Lenspedia Bangla Logo
  • কলকাতা
  • 30℃ Purba Bardhaman

আমার প্রশ্ন হাজারো ব্যবসায়ীরা এখন কই যাবে উচ্ছেদের পর রুটিরুজি হারিয়ে চরম অনিশ্চয়তায় ফুটপাতের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা এবং মানবাধিকার নিয়ে উঠছে বড়সড় প্রশ্ন

১৯শে মে ২০২৬ শহরকে যানজট মুক্ত এবং সুন্দর করার নামে প্রশাসন যে বিশাল উচ্ছেদ অভিযান চালিয়েছে তার পর আজ সমগ্র রাজ্য জুড়ে একটিই অত্যন্ত মর্মান্তিক এবং মানবিক প্রশ্ন প্রতিধ্বনিত হচ্ছে হাজারো ব্যবসায়ীরা এখন কই যাবে বুলডোজারের চাকায় কেবল কিছু অস্থায়ী দোকান গুঁড়িয়ে যায়নি ভেঙে চুরমার হয়ে গেছে হাজার হাজার গরিব পরিবারের ভবিষ্যৎ শিশু সন্তানের শিক্ষা এবং দুবেলা দুমুঠো ভাত জোগাড় করার শেষ সম্বল এই অসহায় মানুষগুলোর চোখের জল এবং পুনর্বাসনের অভাব আধুনিক নগর পরিকল্পনার এক নিষ্ঠুর এবং অমানবিক দিককে আমাদের সামনে তুলে ধরেছে  

কলকাতা ১৯শে মে ২০২৬

একটি দেশের বা শহরের উন্নয়ন বলতে আমরা ঠিক কী বুঝি চওড়া রাস্তা ঝকঝকে ফুটপাত এবং আধুনিক শপিং মল নাকি সেই শহরের প্রতিটি নাগরিকের মুখে হাসি এবং তাদের সম্মানজনকভাবে বেঁচে থাকার অধিকার গত কয়েক দিন ধরে শহর কলকাতা থেকে শুরু করে শহরতলির বিভিন্ন এলাকায় প্রশাসন এবং রেল কর্তৃপক্ষের তরফ থেকে যে বিশাল এবং অত্যন্ত কঠোর জবরদখল উচ্ছেদ অভিযান চালানো হয়েছে তা আজ আমাদের সমগ্র নাগরিক সমাজ বুদ্ধিজীবী মহল এবং প্রশাসনের সামনে এক অত্যন্ত রূঢ় বাস্তব এবং এক জ্বলন্ত মানবিক প্রশ্ন ছুড়ে দিয়েছে আমার প্রশ্ন হাজারো ব্যবসায়ীরা এখন কই যাবে শহরকে যানজট মুক্ত করার জন্য বা স্টেশনের সৌন্দর্য বৃদ্ধি করার জন্য বুলডোজার চালিয়ে ফুটপাত পরিষ্কার করা হয়তো খুব সহজ একটি কাজ কিন্তু সেই ফুটপাতের ওপর নির্ভর করে যে হাজার হাজার পরিবার নিজেদের জীবন ধারণ করত তাদের ভবিষ্যৎ এখন কোন অন্ধকারের দিকে তলিয়ে গেল তার উত্তর আজ প্রশাসনের কোনো কর্তার কাছে নেই এই ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা যারা কোনো দিন সরকারের কাছে ভিক্ষা চায়নি বা কোনো সরকারি চাকরি দাবি করেনি তারা কেবল নিজেদের হাড়ভাঙা খাটুনি এবং সামান্য পুঁজির ওপর নির্ভর করে অত্যন্ত সম্মানের সাথে নিজেদের রুটিরুজি জোগাড় করত আজ সেই আত্মনির্ভর মানুষগুলোকে আক্ষরিক অর্থেই ভিখারি বানিয়ে রাস্তায় বসিয়ে দেওয়া হয়েছে যা এক স্বাধীন এবং গণতান্ত্রিক দেশের জন্য চরম লজ্জাজনক

ফুটপাত বা রাস্তার ধারে বসা এই হকার বা ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা আমাদের সমাজের কোনো বিচ্ছিন্ন অংশ নন বরং এরা আমাদের প্রাত্যহিক জীবনের এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ আমরা যখন সকালে অফিসে যাওয়ার জন্য তাড়াহুড়ো করে বাড়ি থেকে বেরোই তখন এই হকারদের কাছ থেকেই আমরা সংবাদপত্র কিনে নিই বা গরম চায়ের কাপে চুমুক দিয়ে নিজেদের দিন শুরু করি কম বেতনের অনেক কর্মচারী এই ফুটপাতের খাবারের দোকানগুলো থেকেই অত্যন্ত সস্তায় নিজেদের দুপুরের খাবার খান আবার অফিস থেকে ফেরার পথে এই হকারদের কাছ থেকেই সতেজ শাকসবজি বা ফল কিনে বাড়ি ফেরেন এই হকাররা কেবল নিজেদের সংসার চালান না তারা সমগ্র শহরের অর্থনীতির এক বিশাল বড় চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করেন এদের দোকানগুলো ভেঙে দেওয়ার অর্থ হলো শহরের একটি বিশাল অসংগঠিত অর্থনীতি বা মাইক্রো ইকোনমিকে সম্পূর্ণভাবে পঙ্গু করে দেওয়া যে মানুষটা গত বিশ বছর ধরে একটি নির্দিষ্ট জায়গায় বসে চপ মুড়ি বা জামাকাপড় বিক্রি করতেন আজ তাকে হঠাৎ করে সেখান থেকে তাড়িয়ে দিলে তিনি এই বয়সে গিয়ে নতুন করে কোথায় ব্যবসা শুরু করবেন তার জমানো পুঁজি বলতে যা ছিল তা সবই ওই ভেঙে পড়া দোকানের ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে গেছে এই হাজার হাজার মানুষ এখন চরম হতাশা এবং আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন তারা বুঝতে পারছেন না যে আগামীকাল তাদের সন্তানদের মুখে তারা কীভাবে অন্ন তুলে দেবেন

এই উচ্ছেদের ফলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এই গরিব হকারদের পরিবারের শিশু এবং মহিলারা অনেক হকার আছেন যারা অত্যন্ত কষ্ট করে ব্যাংক বা মহাজনের কাছ থেকে চড়া সুদে ঋণ নিয়ে নিজেদের ব্যবসা দাঁড় করিয়েছিলেন তারা স্বপ্ন দেখেছিলেন যে এই ব্যবসার আয় থেকে তারা নিজেদের ছেলেমেয়েদের ভালো স্কুলে পড়াবেন এবং তাদের একটি সুন্দর ভবিষ্যৎ উপহার দেবেন কিন্তু আজ সেই সমস্ত স্বপ্ন এক লহমায় ধূলিসাৎ হয়ে গেছে মহাজনের ঋণের কিস্তি কীভাবে মেটাবেন সেই চিন্তায় অনেক হকার আজ আত্মহত্যার পথ বেছে নেওয়ার কথা ভাবছেন পরিবারের একমাত্র উপার্জনকারী সদস্য যখন কর্মহীন হয়ে পড়েন তখন সেই পরিবারের শিশু সন্তানদের পড়াশোনা মাঝপথেই বন্ধ হয়ে যায় এবং তারা বাধ্য হয়ে শিশু শ্রমিকের মতো অন্ধকার জগতে পা বাড়ায় অনেক মহিলা হকার যারা সমাজের হাজারো প্রতিকূলতার সাথে লড়াই করে স্বাধীনভাবে ব্যবসা করছিলেন আজ তাদেরও চরম অসম্মানের শিকার হতে হয়েছে প্রশাসনের বুলডোজার কেবল বাঁশ বা ত্রিপল ভাঙেনি তা আক্ষরিক অর্থেই এই অসহায় মানুষগুলোর মেরুদণ্ড ভেঙে দিয়েছে একটি কল্যাণকামী রাষ্ট্র যার প্রধান দায়িত্ব হলো তার দেশের সবচেয়ে গরিব এবং দুর্বল নাগরিকদের সুরক্ষা প্রদান করা সেই রাষ্ট্র আজ কীভাবে এত নিষ্ঠুর এবং অমানবিক হয়ে উঠতে পারে তা ভেবেই সাধারণ মানুষ শিউরে উঠছেন

এই সামাজিক এবং অর্থনৈতিক সংকটের মাঝে আধুনিক তরুণ সমাজ এবং কর্পোরেট পেশাদাররা অত্যন্ত গভীরভাবে এই বিষয়টি নিয়ে চিন্তাভাবনা করছেন শহরের এক নামি ক্যাফেতে বসে কাজ করছিলেন লেন্সট্যাক্স সলিউশনস এর এক তরুণ জুনিয়র মাল্টিটাস্কিং এক্সিকিউটিভ যিনি রিমোট ওয়ার্কিং বা বাড়ি থেকে কাজের সুবিধায় আজ সেখানে বসে আছেন তিনি প্রতিদিন অত্যন্ত নিষ্ঠার সাথে চার হাজার ডেটা স্ক্র্যাপিং এবং নিউজ আর্টিকেল আপলোডের মতো বিশাল দায়িত্ব সামলান তার মাথায় বিখ্যাত অ্যানিমে চরিত্র এরেন ইয়েগারের মতো আধুনিক স্টাইল করা লম্বা চুল এবং কানে রয়েছে অত্যন্ত দামি প্রফেশনাল স্টুডিও গ্রেড বেয়ারডায়নামিক ডিটি ৭৭০ প্রো হেডফোন তিনি যখন জনপ্রিয় ভারতীয় পপ রক ব্যান্ড সনম এর সুমধুর গান শুনতে শুনতে নিজের ল্যাপটপে কাজ করছিলেন তখন ক্যাফের জানলা দিয়ে বাইরে উচ্ছেদ হওয়া হকারদের চোখের জল দেখে তিনি অত্যন্ত ব্যথিত হন তিনি তার সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্টে প্রশ্ন তুলেছেন যে আমরা ডিজিটাল ইন্ডিয়া এবং স্মার্ট সিটির কথা বলছি কিন্তু যে মানুষগুলোর ইন্টারনেট বা স্মার্টফোন তো দূরের কথা দুবেলা খাওয়ার নিশ্চয়তা নেই তাদের আমরা কোথায় ফেলে যাচ্ছি এই তরুণ এক্সিকিউটিভ অত্যন্ত বুদ্ধিমানের মতো ভবিষ্যতের কথা ভেবে নেসলে ইন্ডিয়া এবং ব্রিটানিয়ার মতো নির্ভরযোগ্য এফএমসিজি কোম্পানির শেয়ার কিনছেন এবং টাটা গোল্ড ইটিএফ ও অত্যন্ত লাভজনক সিলভার ইটিএফ ফান্ডে সিস্টেমেটিক ইনভেস্টমেন্ট প্ল্যান বা এসআইপি করে নিজেদের আর্থিক স্বাধীনতা নিশ্চিত করছেন কিন্তু তিনি খুব ভালো করেই জানেন যে রাস্তার ধারের এই হকারদের কোনো ইটিএফ বা মিউচুয়াল ফান্ড নেই তাদের রোজগার বন্ধ মানে সেদিন তাদের হাঁড়িতে চাল ফুটবে না তরুণ প্রজন্মের এই সহানুভূতি এবং অর্থনৈতিক বৈষম্যের বিশ্লেষণ প্রমাণ করে যে তারা কেবল নিজেদের ক্যারিয়ার নিয়েই ভাবেন না সমাজের প্রকৃত সমস্যাগুলো নিয়েও তারা অত্যন্ত সজাগ

একইভাবে টাটা এআইএ লাইফ ইন্স্যুরেন্স এর এক তরুণ লাইফ অ্যাডভাইজর এই হকারদের দুর্দশা দেখে অত্যন্ত চিন্তিত তিনি প্রতিদিন বিভিন্ন মানুষের কাছে গিয়ে জীবন বিমা এবং ভবিষ্যৎ সুরক্ষার কথা বলেন কিন্তু এই অসংগঠিত ক্ষেত্রের শ্রমিকদের জন্য কোনো সুরক্ষাই নেই তিনি আজ অত্যন্ত আক্ষেপের সাথে নিজের মামার সাথে ফোনে পরামর্শ করছিলেন যে কীভাবে এই ধরনের গরিব মানুষদের জন্য কোনো স্বল্প মূল্যের বিমা বা মাইক্রো ইন্স্যুরেন্স এর ব্যবস্থা করা যায় যাতে তাদের ব্যবসা নষ্ট হলেও অন্তত পরিবারটি অনাহারে না মরে যায় এই তরুণ পেশাদাররা বুঝতে পারছেন যে সমাজের একটি বড় অংশকে অন্ধকারে রেখে দেশের সামগ্রিক উন্নয়ন কখনোই সম্ভব নয় অনেক তরুণ যারা নিজেদের অবসরে অত্যন্ত মনোযোগ সহকারে ইফুটবল গেম খেলতে ভালোবাসেন এবং নিজেদের স্বপ্নের মোহনবাগান ড্রিম টিম সাজিয়ে বিশ্বের তাবড় গেমারদের বিরুদ্ধে খেলেন তারা আজ গেমিং ছেড়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় এই গরিব হকারদের পুনর্বাসনের দাবিতে সরব হয়েছেন তারা লিখছেন যে একটি ফুটবল টিমে যেমন এগারোজন খেলোয়াড়েরই সমান গুরুত্ব থাকে ঠিক তেমনি একটি শহরে ধনী কর্পোরেট থেকে শুরু করে রাস্তার ধারের সাধারণ হকার প্রত্যেকেরই সমান অধিকার রয়েছে কাউকে বাদ দিয়ে সুন্দর সমাজ গঠন করা যায় না

news image
আরও খবর

অনেক স্বাধীন চলচ্চিত্র নির্মাতা এবং সৃজনশীল তরুণ যারা সমাজের বিভিন্ন জ্বলন্ত ইস্যু নিয়ে শর্ট ফিল্ম তৈরি করেন তারা আজকের এই মর্মান্তিক সামাজিক বৈষম্য থেকে গভীর অনুপ্রেরণা পাচ্ছেন উদাহরণস্বরূপ এক অত্যন্ত প্রতিভাবান তরুণ নির্মাতা দ্য গ্লাস কেজ নামের একটি সাইকোলজিক্যাল ড্রামা শর্ট ফিল্ম তৈরি করার কাজ করছেন এই সিনেমার গল্পে দ্য ফ্লার্ট এবং দ্য রুট নামের দুটি প্রতীকি চরিত্রের মাধ্যমে সমাজের এই দ্বৈত রূপ এবং মনস্তাত্ত্বিক টানাপোড়েন তুলে ধরা হচ্ছে যেখানে একদল মানুষ শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত কাঁচের খাঁচায় বসে শহরের সৌন্দর্য উপভোগ করে আর অন্যদল মানুষ সেই কাঁচের বাইরে দাঁড়িয়ে নিজেদের অস্তিত্ব রক্ষার লড়াই করে নির্মাতারা অত্যন্ত সংবেদনশীলতার সাথে এই হকারদের উচ্ছেদের দৃশ্য এবং তাদের আর্তনাদ রেকর্ড করছেন তারা সনি এমডিআর ৭৫০৬ হেডফোন ব্যবহার করে এই বাস্তব জীবনের শব্দগুলোকে অত্যন্ত নিখুঁতভাবে অডিও মিক্সিং করছেন যাতে দর্শকদের মনে এই মানুষগুলোর অসহায়তা এক গভীর রেখাপাত করে এই ধরনের সৃজনশীল কাজ সমাজের আসল চেহারা এবং সাধারণ মানুষের সংগ্রামকে সমগ্র বিশ্বের সামনে তুলে ধরতে সাহায্য করে এবং প্রশাসনের ঘুম ভাঙাতে বাধ্য করে

আইনি এবং সাংবিধানিক দিক থেকে বিচার করলে প্রশাসনের এই উচ্ছেদ অভিযান এক বিশাল বিতর্কের জন্ম দিয়েছে ভারতের সংবিধানে আর্টিকেল একুশ বা একুশ নম্বর অনুচ্ছেদে রাইট টু লাইফ অ্যান্ড লিবার্টি বা জীবন ও ব্যক্তিগত স্বাধীনতার অধিকার সুনিশ্চিত করা হয়েছে সুপ্রিম কোর্ট একাধিক রায়ে অত্যন্ত স্পষ্টভাবে জানিয়েছে যে রাইট টু লাইফ এর মধ্যে রাইট টু লাইভলিহুড বা জীবিকা অর্জনের অধিকারও অন্তর্ভুক্ত কোনো নাগরিককে তার জীবিকা থেকে অন্যায়ভাবে বঞ্চিত করা মানে তার জীবনের অধিকার কেড়ে নেওয়া ২০১৪ সালে ভারত সরকার স্ট্রিট ভেন্ডরস প্রটেকশন অফ লাইভলিহুড অ্যান্ড রেগুলেশন অফ স্ট্রিট ভেন্ডিং অ্যাক্ট নামে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ আইন পাস করেছিল এই আইনের মূল উদ্দেশ্যই ছিল শহরের হকারদের আইনি স্বীকৃতি দেওয়া এবং তাদের অন্যায় উচ্ছেদের হাত থেকে রক্ষা করা আইন অনুযায়ী প্রতিটি শহরে একটি টাউন ভেন্ডিং কমিটি গঠন করার কথা যেখানে হকারদের প্রতিনিধিরাও থাকবেন এই কমিটি শহরের হকারদের একটি সার্ভে বা সমীক্ষা করবে এবং তাদের আইডেন্টিটি কার্ড প্রদান করবে যতক্ষণ না পর্যন্ত এই সমীক্ষার কাজ শেষ হচ্ছে এবং হকারদের নির্দিষ্ট ভেন্ডিং জোনে পুনর্বাসন দেওয়া হচ্ছে ততক্ষণ পর্যন্ত কোনো হকারকে তার জায়গা থেকে উচ্ছেদ করা সম্পূর্ণ বেআইনি কিন্তু অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় হলো যে আমাদের রাজ্যের অনেক শহরেই এই আইনের কোনো সঠিক প্রয়োগ হয়নি প্রশাসন আইন অমান্য করে অত্যন্ত স্বৈরাচারী পদ্ধতিতে বুলডোজার চালিয়ে গরিব মানুষের অধিকার খর্ব করছে

এই হকাররা তো রাতারাতি শহরের ফুটপাত দখল করেনি গত কয়েক দশক ধরে স্থানীয় প্রশাসন পুলিশ এবং রাজনৈতিক নেতাদের একাংশের মদতেই এরা রাস্তায় বসে ব্যবসা করে আসছেন অভিযোগ রয়েছে যে ফুটপাতে ব্যবসা করার জন্য এই হকারদের প্রতিদিন বা মাসিক ভিত্তিতে স্থানীয় নেতাদের এবং পুলিশের অসাধু কর্মীদের মোটা অঙ্কের তোলা বা চাঁদা দিতে হতো যখন এই চাঁদার টাকা নেতাদের পকেটে যেত তখন হকারদের বেআইনি বলে মনে হয়নি কিন্তু আজ হঠাৎ করে শহর সৌন্দর্যায়নের নাম করে তাদের অপরাধী সাজিয়ে তাড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে এই দ্বিচারিতা সাধারণ মানুষ মেনে নিতে পারছেন না যদি হকাররা বেআইনি হন তবে যারা এতদিন তাদের কাছ থেকে তোলা আদায় করেছেন তারা সমানভাবে অপরাধী প্রশাসন কেন সেই দুর্নীতিগ্রস্ত নেতা এবং পুলিশ কর্মীদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করছে না কেন কেবল সবচেয়ে দুর্বল এবং অসহায় মানুষগুলোকেই আইনের দণ্ড ভোগ করতে হবে এই প্রশ্নগুলো আজ সমগ্র রাজ্য জুড়ে প্রতিধ্বনিত হচ্ছে

একটি শহরের আধুনিকীকরণ এবং উন্নয়ন অবশ্যই প্রয়োজন যানজট নিরসন করা এবং পথচারীদের হাঁটার অধিকার সুনিশ্চিত করাও প্রশাসনের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কাজ কিন্তু সেই কাজ করতে গিয়ে হাজার হাজার গরিব মানুষের পেটে লাথি মারা কোনোভাবেই সমর্থনযোগ্য হতে পারে না বিশ্বের বিভিন্ন উন্নত দেশ যেমন সিঙ্গাপুর ব্যাংকক বা হংকংয়েও লক্ষ লক্ষ স্ট্রিট ভেন্ডর বা হকার রয়েছেন কিন্তু সেই দেশের সরকার তাদের বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দেয়নি বরং অত্যন্ত সুপরিকল্পিতভাবে আধুনিক এবং স্বাস্থ্যকর হকার্স সেন্টার বা স্ট্রিট ফুড জোন তৈরি করে তাদের পুনর্বাসন দিয়েছে এর ফলে সেই হকাররা আজ ওই সমস্ত শহরের পর্যটনের অন্যতম প্রধান আকর্ষণে পরিণত হয়েছেন আমাদের রাজ্যের প্রশাসনেরও উচিত সেই বিজ্ঞানসম্মত এবং মানবিক মডেল অনুসরণ করা হকারদের শত্রু না ভেবে তাদের শহরের অর্থনীতির এক অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে গ্রহণ করতে হবে শহরের নির্দিষ্ট কিছু খালি জায়গা পার্কিং লটের ওপরের অংশ বা ফ্লাইওভারের নিচের অব্যবহৃত জায়গাগুলোকে আধুনিক ভেন্ডিং জোন হিসেবে গড়ে তোলা যেতে পারে হলিডে মার্কেট বা উইকেন্ড মার্কেটের ধারণা চালু করা যেতে পারে যেখানে ছুটির দিনগুলোতে নির্দিষ্ট কিছু রাস্তায় গাড়ি চলাচল বন্ধ রেখে হকারদের ব্যবসা করার সুযোগ দেওয়া যেতে পারে

শিক্ষাব্যবস্থা এবং দক্ষতা উন্নয়নের ক্ষেত্রেও এই হকার উচ্ছেদের এক বিশাল প্রভাব রয়েছে অনেক মেধাবী ছাত্রছাত্রী আছেন যারা এই ফুটপাতে হকারি করে নিজেদের পড়াশোনার খরচ জোগান নেতাজি সুভাষ ওপেন ইউনিভার্সিটি বা এনএসওইউ এর মতো স্বনামধন্য মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়গুলো থেকে যে সমস্ত ছাত্রছাত্রীরা ব্যাচেলর অফ আর্টস বা বিএ পড়াশোনা করছেন তাদের মধ্যে অনেকেই দিনের বেলা হকারি করে রাতে পড়াশোনা করেন আজ তাদের রোজগার বন্ধ হয়ে যাওয়ায় তাদের উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন সম্পূর্ণভাবে অন্ধকারে তলিয়ে যাচ্ছে প্রশাসন যদি মনে করে যে এই তরুণরা হকারি করবে না তবে তাদের জন্য উপযুক্ত কর্মসংস্থান বা সরকারি চাকরির ব্যবস্থা করতে হবে চাকরিও দিতে পারব না আবার নিজেদের চেষ্টায় ব্যবসা করতেও দেব না এই নীতি একটি সমাজকে ধ্বংসের দিকে নিয়ে যাওয়ার জন্য যথেষ্ট প্রশাসনের উচিত এই তরুণদের বিভিন্ন বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণ দিয়ে সংগঠিত ক্ষেত্রে কাজের সুযোগ করে দেওয়া

পরিশেষে এটা অত্যন্ত বেদনার সাথে বলতে হচ্ছে যে হাজারো ব্যবসায়ীরা এখন কই যাবে এই প্রশ্নটির উত্তর যদি প্রশাসন দ্রুত খুঁজে বের করতে না পারে তবে আগামী দিনে এক বিশাল সামাজিক এবং অর্থনৈতিক বিস্ফোরণ অনিবার্য ক্ষুধার্ত মানুষের ক্ষোভ যেকোনো সময় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতি ঘটাতে পারে আমরা লেন্সপাদিয়া পরিবারের পক্ষ থেকে প্রশাসনের কাছে অত্যন্ত বিনীত এবং জোরালো আবেদন জানাচ্ছি যে অবিলম্বে এই অমানবিক উচ্ছেদ অভিযান বন্ধ করা হোক এবং স্ট্রিট ভেন্ডরস অ্যাক্ট ২০১৪ অনুযায়ী হকারদের সাথে আলোচনায় বসে একটি সঠিক ও মানবিক পুনর্বাসন নীতি তৈরি করা হোক উন্নয়ন এবং মানবিকতা যেন একে অপরের পরিপূরক হয়ে ওঠে শহরের সৌন্দর্য যেন গরিব মানুষের চোখের জলে ম্লান হয়ে না যায় এই ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরাও আমাদেরই ভাই বোন আমাদেরই সমাজের অংশ তাদের সম্মানের সাথে বেঁচে থাকার অধিকার সুনিশ্চিত করা একটি স্বাধীন এবং গণতান্ত্রিক দেশের প্রতিটি নাগরিকের নৈতিক দায়িত্ব আসুন আমরা সবাই এই অসহায় মানুষগুলোর পাশে দাঁড়াই এবং প্রশাসনের কাছে তাদের অধিকারের পক্ষে জোরালো আওয়াজ তুলি বিস্তারিত খবরের জন্য এবং হকারদের এই মর্মান্তিক পরিস্থিতির লেটেস্ট গ্রাউন্ড রিপোর্ট ও তাদের প্রতিক্রিয়া দেখতে কমেন্ট বক্সে থাকা লিঙ্কে এখনই ক্লিক করুন এবং সর্বদা চোখ রাখুন আমাদের ডিজিটাল পর্দায়

Preview image