Lenspedia Bangla Logo
  • কলকাতা
  • 30℃ Purba Bardhaman

ভারতের প্রযুক্তিতে নতুন সূর্যোদয়: মুম্বাই ও বেঙ্গালুরুতে শুরু হলো সিক্স-জি (6G) বিপ্লব, ইন্টারনেটের গতিতে বিশ্বকে তাক লাগাল ভারত

ফাইভ-জি এখন পুরনো কথা। আজ থেকে মুম্বাই এবং বেঙ্গালুরুর নির্দিষ্ট কিছু এলাকায় পরীক্ষামূলকভাবে সিক্স-জি (6G) ইন্টারনেট পরিষেবা চালু করল ভারতের শীর্ষ টেলিকম সংস্থা। দাবি করা হচ্ছে, এই প্রযুক্তিতে ইন্টারনেটের গতি হবে ফাইভ-জির চেয়ে অন্তত ৫০ গুণ বেশি। এই প্রযুক্তি ভবিষ্যতে রিমোট সার্জারি, হলোগ্রাফিক কল এবং স্মার্ট সিটি পরিচালনায় এক বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনবে বলে আশা করা হচ্ছে।

মুম্বাই ও বেঙ্গালুরু, ৩১ জানুয়ারি, ২০২৬

মানুষের কল্পনার গতি কি আলোর গতির চেয়ে বেশি? বিজ্ঞানীদের মতে না, কিন্তু প্রযুক্তির অগ্রগতির গতি যে মানুষের কল্পনাকেও হার মানাচ্ছে, তা আজ আবার প্রমাণ হলো। আজ, ৩১ জানুয়ারি ২০২৬, ভারতের টেলিযোগাযোগ ও প্রযুক্তির ইতিহাসে এক স্বর্ণালী অধ্যায় হিসেবে চিহ্নিত হয়ে রইল। ফাইভ-জি (5G) নেটওয়ার্কের সফল বাস্তবায়নের রেশ কাটতে না কাটতেই ভারত পা রাখল সিক্স-জি (6G) বা ষষ্ঠ প্রজন্মের ইন্টারনেট প্রযুক্তির দুনিয়ায়। আজ সকালে ভারতের প্রযুক্তি রাজধানী বেঙ্গালুরু এবং বাণিজ্য নগরী মুম্বাইয়ের নির্দিষ্ট কিছু জোন বা এলাকায় পরীক্ষামূলকভাবে সিক্স-জি পরিষেবা চালু করা হলো। এর মাধ্যমে ভারত বিশ্বের সেই হাতেগোনা কয়েকটি দেশের তালিকায় নাম লেখাল, যারা সিক্স-জি প্রযুক্তির বাস্তব প্রয়োগ নিয়ে কাজ করছে।

গতির সংজ্ঞা বদল: ফাইভ-জি থেকে সিক্স-জির মহাকাশ যাত্রা

ইন্টারনেট এখন আর বিলাসিতা নয়, মানুষের মৌলিক চাহিদার মতোই জরুরি। টু-জি থেকে থ্রি-জি, তারপর ফোর-জি বিপ্লব এবং সবশেষে ফাইভ-জির সুপারফাস্ট দুনিয়া—আমরা খুব অল্প সময়ের মধ্যেই এই বিবর্তন দেখেছি। কিন্তু সিক্স-জি যা নিয়ে এল, তাকে কেবল 'আপগ্রেড' বলা ভুল হবে, এটি এক প্রকার 'লিপ ফ্রগ' বা বিশাল উল্লম্ফন।

আজকের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে দেশের শীর্ষ টেলিকম সংস্থার চেয়ারম্যান ঘোষণা করেন, "আমরা আজ যে প্রযুক্তির ট্রায়াল শুরু করলাম, তা ফাইভ-জির চেয়ে অন্তত ৫০ গুণ বেশি গতির। তাত্ত্বিকভাবে সিক্স-জি সেকেন্ডে ১ টেরাবিট (1 Tbps) পর্যন্ত ডেটা ট্রান্সফার করতে সক্ষম। এর অর্থ হলো, আপনি চোখের পলক ফেলার আগেই ১০০টি উচ্চ মানের সিনেমা ডাউনলোড করতে পারবেন।"

সহজ কথায় বলতে গেলে, ফাইভ-জি যদি হয় একটি দ্রুতগামী স্পোর্টস কার, তবে সিক্স-জি হলো একটি রকেট। এই প্রযুক্তিতে 'লেটেন্সি' বা বিলম্বের হার হবে ১ মাইক্রোসেকেন্ডেরও কম, যা মানুষের স্নায়ুতন্ত্রের প্রতিক্রিয়ার চেয়েও দ্রুত। অর্থাৎ, আপনি স্ক্রিনে কোনো কমান্ড দেওয়ার সাথে সাথেই তা বাস্তবায়িত হবে, মাঝখানে কোনো সময়ের ব্যবধান বোঝা যাবে না।

মুম্বাই ও বেঙ্গালুরুতে ট্রায়াল রান: কী দেখল শহরবাসী?

আজ সকাল ১০টায় মুম্বাইয়ের বান্দ্রা-কুর্লা কমপ্লেক্স (BKC) এবং বেঙ্গালুরুর ইলেকট্রনিক সিটিতে এই ট্রায়াল রান শুরু হয়। বিশেষ প্রযুক্তিসম্পন্ন ডিভাইস এবং রাউটার ব্যবহার করে এই নেটওয়ার্কের ক্ষমতা প্রদর্শন করা হয়।

মুম্বাইয়ের ট্রায়াল জোনে উপস্থিত ছিলেন আইআইটি বম্বের একদল গবেষক। তারা জানান, "আমরা এখানে একটি ৮কে (8K) রেজোলিউশনের লাইভ ভিডিও স্ট্রিমিং পরীক্ষা করেছি। কোনো বাফারিং ছাড়াই ভিডিওটি এত স্বচ্ছভাবে চলছিল যে মনে হচ্ছিল ঘটনাটি চোখের সামনেই ঘটছে। আমরা একই সাথে বিশাল সাইজের ডেটা ফাইল আপলোড এবং ডাউনলোড করেছি, যা কয়েক মিলিসেকেন্ডের মধ্যে সম্পন্ন হয়েছে।"

বেঙ্গালুরুতে ফোকাস ছিল গেমিং এবং ভার্চুয়াল রিয়েলিটির ওপর। সেখানে একদল গেমারকে ক্লাউড গেমিংয়ের সুযোগ দেওয়া হয়। তাদের অভিজ্ঞতা ছিল অভূতপূর্ব। কোনো ল্যাগ বা ডিলে ছাড়াই তারা হাই-গ্রাফিক্স গেম খেলতে পেরেছেন, যা বর্তমান ফোর-জি বা ফাইভ-জি নেটওয়ার্কে কল্পনাও করা যায় না।

হলোগ্রাফিক কল: কল্পবিজ্ঞান যখন বাস্তব

আজকের লঞ্চ ইভেন্টের সবচেয়ে বড় চমক ছিল 'হলোগ্রাফিক কল'-এর প্রদর্শন। এতকাল আমরা স্টার ওয়ার্স বা আয়রন ম্যানের মতো সায়েন্স ফিকশন সিনেমায় দেখেছি যে, মানুষ দূর থেকে কথা বলছে কিন্তু মনে হচ্ছে সে সশরীরে সামনে উপস্থিত আছে—তার থ্রি-ডি প্রতিবিম্ব বা হলোগ্রাম ভেসে উঠছে বাতাসে। সিক্স-জি এই কল্পনাকে বাস্তবে রূপ দিল।

মুম্বাইয়ে বসে টেলিকম মন্ত্রী বেঙ্গালুরুতে অবস্থানরত এক বিজ্ঞানীর সাথে হলোগ্রাফিক কলে কথা বলেন। পর্দায় নয়, মন্ত্রীর সামনে শূন্যে ভেসে উঠল বিজ্ঞানীর ত্রিমাত্রিক প্রতিবিম্ব। তারা একে অপরের দিকে তাকিয়ে এমনভাবে কথা বললেন যেন তারা একই ঘরে বসে আছেন। এই প্রযুক্তি ভবিষ্যতে ভিডিও কনফারেন্সিং এবং ভার্চুয়াল মিটিংয়ের ধারণা পুরোপুরি বদলে দেবে। জুম বা গুগল মিটের টু-ডি স্ক্রিন ছেড়ে মানুষ এবার থ্রি-ডি মেটাভার্সে মিটিং করবে।

রিমোট সার্জারি ও চিকিৎসা বিজ্ঞানে বিপ্লব

সিক্স-জির সবচেয়ে মানবিক এবং গুরুত্বপূর্ণ প্রয়োগ হতে যাচ্ছে চিকিৎসা ক্ষেত্রে। আজকের অনুষ্ঠানে এই বিষয়টিও হাইলাইট করা হয়। ডেমোনস্ট্রেশনে দেখানো হয়, কীভাবে একজন বিশেষজ্ঞ সার্জন দিল্লিতে বসে সিক্স-জি কানেক্টেড রোবোটিক আর্ম ব্যবহার করে সুদূর কোনো গ্রামে থাকা রোগীর অপারেশন করতে পারেন।

যেহেতু সিক্স-জিতে লেটেন্সি প্রায় শূন্য, তাই ডাক্তার যখন দিল্লিতে বসে রোবটের হাত নাড়াবেন, ঠিক সেই মুহূর্তেই গ্রামের অপারেশন থিয়েটারে থাকা রোবটটি হুবহু একই কাজ করবে। মাঝখানে কোনো সময়ের অপচয় হবে না, যা ফাইভ-জিতেও সামান্য ছিল। এই 'রিমোট সার্জারি' বা 'টেলিসার্জারি' ভারতের মতো বিশাল দেশের জন্য আশীর্বাদ হতে পারে, যেখানে প্রত্যন্ত অঞ্চলে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের অভাব রয়েছে। ভবিষ্যতে অ্যাম্বুলেন্সে থাকা অবস্থাতেই রোগীকে হাসপাতালে থাকা ডাক্তারের মাধ্যমে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া সম্ভব হবে এই প্রযুক্তির সাহায্যে।

news image
আরও খবর

স্মার্ট সিটি ও চালকবিহীন গাড়ি

সিক্স-জি প্রযুক্তি স্মার্ট সিটির ধারণাকে পূর্ণতা দেবে। ট্রাফিক সিগন্যাল, সিসিটিভি ক্যামেরা, রাস্তার আলো এবং প্রতিটি গাড়ি একে অপরের সাথে সংযুক্ত থাকবে। একে বলা হয় 'ভেহিকল টু এভরিথিং' (V2X) কমিউনিকেশন। আজকের ট্রায়ালে দেখানো হয়, কীভাবে সিক্স-জি নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে চালকবিহীন গাড়ি বা অটোনমাস ভেহিকল একে অপরের সাথে যোগাযোগ করে দুর্ঘটনা এড়াতে পারে। মিলি সেকেন্ডের মধ্যে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা থাকায় রাস্তায় জ্যাম কমবে এবং দুর্ঘটনা প্রায় শূন্যের কোঠায় নেমে আসবে।

শিক্ষা ও বিনোদনে নতুন দিগন্ত

শিক্ষার ক্ষেত্রেও সিক্স-জি এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে। আজ বেঙ্গালুরুর একটি স্কুলে পরীক্ষামূলকভাবে 'ইমারসিভ লার্নিং' সেশন চালানো হয়। ছাত্রছাত্রীরা ভিআর (VR) হেডসেট পরে ক্লাসরুমে বসেই যেন মিশরের পিরামিড বা আমাজনের জঙ্গলে ঘুরে বেড়াল। সিক্স-জির ব্যান্ডউইথ এত বেশি যে, একসাথে হাজার হাজার ছাত্রছাত্রী হাই-ডেফিনিশন ভার্চুয়াল রিয়েলিটি কন্টেন্ট স্ট্রিম করতে পারবে কোনো বাধা ছাড়াই। এতে বইয়ের পাতার পড়াশোনা হয়ে উঠবে জীবন্ত ও রোমাঞ্চকর।

চ্যালেঞ্জ ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা

তবে এই প্রযুক্তির বাস্তবায়ন মোটেও সহজ নয়। টেলিকম বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সিক্স-জি কাজ করে 'টেরাহার্টজ' (Terahertz) তরঙ্গদৈর্ঘ্যে। এই তরঙ্গের গতি প্রচুর হলেও এটি খুব বেশি দূর পর্যন্ত যেতে পারে না এবং দেয়াল বা বাধা ভেদ করার ক্ষমতা কম। তাই সিক্স-জি নেটওয়ার্কের জন্য প্রচুর সংখ্যক ছোট ছোট অ্যান্টেনা বা 'স্মল সেল' বসাতে হবে প্রতিটি গলিতে, ল্যাম্পপোস্টে এবং বিল্ডিংয়ের ছাদে। এর জন্য প্রয়োজন বিশাল অবকাঠামোগত বিনিয়োগ।

তাছাড়া, সিক্স-জি সাপোর্টেড স্মার্টফোন বা ডিভাইস এখনো বাজারে আসেনি। আজকের ট্রায়াল রান করা হয়েছে বিশেষ প্রোটোটাইপ ডিভাইসের মাধ্যমে। সাধারণ মানুষের হাতে এই প্রযুক্তি পৌঁছাতে আরও কয়েক বছর সময় লাগবে। টেলিকম সংস্থার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ২০২৮ সালের মধ্যে তারা ভারতের প্রধান মেট্রো সিটিগুলোতে বাণিজ্যিকভাবে সিক্স-জি চালু করার পরিকল্পনা করছে এবং ২০৩০ সালের মধ্যে তা সারা দেশে ছড়িয়ে দেওয়া হবে।

স্পেকট্রাম বা তরঙ্গ নিলাম নিয়েও সরকারের সাথে আলোচনা চলছে। সিক্স-জির জন্য প্রয়োজনীয় স্পেকট্রাম বরাদ্দ এবং তার মূল্য নির্ধারণ একটি বড় চ্যালেঞ্জ। তবে সরকার আশ্বাস দিয়েছে যে, 'ডিজিটাল ইন্ডিয়া' মিশনের অংশ হিসেবে তারা এই প্রযুক্তিকে সব ধরনের সহায়তা প্রদান করবে। টেলিকম মন্ত্রী বলেন, "আমরা টু-জি এবং থ্রি-জিতে পিছিয়ে ছিলাম, ফোর-জিতে বিশ্বের সাথে তাল মিলিয়েছি, আর ফাইভ-জিতে আমরা নেতৃত্ব দিয়েছি। এখন সিক্স-জিতে ভারত হবে বিশ্বের পথপ্রদর্শক।"

বিশ্বের সাথে প্রতিযোগিতা

সিক্স-জি গবেষণায় বর্তমানে চীন, আমেরিকা, দক্ষিণ কোরিয়া এবং জাপান একে অপরের সাথে পাল্লা দিচ্ছে। ভারত আজ এই ট্রায়াল রানের মাধ্যমে বুঝিয়ে দিল যে তারা এই দৌড়ে পিছিয়ে নেই। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর 'ভারত সিক্স-জি ভিশন ডকুমেন্ট' অনুযায়ী, ভারত কেবল প্রযুক্তি ব্যবহারকারী নয় বরং প্রযুক্তির উদ্ভাবক হতে চায়। আইআইটি মাদ্রাজ, আইআইটি কানপুর এবং আইআইএসসি বেঙ্গালুরুর মতো প্রতিষ্ঠানগুলো সিক্স-জি গবেষণায় নেতৃত্ব দিচ্ছে এবং প্রচুর প্যাটেন্ট ফাইল করছে।

সাধারণ মানুষের প্রতিক্রিয়া

প্রযুক্তি নিয়ে সাধারণ মানুষের মনেও কৌতূহল তুঙ্গে। মুম্বাইয়ের মেরিন ড্রাইভে এক কলেজ ছাত্র বলেন, "ফাইভ-জি আসার পর আমাদের জীবন অনেক ফাস্ট হয়েছে। সিক্স-জি আসলে কী হবে তা ভাবলেই রোমাঞ্চ হচ্ছে। হয়তো তখন আমরা ফোনের স্ক্রিন থেকেও বেরিয়ে আসব এবং হলোগ্রামের মাধ্যমে বন্ধুদের সাথে আড্ডা দেব।"

অন্যদিকে বেঙ্গালুরুর এক স্টার্টআপ প্রতিষ্ঠাতা বলেন, "সিক্স-জি আমাদের মতো টেক উদ্যোক্তাদের জন্য নতুন দরজা খুলে দেবে। আমরা এমন অ্যাপ বা পরিষেবা তৈরি করতে পারব যা এখন কল্পনাই করা যায় না। মেটাভার্স, ব্লকচেইন এবং এআই-এর আসল ক্ষমতা সিক্স-জির হাত ধরেই প্রকাশ পাবে।"

উপসংহার

৩১ জানুয়ারি ২০২৬—দিনটি ভারতের প্রযুক্তি ইতিহাসে লেখা থাকবে এক নতুন ভোরের সূচনা হিসেবে। মুম্বাই ও বেঙ্গালুরুর আকাশে-বাতাসে আজ অদৃশ্য তরঙ্গের যে খেলা শুরু হলো, তা আগামী দিনে আমাদের জীবনযাত্রার প্রতিটি মুহূর্তকে প্রভাবিত করবে। কৃষি থেকে মহাকাশ গবেষণা, বিনোদন থেকে প্রতিরক্ষা—সব ক্ষেত্রেই সিক্স-জি আনবে আমূল পরিবর্তন। অবশ্য এর জন্য আমাদের অপেক্ষা করতে হবে আরও কিছুদিন, পাড়ি দিতে হবে অবকাঠামোগত এবং নীতিগত অনেক পথ। কিন্তু আজকের এই ট্রায়াল রান অন্তত এটুকু নিশ্চিত করল যে, ভবিষ্যৎ আর খুব বেশি দূরে নয়, এবং সেই ভবিষ্যৎ হবে অবিশ্বাস্য রকমের দ্রুত।

ফাইভ-জি যদি হয় সংযোগ, তবে সিক্স-জি হলো সংবেদন। এটি কেবল যন্ত্রের সাথে যন্ত্রের যোগাযোগ নয়, এটি ডিজিটাল এবং ভৌত জগতের একীভূতকরণ। ভারত আজ সেই জাদুর কাঠিতে প্রথম স্পর্শ করল।

Preview image