পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য জমিয়ত উলামা হিন্দের সভাপতি জনাব সিদ্দিকুল্লা চৌধুরী সাহেব পশ্চিমবঙ্গের প্রতিটি জেলাতে ঘুরে ঘুরে জমিনে কর্মীদের নিয়ে মানুষকে সচেতন করে চলেছেন। সম্মানীয় সিদ্দিকুল্লা চৌধুরী বলেন প্রকৃত ভোটারের নাম বাদ গেলে রাস্তায় নেমে আন্দোলন হবে সেই সঙ্গে সঙ্গে প্রতিটি মানুষকে আইনি সহায়তা দেবে জমিয়ত উলামাহীন। জনাব সিদ্দিকুল্লা চৌধুরী সাহেব সারা রাজ্যে প্রতিটি মানুষকে এসআই এর সঙ্গে যুক্ত হয়ে ভোটার তালিকায় নিজের নাম তোলার জন্য সচেতন করছেন এবং সারা বাংলায় গণ আন্দোলন শুরু করেছেন নির্বাচন কমিশনের এই অ দূরদর্শী কাজ এত অল্প সময়ের ছায়ার সম্পন্ন করা মানুষকে বিভ্রান্ত করা এর বিরুদ্ধে তিনি সমস্ত মানুষকে এক হর আহবান জানান তারা একটাই দাবি প্রকৃত ভোটার যেন ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ না যায়
পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক পরিমণ্ডল বর্তমানে এক বিশেষ আলোচনার কেন্দ্রে চলে এসেছে, আর সে কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য জমিয়ত উলামা হিন্দের সভাপতি ও মন্তেশ্বর বিধানসভার জনপ্রিয় বিধায়ক, রাজ্যের মন্ত্রী জনাব সিদ্দিকুল্লা চৌধুরী। রাজ্যের বিভিন্ন অঞ্চলে ভোটার তালিকা সংশোধন নিয়ে যে বিতর্ক তৈরি হয়েছে, যে বিভ্রান্তি সাধারণ মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে গেছে, সেই জট খুলতে তিনি নিজেই মাঠে নেমে পড়েছেন। জেলা থেকে জেলা, ব্লক থেকে ব্লক, গ্রাম থেকে গ্রাম—প্রায় প্রতিটি এলাকায় তিনি সশরীরে উপস্থিত হয়ে মানুষকে সচেতন করছেন, উৎসাহ দিচ্ছেন, পথ দেখাচ্ছেন এবং বলছেন—অধিকার রক্ষার লড়াই কোনওভাবেই দুর্বল হবে না।
এটি কোনও সাধারণ প্রচার বা রাজনৈতিক সফর নয়। এটি এক ধরনের গণজাগরণ—একটি অধিকার রক্ষার অভিযান, যেখানে মানুষের স্বার্থ রক্ষাকে প্রথম স্থানে রেখেছেন তিনি। তার এই ধারাবাহিক মাঠপর্যায়ের আন্দোলনকে কেন্দ্র করে রাজ্যজুড়ে রীতিমতো আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে।
সাম্প্রতিক সময়ে নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তে ভোটার তালিকা সংশোধনের সময়সীমা অত্যন্ত কমিয়ে দেওয়া হয়েছে। এই সিদ্ধান্তের ফলে হাজার হাজার সাধারণ মানুষ, বিশেষ করে গ্রামীণ অঞ্চল ও নিম্নবিত্ত মানুষের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। অনেকেই অভিযোগ করেছেন, সময় কম থাকায় ও পর্যাপ্ত প্রচার না থাকায় তাঁরা বুঝতেই পারেননি কখন, কোথায় গেলে নাম অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। এবারের সংশোধনে বহু এলাকার মানুষ দেখেছেন—মাসের পর মাস ধরে থাকা পুরনো ভোটাররাও তালিকা থেকে বাদ পড়ে গেছেন। এই ঘটনার পর থেকেই বিভিন্ন এলাকায় মানুষ উদ্বিগ্ন হয়েছেন।
ঠিক এই পরিস্থিতিতেই সামনে এসে দাঁড়ান সিদ্দিকুল্লা চৌধুরী। মানুষ যখন ভেবেছিলেন—তাদের পাশে দাঁড়ানোর মতো কেউ নেই, তাঁরা হয়তো ভোটাধিকার হারাতে পারেন, তখনই তিনি বুক চিতিয়ে ঘোষণা করলেন—“প্রকৃত ভোটারের নাম যদি বাদ যায়, তবে রাস্তায় নেমে গণআন্দোলন হবে। কোনওভাবেই আমরা মেনে নেব না যে, প্রকৃত ভোটারের নাম তালিকা থেকে বাদ পড়বে।”
এই এক ঘোষণায় যেন রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তের মানুষ নতুন করে আশা খুঁজে পেলেন।
তিনি রাজ্যের প্রতিটি জেলায় ঘুরে ঘুরে জমিনে থাকা কর্মীদের নিয়ে বিভিন্ন সভায় অংশ নিচ্ছেন। সাধারণ মানুষ যেন সমস্যার মুখোমুখি না হন, ভুল তথ্যের শিকার না হন, কারও অধিকার হরণ না হয়—এই উদ্দেশ্যে তিনি সর্বস্তরের মানুষের কাছে আহ্বান জানাচ্ছেন। তিনি বলছেন—“প্রতিটি মানুষ এসআই–এর সঙ্গে যুক্ত হয়ে নিজেদের নাম ভোটার তালিকায় সঠিকভাবে তোলার জন্য উদ্যোগ নিন। সময় অল্প হলেও সচেতনতা থাকলে বড় সংকট কাটানো সম্ভব।”
এই প্রচারণা শুধু বক্তৃতা বা সভা পর্যন্ত সীমাবদ্ধ নয়। তিনি দরজায় দরজায় গিয়ে মানুষকে বোঝাচ্ছেন কেন এই সংশোধন গুরুত্বপূর্ণ, কাদের নাম বাদ যাচ্ছে, কীভাবে মিসম্যাচ তৈরি হচ্ছে এবং কীভাবে তা সংশোধন করা সম্ভব। পুরো প্রক্রিয়াটি সাধারণ মানুষের কাছে সহজ করে তুলে ধরতে তিনি মাঠপর্যায়ে বিশেষ দল গঠন করেছেন, যারা বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে মানুষকে সাহায্য করছেন।
এই কাজটি করতে গিয়ে তিনি শুধু রাজনৈতিক নেতার ভূমিকা পালন করছেন না; বরং একজন সমাজসেবকের মতো মানুষের পাশে দাঁড়াচ্ছেন। গ্রামের নিরিবিলি পাড়া থেকে শুরু করে শহরের ব্যস্ত চত্বর পর্যন্ত তিনি গিয়ে হাজির হচ্ছেন—যেন ভোটারদের পাশে তাঁর উপস্থিতি মানুষকে স্বস্তি দিচ্ছে, ভরসা দিচ্ছে।
যেখানে দেখা যাচ্ছে বৃদ্ধ মানুষটি এসআই অফিস যেতে পারছেন না, সেখানে জমিয়তের কর্মীরা সহযোগিতা করছেন। কোথাও দেখা যাচ্ছে বাড়ির মহিলারা জানেনই না ভোটার তালিকা সংশোধন কবে শেষ হচ্ছে, তাঁদের কাছে কর্মীরা গিয়ে তথ্য দিচ্ছেন। কেউ যদি নিজের নাম বাদ পড়েছে বলে উদ্বিগ্ন হন, তাঁকে আশ্বস্ত করা হচ্ছে—“জমিয়ত উলামা হিন্দ আইনি সহায়তা দিতে প্রস্তুত। কেউ একা নন, আমরা আছি।”
সিদ্দিকুল্লা চৌধুরী ভারী কণ্ঠে বলেছেন—“এটা শুধু একটি প্রশাসনিক ভুল নয়। এটা মানুষের অধিকার নষ্ট করার পথে একটি বিপজ্জনক পদক্ষেপ। এত কম সময়ের মধ্যে ভোটার তালিকা সংশোধনের কাজ সম্পন্ন করার জন্য মানুষের ওই চাপ এবং বিভ্রান্তি তৈরি হচ্ছে। এটা দূরদর্শিতার অভাব। আমরা তা মেনে নেব না।”
তিনি আরও বলেন—“যদি প্রকৃত ভোটারদের নাম বাদ দেওয়া হয়, তাহলে রাস্তায় নেমে শান্তিপূর্ণ গণআন্দোলন গড়ে তোলা হবে। মানুষের অধিকার রক্ষার ক্ষেত্রে কোনও আপস নয়।”
তিনি কেন এমন কঠোর বক্তব্য রাখলেন? কারণ এটি শুধুমাত্র রাজনৈতিক বিষয় নয়—এটি গণতন্ত্রের শিকড়কে রক্ষা করার বিষয়। ভোটার তালিকা গণতন্ত্রের ভিত্তি। যদি ভোটারের নামই তালিকা থেকে বাদ যায়, তবে গণতন্ত্রের মূল শক্তিই দুর্বল হয়ে পড়ে। দেশে প্রতিটি নাগরিকের ভোটাধিকার রক্ষা করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। আর যখন সেই দায়িত্ব পালনে গলদ দেখা যায়, তখনই সৎ ও সাহসী নেতার দায়িত্ব হয় সামনে এসে মানুষের পাশে দাঁড়ানো। তিনি ঠিক সেটিই করছেন।
রাজ্যের বিভিন্ন এলাকায় মানুষের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে তিনি বুঝেছেন—মহিলারা নিজেদের নাম বাদ গেছে কিনা জানতেও পারেননি, শ্রমিকরা কাজের চাপে সময় বের করতে পারেননি, বৃদ্ধরা দফতরে আসতে পারেননি, এমনকি শিক্ষিত যুবকদের অনেকেই জানতেন না সংশোধনের শেষ তারিখ কখন। নির্বাচন কমিশনের প্রচারের অভাব এবং সময়সীমা কমিয়ে দেওয়ার কারণে এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।
এ জন্যই সিদ্দিকুল্লা চৌধুরীর এই গণঅভিযান রাজ্যজুড়ে নতুন আলো ফেলেছে। তাঁর কথোপকথনের ধরন, তাঁর হৃদ্যতা, সহজ ভাষায় মানুষের কাছে বিষয়টি বোঝানোর ক্ষমতা—সবকিছু মিলিয়ে তিনি মানুষের মনের মধ্যে নতুন ভরসা জাগিয়েছেন।
এই মুহূর্তে রাজ্যের বহু জেলায় দেখা যাচ্ছে—বৃদ্ধ-বৃদ্ধা, শ্রমিক, গৃহবধূ, ছাত্র, দিনমজুর—সবাই ভিড় করছেন ক্যাম্পে। কারণ তাঁরা জানেন—সিদ্দিকুল্লা চৌধুরী তাঁদের পাশে রয়েছেন। তিনি কোনওদিনও মানুষের সমস্যাকে ছোট করে দেখেননি, বরং মানুষের দুঃখ–কষ্ট ও উদ্বেগকে নিজের দায়িত্ব হিসেবে নিয়েছেন।
জমিয়ত উলামা হিন্দের পক্ষ থেকেও ঘোষণা করা হয়েছে—যে কোনও নাগরিক, যিনি মনে করবেন তাঁর ভোটাধিকার লঙ্ঘিত হচ্ছে, তাঁর জন্য সংস্থা আইনি লড়াইয়ে নামবে। প্রয়োজনে আদালতের দ্বারস্থ হবে। কারণ এই লড়াই কোনও রাজনৈতিক লড়াই নয়, এটি সাধারণ মানুষের, গণতন্ত্রের এবং দেশের সুরক্ষার লড়াই।
কোথাও কোথাও দেখা যাচ্ছে, এসআই অফিসে ভিড়, সমস্যা, নথি মিলছে না—এসব অভিযোগের কথা জানতে পেরে তিনি সঙ্গে সঙ্গে প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করছেন। তিনি কর্মীদের নির্দেশ দিচ্ছেন—কেউ যেন হয়রানির শিকার না হন। যেন সবাই সমানভাবে সাহায্য পান।
এই আন্দোলন রাজ্যজুড়ে ক্রমশ বাড়ছে। প্রতিটি জেলার মানুষ এখন তাঁর ভাষণ মন দিয়ে শুনছেন। তাঁর কথায় যে দৃঢ়তা, যে সত্যতা, যে মানবিকতা—সেটি মানুষকে আশ্বস্ত করছে, সাহস দিচ্ছে। তিনি বলছেন—“আমরা যদি একসঙ্গে থাকি, সচেতন থাকি, তাহলে কোনওভাবেই প্রকৃত ভোটারের নাম বাদ যাবে না।”
রাজ্যে গণআন্দোলন তৈরি করার ডাক তিনি ইতিমধ্যেই দিয়েছেন। তাঁর আহ্বানে মানুষের মধ্যে নতুন আগ্রহ তৈরি হয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন—একজন নেতার কাজ শুধু রাজনীতি করা নয়, জনগণের স্বার্থে লড়াই করা তার প্রকৃত দায়িত্ব। আর সিদ্দিকুল্লা চৌধুরী এ মুহূর্তে ঠিক সেই দায়িত্বই পালন করছেন।
অন্যদিকে সাধারণ মানুষ বলছেন—“আমাদের পাশে যদি এই মানুষটি থাকে, তাহলে আমাদের অধিকার কেউ কেড়ে নিতে পারবে না।” তাঁর এই আন্দোলন মানুষের হৃদয়ে গভীর প্রভাব ফেলছে। গ্রামের আনাচেকানাচে তাঁর নাম উচ্চারিত হচ্ছে নতুন ভরসার প্রতীক হিসেবে।
সব মিলিয়ে বলা যায়—পশ্চিমবঙ্গের ভোটার তালিকা সংশোধনের এই সংকটময় অবস্থায় সিদ্দিকুল্লা চৌধুরীর নেতৃত্বে জমিয়ত উলামা হিন্দ যে গণআন্দোলনের সূচনা করেছে, তা আগামী দিনে রাজ্যের গণতান্ত্রিক পরিবেশকে আরও জোরদার করবে। তাঁর নেতৃত্বে মানুষ একত্র হয়েছে, সচেতন হয়েছে এবং নিজেদের অধিকার রক্ষায় প্রস্তুত হয়েছে।
এটাই গণতন্ত্রের সৌন্দর্য।
এটাই মানুষের শক্তি।
এটাই একজন সত্যিকারের নেতার পরিচয়।