তৈরি করুন।
ঘন মিশ্রণটি কিছুটা ঠান্ডা হতে দিন। হাতে নেওয়ার মতো নিরাপদ তাপমাত্রায় এলে অল্প করে নিয়ে সন্দেশের ছাঁচে চাপ দিন। ছাঁচ না থাকলে হাতে ছোট ছোট গোল বা চ্যাপটা আকারও দিতে পারেন। পুরোপুরি ঠান্ডা হলে সন্দেশ পরিবেশনের জন্য প্রস্তুত।
১. দুধ জ্বাল দেওয়ার সময় পাত্রের তলা নিয়মিত নাড়ুন।
২. ভারী তলার পাত্র ব্যবহার করলে দুধ পুড়ে যাওয়ার আশঙ্কা কমানো যায়।
৩. চিনি মেশানোর পর মিশ্রণ ঘন হতে সময় লাগতে পারে। তাই তাড়াহুড়ো করে আঁচ বাড়াবেন না।
৪. মিশ্রণ খুব গরম থাকতে হাতে আকার দেওয়ার চেষ্টা করবেন না।
৫. সন্দেশের ছাঁচ ব্যবহার করলে তাতে অল্প ঘি মাখিয়ে নিতে পারেন, যাতে মিষ্টি সহজে বেরিয়ে আসে।
৬. প্রথমবার তৈরি করলে অল্প পরিমাণ মিশ্রণ নিয়ে আকার পরীক্ষা করুন। মিশ্রণ যথেষ্ট ঘন না হলে আরও কিছুক্ষণ কম আঁচে রান্না করুন।
বিশেষ সতর্কতা: ২ কেজি দুধ ও আধ কেজি চিনি দিয়ে তৈরি মিষ্টির চূড়ান্ত পরিমাণ নির্ভর করবে দুধের ধরন, জ্বাল দেওয়ার সময় এবং মিশ্রণের ঘনত্বের উপর। তাই নির্দিষ্ট সংখ্যক সন্দেশ হবে, এমন নিশ্চয়তা দেওয়া যায় না।
লক্ষ্মীপুজোর নৈবেদ্যে নাড়ুর বিশেষ স্থান রয়েছে। সাধারণত নারকেল নাড়ু বা মুড়ির নাড়ু বেশি পরিচিত হলেও সুজি দিয়েও তৈরি করা যায় সুস্বাদু নাড়ু। সুজি, চিনি, গুঁড়ো দুধ, ঘি ও এলাচের সুগন্ধ একসঙ্গে মিশে এই মিষ্টিকে করে তোলে আকর্ষণীয়।
যাঁরা খুব বেশি উপকরণ ছাড়া বাড়িতে মিষ্টি তৈরি করতে চান, তাঁদের জন্য সুজির নাড়ু একটি ভালো বিকল্প হতে পারে। উপকরণ আগে থেকে মেপে রাখলে রান্নার কাজও সহজ হয়।
সুজি: ২ কাপ
চিনি: ৪ চা চামচ
গুঁড়ো দুধ: ৪ চা চামচ
এলাচের গুঁড়ো: ২টি এলাচ থেকে তৈরি
ঘি: ৩ চা চামচ
কিশমিশ: পরিমাণমতো
প্রয়োজন হলে অল্প গরম দুধ বা জল: মিশ্রণ বাঁধার জন্য
উপকরণের পরিমাণ সম্পর্কে টিপস: সুজি কতটা আর্দ্রতা শোষণ করছে এবং কোন ধরনের সুজি ব্যবহার করছেন, তার উপর নাড়ুর মিশ্রণ নির্ভর করবে। তাই প্রয়োজন হলে তরল উপকরণ অল্প অল্প করে ব্যবহার করুন। অতিরিক্ত তরল দিলে নাড়ু আকারে বাঁধতে অসুবিধা হতে পারে।
প্রথম ধাপ: সুজি শুকনো কড়াইয়ে ভেজে নিন।
একটি পরিষ্কার কড়াই মাঝারি আঁচে গরম করুন। তাতে সুজি ঢেলে ধীরে ধীরে ভাজুন। সুজি যাতে পুড়ে না যায়, সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। ক্রমাগত নাড়লে সুজি সমানভাবে ভাজা হয়। কাঁচা গন্ধ কমে এলে এবং হালকা রং ধরতে শুরু করলে পরের ধাপে এগোন।
দ্বিতীয় ধাপ: ঘি মেশান।
সুজি ভাজার সময় নির্দিষ্ট পরিমাণ ঘি ব্যবহার করুন। ঘি সুজির সঙ্গে ভালোভাবে মিশিয়ে নিন। এতে মিশ্রণটি সুগন্ধি হবে এবং নাড়ুর স্বাদও বাড়বে। তবে ঘি একসঙ্গে বেশি না দিয়ে পরিমাণ মেপে ব্যবহার করা ভালো।
তৃতীয় ধাপ: চিনি যোগ করুন।
সুজি ও ঘি ভালোভাবে মিশে গেলে চিনি দিয়ে নাড়তে থাকুন। চিনি সমানভাবে ছড়িয়ে দেওয়া জরুরি, যাতে মিষ্টির স্বাদ সব নাড়ুতে একই রকম থাকে। চাইলে চিনির দানার বদলে গুঁড়ো চিনি ব্যবহার করার কথাও ভাবতে পারেন, তবে তাতে মিশ্রণের গঠন কিছুটা বদলাতে পারে।
চতুর্থ ধাপ: গুঁড়ো দুধ ও এলাচ মেশান।
এর পরে গুঁড়ো দুধ এবং এলাচের গুঁড়ো মিশিয়ে দিন। এলাচের সুগন্ধ সুজির নাড়ুকে আরও আকর্ষণীয় করে তোলে। উপকরণগুলি ভালোভাবে মিশিয়ে কম আঁচে কিছুক্ষণ নাড়ুন। মিশ্রণটি খুব শুকনো হয়ে গেলে সামান্য গরম দুধ বা জল অল্প অল্প করে দিতে পারেন।
পঞ্চম ধাপ: কিশমিশ যোগ করুন।
কিশমিশ পরিষ্কার করে মিশ্রণে দিন। চাইলে কিশমিশ অল্প ঘিতে হালকা ভেজে নিতে পারেন। তবে কিশমিশ দেওয়ার আগে মিশ্রণের তাপমাত্রা এবং আর্দ্রতার দিকে খেয়াল রাখুন। সব উপকরণ ভালোভাবে মিশে গেলে কড়াই নামিয়ে নিন।
ষষ্ঠ ধাপ: নাড়ুর আকার দিন।
মিশ্রণটি কিছুটা ঠান্ডা হতে দিন। পুরোপুরি ঠান্ডা হয়ে গেলে অনেক সময় মিশ্রণ শক্ত হয়ে যায়, তাই হাতে সহ্য করার মতো উষ্ণ থাকতেই নাড়ু তৈরি করা সুবিধাজনক। হাতে অল্প ঘি মেখে ছোট ছোট অংশ নিয়ে গোল করে নাড়ুর আকার দিন।
মিশ্রণ খুব শুকনো হলে অল্প গরম দুধ বা জল যোগ করে আবার মেখে নিতে পারেন। আর মিশ্রণ অতিরিক্ত নরম হলে সামান্য ভাজা সুজি যোগ করে ঘনত্ব ঠিক করার চেষ্টা করুন।
১. সুজি বেশি ভাজবেন না: অতিরিক্ত ভাজলে সুজির রং গাঢ় হয়ে যেতে পারে এবং স্বাদে তিতকুটে ভাব আসতে পারে।
২. চিনি দেওয়ার পর নাড়তে থাকুন: চিনি ভালোভাবে মিশে না গেলে কোথাও বেশি মিষ্টি, কোথাও কম মিষ্টি লাগতে পারে।
৩. তরল উপকরণ একসঙ্গে দেবেন না: অল্প অল্প করে দিলে মিশ্রণের ঘনত্ব নিয়ন্ত্রণ করা সহজ হয়।
৪. মিশ্রণ সম্পূর্ণ ঠান্ডা হওয়ার জন্য অপেক্ষা করবেন না: খুব ঠান্ডা হলে নাড়ু বাঁধতে অসুবিধা হতে পারে। তবে গরম মিশ্রণ হাতে নেওয়ার সময় সতর্ক থাকুন।
৫. নাড়ু বানানোর আগে ছোট অংশ পরীক্ষা করুন: প্রথমে একটি নাড়ু তৈরি করে দেখুন সেটি ঠিকমতো বাঁধছে কি না। প্রয়োজন অনুযায়ী মিশ্রণের ঘনত্ব ঠিক করুন।
দুই ধরনের মিষ্টির স্বাদ ও গঠন আলাদা। দুধের সন্দেশে দুধের ঘন স্বাদ প্রধান, অন্য দিকে সুজির নাড়ুতে সুজি, ঘি, এলাচ ও কিশমিশের সম্মিলিত স্বাদ পাওয়া যায়।
যাঁরা নরম ও মোলায়েম মিষ্টি পছন্দ করেন, তাঁদের কাছে দুধের সন্দেশ ভালো লাগতে পারে। আর যাঁরা হাতে তৈরি ছোট ছোট নাড়ু পরিবেশন করতে চান, তাঁরা সুজির নাড়ু বেছে নিতে পারেন। অতিথিদের সামনে দুই ধরনের মিষ্টি একসঙ্গে পরিবেশন করলে স্বাদের বৈচিত্র্যও বজায় থাকবে।
পুজোর থালায় মিষ্টি সাজানোর সময় একই ধরনের আকার ব্যবহার করলে দেখতে সুন্দর লাগে। ছোট প্লেট বা পরিষ্কার পরিবেশনপাত্রে সন্দেশ ও নাড়ু আলাদা করে সাজাতে পারেন। উপরে কয়েকটি কিশমিশ বা সামান্য এলাচের গুঁড়ো দিয়ে সাজানোর কথাও ভাবতে পারেন।
তবে সাজানোর সময় মনে রাখবেন, পুজোর নৈবেদ্যের নিয়ম পরিবার ও অঞ্চলভেদে আলাদা হতে পারে। তাই পরিবারের প্রচলিত রীতি মেনেই ভোগ সাজানো ভালো।
পুজোর দিন অতিথি আপ্যায়ন, ঘর সাজানো এবং পুজোর অন্যান্য প্রস্তুতি একসঙ্গে সামলাতে হয়। তাই শেষ মুহূর্তের চাপ এড়াতে আগে থেকে পরিকল্পনা করা দরকার।
১. উপকরণের তালিকা তৈরি করুন: দুধ, চিনি, সুজি, ঘি, গুঁড়ো দুধ, এলাচ ও কিশমিশ আগেই কিনে রাখুন।
২. রান্নার পাত্র প্রস্তুত রাখুন: দুধ জ্বাল দেওয়ার জন্য বড় ও ভারী তলার পাত্র এবং সুজি ভাজার জন্য পরিষ্কার কড়াই রাখুন।
৩. পরিবেশনের পাত্র পরিষ্কার করুন: মিষ্টি তৈরির আগে পরিবেশনপাত্র ও সংরক্ষণের পাত্র পরিষ্কার করে শুকিয়ে নিন।
৪. সময় হাতে রাখুন: দুধ ঘন করতে বেশ কিছুটা সময় লাগতে পারে। তাই সন্দেশ তৈরির কাজ শেষ মুহূর্তে শুরু না করাই ভালো।
৫. পরিমাণ বুঝে তৈরি করুন: বাড়িতে কতজন অতিথি আসবেন, সেই অনুযায়ী উপকরণের পরিমাণ নির্ধারণ করুন। প্রথমবার রেসিপি তৈরি করলে ছোট পরিমাণে পরীক্ষা করে নেওয়াও সুবিধাজনক।
দুধের সন্দেশে দুধের উপাদান বেশি থাকায় সেটি দ্রুত নষ্ট হওয়ার ঝুঁকি থাকে। তাই তৈরি হওয়ার পর মিষ্টি ঘরের তাপমাত্রায় দীর্ঘক্ষণ ফেলে রাখবেন না। পরিষ্কার, ঢাকনাযুক্ত পাত্রে রেখে দ্রুত ফ্রিজে সংরক্ষণ করুন। পরিবেশনের সময় যতটা প্রয়োজন, ততটাই বের করে নিন।
সুজির নাড়ু সংরক্ষণের ক্ষেত্রেও পরিচ্ছন্নতা জরুরি। নাড়ু পুরোপুরি ঠান্ডা হলে পরিষ্কার ও শুকনো, বায়ুরোধী পাত্রে রাখুন। রেসিপিতে দুধ বা অন্য আর্দ্র উপকরণ ব্যবহার করলে নাড়ু দ্রুত নষ্ট হতে পারে, তাই সেগুলিও ফ্রিজে রাখা নিরাপদ। কত দিন ভালো থাকবে তা নির্ভর করবে উপকরণ, আর্দ্রতা, রান্নার পদ্ধতি ও সংরক্ষণের তাপমাত্রার উপর। গন্ধ, রং বা গঠনে অস্বাভাবিক পরিবর্তন দেখা দিলে খাবেন না।
মিষ্টি পরিবেশনের আগে হাত পরিষ্কার রাখুন এবং ভেজা চামচ বা হাত দিয়ে সংরক্ষণের পাত্রে বারবার স্পর্শ করবেন না। বিশেষ করে উৎসবের সময় অনেকের জন্য খাবার তৈরি করলে এই বিষয়গুলির দিকে বাড়তি নজর দেওয়া উচিত।
লক্ষ্মীপুজো মানেই আনন্দ, আন্তরিকতা এবং প্রিয়জনদের সঙ্গে সময় কাটানো। এই বিশেষ দিনে ঘরোয়া মিষ্টির আয়োজন অতিথি আপ্যায়নকে আরও সুন্দর করে তুলতে পারে। প্রতিবার একই ধরনের মিষ্টি পরিবেশনের পরিবর্তে দুধের সন্দেশ ও সুজির নাড়ুর মতো দুটি আলাদা স্বাদের মিষ্টি তৈরি করলে আয়োজনেও আসবে বৈচিত্র্য।
দুধের সন্দেশ তৈরি করতে মূলত ধৈর্য ধরে দুধ ঘন করা এবং সঠিকভাবে পাক দেওয়া জরুরি। সুজির নাড়ু তৈরির ক্ষেত্রে সুজি ঠিকমতো ভাজা এবং মিশ্রণের আর্দ্রতা নিয়ন্ত্রণ করাই প্রধান বিষয়। দুটো রেসিপিতেই উপকরণের পরিমাণ ও রান্নার আঁচের দিকে নজর রাখলে ভালো ফল পাওয়ার সম্ভাবনা বাড়ে।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, নিজের রান্নার সুবিধা অনুযায়ী রেসিপি অনুসরণ করা। প্রয়োজন হলে চিনির পরিমাণ সামান্য বদলাতে পারেন এবং প্রথমবার অল্প পরিমাণে তৈরি করে দেখতে পারেন। এভাবেই উৎসবের প্রস্তুতিতে নিজের পছন্দের স্বাদ যোগ করা সম্ভব।
কোজাগরী লক্ষ্মীপুজোয় মা লক্ষ্মীর আরাধনার পাশাপাশি পরিবারের সদস্য ও অতিথিদের সঙ্গে আনন্দ ভাগ করে নেওয়াই উৎসবের অন্যতম আকর্ষণ। এই বছর পুজোর মিষ্টির তালিকায় রাখতে পারেন ঘরে তৈরি দুধের সন্দেশ এবং সুজির নাড়ু। সাধারণ উপকরণ, ধাপে ধাপে রান্নার পদ্ধতি এবং কয়েকটি সহজ টিপস মেনে এই দুই মিষ্টি তৈরির চেষ্টা করা যায় বাড়িতেই।
দুধের সন্দেশের মোলায়েম স্বাদ আর সুজির নাড়ুর সুগন্ধ—দুইয়ের সমন্বয়ে আপনার পুজোর মিষ্টিমুখ হতে পারে আরও বৈচিত্র্যময়। তাই পুজোর আগে উপকরণ গুছিয়ে রাখুন, রান্নার সময় হাতে রাখুন এবং পরিচ্ছন্নতার দিকে নজর দিয়ে তৈরি করুন নিজের পছন্দের মিষ্টি।
এ বছর কোজাগরী লক্ষ্মীপুজোয় শুধু বাজারের মিষ্টি নয়, বাড়িতে তৈরি সন্দেশ ও সুজির নাড়ু দিয়েও চমকে দিন অতিথিদের।
রেসিপি সংক্রান্ত নোট: রান্নার সময়, মিষ্টির চূড়ান্ত পরিমাণ এবং মিশ্রণের ঘনত্ব উপকরণের ধরন ও আঁচের উপর নির্ভর করবে। দুধের মিষ্টি যথাযথভাবে ঠান্ডা করে ফ্রিজে সংরক্ষণ করুন।