অভিনেতা টোটা রায়চৌধুরী ধর্মেন্দ্রর মৃত্যুর ভুয়ো খবরে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, ধর্মেন্দ্র সম্পূর্ণ সুস্থ আছেন এবং সম্প্রতি তাঁদের একসঙ্গে কাজের অভিজ্ঞতা অত্যন্ত আনন্দদায়ক ছিল। টোটা ভক্তদের অনুরোধ করেছেন গুজবে কান না দিতে।
ভারতের চলচ্চিত্র জগতের কিংবদন্তি অভিনেতা ধর্মেন্দ্র—এই নামটাই এক প্রতীক, যা প্রজন্মের পর প্রজন্মের দর্শককে বিনোদন দিয়েছে। ১৯৬০ থেকে ১৯৯০-এর দশকে বলিউডের ‘অ্যাকশন কিং’ হিসেবে পরিচিত এই অভিনেতা শুধুমাত্র অভিনয় নয়, মানবিকতার জন্যও সমানভাবে শ্রদ্ধা অর্জন করেছেন। কিন্তু সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়ায় হঠাৎ ছড়িয়ে পড়ে একটি খবর যে, ধর্মেন্দ্র আর নেই। মুহূর্তেই এই খবর ভাইরাল হয়। ভক্ত থেকে শিল্পী, সবাই হতবাক। তবে পরে জানা যায়, এটি সম্পূর্ণ ভুয়ো।
এই ভুয়ো খবরের জেরে কেবল ভক্তরাই নয়, শিল্পী সমাজও ক্ষুব্ধ। এই প্রেক্ষাপটে মুখ খোলেন বাংলা এবং হিন্দি চলচ্চিত্রের জনপ্রিয় অভিনেতা টোটা রায়চৌধুরী, যিনি সম্প্রতি করণ জোহরের রকি অউর রানি কি প্রেম কাহানি ছবিতে ধর্মেন্দ্রের সঙ্গে স্ক্রিন শেয়ার করেছেন। টোটা জানিয়েছেন, এই ধরনের ভুয়ো খবর শুধুমাত্র দর্শককেই নয়, শিল্পী সমাজকেও মানসিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করে।
১১ নভেম্বর বিকেলের দিকে সামাজিক মাধ্যম ও কিছু অনলাইন নিউজ পোর্টালে ছড়িয়ে পড়ে খবর, “ভারতের প্রিয় অভিনেতা ধর্মেন্দ্র প্রয়াত।” কয়েক মিনিটের মধ্যেই তা ভাইরাল হয়ে যায়। কয়েকটি অ্যাকাউন্ট এই খবর প্রথম ছড়িয়েছে, পরে অনেকে অজান্তেই তা শেয়ার করে।
ধর্মেন্দ্রের পরিবার তড়িঘড়ি এই গুজবের খণ্ডন করে। তাঁর স্ত্রী হেমা মালিনী একটি সংক্ষিপ্ত পোস্টে লিখেন:
“আমার স্বামী সম্পূর্ণ সুস্থ আছেন। অনুরোধ করছি কেউ এই ধরনের ভুয়ো খবর ছড়াবেন না।”
এছাড়া, তাদের সন্তান ঈশা দেওল, সানি দেওল, এবং ববি দেওল সবাই সংবাদ মাধ্যমে এসে জানান, বাবা সুস্থ আছেন এবং চিকিৎসকের পর্যবেক্ষণে রয়েছেন।
শিল্পী সংগঠন IFTDA (Indian Film & Television Directors’ Association) এই ঘটনায় একটি বিবৃতি প্রকাশ করে জানায়, “একজন জীবিত কিংবদন্তির বিরুদ্ধে এমন মিথ্যা খবর প্রচার করা চরম দায়িত্বহীনতা। সাংবাদিকতার নীতি অনুসারে এটি সম্পূর্ণ অবৈধ।”
ভুয়ো খবরটি শুনে প্রথমে টোটা চমকে যান। এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন:
“খবরটা প্রথমে আমি বন্ধুদের কাছ থেকে শুনেছিলাম। প্রথমে বিশ্বাস করা যায়নি। পরে বুঝতে পারি এটি ভুয়ো। ধর্মেন্দ্রজি একজন অসাধারণ মানুষ। এমন অযথা খবর শুনে মন খারাপ হয়েছে।”
তিনি আরও বলেন,
“আমি ওঁর সঙ্গে কাজ করার সুযোগ পেয়েছি ‘রকি অউর রানি কি প্রেম কাহানি’-তে। ওঁর পেশাদারিত্ব, নম্রতা এবং কাজের প্রতি নিষ্ঠা দেখে আমি অভিভূত হয়েছি। একজন মানুষকে নিয়ে এমন গুজব ছড়ানো মানে আমাদের সম্মিলিতভাবে লজ্জিত হওয়া উচিত।”
টোটা শেয়ার করেন, ধর্মেন্দ্রের সঙ্গে কাজ করা ছিল একটি স্বপ্নের মতো অভিজ্ঞতা। তিনি বলেন:
“শ্যুটিংয়ের সময় ধর্মেন্দ্র প্রায় প্রতিদিনই ইউনিটের সবাইকে শুভেচ্ছা জানাতেন। সিনিয়র-জুনিয়র সবাইকে সমানভাবে সম্মান দিতেন। তাঁর উপস্থিতি মানে যেন পুরো সেটের মনোভাব ইতিবাচক হয়ে যায়। আমি একবার বলেছিলাম, ‘আপনার সামনে অভিনয় করতে ভয় লাগে।’ তিনি হেসে বলেছিলেন, ‘ভয় পেলে অভিনয় হয় না, মন খুলে করো।’ এই কথাটা আজও আমার কাছে প্রেরণার উৎস।”
টোটা আরও জানিয়েছেন, ধর্মেন্দ্র বড় হলেও, তাঁর কাজের প্রতি নিষ্ঠা অবিশ্বাস্য। দীর্ঘ সময় ধরে শ্যুটিং করলেও কখনও অভিযোগ করেননি। টোটা মনে করেন, এমন মানুষই সত্যিকারের কিংবদন্তি।
ধর্মেন্দ্রর ভুয়ো মৃত্যুর খবর ছড়ানোর ঘটনা আবারও আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয়, সোশ্যাল মিডিয়ার যুগে তথ্য যাচাই কতটা গুরুত্বপূর্ণ। আধুনিক সময়ে কেউ চাইলে মুহূর্তের মধ্যে কোনোকিছু ভাইরাল করে দিতে পারে। এতে শুধুমাত্র ভক্তরাই নয়, অভিনেতার পরিবারও ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
বিশ্লেষকরা বলছেন, ফেক নিউজ এখন ডিজিটাল যুগের একটি বড় সমস্যা। কেউ ইচ্ছাকৃতভাবে ভিউ বা ক্লিক পেতে এমন খবর ছড়ায়, কেউ আবার অজান্তেই। যে কোনো পরিস্থিতিতে তথ্য যাচাই অপরিহার্য।
টোটা রায়চৌধুরী বলেন:
“আমরা এমন সময়ে বসবাস করছি, যেখানে খবরের দ্রুততা সত্যের চেয়ে বড় হয়ে গেছে। সত্য যাচাই করা এখন আরও জরুরি। একটি ভুল খবর একজন মানুষকে মানসিকভাবে আহত করতে পারে।”
ধর্মেন্দ্র বর্তমানে সুস্থ আছেন। তাঁর পরিবার নিশ্চিত করেছে, তিনি চিকিৎসকের পরামর্শে থাকছেন এবং খুব শিগগিরই সাধারণ জীবনে ফিরবেন। হেমা মালিনী, ঈশা দেওল এবং সানি দেওল সবাই ভক্তদের অনুরোধ করেছেন, ভুয়ো খবরের প্রতি বিশ্বাস করবেন না এবং সামাজিক মাধ্যমে তা শেয়ার করবেন না।
বলিউডের অন্যান্য তারকারাও এই গুজবের নিন্দা করেছেন। অমিতাভ বচ্চন টুইট করে জানান, “ধর্মেন্দ্র সুস্থ আছেন, মিথ্যা খবরে কান দেবেন না।” অনুপম খের বলেন, “একজন জীবিত কিংবদন্তি নিয়ে মিথ্যা খবর ছড়ানো মানসিক অবমাননার সমতুল্য।”
টলিউডেও আলোচনার জন্ম হয়েছে। প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায় বলেন, “ধর্মেন্দ্র আমাদের প্রজন্মের কাছে এক আদর্শ। আমরা সবাই তাঁর দীর্ঘায়ু কামনা করি।”
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভুয়ো খবর রোধ করতে মিডিয়ার কাছে কঠোর নিয়ম থাকা প্রয়োজন। সাংবাদিকতা কেবল তাত্ক্ষণিকতার জন্য নয়, সত্যতা নিশ্চিত করার জন্যও। ভক্তদেরও সচেতন হওয়া উচিত—যে কোনো খবর যাচাই না করে শেয়ার না করা।
টোটা বলেন:
“আজকের দিনে দর্শকরা এক ধরনের সাংবাদিক। কারণ তারা খবর ছড়ায়। তাই প্রত্যেকের সচেতনতা সমাজকে সুস্থ রাখতে সাহায্য করবে।”
টোটা রায়চৌধুরী ভক্তদের বলেন, ধর্মেন্দ্র শুধু অভিনেতা নন, একজন জীবিত কিংবদন্তি। গুজবে কান না দিয়ে তাঁকে ভালোবাসুন, প্রার্থনা করুন। ভুল খবর ছড়ানো তাঁর পরিবারকে কষ্ট দেয়। ভক্তদের উচিত সত্য যাচাই করা এবং শুধুমাত্র অফিসিয়াল সোর্স থেকে খবর নেওয়া।
ধর্মেন্দ্র এক ব্যক্তির চেয়ে বেশি। তিনি হলেন একটি প্রজন্মের স্মৃতি, যিনি সিনেমা, নৃত্য, গান ও অভিনয়ে চিরস্মরণীয় অবদান রেখেছেন। টোটা বলেন, ধর্মেন্দ্র থেকে শুধু অভিনয় নয়, জীবন এবং মানুষের প্রতি দৃষ্টিভঙ্গি শেখার সুযোগও পেয়েছেন। তাঁর সঙ্গে কাজ করা মানে শুধু পেশাদারী নয়, মানবিক শিক্ষা পাওয়া।
ধর্মেন্দ্রের উপস্থিতি চলচ্চিত্রের দৃশ্যকে অন্য মাত্রা দেয়। তিনি প্রতিটি দৃশ্যে বিশ্বাসযোগ্যতা আনেন এবং দর্শককে আবেগের সাথে যুক্ত করেন। টোটার মতে, ধর্মেন্দ্রের মতো শিল্পী কেবল সিনেমার নয়, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক জীবনেরও প্রতীক।
ধর্মেন্দ্রের ভুয়ো মৃত্যুর খবর আমাদের শেখায়, সোশ্যাল মিডিয়ার যুগে সত্য যাচাই কতটা গুরুত্বপূর্ণ। গুজব ছড়ানো কেবল একজন মানুষের সম্মানহানি নয়, পুরো সমাজের জন্যও ক্ষতিকর। সাংবাদিকতা ও মিডিয়ার দায়িত্ব শুধুমাত্র খবর প্রকাশ নয়, সত্য যাচাই করাও।
ভক্তরা এই ঘটনায় শিখতে পারেন—অযথা বিশ্বাস করা বা শেয়ার করা থেকে বিরত থাকলে সমাজ আরও সচেতন ও মানবিক হবে। টোটা রায়চৌধুরীর মন্তব্য এই শিক্ষাকে আরও জোরদার করে।
হেমা মালিনী ও ঈশা দেওল ছাড়াও বলিউডের আরও অনেক তারকা এই গুজবের নিন্দা করেন। অমিতাভ বচ্চন টুইট করে লেখেন, “ধর্মজি ভালো আছেন। মিথ্যা খবরে কান দেবেন না।” অনুপম খের বলেন, “একজন জীবন্ত কিংবদন্তিকে নিয়ে এমন খবর ছড়ানো মানসিক দারিদ্র্যের পরিচয়।”
টলিউডেও এই বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়। প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায় বলেন, “ধর্মেন্দ্রজি আমাদের প্রজন্মের কাছে এক আদর্শ। আমরা সবাই তাঁর দীর্ঘায়ু কামনা করছি।
ধর্মেন্দ্র একজন জীবন্ত কিংবদন্তি, যিনি শুধু সিনেমা নয়, মানবিকতার দিক থেকেও প্রেরণার উৎস। তাঁর সুস্থতা নিশ্চিত হওয়া এবং পরিবারের শান্তি ফিরানো এই ঘটনার মূল উদ্দেশ্য। টোটা রায়চৌধুরীর মন্তব্য আমাদের মনে করিয়ে দেয়, সত্যের প্রতি শ্রদ্ধা এবং শিল্পীর মর্যাদা রক্ষা করা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব।
ভুয়ো খবর ছড়ানো সমাজকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। তাই মিডিয়া ও দর্শক সবাইকে সচেতন হতে হবে। ধর্মেন্দ্র এখনও আমাদের জীবনের অংশ, এবং আমরা তাঁর কাজ এবং মানবিক দিককে স্মরণ করতে পারি।
ধর্মেন্দ্র এবং টোটা রায়চৌধুরীর সম্পর্ক, ভুয়ো খবরের প্রভাব, শিল্পী সমাজের প্রতিক্রিয়া এবং সামাজিক শিক্ষা—এই সব মিলিয়ে এই ঘটনাটি শুধু বিনোদন নয়, সমাজ ও মিডিয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ পাঠও।