Lenspedia Bangla Logo
  • কলকাতা
  • 30℃ Purba Bardhaman

ক্রিকেট থেকে রিং পর্যন্ত! ফ্লিনটফ জানালেন তাঁর অপূর্ণ রেসলিং কেরিয়ারের কথা

ইংল্যান্ডের প্রাক্তন তারকা অলরাউন্ডার অ্যান্ড্রু ফ্লিনটফ সম্প্রতি জানালেন তাঁর এক অজানা গল্প — ক্রিকেটের পর তিনি চেয়েছিলেন WWE রেসলার হতে! ফ্লিনটফ জানান, তাঁকে বলা হয়েছিল মাত্র ১৮ মাসের মধ্যেই তাঁকে ‘রেসেলম্যানিয়া’ ও ‘রয়্যাল রাম্বল’-এর মতো বড় মঞ্চে তোলা হবে। কিন্তু সেই স্বপ্ন অপূর্ণই থেকে যায়। আজ তিনি নিজেই স্বীকার করছেন, “ক্রিকেটের পর জীবনের সবচেয়ে বড় রোমাঞ্চ ছিল ওই সুযোগ — কিন্তু শেষ পর্যন্ত তা বাস্তব হলো না।”

লন্ডন, ২৫ অক্টোবর: ক্রিকেট মাঠে বল হাতে আগুন ঝরানো ইংল্যান্ডের প্রাক্তন অলরাউন্ডার অ্যান্ড্রু 'ফ্রেডি' ফ্লিনটফ একসময় ভেবেছিলেন, জীবনের পরবর্তী অধ্যায় হবে রিংয়ের লড়াই। হ্যাঁ, আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ছেড়ে তাঁর লক্ষ্য ছিল WWE (World Wrestling Entertainment)-এর রেসলার হওয়া! কিন্তু ভাগ্যের পরিহাসে সেই স্বপ্নের যাত্রা শেষ হয়ে যায় শুরুর কয়েক মাসের মধ্যেই।

WWE-তে যোগ দেওয়ার পরিকল্পনা

এক সাম্প্রতিক সাক্ষাৎকারে ফ্লিনটফ নিজের "রেসলিং অধ্যায়" নিয়ে অকপটভাবে বলেন, "তারা (WWE কর্তৃপক্ষ) আমাকে বলেছিল, 'আমরা তোমাকে মাত্র ১৮ মাসের মধ্যে রেসেলম্যানিয়ার মঞ্চে নিয়ে যাব। তুমি রয়াল রাম্বল, পে-পার-ভিউ — সবকিছুতেই অংশ নেবে।' তখন আমি ভেবেছিলাম, এটাই হবে জীবনের নতুন অভিযান।"

২০০৯ সালে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসর নেওয়ার পর ৬ ফুট ৪ ইঞ্চি উচ্চতা, বলিষ্ঠ শারীরিক গঠন ও আকর্ষণীয় ব্যক্তিত্বের অধিকারী ফ্লিনটফকে WWE একজন সম্ভাবনাময় সুপারস্টার হিসেবে দেখেছিল। তিনি আমেরিকার ফ্লোরিডায় WWE-র প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে যোগ দিয়ে কঠোর ফিটনেস ট্রেনিংও শুরু করেছিলেন, যাতে দ্রুত রিংয়ের পরিবেশের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে পারেন।

ক্রিকেট থেকে রিং — এক অভাবনীয় রূপান্তর

২০০৫ সালের বিখ্যাত অ্যাশেজ সিরিজের নায়ক ফ্লিনটফ অবসরের পর নতুন চ্যালেঞ্জ খুঁজছিলেন। খেলাধুলার প্রতি তাঁর গভীর ভালোবাসা ও প্রতিযোগিতামূলক মনোভাবই তাঁকে রেসলিং দুনিয়ার দিকে টেনে নিয়েছিল। তাঁর মতে, "ক্রিকেটে যেমন লড়াই ছিল প্রতিটি বলে, রেসলিংয়েও তেমনই লড়াই — শুধু প্রকাশভঙ্গিটা আলাদা। আমি সবসময় এমন কিছু করতে চেয়েছি যেখানে শারীরিক ও মানসিক শক্তি দুটোই প্রয়োজন।"

WWE কর্তৃপক্ষ তাঁকে জানিয়েছিল, তাঁর ক্যারিশমা ও খ্যাতি তাঁকে দ্রুত WWE সুপারস্টারে পরিণত করতে পারে। কিন্তু বাস্তব প্রশিক্ষণ শুরু হতেই তিনি বুঝতে পারেন, WWE-র জগৎ শুধু গ্ল্যামার নয়; এটি শারীরিক ও মানসিকভাবে প্রচণ্ড কঠিন এক অগ্নিপরীক্ষা।

স্বপ্নভঙ্গ ও তিক্ত বাস্তবতা

ফ্লিনটফ জানান, "আমি তখনও ক্রিকেটে পাওয়া একাধিক আঘাত থেকে পুরোপুরি সেরে উঠিনি। হাঁটু, কাঁধ, পিঠ — সব জায়গাতেই সমস্যা ছিল। WWE ট্রেনিং শুরু করার পর শরীর সেই প্রচণ্ড চাপ সহ্য করতে পারেনি। প্রতিদিন ৫-৬ ঘণ্টা কুস্তির প্রশিক্ষণ, লাফ, ঝাঁপ, পড়ে যাওয়া — এসব আমার ইনজুরির জন্য মারাত্মক হয়ে উঠল।"

মাত্র কয়েক মাস প্রশিক্ষণের পরই চিকিৎসকরা তাঁকে সতর্ক করে দেন যে চালিয়ে গেলে তিনি স্থায়ীভাবে আহত হতে পারেন। অগত্যা, স্বপ্ন ছেড়ে দিতে হয় ফ্লিনটফকে। তিনি ফিরে আসেন টেলিভিশন উপস্থাপনা, স্পোর্টস কমেন্ট্রি ও বিভিন্ন বিনোদন অনুষ্ঠানের জগতে।

WWE কর্তৃপক্ষের প্রতিক্রিয়া

news image
আরও খবর

WWE-র তৎকালীন কর্মকর্তারাও পরবর্তীতে স্বীকার করেছিলেন যে ফ্লিনটফের সম্ভাবনা ছিল অপার। একজন প্রাক্তন WWE প্রযোজক বলেন, "ফ্রেডি একজন প্রকৃত তারকা ছিলেন। তাঁর ব্যক্তিত্ব, মাইক্রোফোন দক্ষতা, শারীরিক উপস্থিতি — সবকিছুই ছিল। শুধু শরীরটা সাথ দিল না।"

স্মৃতি আর আফসোস

আজও, ৪৭ বছর বয়সী ফ্লিনটফ বলেন, "যদি শরীর একটু বেশি সহযোগিতা করত, হয়তো আজ আমি WWE-র রিংয়েও নামতে পারতাম। তারা আমাকে পরিষ্কার বলেছিল, 'তুমি পরের রেসেলম্যানিয়াতে মূল ইভেন্টে থাকবে।' কল্পনা করুন, মিলিয়ন মিলিয়ন মানুষের সামনে সেই বিশাল মঞ্চে! কিন্তু জীবন অন্য পরিকল্পনা করেছিল।"

তাঁর এই অকপট স্বীকারোক্তি ক্রিকেট ও রেসলিং — উভয় জগতের ভক্তদেরই অবাক করেছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় অনেকেই মন্তব্য করেছেন, "ফ্রেডি ফ্লিনটফ WWE-তে থাকলে নিশ্চিতভাবেই একজন লিজেন্ড হতেন।"

অন্যান্য খেলোয়াড়দের WWE যাত্রা

ফ্লিনটফ একমাত্র ক্রীড়াবিদ নন যিনি WWE-তে যোগ দিতে চেয়েছিলেন। রকি জনসন (দ্য রক-এর বাবা) নিজে একজন সফল রেসলার ছিলেন এবং পরবর্তীতে দ্য রক, জন সিনা-সহ অনেক ক্রীড়াবিদ WWE-তে যোগ দিয়ে বিশ্বজোড়া খ্যাতি অর্জন করেছেন। তবে ফ্লিনটফের মতো অনেকেই শারীরিক সমস্যার কারণে সেই স্বপ্ন অপূর্ণ রেখে চলে আসতে বাধ্য হয়েছেন।

ফ্লিনটফের বর্তমান জীবন

বর্তমানে ফ্লিনটফ ইংলিশ ক্রিকেট দলের সহকারী কোচ হিসেবে কাজ করছেন এবং বিভিন্न টিভি অনুষ্ঠানে উপস্থাপক হিসেবেও সক্রিয়। ২০২২ সালে তিনি একটি গুরুতর সড়ক দুর্ঘটনার শিকার হলেও সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে ফিরে এসেছেন।

ফ্লিনটফের উত্তরাধিকার

আজ ফ্লিনটফ হয়তো WWE রিংয়ে উঠতে পারেননি, কিন্তু তাঁর এই গল্প প্রমাণ করে — একজন প্রকৃত যোদ্ধা কখনও চ্যালেঞ্জ এড়িয়ে যায় না। তিনি ক্রিকেট মাঠে যেমন ইংল্যান্ডকে অবিস্মরণীয় গৌরব এনে দিয়েছিলেন, তেমনি জীবনেও সাহস করে স্বপ্ন দেখেছিলেন নতুন শিখরে পৌঁছানোর।

শেষে বলা যায় — অ্যান্ড্রু ফ্লিনটফের এই গল্প কেবল এক ব্যর্থ প্রচেষ্টার কাহিনি নয়, এটি সাহস, স্বপ্ন ও আত্মবিশ্বাসের এক জীবন্ত প্রতীক। তিনি রেসলিং রিংয়ে না উঠলেও, জীবনের প্রতিটি লড়াইয়ে তিনি রয়ে গেছেন সত্যিকারের "চ্যাম্পিয়ন।"

Preview image