বিশ্ব পরিবেশ দিবসে পরিবেশ রক্ষার নানা বার্তা শোনা গেলেও বাস্তবে সচেতনতার অভাব স্পষ্ট নদিয়ার রানাঘাটে চূর্ণী নদীর ধারে যত্রতত্র প্লাস্টিক ও আবর্জনা ফেলার ফলে দূষণ বাড়ছে আশঙ্কাজনকভাবে পরিবেশবিদদের সতর্কবার্তা উপেক্ষা করেই চলছে এই অবস্থা।
আজ বিশ্ব পরিবেশ দিবস। প্রতি বছর ৫ জুন গোটা বিশ্বজুড়ে পরিবেশ রক্ষা, প্রকৃতি সংরক্ষণ এবং দূষণ প্রতিরোধ নিয়ে নানা কর্মসূচি, আলোচনা ও সচেতনতার বার্তা দেওয়া হয়। স্কুল, কলেজ, সরকারি দপ্তর, সামাজিক সংগঠন থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষ পর্যন্ত পরিবেশ রক্ষার শপথ নেন। কিন্তু প্রশ্ন একটাই— আমরা কজন সত্যিই সেই বার্তা মেনে চলি? কজন প্রতিদিনের জীবনে পরিবেশ রক্ষার দায়িত্ব পালন করি?
ভারতবর্ষ প্রকৃতির এক অপূর্ব উপহার। পাহাড়, নদী, জঙ্গল, সমুদ্র, কৃষিজমি— প্রকৃতির এমন বৈচিত্র্য পৃথিবীর খুব কম দেশেই দেখা যায়। আমাদের এই দেশ প্রাকৃতিক সম্পদে ভরপুর। কিন্তু দুঃখের বিষয়, আমরা নিজেরাই সেই প্রকৃতি ও পরিবেশকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিচ্ছি। প্রতিদিন একটু একটু করে পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে। আর তার অন্যতম বড় কারণ প্লাস্টিক দূষণ।
বর্তমান সময়ে প্লাস্টিক যেন মানুষের দৈনন্দিন জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে উঠেছে। বাজার করা থেকে খাবার বহন, পানীয় জল, ঘরোয়া ব্যবহার— সর্বত্র প্লাস্টিকের ব্যবহার বেড়েই চলেছে। সরকার একাধিকবার প্লাস্টিক ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। পরিবেশবিদরা সচেতনতার বার্তা দিয়েছেন। বিভিন্ন প্রশাসনিক উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। কিন্তু বাস্তবে তার খুব একটা প্রভাব দেখা যাচ্ছে না। বরং দিন দিন প্লাস্টিক ব্যবহার আরও বাড়ছে।
বিশেষ করে একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিক বা সিঙ্গেল ইউজ প্লাস্টিক পরিবেশের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর হয়ে উঠেছে। এই প্লাস্টিক সহজে মাটির সঙ্গে মিশে যায় না। বছরের পর বছর পড়ে থেকে মাটি, জল এবং বাতাসকে দূষিত করে। নদী-নালা ভরাট হয়ে যায়। জলজ প্রাণীর জীবন বিপন্ন হয়। এমনকি এই প্লাস্টিকের ক্ষুদ্র কণা মানুষের খাদ্যচক্রেও প্রবেশ করছে, যা ভবিষ্যতের জন্য অত্যন্ত উদ্বেগজনক।
নদিয়ার রানাঘাট এলাকায় চূর্ণী নদীর অবস্থা বর্তমানে অত্যন্ত চিন্তার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। অভিযোগ, দিনের পর দিন নদীর ধারকে আবর্জনা ফেলার জায়গা হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। দোকান, বাড়ি এবং বিভিন্ন স্থান থেকে প্লাস্টিক, পচনশীল ও অপচনশীল বর্জ্য ফেলে দেওয়া হচ্ছে সরাসরি নদীর ধারে। অনেক ক্ষেত্রে সেই আবর্জনা বৃষ্টির জলে বা বাতাসে নদীর জলে গিয়ে মিশছে।
স্থানীয় পরিবেশপ্রেমী ও সচেতন নাগরিকরা একাধিকবার সাধারণ মানুষকে সতর্ক করেছেন। পরিবেশবিদরা জানিয়েছেন, এভাবে চলতে থাকলে আগামী দিনে চূর্ণী নদীর জল আরও দূষিত হবে। নদীর জীববৈচিত্র্য ধ্বংস হবে। পাশাপাশি নদীর আশপাশের পরিবেশও মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। কিন্তু এত সতর্কতা, নিষেধাজ্ঞা ও প্রচারের পরেও বহু মানুষ এখনও সচেতন নন।
বিশ্ব পরিবেশ দিবসের মূল উদ্দেশ্য শুধুমাত্র একটি দিনের অনুষ্ঠান নয়। প্রকৃত উদ্দেশ্য হল মানুষকে সচেতন করা এবং পরিবেশ রক্ষার বাস্তব পদক্ষেপ নেওয়া। কিন্তু সচেতনতার অভাব এবং দায়িত্বজ্ঞানহীন আচরণের ফলে পরিবেশ দূষণ ক্রমশ বাড়ছে।
পরিবেশ বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধুমাত্র সরকার বা প্রশাসনের উপর দায় চাপিয়ে দিলে হবে না। সাধারণ মানুষকে নিজেদের দায়িত্ব বুঝতে হবে। বাড়ির আবর্জনা নির্দিষ্ট স্থানে ফেলতে হবে। প্লাস্টিকের ব্যবহার কমাতে হবে। কাপড়ের ব্যাগ বা পরিবেশবান্ধব বিকল্প ব্যবহার করতে হবে। নদী, খাল, পুকুর কিংবা রাস্তার ধারে ময়লা ফেলা সম্পূর্ণ বন্ধ করতে হবে।
চূর্ণী নদী শুধুমাত্র একটি নদী নয়, এটি রানাঘাট ও আশপাশ এলাকার মানুষের জীবনের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে। এই নদীর জল কৃষিকাজ, পরিবেশ এবং জীববৈচিত্র্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অথচ অবহেলা ও দূষণের কারণে নদীর অস্তিত্বই আজ সংকটের মুখে।
বিশ্ব পরিবেশ দিবসে বিভিন্ন জায়গায় গাছ লাগানোর কর্মসূচি, পরিচ্ছন্নতা অভিযান এবং সচেতনতা প্রচার চালানো হচ্ছে। কিন্তু বাস্তব পরিবর্তন আনতে গেলে মানুষের মানসিকতার পরিবর্তন সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন। আইন করে বা জরিমানা দিয়ে কিছুটা নিয়ন্ত্রণ আনা সম্ভব হলেও দীর্ঘমেয়াদী সমাধানের জন্য সামাজিক সচেতনতা অত্যন্ত জরুরি।
বর্তমান প্রজন্ম যদি এখনই সচেতন না হয়, তাহলে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে আরও ভয়াবহ পরিবেশ সংকটের মুখোমুখি হতে হবে। জল দূষণ, বায়ু দূষণ, অতিরিক্ত গরম, প্রাকৃতিক দুর্যোগ— সবকিছুর পেছনেই মানুষের অবহেলা অনেকাংশে দায়ী।
আজ ৫ জুন, বিশ্ব পরিবেশ দিবস। গোটা বিশ্বজুড়ে আজকের দিনটি পালন করা হচ্ছে পরিবেশ রক্ষা, দূষণ নিয়ন্ত্রণ এবং প্রকৃতিকে বাঁচিয়ে রাখার বার্তা নিয়ে। বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, স্কুল-কলেজ, সামাজিক সংগঠন থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষ পর্যন্ত পরিবেশ রক্ষার নানা শপথ গ্রহণ করছেন। কোথাও বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি, কোথাও সচেতনতা মিছিল, আবার কোথাও পরিবেশ বিষয়ক আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়েছে। কিন্তু এতসব প্রচার ও বার্তার মধ্যেও একটি বড় প্রশ্ন থেকেই যায়— আমরা কজন সত্যিই পরিবেশ রক্ষার দায়িত্ব পালন করছি?
ভারতবর্ষ প্রকৃতির এক অসাধারণ উপহার। পাহাড়, নদী, বনভূমি, সমুদ্র, কৃষিজমি— সব মিলিয়ে আমাদের দেশ প্রাকৃতিক সম্পদে সমৃদ্ধ। বিশ্বের বহু দেশের তুলনায় ভারতবর্ষের প্রকৃতিগত বৈচিত্র্য অনেক বেশি। এই প্রকৃতিই আমাদের জীবন, জীবিকা ও পরিবেশের মূল ভিত্তি। কিন্তু দুঃখের বিষয়, আধুনিকতার দৌড়ে মানুষ নিজের স্বার্থে সেই প্রকৃতিকেই ধ্বংসের পথে ঠেলে দিচ্ছে।
বর্তমানে পরিবেশ দূষণের অন্যতম বড় কারণ প্লাস্টিক। বাজারের ব্যাগ থেকে খাবারের প্যাকেট, পানীয় জলের বোতল থেকে শুরু করে নিত্যপ্রয়োজনীয় প্রায় সব ক্ষেত্রেই প্লাস্টিকের ব্যবহার বেড়েই চলেছে। একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিক বা সিঙ্গেল ইউজ প্লাস্টিক পরিবেশের জন্য সবচেয়ে বেশি ক্ষতিকর। কারণ এই প্লাস্টিক সহজে মাটির সঙ্গে মিশে যায় না। বছরের পর বছর পড়ে থেকে মাটি, জল ও বায়ুকে দূষিত করে।
সরকার বারবার প্লাস্টিক ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে অভিযান চালানো হয়েছে। পরিবেশবিদরা মানুষকে সচেতন করার চেষ্টা করেছেন। কিন্তু বাস্তবে পরিস্থিতির খুব একটা পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে না। বরং দিন দিন প্লাস্টিক ব্যবহার আরও বৃদ্ধি পাচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রেই মানুষ আইনকে উপেক্ষা করে নির্বিচারে প্লাস্টিক ব্যবহার করছেন এবং ব্যবহারের পর তা যত্রতত্র ফেলে দিচ্ছেন।
নদিয়ার রানাঘাটে চূর্ণী নদীর ধারে এমনই উদ্বেগজনক ছবি প্রতিদিন চোখে পড়ছে। অভিযোগ, দিনের পর দিন বাড়ি, দোকান ও বাজার এলাকার আবর্জনা নদীর ধারে ফেলে দেওয়া হচ্ছে। প্লাস্টিক, পচনশীল বর্জ্য, খাবারের প্যাকেট, বোতলসহ নানা ধরনের ময়লা নদীর আশপাশে জমে থাকছে। বৃষ্টির জল কিংবা বাতাসের মাধ্যমে সেই আবর্জনা সরাসরি নদীর জলে গিয়ে মিশছে।
স্থানীয় পরিবেশপ্রেমী ও সচেতন নাগরিকদের দাবি, বহুবার মানুষকে সতর্ক করা হলেও তাতে বিশেষ লাভ হচ্ছে না। পরিবেশ দিবসে বড় বড় বক্তব্য দেওয়া হলেও বাস্তবে অনেকেই সচেতন নন। সাধারণ মানুষের একাংশ এখনও বুঝতে চাইছেন না যে এই প্লাস্টিক ও আবর্জনা শুধুমাত্র নদীকেই নয়, গোটা পরিবেশ ব্যবস্থাকে ধ্বংস করছে।
চূর্ণী নদী শুধুমাত্র একটি নদী নয়, এটি এলাকার মানুষের আবেগ, সংস্কৃতি এবং জীবনের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে। কৃষিকাজ, জলজ প্রাণী, স্থানীয় পরিবেশ— সবকিছুর উপর এই নদীর প্রভাব রয়েছে। অথচ দূষণের কারণে ধীরে ধীরে নদীর স্বাভাবিক পরিবেশ নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। নদীর জল দূষিত হওয়ার ফলে জলজ প্রাণীর সংখ্যা কমছে, দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে এবং আশপাশের পরিবেশও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, প্লাস্টিক নদীর জলে মিশে মাইক্রোপ্লাস্টিকে পরিণত হয়, যা মাছসহ বিভিন্ন জলজ প্রাণীর শরীরে প্রবেশ করে। পরে সেই খাদ্য মানুষের শরীরেও পৌঁছে যায়। ফলে পরিবেশ দূষণের পাশাপাশি মানুষের স্বাস্থ্যের উপরও মারাত্মক প্রভাব পড়ছে। ভবিষ্যতে এই পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার নিতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করছেন পরিবেশবিদরা।
আজ বিশ্ব পরিবেশ দিবসে তাই শুধুমাত্র আনুষ্ঠানিকতা পালন করলেই হবে না। বাস্তবে পরিবেশ রক্ষায় পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি। প্রত্যেক মানুষকে নিজের বাড়ি, পাড়া এবং আশপাশ পরিষ্কার রাখার দায়িত্ব নিতে হবে। বাড়ির আবর্জনা নির্দিষ্ট স্থানে ফেলতে হবে। নদী, খাল, পুকুর কিংবা রাস্তার ধারে ময়লা ফেলা সম্পূর্ণ বন্ধ করতে হবে।
প্লাস্টিকের পরিবর্তে কাপড়ের ব্যাগ, কাগজের প্যাকেট বা পরিবেশবান্ধব বিকল্প ব্যবহার বাড়ানো প্রয়োজন। ছোট ছোট সচেতন পদক্ষেপই ভবিষ্যতে বড় পরিবর্তন আনতে পারে। শুধুমাত্র সরকারের উপর দায় চাপিয়ে দিলে চলবে না। সাধারণ মানুষকে এগিয়ে আসতে হবে। কারণ পরিবেশ রক্ষার দায়িত্ব সবার।
বিশ্ব উষ্ণায়ন, অতিরিক্ত গরম, অনিয়মিত বৃষ্টি, নদী দূষণ, বায়ু দূষণ— সবকিছুর পিছনেই মানুষের অসচেতনতা এবং পরিবেশের প্রতি অবহেলা অনেকাংশে দায়ী। আজ যদি মানুষ সচেতন না হয়, তাহলে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে আরও ভয়াবহ পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হবে।
চূর্ণী নদীকে বাঁচাতে প্রশাসনের কঠোর নজরদারির পাশাপাশি সাধারণ মানুষের সক্রিয় সহযোগিতা অত্যন্ত জরুরি। নদীর ধারে নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযান, প্লাস্টিক ব্যবহারে কড়া নজরদারি এবং সচেতনতা কর্মসূচি চালানো প্রয়োজন বলে মনে করছেন পরিবেশকর্মীরা।
আজ বিশ্ব পরিবেশ দিবসে তাই শুধু বার্তা নয়, প্রয়োজন বাস্তব উদ্যোগের। প্রত্যেক মানুষ যদি নিজের দায়িত্ব বুঝে পরিবেশ রক্ষায় এগিয়ে আসে, তাহলে দূষণের বিরুদ্ধে লড়াই অনেকটাই সহজ হবে। পরিবেশকে বাঁচানো মানে ভবিষ্যৎকে সুরক্ষিত রাখা।
না হলে আগামী দিনে এই সুন্দর প্রাকৃতিক সম্পদ ধীরে ধীরে হারিয়ে যাবে দূষণের অন্ধকারে। নদী শুকিয়ে যাবে, জীববৈচিত্র্য ধ্বংস হবে এবং মানুষের জীবন আরও বিপদের মুখে পড়বে। তাই এখনই সময় সচেতন হওয়ার।
বিশ্ব পরিবেশ দিবসে এটাই হোক সকলের অঙ্গীকার—
“প্লাস্টিক বর্জন করুন, নদী বাঁচান, পরিবেশ রক্ষা করুন, ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত করুন।”