Lenspedia Bangla Logo
  • কলকাতা
  • 30℃ Purba Bardhaman

অজি বোলিংকে তছনছ করে চোখধাঁধানো সেঞ্চুরি ৩৭ বছর বয়সে নতুন রেকর্ড মিলারের

অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে দ্বিতীয় একদিনের ম্যাচে ৩৭ বছর বয়সে ঝোড়ো শতরান করলেন দক্ষিণ আফ্রিকার ডেভিড মিলার জোহানেসবার্গে ৯৩ বলে ক্যারিয়ারসেরা ১৪২ রান করেন তিনি মারেন ৯টি ছক্কা টেম্বা বাভুমার শতরানের সঙ্গে তাঁর ইনিংসে দক্ষিণ আফ্রিকা ৩৬৫ রান তোলে এবং ৩২ রানে ম্যাচ জিতে সিরিজ নিশ্চিত করে

বয়স ৩৭, কিন্তু ব্যাট হাতে আক্রমণের ধার যে কমেনি, অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে আরও একবার দেখালেন ডেভিড মিলার। জোহানেসবার্গের ওয়ান্ডারার্স স্টেডিয়ামে দ্বিতীয় একদিনের ম্যাচে মাত্র ৯৩ বলে ক্যারিয়ারসেরা ১৪২ রান করেন দক্ষিণ আফ্রিকার বাঁহাতি ব্যাটার। তাঁর ইনিংসে ছিল ১২টি চার ও ৯টি ছক্কা। অধিনায়ক টেম্বা বাভুমার শতরানের সঙ্গে মিলারের ঝোড়ো ব্যাটিংয়ে দক্ষিণ আফ্রিকা ৫০ ওভারে ৯ উইকেটে ৩৬৫ রান তোলে। জবাবে অস্ট্রেলিয়া লক্ষ্য ছুঁতে পারেনি। ৩২ রানে ম্যাচ জিতে তিন ম্যাচের সিরিজে ২ ০ ব্যবধানে এগিয়ে যায় দক্ষিণ আফ্রিকা এক ম্যাচ বাকি থাকতেই নিশ্চিত হয় সিরিজ জয়।

মিলারের ইনিংসটি তাঁর একদিনের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত স্কোর। এটি এই সংস্করণে তাঁর অষ্টম শতরানও। বড় রান করার পাশাপাশি দ্রুত রান তোলার ক্ষমতা যে এখনও তাঁর ব্যাটিংয়ের বড় শক্তি, অস্ট্রেলিয়ার বোলারদের বিরুদ্ধে সেটিই দেখা গেল। প্রথমে ইনিংস গড়ার কাজ, পরে সুযোগ বুঝে বাউন্ডারির গতি বাড়ানো দুই ভূমিকাতেই সফল হন তিনি। শতরান পূরণ করার পরেও থামেননি। শেষ পর্যন্ত তাঁর ১৪২ রান দক্ষিণ আফ্রিকাকে এমন একটি সংগ্রহে পৌঁছে দেয়, যা তাড়া করতে অস্ট্রেলিয়াকে শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক থাকতে হয়েছে। দক্ষিণ আফ্রিকার ইনিংসের শুরু অবশ্য পুরোপুরি মসৃণ ছিল না। অস্ট্রেলিয়া টস জিতে স্বাগতিকদের আগে ব্যাট করতে পাঠায়। দ্রুত উইকেট তুলে নিয়ে সেই সিদ্ধান্ত কাজে লাগানোর সুযোগও তৈরি হয়েছিল। কিন্তু বাভুমা এক প্রান্ত ধরে রাখেন। পরিস্থিতি বুঝে ব্যাট করে দলকে বড় রানের ভিত দেন তিনি। অন্য প্রান্তে মিলার ক্রমশ আক্রমণের দায়িত্ব নেন। তাঁদের ১৫৬ রানের জুটি ম্যাচে দক্ষিণ আফ্রিকার অবস্থান বদলে দেয়। বাভুমা ১১৬ বলে ১০৩ রান করেন; মিলারের ব্যাট থেকে আসে আরও দ্রুত গতির বড় ইনিংস।

দুই ব্যাটারের ইনিংসের ধরন ছিল আলাদা। বাভুমা দীর্ঘ সময় ক্রিজে থেকে দক্ষিণ আফ্রিকার ব্যাটিংকে স্থিরতা দেন। মিলার সেই ভিতের উপর দাঁড়িয়ে স্কোরবোর্ড দ্রুত এগিয়ে নেন। ওয়ান্ডারার্সের দ্রুত আউটফিল্ড ও ব্যাটিংয়ের অনুকূল পরিস্থিতির সুবিধা তুললেও তাঁর শট বাছাই এবং রান তোলার গতি ছিল ইনিংসের মূল আকর্ষণ। অস্ট্রেলিয়ার বোলাররা উইকেট পেলেও মিলারকে আটকে রাখতে পারেননি। বিশেষ করে ইনিংসের পরের ভাগে তাঁর আক্রমণ দক্ষিণ আফ্রিকার মোট রানকে বড় জায়গায় পৌঁছে দেয়। অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে জ্যাক এডওয়ার্ডস ৬৭ রানে পাঁচ উইকেট নেন। একদিনের ক্রিকেটে এটি তাঁর প্রথম পাঁচ উইকেটের সাফল্য। জশ হেজ়লউডও তিনটি উইকেট পান। তা সত্ত্বেও দক্ষিণ আফ্রিকার রান থামানো যায়নি। অস্ট্রেলিয়ার বোলিং আক্রমণ ম্যাচের মাঝপথে ধাক্কা খায় নেথান এলিস চোট পেয়ে মাঠ ছাড়ায়। তিনি মাত্র চার ওভার বল করতে পেরেছিলেন। দলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বোলারকে পুরো সময় ব্যবহার করতে না পারা অস্ট্রেলিয়ার পরিকল্পনায় প্রভাব ফেলে। দক্ষিণ আফ্রিকা শেষের দিকে দ্রুত রান তুলে সেই সুযোগ কাজে লাগায়। ৩৬৬ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে অস্ট্রেলিয়া অবশ্য লড়াই ছাড়েনি। মিচেল মার্শ ও ট্র্যাভিস হেড উদ্বোধনী জুটিতে ১৩০ রান যোগ করেন। দু’জনেই ৮৪ রান করেন। এমন শুরুতে এক সময় মনে হচ্ছিল, বড় রান তাড়া করার সুযোগ অস্ট্রেলিয়ার সামনে রয়েছে। লক্ষ্য কঠিন হলেও ওপেনাররা রান তোলার প্রয়োজনীয় গতি বজায় রেখেছিলেন। কিন্তু তাঁদের বিদায়ের পরে ম্যাচের চিত্র বদলে যায়। দক্ষিণ আফ্রিকার স্পিনারদের বিরুদ্ধে অস্ট্রেলিয়ার মাঝের সারির ব্যাটাররা সেই ছন্দ ধরে রাখতে পারেননি।

কেশব মহারাজের নেতৃত্বে দক্ষিণ আফ্রিকার স্পিন আক্রমণ রান তাড়ার গতি কমিয়ে দেয়। অধিনায়ক বাভুমা ম্যাচে মোট ৩০ ওভার স্পিন বোলিং ব্যবহার করেন। শুরুতে দ্রুত রান ওঠার পরে অস্ট্রেলিয়ার ইনিংসে যে চাপ তৈরি হয়েছিল, তা আরও বাড়তে থাকে। একটা পর্যায়ে প্রয়োজনীয় রানরেটের সঙ্গে পাল্লা দেওয়ার সুযোগ থাকলেও মাঝের ওভারগুলিতে রান তোলার গতি নেমে যায়। ক্রিজে থাকা ব্যাটাররা বড় জুটি গড়ে উঠতে না পারায় লক্ষ্য ধীরে ধীরে দূরে সরে যায়। শেষ দিকে জ়েভিয়ার বার্টলেট ২৮ বলে ৫০ রান করে অস্ট্রেলিয়ার আশা জাগানোর চেষ্টা করেন। তাঁর ইনিংসে ছিল পাঁচটি ছক্কা। কিন্তু তখন প্রয়োজনীয় রান অনেক বেশি হয়ে গিয়েছিল। দক্ষিণ আফ্রিকার বোলাররা শেষ পর্যন্ত জয় নিশ্চিত করেন। ৩২ রানের ব্যবধান দেখে ম্যাচটিকে একতরফা মনে হতে পারে, কিন্তু অস্ট্রেলিয়ার দ্রুত উদ্বোধনী জুটি এক সময় স্বাগতিকদের চাপে ফেলেছিল। দক্ষিণ আফ্রিকা সেই চাপ সামলে ম্যাচে ফিরেছে মূলত মাঝের ওভারে নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ের মাধ্যমে।

news image
আরও খবর

এই জয় মিলারের ইনিংসকে আরও তাৎপর্যপূর্ণ করেছে। ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ রান কোনও ব্যাটারের কাছে স্মরণীয় অর্জন, কিন্তু সেই ইনিংস দলের সিরিজ জয়ে সরাসরি কাজে লাগলে তার গুরুত্ব বাড়ে। প্রথম ম্যাচেও অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়েছিল দক্ষিণ আফ্রিকা। দ্বিতীয় ম্যাচ জেতায় তৃতীয় একদিনের ম্যাচের আগেই সিরিজের ফল নির্ধারিত হয়ে যায়। মিলারের ১৪২ এবং বাভুমার ১০৩ রান এই সিরিজ জয়ের ভিত গড়ে দিয়েছে। ম্যাচটি দক্ষিণ আফ্রিকার ‘পিঙ্ক ডে’ আয়োজনের মধ্যেও অনুষ্ঠিত হয়েছে। মিলার নিজের জার্সিতে স্তন ক্যানসার থেকে সেরে ওঠা তাঁর মা জেনির নাম নিয়ে মাঠে নেমেছিলেন। সেই আবহে ক্যারিয়ারসেরা ইনিংস তাঁর কাছে ব্যক্তিগতভাবেও বিশেষ হয়ে থাকার কথা। মাঠে অবশ্য তাঁর মনোযোগ ছিল অস্ট্রেলিয়ার বোলিং সামলে দলের জন্য যত বেশি সম্ভব রান তোলায়। নয়টি ছক্কায় সাজানো ইনিংসটি দিনের সবচেয়ে আলোচিত ব্যাটিং পারফরম্যান্স হয়ে ওঠে। ৩৭ বছর বয়সে এমন ইনিংস মিলারের দীর্ঘ ক্রিকেটজীবনে নতুন সংযোজন। বয়সের সংখ্যা দিয়ে একজন ব্যাটারের বর্তমান সামর্থ্য বিচার করা যায় না এই ম্যাচে তাঁর ব্যাটিং তারই উদাহরণ। অস্ট্রেলিয়ার মতো প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে দ্রুত ১৪২ রান করতে প্রয়োজন আত্মবিশ্বাস, পরিস্থিতি বোঝার ক্ষমতা এবং শট খেলার স্পষ্ট সিদ্ধান্ত। মিলার নিজের অষ্টম একদিনের শতরানকে ক্যারিয়ারসেরা স্কোরে পরিণত করে তিনটি ক্ষেত্রেই সফল হয়েছেন। তবে তাঁর ফর্ম কতটা ধারাবাহিক থাকে সেটি পরবর্তী ম্যাচগুলিতেই বোঝা যাবে।

অস্ট্রেলিয়ার কাছে এই ম্যাচের শিক্ষা অন্য জায়গায়। ৩৬৬ রানের লক্ষ্যেও উদ্বোধনী জুটি দলকে লড়াইয়ে রেখেছিল। কিন্তু বড় রান তাড়া করতে হলে মাঝের ওভারে সেই গতি ধরে রাখা প্রয়োজন। মার্শ ও হেডের পর আর কেউ দীর্ঘ সময় সেই দায়িত্ব নিতে পারেননি। অন্যদিকে দক্ষিণ আফ্রিকা ব্যাট হাতে বড় সংগ্রহ গড়ার পর বোলিংয়ে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ ফিরিয়ে আনে। ফলে মিলারের ইনিংসের সঙ্গে দলের সামগ্রিক পারফরম্যান্সও জয় নিশ্চিত করেছে। তিন ম্যাচের সিরিজের শেষ একদিনের ম্যাচ এখনও বাকি। সেখানে মিলার আবার বড় রান করবেন কি না, তা সময় বলবে। তবে জোহানেসবার্গের দ্বিতীয় ম্যাচে তিনি যে ছাপ রেখে গেলেন, তা স্পষ্ট ৯৩ বলে ১৪২ রান, নয়টি ছক্কা, ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ স্কোর এবং অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে দক্ষিণ আফ্রিকার সিরিজ জয়। এই ম্যাচের গল্পে বাভুমার শতরান ও স্পিনারদের অবদানও গুরুত্বপূর্ণ আর ব্যাট হাতে সবচেয়ে উজ্জ্বল অধ্যায়টি লিখেছেন ডেভিড মিলার।

কেশব মহারাজের নেতৃত্বে দক্ষিণ আফ্রিকার স্পিন আক্রমণ রান তাড়ার গতি কমিয়ে দেয়। অধিনায়ক বাভুমা ম্যাচে মোট ৩০ ওভার স্পিন বোলিং ব্যবহার করেন। শুরুতে দ্রুত রান ওঠার পরে অস্ট্রেলিয়ার ইনিংসে যে চাপ তৈরি হয়েছিল, তা আরও বাড়তে থাকে। একটা পর্যায়ে প্রয়োজনীয় রানরেটের সঙ্গে পাল্লা দেওয়ার সুযোগ থাকলেও মাঝের ওভারগুলিতে রান তোলার গতি নেমে যায়। ক্রিজে থাকা ব্যাটাররা বড় জুটি গড়ে উঠতে না পারায় লক্ষ্য ধীরে ধীরে দূরে সরে যায়। শেষ দিকে জ়েভিয়ার বার্টলেট ২৮ বলে ৫০ রান করে অস্ট্রেলিয়ার আশা জাগানোর চেষ্টা করেন। তাঁর ইনিংসে ছিল পাঁচটি ছক্কা। কিন্তু তখন প্রয়োজনীয় রান অনেক বেশি হয়ে গিয়েছিল। দক্ষিণ আফ্রিকার বোলাররা শেষ পর্যন্ত জয় নিশ্চিত করেন। ৩২ রানের ব্যবধান দেখে ম্যাচটিকে একতরফা মনে হতে পারে, কিন্তু অস্ট্রেলিয়ার দ্রুত উদ্বোধনী জুটি এক সময় স্বাগতিকদের চাপে ফেলেছিল। দক্ষিণ আফ্রিকা সেই চাপ সামলে ম্যাচে ফিরেছে মূলত মাঝের ওভারে নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ের মাধ্যমে।

Preview image