বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনা একাধিক ক্ষেত্রে বাড়তি সুবিধা পেয়েছে—এমন অভিযোগ তুলেছেন বিশ্বের বহু ফুটবলপ্রেমী। বিতর্কে নতুন মাত্রা যোগ হয়েছে রোনাল্ডোর মন্তব্যে।
বিশ্বকাপ শেষ হয়ে গেলেও আর্জেন্টিনা, লিয়োনেল মেসি এবং ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডোকে ঘিরে বিতর্ক যেন থামতেই চাইছে না। মাঠের লড়াই শেষ হয়েছে, ট্রফির ভাগ্য নির্ধারিত হয়েছে, সেরা খেলোয়াড় এবং সেরা গোলদাতার পুরস্কারও দেওয়া হয়ে গিয়েছে। কিন্তু ফুটবলপ্রেমীদের আলোচনা এখনও আবর্তিত হচ্ছে পুরনো এক প্রশ্নকে ঘিরে—বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনা কি সত্যিই অন্য দলগুলির তুলনায় বাড়তি সুবিধা পেয়েছিল?
এত দিন এই অভিযোগ মূলত ফুটবল সমর্থক, বিশ্লেষক এবং সামাজিক মাধ্যম ব্যবহারকারীদের একাংশের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল। এবার সেই বিতর্কে পরোক্ষভাবে জড়িয়ে গেল ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডোর নাম। ইনস্টাগ্রামে আর্জেন্টিনার প্রতি রেফারি ও ফিফার কথিত পক্ষপাতিত্ব নিয়ে তৈরি একটি ভিডিওতে রোনাল্ডোর অ্যাকাউন্ট থেকে ‘লাইক’ দেখা যাওয়ায় নতুন করে উত্তাল ফুটবলবিশ্ব।
একটি মাত্র ‘লাইক’ কি সত্যিই কোনও ফুটবলারের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য হিসেবে বিবেচিত হতে পারে? রোনাল্ডো কি ইচ্ছাকৃতভাবেই আর্জেন্টিনার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগকে সমর্থন করেছেন? নাকি সামাজিক মাধ্যমে তাঁর একটি সাধারণ প্রতিক্রিয়াকে অতিরঞ্জিত করে তুলে ধরা হচ্ছে? এই প্রশ্নগুলির নিশ্চিত উত্তর এখনও পাওয়া যায়নি। তবে মেসি ও রোনাল্ডোর দীর্ঘদিনের প্রতিদ্বন্দ্বিতার আবহে ঘটনাটি নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।
বিশ্বকাপ ফাইনালে স্পেনের কাছে কার্যত একপেশে ভাবে হেরে যায় আর্জেন্টিনা। প্রতিযোগিতার আগের ম্যাচগুলিতে যে দলকে আত্মবিশ্বাসী, সংগঠিত এবং আক্রমণাত্মক দেখিয়েছিল, ফাইনালে সেই দলের খেলায় দেখা যায় ছন্দের অভাব। স্পেন বলের দখল, মাঝমাঠের নিয়ন্ত্রণ এবং আক্রমণ তৈরির ক্ষেত্রে আর্জেন্টিনার থেকে অনেকটাই এগিয়ে ছিল।
ফাইনালের ফল প্রকাশের পরেই সামাজিক মাধ্যমে প্রশ্ন উঠতে শুরু করে—আর্জেন্টিনা কি সত্যিই বিশ্বকাপের সেরা দুই দলের একটি ছিল? নাকি নির্দিষ্ট কিছু ম্যাচে বিতর্কিত রেফারিং সিদ্ধান্ত তাদের পথ সহজ করে দিয়েছিল?
আর্জেন্টিনার সমর্থকদের মতে, একটি ম্যাচে খারাপ খেলা মানেই গোটা প্রতিযোগিতায় দলের সাফল্যকে প্রশ্নের মুখে ফেলা যায় না। বিশ্বকাপের মতো দীর্ঘ প্রতিযোগিতায় প্রতিটি দলকেই কঠিন পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে হয়। আর্জেন্টিনা নিজেদের দক্ষতা, অভিজ্ঞতা এবং মানসিক শক্তির সাহায্যেই ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছিল।
অন্যদিকে সমালোচকদের বক্তব্য, ফাইনালে স্পেনের বিরুদ্ধে আর্জেন্টিনার দুর্বল পারফরম্যান্স প্রমাণ করে দিয়েছে যে আগের কয়েকটি ম্যাচে তারা নিজেদের যোগ্যতার চেয়ে বেশি সুবিধা পেয়েছিল। যদিও এই যুক্তি সম্পূর্ণভাবে মতামতনির্ভর এবং শুধু ফাইনালের ফল দিয়ে আগের ম্যাচগুলির বৈধতা নির্ধারণ করা সম্ভব নয়।
আর্জেন্টিনার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলির মধ্যে অন্যতম একটি ঘটনা হল গ্রুপ পর্বের ম্যাচে লিয়োনেল মেসিকে লাল কার্ড না দেখানো। সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন ভিডিও ও পোস্টে দাবি করা হচ্ছে, একটি নির্দিষ্ট ঘটনায় মেসির আচরণ সরাসরি লাল কার্ড পাওয়ার মতো ছিল।
সমালোচকদের অভিযোগ, একই অপরাধ অন্য কোনও ফুটবলার করলে রেফারি হয়তো আরও কঠোর সিদ্ধান্ত নিতেন। মেসির জনপ্রিয়তা, তাঁর কিংবদন্তি পরিচয় এবং বিশ্বকাপের বাণিজ্যিক গুরুত্বের কারণেই নাকি তাঁকে মাঠে রাখার চেষ্টা করা হয়েছিল।
তবে ফুটবল আইনের ব্যাখ্যা সব সময় সরল নয়। কোনও সংঘর্ষ, ট্যাকল বা আচরণ লাল কার্ডের যোগ্য কি না, তা নির্ভর করে ঘটনার তীব্রতা, উদ্দেশ্য, বলের অবস্থান এবং প্রতিপক্ষের নিরাপত্তা কতটা বিপন্ন হয়েছিল তার উপর। টেলিভিশনের ধীরগতির রিপ্লে দেখে যে ঘটনা ভয়াবহ মনে হয়, রেফারির দৃষ্টিকোণ থেকে সেটি ভিন্ন মনে হতে পারে।
আর্জেন্টিনা সমর্থকেরা বলছেন, মেসির বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের ভিডিওগুলি অনেক সময় অসম্পূর্ণভাবে দেখানো হচ্ছে। ঘটনার আগে ও পরের অংশ বাদ দিয়ে শুধুমাত্র বিতর্কিত মুহূর্তটি প্রচার করায় বিভ্রান্তি তৈরি হচ্ছে। তাঁদের দাবি, রেফারি এবং ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি সমস্ত দিক বিবেচনা করেই সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন।
এর পরেও প্রশ্ন থেকে যাচ্ছে। ফুটবলে রেফারির সিদ্ধান্ত নিয়ে মতভেদ নতুন নয়। কিন্তু যখন সেই সিদ্ধান্ত বিশ্বের সবচেয়ে জনপ্রিয় ফুটবলারদের একজনকে ঘিরে হয়, তখন বিতর্কের মাত্রা স্বাভাবিকভাবেই কয়েক গুণ বেড়ে যায়।
আর্জেন্টিনার বিরুদ্ধে মিশরের ম্যাচে একটি গোল বাতিল হওয়া নিয়েও সামাজিক মাধ্যমে বিস্তর আলোচনা হয়েছে। সমালোচকদের দাবি, গোলটি বৈধ ছিল এবং তা বহাল থাকলে ম্যাচের ফল অন্য রকম হতে পারত।
কেউ কেউ বলছেন, অফসাইড বা ফাউলের ব্যাখ্যায় রেফারি আর্জেন্টিনার পক্ষে সিদ্ধান্ত দিয়েছেন। আবার অনেক বিশ্লেষকের মতে, ভিডিও রিপ্লেতে নিয়মভঙ্গের যথেষ্ট ইঙ্গিত ছিল এবং গোল বাতিল করার সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণ অযৌক্তিক ছিল না।
ফুটবলে গোল বাতিল হওয়ার ঘটনা প্রায় প্রতিটি বড় প্রতিযোগিতাতেই দেখা যায়। বিশেষ করে ভিএআর প্রযুক্তি চালু হওয়ার পর অতি সামান্য অফসাইড, হ্যান্ডবল অথবা আক্রমণ তৈরির সময় হওয়া ফাউলের কারণে গোল বাতিল হচ্ছে। এর ফলে সিদ্ধান্তের নির্ভুলতা বাড়লেও আবেগ এবং বিতর্ক কোনওটাই কমেনি।
মিশরের গোল বাতিলের ঘটনাটিও সেই বৃহত্তর বিতর্কের অংশ হয়ে উঠেছে। আর্জেন্টিনা-বিরোধী সমর্থকেরা এটিকে কথিত পক্ষপাতিত্বের অন্যতম প্রমাণ হিসেবে তুলে ধরছেন। কিন্তু একটি সিদ্ধান্ত বিতর্কিত হওয়া এবং কোনও দলকে পরিকল্পিতভাবে সুবিধা দেওয়া—এই দুইয়ের মধ্যে বড় পার্থক্য রয়েছে।
পরিকল্পিত পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ প্রমাণ করতে হলে ধারাবাহিক, যাচাইযোগ্য এবং শক্তিশালী তথ্য প্রয়োজন। সামাজিক মাধ্যমের সম্পাদিত ভিডিও, নির্বাচিত ক্লিপ অথবা আবেগনির্ভর বিশ্লেষণ দিয়ে এমন গুরুতর অভিযোগ নিশ্চিত করা যায় না।
আর্জেন্টিনাকে ঘিরে যত অভিযোগ উঠছে, তার বড় অংশের লক্ষ্য আন্তর্জাতিক ফুটবল সংস্থা ফিফা। সমালোচকদের দাবি, বিশ্বকাপের দর্শকসংখ্যা, বাণিজ্যিক মূল্য এবং জনপ্রিয়তা বাড়াতে বড় তারকা ও জনপ্রিয় দলগুলিকে প্রতিযোগিতায় টিকিয়ে রাখার চেষ্টা করা হয়।
বিশেষ করে লিয়োনেল মেসির মতো বিশ্বব্যাপী জনপ্রিয় ফুটবলার বিশ্বকাপের শেষ পর্যায় পর্যন্ত থাকলে সম্প্রচারকারী, স্পনসর এবং আয়োজকদের বাণিজ্যিকভাবে লাভ হয়—এমন যুক্তি তুলে ধরছেন অনেকে। তাঁদের মতে, এই বাণিজ্যিক বাস্তবতা রেফারিং সিদ্ধান্তকে সরাসরি অথবা পরোক্ষভাবে প্রভাবিত করতে পারে।
তবে এই অভিযোগ অত্যন্ত গুরুতর। কোনও আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতার ফল পূর্বপরিকল্পিতভাবে প্রভাবিত করা হয়েছে—এমন দাবি প্রমাণের জন্য কেবল সন্দেহ যথেষ্ট নয়। রেফারিদের যোগাযোগ, সিদ্ধান্ত গ্রহণের নথি, ভিএআর অডিও, অভ্যন্তরীণ নির্দেশ অথবা নিরপেক্ষ তদন্তের মতো প্রামাণ্য উপাদান প্রয়োজন।
ফিফা সাধারণত রেফারিদের সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রকাশ্যে খুব বেশি আলোচনা করে না। বিশেষ কোনও ঘটনায় ভুল স্বীকার করা হলেও গোটা প্রতিযোগিতা বা নির্দিষ্ট কোনও দলকে সুবিধা দেওয়ার অভিযোগ তারা প্রত্যাখ্যান করে থাকে। ফুটবল পরিচালনাকারী সংস্থার মতে, প্রতিটি ম্যাচে প্রশিক্ষিত রেফারি এবং ভিএআর দল স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত নেয়।
তার পরেও স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যায়। রেফারি ও ভিএআরের কথোপকথন নিয়মিত প্রকাশ করা হলে অনেক বিতর্ক কমে যেতে পারে বলে মত ফুটবল বিশেষজ্ঞদের একাংশের। এতে সমর্থকেরা বুঝতে পারবেন ঠিক কোন নিয়ম, কোন ভিডিও এবং কোন যুক্তির ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল।
চলমান বিতর্কে সবচেয়ে বড় মোড় আসে একটি ইনস্টাগ্রাম ভিডিওকে কেন্দ্র করে। এক স্প্যানিশ সাংবাদিক আর্জেন্টিনার প্রতি ফিফা ও রেফারিদের কথিত পক্ষপাতিত্ব নিয়ে একটি ভিডিও প্রকাশ করেন। সেখানে বিশ্বকাপের বিভিন্ন ম্যাচের কয়েকটি বিতর্কিত মুহূর্ত তুলে ধরে দাবি করা হয়, আর্জেন্টিনা একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিজেদের পক্ষে পেয়েছে।
ভিডিওটি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। বহু ফুটবল সমর্থক পোস্টটিতে প্রতিক্রিয়া জানান। কিন্তু সব প্রতিক্রিয়ার মধ্য থেকে সবচেয়ে বেশি নজর কাড়ে ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডোর নামের পাশে দেখা যাওয়া একটি ‘লাইক’।
রোনাল্ডো কোনও মন্তব্য করেননি। তিনি ভিডিওটি শেয়ারও করেননি। কোনও সাক্ষাৎকারে আর্জেন্টিনা বা মেসির বিরুদ্ধে সরাসরি অভিযোগও তোলেননি। তা সত্ত্বেও অনেকের মতে, পোস্টে তাঁর ‘লাইক’ দেওয়ার অর্থ তিনি ভিডিওটির মূল বক্তব্যের সঙ্গে একমত।
অন্যদিকে রোনাল্ডোর সমর্থকেরা বলছেন, সামাজিক মাধ্যমে একটি লাইককে আনুষ্ঠানিক রাজনৈতিক বা ক্রীড়াবিষয়ক অবস্থান হিসেবে ব্যাখ্যা করা ঠিক নয়। অনেক সময় ব্যবহারকারীরা পুরো ভিডিও না দেখেই লাইক দেন। কখনও কোনও পরিচিত ব্যক্তি বা পেজকে সমর্থন করার জন্যও পোস্টে প্রতিক্রিয়া জানানো হয়। এমনকি ভুল করেও লাইক পড়ে যেতে পারে।
রোনাল্ডো নিজে যতক্ষণ না বিষয়টি নিয়ে প্রকাশ্যে বক্তব্য দিচ্ছেন, ততক্ষণ তাঁর প্রকৃত অবস্থান সম্পর্কে নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব নয়। তবে তাঁর মতো একজন বিশ্বখ্যাত ফুটবলারের সামাজিক মাধ্যমের প্রতিটি আচরণ যে গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করা হবে, তা অস্বাভাবিক নয়।
বর্তমান ডিজিটাল যুগে সামাজিক মাধ্যমের ‘লাইক’, ‘শেয়ার’ এবং ‘কমেন্ট’কে প্রায়শই ব্যক্তির মতামতের প্রতিফলন হিসেবে দেখা হয়। বিশেষ করে কোনও জনপ্রিয় ব্যক্তি যদি বিতর্কিত একটি পোস্টে প্রতিক্রিয়া জানান, সেটি মুহূর্তের মধ্যে সংবাদ হয়ে ওঠে।
কিন্তু একটি লাইককে কতটা গুরুত্ব দেওয়া উচিত?
আইনগত বা আনুষ্ঠানিক দৃষ্টিকোণ থেকে একটি লাইক সাধারণত স্পষ্ট বিবৃতি নয়। সেখানে ব্যবহারকারী নিজের ভাষায় কিছু বলেন না। পোস্টের কোন অংশকে তিনি সমর্থন করেছেন, সেটিও পরিষ্কার হয় না। একটি দীর্ঘ ভিডিওতে বহু বক্তব্য থাকলে তিনি সব বক্তব্যের সঙ্গে একমত কি না, তা অনুমান করা কঠিন।
তবুও জনমতের ক্ষেত্রে বিষয়টি আলাদা। রোনাল্ডোর মতো ব্যক্তিত্বের একটি ছোট প্রতিক্রিয়াও কোটি কোটি মানুষের কাছে বিশেষ বার্তা হয়ে পৌঁছে যায়। তাঁর এবং মেসির দীর্ঘ প্রতিদ্বন্দ্বিতার কারণে আর্জেন্টিনাবিরোধী ভিডিওতে দেওয়া লাইককে সাধারণ প্রতিক্রিয়া হিসেবে দেখতে রাজি নন অনেকেই।
ফলে ঘটনাটি এমন এক জায়গায় দাঁড়িয়েছে, যেখানে তথ্যের তুলনায় ব্যাখ্যা এবং ধারণাই বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
প্রায় দুই দশক ধরে বিশ্ব ফুটবলের সবচেয়ে আলোচিত বিতর্ক—কে শ্রেষ্ঠ, লিয়োনেল মেসি না ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডো?
একজন তাঁর অসাধারণ ড্রিবলিং, সৃজনশীলতা, পাসিং এবং স্বাভাবিক প্রতিভার জন্য প্রশংসিত। অন্যজন শারীরিক সক্ষমতা, কঠোর পরিশ্রম, গোল করার দক্ষতা এবং বিভিন্ন লিগে সফলতার প্রতীক। ক্লাব ফুটবলে তাঁদের মুখোমুখি লড়াই ফুটবলের ইতিহাসে এক বিশেষ যুগের সৃষ্টি করেছে।