Lenspedia Bangla Logo
  • কলকাতা
  • 30℃ Purba Bardhaman

মেয়েদের পর পুরুষদেরও সোনা, এশিয়ান গেমসে হকিতে জোড়া সাফল্য

এশিয়ান গেমসে হকিতে গতকাল সোনা জিতেছিল ভারতীয় মহিলা দল। এবার আজ, শনিবার পুরুষদের হকিতেও সোনা জিতল ভারত।

 

 

 **টোকিও, ৩ অক্টোবর:** এশিয়ান গেমসে হকিতে সোনার মুকুট ধরে রাখল ভারত। গতকালই মহিলা হকি দল সোনা জয়ের আনন্দে ভেসেছিল। তার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই শনিবার পুরুষ হকি দলও ফাইনালে মালয়েশিয়াকে হারিয়ে সোনা জিতে নিল। ফলে একই এশিয়ান গেমসে ভারতীয় পুরুষ ও মহিলা—দুই হকি দলই চ্যাম্পিয়ন হওয়ার নজির গড়ল। অধিনায়ক হরমনপ্রীত সিংয়ের নেতৃত্বে পুরুষ দলের এই জয় শুধু একটি সোনার পদক নয়, ভারতীয় হকির জন্যও অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।

 

 কাকামিগাহারার অ্যাস্ট্রোটার্ফে এদিন ফাইনালে মালয়েশিয়ার মুখোমুখি হয়েছিল ভারত। ম্যাচের শুরু থেকেই দুই দলের মধ্যে ছিল টানটান লড়াই। ভারত আক্রমণাত্মক হকি খেলতে শুরু করলেও মালয়েশিয়া প্রথম থেকেই নিজেদের রক্ষণকে শক্ত করে রেখে ভারতীয় ফরোয়ার্ডদের আটকে রাখার চেষ্টা করে। মাঝমাঠে বলের দখল ধরে রেখে সুযোগ তৈরি করতে থাকে ভারত। অন্যদিকে মালয়েশিয়ার লক্ষ্য ছিল ভারতীয় আক্রমণ সামলে দ্রুত পাল্টা আক্রমণে ওঠা।

 

 প্রথম কোয়ার্টারে ভারত বেশ কয়েকবার মালয়েশিয়ার সার্কেলে ঢুকে পড়ে। তবে শেষ মুহূর্তে মালয়েশিয়ার রক্ষণ বাধা হয়ে দাঁড়ায়। ভারতীয় খেলোয়াড়দের একের পর এক আক্রমণ সামলাতে ব্যস্ত হয়ে পড়ে মালয়েশিয়ার ডিফেন্স। শেষ পর্যন্ত সেই চাপের ফল আসে প্রথম কোয়ার্টারের ১১ মিনিটে। পেনাল্টি কর্নার থেকে গোল করে ভারতকে এগিয়ে দেন অধিনায়ক হরমনপ্রীত সিং।

 

 হরমনপ্রীতের নিখুঁত ড্র্যাগ-ফ্লিকে মালয়েশিয়ার গোলরক্ষকের কিছুই করার ছিল না। বল জালে জড়িয়ে যেতেই উচ্ছ্বাসে ফেটে পড়ে ভারতীয় শিবির। ম্যাচের শুরুতেই ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে গিয়ে আত্মবিশ্বাস আরও বাড়িয়ে নেয় ভারত।

 

 তবে গোল খাওয়ার পর মালয়েশিয়া ম্যাচে ফেরার মরিয়া চেষ্টা শুরু করে। ভারত তখনও আক্রমণের ঝাঁঝ কমায়নি। কিন্তু ১৪ মিনিটে ঘটে যায় অপ্রত্যাশিত ঘটনা। ভারতের রক্ষণে সামান্য ফাঁক তৈরি করে সেই সুযোগ কাজে লাগায় মালয়েশিয়া। শেলো সিলভেরিয়াস গোল করে সমতা ফিরিয়ে দেন। ফলে প্রথম কোয়ার্টার শেষ হয় ১-১ গোলে।

 

 সমতা ফেরার পর ম্যাচের গতি আরও বেড়ে যায়। ভারত ফের আক্রমণে ওঠে। মালয়েশিয়া রক্ষণাত্মক অবস্থান নিলেও ভারতীয় খেলোয়াড়দের দ্রুত পাসিং ও উইং দিয়ে আক্রমণ তাদের অস্বস্তিতে ফেলতে থাকে। একের পর এক পেনাল্টি কর্নারের সুযোগ তৈরি করতে থাকে ভারত।

 

 দ্বিতীয় কোয়ার্টারে ভারত আরও সংগঠিতভাবে আক্রমণ শুরু করে। হরমনপ্রীত, জুগরাজ, হার্দিকদের সমন্বয়ে মাঝমাঠ থেকে আক্রমণ গড়ে ওঠে। মালয়েশিয়া চেষ্টা করছিল ভারতীয়দের সার্কেলে ঢুকতে না দিতে। কিন্তু ক্রমাগত চাপের মুখে শেষ পর্যন্ত ফের গোল হজম করতে হয় তাদের।

 

 দ্বিতীয় কোয়ার্টারের ২৩ মিনিটে পেনাল্টি কর্নার থেকে গোল করে ভারতকে ফের এগিয়ে দেন জুগরাজ সিং। তাঁর শক্তিশালী ও নিখুঁত শটে মালয়েশিয়ার রক্ষণ ভেঙে যায়। ভারত এগিয়ে যায় ২-১ ব্যবধানে।

 

 এই গোলের পর ভারত আরও আত্মবিশ্বাসী হয়ে ওঠে। মালয়েশিয়া অবশ্য সমতা ফেরানোর চেষ্টা চালিয়ে যায়। কিন্তু ভারতীয় রক্ষণভাগও ছিল যথেষ্ট দৃঢ়। মাঝমাঠে বলের দখল ধরে রেখে মালয়েশিয়ার আক্রমণ আটকে দেয় ভারত। ফলে দ্বিতীয় কোয়ার্টারের বাকি সময়ে আর কোনও গোল হয়নি।

 

 প্রথমার্ধ শেষে ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে থাকে ভারত।

 

 তৃতীয় কোয়ার্টারে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ আরও স্পষ্টভাবে ভারতের হাতে চলে আসে। মালয়েশিয়া আক্রমণে যাওয়ার চেষ্টা করলেও ভারত দ্রুত বল দখলে নিয়ে পাল্টা আক্রমণ শুরু করছিল। ভারতীয় খেলোয়াড়দের গতি এবং পাসিংয়ের সামনে মালয়েশিয়ার রক্ষণ বারবার সমস্যায় পড়ছিল।

 

 তৃতীয় কোয়ার্টারে ভারতের আক্রমণের অন্যতম বড় অস্ত্র ছিল পেনাল্টি কর্নার। প্রতিপক্ষের সার্কেলে বারবার চাপ তৈরি করে ভারত। শেষ পর্যন্ত সেই চাপ থেকেই আসে তৃতীয় গোল।

 

 ৪২ মিনিটে পেনাল্টি স্ট্রোক পায় ভারত। সেই সুযোগ থেকে গোল করে দলের ব্যবধান বাড়িয়ে দেন হার্দিক সিং। তাঁর গোলের পর ভারত ৩-১ ব্যবধানে এগিয়ে যায়।

 

 দুই গোল পিছিয়ে পড়ার পর মালয়েশিয়া আরও আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠার চেষ্টা করে। কিন্তু ততক্ষণে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ অনেকটাই ভারতের হাতে। ভারতীয় রক্ষণভাগ মালয়েশিয়ার আক্রমণ প্রতিহত করতে থাকে। গোলরক্ষকও গুরুত্বপূর্ণ সময়ে কয়েকটি আক্রমণ ঠেকিয়ে দেন।

 

 শেষ কোয়ার্টারে তাই ম্যাচে ফেরার জন্য মালয়েশিয়ার সামনে সময় ছিল খুবই কম। ভারত সেই সুযোগই কাজে লাগায়। আক্রমণের ধার আরও বাড়িয়ে দেয় তারা। মালয়েশিয়ার খেলোয়াড়রা ক্লান্ত হয়ে পড়ায় রক্ষণে জায়গা তৈরি হতে থাকে। আর সেই ফাঁক দিয়েই ভারত একের পর এক আক্রমণ তৈরি করতে থাকে।

 

 ৫৪ মিনিটে ভারত চতুর্থ গোল করে। শিলানন্দ লাকড়ার গোলে ম্যাচের ব্যবধান দাঁড়ায় ৪-১। এই গোলের পর কার্যত নিশ্চিত হয়ে যায় ভারতের সোনা জয়। মালয়েশিয়ার সামনে তখন প্রয়োজন ছিল দ্রুত তিনটি গোল করে ম্যাচে ফেরার। কিন্তু ভারতের রক্ষণভাগ সেই সুযোগ দেয়নি।

 

 ম্যাচের শেষদিকে ফের গোল করেন হরমনপ্রীত সিং। ৫৭ মিনিটে তাঁর দ্বিতীয় গোল ভারতকে ৫-১ ব্যবধানে এগিয়ে দেয়। অধিনায়কের ব্যক্তিগত জোড়া গোলের পাশাপাশি ফাইনালে দলের হয়ে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন জুগরাজ সিং, হার্দিক সিং এবং শিলানন্দ লাকড়া।

 

 শেষ বাঁশি বাজার সঙ্গে সঙ্গে শুরু হয় ভারতীয় শিবিরে উচ্ছ্বাস। ৫-১ ব্যবধানে জয় নিশ্চিত করে এশিয়ান গেমসের পুরুষ হকিতে সোনা জিতে নেয় ভারত।

 

 এই জয় ভারতের কাছে আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে কারণ এশিয়ান গেমসে পুরুষ হকিতে শিরোপা ধরে রাখতে সক্ষম হল তারা। আগের আসরেও সোনা জিতেছিল ভারত। এবারও চ্যাম্পিয়ন হয়ে এশিয়ার হকিতে নিজেদের শক্তি আরও একবার প্রমাণ করল তারা।

 

 তবে শুধু সোনার পদক নয়, এই জয়ের সঙ্গে আরও একটি বড় প্রাপ্তি এসেছে। এশিয়ান গেমসে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার সুবাদে ২০২৮ লস অ্যাঞ্জেলেস অলিম্পিকের সরাসরি যোগ্যতা অর্জন করেছে ভারতীয় পুরুষ হকি দল। ফলে আগামী অলিম্পিকের প্রস্তুতির ক্ষেত্রেও অনেকটা সুবিধা পেল হরমনপ্রীতদের দল।

 

 ### সেমিফাইনালে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে রুদ্ধশ্বাস জয়

 

 ফাইনালের আগে ভারতের সবচেয়ে বড় পরীক্ষা ছিল সেমিফাইনালে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে। দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীর সেই ম্যাচ ছিল রীতিমতো শ্বাসরুদ্ধকর। ভারত দুর্দান্ত শুরু করে ৩-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায়। মনে হচ্ছিল সহজেই ফাইনালে পৌঁছে যাবে তারা।

 

 কিন্তু পাকিস্তান হাল ছাড়েনি। ধীরে ধীরে ম্যাচে ফিরে এসে তারা ভারতের ওপর চাপ তৈরি করতে শুরু করে। একের পর এক আক্রমণে ভারতীয় রক্ষণকে ব্যস্ত করে তোলে পাকিস্তান। শেষ পর্যন্ত তিন গোল করে ম্যাচে সমতা ফিরিয়ে আনে তারা।

 

 ৩-৩ সমতায় ম্যাচ যখন শেষ মুহূর্তে পৌঁছে যায়, তখন উত্তেজনা ছিল চরমে। নির্ধারিত সময় শেষ হওয়ার ঠিক আগে ভারত ফের আক্রমণে ওঠে। ম্যাচ শেষ হওয়ার মাত্র কয়েক সেকেন্ড আগে অভিষেকের গোল ভারতকে ৪-৩ ব্যবধানে এগিয়ে দেয়। সেই গোলই শেষ পর্যন্ত ভারতের ফাইনালে ওঠার টিকিট নিশ্চিত করে।

 

 সেমিফাইনালের সেই কঠিন জয় ভারতীয় দলকে মানসিকভাবে আরও শক্তিশালী করে। ফাইনালে মালয়েশিয়ার বিরুদ্ধে তাই শুরু থেকেই সতর্ক ছিল ভারত।

 

 ### গ্রুপ পর্বেও দাপট ভারতের

 

 ফাইনালে ওঠার পথেও ভারতীয় দল দুর্দান্ত পারফরম্যান্স করেছিল। গ্রুপ পর্বে একের পর এক ম্যাচে বড় ব্যবধানে জয় তুলে নিয়ে নিজেদের শক্তির পরিচয় দেয় তারা। আক্রমণভাগ যেমন ধারাবাহিক ছিল, তেমনই রক্ষণভাগও গুরুত্বপূর্ণ সময়ে প্রতিপক্ষকে আটকে দিয়েছে।

 

 গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে বাংলাদেশকে ১০-০ গোলে হারিয়ে ভারত নিজেদের অভিযান শেষ করে। সেই ম্যাচে শুরু থেকেই দাপট দেখায় ভারত। একের পর এক গোল করে বাংলাদেশের ওপর চাপ বাড়াতে থাকে তারা।

 

 গ্রুপ পর্বে ধারাবাহিক সাফল্যের পর সেমিফাইনালে পাকিস্তান এবং ফাইনালে মালয়েশিয়ার মুখোমুখি হয় ভারত। দুই ম্যাচেই দলকে নেতৃত্ব দেন হরমনপ্রীত সিং।

 

news image
আরও খবর

 ### অধিনায়ক হিসেবে হরমনপ্রীতের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা

 

 ভারতের এই সাফল্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র অধিনায়ক হরমনপ্রীত সিং। ফাইনালে তাঁর জোড়া গোল শুধু স্কোরবোর্ডেই প্রভাব ফেলেনি, দলের মনোবলও বাড়িয়েছে। পেনাল্টি কর্নার থেকে তাঁর দক্ষতা ভারতীয় দলের বড় অস্ত্র হয়ে উঠেছিল।

 

 বিশেষ করে ম্যাচের গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে গোল করার ক্ষমতা হরমনপ্রীতকে আলাদা করে তুলেছে। প্রথম কোয়ার্টারে তাঁর গোল ভারতকে প্রথমবার এগিয়ে দেয়। পরে ম্যাচের শেষদিকে তাঁর দ্বিতীয় গোল মালয়েশিয়ার প্রত্য রেখেছেন তিনি। চাপের মুহূর্তে সতীর্থদের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখাবর্তনের শেষ সম্ভাবনাটুকুও শেষ করে দেয়।

 

 অধিনায়ক হিসেবে মাঠের বাইরে থেকেও দলকে সংগঠিত রেখেছেন তিনি। চাপের মুহূর্তে সতীর্থদের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখার চেষ্টা করেছেন।

 

 ### পেনাল্টি কর্নারেই বড় পার্থক্য

 

 ফাইনালে ভারতের জয়ের অন্যতম বড় কারণ ছিল পেনাল্টি কর্নার কাজে লাগানোর দক্ষতা। হকিতে পেনাল্টি কর্নার থেকে গোল করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই জায়গায় ভারত বরাবরই শক্তিশালী দলগুলির একটি।

 

 মালয়েশিয়ার রক্ষণ যতই শক্তিশালী হোক, ভারত যখন পেনাল্টি কর্নারের সুযোগ পেয়েছে, তখন তা কাজে লাগিয়েছে। হরমনপ্রীত ও জুগরাজের মতো খেলোয়াড়দের উপস্থিতি ভারতকে এই বিভাগে বাড়তি সুবিধা দিয়েছে।

 

 অন্যদিকে মালয়েশিয়া ভারতের আক্রমণ ঠেকাতে গিয়ে বারবার চাপের মধ্যে পড়ে। দ্বিতীয়ার্ধে সেই চাপ আরও বাড়ে। ভারতের দ্রুত পাসিং এবং সার্কেলের মধ্যে সমন্বিত আক্রমণ মালয়েশিয়ার রক্ষণকে ক্রমশ দুর্বল করে দেয়।

 

 ### মেয়েদের পর পুরুষদের সোনা

 

 ভারতের এবারের এশিয়ান গেমসে হকি অভিযান আরও বিশেষ হয়ে উঠেছে মহিলা দলের সাফল্যের কারণে। পুরুষ দলের ফাইনালের ঠিক একদিন আগে ভারতীয় মহিলা দলও সোনা জিতেছিল।

 

 ফলে পরপর দুই দিনে ভারতীয় হকিতে এল দুই সোনা। প্রথমে মহিলা দল, এরপর পুরুষ দল। দুই দলের এই সাফল্য ভারতীয় হকির জন্য নিঃসন্দেহে গর্বের বিষয়।

 

 মহিলা দলের সাফল্যের পর পুরুষ দলের খেলোয়াড়দের ওপরও প্রত্যাশা বেড়ে গিয়েছিল। সেই প্রত্যাশার চাপ সামলে হরমনপ্রীতরা শেষ পর্যন্ত সোনা জিতে নিলেন। একই আসরে দুই দলই সোনা জেতায় ভারতীয় হকিতে তৈরি হয়েছে বিশেষ এক অধ্যায়।

 

 ### অলিম্পিকের টিকিটও নিশ্চিত

 

 এশিয়ান গেমসের পুরুষ হকিতে সোনা জয়ের সবচেয়ে বড় তাৎপর্যগুলির একটি হল অলিম্পিকের সরাসরি যোগ্যতা অর্জন। ২০২৮ সালের লস অ্যাঞ্জেলেস অলিম্পিকে খেলতে হলে যোগ্যতা অর্জনের লড়াইয়ে নামতে হয় দলগুলিকে। কিন্তু এশিয়ান গেমসের চ্যাম্পিয়ন হিসেবে ভারত সরাসরি সেই জায়গা নিশ্চিত করে ফেলল।

 

 এর ফলে আগামী কয়েক বছর ভারতীয় দলের পরিকল্পনা আরও পরিষ্কার হবে। যোগ্যতা অর্জনের অতিরিক্ত চাপ ছাড়াই অলিম্পিকের প্রস্তুতিতে মন দিতে পারবে তারা।

 

 ভারতীয় হকির ইতিহাসে অলিম্পিকের গুরুত্ব বরাবরই অনেক বেশি। একসময় অলিম্পিকে হকিতে ভারতের আধিপত্য ছিল। পরবর্তী সময়ে সেই সাফল্যে ভাটা পড়লেও সাম্প্রতিক বছরগুলিতে ভারতীয় পুরুষ দল আবার আন্তর্জাতিক মঞ্চে নিজেদের শক্তিশালী অবস্থান তৈরি করেছে।

 

 এশিয়ান গেমসে ধারাবাহিক সাফল্য সেই প্রত্যাবর্তনেরই আরেকটি বড় প্রমাণ।

 

 ### সোনার জয়ের পিছনে দলগত পারফরম্যান্স

 

 ফাইনালে হরমনপ্রীত সিংয়ের জোড়া গোল অবশ্যই আলোচনার কেন্দ্রে থাকবে। কিন্তু ভারতের এই জয়কে শুধুমাত্র অধিনায়কের পারফরম্যান্স দিয়ে ব্যাখ্যা করা যাবে না। পুরো দলই এদিন নিজেদের দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করেছে।

 

 রক্ষণভাগ মালয়েশিয়ার আক্রমণ সামলেছে। মাঝমাঠ থেকে দ্রুত বল এগিয়ে দিয়েছে খেলোয়াড়রা। ফরোয়ার্ডরা বারবার মালয়েশিয়ার সার্কেলে ঢুকে সুযোগ তৈরি করেছে। আর পেনাল্টি কর্নারের সময় ভারতীয় খেলোয়াড়দের সমন্বয় ছিল যথেষ্ট কার্যকর।

 

 মালয়েশিয়া একবার ১-১ করে ম্যাচে ফেরার চেষ্টা করেছিল। কিন্তু এরপর ভারত ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ হাতছাড়া করেনি। দ্বিতীয় গোলের পর থেকেই ধীরে ধীরে ভারতের আধিপত্য বাড়তে থাকে। তৃতীয় ও চতুর্থ গোলের পর ম্যাচ কার্যত একতরফা হয়ে যায়।

 

 ### এশিয়ার মাটিতে ভারতের আধিপত্য

 

 এশিয়ান গেমসের হকিতে ভারতের ঐতিহ্য দীর্ঘদিনের। এই প্রতিযোগিতায় সাফল্যের ইতিহাসও সমৃদ্ধ। এবারের সোনা সেই ইতিহাসে আরও একটি অধ্যায় যোগ করল।

 

 বিশেষ করে ফাইনালে ৫-১ গোলের জয় ভারতের শক্তির পার্থক্য স্পষ্ট করে দিয়েছে। মালয়েশিয়া শুরুতে রক্ষণাত্মক কৌশলে ভারতকে আটকে রাখলেও দীর্ঘ সময় সেই চাপ ধরে রাখতে পারেনি।

 

 ভারতের পাসিং, গতি এবং পেনাল্টি কর্নার নেওয়ার দক্ষতার সামনে শেষ পর্যন্ত ভেঙে পড়ে মালয়েশিয়া।

 

 ### সামনে আরও বড় লক্ষ্য

 

 এশিয়ান গেমসের সোনা জয় নিঃসন্দেহে বড় সাফল্য। কিন্তু ভারতীয় দলের সামনে এখন আরও বড় লক্ষ্য—২০২৮ লস অ্যাঞ্জেলেস অলিম্পিক। সরাসরি যোগ্যতা অর্জন করে সেই পথের প্রথম গুরুত্বপূর্ণ ধাপ পেরিয়ে গেল তারা।

 

 অলিম্পিকে ভারতীয় হকির সোনালি ইতিহাস রয়েছে। সেই ইতিহাসকে সামনে রেখে নতুন প্রজন্মের খেলোয়াড়রা আন্তর্জাতিক মঞ্চে নিজেদের জায়গা তৈরি করছেন। এশিয়ান গেমসের এই সাফল্য তাঁদের আত্মবিশ্বাস আরও বাড়াবে।

 

 অধিনায়ক হরমনপ্রীত সিং এবং তাঁর সতীর্থরা এখন নিশ্চয়ই চাইবেন, এশিয়ান গেমসের এই সাফল্যকে আরও বড় মঞ্চে নিয়ে যেতে।

 

 শেষ পর্যন্ত শনিবারের রাত ভারতীয় হকির জন্য হয়ে রইল এক স্মরণীয় রাত। মেয়েদের পর পুরুষদের সোনা—একই এশিয়ান গেমসে হকিতে ভারতের এই সাফল্য শুধু পদকের হিসাব নয়, দেশের হকির শক্তি ও সম্ভাবনারও বড় বার্তা। কাকামিগাহারার মাঠে মালয়েশিয়াকে ৫-১ গোলে হারিয়ে হরমনপ্রীতরা প্রমাণ করলেন, এশিয়ার হকিতে ভারত এখনও অন্যতম বড় শক্তি। আর সেই সোনার সঙ্গে নিশ্চিত হল লস অ্যাঞ্জেলেস অলিম্পিকের টিকিটও।

Preview image