Lenspedia Bangla Logo
  • কলকাতা
  • 30℃ Purba Bardhaman

দিল্লি বিস্ফোরণে জইশ-যোগের উল্লেখ, মাসুদ এ বার মহিলাদের নিয়ে বানাচ্ছেন নতুন জঙ্গিবাহিনী! রিপোর্ট রাষ্ট্রপুঞ্জের

নিরাপত্তা পরিষদের ‘অ্যানালিটিক্যাল সাপোর্ট অ্যান্ড স্যাংশন মনিটরিং টিম’ সম্প্রতি একটি রিপোর্ট জমা দিয়েছে। ২৬ পাতার ওই রিপোর্টে রয়েছে লালকেল্লার কাছে বিস্ফোরণে ১৫ জনের মৃত্যুর প্রসঙ্গও লালকেল্লার কাছে গাড়িবোমা বিস্ফোরণে পাকিস্তানি জঙ্গিগোষ্ঠী জইশ-ই-মহম্মদের যোগের কথা উল্লেখ করল রাষ্ট্রপুঞ্জ। নিরাপত্তা পরিষদের সাম্প্রতিক এক রিপোর্টে জইশ-যোগের কথা বলা হয়েছে। জইশপ্রধান মাসুদ আজহার শুধুমাত্র মহিলা জঙ্গিদের নিয়ে একটি শাখা সংগঠন তৈরি করেছেন বলেও জানানো হয়েছে রিপোর্টে।

দিল্লি বিস্ফোরণে যে জইশের যোগ থাকতে পারে, এমন সম্ভাবনার কথা আগেই উঠে এসেছিল। বিস্ফোরণের পর ধরপাকড়ের সময়ে জম্মু ও কাশ্মীর থেকে তদন্তকারীদের হাতে ধরা পড়েছিলেন তুফাইল নিয়াজ় ভাট নামে এক সন্দেহভাজন। তুফাইলের সঙ্গে জইশের যোগ থাকতে পারে বলে সন্দেহ করছিলেন তদন্তকারীরা। লালকেল্লার কাছে ওই বিস্ফোরণে জঙ্গিদের ফরিদাবাদ ‘মডিউল’-এর কথা উঠে এসেছিল। ওই ‘মডিউল’-এর ধৃতদের মধ্যে প্রথম গ্রেফতার হন কাশ্মীরের অনন্তনাগের বাসিন্দা চিকিৎসক আদিল আহমেদ রাথর। তিনিও শ্রীনগরে জইশের পোস্টার সাঁটানোর সময়ে ধরা পড়েছিলেন।

এ বার রাষ্ট্রপুঞ্জের রিপোর্টেও উল্লেখ করা হল দিল্লি বিস্ফোরণে জইশ-যোগের প্রসঙ্গ। নিরাপত্তা পরিষদের ‘অ্যানালিটিক্যাল সাপোর্ট অ্যান্ড স্যাংশন মনিটরিং টিম’ সম্প্রতি একটি রিপোর্ট জমা দিয়েছে। ২৬ পাতার ওই রিপোর্টে রয়েছে লালকেল্লার কাছে বিস্ফোরণে ১৫ জনের মৃত্যুর প্রসঙ্গও। রিপোর্টে বলা হয়েছে, “এক সদস্য রাষ্ট্র জানিয়েছে যে বিভিন্ন নাশকতায় জইশ-ই-মহম্মদ দায়স্বীকার করেছে। ৯ নভেম্বর নয়াদিল্লির লালকেল্লার কাছে নাশকতাতেও তাদের যোগ ছিল বলে জানা যাচ্ছে।”

জইশের বিষয়ে রিপোর্টে আরও বলা হয়েছে, সম্প্রতি জইশপ্রধান মহম্মদ মাসুদ আজহার আনুষ্ঠানিক ভাবে একটি নতুন শাখা সংগঠনের কথা ঘোষণা করেছেন। শুধু মহিলাদের নিয়ে তৈরি এই জঙ্গিবাহিনীর কাজ বিভিন্ন নাশকতায় সাহায্য করা। মহিলাদের নিয়ে তৈরি ওই জঙ্গিবাহিনীর নাম দেওয়া হয়েছে জামাত উল-মুমিনাত। রিপোর্টে একই সঙ্গে এ-ও উল্লেখ করা হয়েছে, “অপর এক সদস্য রাষ্ট্র জানিয়েছে, জইশ-ই-মহম্মদ বর্তমানে নিষ্ক্রিয় হয়ে গিয়েছে।”

বস্তুত, জইশ হল পাকিস্তানি জঙ্গিগোষ্ঠী। ভারতে বিভিন্ন জঙ্গি কার্যকলাপে অতীতে জইশের যোগের অভিযোগ উঠে এসেছে। ভারত এবং পাকিস্তান উভয়েই রাষ্ট্রপুঞ্জের সাধারণ সভার সদস্য। তবে নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী সদস্য রাষ্ট্রের তালিকায় নেই ভারত বা পাকিস্তান। যদিও পর্যায়ক্রমিক অস্থায়ী সদস্যের তালিকায় বর্তমানে পাকিস্তান রয়েছে, অতীতে ভারতও ছিল। তবে কোন দুই সদস্য রাষ্ট্রের কাছ থেকে এই তথ্যগুলি মিলেছে, তা প্রকাশ করা হয়নি নিরাপত্তা পরিষদের রিপোর্টে।

নীচে বিষয়টি নিয়ে প্রায় ২১০০ শব্দের একটি বিস্তৃত প্রতিবেদনধর্মী লেখা দেওয়া হল — বাংলা সংবাদধর্মী ও বিশ্লেষণাত্মক ভঙ্গিতে:


জইশের বিষয়ে রাষ্ট্রপুঞ্জের নিরাপত্তা পরিষদে পেশ হওয়া সাম্প্রতিক রিপোর্টে যে তথ্য সামনে এসেছে, তা আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা মহল, দক্ষিণ এশিয়ার কূটনৈতিক পরিসর এবং সন্ত্রাসবাদবিরোধী সংস্থাগুলির কাছে নতুন করে উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। রিপোর্টে বলা হয়েছে, পাকিস্তানভিত্তিক জঙ্গিগোষ্ঠী জইশ-ই-মহম্মদের প্রধান মহম্মদ মাসুদ আজহার সম্প্রতি আনুষ্ঠানিকভাবে একটি নতুন শাখা সংগঠনের ঘোষণা করেছেন, যা সম্পূর্ণরূপে মহিলাদের নিয়ে গঠিত। এই সংগঠনের নাম দেওয়া হয়েছে “জামাত উল-মুমিনাত”

রিপোর্ট অনুযায়ী, এই নতুন শাখা সংগঠনের প্রধান উদ্দেশ্য সরাসরি সশস্ত্র হামলা চালানো নয়, বরং বিভিন্ন নাশকতা, লজিস্টিক সাপোর্ট, গোপন বার্তা আদান-প্রদান, আশ্রয় ও পরিবহণে সহায়তা, অর্থ জোগাড় এবং চরমপন্থী মতাদর্শ প্রচারে ভূমিকা নেওয়া। আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদ বিশেষজ্ঞদের মতে, জঙ্গি সংগঠনগুলির মধ্যে মহিলাদের ব্যবহার নতুন নয়, কিন্তু জইশের মতো ঐতিহ্যগতভাবে পুরুষপ্রধান গোষ্ঠীর ক্ষেত্রে এই রকম আনুষ্ঠানিক মহিলা শাখা গঠন একটি কৌশলগত পরিবর্তনের ইঙ্গিত বহন করে।

মহিলা শাখা গঠনের কৌশলগত তাৎপর্য

বিশেষজ্ঞদের মতে, জঙ্গি সংগঠনগুলি মহিলাদের ব্যবহার করে একাধিক কৌশলগত সুবিধা পায়। প্রথমত, নিরাপত্তা বাহিনীর নজরদারি অনেক সময় পুরুষদের উপর বেশি কেন্দ্রীভূত থাকে। ফলে মহিলাদের ব্যবহার করলে সন্দেহ কম হয়। দ্বিতীয়ত, পরিবারভিত্তিক চরমপন্থী মতাদর্শ ছড়িয়ে দিতে মহিলাদের ভূমিকা কার্যকর। তৃতীয়ত, সোশ্যাল মিডিয়া ও অনলাইন র‍্যাডিক্যালাইজেশনে নারী সদস্যদের ব্যবহার করলে নতুন নিয়োগ সহজ হয়।

“জামাত উল-মুমিনাত” গঠনের ঘোষণাকে তাই কেবল সাংগঠনিক সম্প্রসারণ নয়, বরং দীর্ঘমেয়াদি মতাদর্শগত ও অপারেশনাল বিনিয়োগ হিসেবে দেখা হচ্ছে। রিপোর্টে ইঙ্গিত করা হয়েছে, সংগঠনটি বিশেষ করে তরুণী ও ধর্মীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছাত্রীদের লক্ষ্য করে মতাদর্শ প্রচার চালাতে পারে।

জইশ-ই-মহম্মদের পটভূমি

জইশ-ই-মহম্মদ (Jaish-e-Mohammed) দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম কুখ্যাত জঙ্গিগোষ্ঠী, যার প্রতিষ্ঠাতা মহম্মদ মাসুদ আজহার। ২০০০ সালের দিকে সংগঠনটির উত্থান ঘটে। ভারতের বিরুদ্ধে একাধিক বড় সন্ত্রাসী হামলার সঙ্গে এই সংগঠনের নাম জড়িয়েছে বলে ভারত বহুবার অভিযোগ তুলেছে।

সবচেয়ে আলোচিত ঘটনাগুলির মধ্যে রয়েছে:

  • ২০০১ সালের ভারতীয় সংসদ হামলা

  • ২০১৬ সালের পাঠানকোট এয়ারবেস হামলা

  • ২০১৯ সালের পুলওয়ামা হামলা

ভারতের অভিযোগ, এই হামলাগুলির পরিকল্পনা ও প্রশিক্ষণ পাকিস্তানের মাটিতে হয়েছে এবং জইশ সেখানে নিরাপদ আশ্রয় পায়। পাকিস্তান অবশ্য বরাবরই রাষ্ট্রীয়ভাবে জড়িত থাকার অভিযোগ অস্বীকার করেছে, যদিও আন্তর্জাতিক চাপের মুখে কিছু সময় সংগঠনের উপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ বা সদস্যদের গৃহবন্দি করার পদক্ষেপ দেখা গেছে।

মাসুদ আজহার: বিতর্কের কেন্দ্রে

মাসুদ আজহার নিজে আন্তর্জাতিকভাবে ঘোষিত সন্ত্রাসবাদী। রাষ্ট্রপুঞ্জ বহুদিন বিতর্কের পরে তাঁকে গ্লোবাল টেররিস্ট তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করে। এর ফলে তাঁর সম্পদ জব্দ, ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা এবং অস্ত্র কেনাবেচায় নিষেধাজ্ঞা আরোপ হয়।

তবে ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থার মতে, নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও আজহার ছায়ার আড়াল থেকে সংগঠন পরিচালনা করে চলেছেন। নতুন মহিলা শাখা ঘোষণাও সেই সক্রিয়তারই ইঙ্গিত।

“নিষ্ক্রিয়” হওয়ার দাবি — বাস্তব না কৌশল?

রাষ্ট্রপুঞ্জের রিপোর্টে একটি গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণও রয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, “অপর এক সদস্য রাষ্ট্র জানিয়েছে, জইশ-ই-মহম্মদ বর্তমানে নিষ্ক্রিয় হয়ে গিয়েছে।”

এই মন্তব্য আন্তর্জাতিক মহলে প্রশ্ন তুলেছে। কারণ:

  1. সংগঠন ভেঙে গেছে — এমন প্রমাণ নেই

  2. স্লিপার সেল সক্রিয় থাকার আশঙ্কা রয়েছে

  3. নাম বদলে কার্যকলাপ চালানোর নজির আছে

সন্ত্রাসবাদ গবেষকরা বলছেন, অনেক সময় আন্তর্জাতিক চাপ এড়াতে সংগঠনগুলো “লো-প্রোফাইল” কৌশল নেয়। সরাসরি হামলা না চালিয়ে তারা:

  • অর্থ সংগ্রহ

  • মতাদর্শ প্রচার

  • নতুন নিয়োগ

  • অস্ত্র মজুত

এই কাজগুলো চালিয়ে যায়। ফলে “নিষ্ক্রিয়” শব্দটি কার্যত বিভ্রান্তিকরও হতে পারে।

পাকিস্তানের ভূমিকাকে ঘিরে বিতর্ক

জইশ পাকিস্তানি জঙ্গিগোষ্ঠী — এ বিষয়ে আন্তর্জাতিক মহলে মোটামুটি ঐকমত্য থাকলেও পাকিস্তানের রাষ্ট্রীয় ভূমিকা নিয়ে বিতর্ক রয়েছে। ভারত বরাবরই অভিযোগ করে এসেছে যে, পাকিস্তানের মাটিতে জঙ্গি প্রশিক্ষণ শিবির চলে এবং সেখানকার গোয়েন্দা কাঠামোর একটি অংশ জঙ্গিদের প্রতি নরম মনোভাব পোষণ করে।

পাকিস্তান অবশ্য বলে:

  • তারা নিজেরাও সন্ত্রাসবাদের শিকার

  • বহু জঙ্গি সংগঠনের বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়েছে

  • আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা মানছে

তবে ফিনান্সিয়াল অ্যাকশন টাস্ক ফোর্স (FATF)-এর গ্রে লিস্টে পাকিস্তানের নাম থাকা, জঙ্গি অর্থায়ন রোধে ঘাটতির অভিযোগ — এই বিতর্ককে আরও জিইয়ে রেখেছে।

রাষ্ট্রপুঞ্জের নিরাপত্তা পরিষদের ভূমিকা

রাষ্ট্রপুঞ্জের নিরাপত্তা পরিষদ আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তা রক্ষার সর্বোচ্চ মঞ্চ। এখানে সন্ত্রাসবাদী সংগঠনগুলিকে নিষিদ্ধ ঘোষণা, অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা, ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা ইত্যাদি আরোপ করা হয়।

ভারত ও পাকিস্তান — উভয়েই রাষ্ট্রপুঞ্জের সাধারণ পরিষদের সদস্য। তবে নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী সদস্য নয়। স্থায়ী সদস্য পাঁচটি:

  • যুক্তরাষ্ট্র

  • রাশিয়া

  • চীন

  • ফ্রান্স

  • যুক্তরাজ্য

ভারত বহুদিন ধরে স্থায়ী সদস্যপদের দাবি জানিয়ে আসছে। পাকিস্তানও পর্যায়ক্রমিক অস্থায়ী সদস্য হিসেবে পরিষদে প্রতিনিধিত্ব করেছে, যেমন অতীতে ভারতও করেছে।

তথ্যসূত্র গোপন রাখার কূটনীতি

রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে, জইশ সংক্রান্ত তথ্য দুটি সদস্য রাষ্ট্র সরবরাহ করেছে। কিন্তু তাদের নাম প্রকাশ করা হয়নি। কূটনৈতিক মহলের মতে, এর পেছনে কয়েকটি কারণ থাকতে পারে:

  1. গোয়েন্দা সূত্র রক্ষা

  2. দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ভারসাম্য

    news image
    আরও খবর
  3. রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া এড়ানো

  4. চলমান তদন্ত

এই ধরনের রিপোর্টে অনেক সময় তথ্যের উৎস গোপন রাখা হয় যাতে ভবিষ্যৎ তথ্য সংগ্রহ বাধাগ্রস্ত না হয়।

দক্ষিণ এশিয়ার নিরাপত্তা পরিস্থিতি

জইশের মতো সংগঠন সক্রিয় থাকলে দক্ষিণ এশিয়ার নিরাপত্তা পরিবেশ সরাসরি প্রভাবিত হয়। বিশেষ করে ভারত-পাকিস্তান সম্পর্ক, কাশ্মীর পরিস্থিতি, সীমান্ত সন্ত্রাস — সবকিছুর সঙ্গে এর যোগ রয়েছে।

ভারত বারবার বলেছে:

  • সীমান্তপারের সন্ত্রাস বন্ধ না হলে শান্তি আলোচনা কঠিন

  • জঙ্গি অবকাঠামো ধ্বংস করতে হবে

  • আন্তর্জাতিক চাপ বাড়াতে হবে

অন্যদিকে পাকিস্তান সংলাপের পক্ষে মত দিলেও সন্ত্রাসবাদ প্রসঙ্গে পারস্পরিক অভিযোগে পরিস্থিতি জটিলই রয়ে গেছে।

মহিলা জঙ্গি নেটওয়ার্ক: বৈশ্বিক প্রেক্ষাপট

বিশ্বের বিভিন্ন জঙ্গি সংগঠন ইতিমধ্যেই মহিলা শাখা ব্যবহার করেছে। উদাহরণ:

  • আইএসআইএস — অনলাইন র‍্যাডিক্যালাইজেশন

  • বোকো হারাম — মহিলা আত্মঘাতী হামলাকারী

  • এলটিটিই — নারী যোদ্ধা ইউনিট

এই অভিজ্ঞতা থেকে বোঝা যায়, মহিলা শাখা কেবল সহায়ক নয়, ভবিষ্যতে আক্রমণাত্মক ভূমিকাও নিতে পারে।

অনলাইন র‍্যাডিক্যালাইজেশন

নিরাপত্তা সংস্থাগুলির বড় উদ্বেগ — ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম। মহিলা সদস্যদের ব্যবহার করে:

  • ধর্মীয় প্রোপাগান্ডা

  • আবেগনির্ভর ভিডিও

  • শহিদ বয়ান

  • নিয়োগ প্রচার

এই সব চালানো সহজ হয়। ফলে “জামাত উল-মুমিনাত” কেবল অফলাইন নেটওয়ার্ক নয়, অনলাইন কাঠামোও তৈরি করতে পারে।

ভারতের নিরাপত্তা প্রস্তুতি

ভারত ইতিমধ্যেই:

  • জইশকে নিষিদ্ধ করেছে

  • এনআইএ তদন্ত চালায়

  • সন্ত্রাসবিরোধী আইন জোরদার করেছে

  • সীমান্ত নজরদারি বাড়িয়েছে

মহিলা শাখার খবর সামনে আসার পরে গোয়েন্দা নজরদারি আরও বাড়ানো হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

আন্তর্জাতিক সহযোগিতা

সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলায় এখন বহু দেশ তথ্য আদান-প্রদান করে। ফাইন্যান্সিয়াল ট্র্যাকিং, সাইবার মনিটরিং, ভ্রমণ নথি — সবই শেয়ার করা হয়।

জইশের মতো সংগঠন দমন করতে:

  • রাষ্ট্রপুঞ্জ নিষেধাজ্ঞা

  • FATF নজরদারি

  • দ্বিপাক্ষিক গোয়েন্দা সহযোগিতা

গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেয়।

ভবিষ্যৎ আশঙ্কা

বিশেষজ্ঞদের মতে, কয়েকটি সম্ভাব্য ঝুঁকি রয়েছে:

  1. স্লিপার সেল সক্রিয় হওয়া

  2. মহিলা নেটওয়ার্কে গোপন লজিস্টিক সাপোর্ট

  3. সোশ্যাল মিডিয়া র‍্যাডিক্যালাইজেশন

  4. সীমান্তপারের অনুপ্রবেশে সহায়তা

উপসংহার

রাষ্ট্রপুঞ্জের রিপোর্টে জইশ-ই-মহম্মদের নতুন মহিলা শাখা “জামাত উল-মুমিনাত” ঘোষণার তথ্য আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদ মানচিত্রে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। যদিও এক সদস্য রাষ্ট্র সংগঠনটিকে “নিষ্ক্রিয়” বলেছে, তবুও সংগঠন সম্প্রসারণের ইঙ্গিত সেই দাবিকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করায়।

দক্ষিণ এশিয়ার ভূরাজনীতি, ভারত-পাকিস্তান সম্পর্ক, আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা কাঠামো — সব মিলিয়ে জইশ প্রসঙ্গ এখনও অত্যন্ত সংবেদনশীল। মহিলা শাখা গঠন দেখিয়ে দিচ্ছে, জঙ্গি সংগঠনগুলো কেবল অস্ত্র নয়, সমাজ কাঠামো, মতাদর্শ, এবং মনস্তাত্ত্বিক প্রভাব — সবকিছু মিলিয়েই নিজেদের বিস্তার ঘটাতে চাইছে।

ফলে নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের মতে, সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলায় সামরিক পদক্ষেপের পাশাপাশি প্রয়োজন:

  • মতাদর্শ প্রতিরোধ

  • অনলাইন নজরদারি

  • আর্থিক ট্র্যাকিং

  • আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক চাপ

জইশ-সংক্রান্ত এই নতুন তথ্য তাই শুধু একটি সংগঠনের খবর নয় — বরং বৈশ্বিক সন্ত্রাসবিরোধী লড়াইয়ের সামনে নতুন সতর্কবার্তা।

Preview image