১৮ই মে ২০২৬ নারায়ণগঞ্জ শহরের যানজট নিরসন এবং সাধারণ মানুষের হাঁটার পথ সুনিশ্চিত করতে আজ এক বিশাল উচ্ছেদ অভিযান চালিয়েছে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন। ম্যাজিস্ট্রেট এবং পুলিশের উপস্থিতিতে বুলডোজার নামতেই নিজেদের মালপত্র নিয়ে দিগ্বিদিক ছুটতে শুরু করেন হকাররা। দীর্ঘদিনের বেদখল হওয়া ফুটপাত আজ সাধারণ জনগণের জন্য অবমুক্ত হওয়ায় শহরবাসীর মনে এক বিশাল স্বস্তির জন্ম দিয়েছে এবং শহরের সৌন্দর্য নতুন করে ফুটে উঠেছে।
নারায়ণগঞ্জ ১৮ই মে ২০২৬
বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান বাণিজ্যিক এবং শিল্পনগরী হিসেবে পরিচিত নারায়ণগঞ্জ শহরের বুকে আজ এক অত্যন্ত নাটকীয় ঐতিহাসিক এবং যুগান্তকারী প্রশাসনিক পদক্ষেপের সাক্ষী থাকল সমগ্র দেশ প্রাচ্যের ডান্ডি হিসেবে খ্যাত এই নারায়ণগঞ্জ শহর দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে তার নিজস্ব সৌন্দর্য এবং শৃঙ্খলা হারিয়ে ফেলেছিল যানজট এবং ফুটপাত দখলের চরম অভিশাপের কারণে কিন্তু আজ আঠারোই মে বিশ ছাব্বিশ শহরের প্রাণকেন্দ্র এবং সবচেয়ে ব্যস্ততম রাস্তাগুলোতে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন বা এনসিসি এর উদ্যোগে পরিচালিত হলো এক বিশাল এবং অভাবনীয় উচ্ছেদ অভিযান জনগণের জন্য ফুটপাত অবমুক্ত করতে প্রশাসন আজ যে কঠোর এবং আপোষহীন রূপ ধারণ করেছে তা দেখে শহরের সাধারণ মানুষ রীতিমতো অবাক এবং আনন্দিত এই বিশাল অভিযানের সময় শহরের রাস্তাগুলোতে যে দৃশ্য দেখা গেল তা একাধারে যেমন চরম বিশৃঙ্খলার তেমনি অন্যদিকে এক নতুন শৃঙ্খলার সূচনালগ্ন প্রশাসনের গাড়ি এবং বুলডোজার দেখেই শত শত হকার নিজেদের মালপত্র গুছিয়ে দিগ্বিদিক ছুটতে শুরু করেন সবাই দৌড়াচ্ছে কারণ নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন আজ কোনো রকম বাধা বা রাজনৈতিক প্রভাবের তোয়াক্কা না করে শহরের রাজপথ এবং ফুটপাত সাধারণ মানুষের জন্য উন্মুক্ত করার এক ঐতিহাসিক মিশনে নেমেছে
নারায়ণগঞ্জ শহরের চাষাঢ়া মোড় বঙ্গবন্ধু রোড ডিআইটি কমার্শিয়াল এরিয়া এবং মন্ডলপাড়া সংলগ্ন এলাকাগুলো হলো এই শহরের প্রধান ধমনী প্রতিদিন লক্ষ লক্ষ মানুষ নিজেদের রুটিরুজির তাগিদে স্কুল কলেজ এবং অফিসে যাওয়ার জন্য এই রাস্তাগুলো ব্যবহার করেন কিন্তু গত কয়েক বছর ধরে এই সম্পূর্ণ এলাকা এক অলিখিত হকার্স মার্কেটে পরিণত হয়েছিল রাস্তার দুপাশের চওড়া ফুটপাতগুলো তো বটেই এমনকি মূল রাস্তার একটি বড় অংশও দখল করে নিয়েছিল অসংখ্য অস্থায়ী দোকান জামাকাপড় জুতো ফাস্ট ফুড প্রসাধনী সামগ্রী এবং কাঁচাবাজারের পসরা সাজিয়ে এই হকাররা এমন এক ভয়ানক পরিস্থিতি তৈরি করেছিলেন যে সাধারণ মানুষের পায়ে হাঁটার জন্য এক ইঞ্চি জায়গাও অবশিষ্ট ছিল না এর ফলে বাধ্য হয়ে পথচারীদের বিশেষ করে স্কুলগামী শিশু বৃদ্ধ এবং মহিলাদের অত্যন্ত ঝুঁকি নিয়ে মূল রাস্তার ওপর দিয়ে হাঁটতে হতো নারায়ণগঞ্জের রাস্তায় চলাচলকারী ভারী ট্রাক বাস এবং রিকশার ভিড়ের মধ্যে দিয়ে হেঁটে যাওয়া ছিল একপ্রকার মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ার সমান প্রতিদিন ছোট বড় দুর্ঘটনা ঘটত এবং শহরের ট্রাফিক ব্যবস্থা আক্ষরিক অর্থেই পঙ্গু হয়ে গিয়েছিল সামান্য একটু রাস্তা পার হতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা সময় লেগে যেত যা সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনকে চরম নরক যন্ত্রণায় পরিণত করেছিল
শহরবাসীর এই দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত ক্ষোভ এবং দুর্দশার কথা মাথায় রেখে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের মেয়র এবং প্রশাসনের উচ্চপদস্থ আধিকারিকরা এই ফুটপাত দখলমুক্ত করার এক চূড়ান্ত এবং কঠোর সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন প্রশাসন বুঝতে পারে যে শহরকে যদি বাঁচাতে হয় এবং সাধারণ মানুষের হাঁটার অধিকার বা রাইট টু ওয়াক সুনিশ্চিত করতে হয় তবে এই বেআইনি দখলদারদের উচ্ছেদ করা ছাড়া আর কোনো বিকল্প পথ খোলা নেই একটি আধুনিক এবং বাসযোগ্য শহর গড়ে তোলার প্রথম শর্তই হলো উন্মুক্ত এবং পরিষ্কার ফুটপাত গত কয়েক সপ্তাহ ধরে সিটি কর্পোরেশনের তরফ থেকে শহরের প্রতিটি হকার অধ্যুষিত এলাকায় ক্রমাগত মাইকিং করে প্রচার চালানো হয় হকারদের অত্যন্ত স্পষ্টভাবে নির্দেশ দেওয়া হয় যে তারা যেন স্বেচ্ছায় নিজেদের অস্থায়ী দোকান এবং মালপত্র সরিয়ে নিয়ে ফুটপাত খালি করে দেন তাদের জানানো হয় যে এটি শহরের সাধারণ মানুষের স্বার্থে নেওয়া একটি অত্যন্ত জরুরি পদক্ষেপ কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত অনেক হকার এই সতর্কতাকে খুব একটা গুরুত্ব দেননি তারা ভেবেছিলেন অতীতেও এমন অনেক ঘোষণা হয়েছে যা বাস্তবে রূপ পায়নি এবং স্থানীয় কিছু প্রভাবশালী মহলের ছত্রছায়ায় তারা নিজেদের ব্যবসা চালিয়ে যেতে পারবেন
কিন্তু আজ সোমবার সকাল থেকেই নারায়ণগঞ্জ শহরের দৃশ্যপট সম্পূর্ণ বদলে যায় সিটি কর্পোরেশনের এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট বিপুল সংখ্যক পুলিশ র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন বা র্যাব এবং আনসার বাহিনীর সদস্যদের নিয়ে এক বিশাল কনভয় শহরের প্রাণকেন্দ্র চাষাঢ়ায় এসে উপস্থিত হয় সাথে ছিল সিটি কর্পোরেশনের বিশাল বুলডোজার এবং পেলোডার এই বিশাল পুলিশি প্রস্তুতি এবং বুলডোজারের গর্জন শুনে মুহূর্তের মধ্যে শহরের পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে প্রশাসনের এই রণংদেহী মূর্তি দেখে হকারদের মধ্যে এক চরম আতঙ্ক এবং হুড়োহুড়ি পড়ে যায় যারা একটু আগে অত্যন্ত নিশ্চিন্তে নিজেদের পসরা সাজিয়ে বসেছিলেন তারা বুঝতে পারেন যে আজ প্রশাসন সত্যি সত্যিই ফুটপাত অবমুক্ত করার মিশনে নেমেছে এবং আজ কাউকে রেয়াত করা হবে না শুরু হয় এক অভাবনীয় এবং বিশৃঙ্খল দৃশ্য সবাই দৌড়াচ্ছে নিজেদের মালপত্র যতটুকু সম্ভব ব্যাগে বা বস্তায় ভরে নিয়ে যে যেদিকে পারছে ছুটছে ভ্যান চালকরা নিজেদের ভ্যান নিয়ে অলিগলিতে ঢুকে পড়ার আপ্রাণ চেষ্টা করছেন অনেক হকার তাড়াহুড়ো করে নিজেদের জিনিসপত্র গোছাতে গিয়ে রাস্তায় ফেলে দিচ্ছেন এবং সেই জিনিসপত্রের ওপর দিয়েই পুলিশ এবং সাধারণ মানুষ ছুটে যাচ্ছে
চাষাঢ়া গোলচত্বর থেকে শুরু করে দুই নম্বর রেলগেট এবং বঙ্গবন্ধু রোড বরাবর এই উচ্ছেদ অভিযান অত্যন্ত দ্রুতগতিতে এগোতে থাকে যে সমস্ত অস্থায়ী দোকান এবং কাঠামো হকাররা সরিয়ে নিতে পারেননি সিটি কর্পোরেশনের বুলডোজার সেগুলো অত্যন্ত নির্দয়ভাবে ভেঙে গুঁড়িয়ে দিতে শুরু করে বাঁশ কাঠ ত্রিপল এবং টিনের চালাগুলো চোখের পলকে ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয় সিটি কর্পোরেশনের কয়েকশো পরিচ্ছন্নতা কর্মী এই ধ্বংসাবশেষ এবং বছরের পর বছর ধরে জমে থাকা জঞ্জাল বড় বড় ডাম্পার ট্রাকে তুলে শহরের বাইরে নির্দিষ্ট ডাম্পিং গ্রাউন্ডে পাঠিয়ে দেওয়ার ব্যবস্থা করেন এই উচ্ছেদ অভিযানের তীব্রতা এবং গতিশীলতা এতটাই বেশি ছিল যে দুপুর গড়িয়ে বিকেল হওয়ার আগেই বঙ্গবন্ধু রোডের মতো শহরের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এবং ব্যস্ত রাস্তাটি সম্পূর্ণভাবে জবরদখল মুক্ত হয়ে যায় দীর্ঘ বছর পর নারায়ণগঞ্জ শহরের মানুষ দেখতে পান যে তাদের হাটার ফুটপাতগুলো আসলে কতটা চওড়া সুন্দর এবং প্রশস্ত রাস্তার দুপাশের নিকাশি নালাগুলো যেগুলো এতদিন জঞ্জালে ঢেকে ছিল সেগুলো পরিষ্কার করা হয় যার ফলে আসন্ন বর্ষায় শহরের জল জমার সমস্যারও একটি বড় সমাধান হওয়ার পথ প্রশস্ত হয়
তবে এই উন্নয়নের এবং যানজট মুক্তির খবরের পাশাপাশি রয়েছে এক চরম হতাশা এবং বুকফাটা কান্নার গল্প উচ্ছেদ হওয়া হকারদের জীবনে আজ নেমে এসেছে এক ভয়ানক অন্ধকার চোখের সামনে নিজেদের তিল তিল করে গড়ে তোলা উপার্জনের জায়গা ভেঙে যেতে দেখে অনেক হকার রাস্তায় লুটিয়ে পড়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন তাদের এই বুকফাটা কান্না এবং হাহাকার উপস্থিত অনেক মানুষের চোখেও জল এনে দেয় এক প্রবীণ হকার যিনি গত বিশ বছর ধরে বঙ্গবন্ধু রোডে একটি ছোট চায়ের দোকান চালাতেন তিনি হাউহাউ করে কাঁদতে কাঁদতে বলেন এই দোকানটাই ছিল আমার বেঁচে থাকার একমাত্র অবলম্বন আমার বাড়িতে অসুস্থ স্ত্রী এবং বেকার ছেলে আছে আজ থেকে আমাদের সবাইকে অনাহারে দিন কাটাতে হবে সরকার আমাদের ভিখারি বানিয়ে রাস্তায় বসিয়ে দিল অনেক মহিলা হকার যারা অত্যন্ত কষ্টের মধ্যে সবজি এবং ফল বিক্রি করে নিজেদের সংসার চালাতেন তারা পুলিশের পায়ে ধরে অনুরোধ করতে থাকেন যাতে তাদের অন্তত মালপত্রগুলো সরিয়ে নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয় কিন্তু প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয় যে তাদের অনেক আগেই সতর্ক করা হয়েছিল এবং এখন আর কোনো সুযোগ দেওয়া সম্ভব নয়
হকারদের এই আকস্মিক উচ্ছেদ বাংলাদেশের অসংগঠিত অর্থনীতির এক অত্যন্ত রূঢ় বাস্তবকে আমাদের চোখের সামনে তুলে ধরেছে আমাদের সমাজে হাজার হাজার মানুষ আছেন যারা প্রথাগত শিক্ষা বা চাকরি পাননি তারা কোনো রকমে সামান্য কিছু পুঁজি নিয়ে এই ফুটপাতে হকারি করেই নিজেদের জীবন ধারণ করেন এই ছোট ছোট দোকানগুলো কেবল তাদের রোজগারের পথ নয় এগুলো শহরের অর্থনীতির এক বিশাল বড় চালিকাশক্তি এই হকাররা অত্যন্ত সস্তায় সাধারণ মানুষকে রোজকার প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র জামাকাপড় এবং খাবার সরবরাহ করেন যা অনেক গরিব এবং মধ্যবিত্ত মানুষের জন্য অত্যন্ত সুবিধাজনক তাই এই হকারদের অর্থনীতিকে সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস করে দিলে তার এক বিশাল নেতিবাচক প্রভাব পড়বে সমাজের সর্বস্তরে অনেক হকার যারা মহাজনের কাছ থেকে চড়া সুদে ঋণ নিয়ে ব্যবসায় টাকা খাটিয়েছিলেন তারা আজ সর্বস্বান্ত হয়ে চরম আতঙ্কের মধ্যে পড়েছেন তাদের ভবিষ্যৎ এখন সম্পূর্ণ অনিশ্চিত তারা বুঝতে পারছেন না যে আগামী কাল থেকে তারা কীভাবে নিজেদের পরিবারের মুখে অন্ন তুলে দেবেন এই মানুষগুলোর করুণ পরিণতি দেখে শহরের অনেক সাধারণ নাগরিকও অত্যন্ত আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েছেন এবং তারা প্রশাসনের কাছে আবেদন জানাচ্ছেন যাতে এই গরিব মানুষগুলোর জন্য অবিলম্বে কোনো বিকল্প বাসস্থানের বা নির্দিষ্ট হকার্স মার্কেটের ব্যবস্থা করা হয়
হকারদের এই চরম দুর্দশার বিপরীতে সাধারণ পথচারী নিত্যযাত্রী এবং নারায়ণগঞ্জ শহরের স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে দেখা যাচ্ছে এক বিশাল স্বস্তি এবং বাঁধভাঙা আনন্দের পরিবেশ যারা প্রতিদিন এই যানজট এবং ভিড়ের মধ্যে দিয়ে অত্যন্ত কষ্টে যাতায়াত করতেন তারা আজ এক উন্মুক্ত এবং পরিষ্কার ফুটপাত দেখে রীতিমতো মুগ্ধ হয়ে গেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা যারা নিজেদের বাড়ির সামনে বেআইনি দোকানের কারণে চরম অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে বাস করতে বাধ্য হচ্ছিলেন তারা নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের এই কড়া পদক্ষেপকে অত্যন্ত সাধুবাদ জানাচ্ছেন তারা বলছেন যে দীর্ঘদিন পর তারা নিজেদের শহরে মাথা উঁচু করে হাঁটতে পারছেন এবং মুক্ত বাতাসে শ্বাস নিতে পারছেন অফিস যাত্রীরা যারা প্রতিদিন এই যানজটে আটকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা সময় নষ্ট করতেন তারা আজ অত্যন্ত দ্রুতগতিতে নিজেদের গন্তব্যে পৌঁছাতে পেরে অত্যন্ত খুশি একজন স্কুল ছাত্রীর অভিভাবক অত্যন্ত উচ্ছ্বসিত হয়ে বলেন আমি প্রতিদিন মেয়েকে নিয়ে এই রাস্তা দিয়ে স্কুলে যাই এবং যানজটের কারণে প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনার ভয়ে থাকতাম কিন্তু আজ ফুটপাত এত পরিষ্কার যে আমরা অত্যন্ত শান্তিতে হেঁটে স্কুলে যেতে পেরেছি সিটি কর্পোরেশনের এই সাহসী উদ্যোগ আমাদের সবার জীবনে এক বিশাল ইতিবাচক পরিবর্তন নিয়ে এসেছে আমরা চাই প্রশাসন যেন এই ফুটপাতগুলো সব সময়ের জন্য জবরদখল মুক্ত রাখে এবং কোনোভাবেই যেন হকাররা পুনরায় এখানে বসতে না পারে
উচ্ছেদ অভিযানের পর নারায়ণগঞ্জ শহরের ট্রাফিক ব্যবস্থায় এক জাদুকরী পরিবর্তন লক্ষ্য করা গেছে যে রাস্তাগুলোতে আগে একটি গাড়ি পেরোতে আধ ঘণ্টা সময় লাগত আজ সেই রাস্তা দিয়ে অনায়াসে বাস এবং প্রাইভেট কার দ্রুতগতিতে বেরিয়ে যাচ্ছে ট্রাফিক পুলিশ কর্মীরা যারা আগে এই ভিড় সামলাতে গিয়ে রীতিমতো হিমশিম খেতেন এবং সারাদিন ধুলো ধোঁয়ার মধ্যে দাঁড়িয়ে হাঁপিয়ে উঠতেন তারা আজ অত্যন্ত শান্তিতে এবং সুশৃঙ্খলভাবে ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ করছেন অ্যাম্বুলেন্স এবং ফায়ার ব্রিগেডের গাড়িগুলো এখন কোনো রকম বাধা ছাড়াই দ্রুতগতিতে নিজেদের গন্তব্যে পৌঁছাতে পারছে যা শহরের জরুরি পরিষেবাকে অনেক বেশি উন্নত এবং কার্যকরী করে তুলেছে শহরের সৌন্দর্য বহুগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে এবং সিটি কর্পোরেশন ইতিমধ্যেই এই পরিষ্কার হওয়া ফুটপাতগুলোতে আধুনিক টাইলস বসানোর এবং রাস্তার দুধারে সৌন্দর্যায়নের জন্য গাছ লাগানোর পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে এই পরিকল্পনাগুলো বাস্তবায়িত হলে নারায়ণগঞ্জ শহরটি কেবল যানজট মুক্তই হবে না বরং এটি এক অত্যন্ত আধুনিক এবং পরিবেশবান্ধব শহরে পরিণত হবে যা নাগরিকদের জীবনযাত্রার মানকে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে
আধুনিক ডিজিটাল যুগে সোশ্যাল মিডিয়া এবং নেটওয়ার্কিং সাইটগুলোতে আজ সকাল থেকেই নারায়ণগঞ্জের এই উচ্ছেদ অভিযানের ছবি এবং ভিডিও ব্যাপক ভাইরাল হয়েছে লেন্সপাদিয়া এর মতো আধুনিক ডিজিটাল নিউজ প্ল্যাটফর্মগুলো সরাসরি ঘটনাস্থল থেকে লাইভ ব্রডকাস্ট করে সাধারণ মানুষের সামনে এই ঐতিহাসিক ঘটনার প্রতিটি মুহূর্ত তুলে ধরেছে সবাই দৌড়াচ্ছে এই শিরোনামে হকারদের মালপত্র নিয়ে পালানোর ভিডিওগুলো সোশ্যাল মিডিয়ায় লাখ লাখ বার দেখা হয়েছে তরুণ কন্টেন্ট ক্রিয়েটররা নিজেদের স্মার্টফোনে রাস্তা পরিষ্কার হওয়ার আগের এবং পরের ভিডিও শেয়ার করে প্রশাসনের এই উদ্যোগের প্রশংসা করছেন নেটিজেনদের মধ্যে এই ঘটনা নিয়ে এক বিশাল আলোচনা এবং বিতর্ক শুরু হয়েছে অনেকেই প্রশাসনের এই পদক্ষেপকে সমর্থন করে লিখছেন যে একটি উন্নত শহর গড়তে হলে এই ধরনের কড়া সিদ্ধান্ত নেওয়া অত্যন্ত জরুরি আবার অনেকেই হকারদের কান্নার ছবি শেয়ার করে প্রশাসনের অমানবিকতার তীব্র নিন্দা করছেন এবং অবিলম্বে হকারদের পুনর্বাসনের দাবি জানাচ্ছেন তরুণ প্রজন্ম যারা আধুনিক এবং পরিচ্ছন্ন পরিবেশে বাঁচতে অভ্যস্ত তারা শহরের এই পরিবর্তনের পক্ষে জোরালো সওয়াল করছেন কিন্তু সেই সাথে তারা সমাজের গরিব এবং পিছিয়ে পড়া মানুষগুলোর মানবাধিকার সুরক্ষার বিষয়টিও অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করার দাবি তুলছেন
এই যানজট নিরসন এবং উচ্ছেদ অভিযান কেবল একটি দিনের ঘটনা নয় এটি একটি দীর্ঘমেয়াদী নাগরিক চ্যালেঞ্জ আজ সিটি কর্পোরেশন এবং পুলিশ অত্যন্ত সফলভাবে ফুটপাত দখলমুক্ত করেছে কিন্তু এই সাফল্য ধরে রাখাটাই হলো সবচেয়ে বড় কাজ বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে অনেক সময় দেখা যায় যে উচ্ছেদ অভিযানের কয়েক দিন পর যখন পুলিশের নজরদারি শিথিল হয়ে পড়ে তখন হকাররা আবার স্থানীয় প্রভাবশালীদের মদতে ধীরে ধীরে নিজেদের পুরনো জায়গায় এসে বসতে শুরু করে প্রশাসনকে অত্যন্ত সতর্ক থাকতে হবে যাতে এই ঘটনার পুনরাবৃত্তি না হয় ফুটপাতগুলোকে এমনভাবে সাজিয়ে তুলতে হবে যাতে সেখানে পুনরায় কোনো দোকান তৈরি করা সম্ভব না হয় নিয়মিত পুলিশি টহল এবং সিসিটিভি ক্যামেরার নজরদারির মাধ্যমে এই জায়গাগুলোকে সুরক্ষিত রাখতে হবে সাধারণ নাগরিকদেরও উচিত এই পরিচ্ছন্নতা এবং শৃঙ্খলার প্রতি সম্মান জানানো এবং কোনো অবস্থাতেই রাস্তার ধারের বেআইনি দোকান থেকে কেনাকাটা করে তাদের উৎসাহিত না করা নাগরিক এবং প্রশাসনের যৌথ প্রচেষ্টায় একটি শহর যানজট মুক্ত এবং সুন্দর থাকতে পারে
উচ্ছেদ হওয়া হকারদের পুনর্বাসনের বিষয়টি এই পুরো প্রক্রিয়ার একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং মানবিক দিক একটি কল্যাণকামী রাষ্ট্রে প্রশাসনকে অত্যন্ত সংবেদনশীলতার সাথে এই সমস্যার সমাধান করতে হবে শহরের মধ্যে নির্দিষ্ট কিছু খালি জায়গা চিহ্নিত করে সেখানে বহুতল হকার্স মার্কেট বা আধুনিক ভেন্ডিং জোন অথবা হলিডে মার্কেট তৈরি করা যেতে পারে যেখানে এই হকাররা অত্যন্ত সম্মানজনকভাবে নিজেদের ব্যবসা পরিচালনা করতে পারবেন এর ফলে শহরের সৌন্দর্যও বজায় থাকবে এবং গরিব মানুষগুলোর রুটিরুজিও বেঁচে যাবে সিঙ্গাপুর বা হংকংয়ের মতো আধুনিক শহরগুলোতে এভাবেই হকারদের শৃঙ্খলার মধ্যে নিয়ে আসা হয়েছে আমাদের প্রশাসনকেও সেই আধুনিক এবং বিজ্ঞানসম্মত মডেল অনুসরণ করতে হবে হকাররা আমাদের সমাজের অবিচ্ছেদ্য অংশ তাদের বাদ দিয়ে শহরের অর্থনীতি কখনোই সম্পূর্ণ হতে পারে না তাই তাদের শত্রু না ভেবে শহরের উন্নয়নের একটি অংশ হিসেবে গ্রহণ করতে হবে
পরিশেষে এটা বলা অত্যন্ত জরুরি যে আঠারোই মে তারিখের আজকের এই উচ্ছেদ অভিযান নারায়ণগঞ্জ শহরের ইতিহাসে এক অত্যন্ত যুগান্তকারী এবং সাহসী পদক্ষেপ হিসেবে চিরকাল স্মরণীয় হয়ে থাকবে যানজট এবং জবরদখল মুক্ত করার এই বিশাল কর্মযজ্ঞ প্রমাণ করে যে প্রশাসনের সদিচ্ছা এবং সংকল্প থাকলে যেকোনো অসাধ্য সাধন করা সম্ভব যে রাস্তাগুলো একদিন জঞ্জাল ভিড় এবং যানজটের কারণে মানুষের বিরক্তির কারণ ছিল আজ সেই রাস্তাগুলো উন্মুক্ত এবং প্রশস্ত হয়ে সাধারণ মানুষের মনে এক বিশাল আনন্দের সঞ্চার করেছে পথচারীদের স্বাচ্ছন্দ্য এবং জরুরি পরিষেবার নিরাপত্তা আজ সম্পূর্ণভাবে সুনিশ্চিত আমরা লেন্সপাদিয়া পরিবারের পক্ষ থেকে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের এই ঐতিহাসিক উদ্যোগকে সাধুবাদ জানাই এবং আশা করি আগামী দিনেও শহরকে সুন্দর এবং যানজট মুক্ত রাখার এই প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে তবে সেই সাথে আমরা অত্যন্ত বিনীতভাবে প্রশাসনের কাছে আবেদন জানাচ্ছি যেন উচ্ছেদ হওয়া অসহায় হকারদের পুনর্বাসনের বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্ব এবং মানবিকতার সাথে বিবেচনা করা হয় উন্নয়ন এবং মানবিকতা যেন হাত ধরাধরি করে চলে তবেই আমরা এক প্রকৃত সুন্দর আধুনিক এবং কল্যাণকামী শহরের স্বপ্ন বাস্তবায়িত করতে পারব বিস্তারিত খবরের জন্য এবং এই উচ্ছেদ অভিযানের লেটেস্ট গ্রাউন্ড রিপোর্ট ও সবাই দৌড়াচ্ছে মুহূর্তের ভাইরাল ভিডিও দেখতে কমেন্ট বক্সে থাকা লিঙ্কে এখনই ক্লিক করুন এবং সর্বদা চোখ রাখুন আমাদের ডিজিটাল পর্দায়