Lenspedia Bangla Logo
  • কলকাতা
  • 30℃ Purba Bardhaman

তীব্র গরমে ‘মর্নিং স্কুল’ শুরু, প্রথম দিনেই বাড়ল ছাত্র-ছাত্রীদের উপস্থিতি; স্বস্তিতে পড়ুয়া ও অভিভাবকরা

রাজ্য সরকারের নির্দেশ মেনে নদীয়ার বিভিন্ন বিদ্যালয়ে শুরু হয়েছে মর্নিং স্কুল। তীব্র গরমের হাত থেকে শিক্ষার্থীদের রক্ষা করতে সকালেই ক্লাস নেওয়ার সিদ্ধান্তে প্রথম দিনেই বেড়েছে ছাত্র ছাত্রীদের উপস্থিতি। বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের দাবি, এই উদ্যোগে যেমন পড়াশোনা সচল থাকবে, তেমনই শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্যও সুরক্ষিত থাকবে।

তীব্র গরমে জনজীবন যখন কার্যত বিপর্যস্ত, তখন শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা এবং পঠন-পাঠন সচল রাখার লক্ষ্যে রাজ্য সরকারের নির্দেশ মেনে নদীয়ার বিভিন্ন বিদ্যালয়ে শুরু হয়েছে ‘মর্নিং স্কুল’ বা সকালের শিফটের ক্লাস। বর্ধিত ছুটির পরিবর্তে এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন অভিভাবক, শিক্ষক এবং পড়ুয়ারা। প্রথম দিনেই বিদ্যালয়গুলিতে ছাত্র-ছাত্রীদের উল্লেখযোগ্য উপস্থিতি দেখা গিয়েছে, যা এই সিদ্ধান্তের কার্যকারিতা এবং জনপ্রিয়তার ইঙ্গিত বহন করছে।

নদীয়া জেলার শান্তিপুর হরিপুর পঞ্চায়েত এলাকার নৃসিংহপুর উচ্চ বিদ্যালয়েও আজ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে চালু হয়েছে মর্নিং স্কুল। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক (টি.আই.সি) সঞ্জয় ঘোষ জানান, সরকারি নির্দেশিকা অনুসরণ করেই এই নতুন সময়সূচি কার্যকর করা হয়েছে। এখন থেকে প্রতিদিন সকাল ৬টা ৪০ মিনিটে বিদ্যালয়ের ক্লাস শুরু হবে এবং তা চলবে বেলা ১১টা ৪০ মিনিট পর্যন্ত।

বিদ্যালয় সূত্রে জানা গিয়েছে, গত কয়েক সপ্তাহ ধরে জেলাজুড়ে তাপমাত্রা অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পাওয়ায় অনেক শিক্ষার্থী নিয়মিত স্কুলে আসতে পারছিল না। দুপুরের দিকে তীব্র রোদ এবং গরমের কারণে অভিভাবকরাও সন্তানদের বিদ্যালয়ে পাঠাতে কিছুটা দ্বিধাগ্রস্ত ছিলেন। ফলে উপস্থিতির হার কিছুটা কমে গিয়েছিল।

প্রধান শিক্ষক সঞ্জয় ঘোষ জানান, বিদ্যালয় থেকে বারবার ছাত্র-ছাত্রীদের নিয়মিত স্কুলে আসার জন্য অনুরোধ করা হলেও আবহাওয়ার কারণে অনেকেই অনুপস্থিত থাকছিল। তবে মর্নিং স্কুল চালু হতেই পরিস্থিতির আমূল পরিবর্তন দেখা গেছে। প্রথম দিনেই রেকর্ড সংখ্যক শিক্ষার্থীর উপস্থিতি বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে আশাবাদী করে তুলেছে।

তিনি বলেন, “আমাদের পূর্ব অভিজ্ঞতা বলছে, সকালে বিদ্যালয় চালু করলে ছাত্র-ছাত্রীদের উপস্থিতি উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পায়। এবারও সেই চিত্র দেখা গেল। প্রথম দিনেই সর্বাধিক সংখ্যক ছাত্র-ছাত্রী উপস্থিত হয়েছে।”

বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, শুরুতে বিষয়টি ঐচ্ছিকভাবে বিবেচনা করা হলেও পরে শিক্ষার্থীদের সার্বিক স্বার্থের কথা মাথায় রেখে সকালের শিফট চালু করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এ বিষয়ে বিদ্যালয়ের প্রশাসক এবং এ.ডি.আই-এর সঙ্গে আলোচনা করে এবং প্রয়োজনীয় অনুমোদন গ্রহণ করেই নতুন সময়সূচি কার্যকর করা হয়েছে।

শুধু পড়াশোনা নয়, শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তার বিষয়েও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। গরমের দিনে যাতে কোনও পড়ুয়া জলশূন্যতা বা অসুস্থতার শিকার না হয়, সেজন্য বিদ্যালয় থেকে বিভিন্ন সচেতনতামূলক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

প্রধান শিক্ষক জানান, প্রত্যেক ছাত্র-ছাত্রীকে বাড়ি থেকে জলের বোতল নিয়ে আসার জন্য নিয়মিত উৎসাহিত করা হচ্ছে। পাশাপাশি বিদ্যালয়ের অভ্যন্তরে বিশুদ্ধ পানীয় জলের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা রয়েছে। বিদ্যালয়ে ওয়াটার এটিএম এবং ‘সজল ধারা’ প্রকল্পের মাধ্যমে বিশুদ্ধ পানীয় জল সরবরাহ করা হচ্ছে। ফলে ছাত্র-ছাত্রীদের পানীয় জলের কোনও সমস্যা হবে না বলেই আশাবাদী বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

অন্যদিকে, মর্নিং স্কুল চালু হওয়ায় খুশি পড়ুয়ারাও। অনেক শিক্ষার্থীর বক্তব্য, দুপুরের তীব্র গরমে বিদ্যালয়ে যাতায়াত করতে খুবই কষ্ট হচ্ছিল। সকালবেলায় বিদ্যালয় হওয়ায় তারা অনেক বেশি স্বস্তি অনুভব করছে। পাশাপাশি বাড়ি ফিরে বিশ্রাম নেওয়ার পাশাপাশি অতিরিক্ত পড়াশোনার জন্যও সময় পাচ্ছে।

একাদশ শ্রেণির এক শিক্ষার্থী জানায়, “সকালবেলায় আবহাওয়া তুলনামূলকভাবে ঠান্ডা থাকে। তাই স্কুলে আসতে কোনও সমস্যা হয় না। আবার দুপুরের আগেই বাড়ি ফিরে পড়াশোনার জন্য সময়ও পাওয়া যায়।”

অভিভাবকদের মধ্যেও এই সিদ্ধান্তকে ঘিরে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখা গিয়েছে। অনেকের মতে, বর্ধিত ছুটি দিলে পড়াশোনার ক্ষতি হতো। কিন্তু মর্নিং স্কুল চালু হওয়ায় একদিকে যেমন গরম থেকে রেহাই মিলছে, অন্যদিকে শিক্ষার ধারাবাহিকতাও বজায় থাকছে।

শিক্ষাবিদদের একাংশও মনে করছেন, আবহাওয়ার পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলির এই ধরনের সময়োপযোগী পদক্ষেপ ভবিষ্যতের জন্য একটি কার্যকর মডেল হয়ে উঠতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে গ্রীষ্মকালে তাপমাত্রা ক্রমশ বাড়ছে। ফলে শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করতে বিকল্প সময়সূচি গ্রহণ করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে ইতিমধ্যেই একাধিক বিদ্যালয়ে মর্নিং স্কুল চালু হয়েছে। অনেক জায়গাতেই দেখা যাচ্ছে, সকালবেলার ক্লাসে উপস্থিতির হার আগের তুলনায় বেশি। শিক্ষক-শিক্ষিকাদেরও মতে, সকালবেলার আবহাওয়া অপেক্ষাকৃত আরামদায়ক হওয়ায় পড়াশোনার পরিবেশ আরও উন্নত হচ্ছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, দীর্ঘ সময় তীব্র গরমের মধ্যে থাকলে শিশু-কিশোরদের মধ্যে হিট স্ট্রোক, ডিহাইড্রেশন, মাথা ঘোরা, ক্লান্তি এবং অন্যান্য স্বাস্থ্য সমস্যা দেখা দিতে পারে। তাই স্কুলের সময়সূচিতে পরিবর্তন এনে ঝুঁকি কমানোর উদ্যোগ যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ।

সামগ্রিকভাবে বলা যায়, তীব্র গরমের পরিস্থিতিতে মর্নিং স্কুল চালু করার সিদ্ধান্ত শিক্ষার্থীদের জন্য একটি বাস্তবসম্মত এবং ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে সামনে এসেছে। এর ফলে যেমন পড়াশোনার ধারাবাহিকতা বজায় থাকবে, তেমনই শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তাও নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। প্রথম দিনের সাফল্যই ইঙ্গিত দিচ্ছে যে আগামী দিনেও এই উদ্যোগ ছাত্র-ছাত্রী, শিক্ষক এবং অভিভাবকদের কাছে সমানভাবে গ্রহণযোগ্য হয়ে উঠবে।

গরমের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় শিক্ষা ব্যবস্থাকে সচল রেখে শিক্ষার্থীদের স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার যে বার্তা এই উদ্যোগের মাধ্যমে উঠে এসেছে, তা নিঃসন্দেহে প্রশংসার দাবি রাখে। বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের সময়োপযোগী সিদ্ধান্তে স্বস্তি ফিরেছে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে, আর শিক্ষাঙ্গনে ফিরে এসেছে নতুন উদ্যম ও প্রাণচাঞ্চল্য।

এদিকে শুধুমাত্র নৃসিংহপুর উচ্চ বিদ্যালয় নয়, নদীয়া জেলার একাধিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে মর্নিং স্কুল চালু হওয়ার পর একই ধরনের ইতিবাচক চিত্র সামনে এসেছে। বিভিন্ন বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা জানিয়েছেন, সকালের শিফটে ক্লাস পরিচালনা করার ফলে ছাত্র-ছাত্রীদের মনোযোগ এবং অংশগ্রহণ দুটোই বেড়েছে। দিনের শুরুতেই পাঠদান শেষ হয়ে যাওয়ায় শিক্ষার্থীরা শারীরিকভাবে অনেক বেশি স্বস্তিতে থাকছে এবং ক্লাসে তাদের সক্রিয় উপস্থিতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে।

news image
আরও খবর

শিক্ষকদের মতে, তীব্র গরমে দুপুরের দিকে অনেক সময় ছাত্র-ছাত্রীরা ক্লান্ত হয়ে পড়ে। ফলে পড়াশোনার প্রতি মনোযোগ ধরে রাখা কঠিন হয়ে যায়। কিন্তু সকালবেলার মনোরম আবহাওয়ায় ক্লাস করলে শিক্ষার্থীদের শেখার আগ্রহ বাড়ে এবং পাঠদানের মানও উন্নত হয়। বিশেষ করে মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক স্তরের পরীক্ষার্থীদের জন্য এই সময়সূচি যথেষ্ট কার্যকর বলে মনে করছেন শিক্ষকমহল।

আবহাওয়া দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত কয়েক বছরে গ্রীষ্মকালে তাপমাত্রা ক্রমাগত বৃদ্ধি পেয়েছে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব দেশের বিভিন্ন অংশে স্পষ্টভাবে অনুভূত হচ্ছে। পশ্চিমবঙ্গও এর ব্যতিক্রম নয়। রাজ্যের একাধিক জেলায় তাপপ্রবাহের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। দুপুরের দিকে রাস্তাঘাট প্রায় ফাঁকা হয়ে যাচ্ছে। এই অবস্থায় ছোট ছোট ছাত্র-ছাত্রীদের বিদ্যালয়ে যাতায়াত একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছিল।

শিক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমান পরিস্থিতিতে শুধু পাঠ্যক্রম সম্পূর্ণ করাই নয়, শিক্ষার্থীদের শারীরিক ও মানসিক সুস্থতার বিষয়টিও সমান গুরুত্বপূর্ণ। তাই বিদ্যালয়ের সময়সূচিতে পরিবর্তন এনে পরিস্থিতির সঙ্গে খাপ খাইয়ে নেওয়ার এই উদ্যোগ অত্যন্ত প্রশংসনীয়। তাদের মতে, শিক্ষা ব্যবস্থাকে আরও নমনীয় ও পরিস্থিতি উপযোগী করে তুলতে ভবিষ্যতেও এই ধরনের সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রয়োজন হতে পারে।

মর্নিং স্কুল চালু হওয়ার ফলে অভিভাবকদের মধ্যেও স্বস্তির পরিবেশ তৈরি হয়েছে। বহু অভিভাবক জানিয়েছেন, আগে সন্তানদের দুপুরের গরমে স্কুলে পাঠানো নিয়ে তারা উদ্বিগ্ন থাকতেন। বিশেষ করে দূরবর্তী এলাকা থেকে যেসব পড়ুয়াদের হেঁটে বা সাইকেলে বিদ্যালয়ে আসতে হয়, তাদের জন্য পরিস্থিতি আরও কঠিন ছিল। এখন সকালবেলায় তুলনামূলক ঠান্ডা আবহাওয়ায় যাতায়াত করায় সেই সমস্যা অনেকটাই কমেছে।

একজন অভিভাবক বলেন, “আমাদের ছেলে প্রতিদিন কয়েক কিলোমিটার দূর থেকে স্কুলে যায়। দুপুরের গরমে ও খুব কষ্ট পেত। এখন সকালবেলা স্কুল হওয়ায় অনেকটা স্বস্তি হয়েছে। আমরা চাই এই ব্যবস্থা যতদিন গরম থাকবে ততদিন চালু থাকুক।”

শুধু অভিভাবকরাই নয়, স্থানীয় বাসিন্দারাও এই উদ্যোগকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন। তাদের মতে, শিক্ষার সঙ্গে আপস না করে ছাত্র-ছাত্রীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করার জন্য বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ যে দ্রুত সিদ্ধান্ত নিয়েছে, তা অন্যদের কাছেও একটি উদাহরণ হয়ে থাকবে।

বিদ্যালয়গুলিতে স্বাস্থ্যবিধি সম্পর্কেও বিশেষ সচেতনতা বৃদ্ধি করা হয়েছে। শিক্ষকরা নিয়মিত শিক্ষার্থীদের পর্যাপ্ত জলপান, হালকা খাবার গ্রহণ এবং রোদে অতিরিক্ত সময় না থাকার পরামর্শ দিচ্ছেন। অনেক বিদ্যালয়ে প্রাথমিক চিকিৎসার ব্যবস্থাও জোরদার করা হয়েছে যাতে প্রয়োজনে দ্রুত চিকিৎসা সহায়তা দেওয়া যায়।

গরমের কারণে শিশুদের মধ্যে ডিহাইড্রেশন একটি বড় সমস্যা হয়ে উঠতে পারে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা। পর্যাপ্ত পরিমাণে জল পান না করলে মাথাব্যথা, দুর্বলতা, বমি ভাব, এমনকি হিট স্ট্রোকের মতো সমস্যাও দেখা দিতে পারে। তাই বিদ্যালয়গুলিতে বিশুদ্ধ পানীয় জলের ব্যবস্থা নিশ্চিত করা এবং ছাত্র-ছাত্রীদের সচেতন করা অত্যন্ত জরুরি বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

এছাড়াও, অনেক বিদ্যালয়ে সকালবেলার প্রার্থনা সভা সংক্ষিপ্ত করা হয়েছে। দীর্ঘ সময় খোলা মাঠে দাঁড়িয়ে থাকার পরিবর্তে দ্রুত শ্রেণিকক্ষে পাঠদান শুরু করার ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এর ফলে শিক্ষার্থীদের অপ্রয়োজনীয়ভাবে রোদে দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে না।

মর্নিং স্কুলের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো শিক্ষার্থীদের সময় ব্যবস্থাপনা। দুপুরের আগেই বিদ্যালয় ছুটি হয়ে যাওয়ায় তারা বাড়িতে ফিরে বিশ্রাম নেওয়ার পাশাপাশি বাড়ির কাজ এবং অতিরিক্ত পড়াশোনার জন্য পর্যাপ্ত সময় পাচ্ছে। অনেক শিক্ষার্থী জানিয়েছে, এখন তারা সন্ধ্যার আগেই পড়াশোনার একটি বড় অংশ শেষ করে ফেলতে পারছে।

বিদ্যালয়ের এক শিক্ষক বলেন, “সকালে ছাত্র-ছাত্রীদের মানসিক সতেজতা বেশি থাকে। ফলে ক্লাসে বিষয়বস্তু বুঝতে সুবিধা হয়। আমরা দেখছি, অনেক শিক্ষার্থী আগের তুলনায় বেশি প্রশ্ন করছে এবং পাঠে অংশগ্রহণ করছে।”

বিশেষজ্ঞদের মতে, শিক্ষার্থীদের শেখার সক্ষমতা অনেকাংশে পরিবেশের উপর নির্ভরশীল। অতিরিক্ত গরমের মধ্যে পড়াশোনা করলে ক্লান্তি ও অস্বস্তির কারণে মনোযোগ কমে যায়। অন্যদিকে, তুলনামূলক আরামদায়ক পরিবেশে শিক্ষা গ্রহণ করলে শেখার ফলাফল উন্নত হয়। তাই বর্তমান আবহাওয়ার পরিস্থিতিতে মর্নিং স্কুল একটি কার্যকর শিক্ষাবান্ধব পদক্ষেপ।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব ভবিষ্যতে আরও বৃদ্ধি পেতে পারে বলে বিজ্ঞানীরা সতর্ক করছেন। সে ক্ষেত্রে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলিকে আগাম পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে। প্রয়োজন হলে গ্রীষ্মকালে নিয়মিতভাবে বিকল্প সময়সূচি চালু করা, শ্রেণিকক্ষে পর্যাপ্ত বায়ু চলাচলের ব্যবস্থা করা এবং বিশুদ্ধ পানীয় জল সরবরাহ নিশ্চিত করার মতো পদক্ষেপকে আরও গুরুত্ব দিতে হবে।

নদীয়ার বিভিন্ন বিদ্যালয়ে প্রথম দিনের অভিজ্ঞতা থেকে স্পষ্ট যে, মর্নিং স্কুল শুধু একটি সাময়িক সমাধান নয়, বরং বর্তমান আবহাওয়াজনিত চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার একটি বাস্তবসম্মত পথ। শিক্ষার্থী, শিক্ষক এবং অভিভাবক— সকলের সহযোগিতায় এই উদ্যোগ সফলভাবে এগিয়ে চলেছে।

বর্তমান পরিস্থিতিতে শিক্ষা ব্যবস্থার প্রধান লক্ষ্য হওয়া উচিত শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে শিক্ষার ধারাবাহিকতা বজায় রাখা। সেই লক্ষ্যেই মর্নিং স্কুল কার্যকর ভূমিকা পালন করছে। বিদ্যালয়গুলিতে উপস্থিতির হার বৃদ্ধি পাওয়া এবং শিক্ষার্থীদের ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া এই সিদ্ধান্তের সাফল্যকে আরও স্পষ্ট করে তুলেছে।

সব মিলিয়ে বলা যায়, তীব্র গরমের মধ্যেও শিক্ষার আলো যাতে নিভে না যায়, তার জন্য যে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, তা নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয়। ভবিষ্যতে আবহাওয়ার পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে শিক্ষা ব্যবস্থাকে আরও আধুনিক ও অভিযোজনক্ষম করে তুলতে এই ধরনের উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। মর্নিং স্কুলের প্রথম দিনের সাফল্যই দেখিয়ে দিয়েছে যে সঠিক পরিকল্পনা এবং সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত থাকলে প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও শিক্ষার গতি থেমে থাকে না।

Preview image