কাঞ্চন মল্লিক ও শ্রীময়ী চট্টরাজ তাদের কন্যা কৃষভির প্রথম জন্মদিন আধ্যাত্মিকভাবে উদযাপন করলেন।২ নভেম্বর, কালীঘাট ও ইসকন মন্দিরে মায়ের আশীর্বাদ নিয়ে কৃষভির জন্মদিন পালন।কাঞ্চন মল্লিক মেয়েকে বড় করার আনন্দের সঙ্গে হারানো মায়ের স্মৃতির শূন্যতাও অনুভব করেন। কৃষভি অন্ধকার থেকে জন্ম নেওয়া আলো ও শক্তির প্রতীক।অক্ষয় তৃতীয়ার দিনে প্রথমবার মুখ দেখানো কৃষভি হুবহু কাঞ্চনের মতো।
গত বছরের কালীপুজোর পরের দিনই তৃণমূল বিধায়ক তথা অভিনেতা কাঞ্চন মল্লিক এবং অভিনেত্রী শ্রীময়ী চট্টরাজের ঘরে আনন্দের আলো জ্বলে ওঠে। তাদের কন্যা, কৃষভি, পৃথিবীতে প্রথম নিঃশ্বাস নিলেন। সেই প্রথম মুহূর্তের আনন্দ ও আবেগ এমন ছিল যে, তা বছরের পর বছরেও ভুলে যাওয়া যায় না। যদিও সময়ের গতিতে অনেক ঘটনা ঘটে, তবু সেই দিনটির স্মৃতি পরিবারের হৃদয়ে অম্লান থেকে যায়।
মেয়ের জন্মের পর থেকেই কাঞ্চন ও শ্রীময়ী তাকে আড়ালেই রেখেছিলেন। তারা চেয়েছিলেন তাদের সন্তান যেন সবচেয়ে নিরাপদ ও শান্ত পরিবেশে বড় হয়। বড় শহরের ভিড় এবং মিডিয়ার চাপে সেই প্রথম মুহূর্তগুলো সম্পূর্ণরূপে ব্যক্তিগতভাবে পালন করা সম্ভব হয়নি। তবে অক্ষয় তৃতীয়ার দিন, মুখে ভাত দেওয়ার সময়, তাদের বন্ধু এবং নিকটজনের সঙ্গে প্রথমবার কৃষভির মুখের দেখা হয়। সেই মুহূর্তে সমস্ত উপস্থিত মানুষই মুগ্ধ হন—কৃষভি হুবহু কাঞ্চনের মতোই।
২ নভেম্বর, কৃষভির প্রথম জন্মদিনে কাঞ্চন ও শ্রীময়ী কোনো জাঁকজমকপূর্ণ পার্টির আয়োজন করেননি। বরং দিনটি কাটল আধ্যাত্মিকতার ছোঁয়ায়। সকালে পুরো পরিবার নিয়ে তারা হাজির হন ইসকনের রাধা-কৃষ্ণ মন্দিরে। মন্দিরের শান্ত পরিবেশে তারা প্রার্থনা করেন, ধ্যান করেন, এবং তাদের কন্যার জন্য আশীর্বাদ কামনা করেন। এরপর তারা যান কালীঘাট মন্দিরে, যেখানে শ্রীময়ী মায়ের আশীর্বাদ নেন। এই আধ্যাত্মিক যাত্রা যেন একটি প্রতীক হয়ে দাঁড়ায়—নতুন জীবনের সূচনা ও পরিবারের ঐতিহ্যের সঙ্গে সংযোগ।
কৃষভির জন্ম কেবল একটি আনন্দঘন মুহূর্ত নয়, বরং কাঞ্চনের জন্য এটি আবেগের এক গভীর স্তরও তৈরি করেছে। কাঞ্চনের মায়ের মৃত্যুর চার বছর পর কৃষভি জন্মেছেন। কাঞ্চন জানিয়েছেন, “আমি আমার মাকে হারিয়েছি চার বছর আগে, কিন্তু তোমার মধ্যে যেন তাঁকেই ফিরে পেয়েছি। ঈশ্বর আমাকে বাবা হওয়ার সুযোগ দিয়েছেন, কিন্তু তোমার মধ্যে নতুন করে জীবন দেখেছি।” এই কথাগুলোতে আবেগের গভীরতা, অভিভাবকের আনন্দ, এবং হারানোর শূন্যতার সংমিশ্রণ স্পষ্টভাবে ফুটে ওঠে।
কৃষভি শুধু তাদের সন্তানই নয়, বরং একটি নতুন জীবনের প্রতীক। কাঞ্চন এবং শ্রীময়ীর চোখে তার প্রতিটি হাসি, প্রতিটি ধাপ, নতুন আলোকে প্রতিফলিত করে। কাঞ্চন বলেছিলেন, “মেয়ের মুখে প্রতিদিন নতুন আলো দেখছি।” এই আলো শুধুমাত্র শিশুর খুশি নয়, বরং একটি পরিবারকে পুনর্গঠনের, হারানো স্মৃতিকে জীবন্ত করার শক্তি।
মেয়ের নাম ‘কৃষভি’ও এই ভাবনার প্রতিফলন। অর্থাৎ, অন্ধকার থেকে জন্ম নেওয়া আলো ও শক্তি। এটি কেবল নাম নয়, বরং পরিবারের জন্য এক শক্তিশালী প্রতীক। নামের মধ্য দিয়ে তারা ব্যক্ত করেছেন শিশুর মধ্যে যে আশার আলো, তা পরিবারকে আরও সংহত এবং শক্তিশালী করবে।
কৃষভির জন্মের পর পরিবারটি সামাজিকতার চাপে কম দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন। তারা চেষ্টা করেছেন সব খবর এবং মিডিয়ার দৃষ্টি থেকে শিশুটিকে দূরে রাখার। তবুও, জন্মদিনে কাঞ্চন একটি হাসপাতালের পুরনো ছবি শেয়ার করেছেন, যা সেই মুহূর্তের আনন্দ এবং আবেগকে আরও জীবন্ত করে তোলে।
শ্রীময়ীর জন্যও এটি একটি বিশেষ দিন। মা হিসেবে তিনি যে আনন্দ অনুভব করছেন, তা বলা যায় না। তবে আধ্যাত্মিকতা এবং মন্দিরে আশীর্বাদ নেওয়া তাদের দিনটিকে আরও পূর্ণাঙ্গ করেছে। এটি একটি পারিবারিক অনুষ্ঠান হিসেবে নয়, বরং আধ্যাত্মিক ও আবেগঘন অভিজ্ঞতা হিসেবে উদযাপিত হয়েছে।
কৃষভি জন্মের পর থেকে তাদের জীবনেও পরিবর্তন এসেছে। প্রতিটি দিন নতুন চ্যালেঞ্জের সঙ্গে এসেছে—কিভাবে শিশুকে সুস্থ ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে বড় করা যায়। এই পরিবর্তনের মধ্যেই তারা আবিষ্কার করেছেন আনন্দের নতুন মাত্রা। কাঞ্চন মল্লিক যখন বলছেন, “মেয়ের মুখে প্রতিদিন নতুন আলো দেখছি,” তা কেবল দায়িত্বের কথা নয়, বরং শিশুর প্রতি পূর্ণ প্রেম ও সংযমের প্রতিফলন।
বছরের পর বছর ধরে পরিবারের প্রতি এই আবেগ এক নতুন দিকেও পৌঁছায়। এটি কেবল সন্তান পালন নয়, বরং পরিবার ও সমাজের সঙ্গে সংযোগের একটি বিশেষ রূপ। আধ্যাত্মিকতা, প্রার্থনা, মায়ের স্মৃতি—সব মিলিয়ে এটি একটি জীবন্ত ইতিহাসের অংশ।
কৃষভির জন্ম এবং প্রথম জন্মদিন আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে, জীবনের আনন্দ ও দুঃখ একই সঙ্গে আসে। কাঞ্চনের জন্য সন্তান পালন মানে কেবল দায়িত্ব নয়, বরং হারানো মায়ের স্মৃতি পুনরুজ্জীবিত করা। শ্রীময়ীর জন্য এটি মানে মা হিসেবে নতুন পরিচয় ও নতুন দায়িত্বের আবিষ্কার। দুই অভিভাবকের চোখে প্রতিটি মুহূর্তই এক নতুন গল্প বলে।
এই ধরনের আধ্যাত্মিক উদযাপন আমাদের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক প্রেক্ষাপটে একটি বিশেষ বার্তা দেয়। এটি প্রমাণ করে যে, জন্মদিনের উদযাপন শুধুমাত্র পার্টি বা জাঁকজমক নয়। এটি হতে পারে পরিবারের সঙ্গে সংযোগ, নতুন জীবনকে স্বাগত জানানোর এবং আবেগকে ভাগ করে নেওয়ার একটি মাধ্যম।
কৃষভির নামের অর্থ এবং জন্মদিনের আধ্যাত্মিক উদযাপন আমাদের শেখায়, শিশু মানেই শুধু নতুন জীবন নয়, বরং আশা, শক্তি, এবং পরিবারকে আরও সংহত করার একটি শক্তি। কাঞ্চন এবং শ্রীময়ী এই উদযাপনের মাধ্যমে এই বার্তাটিকে সমাজের কাছে পৌঁছে দিয়েছেন—যে খুশি, প্রেম, এবং আধ্যাত্মিকতা একসাথে জীবনকে সুন্দর করে।
সমাপনীভাবে বলা যায়, কৃষভির প্রথম জন্মদিন কেবল একটি ব্যক্তিগত উদযাপন নয়। এটি একটি গল্প—হারের পর পুনরুজ্জীবনের, শূন্যতার মধ্যে আলো খোঁজার, এবং নতুন প্রজন্মের মাধ্যমে জীবনের অর্থ খুঁজে পাওয়ার। কাঞ্চন ও শ্রীময়ীর জন্য এটি একটি আবেগঘন, আধ্যাত্মিক এবং সামাজিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ দিন। এটি আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে, জীবনের প্রতিটি মুহূর্তই মূল্যবান, বিশেষ করে যখন তা পরিবারের, প্রেমের এবং আধ্যাত্মিকতার সঙ্গে জড়িত।