Lenspedia Bangla Logo
  • কলকাতা
  • 30℃ Purba Bardhaman

পাকিস্তান সুপার লিগে নতুন দুই দলের আগমন তবে পন্থ শ্রেয়সের আইপিএল বেতন ছুঁতে পারবে না তারা

পাকিস্তান সুপার লিগের দল সংখ্যা বাড়ানোর সঙ্গে নতুন ফ্র্যাঞ্চাইজ়ি বিক্রি করে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড আইপিএলে শ্রেয়স আয়ার ও ঋষভ পন্থের মিলিত বেতনের চেয়েও বেশি আয় করেছে

পাকিস্তান সুপার লিগ (পিএসএল) ক্রিকেট বিশ্বের অন্যতম জনপ্রিয় টুর্নামেন্টগুলোর মধ্যে একটি, যা পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি) আয়োজিত। এটি শুরু হয়েছিল ২০১৬ সালে এবং তৎকালীন সময়ে পাকিস্তান ক্রিকেটের জন্য একটি নতুন যুগের সূচনা হয়। পিএসএল পাকিস্তান এবং আন্তর্জাতিক ক্রিকেটারদের মিলিতভাবে এক জায়গায় আসার একটি প্ল্যাটফর্ম হয়ে দাঁড়ায়, যেখানে বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় ক্রিকেটাররা নিজেদের ক্রিকেট দক্ষতা প্রদর্শন করতে পারেন।

পিএসএলের পথচলা: ইতিহাস এবং উন্নতি

পিএসএল প্রথম মৌসুম থেকেই ক্রিকেট প্রেমীদের মধ্যে ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করতে শুরু করেছিল। ২০১৬ সালে যাত্রা শুরু হওয়া এই টুর্নামেন্টে শুরুতে ছিল মাত্র ৫টি দল। তবে, এই প্রথম সিজনে পিএসএল সাফল্যের সঙ্গে ক্রিকেট বিশ্বের নজর কেড়েছিল। পাকিস্তানে ক্রিকেটের জনপ্রিয়তা এবং আন্তর্জাতিক ক্রিকেটারদের আগ্রহের কারণে পিএসএল পরবর্তী বছরগুলোতে আরও সফলতা লাভ করতে থাকে।

যত সময় এগিয়েছে, পিএসএল এর খ্যাতি বিশ্ব ক্রিকেটে বাড়তে থাকে এবং বিদেশী ক্রিকেটারদেরও পিএসএলে অংশগ্রহণ বাড়তে থাকে। ধীরে ধীরে এর ভিউয়ারশিপ, আয়, এবং দলগুলোও বেড়ে গেছে। ২০১৬ সালে মাত্র ৫টি দল ছিল, কিন্তু ২০২১ সালে তা বেড়ে ৬টি দলে পরিণত হয়। এবং বর্তমানে, ২০২৬ সালে, পিএসএল নতুন যুগে প্রবেশ করেছে, যেখানে দলের সংখ্যা বেড়ে হয়েছে আটটি।

নতুন দুটি ফ্র্যাঞ্চাইজির সংযোজন

পিএসএলের চলতি সিজনে একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন ঘটে, যখন পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি) নতুন দুটি ফ্র্যাঞ্চাইজির জন্য নিলাম আয়োজন করে। নতুন দুটি দল হল শিয়ালকোট এবং হায়দরাবাদ (পাকিস্তান)। এর মাধ্যমে পিএসএল আরও বিস্তৃত এবং উত্তেজনাপূর্ণ হয়ে ওঠে। এই দুটি দলের সংযোজন পিএসএল-এর পরিধি বাড়িয়ে দিয়েছে এবং নতুন নতুন দলগুলোর যোগদান দ্বারা পিএসএল আরও বৈচিত্র্যময় এবং প্রতিযোগিতামূলক হয়ে উঠেছে।

নতুন ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলোর বিক্রির জন্য পিসিবি একটি নিলাম আয়োজন করে, যা ক্রিকেট বিশ্বে বেশ আলোচিত হয়ে ওঠে। নিলামে হায়দরাবাদ ফ্র্যাঞ্চাইজির মালিকানা ৬২ লাখ ডলারে বিক্রি হয়, যা প্রায় ৫৫ কোটি ৫৭ লাখ টাকার সমান। অন্যদিকে, শিয়ালকোট ফ্র্যাঞ্চাইজির দাম ছিল ৬৫ লাখ ৫০ হাজার ডলার, যা প্রায় ৫৮ কোটি ৩৮ লাখ টাকার সমান। এই দুটি দল মিলে পিসিবির আয় প্রায় ১১৩ কোটি ৯৫ লাখ টাকা।

এই দুটি দলের বিক্রি পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের জন্য একটি বিশাল আর্থিক সাফল্য এবং এটি পিএসএল-এর ভবিষ্যতের উন্নতির জন্য এক নতুন দিগন্ত খুলে দিয়েছে। এটি পিসিবির পক্ষে একটি বড় দৃষ্টি নিবদ্ধ অর্থনৈতিক মাইলফলক, যা পাকিস্তান ক্রিকেটের উন্নতির দিকে একটি বড় পদক্ষেপ।

পিএসএল এবং আইপিএলের তুলনা

পাকিস্তান সুপার লিগের প্রসারের সাথে সাথে এর আর্থিক দিকেও একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন ঘটেছে। বিশেষত, পিএসএলের নতুন ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলোর মূল্য আইপিএলের দুই তারকা ক্রিকেটারের, শ্রেয়স আয়ার এবং ঋষভ পন্থের মিলিত বেতনের কাছাকাছি। পঞ্জাব কিংস থেকে শ্রেয়স আয়ার বছরে ২৬ কোটি ৭৫ লাখ টাকা পান এবং লখনউ সুপার জায়ান্টস পন্থকে বছরে ২৭ কোটি টাকা দেয়। এই দুই ক্রিকেটারের সম্মিলিত বার্ষিক আয় ৫৩ কোটি ৭৫ লাখ টাকা। তবে, পিএসএলের নতুন হায়দরাবাদ ফ্র্যাঞ্চাইজির দাম ৫৫ কোটি ৫৭ লাখ টাকা, যা দুই ক্রিকেটারের বেতনের চেয়ে প্রায় ১ কোটি ৮২ লাখ টাকা বেশি।

এই তুলনা প্রমাণ করে যে, পিএসএল এখন আইপিএলের সাথে তুলনাযোগ্য অর্থনৈতিক এবং বাণিজ্যিক দিক দিয়ে। যদিও এটি শুরুর দিকে আইপিএলের তুলনায় কিছুটা পিছিয়ে ছিল, তবে বর্তমানে পিএসএল তার নিজস্ব জায়গা তৈরি করেছে এবং ক্রমেই আইপিএলের সমকক্ষ হয়ে উঠছে।

পিএসএলের ভবিষ্যত

পিএসএলের ভবিষ্যত উজ্জ্বল। নতুন দলগুলোর সংযোজন, আর্থিক উন্নতি, এবং আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের প্রতি আগ্রহের সঙ্গে পিএসএল আরও শক্তিশালী হয়ে উঠবে। পাকিস্তানের বর্তমান ক্রিকেট পরিস্থিতি এবং পিসিবির নেতৃত্বের পরিকল্পনার কারণে, পিএসএল আগামী বছরগুলোতে আরও বড় ধরনের সাফল্য পেতে পারে।

বিশ্বব্যাপী ক্রিকেট ফ্যানদের জন্য পিএসএল একটি দারুণ ক্রিকেট উৎসব হয়ে দাঁড়াবে, যা শুধুমাত্র পাকিস্তানে নয়, বরং পৃথিবীজুড়ে ক্রিকেটপ্রেমীদের মনে জায়গা করে নেবে। তারই সাথে, পাকিস্তান ক্রিকেট দলের উন্নতি এবং আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় তাদের অবস্থানও শক্তিশালী হবে।

উপসংহার

পাকিস্তান সুপার লিগের সম্প্রসারণ এবং নতুন দুটি দলের সংযোজন পিএসএলের ভবিষ্যতকে আরও উজ্জ্বল করে তুলেছে। পিসিবির নিলাম আয়োজনের মাধ্যমে বড় পরিমাণ অর্থ আয় হয়েছে এবং এটি পাকিস্তান ক্রিকেটের জন্য এক নতুন যুগের সূচনা করেছে। আইপিএলের সাথে তুলনা করা হলে, পিএসএল এখন নিজস্ব অবস্থান তৈরি করে নিয়েছে এবং এটি ভবিষ্যতে আরও শক্তিশালী হতে চলেছে। তবে, পিএসএলের উন্নতির জন্য পিসিবি এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে আরও উদার এবং কার্যকরী পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে, যাতে এই টুর্নামেন্ট বিশ্বক্রিকেটে আরও বেশি প্রভাব ফেলতে পারে।

news image
আরও খবর

পিএসএলের দল সংখ্যা বৃদ্ধি এবং নতুন ফ্র্যাঞ্চাইজির আবির্ভাব

পিএসএলের নতুন দুটি দল হল শিয়ালকোট এবং হায়দরাবাদ (পাকিস্তান)। এর মাধ্যমে, পিএসএলের খেলাধুলার পরিসর আরও বড় হয়ে ওঠে এবং এর মাধ্যমে নতুন সুযোগ সৃষ্টি হয়। নতুন দলগুলো অনেক বড় দামে বিক্রি হয়েছে, যা পাকিস্তান ক্রিকেটের জন্য এক নতুন ইতিহাস রচনা করেছে। হায়দরাবাদ ফ্র্যাঞ্চাইজির দাম ৬২ লাখ ডলার (প্রায় ৫৫ কোটি ৫৭ লাখ টাকা), এবং শিয়ালকোট ফ্র্যাঞ্চাইজির দাম ছিল ৬৫ লাখ ৫০ হাজার ডলার (প্রায় ৫৮ কোটি ৩৮ লাখ টাকা)। দুটি দলের মালিকানা বিক্রি করে পিসিবি মোট ১১৩ কোটি ৯৫ লাখ টাকা আয় করেছে।

এই নিলাম পাকিস্তান ক্রিকেটের জন্য এক ধরনের মাইলফলক হয়ে দাঁড়িয়েছে, কারণ পিএসএলের দল সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ার ফলে পাকিস্তান ক্রিকেটের বাজার আরও বিস্তৃত হতে পারে, যার দ্বারা দেশের অর্থনীতির সাথে ক্রিকেটের সম্পর্ক আরও গভীর হবে।

আইপিএলের বেতনের সঙ্গে তুলনা

এখন, পিএসএলের নতুন দলগুলোর মালিকানা বিক্রির যে দাম উঠেছে, তা আইপিএলে ভারতের দুই গুরুত্বপূর্ণ ক্রিকেটার, শ্রেয়স আয়ার এবং ঋষভ পন্থের মিলিত বার্ষিক বেতনের সমান। শ্রেয়স আয়ার পঞ্জাব কিংস থেকে বছরে ২৬ কোটি ৭৫ লাখ টাকা পান, এবং ঋষভ পন্থ লখনউ সুপার জায়ান্টস থেকে বছরে ২৭ কোটি টাকা পান। এই দুই ক্রিকেটারের সম্মিলিত বার্ষিক আয় ৫৩ কোটি ৭৫ লাখ টাকা, যা পিএসএলের নতুন হায়দরাবাদ ফ্র্যাঞ্চাইজির দাম (৫৫ কোটি ৫৭ লাখ টাকা) থেকে প্রায় ১ কোটি ৮২ লাখ টাকা বেশি। শিয়ালকোট ফ্র্যাঞ্চাইজির দামও এই দুই ক্রিকেটারের বেতনের চেয়ে ৪ কোটি ৬৩ লাখ টাকা বেশি। এই তুলনা প্রমাণ করে যে, পিএসএলের নতুন দলগুলোর দাম আইপিএলের বড় নামী ক্রিকেটারদের বেতনের সমান বা তার চেয়ে বেশি।

মুলতান সুলতানের প্রাক্তন কর্ণধার আলি খান তারিনের সিদ্ধান্ত

পিএসএল-এর নিলাম শুরু হওয়ার আগে একটি নাটকীয় পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল। মুলতান সুলতানের প্রাক্তন কর্ণধার আলি খান তারিন নিলামে অংশগ্রহণের সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন, কিন্তু নিলাম শুরুর এক ঘণ্টা আগে তিনি ঘোষণা করেন যে তিনি নিলামে অংশ নেবেন না। তারিন জানান, তিনি এবং তার পরিবার অনেক ভাবনার পর এই সিদ্ধান্তে পৌঁছেছেন, এবং তারা পিএসএল ফ্র্যাঞ্চাইজির নিলামে অংশগ্রহণ করবেন না। তারিন লিখেছিলেন, “আমরা মুলতান সুলতানের সঙ্গে যুক্ত ছিলাম। এটা শুধু একটি ক্রিকেট দল ছিল না, বরং দক্ষিণ পঞ্জাবের আবেগও জড়িত ছিল। আমরা দীর্ঘ দিন ধরে উপেক্ষিত একটি অঞ্চলের জন্য কাজ করতে চেয়েছিলাম।“

তারিন আরও লিখেছিলেন, “আমি আগামী পিএসএলে গ্যালারিতে থাকব এবং ক্রিকেটারদের উৎসাহ দেব। ক্রিকেটপ্রেমীদের সঙ্গে আনন্দ করব। যখন মুলতান সুলতানের দল বিক্রি হবে, তখন আমরা আবার মাঠে নামব।“

পিসিবি কর্তাদের সঙ্গে সম্পর্ক

আলি খান তারিন পিসিবি কর্তাদের সঙ্গে দ্বন্দ্বের কারণে পিএসএল থেকে সরে যান। রামিজ রাজার নেতৃত্বাধীন পিসিবির সঙ্গে তার সম্পর্ক ভালো ছিল না। তারিনের এ সিদ্ধান্ত ছিল তার দীর্ঘদিনের ক্ষোভের ফলস্বরূপ। মনে করা হয়েছিল, পিসিবিতে পালাবদলের পর তিনি পিএসএলের একটি ফ্র্যাঞ্চাইজির জন্য সর্বশক্তি দিয়ে ঝাঁপাবেন, কিন্তু শেষ পর্যন্ত তার এই সিদ্ধান্ত পিসিবির জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

পিএসএলের ভবিষ্যত

পিএসএলের ভবিষ্যত অত্যন্ত উজ্জ্বল মনে হচ্ছে, বিশেষ করে যখন দলের সংখ্যা বাড়ছে এবং আন্তর্জাতিক স্তরের বড় ব্যবসায়িক গোষ্ঠী এতে অংশ নিচ্ছে। নতুন দলগুলোর বিক্রির মাধ্যমে পিসিবি যে আয় করেছে, তা ক্রিকেটের অর্থনৈতিক দিকটি আরও মজবুত করবে এবং নতুন ব্যবসায়িক সুযোগ তৈরি করবে। এছাড়া, পিএসএল আরও আন্তর্জাতিক ক্রিকেটারকে আকর্ষণ করবে, যা টুর্নামেন্টের মান আরও উন্নত করবে।

পাকিস্তানের ক্রিকেট সমর্থকরা আশা করছেন যে, পিএসএল এর ভবিষ্যত আরও উন্নত হবে এবং দেশের ক্রিকেট খেলোয়াড়দের জন্য নতুন সুযোগ সৃষ্টি করবে। এতে করে পাকিস্তানের ক্রিকেট সংস্কৃতি আরও শক্তিশালী হবে এবং আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে তার অবস্থান আরও সুদৃঢ় হবে।

উপসংহার

পাকিস্তান সুপার লিগের সম্প্রসারণ এবং নতুন ফ্র্যাঞ্চাইজির বিক্রি একটি বড় সংকেত দিচ্ছে, যে পাকিস্তান ক্রিকেট এক নতুন দিগন্তে প্রবেশ করছে। আইপিএলের সঙ্গে তুলনা করলে, পিএসএলের মূল্যমান এবং এর ভবিষ্যত উজ্জ্বল হতে চলেছে। তবে, পিসিবির সঙ্গে তারিনের দ্বন্দ্ব এবং মুলতান সুলতানের বিক্রির প্রেক্ষাপটে, এটি ক্রিকেট বিশ্বে অনেক বিতর্কের সৃষ্টি করতে পারে। তবুও, পিএসএল একটি গুরুত্বপূর্ণ জায়গা দখল করবে এবং পাকিস্তান ক্রিকেটের উন্নতি ত্বরান্বিত করবে।

এটি পাকিস্তান ক্রিকেটের জন্য এক গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হতে চলেছে, যেখানে দলের সংখ্যা বাড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে আরও বেশি অর্থনৈতিক সুযোগ তৈরি হবে এবং খেলোয়াড়দের জন্য আরও বড় মঞ্চ তৈরি হবে।

Preview image